2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 6 (VI) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER
Set-2
Class 6 Bengali 2nd Unit Test Question Paper Set-2 wbbse | ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-২
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
◆ গদ্য বা গল্প থেকে : (১) মরশুমের দিনে (২) মাটির ঘরে দেয়াল চিত্র (৩) ফাঁকি (৪) চিত্রগ্রীব (৫) আশীর্বাদ (৬) এক ভূতুড়ে কাণ্ড।
◆ পদ্য বা কবিতা থেকে : (১) হাট (২) পিঁপড়ে (৩) বাঘ।
◆ হ য ব র ল ১৫-২৭ পৃষ্ঠা
◆ ব্যাকরণ : (১) ভাষাচর্চা তৃতীয় অধ্যায় থেকে শব্দরূপ, বিভক্তি, অনুসর্গ ও উপসর্গ।
(২) ভাষা চর্চা নির্মিতি প্রথম অধ্যায় থেকে সমোচ্চরিত ভিন্নার্থক শব্দ, পদান্তর এবং অনুচ্ছেদ রচনা।
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
ষষ্ঠ শ্রেণি
বিষয় : বাংলা
পূর্ণমান-৫০ সময় : ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট
১। নীচের বিকল্পগুলির মধ্যে সঠিক বিকল্পটি নির্বাচন করে লেখো : ১×২=২
১.১ আগে বছর আরম্ভ হতো (আষাঢ়ে / শরৎ-এ / অগ্রহায়ণে)।
১.২ সাধারণত মাটি থেকে (চারফুট / ছ’ফুট / আটফুট) পর্যন্ত উচ্চতায় চিত্রণটি বিস্তৃত হয়।
২। খুব সংক্ষেপে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ (যে কোনো চারটি) : ১×৪=৪
২.১ গোপাল বাবুদের জমিটি কত টাকায় কেনা হয়েছিল ?
২.২ গেরোবাজ কে ?
২.৩ পিঁপড়েকে ঘাসের পাতা কোন্ ঋতু আসার আশ্বাস দিয়েছে ?
২.৪ মানভূমী দেয়ালচিত্রের প্রতীক কী ?
২.৫ কোন্ সময় বাসে ভীষণ ভীড় হয় ?
৩। নীচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩×২=৬
৩.১ ‘গ্রামের সঙ্গে শহরের এখনও নাড়ির টান’- এই নাড়ির টানের প্রসঙ্গ রচনাংশে কীভাবে এসেছে ?
৩.২ ‘একদিন নজরে পড়ল’– কী নজরে পড়েছিল ? তা থেকে লেখকের কী উপলব্ধি হয়েছিল ?
৩.৩ ‘আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকলাম’ – লেখক কেন তার কথা অসমাপ্ত রেখে হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন ?
৪। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো : ১×২=২
৪.১ শীতের ভোরের রোদের মতো লেখনখানি লাগছে – (তেতো / মিঠি / উদাস)।
৪.২ ‘নদীর বাতাস ছাড়ে প্রশ্বাস’ – (কাকের পাখে / কাকের ডাকে / পাকুড় শাখে)।
৫। নীচের প্রশ্নগুলির খুব সংক্ষেপে উত্তর দাওঃ (যে কোনো চারটি) : ১×৪=৪
৫.১ পাখিরালয়ের বাসায় কী পাওয়া যেত না ?
৫.২ ছোটো পিঁপড়ে কী মাখবে ?
৫.৩ এপারের ক্রেতা কখন ছুটে যায় ?
৫.৪ চিঠি কবিতায় উদাস বাতাস কী করছে ?
৫.৫ ছোট্ট বাঘের বাবা-মা বাড়ি বদলে কোথায় গেল ?
৬। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ (যে কোনো দুটি) : ৩×২=৬
৬.১ গাঙশালিক কবিকে মোড়ল হতে বলেছে কেন ?
৬.২ ‘হাট’ কবিতায় হাটের যে চিত্র অঙ্কিত হয়েছে, তা কবিতাটি অনুসরণে সংক্ষেপে বর্ণনা দাও।
৬.৩ ‘কেমন যেন চেনা লাগে’ কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।
৭। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×৮=৮
৭.১ উপসর্গগুলিকে অন্য যে নামে ডাকা হয় (আদ্য প্রত্যয় / পরসর্গ / কর্মপ্রবচনীয়)।
৭.২ বিভক্তি আর অনুসর্গ দুটোই শব্দ সম্পর্কযুক্ত যা পদের (আগে বসে / পরে বসে / সাথে বসে)।
৭.৩ একটি সংস্কৃত বা তৎসম অনুসর্গের উদাহরণ হল (বনাম / দরুন / ব্যতীত)।
৭.৪ বাংলায় উপসর্গগুলিকে (২ / ৩ / ৪) টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
৭.৫. বিদেশি উপসর্গের উদাহরণ নয় (আ / ব / বে)।
৭.৬ শব্দ বিভক্তিগুলি একের বেশি ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী বা ভাব বোঝালে তার রূপ অন্যরকম হয়– যেমন- (রে / য় / রা)।
৭.৭ ক্রিয়া বোঝায় এমন মূল অংশকে বলে (ধাতু / শব্দ / পদ)।
৭.৮ ‘বিকর্ষণ’ এই শব্দে উপসর্গটি যে অর্থে ব্যবহৃত হয় তা হল (অভাব / বৈপরীত্য / বিরতি)।
৮। নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাওঃ (যে কোনো চারটি) : ১×৪=৪
৮.১ পটলার ওজন কত ছিল ?
৮.২ মন্ত্রী রাজকন্যার কী খেয়ে ফেলেছিল ?
৮.৩ “হিসেবটা দেখবে নাকি ?”- কে কাকে বলেছিল ?
৮.৪ বুড়ো কত বছর হলে বয়স ঘুরিয়ে দেয় ?
৮.৫ কাক্কেশ্বরের ঠিকানা লেখো।
৯। যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৩×২=৬
৯.১ ‘খাদ্য বিশারদ’ কার উপাধি ? তার সম্বন্ধে লেখো।
৯.২ ভগ্নাংশ অনুসারে বুড়োকে কাক কী হিসাব দিয়েছিল ?
৯.৩ “শুনে আমার ভয়ানক হাসি পেয়ে গেল।”– কার কথা বলা হয়েছে ? ভয়ানক হাসির কারণ কী ? ১+২
১০। নিচে লেখা শব্দযুগলের অর্থ লেখো এবং সার্থক বাক্যরচনা করো : শিকার, স্বীকার। ২
১১। পদান্তর করো : ঈশ্বর, মজা ২
১২। যে কোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো : ৪
বইমেলায় একদিন, বিদ্যালয়ে পরিবেশ দিবস উদযাপন।
—সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর—
১। নীচের বিকল্পগুলির মধ্যে সঠিক বিকল্পটি নির্বাচন করে লেখো :
১.১ আগে বছর আরম্ভ হতো অগ্রহায়ণে।
১.২ সাধারণত মাটি থেকে ছ’ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় চিত্রণটি বিস্তৃত হয়।
২। খুব সংক্ষেপে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ (যে কোনো চারটি) :
২.১ গোপাল বাবুদের জমিটি কত টাকায় কেনা হয়েছিল ?
উত্তরঃ রাজকিশোর পট্টনায়কের লেখা ‘ফাঁকি’ গল্পে গোপালবাবুদের জমিটি কটক শহরের প্রাণকেন্দ্রে মাত্র পঁচিশ টাকায় কেনা হয়েছিল।
২.২ গেরোবাজ কে ?
উত্তরঃ ধনগোপাল মুখোপাধ্যায়ের ‘চিত্রগ্রীব’ গল্পে ‘গেরোবাজ’ হলো এক বিশেষ প্রজাতির উড়ন্ত ও ডিগবাজি খাওয়া পায়রা, যে ছিল গল্পটির প্রধান চরিত্র ‘চিত্রগ্রীব’-এর বাবা।
২.৩ পিঁপড়েকে ঘাসের পাতা কোন্ ঋতু আসার আশ্বাস দিয়েছে ?
উত্তরঃ কার্তিক ঘোষের ‘আশীর্বাদ’ গল্পে ঘাসের পাতা পিঁপড়েকে শরৎকাল বা শরৎ ঋতু আসার আশ্বাস দিয়েছে।
২.৪ মানভূমী দেয়ালচিত্রের প্রতীক কী ?
উত্তরঃ তপন করের ‘মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র’ প্রবন্ধ অনুযায়ী মানভূমী দেয়ালচিত্রের প্রতীক হলো পদ্ম।
২.৫ কোন্ সময় বাসে ভীষণ ভীড় হয় ?
উত্তরঃ জ্যোতিভূষণ চাকীর ‘হাটের কথা’ (কিংবা প্রচলিত অভিজ্ঞতা) অনুযায়ী হাটের দিনে হাটুরেদের যাতায়াতের কারণে বিকেলের বা সন্ধ্যার সময় বাসে ভীষণ ভিড় হয়।
৩। নীচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও :
৩.১ ‘গ্রামের সঙ্গে শহরের এখনও নাড়ির টান’- এই নাড়ির টানের প্রসঙ্গ রচনাংশে কীভাবে এসেছে ?
উত্তরঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘মরশুমের দিনে’ গদ্যাংশ থেকে এই উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন যে শহরের মানুষ কৃত্রিম আধুনিকতায় বাস করলেও, তাদের খাদ্যের জন্য সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয় গ্রামের কৃষকদের ওপর। গ্রামে ঠিকমতো বৃষ্টি না হলে বা ফসল না ফললে শহরের মানুষের হাহাকার শুরু হয়। তাই বছরের প্রথম বৃষ্টির পর শহরের লোকও ঘরের জানলা দিয়ে মাটির সোঁদা গন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করে। এভাবেই গ্রামের সুখ-দুঃখ ও ফসলের সাথে শহরের এক অবিচ্ছেদ্য ‘নাড়ির টান’ বজায় থাকে।
৩.২ ‘একদিন নজরে পড়ল’ কী নজরে পড়েছিল ? তা থেকে লেখকের কী উপলব্ধি হয়েছিল ?
উত্তরঃ ধনগোপাল মুখোপাধ্যায়ের ‘চিত্রগ্রীব’ গল্পে একদিন লেখকের নজরে পড়েছিল যে, পায়রাদের চোখের ওপর একটা পাতলা ফিনফিনে পর্দা থাকে। যখন ধুলোবালি ও ঝড় ওড়ে, তখন পায়রারা সেই পর্দা দিয়ে চোখ দুটো ঢেকে নেয়।
উপলব্ধি: এটি দেখে লেখক উপলব্ধি করেছিলেন যে প্রকৃতি কতখানি দয়ালু। তিনি বোঝেন যে, ঝড়-ঝাপটা থেকে এই অবলা জীবদের রক্ষা করার জন্য প্রকৃতি নিজেই তাদের চোখে এই চমৎকার চশমার মতো পর্দা বা আত্মরক্ষার ব্যবস্থা গড়ে দিয়েছে।
৩.৩ ‘আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকলাম’ – লেখক কেন তার কথা অসমাপ্ত রেখে হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন ?
উত্তরঃ রাজকিশোর পট্টনায়কের ‘ফাঁকি’ গল্পে গোপালবাবু যখন এক কাঠমিস্ত্রিকে ডেকে তাদের সাধের আমগাছটি দিয়ে ঘরের জানলা-দরজার কাঠ তৈরি করার কথা বলছিলেন, তখন কাঠমিস্ত্রিটি গাছের গুঁড়ির নিচের অংশটি পরীক্ষা করে। সে কুড়ুল দিয়ে গাছের শুকনো চামড়াটা একটু চাঁচতেই ভেতর থেকে একঝাঁক উইপোকা আর গুঁড়ো মাটি বেরিয়ে আসে। গাছটি যে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ফাপা এবং মৃতপ্রায়, তা দেখে লেখক অবাক হয়ে নিজের কথা অসমাপ্ত রেখেই হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন।
৪। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো :
৪.১ শীতের ভোরের রোদের মতো লেখনখানি লাগছে – মিঠি।
৪.২ ‘নদীর বাতাস ছাড়ে প্রশ্বাস’ – পাকুড় শাখে।
৫। নীচের প্রশ্নগুলির খুব সংক্ষেপে উত্তর দাওঃ (যে কোনো চারটি) :
৫.১ পাখিরালয়ের বাসায় কী পাওয়া যেত না ?
উত্তরঃ নবনীতা দেবসেনের ‘বাঘ’ কবিতায় পাখিরালয়ের বাসায় ছোট্ট বাঘের প্রধান খাদ্য অর্থাৎ ছাগল, হরিণ বা ভেড়া পাওয়া যেত না।
৫.২ ছোটো পিঁপড়ে কী মাখবে ?
উত্তরঃ অমিয় চক্রবর্তীর ‘পিঁপড়ে’ কবিতা অনুযায়ী ছোটো পিঁপড়ে পৃথিবীর আলো-গন্ধ গায়ে মেখে মনের আনন্দে ধুলোর রেণু মাখবে।
৫.৩ এপারের ক্রেতা কখন ছুটে যায় ?
উত্তরঃ যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘হাট’ কবিতা অনুযায়ী, দূর গাঁয়ে যখন বিকালের বা সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসে, তখন কেনাকাটা শেষ করে বাড়ি ফেরার তাড়ায় এপারের ক্রেতা ওপারে ছুটে যায়।
৫.৪ চিঠি কবিতায় উদাস বাতাস কী করছে ?
উত্তরঃ জসীমউদ্দীনের ‘চিঠি’ কবিতা অনুযায়ী, উদাস বাতাস বাঁশবাগানের পাতাঝরার খবর বা চিঠি দিয়ে আছাড়-পাছাড় করে কেঁদে মরছে।
৫.৫ ছোট্ট বাঘের বাবা-মা বাড়ি বদলে কোথায় গেল ?
উত্তরঃ নবনীতা দেবসেনের ‘বাঘ’ কবিতায় পাখির বাসায় ছানার দুঃখ দেখে তার বাবা-মা বাড়ি বদলে সুন্দরবনের সজনেখোলায় চলে গিয়েছিল।
৬। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ (যে কোনো দুটি) :
৬.১ গাঙশালিক কবিকে মোড়ল হতে বলেছে কেন ?
উত্তরঃ পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ‘চিঠি’ কবিতায় গাঙশালিক কবিকে যে চিঠি পাঠিয়েছিল, তাতে সে কবিকে নদীর বা গাঙের পাড়ের মোড়ল বা প্রধান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কারণ, সেই নদীর ধার দিয়ে জোয়ারের জল উজানের দিকে বয়ে চলে। গাঙশালিক চায় কবি প্রকৃতির সেই সুন্দর নদীর পাড়ে থেকে নদীর দেখাশোনা করুন এবং সেখানকার অধিপতি বা মোড়ল হিসেবে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করুন।
৬.২ ‘হাট’ কবিতায় হাটের যে চিত্র অঙ্কিত হয়েছে, তা কবিতাটি অনুসরণে সংক্ষেপে বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘হাট’ কবিতায় একটি গ্রামীণ হাটের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
দিনের বেলার চিত্র: দিনের বেলা হাটে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কোলাহলে চারিদিক মুখরিত থাকে। সেখানে জিনিসপত্র কেনাবেচা এবং দরদাম নিয়ে প্রচণ্ড কাড়াকাড়ি ও ব্যস্ততা চলে।
রাতের বেলার চিত্র: কিন্তু হাট ভাঙার পর বা রাতের বেলা সেই একই হাট সম্পূর্ণ জনশূন্য ও নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। হাটের দোচালা ঘরগুলো অন্ধকারে ডুবে থাকে। দিনের বেলার কোলাহল মুছে গিয়ে সেখানে এক উদাসীন, নীরব ও থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়। সেখানে প্রদীপ জ্বালানোরও কেউ থাকে না। কবি হাটের এই ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে মানবজীবনের আসা-যাওয়ার চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরেছেন।
৬.৩ ‘কেমন যেন চেনা লাগে’ কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তরঃ কবি অমিয় চক্রবর্তীর ‘পিঁপড়ে’ কবিতা থেকে এই অংশটি নেওয়া হয়েছে।
মাটির ওপর সারিবদ্ধভাবে পিঁপড়েদের অনবরত ব্যস্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং এগিয়ে চলা কবির খুব পরিচিত বলে মনে হয়। পিঁপড়েদের এই দলবদ্ধভাবে চলা, সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা এবং নিজেদের মধ্যে নীরব ভাববিনিময়ের ভঙ্গিটি মানুষের সমাজজীবনের মতোই। মাটির পৃথিবীর জীব হিসেবে পিঁপড়েদের এই বেঁচে থাকার তাগিদ ও জীবনছন্দ মানুষের খুবই চেনা। কবি এই গভীর জীবনবোধ ও একাত্মতা বোঝাতেই কথাটি ব্যবহার করেছেন।
৭। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :
৭.১ উপসর্গগুলিকে অন্য যে নামে ডাকা হয় — আদ্য প্রত্যয়। (কারণ উপসর্গ শব্দের শুরুতে বা আদি-তে বসে)
৭.২ বিভক্তি আর অনুসর্গ দুটোই শব্দ সম্পর্কযুক্ত যা পদের — পরে বসে।
৭.৩ একটি সংস্কৃত বা তৎসম অনুসর্গের উদাহরণ হল — ব্যতীত।
৭.৪ বাংলায় উপসর্গগুলিকে — ৩ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। (তৎসম, তদ্ভব বা খাঁটি বাংলা এবং বিদেশি)
৭.৫ বিদেশি উপসর্গের উদাহরণ নয় — আ। (এটি সংস্কৃত/তৎসম উপসর্গ, অন্য দুটি বিদেশি)
৭.৬ শব্দ বিভক্তিগুলি একের বেশি ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী বা ভাব বোঝালে তার রূপ অন্যরকম হয়– যেমন- রা। (যেমন: ছেলেরা — বহুবচন বোঝাতে)
৭.৭ ক্রিয়া বোঝায় এমন মূল অংশকে বলে — ধাতু।
৭.৮ ‘বিকর্ষণ’ এই শব্দে উপসর্গটি যে অর্থে ব্যবহৃত হয় তা হল — বৈপরীত্য। (আকর্ষণ-এর বিপরীত অর্থ বোঝাতে এখানে ‘বি’ উপসর্গটি বসেছে)
৮। নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাওঃ (যে কোনো চারটি) :
৮.১ পটলার ওজন কত ছিল ?
উত্তরঃ ‘হযবরল’ গল্পে হিজিবিজবিজ-এর হিসেব অনুযায়ী পটলার ওজন ছিল সাড়ে ছ-সের।
৮.২ মন্ত্রী রাজকন্যার কী খেয়ে ফেলেছিল ?
উত্তরঃ হিজিবিজবিজ-এর গল্প অনুযায়ী মন্ত্রী মশাই রাজকন্যার সোনার নূপুর খেয়ে ফেলেছিলেন।
৮.৩ “হিসেবটা দেখবে নাকি ?”- কে কাকে বলেছিল ?
উত্তরঃ ‘হ য ব র ল’ গল্পে গাছ থেকে নেমে আসা গেছো ব্যাঙ এই কথাটি লেখককে বলেছিল।
৮.৪ বুড়ো কত বছর হলে বয়স ঘুরিয়ে দেয় ?
উত্তরঃ বুড়ো বা তাসের টেক্কাটির কথা অনুযায়ী, বয়স চল্লিশ বছর হলে তারা বয়সটাকে আর সামনের দিকে না বাড়িয়ে পেছনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
৮.৫ কাক্কেশ্বরের ঠিকানা লেখো।
উত্তরঃ কাক্কেশ্বরের ঠিকানা হলো: ৪১ নং কাগেয়াপট্টি, কাওড়াপাড়া।
৯। যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ
৯.১ ‘খাদ্য বিশারদ’ কার উপাধি ? তার সম্বন্ধে লেখো।
উত্তরঃ ‘হযবরল’ গল্পে ‘খাদ্য বিশারদ’ হলো ন্যাড়া বা সাড়ে-বত্রিশ ভাজাওয়ালা লোকটির উপাধি।
তার সম্বন্ধে বলা যায় যে, সে ছাতা মাথায় দিয়ে বগলে একটা স্লেট নিয়ে গান গেয়ে গেয়ে সাড়ে-বত্রিশ ভাজা বিক্রি করছিল। আদালতে বিচার চলার সময় যখন শ্রীযুক্ত ব্যাকরণ শিং বিএ খাদ্য বিশারদকে জিজ্ঞাসা করেন যে সে কী খায়, তখন সে উত্তর দেয় যে সে খায় না, সে স্রেফ খাওয়ায়। সে কাঁচা আম, আতা, পাকা বেল, তামাকের পাতা ইত্যাদি নানারকম অদ্ভুত জিনিসের সাড়ে-বত্রিশ ভাজা তৈরি করে খাওয়াতো।
৯.২ ভগ্নাংশ অনুসারে বুড়োকে কাক কী হিসাব দিয়েছিল ?
উত্তরঃ ‘হযবরল’ গল্পে বুড়ো বা তাসের টেক্কাটির বয়স নিয়ে যে গোলমাল চলছিল, সেই প্রসঙ্গে কাক (কাক্কেশ্বর কুচকুচে) ভগ্নাংশ অনুসারে বুড়োকে বয়সের একটি অদ্ভুত হিসাব দিয়েছিল। কাকের হিসাব অনুযায়ী— বুড়োর বয়স যদি উনচল্লিশ বছর নয় মাস সতেরো দিন হয়, তবে বয়স ঘুরিয়ে দেওয়ার নিয়মে উনচল্লিশ বছরের বাকি অংশটুকু অর্থাৎ তেইশ দিন তিন মাস বাদ যাবে। ফলে বুড়োর আসল বয়স দাঁড়াবে ৩৯ বছর থেকে ওই অংশটুকু মাইনাস বা বিয়োগ করে ৩৮ বছর ৮ মাস ৭ দিন।
৯.৩ “শুনে আমার ভয়ানক হাসি পেয়ে গেল।”– কার কথা বলা হয়েছে ? ভয়ানক হাসির কারণ কী ?
উত্তরঃ এখানে গল্পের প্রধান চরিত্র অর্থাৎ লেখকের নিজের কথা বলা হয়েছে।
ভয়ানক হাসির কারণ: লেখক যখন ছায়ার দৈর্ঘ্য মেপে নিজের বয়স ২৬ বছর ৭ মাস হতে চলেছে বলে হিসাব করছিলেন, তখন হুট করে গাছের ওপর থেকে একটি কাক (কাক্কেশ্বর কুচকুচে) বলে ওঠে যে লেখকের হিসেবটা ভুল হয়েছে। কাক নিজের স্লেটে খড়ি দিয়ে এক জটিল অঙ্ক কষে দাবি করে যে লেখকের বয়স আসলে সাঁইত্রিশ বছর এগারো মাস সতেরো দিন। কাকের এমন অদ্ভুত ও অযৌক্তিক হিসাব শুনে লেখকের ভয়ানক হাসি পেয়ে গিয়েছিল।
১০। নিচে লেখা শব্দযুগলের অর্থ লেখো এবং সার্থক বাক্যরচনা করো :
উত্তরঃ
শিকার — পশুপাখি হত্যা বা মৃগয়া)
বাক্যরচনা: প্রাচীনকালে রাজারা বনে গিয়ে পশুপাখি শিকার করতে পছন্দ করতেন।
স্বীকার — মেনে নেওয়া বা কবুল করা।
বাক্যরচনা: নিজের ভুল বুঝতে পেরে রাহুল সবার সামনে তা স্বীকার করল।
১১। পদান্তর করো :
উত্তরঃ
• ঈশ্বর — ঐশ্বরিক।
• মজা — মজাদার বা মজে যাওয়া।
১২। যে কোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো :
বইমেলায় একদিন
বইমেলা বইপ্রেমীদের কাছে এক মিলনক্ষেত্র। গত শীতের এক পড়ন্ত বিকেলে আমি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে কলকাতার আন্তর্জাতিক বইমেলায় গিয়েছিলাম। মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই চারদিকে সারি সারি বইয়ের স্টল এবং মানুষের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ল। স্টলগুলো নানারকম আলো এবং প্রিয় লেখকদের ছবি দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। আমি আমার পছন্দের গল্পের বই ও কমিকসের স্টলগুলো ঘুরে বেশ কিছু বই কিনলাম। মেলায় শুধু বই কেনাই নয়, বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকদের সামনাসামনি দেখার এবং তাঁদের কথা শোনার এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা আমার হলো। সবশেষে মেলা প্রাঙ্গণের ফুডকোর্ট থেকে গরম জিলিপি আর চাট খেয়ে আমরা রাতের বেলা বাড়ি ফিরে এলাম। বইমেলার সেই দিনটি আমার স্মৃতিতে চিরকাল মধুর হয়ে থাকবে।
অথবা,
বিদ্যালয়ে পরিবেশ দিবস উদযাপন
প্রতি বছরের ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস সারা পৃথিবীর সাথে আমাদের বিদ্যালয়েও অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে উদযাপন করা হয়। এই দিন সকালে আমাদের বিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকেরা মিলে একটি বর্ণাঢ্য পদযাত্রার আয়োজন করি। আমাদের হাতে ছিল পরিবেশ সচেতনতামূলক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন। এরপর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাশয় পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব নিয়ে একটি মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আমরা শিক্ষকমশাইদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের চারপাশে বেশ কিছু ফুলের ও ফলের চারাগাছ রোপণ করি এবং সেগুলোতে জল দিই। এই দিনটি আমাদের শেখায় যে পৃথিবীকে সবুজ ও সুন্দর রাখতে গাছপালা বাঁচিয়ে রাখা কতটা জরুরি।
📌আরও পড়ুনঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
