বায়ুদূষণ Class 6 প্রশ্ন উত্তর অষ্টম অধ্যায় | Class 6 Geography Chapter 8 Question Answer

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা,আমাদের ওয়েবসাইটে তোমাদের সবাইকে স্বাগত! আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নিয়ে এসেছি ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল পাঠ্যবইয়ের অষ্টম অধ্যায় – “বায়ুদূষণ”-এর সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর। তোমাদের স্কুলের ইউনিট টেস্ট এবং ফাইনাল পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে, এই অধ্যায়ের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় এখানে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি, এই নোটসগুলো তোমাদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ করে তুলবে। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো!

বায়ুদূষণ

ষষ্ঠ শ্রেনী ভূগোল | অষ্টম অধ্যায়
______________________________________

বায়ুদূষণ Class 6 প্রশ্ন উত্তর অষ্টম অধ্যায় | Class 6 Geography Chapter 8 Question Answer

∆ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১। স্টোন ক্যানসার অধিকাংশ দেখা যায়— (গ্র্যানাইট / সিসা / মারবেল)।

উত্তরঃ মারবেল

২। আমরা নিশ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে— (অক্সিজেন / কার্বন ডাইঅক্সাইড / মিথেন) গ্যাস ত্যাগ করি।

উত্তরঃ কার্বন ডাইঅক্সাইড

৩। বায়ুদূষণ কম হয়— (তাপবিদ্যুৎ / পারমাণবিক বিদ্যুৎ / সৌরবিদ্যুৎ / আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে)।

উত্তরঃ সৌরবিদ্যুৎ।

৪। বায়ুদূষণের সহায়ক নয়— (কার্বন মনোক্সাইড / সালফার ডাইঅক্সাইড / ক্লোরোফ্লুরোকার্বন / সোডিয়াম নাইট্রেট)।

উত্তরঃ সোডিয়াম নাইট্রেট।

৫। বাড়ি থেকে ৩ কিমি দূরত্বে অবস্থিত তোমার বিদ্যালয়ে যেতে কোন যানবাহনটি ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ হবে না— (সাইকেল / বাস / অটো / ট্রেকার)

উত্তরঃ সাইকেল

৬। দ্রুতগামী বিমান থেকে নির্গত— (নাইট্রোজেন অক্সাইড / অক্সিজেন / হাইড্রোজেন / কার্বন ডাইঅক্সাইড ওজোনস্তরের ক্ষতি করে)।

উত্তরঃ নাইট্রোজেন অক্সাইড।

৭। বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর — (২০-২৫ / ৩০-৩৫ / ৪০-৪৫) কিমি উন্নতায় অবস্থান করে।

উত্তরঃ ২০-২৫

৮। একটি গ্রিনহাউস গ্যাস হল — (অক্সিজেন / কার্বন ডাইঅক্সাইড / হাইড্রোজেন)।

উত্তরঃ কার্বন ডাইঅক্সাইড

৯। বায়ুমণ্ডলে থাকা আমাদের রক্ষাকবচটি হল— (ওজোনস্তর / নাইট্রোজেন স্তর / হিলিয়াম স্তর)।

উত্তরঃ ওজোনস্তর

১০। ‘রুকাইয়ের দাদু প্রায় সারা বছরই হাঁপানিতে ভোগেন।’– হাঁপানি হয়— (জলদূষণের / মাটিদূষণের / বায়ুদূষণের / শব্দদূষণের) ফলে।

উত্তরঃ বায়ুদূষণের

১১। শীতের দেশে কাচের যে ঘরে শাকসবজির চাষ হয়, তাকে বলে— (winter house / green house / red house / blue house)।

উত্তরঃ green house

১২। যানবাহনের ধোঁয়া-সৃষ্ট ধাতুজাতীয় ক্ষতিকারক পদার্থটি হল— (পারদ / সিসা / ক্যাডমিয়াম / ইউরেনিয়াম)

উত্তরঃ সিসা

১৩। বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হল— (সবুজায়ন / শিল্পায়ন / পশুচারণ / নগরায়ন)।

উত্তরঃ শিল্পায়ন

১৪। বিশ্ব উষ্ণয়নের জন্য দায়ী করা হয়— (নিষ্ক্রিয় গ্যাস / গ্রিনহাউস গ্যাস / হাইড্রোজেন গ্যাস / অক্সিজেন গ্যাস-কে)।

উত্তরঃ গ্রিনহাউস গ্যাস

১৫। জৈব পদার্থের পচনের ফলে উৎপন্ন গ্যাসটি হল — (CFC / মিথেন / কার্বন মনোক্সাইড)।

উত্তরঃ মিথেন

১৬। কলকাতা, মুম্বাই এর মতো বড়ো শহরে প্রতিদিন যে গাড়ি চলে তা থেকে প্রায় — (১০ / ২০ / ৩০) লক্ষ কিলোগ্রাম ধোঁয়া বাতাসে মেশে।

উত্তরঃ ১০ লক্ষ

১৭। একটি প্রচলিত শক্তির উৎস হল — (বায়ু / সৌরকিরণ / খনিজ তেল)।

উত্তরঃ খনিজ তেল

১৮। ওজোনস্তর পাতলা হলে— (অতিবেগুনি রশ্মি / এক্স রশ্মি / গামা রশ্মি / অবলোহিত রশ্মি পৃথিবীতে এসে পৌঁছাবে)।

উত্তরঃ অতিবেগুনি রশ্মি।

১৯। আমাদের শ্বাসকষ্ট হয়— (বায়ু / জল / মাটি / শব্দ দূষণের) ফলে।

উত্তরঃ বায়ু

২০। ধূলিঝড়ের ফলে— (মাটি / শব্দ / জল / বায়ু) দূষণ হয়।

উত্তরঃ বায়ু

২১। গ্রিনহাউস এফেক্ট প্রভাব-এর ফলে সৃষ্টি হয়— (জলদূষণ / শব্দদূষণ / বায়ুদূষণ / দৃশ্যদূষণ)।

উত্তরঃ বায়ুদূষণ।

২২। বায়ুদূষণের ফলে বেশি ক্ষতি হয়— (শিশু / যুবক / বৃদ্ধ / মহিলাদের)।

উত্তরঃ শিশু

২৩। অ্যাসিড বৃষ্টি বেশি দেখা যায়— (গ্রামাঞ্চলে / শিল্পাঞ্চলে / বনাঞ্চলে / কৃষি অঞ্চলে)।

উত্তরঃ শিল্পাঞ্চলে

২৪। অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে জলে মেশে— (সালফার ডাইঅক্সাইড / ক্যালশিয়াম কার্বনেট / ক্লোরোফ্লুরোকার্বন / জলীয় বাষ্প)।

উত্তরঃ সালফার ডাইঅক্সাইড

২৫। তাজমহল সৌধ ক্ষয়ের জন্য দায়ী— (ধোঁয়াশা / অম্লবৃষ্টি / বিশ্ব উষ্ণয়ন / ওজোন স্তরের ক্ষয়)।

উত্তরঃ অম্লবৃষ্টি

২৬। বনজঙ্গল কাটলে বাতাসে— (কার্বন ডাইঅক্সাইড / অক্সিজেন / নাইট্রোজেন অক্সাইড / সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাবে)।

উত্তরঃ কার্বন ডাইঅক্সাইড

২৭। ২০১১ সালে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে বিস্ফোরণ ঘটে— (চেরনোবিলে / ফুকুশিমায় / ভোপালে / কলকাতায়)।

উত্তরঃ ফুকুশিমায়

২৮। তাজমহল ও ভিক্টোরিয়া— (বেলেপাথর / মারবেল পাথর / কোয়ার্টজাইট / চুনাপাথর দিয়ে তৈরি)।

উত্তরঃ মারবেল পাথর

২৯। আমরা শ্বাস নেওয়ার সময়— (অক্সিজেন / কার্বন ডাইঅক্সাইড / নাইট্রোজেন / ওজোন গ্রহণ করি)।

উত্তরঃ অক্সিজেন

৩০। একটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস হল— (কার্বন ডাইঅক্সাইড / নাইট্রোজেন / অক্সিজেন / হাইড্রোজেন)।

উত্তরঃ কার্বন ডাইঅক্সাইড

৩১। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে— (প্রচলিত শক্তি / অপ্রচলিত শক্তি / পারমাণবিক শক্তি / তাপশক্তি ব্যবহার করে)।

উত্তরঃ অপ্রচলিত শক্তি

∆ শূন্যস্থান পূরন করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে _________মার্চ, ২০০৭ Earth Hour পালিত হয়।

উত্তরঃ ৩১

২. বৃক্ষচ্ছেদনের ফলে বায়ুতে _____________ গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

উত্তরঃ কার্বনডাই অক্সাইড।

৩. _________ থেকে ঘরের বাতাসে সবচেয়ে বেশি দূষণ ছড়ায়।

উত্তরঃ উনুন

৪. কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাইয়ে প্রতিদান _________ লক্ষ কেজি ধোঁয়া বাতাসে মেশে।

উত্তরঃ ১০

৫. _________ সালে জাপানের ফুকুশিমায় পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে বিস্ফোরণ ঘটে।

উত্তরঃ ২০১১

৬. _____________ গ্যাস বৃদ্ধির জন্য বায়ুমন্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উত্তরঃ গ্রীনহাউস।

৭. তাজমহলের ক্ষতি করছে ____________ বৃষ্টি।

উত্তরঃ অ্যাসিড।

৮. শহরের বায়ু দূষণের প্রধান কারণ ____________ চলাচল।

উত্তরঃ মোটরগাড়ি।

৯. ____________ একটি মুখ্য বায়ুদূষক।

উত্তরঃ কার্বন ডাইঅক্সাইড

১০. দাবানল ____________ দূষণের একটি কারণ।

উত্তরঃ বায়ু / বাতাস।

১১. _________হল শীতের দেশের শাকসবজি চাষের কাঁচঘর।

উত্তরঃ গ্রিনহাউস

১২. বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে বর্তমানে _______ টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে।

উত্তরঃ ৮৫

১৩. পৃথিবীর পরিবেশ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে মানুষকে সচেতন করতে ________ এপ্রিল ধরিত্রী দিবস পালন করা হয়।

উত্তরঃ ২২

১৪. দিল্লিতে ধোঁয়াশা সৃষ্টির কারণ _________ ।

উত্তরঃ বায়ু দূষণ।

১৫. মশা তাড়ানোর ধুপ না জ্বালিয়ে ____________ ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না।

উত্তরঃ মশারি।

১৬. অতিবেগুনি রশ্মির কারণে গাছের পাতার ___________ নষ্ট হয়ে শস্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

উত্তরঃ ক্লোরোফিল।

১৭. যানবাহন কলকারখানার ধোঁয়া থেকে নির্গত গ্যাস বৃষ্টির জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ___________ তৈরি করে।

উত্তরঃ অ্যাসিড।

১৮. ___________ বদলে রাস্তায় চল্লিশটা প্রাইভেট গাড়ি চললে বাতাস অনেক বেশি দূষিত হয়।

উত্তরঃ বাসের।

∆ সত্য / মিথ্যা নির্ণয় করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. AC থেকে ক্লোরোফ্লুরো কার্বন উৎপন্ন হয়।

উত্তরঃ সত্য

২. ধূপকাঠির ধোঁয়া ঘরের দূষণ ঘটায়।

উত্তরঃ সত্য

৩. কৃষি কাজের ফলে বেশি মাত্রায় বায়ুদূষণ ঘটে।

উত্তরঃ মিথ্যা

৪. ধোঁয়া ও কুয়াশার মিলিত রূপ ধোঁয়াশা।

উত্তরঃ সত্য

৫. ইটভাটা এবং কারখানা থেকে প্রচুর মিথেন গ্যাস নির্গত হয়।

উত্তরঃ মিথ্যা

৬. CFC গ্যাস ওজোনস্তরের ক্ষতি করে ।

উত্তরঃ সত্য

৭. বায়ুদূষণ প্রতিরোধের জন্য বেশি করে গাছ লাগানো প্রয়োজন ।

উত্তরঃ সত্য

৮. ২০১১ সালে জাপানে পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্রে বিস্ফোরণের ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বায়ুতে মিশে যায়।

উত্তরঃ সত্য।

৯. গরমের দেশে গ্রীন হাউসে চাষ করা হয়।

উত্তরঃ মিথ্যা।

১০. অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে মার্বেল দিয়ে তৈরি সৌধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উত্তরঃ সত্য

১১. বাস লরি, প্রভৃতি থেকে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়।

উত্তরঃ মিথ্যা

১২. বনসৃজন করলে দূষণ হ্রাস পায়।

উত্তরঃ সত্য।

১৩. কার্বন ডাই অক্সাইড একটি গ্রিনহাউস গ্যাস।

উত্তরঃ সত্য।

১৪. ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

উত্তরঃ সত্য

১৫. বায়ুশক্তি একটি প্রচলিত শক্তির উদাহরণ।

উত্তরঃ মিথ্যা

১৬. দরজা, জানালার রং ঘরের মধ্যে CFC গ্যাসের উৎস।

উত্তরঃ সত্য

১৭. সৌরশক্তি একটি প্রচলিত শক্তি ।

উত্তরঃ মিথ্যা

১৮. ধূমপানে ধূমপায়ী ছাড়া অপর কারোর ক্ষতি হয় না।

উত্তরঃ মিথ্যা

১৯. ট্রেন গণপরিবহণের একটি মাধ্যম নয় ।

উত্তরঃ মিথ্যা

২০. অপ্রচলিত শক্তিতে বায়ুদূষণ কম হয় ।

উত্তরঃ সত্য

২১. অক্সিজেন একপ্রকার গ্রিনহাউস গ্যাস।

উত্তরঃ মিথ্যা

২২. বৃক্ষচ্ছেদনের ফলে বায়ুদূষণ হয়।

উত্তর সত্য।

২৩. বায়ুশক্তি একটি প্রচলিত শক্তির উদাহরণ।

উত্তরঃ মিথ্যা

২৪. প্রাইভেট গাড়ির বদলে গণপরিবহনে বায়ু দূষণ কম হয়।

উত্তরঃ সত্য।

২৫. ধূমপান থেকে ঘরের বাতাস সবচেয়ে বেশি দূষিত হয়।

উত্তরঃ সত্য

∆ দু-এক কথায় উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. বিশ্ব উষ্ণায়নে দায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস কোনটি ?

উত্তরঃ কার্বন ডাইঅক্সাইড।

২. সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনহাউস গ্যাস কোনটি?

উত্তরঃ জলীয়বাষ্প

৩. ফ্রিজ, এসি, সুগন্ধী ইত্যাদি থেকে কোন্ গ্যাস উৎপন্ন হয় ?

উত্তরঃ CFC

৪. কী কী মিলিত হয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয় ?

উত্তরঃ ধোঁয়া ও কুয়াশা।

৫. শীতের দেশে কাচের ঘরে যে শাকসবজির চাষ হয় তাকে কী বলে?

উত্তরঃ গ্রিনহাউস

৬. একটি গণপরিবহনের উদাহরণ দাও ।

উত্তরঃ বাস

৭. জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কত সালে বিস্ফোরণ ঘটেছিল ?

উত্তরঃ ২০১১ সালে

৮. কোন গ্যাস বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তরকে ধ্বংস করে ?

উত্তরঃ ক্লোরোফ্লুরো কার্বন।

৯. CFC-এর পুরোকথা কী?

উত্তরঃ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন

১০. তাজমহল, কেন ক্ষয় হচ্ছে ?

উত্তরঃ অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য

১১. Earth hour প্রথম কবে পালন করা হয় ?

উত্তরঃ ২০০৭ সালের ৩১ মাৰ্চ

১২. পাথরের ক্যানসার বা স্টোন ক্যানসার কেন হয় ?

উত্তরঃ অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য।

১৩. একটি বিষাক্ত গ্যাসের নাম লেখো।

উত্তরঃ কার্বন মনোক্সাইড।

১৪. আমাদের দেশের পাঁচটা বড়ো শহর থেকে কত ধোঁয়া বাতাসে মেশে ?

উত্তরঃ প্রায় 10 লক্ষ কেজি।

১৫. ধূমপানের ফলে কী রোগ হয় ?

উত্তরঃ ক্যানসার।

১৬. Earth Hour প্রথম কোথায় পালিত হয় ?

উত্তরঃ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে।

১৭. কোন গ্যাসের ফলে অ্যাসিড বৃষ্টি হয় ?

উত্তরঃ সালফার ডাইঅক্সাইড।

১৮. বিশ্ব উয়ায়ন কমাতে ক-টি দেশের মানুষ ১ ঘণ্টার জন্য আলো বন্ধ করে রাখে ?

উত্তরঃ ৮৫টি।

১৯. পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে কোন গ্যাস নির্গত হয় ?

উত্তরঃ নাইট্রোজেন অক্সাইড।

২০. কোথায় পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটেছিল ?

উত্তরঃ জাপানের ফুকুসিমায়।

২১. হাঁচির সময় আমাদের কী করা উচিত ?

উত্তরঃ মুখে রুমাল দেওয়া উচিত।

২২. যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান বাতাসকে দূষিত করে, তাদের এককথায় কী বলে ?

উত্তরঃ বায়ুদূষক।

২৩. ওজন স্তর ধ্বংস করে কোন গ্যাস ?

উত্তরঃ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন।

২৪. একটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখো।

উত্তরঃ কার্বন ডাইঅক্সাইড।

∆ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : বায়ু দূষণ অষ্টম অধ্যায় ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল। প্রতিটি প্রশ্নের মান-২

১. বায়ু দূষণ বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট কার্যকলাপের ফলে উৎপন্ন বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস ও ক্ষতিকারক পদার্থ বাতাসে মিশ্রণের ফলে বায়ু যখন মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে ওঠে, তখন তাকে বায়ু দূষণ বলে।

২. বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর আমাদের কিভাবে রক্ষা করে ?

উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে।

৩. বায়ু দূষক বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ যে সমস্ত জৈব ও অজৈব পদার্থ বাতাসকে দূষিত করে তাদের বায়ুদূষক বলে। যেমন— বায়ু দূষণকারী একটি বায়ুদূষক হল কার্বন-ডাই-অক্সাইড।

৪. ক্লোরোফ্লোরোকার্বন গ্যাসের উৎস গুলি লেখ ?

উত্তরঃ (AC) এসি, ফ্রিজ, সুগন্ধি স্প্রে, রং প্রভৃতি হল ক্লোরোফ্লুওরোকার্বন গ্যাসের প্রধান উৎস। যা বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে ক্ষয় করছে।

৫. কয়েকটি ক্ষতিকারক বা বিষাক্ত গ্যাসের নাম উল্লেখ করো ?

উত্তরঃ কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড প্রভৃতি হল কয়েকটি ক্ষতিকারক বা বিষাক্ত গ্যাসের নাম।

৬. বিশ্ব উষ্ণায়ন কী ?

উত্তরঃ বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্প কার্বন-ডাই-অক্সাইড মিথেন নাইট্রাস অক্সাইড প্রভৃতি গ্রীন হাউজ গ্যাসগুলির বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলা হয়।

৭. অ্যাসিডবৃষ্টি কাকে বলে ?

উত্তরঃ যানবাহন, কলকারখানার ধোঁয়ায় থাকা সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড প্রভৃতি বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে ভূপৃষ্ঠেপতিত হলে, তাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।

৮. অ্যাসিড বৃষ্টি কী ?

উত্তরঃ যানবাহন এবং কলকারখানার ধোঁয়া থেকে সালফার ডাইঅক্সাইড (SO) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড (NO) প্রভৃতি গ্যাস নির্গত হয়। এগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে অ্যাসিড তৈরি করে এবং বৃষ্টির সঙ্গে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে। একেই অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।

৯. অ্যাসিড বৃষ্টি হলে কী কী ক্ষতি হয় ?

উত্তরঃ অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন জলাশয়ের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়, মৃত্তিকা অনুর্বর হয়ে ওঠে ও ফসলের ক্ষতি হয়, পাথরের মূর্তি বা সৌধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাড়ির রং নষ্ট হয় ও ইস্পাতের তৈরি ব্রিজের ক্ষতি হয়।

১০. অ্যাসিড বৃষ্টি কী ?

উত্তরঃ বৃষ্টির জলের সঙ্গে শিল্প-কারখানার ধোঁয়া থেকে নির্গত সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বিক্রিয়া করে অ্যাসিড তৈরি করে এবং তা অ্যাসিড বৃষ্টি রূপে পৃথিবী বৃষ্টি ঝরে পড়ে।

১১. অ্যাসিড বৃষ্টির ক্ষতিকারক দিক গুলি লেখ ?

উত্তরঃ অ্যাসিড বৃষ্টি র ফলে গাছপালার ক্ষতি হয়, মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয়, বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যায়, অ্যাসিড মার্বেল পাথরে তৈরি স্মৃতি সৌধ গুলি নষ্ট করে দেয় ইত্যাদি।

১২. গ্রিন হাউস গ্যাস কাকে বলে?

উত্তরঃ পৃথিবীর যে সমস্ত গ্যাস গুলির তাপ শোষণ করার ক্ষমতা বেশি তাদের গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। যেমন – কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি।

১৩. প্রধান প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির নাম লেখো।

উত্তরঃ প্রধান প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি হল কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOX), ওজোন, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) প্রভৃতি। তবে জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা প্রভৃতি উপাদানগুলি গ্যাসীয় উপাদান না হলেও এরা পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গ্রিনহাউস গ্যাসের ন্যায় আচরণ করে।

∆ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর : বায়ু দূষণ অষ্টম অধ্যায় ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল। প্রতিটি প্রশ্নের মান-৩

১. বায়ু দূষনের কারণ গুলি লেখ ?

উত্তরঃ (i) চাষের জমি, ঘর বাড়ি তৈরি করার জন্য প্রতি নিয়ত প্রচুর পরিমাণে গাছ কেটে ফেলে হচ্ছে, যার জন্য বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। (ii) বিভিন্ন শিল্প কারখানা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত ছাই, ধূলিকণা, বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে মিশে বায়ু দূষণ ঘটাচ্ছে। (iii) চাষের জমিতে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ব্যবহারের সময় কিছু অংশ বাতাসে মিশে বায়ু কে দূষিত করে। (iv) যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়ায় প্রচুর পরিমাণে কার্বন মনোক্সাইড, সিসা থাকে যা বায়ুকে দূষিত করে।

২. বাড়ির পরিবেশে বায়ুদূষণ প্রতিরোধে তুমি কী কী করতে পারো ?

উত্তরঃ (i) কাশি বা হাঁচির সময় মুখে রুমাল চাপা দিতে হবে। (ii) ঘরে রান্না করার সময় রান্নাঘরের দরজা বা জানালা খুলে রাখতে হবে। (iii) ঘরের ভিতরে আবর্জনা ফেলার পাত্র সবসময় ঢেকে রাখতে হবে। (iv) ঘরের ভিতর রং করার সময় ঘরের দরজা ও জানালা খোলা রাখতে হবে। (v) মশা তাড়ানোর ধূপের বদলে মশারি ব্যবহার করতে হবে। (vi) ঘরের মধ্যে যাতে কেউ ধূমপান না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

৩. বিশ্ব উষ্ণায়ন কী ?

উত্তরঃ পৃথিবীব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির অত্যধিক নির্গমনের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের জমার পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ বৃহৎ তরঙ্গরূপে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ও গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির দ্বারা শোষিত হয়। এইভাবে ভূপৃষ্ঠের তাপ সঞ্চয় করে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি বায়ুমণ্ডলীয় উষ্ণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পৃথিবীর গড় উষ্ণতার বৃদ্ধি ঘটায়। এই ঘটনাকেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বলা হয়। এর ফলে, মেরু এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে, সমুদ্রজলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি দেখা দিচ্ছে, পৃথিবীব্যাপী জলবায়ুগত পরিবর্তন ঘটছে।

৪. Earth hour বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ অস্ট্রেলিয়ার অন্তর্গত সিডনি শহরের অধিবাসীরা 2007 সালের 31 মার্চ রাত সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৭টা অর্থাৎ 1 ঘণ্টার জন্য শহরের আলো নিভিয়ে রেখেছিল। প্রতি বছরই মার্চ মাসের যে-কোনো একটি শনিবার এমনটা করা হয়ে থাকে। এই এক ঘণ্টা সময়কেই Earth hour বলা হয়। বর্তমানে পৃথিবীর 85টি দেশের 1000টি শহরের অধিবাসীরা মার্চ মাসের যে-কোনো একটি শনিবার 1 ঘণ্টার জন্য আলো বন্ধ করে আর্থ আওয়ার পালন করেন।

৫. বায়ুদূষণ বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ বিভিন্ন ধরনের দূষক পদার্থ দ্বারা বায়ুর গুণমানের অবনমনই হল বায়ুদূষণ। তবে WHO (World Health Organisation) প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী, বায়ুর মধ্যে যখন বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থের প্রবেশের ফলে তার স্বাভাবিক গুণমানের পরিবর্তন ঘটে এবং পরিবেশ, জীবজগৎ তথা মানুষের ওপর বিভিন্ন বিরূপ প্রভাব পড়ে, তখন তাকে বায়ুদূষণ বলে।

৬. প্রধান বায়ুদূষকগুলির নাম লেখো।

উত্তরঃ প্রধান বায়ুদূষকগুলি হল—বিভিন্ন প্রকার বিষাক্ত গ্যাস যেমন—কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), কার্বন মনোক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOX), সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2) ইত্যাদি; বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ (সিসা, পারদ ইত্যাদি); কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া, ধূলিকণা, ফুলের পরাগরেণু এবং অন্যান্য জৈব ও অজৈব পদার্থসমূহ।

৭. বাড়ির পরিবেশে কীভাবে বায়ুদূষণ ঘটে ?

উত্তরঃ বাড়ির পরিবেশে বিভিন্নভাবে বায়ুদূষণ ঘটে। যেমন— (i) রান্না করার সময় কাঠ, ঘুঁটে, কয়লা বা গ্যাসের দহন থেকে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া, কার্বন কণা বায়ুতে যুক্ত হয়। (ii) ধূপ জ্বালানো, মশা তাড়ানোর ধূপ, ঘর পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত জীবাণুনাশক, দুর্গন্ধ দূর করার জন্য সুগন্ধী রাসায়নিকের ব্যবহার করা। (iii) ঘরের দেয়াল বা জানালা- দরজায় ব্যবহার করা রং-এর গন্ধ থেকেও বায়ুদূষণ ঘটে। (iv) বিড়ি, সিগারেটের ধোঁয়াও বায়ুদূষণ ঘটায়।

৮. বায়ু দূষণ কমানোর উপায় গুলি লেখ ?

উত্তরঃ (i) গাছ কাটার পরিবর্তে গাছ রোপন করতে হবে। (ii) দূষণ হীন যানবাহন ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। (iii) গাড়ি গুলিতে আধুনিক প্রযুক্তি তে তৈরি কম দূষণ কারী ইঞ্জিন ব্যবহার করতে হবে। (iv) জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পরিবর্তে অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। (v) সর্বোপরি মানুষ কে বায়ু দূষণের ক্ষতিকারক দিক গুলি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

৯. অ্যাসিড বৃষ্টি কী ? এতে কী কী ক্ষতি হয় ?

উত্তরঃ যানবাহন এবং কলকারখানার ধোঁয়া থেকে সালফার ডাইঅক্সাইড (SO) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড (NO) প্রভৃতি গ্যাস নির্গত হয়। এগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে অ্যাসিড তৈরি করে এবং বৃষ্টির সঙ্গে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে। একেই অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।

অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন জলাশয়ের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়, মৃত্তিকা অনুর্বর হয়ে ওঠে ও ফসলের ক্ষতি হয়, পাথরের মূর্তি বা সৌধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাড়ির রং নষ্ট হয় ও ইস্পাতের তৈরি ব্রিজের ক্ষতি হয়।

∆ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : বায়ু দূষণ অষ্টম অধ্যায় ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল। প্রতিটি প্রশ্নের মান-৫

১. বায়ুদূষণের যেকোনো পাঁচটি কারণ লেখো।

উত্তরঃ বায়ুদূষণের প্রাকৃতিক কারণসমূহ :

বৃক্ষচ্ছেদন : ঘরবাড়ি, চাষবাস ও শিল্পস্থাপনের জন্য বনজঙ্গল কেটে ফেলার ফলে বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি : পৃথিবীর জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের শ্বাসকার্যের মাধ্যমে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) বায়ু দূষণ ঘটায়।

অগ্ন্যুৎপাত : অগ্ন্যুৎপাতের সময় নির্গত সালফার ডাইঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড প্রভৃতি গ্যাস এবং ধুলো, ছাই, ধোঁয়া প্রভৃতি বায়ুকে দূষিত করে।

দাবানল : দাবানলের ফলে সৃষ্ট গাছপালার ছাই, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড প্রভৃতি বায়ুতে মিশে দূষণ ঘটায়।

ধূলিঝড় : বিস্তীর্ণ প্রান্তর, মরুভূমি প্রভৃতি স্থান থেকে ঝড়ের সময় ধুলোবালি উড়ে বায়ুতে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।

২. মনুষের দ্বারা সৃষ্ট বায়ুদূষণের কারণগুলি লেখো।

উত্তরঃ বায়ুদূষণের কারণ—

বৃক্ষচ্ছেদন : ঘরবাড়ি, চাষবাস ও শিল্পস্থাপনের জন্য বনজঙ্গল কেটে ফেলার ফলে বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি : পৃথিবীর জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের শ্বাসকার্যের মাধ্যমে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) বায়ু দূষণ ঘটায়।

নগরায়ণ : জনসংখ্যার চাপ সামলাতে দ্রুত নগরায়ণের ফলে নির্মাণকাজ, ধুলিকণা, যানবাহন ও জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায়, যা বায়ুকে দূষিত করে।

কৃষিকাজ : কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার, কীটনাশক, তেল ইত্যাদি থেকে গ্যাস ও ধোঁয়া নির্গত হয়ে বায়ু দূষিত করে। এছাড়া ফসল কাটার পর খড়কুটো পোড়ানোয় ধোঁয়া সৃষ্টি হয়।

শিল্পায়ন : নানা শিল্পকারখানা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি থেকে কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও ধোঁয়া বায়ুতে মিশে দূষণ ঘটায়।

যানবাহন : বাস, ট্রাক, গাড়ি, জাহাজ ও বিমান চালাতে ব্যবহৃত পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসোলিন থেকে ক্ষতিকর গ্যাস (যেমন CO, CO₂, SO₂, সিসা ইত্যাদি) নির্গত হয়ে বায়ু দূষণ ঘটায়।

আণবিক বিস্ফোরণ : পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্রে দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণের ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে মিশে যায়, যা মারাত্মক বায়ুদূষণ ঘটায়।

৩. আমাদের ঘরের বাতাস কী কী কারণে দূষিত হচ্ছে ?

উত্তরঃ আমাদের ঘরের বায়ুদূষণের কারণ—

(i) রান্নার জন্য কাঠ, ঘুঁটে, কয়লা, গ্যাস থেকে প্রচুর ধোঁয়া, কার্বন কণা, বেশ কিছু ক্ষতিকারক গ্যাস ঘরের বাতাসে মেশে।

(ii) ঘরের আবর্জনা, জঞ্জাল, ধূপকাঠির ধোঁয়া, মশা তাড়ানোর ধূপ, তেল, ঘর পরিষ্কার করার বিভিন্নকরম জীবাণুনাশক রাসায়নিক দ্রব্য, দুর্গন্ধ দূর করার সুগন্ধী দ্রব্য থেকেও ঘরের বাতাস দূষিত হয়।

(iii) ঘরের দেয়াল, দরজা-জানালায় যে রং করা হয়, তার থেকেও দূষণ ছড়ায়। রঙের গন্ধে অনেকসময়ই শ্বাসকষ্ট হয়, মাথা ঝিমঝিম করে।

(iv) সিগারেট, বিড়ির ধোঁয়া আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। ধূমপান থেকে ঘরের বাতাসে সবথেকে বেশি দূষণ ছড়ায়। এর থেকে হৃৎপিণ্ড, ফুসফুসের সমস্যা এমনকি ক্যানসারও হতে পারে।

৪. বায়ুদূষণের প্রতিকারের উপায় হিসেবে তুমি কী কী করতে পারবে ?

উত্তরঃ (i) হাঁচি বা কাশির সময় সব সময় মুখে রুমাল চাপা দেবো।

(ii) ঘরের ভিতরে উনুন, গ্যাস বা স্টোভে রান্নার সময় ধোঁয়া বেরনোর জন্য ঘর খোলামেলা রাখবো।

(iii) ঘরের ভিতর আবর্জনা ফেলার পাত্রটা সবসময় ঢাকা দিয়ে রাখবো।

(iv) ঘরের দেয়াল, জানালা-দরজা রং করার সময় বাতাস চলাচলের জন্য ঘর খোলামেলা রাখবো।

(v) দরকার না থাকলে ঘরের আলো বা পাখা জ্বালিয়ে রাখবো না।

(vi) মশা তাড়ানোর ধূপ না জ্বালিয়ে মশারি ব্যবহার করবো। এতে স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হবে না।

(vii) ঘরের মধ্যে কেউ ধূমপান করলে, তার ক্ষতিকারক ধোঁয়া ঘরের বাতাসে মিশে অন্যদেরও ক্ষতি করে। তাই ঘরের মধ্যে ধূমপান বারণ করবো।

৫. ঘরের বায়ুদূষণ রোধে আমাদের কী কী করা উচিত ?

অথবা, তোমার ঘরের বায়ুদূষণ রোধের তিনটি উপায় উল্লেখ করো।

অথবা, বায়ুদূষণ প্রতিকারের উপায় হিসেবে তুমি কী কী করতে পারো ?

উত্তরঃ আমাদেরই কিছু অসতর্কজনিত কাজকর্মই আমাদের ঘরের বায়ুদূষণের জন্য দায়ী। তাই আমাদেরকে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যেমন—

হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার : হাঁচি বা কাশির সময় মুখে রুমাল চাপা দেওয়া উচিত।

চিমনির ব্যবহার : ঘরের ভিতর উনুন, গ্যাস বা স্টোভে রান্নার সময় ধোঁয়া বাইরে বেরোনোর জন্য ঘর খোলামেলা রাখা উচিত, চিমনি ব্যবহার করা উচিত।

ঢাকা দেওয়া আবর্জনার পাত্র ব্যবহার : ঘরের ভিতরের আবর্জনা ফেলা পাত্রটা সবসময় ঢাকা দিয়ে রাখা উচিত।

ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা : ঘরের দেয়াল, জানালা-দরজা রং করার সময় বাতাস চলাচলের জন্য ঘর খোলামেলা রাখা উচিত।

বিদ্যুতের অপচয় রোধ : দরকার না থাকলে ঘরের আলো, পাখা বন্ধ রাখা উচিত।

মশারির ব্যবহার : মশা তাড়ানোর জন্য ধূপ না জ্বালিয়ে মশারি ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না।

ঘরে ধূমপান না করা : ঘরের মধ্যে ধূমপানে বাধা দেওয়া এবং ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ধূমপানকারীকে বুঝিয়ে বলা উচিত।

৬. বায়ুদূষণের ফলাফল বা ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।

উত্তরঃ বায়ুদূষণের ফলাফল বা প্রভাব—

ওজোন স্তর ক্ষয় : CFC গ্যাস ওজোন স্তরকে চরমভাবে ক্ষতি করছে যার ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ক্ষতি করছে।

অ্যাসিডবৃষ্টি : দূষিত গ্যাস সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড বাতাসের জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি হচ্ছে যা বৃষ্টির সঙ্গে পতিত হচ্ছে। এই অ্যাসিড বৃষ্টি মৃত্তিকার উর্বরতা হ্রাস করছে, জলদূষণ ঘটাচ্ছে, বিভিন্ন স্মৃতিসৌধের (তাজমহল) ক্ষতি করছে।

বিশ্ব উষ্ণায়ন‌: বায়ুতে মিশ্রিত বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস যেমন— কার্বন ডাইঅক্সাইড, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) প্রভৃতি উষ্ণতা ধরে রেখে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে ধীরে ধীরে আরো বেশি উষ্ণ করে তুলছে।

মানুষের ওপর প্রভাব : শ্বাসকষ্ট, হাঁচি, কাশি, মাথাধরা চোখ, নাক, শ্বাসনালি, ফুসফুসে জ্বালা, ফুসফুসের ক্যানসার, ব্রংকাইটিস, অ্যাজমা প্রভৃতি রোগ বায়ুদূষণের কারণেই হয়।

উদ্ভিদের ওপর প্রভাব : বায়ুর বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে উদ্ভিদের পাতা হলুদ হয়ে যায়, সালোকসংশ্লেষ ব্যাহত হয়, ফুল-মুকুল ঝরে পড়ে, পাতায় গুটি সৃষ্টি হয়।

পশুপাখির ওপর প্রভাব : বায়ুদূষণের কারণে পশুপাখিদের বৃদ্ধি, বিকাশ ও বংশবিস্তার ব্যাহত হয়, আয়ুষ্কালও হ্রাস পায়।

ধোঁয়াশা : বিষাক্ত সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস, ধোঁয়া কুয়াশার সঙ্গে মিশে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয় যা মানুষের মৃত্যু ঘটায়।

৭. বায়ুদূষণ কমাতে আমরা কী কী করতে পারি ?

অথবা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন ?

উত্তরঃ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায়—

গণপরিবহণ ব্যবহার : রাস্তায় একটি বাসের বদলে ৪০ টা প্রাইভেট গাড়ি চললে বায়ু অনেক বেশি দূষিত হয়। তাই বাস, ট্রেনের মতো গণপরিবহণে বেশি যাতায়াত করলে বায়ুদূষণের পরিমাণ কমানো যায়।

দূষণহীন যানবাহন : ইলেকট্রিক ট্রেন, ট্রাম, মেট্রো, সাইকেল, ভ্যান, রিকশা এইসব দূষণহীন যানবাহন বেশি ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ অনেকখানি কমানো সম্ভব।

কম দূষণকারী ইঞ্জিন : বর্তমানে গাড়িতে উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি কম দূষণকারী ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

কলকারখানা নিয়ন্ত্রণ : শিল্প কারখানাগুলি লোকালয় থেকে দূরে তৈরি করা উচিত। কারখানার চিমনিগুলির উচ্চতা অনেক বেশি করা এবং বায়ু পরিশোধক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা উচিত।

বনসৃজন : রাস্তার দুপাশে, পতিত জমিতে বেশি করে গাছ লাগানো উচিত। ছোটো চারাগাছের বদলে প্রয়োজন মতো বড়ো গাছ কাটা উচিত।

অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার : কয়লা, পেট্রোল প্রভৃতি প্রচলিত শক্তির ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জোয়ারভাটা শক্তি প্রভৃতি অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ালে বায়ুদূষণ কম হবে।

এ ছাড়া বায়ুদূষণের কুপ্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন ও চাষবাসে জৈবসার ব্যবহার করতে হবে এবং 1981 সালের বায়ুদূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ

ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র | Class 6 Unit Test Question Paper

ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্ন উত্তর | Class 6 Bengali Question Answer

ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর | Class 6 English Question Paper

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment