Class 6 Bengali 2nd Unit Test Question Paper Set-3 wbbse | ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৩

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 6 (VI) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER

Set-3

Class 6 Bengali 2nd Unit Test Question Paper Set-3 wbbse | ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৩

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

◆ গদ্য বা গল্প থেকে : (১) মরশুমের দিনে (২) মাটির ঘরে দেয়াল চিত্র (৩) ফাঁকি (৪) চিত্রগ্রীব (৫) আশীর্বাদ (৬) এক ভূতুড়ে কাণ্ড।

◆ পদ্য বা কবিতা থেকে : (১) হাট (২) পিঁপড়ে (৩) বাঘ।

◆ হ য ব র ল ১৫-২৭ পৃষ্ঠা

◆ ব্যাকরণ : (১) ভাষাচর্চা তৃতীয় অধ্যায় থেকে শব্দরূপ, বিভক্তি, অনুসর্গ ও উপসর্গ।
(২) ভাষা চর্চা নির্মিতি প্রথম অধ্যায় থেকে সমোচ্চরিত ভিন্নার্থক শব্দ, পদান্তর এবং অনুচ্ছেদ রচনা।

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
ষষ্ঠ শ্রেণি
বিষয় : বাংলা

পূর্ণমান-৫০             সময় : ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×১২

(ক) সাধারণত মাটি থেকে (ছ’ফুট / চারফুট / আটফুট) পর্যন্ত উচ্চতায় দেয়াল চিত্রের চিত্রণটি বিস্তৃত হয়।

(খ) ‘ভাই, ভাগ্যে তুমি জিমনাস্টিকস জানতে।’- এখানে বক্তা হল- (পিঁপড়ে / গাছের পাতা / মেঘ)।

(গ) কেন, বনটা কেবল (গাছ / পাখি / বাঘ) দিয়েই ঠাসা ?

(ঘ) ধানের পাতায় (বটের / তালের / খেজুর) পাতায় বুনট-করা নকশা এঁকে।

(ঙ) ‘খোশ’ উপসর্গটি হল (বিদেশি উপসর্গ / বাংলা উপসর্গ / সংস্কৃত উপসর্গ) থেকে গৃহীত উপসর্গ।

(চ) অনুসর্গের একটি প্রচলিত নাম হল – (পরাসর্গ / আদ্যপ্রত্যয় / পূর্বসর্গ)।

(ছ) ‘নিতি’ এবং ‘নীতি’ শব্দ দুটির অর্থ হল যথাক্রমে (আদর্শ, নিত্য / নিত্য, আদর্শ / ক্ষুদ্র, পশ্চাৎ)।

(জ) ‘বংশ’ অর্থে ব্যবহৃত শব্দটি হল (কূল / কুল / সুর)।

(ঝ) ‘খেতাব’ শব্দটি হল- (বিশেষ্য / বিশেষণ / সর্বনাম)।

(ঞ) ‘সর্বনাশ’ শব্দটিকে বিশেষণে পরিবর্তিত করলে হবে- (সর্বনাশি / সর্বনেশে / সর্বনাশা)।

(ট) ‘ভিখারিকে’ শব্দটিতে যে বিভক্তিটি যুক্ত আছে- (ক-বিভক্তি / কে-বিভক্তি‌ / এ বিভক্তি)।

(ঠ) একটি সংস্কৃত অনুসর্গ হল (বনাম / বিনা / ব্যতীত)।

২। দু-এক কথায় উত্তর দাও : ১×১২

(ক) কটক কোন নদীর তীরে অবস্থিত ?

(খ) ‘কৃতকর্মের জন্য সে লজ্জিত হলো।’- কে লজ্জিত হলো ?

(গ) ‘ধানের সবচেয়ে বড়ো বন্ধু ________। (শূন্যস্থান পূরণ করো)।

(ঘ) ‘পদ্মটিকে মানভূমি দেয়ালচিত্রের প্রতীক বলা হয়।’ (সত্য / মিথ্যা লেখো)

(ঙ) ‘চিঠি’ কবিতায় কোন ঋতুর প্রসঙ্গ রয়েছে ?

(চ) কার ডাকে রাত্রি নেমে আসে ?

(ছ) খিদের পেটে বাঘের ছানা যখন / ধরতে গেল কাদায় __________। (শূন্যস্থান পূরণ করো)

(জ) ‘চার-পাঁচটি গ্রামের পরে সাধারনত একটি হাট চোখে পড়ে।’ (সত্য / মিথ্যা লেখো)।

(ঝ) বুড়োর দাড়ির রং কি ছিল ?

(ঞ) “তবে রে ইস্টুপিড উধো!” – বক্তা কে ?

(ট) পটলার ওজন কত ?

(ঠ) পয়সা পেয়ে কাক কী করল ?

৩। যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩×২

(ক) ‘একটু জমি খালি রাখা যাক’ প্রস্তাবটি কে দিয়েছিলেন ? কেন তিনি এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন ? ১+২

(খ) ‘সাইকেল ঘাড়ে করে যেতে হলেই হয়েছে।’- লেখকের গন্তব্য কোথায় ? সাইকেল ঘাড়ে করে যাওয়ার প্রসঙ্গ এসেছে কেন ? ১+২

(গ) পাতা কী বলে পিঁপড়েকে প্রবোধ দিতে চেয়েছিল ? ‘কাজে আসে না কোনোটাই’ এখানে তার কোন কাজে না আসার কথা বলা হয়েছে ? ১+২

৪। যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩x২

(ক) ‘খুশির নূপুর ঝুমুর-ঝামুর বাজছে আমার নিরালাতে’ পঙ্ক্তিটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।

(খ) ‘উদার আকাশে মুক্ত বাতাসে চিরকাল একই খেলা।’- কোন প্রসঙ্গে কবি আলোচ্য পঙক্তিটি লিখেছেন ? তিনি এখানে কোন ‘খেলা’-র কথা বলেছেন ? ‘চিরকাল’ চলে বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ? ১+১+১

(গ) ‘মাটির বুকে যারাই আছি দুদিনের ঘরে’– ‘এই দু-দিনের ঘরে’ বলতে কী বোঝ ? কে সবাইকে কীভাবে ‘এই দু-দিনের ঘরে’ আদরে ঘিরে রাখে ? ২+১

৫। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (দুটি) : ৩x২

(ক) পাঠে উল্লিখিত ছাগলটির নাম শ্রীব্যাকরণ শিং, বি.এ খাদ্যবিশারদ কেন হয়েছিল ? ১+২

(খ) কাকেশ্বর কুচকুচে কোথায় থাকে ? তার পরিচয় কী ? ১+২

(গ) ‘আশি বছর বয়েস হবে কেন ?’- বক্তা কে ? বক্তার বয়স আশি বছর হয় না কেন? ১+২

৬। নীচের যে কোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো : ৮

(ক) বিদ্যালয়ের প্রথম দিন (খ) গ্রীষ্মের দুপুর (গ) স্বামী বিবেকানন্দ।

—সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর—

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :

(ক) সাধারণত মাটি থেকে ছ’ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় দেয়াল চিত্রের চিত্রণটি বিস্তৃত হয়।

(খ) ‘ভাই, ভাগ্যে তুমি জিমনাস্টিকস জানতে।’- এখানে বক্তা হল- গাছের পাতা।

(গ) কেন, বনটা কেবল পাখি দিয়েই ঠাসা ?

(ঘ) ধানের পাতায় তালের পাতায় বুনট-করা নকশা এঁকে।

(ঙ) ‘খোশ’ উপসর্গটি হল বিদেশি উপসর্গ থেকে গৃহীত উপসর্গ। (এটি একটি ফারসি উপসর্গ, যেমন: খোশমেজাজ, খোশখবর)

(চ) অনুসর্গের একটি প্রচলিত নাম হল – পরাসর্গ। (যেহেতু অনুসর্গ পদের পরে বা পেছনে বসে)

(ছ) ‘নিতি’ এবং ‘নীতি’ শব্দ দুটির অর্থ হল যথাক্রমে নিত্য, আদর্শ। (নিতি = প্রতিদিন/নিত্য; নীতি = নিয়ম/আদর্শ)

(জ) ‘বংশ’ অর্থে ব্যবহৃত শব্দটি হল কূল। (কূল = বংশ/তীর; কুল = এক প্রকার ফল)

(ঝ) ‘খেতাব’ শব্দটি হল- বিশেষ্য। (খেতাব মানে উপাধি, এটি একটি নাম পদ বা বিশেষ্য)

(ঞ) ‘সর্বনাশ’ শব্দটিকে বিশেষণে পরিবর্তিত করলে হবে- সর্বনেশে। (যেমন: সর্বনেশে রোগ বা সর্বনেশে কাণ্ড)

(ট) ‘ভিখারিকে’ শব্দটিতে যে বিভক্তিটি যুক্ত আছে- কে-বিভক্তি‌। (ভিখারি + কে = ভিখারিকে)

(ঠ) একটি সংস্কৃত অনুসর্গ হল ব্যতীত। (অন্য দুটি যথাক্রমে বিদেশি এবং তদ্ভব / বাংলা অনুসর্গ)

২। দু-এক কথায় উত্তর দাও :

(ক) কটক কোন নদীর তীরে অবস্থিত ?

উত্তরঃ কটক শহরটি মহানদী-র তীরে অবস্থিত। (উৎস: রাজকিশোর পট্টনায়কের ‘ফাঁকি’ গল্প)

(খ) ‘কৃতকর্মের জন্য সে লজ্জিত হলো।’- কে লজ্জিত হলো ?

উত্তরঃ ধনগোপাল মুখোপাধ্যায়ের ‘চিত্রগ্রীব’ গল্পে চিলদের তাড়া খেয়ে নিজে বাঁচতে গিয়ে নিজের ছানাকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার পর চিত্রগ্রীবের বাবা অর্থাৎ গেরোবাজ পায়রাটি তার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হয়েছিল।

(গ) ‘ধানের সবচেয়ে বড়ো বন্ধু ________। (শূন্যস্থান পূরণ করো)।

উত্তরঃ ‘ধানের সবচেয়ে বড়ো বন্ধু বৃষ্টি। (উৎস: সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘মরশুমের দিনে’ প্রবন্ধ)

(ঘ) ‘পদ্মটিকে মানভূমি দেয়ালচিত্রের প্রতীক বলা হয়।’ (সত্য / মিথ্যা লেখো)

উত্তরঃ সত্য। (উৎস: তপন করের ‘মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র’)

(ঙ) ‘চিঠি’ কবিতায় কোন ঋতুর প্রসঙ্গ রয়েছে ?

উত্তরঃ ‘চিঠি’ কবিতায় বর্ষা ঋতুর প্রসঙ্গ রয়েছে। (উৎস: জসীমউদ্দীনের ‘চিঠি’ কবিতা)

(চ) কার ডাকে রাত্রি নেমে আসে ?

উত্তরঃ কার্তিক ঘোষের ‘আশীর্বাদ’ গল্পে জল বা বৃষ্টির ডাকে রাত্রি নেমে আসে।

(ছ) খিদের পেটে বাঘের ছানা যখন / ধরতে গেল কাদায় __________। (শূন্যস্থান পূরণ করো)

উত্তরঃ খিদের পেটে বাঘের ছানা যখন / ধরতে গেল কাদায় ন্যাড়ামুড়ো ব্যাঙ।

(জ) ‘চার-পাঁচটি গ্রামের পরে সাধারনত একটি হাট চোখে পড়ে।’ (সত্য / মিথ্যা লেখো)।

উত্তরঃ মিথ্যা। (কারণ যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘হাট’ কবিতা অনুযায়ী ‘দশ-বারোটি গ্রামের পরে’ একটি হাট চোখে পড়ে)

(ঝ) বুড়োর দাড়ির রং কি ছিল ?

উত্তরঃ ‘হযবরল’ গল্পে বুড়োর দাড়ির রং ছিল সবুজ।

(ঞ) “তবে রে ইস্টুপিড উধো!” – বক্তা কে ?

উত্তরঃ বক্তা হলো উধোর যমজ ভাই বুধো।

(ট) পটলার ওজন কত ?

উত্তরঃ পটলার ওজন ছিল সাড়ে ছ-সের।

(ঠ) পয়সা পেয়ে কাক কী করল ?

উত্তরঃ পয়সা পেয়ে কাক অর্থাৎ কাক্কেশ্বর কুচকুচে সেটাকে নিয়ে উল্টে-পাল্টে, কামড়ে এবং ঠুকে দেখে তার পকেটে পুরে রাখল।

৩। যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

(ক) ‘একটু জমি খালি রাখা যাক’ প্রস্তাবটি কে দিয়েছিলেন ? কেন তিনি এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন ? ১+২

উত্তরঃ রাজকিশোর পট্টনায়কের লেখা ‘ফাঁকি’ গল্পে এই প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন বাড়ির কর্তা গোপালবাবু।

প্রস্তাব দেওয়ার কারণ: গোপালবাবুরা যখন কটক শহরে নিজেদের নতুন বাড়ি তৈরি করছিলেন, তখন পাঁচিল দিয়ে পুরো জায়গাটা ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু গোপালবাবু গাছপালা ভালোবাসতেন। তিনি চেয়েছিলেন বাড়ির একপাশে যেন কিছুটা ফাঁকা জায়গা বা উঠোন থাকে, যেখানে গাছপালা লাগানো যাবে এবং বাড়ির ছেলেমেয়েরা খোলামেলা বাতাসে খেলাধুলো করতে পারবে। মূলত প্রকৃতির ছোঁয়া বাঁচিয়ে রাখতেই তিনি এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

(খ) ‘সাইকেল ঘাড়ে করে যেতে হলেই হয়েছে।’- লেখকের গন্তব্য কোথায় ? সাইকেল ঘাড়ে করে যাওয়ার প্রসঙ্গ এসেছে কেন ? ১+২

উত্তরঃ মনোজ দাশের লেখা ‘পিঁপড়ে’ (কিংবা ‘সমুদ্রের স্বাদ’) গল্পে লেখকের গন্তব্য ছিল জ্যাঠামশাইয়ের বাড়ি থেকে প্রায় সাত-আট মাইল দূরে অবস্থিত সমুদ্রের ধার বা দীঘা উপকূল।

প্রস্তাব আসার কারণ: লেখক যখন সাইকেল নিয়ে সমুদ্র দেখতে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন, তখন তাঁর জ্যাঠামশাই তাঁকে সতর্ক করে দেন। জ্যাঠামশাই জানান যে, সমুদ্রের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগে একটি নদীর চড়া পার হতে হবে, যেখানে কেবলই নরম বালির স্তর। সেই বালির ওপর দিয়ে সাইকেল চালানো তো দূর, সাইকেল ঠেলে নিয়ে যাওয়াও অসম্ভব। বালি এবং কাদায় সাইকেল চাকা বসে যাবে বলে সেখানে সাইকেলটি ঘাড়ে করে বয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই প্রসঙ্গেই কথাটি এসেছে।

(গ) পাতা কী বলে পিঁপড়েকে প্রবোধ দিতে চেয়েছিল ? ‘কাজে আসে না কোনোটাই’ এখানে তার কোন কাজে না আসার কথা বলা হয়েছে ? ১+২

উত্তরঃ কার্তিক ঘোষের ‘আশীর্বাদ’ গল্পে গাছের পাতা পিঁপড়েকে প্রবোধ বা সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল যে, জল-বৃষ্টি চিরকাল থাকবে না। বর্ষা কেটে গেলে আবার শরৎকাল আসবে এবং তখন মাটির ওপর সুন্দর সোনালী রোদ ঝলমল করে উঠবে।

কাজে না আসার কারণ: এখানে পিঁপড়েটির ক্ষুদ্র শরীরের অসহায়তার কথা বলা হয়েছে। যখন চারিদিক বন্যায় ভেসে যায় এবং প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়, তখন পিঁপড়ের তৈরি মাটির নিচে থাকা ছোট ছোট গর্ত বা বাসাগুলো জলে ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পিঁপড়েদের নিজেদের বাঁচানোর জন্য তৈরি কোনো আশ্রয় বা ঘরই আর রক্ষা পাওয়ার কাজে আসে না।

৪। যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩x২

(ক) ‘খুশির নূপুর ঝুমুর-ঝামুর বাজছে আমার নিরালাতে’ পঙ্ক্তিটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।

উত্তরঃ কবি জসীমউদ্দীনের ‘চিঠি’ কবিতা থেকে এই পঙ্ক্তিটি নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতির রূপমুগ্ধ কবি গ্রামীণ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান যেমন— বাবুই পাখি, চাতক, কানাকুঁয়ো, গাঙশালিক বা খোকাখুকুর কাছ থেকে নানা রঙের চিরকুট বা চিঠির মাধ্যমে আনন্দের বার্তা পান। প্রকৃতির এই অফুরন্ত রূপ-রস আর ভালোবাসার স্পর্শ যখন একাকী বা নিরালা মুহূর্তে কবির মনে দোলা দেয়, তখন তাঁর সমস্ত মন এক অনাবিল আনন্দে ভরে ওঠে। কবির সেই আত্মহারা আনন্দের অনুভূতিকেই তিনি মনের ভেতর খুশির নূপুর নিক্বণের বা বেজে ওঠার সাথে তুলনা করেছেন।

(খ) ‘উদার আকাশে মুক্ত বাতাসে চিরকাল একই খেলা।’- কোন প্রসঙ্গে কবি আলোচ্য পঙক্তিটি লিখেছেন ? তিনি এখানে কোন ‘খেলা’-র কথা বলেছেন ? ‘চিরকাল’ চলে বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ? ১+১+১

উত্তরঃ

প্রসঙ্গ: কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘হাট’ কবিতায় হাটের প্রতিদিনের চেনা ভাঙা-গড়ার গ্রামীণ ছবি আঁকার প্রসঙ্গে আলোচ্য পঙক্তিটি লিখেছেন।

খেলার বিবরণ: কবি এখানে হাটের বেচাকেনা, লাভ-ক্ষতি, ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনা এবং দিনশেষে হাট ভেঙে যাওয়ার যে চিরন্তন রূপ, তাকেই প্রকৃতির বুকে চলা এক ‘খেলা’ বলেছেন।

চিরকাল’ শব্দটির অর্থ: ‘চিরকাল’ বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে মানুষের জীবন আসে আর যায়, কিন্তু পৃথিবীর এই নিয়ম কোনোদিন বদলায় না। হাটের মতোই এই পৃথিবীতে মানুষ জন্ম নেয় (হাট বসে), সংসার করে (বেচাকেনা চলে) এবং শেষে মৃত্যু বরণ করে বিদায় নেয় (হাট ভেঙে যায়)। পৃথিবীর বুকে এই জীবনের আলো-আঁধারির খেলা যুগ যুগ ধরে অপরিবর্তিতভাবে চলে আসছে এবং চলতেই থাকবে।

(গ) ‘মাটির বুকে যারাই আছি দুদিনের ঘরে’– ‘এই দু-দিনের ঘরে’ বলতে কী বোঝ ? কে সবাইকে কীভাবে ‘এই দু-দিনের ঘরে’ আদরে ঘিরে রাখে ? ২+১

উত্তরঃ

দু-দিনের ঘর’ শব্দের অর্থ: কবি অমিয় চক্রবর্তীর ‘পিঁপড়ে’ কবিতা অনুযায়ী ‘দু-দিনের ঘর’ বলতে আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীকে বোঝানো হয়েছে। মাটির বুকে মানুষ হোক বা পিঁপড়ের মতো কোনো ছোট জীব— কেউই চিরকাল বেঁচে থাকে না। সবাই এখানে অল্প কিছুদিনের জন্য আসে এবং নির্দিষ্ট সময় পরে বিদায় নেয়। জীবন ও পৃথিবীর এই নশ্বরতা বোঝাতেই কবি একে ‘দু-দিনের ঘর’ বলেছেন।

আদরে ঘিরে রাখার বর্ণনা: এই মাটির পৃথিবী বা প্রকৃতি মা পরম স্নেহে ও ভালোবাসায় তার আলো, বাতাস, ধুলোর রেণু এবং সুন্দর পরিবেশ দিয়ে ছোট-বড় সমস্ত জীবকে সমানভাবে এই ‘দু-দিনের ঘরে’ আগলে ও আদরে ঘিরে রাখে।

৫। যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

(ক) পাঠে উল্লিখিত ছাগলটির নাম শ্রীব্যাকরণ শিং, বি.এ খাদ্যবিশারদ কেন হয়েছিল ? ১+২

উত্তরঃ সুকুমার রায়ের ‘হযবরল’ গল্পে আদালতের বিচারে সাক্ষী দিতে আসা ছাগলটির নাম ছিল শ্রীব্যাকরণ শিং, বি.এ খাদ্যবিশারদ।

নামকরণের কারণ: ছাগলটির নিজের কথানুযায়ী, সে ব্যাকরণ খায় অর্থাৎ সমস্ত কিছু চিবিয়ে খায় বলেই তার নামের শুরুতে ‘ব্যাকরণ’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে। আর সে মেটে আলু, কাঁচা আম, আতা, বেল, তামাকের পাতা, সাবান, রবারের জুতো থেকে শুরু করে স্লেট-পেন্সিল পর্যন্ত পৃথিবীর সমস্ত রকম অখাদ্য-কুখাদ্য চিবিয়ে পরীক্ষা করতে পারে, তাই তার উপাধি হয়েছিল ‘বি.এ খাদ্যবিশারদ’।

(খ) কাকেশ্বর কুচকুচে কোথায় থাকে ? তার পরিচয় কী ? ১+২

উত্তরঃ কাক্কেশ্বর কুচকুচে ৪১ নং কাগেয়াপট্টি, কাওড়াপাড়া-য় থাকে।

পরিচয়: কাক্কেশ্বর কুচকুচে হলো একটি দাঁড়কাক। সে দেখতে কুচকুচে কালো হলেও তার ধারালো বুদ্ধি চমৎকার। সে স্লেট ও খড়ি নিয়ে হিসাব কষতে ও অঙ্ক করতে খুব ভালোবাসে। গল্পে সে একাধারে হিসাবরক্ষক, উধো-বুধোর ঝগড়ার মধ্যস্থতাকারী এবং আদালতের বিচারে প্রধান ‘বিজ্ঞ শ্রীকাক্কেশ্বর কুচকুচে’ নামের উকিল বা বিচারকের ভূমিকা পালন করেছিল।

(গ) ‘আশি বছর বয়েস হবে কেন ?’- বক্তা কে ? বক্তার বয়স আশি বছর হয় না কেন? ১+২

উত্তরঃ এই উক্তিটির বক্তা হলো তাসের টেক্কা বা সেই অদ্ভুত সবুজ দাড়িওয়ালা বুড়োটি।

বয়স আশি বছর না হওয়ার কারণ: বুড়োটির কথানুযায়ী, তাদের নিয়মে বয়স চল্লিস বছর পর্যন্ত পৌঁছানোর পর আর সামনের দিকে বাড়ে না। চল্লিস বছর হলেই তারা বয়সটাকে ঘুরিয়ে দিয়ে উল্টোদিকে গোনা শুরু করে। অর্থাৎ চল্লিসের পর তাদের বয়স হয় ঊনচল্লিশ, আটত্রিশ, সাঁইত্রিশ এইভাবে কমতে থাকে। যেহেতু তাদের বয়স পেছনের দিকে ঘোরে, তাই বক্তার বয়স কোনোদিনই আশি বছর হওয়া সম্ভব নয়।

৬। নীচের যে কোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো :

(ক) বিদ্যালয়ের প্রথম দিন

মানুষের জীবনের প্রতিটি নতুন অভিজ্ঞতাই মধুর, তবে বিদ্যালয়ের প্রথম দিনের স্মৃতি চিরকাল মনের মণিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে থাকে। আমার যখন পাঁচ বছর বয়স, তখন বাবা আমার হাত ধরে আমাদের পাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই চারদিকের কোলাহল, বড় বড় শ্রেণিকক্ষ এবং প্রচুর অচেনা ছেলেমেয়ে দেখে আমার মনে বেশ ভয় ও সংশয় জেগেছিল। বাবা আমাকে ক্লাসরুমে বসিয়ে দিয়ে চলে যাওয়ার পর আমার চোখ দিয়ে জল পড়তে শুরু করে। ঠিক তখনই আমাদের ক্লাস টিচার হাসিমুখে আমার কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন এবং অন্য সহপাঠীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এরপর আমরা সবাই মিলে ছবি আঁকলাম এবং গল্প শুনলাম। ছুটির ঘণ্টা পড়ার সময় আমার ভেতরের সমস্ত ভয় কেটে গিয়ে আনন্দের ছোঁয়া লেগেছিল। সেই দিনটি আমার জীবনের এক অবিস্মরণীয় ও সুন্দর দিন।

(খ) গ্রীষ্মের দুপুর

বাংলার ঋতুচক্রে গ্রীষ্মকাল তার তীব্র রোদ আর গরম নিয়ে হাজির হয়, যার সবচেয়ে কঠিন রূপ দেখা যায় গ্রীষ্মের দুপুরে। এই সময়ে সূর্য ঠিক মাথার ওপর থাকে এবং চারদিক থেকে যেন আগুনের হলকা বের হতে থাকে। অতিরিক্ত গরমের কারণে রাস্তাঘাট একদম জনশূন্য ও নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কুকুরগুলো ছায়ায় জিভ বের করে হাঁপায় এবং পাখিরা গাছের পাতায় আশ্রয় নিয়ে ডাক বন্ধ করে দেয়। গ্রামের দিকে মানুষ জনহীন দুপুরে ঘরের জানলা বন্ধ করে মাদুর পেতে শুয়ে বিশ্রাম নেয়, আর শহরের বুকে এসি বা পাখার তলায় স্বস্তি খোঁজে। মাঝে মাঝে আইসক্রিম বা ঘোল-লেবুর শরবত বিক্রেতাদের ডাক এই স্তব্ধতা ভেঙে দেয়। প্রকৃতি যেন এক অলস ও ক্লান্ত রূপ ধারণ করে। অবশেষে বিকেল বা সন্ধ্যার শীতল বাতাসের অপেক্ষায় গ্রীষ্মের এই দীর্ঘ ও তপ্ত দুপুর অতিবাহিত হয়।

(গ) স্বামী বিবেকানন্দ

ভারতমাতার সুযোগ্য সন্তান এবং আধুনিক ভারতবর্ষের অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক হলেন বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ। ১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি কলকাতার শিমুলিয়া অঞ্চলে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর ছোটবেলার নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। ছাত্রাবস্থায় থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, সাহসী এবং আধ্যাত্মিক চেতনার অধিকারী। পরবর্তীকালে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সংস্পর্শে এসে তিনি সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ‘স্বামী বিবেকানন্দ’ নামে পরিচিত হন। ১৮৯৩ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের ধর্মমহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ সমগ্র বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল এবং ভারতীয় সনাতন ধর্মের গৌরব প্রতিষ্ঠা করেছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” তিনি যুবসমাজকে দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিলেন। ১৯০২ সালের ৪ঠা জুলাই এই মহান মনীষী মহাপ্রয়াণ লাভ করলেও তাঁর আদর্শ আজও আমাদের পথ দেখায়।

📌আরও পড়ুনঃ

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply