Class 6 Geography 2nd Unit Test Question Paper 2026 Set-3 wbbse | ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৬ সেট-৩

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 6 (VI) WBBSE
GEOGRAPHY QUESTION PAPER

Set-3

Class 6 Geography 2nd Unit Test Question Paper 2026 Set-3 wbbse | ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৬ সেট-৩

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

2nd Summative Evaluation-2026
Class-VI
Subject : Geography
Full Marks-50      Time -1 Hr. 40 Min

1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : 1×5=5

(i) বায়ুমণ্ডলে কোন্ গ্যাসের পরিমান সর্বাধিক ?
(a) অক্সিজেন (b) মিথেন (c) হাইড্রোজেন
(d) নাইট্রোজেন

(ii) পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কোনটি ?
(a) এশিয়া (b) আফ্রিকা (c) ইউরোপ (d) ওশিয়ানিয়া

(iii) বায়ুর গতিবেগ মাপক যন্ত্রের নাম-
(a) থার্মোমিটার (b) হাইগ্রোমিটার (c) অ্যানিমোমিটার (d) রেনগজ

(iv) পশ্চিম ভারতে ধুলিঝড় কী নামে পরিচিত ?
(a) লু (b) খামসিন (c) আঁধি (d) মৌসুমি বায়ু

(v) কোন্ মাটিতে জৈব পদার্থ বেশি থাকে ?
(a) পলিমাটি (b) পার্বত্য মাটি (c) কালো মাটি (d) লাল মাটি

2. শূন্যস্থান পূরণ করো (পাঁচটি) : 1×5=5

(i) ম্যানগ্রোভ অরণ্য __________ দেখা যায়।

(ii) প্রতি ১ কিলোমিটার উচ্চতায় _______ হারে তাপমাত্রা কমে।

(iii) মহাকাশ স্টেশন _______________ স্তরে থাকে।

(iv) মহাদেশ সঞ্চরনের মূল কারণ ______________ স্রোত।

(v) উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা __________ পায়।

(vi) পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান।

3. ঠিক-ভুল নির্বাচন করো : 1×5=5

(i) প্যাটাগোনিয়া উষ্ণ মরুভূমির উদাহরণ।

(ii) আন্টার্কটিকা মহাদেশে সারাবছর ২৪ ঘণ্টাই সূর্য দেখা যায়।

(iii) বায়ুমণ্ডল সরাসরি সূর্যরশ্মি দ্বারা উত্তপ্ত হয় না।

(iv) অনুর্বর প্রাচীন পলিমাটি ‘ভাঙ্গার’ নামে পরিচিত।

(v) শীতকালে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।

4. এক কথায় উত্তর দাও (পাঁচটি) : 1×5=5

(i) ‘সংরক্ষিত অরণ্য’ কাকে বলে ?

(ii) কোন্ বায়ুর ফলে ভারতে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় ?

(iii) ‘অ্যালবেডো’ কী ?

(iv) কোন্ স্তরে ‘বেতার তরঙ্গ’ প্রতিফলিত হয় ?

(v) সমুদ্র থেকে দূরবর্তী স্থানের জলবায়ু কী রকম হয় ?

(vi) তাপমণ্ডলের ভিত্তিতে পৃথিবীকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

5. অতি সংক্ষেপে উত্তর দাও (পাঁচটি) : 2×5=10

(i) সমোষ্ণরেখা কাকে বলে ? একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

(ii) উষ্ণতার প্রসর বলতে কী বোঝ ?

(iii) অরণ্য সংরক্ষনের দুটি পদ্ধতি লেখো।

(iv) ল্যাটেরাইট মাটির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

(v) বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কী ?

(vi) পশ্চিমীঝঞ্ঝা বলতে কী বোঝ ?

6. টাকা লেখো (চারটি) : 2½×4=10

(i) ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য।

(ii) আন্টার্কটিকার জীবজগৎ, (iii) বিশ্ব উষ্ণায়ন, (iv) জলচক্র, (v) ট্রপোস্ফিয়ার, (vi) মহাদেশ সঞ্চরন।

7. ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (দুটি) : 5×2=10

(i) মানুষ কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে তা আলোচনা করো।

(ii) আমাদের চারপাশের বায়ুমণ্ডল কত রকম ভাবে উত্তপ্ত হয় তা আলোচনা করো।

(iii) ভারতের ঋতুবৈচিত্র্য আলোচনা করো।

(iv) অরণ্য আমাদের কী কী ভাবে উপকার করে তা আলোচনা করো।

—সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর—

1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : 1×5=5

(i) বায়ুমণ্ডলে কোন্ গ্যাসের পরিমান সর্বাধিক ?
(a) অক্সিজেন (b) মিথেন (c) হাইড্রোজেন
(d) নাইট্রোজেন

উত্তরঃ (d) নাইট্রোজেন।

(ii) পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কোনটি ?
(a) এশিয়া (b) আফ্রিকা (c) ইউরোপ
(d) ওশিয়ানিয়া

উত্তরঃ (d) ওশিয়ানিয়া।

(iii) বায়ুর গতিবেগ মাপক যন্ত্রের নাম-
(a) থার্মোমিটার (b) হাইগ্রোমিটার (c) অ্যানিমোমিটার (d) রেনগজ

উত্তরঃ (c) অ্যানিমোমিটার।

(iv) পশ্চিম ভারতে ধুলিঝড় কী নামে পরিচিত ?
(a) লু (b) খামসিন (c) আঁধি (d) মৌসুমি বায়ু

উত্তরঃ (c) আঁধি

(v) কোন্ মাটিতে জৈব পদার্থ বেশি থাকে ?
(a) পলিমাটি (b) পার্বত্য মাটি (c) কালো মাটি (d) লাল মাটি

উত্তরঃ (c) কালো মাটি

2. শূন্যস্থান পূরণ করো (পাঁচটি) : 1×5=5

(i) ম্যানগ্রোভ অরণ্য __________ দেখা যায়।

উত্তরঃ সুন্দর বনে।

(ii) প্রতি ১ কিলোমিটার উচ্চতায় _______ হারে তাপমাত্রা কমে।

উত্তরঃ ৬.৫°

(iii) মহাকাশ স্টেশন _______________ স্তরে থাকে।

উত্তরঃ এক্সোস্ফিয়ার।

(iv) মহাদেশ সঞ্চরনের মূল কারণ ______________ স্রোত।

উত্তরঃ গুরুমন্ডলের পরিচলন।

(v) উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা __________ পায়।

উত্তরঃ হ্রাস।

(vi) পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান।

উত্তরঃ মৌসিনরাম।

3. ঠিক-ভুল নির্বাচন করো : 1×5=5

(i) প্যাটাগোনিয়া উষ্ণ মরুভূমির উদাহরণ।

উত্তরঃ ভুল।

(ii) আন্টার্কটিকা মহাদেশে সারাবছর ২৪ ঘণ্টাই সূর্য দেখা যায়।

উত্তরঃ ভুল।

(iii) বায়ুমণ্ডল সরাসরি সূর্যরশ্মি দ্বারা উত্তপ্ত হয় না।

উত্তরঃ ঠিক।

(iv) অনুর্বর প্রাচীন পলিমাটি ‘ভাঙ্গার’ নামে পরিচিত।

উত্তরঃ ঠিক।

(v) শীতকালে ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।

উত্তরঃ ভুল।

4. এক কথায় উত্তর দাও :

(i) ‘সংরক্ষিত অরণ্য’ কাকে বলে?

উত্তরঃ সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন যে অরণ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ, পশুচারণ এবং কাঠ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তাকে সংরক্ষিত অরণ্য বলে।

(ii) কোন্ বায়ুর ফলে ভারতে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় ?

উত্তরঃ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর ফলে।

(iii) ‘অ্যালবেডো’ কী?

উত্তরঃ সূর্য থেকে আগত মোট সৌর বিকিরণের যে ৩৪% অংশ বায়ুমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত না করে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়, তাকে অ্যালবেডো বলে।

(iv) কোন্ স্তরে ‘বেতার তরঙ্গ’ প্রতিফলিত হয় ?

উত্তরঃ থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার স্তরে।

(v) সমুদ্র থেকে দূরবর্তী স্থানের জলবায়ু কী রকম হয়?

উত্তরঃ চরমভাবাপন্ন প্রকৃতির হয় (অর্থাৎ, গ্রীষ্মে খুব গরম এবং শীতে খুব ঠান্ডা)।

(vi) তাপমণ্ডলের ভিত্তিতে পৃথিবীকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

উত্তরঃ প্রধানত ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়; যথা— (১) উষ্ণ মণ্ডল, (২) নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল এবং (৩) হিম মণ্ডল।

5. অতি সংক্ষেপে উত্তর দাও: (২×৫=১০)

(i) সমোষ্ণরেখা কাকে বলে ? একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

সংজ্ঞা: ভূপৃষ্ঠের সমান গড় তাপমাত্রা যুক্ত স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমোষ্ণরেখা বলে।

বৈশিষ্ট্য: জলভাগ ও স্থলভাগের বন্টনের তারতম্যের কারণে সমোষ্ণরেখাগুলি সাধারণত অক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত হলেও স্থলভাগ থেকে জলভাগে প্রবেশের সময় কিছুটা বেঁকে যায়।

(ii) উষ্ণতার প্রসর বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যকার পার্থক্য বা ব্যবধানকে উষ্ণতার প্রসর বলে।

উদাহরণ: এটি দৈনিক হতে পারে (দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য) অথবা বার্ষিক হতে পারে (বছরের উষ্ণতম ও শীতলতম মাসের তাপমাত্রার পার্থক্য)।

(iii) অরণ্য সংরক্ষণের দুটি পদ্ধতি লেখো।

উত্তরঃ অরণ্য সংরক্ষণের দুটি প্রধান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো—

নিয়ন্ত্রিতভাবে গাছ কাটা: অরণ্য থেকে গাছ কাটার সময় নির্বিচারে সব গাছ না কেটে কেবল বয়োবৃদ্ধ বা মৃত গাছ কাটা উচিত এবং একটি গাছ কাটলে তার পরিবর্তে অন্তত দুটি নতুন চারাগাছ রোপণ করা দরকার।

পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: বনের ভেতরের জমিতে অবাধে গবাদি পশুচারণ বন্ধ করতে হবে, কারণ পশুর পায়ে পিষ্ট হয়ে এবং চিবিয়ে খাওয়ার ফলে ছোট ছোট চারাগাছগুলি অকালেই ধ্বংস হয়ে যায়।

(iv) ল্যাটেরাইট মাটির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তরঃ ল্যাটেরাইট মাটির দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—

রং ও উপাদান: অতিরিক্ত ক্ষালণ প্রক্রিয়ার কারণে এই মাটিতে লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে, তাই এর রং ইটের মতো গাঢ় লাল হয়।

অনুর্বর প্রকৃতি: এই মাটিতে জৈব পদার্থ (হিউমাস) এবং পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কম থাকায় মাটি বেশ অনুর্বর ও শক্ত প্রকৃতির হয়।

(v) বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কী ?

উত্তরঃ জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু পর্বতের যে ঢালে বাধা পেয়ে শৈলোৎক্ষেপ পদ্ধতিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে প্রতিবাদ ঢাল বলে। এই বায়ু পর্বত অতিক্রম করে যখন বিপরীত ঢালে (অনুবাদ ঢালে) পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প কমে যায় এবং বায়ু নীচের দিকে নামায় উষ্ণতা বেড়ে যায়। ফলে এই ঢালে প্রায় বৃষ্টি হয় না বললেই চলে। এই স্বল্প বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। যেমন— পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল।

(vi) পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ শীতকালে (প্রধানত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে) ভূমধ্যসাগর থেকে আগত একপ্রকার দুর্বল ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কারণে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে (বিশেষ করে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও জম্মু-কাশ্মীরে) যে মেঘলা আকাশ এবং হালকা বৃষ্টি বা পাহাড়ি অঞ্চলে তুষারপাত হয়, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে। এর ফলে শীতকালীন শান্ত আবহাওয়া সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।

6. টীকা লেখো (যেকোনো চারটি): (২½ × ৪ = ১০)

(i) ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য:

পরিবেশ: ভারতের যেসব অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি এবং গড় তাপমাত্রা ২৫° থেকে ২৭° সেলসিয়াস, সেখানে এই অরণ্য গড়ে ওঠে।

বৈশিষ্ট্য: ১. প্রচুর বৃষ্টি ও গরমের কারণে এই বনের গাছগুলির পাতা একসাথে কখনো ঝরে পড়ে না, তাই অরণ্যটি সারাবছর সবুজ দেখায়। ২. গাছগুলির কাঠ খুব শক্ত ও ভারী হয় এবং বন অত্যন্ত ঘন ও দুর্ভেদ্য প্রকৃতির হয়।

প্রধান উদ্ভিদ ও অঞ্চল: রোজউড, মেহগনি, এবোনি ইত্যাদি। ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে এই অরণ্য দেখা যায়।

(ii) অ্যান্টার্কটিকার জীবজগৎ:

প্রকৃতি: চরম শীতল জলবায়ুর কারণে এই মহাদেশে কোনো বড় গাছপালা বা চতুষ্পদ স্তন্যপায়ী স্থলচর প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। এখানকার উদ্ভিদ বলতে মূলত শ্যাওলা, লাইকেন ও মস দেখা যায়।

প্রাণীজগৎ: ১. এই মহাদেশের প্রধান স্থায়ী বাসিন্দা হলো ডানাথাম্বা পেঙ্গুইন পাখি। ২. সমুদ্রের ঠান্ডা জলে সিল, তিমি এবং চিংড়ির মতো দেখতে একপ্রকার ছোট মাছ ‘ক্রিল’ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা এখানকার জীবজগতের প্রধান খাদ্য। এছাড়া আকাশে অ্যালবাট্রস, পেট্রেল প্রভৃতি সামুদ্রিক পাখি দেখা যায়।

(iii) বিশ্ব উষ্ণায়ন :

ধারণা: কলকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের গ্যাস এবং রেফ্রিজারেটর থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাসগুলি (যেমন: কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, সিএফসি) বায়ুমণ্ডলে একটি আবরণ তৈরি করছে। এর ফলে সূর্য থেকে আসা তাপ পৃথিবী থেকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে পারছে না এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, একেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।

প্রভাব: এর ফলে মেরু অঞ্চলের এবং পর্বতের চূড়ার বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা (যেমন: অসময়ে বন্যা ও খরা) বাড়ছে।

(iv) জলচক্র :

সংজ্ঞা: যে প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর জলভাগ (সাগর, নদী) থেকে জল বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে যায় এবং সেখানে ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও বৃষ্টিরূপে আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে, তাকে জলচক্র বলে।

পর্যায়: সূর্যের তাপে জল প্রথমে বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় ওপরে ওঠে। ওপরে ঠান্ডা হয়ে তা ঘনীভবন প্রক্রিয়ায় মেঘে পরিণত হয়। সবশেষে অধঃক্ষেপণ (বৃষ্টি বা তুষারপাত) রূপে তা আবার নদী বা সাগরে ফিরে আসে। এই চক্রাকার আবর্তন পৃথিবীতে জলের ভারসাম্য বজায় রাখে।

(v) ট্রপোস্ফিয়ার :

অবস্থান ও বিস্তার: এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একদম নীচের এবং সবচেয়ে ঘন স্তর। ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরে মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিমি এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৮ কিমি পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত থাকে।

বৈশিষ্ট্য: ১. এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের মোট গ্যাসীয় উপাদানের প্রায় ৭৫% থাকে। ২. ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প থাকার কারণে এই স্তরেই মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি ও কুয়াশার মতো আবহাওয়ার গোলযোগ ঘটে, তাই একে ‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’ বলা হয়। ৩. এই স্তরে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা কমতে থাকে।

(vi) মহাদেশ সঞ্চরণ :

তত্ত্ব: জার্মান বিজ্ঞানী আলফ্রেড ওয়াগনার ১৯১২ সালে এই তত্ত্বটি প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশগুলি আলাদা ছিল না, বরং একসাথে জুড়ে একটি বিশাল ভূখণ্ড রূপে অবস্থান করত, যার নাম ছিল ‘প্যানজিয়া’। আর তাকে ঘিরে থাকা বিশাল মহাসাগরের নাম ছিল ‘প্যানথালাসা’।

ফলাফল: পরবর্তীকালে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ বল এবং জোয়ার-ভাটার শক্তির আকর্ষণে এই বিশাল ভূখণ্ডটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় এবং পরস্পরের থেকে দূরে সরে গিয়ে বর্তমানের সাতটি মহাদেশের রূপ ধারণ করে। মহাদেশগুলির এই গতিশীলতাকে মহাদেশ সঞ্চরণ বলে।

7. ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও: (যেকোনো দুটি) (৫×২=১০)

(i) মানুষ কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ মানুষ নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতির জন্য প্রকৃতির ওপর অবিরাম অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষের যেসব কার্যকলাপের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে, সেগুলি নিচে আলোচনা করা হলো—

নির্বিচারে অরণ্য ধ্বংস : বাসস্থান নির্মাণ, কৃষিকাজ এবং কাঠের প্রয়োজনে মানুষ প্রতিদিন ব্যাপক হারে গাছ কেটে ফেলছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের ঘাটতি হচ্ছে, কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বহু বন্যপ্রাণী তাদের বাসস্থান হারিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

শিল্পায়ন ও বায়ু দূষণ: কলকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অতিরিক্ত যানবাহনের ধোঁয়া থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত গ্যাস (যেমন— সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড) বাতাসে মিশছে। এটি বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে এবং অ্যাসিড বৃষ্টি ও বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো সমস্যা তৈরি করছে।

বর্জ্য পদার্থ ও প্লাস্টিকের ব্যবহার: অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে উৎপন্ন গৃহস্থালির বর্জ্য, রাসায়নিক আবর্জনা এবং অবিনাশী প্লাস্টিক যত্রতত্র ফেলার ফলে মাটি ও জল মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। সমুদ্রের জলে প্লাস্টিক মেশার কারণে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে।

কৃষিকাজে রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার: ফসলের উৎপাদন বাড়াতে মানুষ জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছে। এগুলি মাটির উর্বরতা নষ্ট করার পাশাপাশি বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে মিশে জলজ প্রাণীদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত উত্তোলন: পানীয় জল এবং কৃষিকাজে সেচের জন্য মানুষ মাটির তলা থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে জল তুলে নিচ্ছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাচ্ছে এবং বহু জায়গায় পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।

(ii) আমাদের চারপাশের বায়ুমণ্ডল কত রকম ভাবে উত্তপ্ত হয় তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ সূর্য থেকে আগত সৌর বিকিরণ সরাসরি বায়ুমণ্ডলকে খুব বেশি উত্তপ্ত করতে পারে না। সূর্যরশ্মি প্রথমে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে এবং সেই উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে বায়ুমণ্ডল প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে উত্তপ্ত হয়। পদ্ধতিগুলি হলো:

১. বিকিরণ পদ্ধতি : সূর্য থেকে আলো ও উত্তাপ তরঙ্গ আকারে মহাশূন্য পেরিয়ে পৃথিবীতে আসে, একে আগমনকারী সৌর বিকিরণ বলে। এই রশ্মি ভূপৃষ্ঠকে প্রথমে উত্তপ্ত করে। এরপর সেই উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ দীর্ঘ তরঙ্গ রূপে তাপ বিকিরণ করে মহাশূন্যে ফিরিয়ে দেয়। এই ফিরে যাওয়া তাপকে বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণা শোষণ করে বায়ুমণ্ডলকে সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত করে তোলে।

২. পরিবহন পদ্ধতি : উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে বা ছোঁয়াচে এসে যখন তার ঠিক ওপরে থাকা বায়ুর একদম নীচের স্তরটি উত্তপ্ত হয়, তখন তাকে পরিবহন পদ্ধতি বলে। এই পদ্ধতিতে তাপ উষ্ণ বস্তু (ভূপৃষ্ঠ) থেকে শীতল বস্তুতে (বায়ু স্তর) সঞ্চালিত হয়। তবে এই পদ্ধতিতে কেবল বায়ুমণ্ডলের নীচের অংশটুকুই উত্তপ্ত হতে পারে।

৩. পরিচলন পদ্ধতি : ভূপৃষ্ঠের সংলগ্ন বায়ু স্তর উত্তপ্ত হওয়ার পর তা হালকা হয়ে সোজা ওপরের দিকে উঠে যায়। তখন ওপরের শীতল ও ভারী বায়ু নীচের দিকে নেমে আসে। এই নেমে আসা শীতল বায়ু আবার উত্তপ্ত হয়ে ওপরে ওঠে। এইভাবে বায়ুর ওপর-নীচ ওঠানামার মাধ্যমে সমগ্র বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একে পরিচলন পদ্ধতি বলে।

(iii) ভারতের ঋতুবৈচিত্র্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ মৌসুমি বায়ুর আগমন এবং প্রত্যাবর্তনের ওপর ভিত্তি করে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর সমগ্র বছরের জলবায়ুকে প্রধানত চারটি ঋতুতে ভাগ করেছে। ভারতের এই ঋতুবৈচিত্র্যের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো—

১. গ্রীষ্মকাল (মার্চ থেকে মে): এই সময়ে ভারতের ওপর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে দেশজুড়ে তীব্র গরম পড়ে এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের তাপমাত্রা প্রায় ৪৫° সেলসিয়াসের ওপরে চলে যায়। এই ঋতুতে উত্তর-পশ্চিম ভারতে একপ্রকার অত্যন্ত গরম ও শুষ্ক বাতাস বয়, যাকে ‘লু’ বলে। বিকেলের দিকে পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ যে ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাকে ‘কালবৈশাখী’ বলে।

২. বর্ষাকাল বা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন কাল (জুন থেকে সেপ্টেম্বর): জুন মাসের শুরুতে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতে প্রবেশ করে দেশজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়। ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০% এই ঋতুতেই হয়। তীব্র গরমের পর এই বৃষ্টি ভারতকে এক মনোরম ও সতেজ পরিবেশ উপহার দেয়।

৩. শরৎকাল বা মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন কাল (অক্টোবর থেকে নভেম্বর): সেপ্টেম্বর মাসের শেষে ভারতের স্থলভাগ থেকে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিতে শুরু করে বা ফিরে যায়। এই সময়ে আকাশ সাধারণত মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকে। তবে এই ঋতুতে বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, যার ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলে তীব্র ঝড়-বৃষ্টি দেখা যায়, একে ‘আশ্বিনের ঝড়’ বলে।

৪. শীতকাল (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি): এই সময়ে ভারত থেকে মৌসুমি বায়ু সম্পূর্ণ বিদায় নেয় এবং উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। ফলে সমগ্র ভারতের তাপমাত্রা অনেক কমে যায় এবং আবহাওয়া শুষ্ক ও আরামদায়ক থাকে। তবে এই ঋতুতে ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’-র কারণে উত্তর-পশ্চিম ভারতে সামান্য বৃষ্টি ও পাহাড়ি অঞ্চলে তুষারপাত হয়।

(iv) অরণ্য আমাদের কী কী ভাবে উপকার করে তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ অরণ্য বা গাছপালা হলো প্রকৃতির প্রাণ। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ—উভয়ভাবেই অরণ্য আমাদের অপরিসীম উপকার করে থাকে। নিচে অরণ্যের প্রধান উপকারিতাগুলি আলোচনা করা হলো—

প্রাণদায়ী অক্সিজেনের জোগান: গাছপালা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির সময় বাতাস থেকে ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস গ্রহণ করে এবং আমাদের বেঁচে থাকার মূল উপাদান অক্সিজেন বাতাসে ছাড়ে। অরণ্য না থাকলে পৃথিবীতে কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব থাকত না।

বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: বনের গাছপালা প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প ছাড়ে। এই জলীয় বাষ্প আকাশে মেঘ তৈরি করে বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে। অরণ্য অঞ্চলের তাপমাত্রা সর্বদা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে বড় ভূমিকা নেয়।

মৃত্তিকা ক্ষয় ও বন্যা রোধ: গাছের মূল বা শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে। এর ফলে প্রবল বৃষ্টি বা বাতাসের টানে মাটি সহজে ধুয়ে বা ক্ষয় হয়ে যেতে পারে না। এছাড়া অরণ্য বন্যার জলের গতি কমিয়ে দিয়ে বন্যার তীব্রতা হ্রাস করে।

বন্যপ্রাণের প্রাকৃতিক বাসস্থান: অরণ্য হলো বাঘ, সিংহ, হরিণ, হাতি এবং হাজার হাজার প্রজাতির পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। অরণ্য প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

অর্থনৈতিক সম্পদ লাভ: অরণ্য থেকে মানুষ ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরির মূল্যবান কাঠ, জ্বালানি, কাগজ শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন জীবনদায়ী ওষুধ তৈরির ভেষজ উপাদান (যেমন— সিনকোনা, সর্পগন্ধা) পায়। এছাড়া মধু, মোম, রবার ও রজন সংগ্রহ করে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।

📌আরও পড়ুনঃ

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply