2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 10 (X) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER
Class 10 Bengali 2nd Unit Test Question Paper Set-2 | দশম শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন সেট-২
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here
Set-2
Falakata Girls’ High School (H.S)
2nd Summative Evaluation
Class-X, Sub-Bengali
F.M. – 40 Time : 1:20 Hrs.
১। ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখোঃ ১x৫=৫
১.১ ‘সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস’ ‘দুর্লভ জিনিসটি’ হল—
(ক) সন্ন্যাসীর আশীর্বাদ
(খ) সন্ন্যাসীর সান্নিধ্য
(গ) সন্ন্যাসীর পদধূলি
(ঘ) সন্ন্যাসীর উপদেশ
১.২ ‘তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন ?’ যে বস্তুটি নির্দেশ করা হয়েছে, সেটি হল—
(ক) কাঠের ফুটরুল
(খ) লোহার কম্পাস
(গ) গাঁজার কলিকা
(ঘ) দেশলাই
১.৩ ‘কহিলা কাঁদিয়া ধনি’– ধনি বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ?
(ক) প্রমীলাকে
(খ) লক্ষ্মীকে
(গ) সরমাকে
(ঘ) সীতাকে।
১.৪ ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’– নিম্নরেখ পদটি হল—
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস
(খ) তৎপুরুষ সমাস
(গ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
(ঘ) বহুব্রীহি সমাস
১.৫ দ্বিগু সমাসের পূর্বপদ—
(ক) সংখ্যাবাচক বিশেষণ
(খ) সংখ্যাবাচক বিশেষ্য
(গ) সংখ্যাবাচক বিধেয়
(ঘ) সংখ্যাবাচক উদ্দেশ্য
২। কমবেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ ১x৫=৫
২.১ ‘জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিষ্ময় মানিয়া’– মহাবাহুর বিষ্ময়ের কারণ কী ?
২.২ ‘দিগম্বরের জটায় হাসে…..’– কে হাসে ?
২.৩ বিরাগীর মতে ‘পরম সুখ’ আসলে কী ?
২.৪ ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো : তৈলনিষিক্ত।
২.৫ বাক্যাশ্রয়ী সমাস কাকে বলে ?
৩। কম-বেশি ৬০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ৩×২=৬
৩.১ ‘দেখি তোমার ট্যাঁকে এবং পকেটে কী আছে ?’ –বক্তা কে ? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির ট্যাঁকে এবং পকেটে কী কী পাওয়া যায় ? ১+২=৩
৩.২ ‘সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ’– রথীন্দ্রর্ষভ কে ? তিনি কেমনভাবে সাজলেন ? ১+২=৩
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে উত্তর দাওঃ ৫x২=১০
৪.১ ‘হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।’ – হরিদাকে ? তাঁর জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় দাও। ১+৪=৫
৪.২ ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি একদিকে ধ্বংস, অন্যদিকে নূতন আশার আলো দেখিয়েছেন – আলোচনা করো।
৫। কমবেশি ১২৫টি শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৪x১=৪
৫.১ ‘কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা’– বক্তা কে ? কাদের প্রতি এই উক্তি ? তারা ভদ্রতার অযোগ্য কেন ? ১+১+২=৪
৫.২ ‘মুন্সিজি, এই পত্রের মর্ম সভাসদদের বুঝিয়ে দিন।’ – কে, কাকে এই পত্র লিখেছিলেন ? এই পত্রে কী ছিল ? ১+৩=৪
৬। কমবেশি ১৫০টি শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৫x১=৫
৬.১ ‘সাঁতারু অনেক বড়ো সেনাপতির থেকে’– উক্তিটি কার ? তাঁর এরূপ উক্তির কারণ কী তা বিশ্লেষণ করো। ১+৪=৫
৬.২ ‘এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক’– কী পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে ? কী কারণে এই পুষে রাখা ? ২+৩=৫
৭। তোমার এলাকায় ‘অরণ্য সপ্তাহ’ পালন হল এই বিষয়ে কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। ৫
ANSWER KEY (উত্তরপত্র)
১। ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখোঃ ১x৫=৫
১.১ (গ) সন্ন্যাসীর পদধূলি, ১.২ (গ) গাঁজার কলিকা, ১.৩ (ক) প্রমীলাকে, ১.৪ (গ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস, ১.৫ (ক) সংখ্যাবাচক বিশেষণ।
২। কমবেশি ২০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ ১x৫=৫
২.১ ‘জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিষ্ময় মানিয়া’– মহাবাহুর বিষ্ময়ের কারণ কী ?
উত্তরঃ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ এবং রামচন্দ্রের পুনর্জীবিত হওয়ার অলৌকিক ঘটনা শুনে বীর মেঘনাদের (মহাবাহু) মনে চরম বিস্ময় জেগেছিল।
২.২ ‘দিগম্বরের জটায় হাসে…..’– কে হাসে ?
উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা অনুযায়ী মহাদেবের বা দিগম্বরের জটায় শিশু-চাঁদের কর বা কচি চাঁদের আলো হাসে।
২.৩ বিরাগীর মতে ‘পরম সুখ’ আসলে কী ?
উত্তরঃ ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগীর মতে, সব রকম জাগতিক মোহ বা ধনসম্পত্তির লোভ থেকে মুক্ত হয়ে নিজের আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে লীন করাই হলো পরম সুখ।
২.৪ ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো : তৈলনিষিক্ত।
উত্তরঃ তৈল দ্বারা নিষিক্ত = করণ তৎপুরুষ সমাস।
২.৫ বাক্যাশ্রয়ী সমাস কাকে বলে ?
উত্তরঃ যে সমাসে কোনো একটি একক পদের বদলে একটি সম্পূর্ণ বাক্য বা বাক্যাংশ সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে কাজ করে, তাকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে। (যেমন: বসে আঁকো প্রতিযোগিতা)।
৩। কম-বেশি ৬০টি শব্দে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ৩×২=৬
৩.১ ‘দেখি তোমার ট্যাঁকে এবং পকেটে কী আছে ?’ –বক্তা কে ? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির ট্যাঁকে এবং পকেটে কী কী পাওয়া যায় ? ১+২=৩
উত্তরঃ বক্তা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে উদ্ধৃত কথাটির বক্তা হলেন পুলিশের বড়বাবু অর্থাৎ নিমাইবাবু।
ট্যাঁক ও পকেটে যা পাওয়া যায়: উদ্দিষ্ট ব্যক্তি গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁক তল্লাশি করে একটি টাকা এবং গন্ডা ছয়েক পয়সা পাওয়া যায়। এছাড়া তার পকেট থেকে একটা লোহার কম্পাস, কাঠের একটা ফুটরুল, কয়েকটা বিড়ি, একটা দেশলাই এবং একটি গাঁজার কলিকা পাওয়া গিয়েছিল।
৩.২ ‘সাজিলা রথীন্দ্রর্ষভ’– রথীন্দ্রর্ষভ কে ? তিনি কেমনভাবে সাজলেন ? ১+২=৩
উত্তরঃ রথীন্দ্রর্ষভ: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ‘রথীন্দ্রর্ষভ’ (রথীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ) বলতে রাবণপুত্র মেঘনাদ বা ইন্দ্রজিৎকে বোঝানো হয়েছে।
সাজগোজের বিবরণ: প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে মেঘনাদ হৈমবতীসুত কার্তিকেয় বা তারকাসুর বধের আগে মহাবলী অর্জুনের রণসজ্জার মতো ভয়ঙ্কর বীরদর্পে সেজে উঠলেন। তাঁর মেঘবর্ণ রথে বিদ্যুৎগতি চাকা এবং মহাবিক্রমশালী ঘোড়া জুতে দেওয়া হলো এবং রথের মাথায় উড়তে লাগল বীরত্বের প্রতীক মহাধ্বজ।
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে উত্তর দাওঃ ৫x২=১০
৪.১ ‘হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।’ – হরিদা কে? তাঁর জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় দাও। (১+৪=৫)
উত্তরঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা হলেন একজন অতি দরিদ্র এবং স্বাধীনচেতা মানুষ, যিনি কোনো বাঁধাধরা কাজে যুক্ত না থেকে বহুরূপী সেজে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য: হরিদার জীবন ছিল সাধারণ মানুষের চেনা ছকের বাইরে। ঘড়ির কাঁটা ধরে কোনো অফিসে বা দোকানে কাজ করা তাঁর স্বভাব-বিরুদ্ধ ছিল। দারিদ্র্য তাঁর নিত্যসঙ্গী হলেও, স্বাধীনভাবে বাঁচার তাগিদে তিনি বহুরূপী সাজাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এই পেশার মাধ্যমেই তাঁর জীবনে নানারকম নাটকীয় বৈচিত্র্য ফুটে উঠত।
কখনও তিনি উন্মাদ পাগল সেজে, মুখে লালা ঝরিয়ে এবং হাতে ইঁট নিয়ে পথচারীদের ভয় দেখাতেন। কখনও বা রূপসী বাইজি সেজে ঘুঙুরের আওয়াজে শহরের বাবুদের মুগ্ধ করে পকেটে কড়ি তুলতেন। কখনও জাঁদরেল পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচুবাগানে চারটে স্কুলছাত্রকে ধরে নকল ঘুষ আদায় করতেন।
হরিদার এই নাটকীয় বৈচিত্র্যের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ ঘটে যখন তিনি একজন খাঁটি বিরাগী সেজে ধনী জগদীশবাবুর বাড়িতে যান। তাঁর শান্ত ভক্তিভাব, জরাজীর্ণ সাজ এবং উদাসীন সংলাপ সবাইকে স্তম্ভিত করে দেয়। এমনকি জগদীশবাবুর দেওয়া লোভনীয় একশ টাকার প্রণামীও তিনি অনায়াসে প্রত্যাখ্যান করেন। একজন অতি দরিদ্র মানুষ হয়েও নিজের শিল্পের মর্যাদার খাতিরে টাকা স্পর্শ না করে হরিদা যে সততা দেখিয়েছেন, তাতেই তাঁর জীবনের আসল নাটকীয় বৈচিত্র্য ও আভিজাত্য প্রমাণিত হয়।
৪.২ ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি একদিকে ধ্বংস, অন্যদিকে নূতন আশার আলো দেখিয়েছেন – আলোচনা করো। (৫)
উত্তরঃ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি মূলত ধ্বংস ও সৃষ্টির এক অপূর্ব সমন্বয়। পরাধীন ভারতবর্ষের বুকে গেড়ে বসা ব্রিটিশ শাসন, স্থবিরতা এবং সামাজিক জরাজীর্ণতাকে উপড়ে ফেলতে কবি একদিকে যেমন প্রলয়ংকরী ধ্বংসের ডাক দিয়েছেন, অন্যদিকে তেমনই এক নতুন, স্বাধীন ও সুন্দর সকালের আশার আলো দেখিয়েছেন।
ধ্বংসের রূপ: কবিতার শুরুতেই কবি মহাকালের রুদ্ররূপী শিবের আগমন ঘোষণা করেছেন। এই প্রলয়ংকরী রূপের অট্টহাসি, চাবুকের কোপ এবং ঝোড়ো গতিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। মহাকালের এই রুদ্র দেবতাই হলেন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার প্রতীক। তাঁর জটায় বিদ্যুতের ঝলকানি এবং পায়ের দাপটে বিশ্বচরাচর স্তব্ধ হয়ে যায়। কবি দেখিয়েছেন যে, সমাজে যে সমস্ত অন্যায়, কুসংস্কার এবং ‘জীবন-হারা অ-সুন্দর’ জমে আছে, তাকে দূর করতে এই ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা অত্যন্ত জরুরি।
নূতনের আশার আলো: কিন্তু এই ধ্বংসের অবতারণা কেবল বিনাশের জন্য নয়, তা আসলে নতুন সৃষ্টির পূর্বাভাস। কবি পরাধীন দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন— “ভয় কী তোর প্রলয় তো জয়-কেতন।” অর্থাৎ, এই ধ্বংসের মধ্য দিয়েই জয়ের পতাকা উড়বে। কালভৈরব যেমন পুরোনোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে, ঠিক তেমনি সে আবার “নূতন মায়ায়” নতুন জগত গড়ে তোলে। জরাজীর্ণ রাত শেষ হয়ে অচিরেই আসবে এক নতুন অরুণ বা সূর্যের আলো।
উপসংহার: অতএব, কবিতায় ধ্বংস হলো এক অবিনাশী শক্তি যা সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করার পথ তৈরি করে। “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর”— এই চরণের মধ্য দিয়ে কবি স্পষ্ট করেছেন যে, কালভৈরব বা যুবসমাজের এই ধ্বংসাত্মক রূপ আসলে এক নতুন ও স্বাধীন দেশ গড়ে তোলার আশার আলো।
৫। কমবেশি ১২৫টি শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৪x১=৪
৫.১ ‘কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা’– বক্তা কে ? কাদের প্রতি এই উক্তি ? তারা ভদ্রতার অযোগ্য কেন ? ১+১+২=৪
উত্তরঃ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর রাজসভায় উপস্থিত ইংরে জদের প্রতিনিধি ওয়াটসের উদ্দেশে প্রশ্নোদ্ভূত কথাটি বলেছেন।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং নবাব সিরাজের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘আলিনগরের সন্ধি’ অনুযায়ী, ইংরেজরা কোনোমতেই নবাবের বিরুদ্ধে কোনোরকম যুদ্ধযাত্রা বা যুদ্ধের আয়োজন করবে না। কিন্তু, সিরাজের হাতে কলকাতার অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের একটি পত্র এসে পৌঁছোয়। এই পত্রের মাধ্যমে সিরাজ জানতে পারেন যে, অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের নেতৃত্বে তাঁর বিরুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইতিমধ্যেই সৈন্যবাহিনী পাঠিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আরও সৈন্য ও নৌবহরের কথা ভাবছে। তিনি এও জানতে পারেন, বহুদিন আগে থেকেই স্বয়ং লর্ড ক্লাইভ নবাবের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধযাত্রার ছক কষেছিলেন এবং পরিকল্পনামাফিকই আলিনগরের সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করতে তাঁরা উদ্যোগী হয়েছেন। সর্বোপরি, নবাবের রাজসভায় উপস্থিত কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসও এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার। তাই ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ সিরাজ ওয়াটসকে প্রকাশ্য রাজসভায় এ কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন।
৫.২ ‘মুন্সিজি, এই পত্রের মর্ম সভাসদদের বুঝিয়ে দিন।’ – কে, কাকে এই পত্র লিখেছিলেন ? এই পত্রে কী ছিল ? ১+৩=৪
উত্তরঃ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে জনৈক অ্যাডমিরাল ওয়াটসন সিরাজের দরবারে নিযুক্ত কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসকে এই পত্র লিখেছিলেন।
আলোচ্য পত্রে বাংলার বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ ছিল। তবে সমগ্র পত্র পাঠ করা হয়নি। নবাবের আদেশ অনুযায়ী ওয়াটস পত্রের শেষের দিকটা পড়েছিল এবং মুন্সিজি সেই অংশটুকু বাংলায় তর্জমা করে সভাসদদের শুনিয়েছিল।
এতে লেখা ছিল যে, কর্নেল ক্লাইভউল্লেখিত সৈন্যবাহিনী শীঘ্রই কলকাতায় পৌঁছনোর কথা। অ্যাডমিরাল ওয়াটসন আরো লেখেন যে, তিনি তাড়াতাড়ি আরেকটি জাহাজ মাদ্রাজে পাঠিয়ে সংবাদ দিতেন বাংলায় আরো সৈন্য এবং জাহাজ পাঠানোর জন্য। উক্ত পত্রে ভীতি প্রদর্শনের সুরে বলা হয়েছিল যে বাংলায় তিনি এমন আগুন জ্বালাতেন যা গঙ্গার সমস্ত জল দিয়েও নেভানো যেত না।
৬। কমবেশি ১৫০টি শব্দে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৫x১=৫
৬.১ ‘সাঁতারু অনেক বড়ো সেনাপতির থেকে’– উক্তিটি কার ? তাঁর এরূপ উক্তির কারণ কী তা বিশ্লেষণ করো। ১+৪=৫
উত্তরঃ উক্তিটির বক্তা: মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে উদ্ধৃত উক্তিটি কোনির সাঁতারের প্রশিক্ষক বা কোচ ক্ষিতীশ সিংহের।
এরূপ উক্তির কারণ বিশ্লেষণ: ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন একজন খাঁটি ক্রীড়াপ্রেমী এবং দূরদর্শী কোচ। যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সেনাপতির চেয়ে একজন সাঁতারুর লড়াইকে তিনি অনেক বেশি কঠিন ও গৌরবময় বলে মনে করতেন। তাঁর এই মানসিকতার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল:
একক লড়াইয়ের মানসিকতা: যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সেনাপতি তাঁর বিশাল সেনাবাহিনী, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং রসদের ওপর নির্ভর করে যুদ্ধ জিতেন। কিন্তু একজন সাঁতারু যখন প্রতিযোগিতার পুলে নামে, তখন সে সম্পূর্ণ একা। সেখানে কোনো সৈন্যদল থাকে না। নিজের বাহুবল, ফুসফুসের ক্ষমতা এবং মানসিক ইস্পাতকঠিন জেদটুকুই তার একমাত্র অস্ত্র।
প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ: সাঁতারুকে যুদ্ধ করতে হয় জলের মতো এক প্রবল প্রতিকূল উপাদানের বিরুদ্ধে। জল তাকে গ্রাস করতে চায়, তার গতি রোধ করতে চায়। সেই জলের প্রতিরোধকে বুক দিয়ে চিরে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময় বাঁচানোর জন্য যে লড়াই, তা অত্যন্ত নার্ভাস এবং তীব্র শারীরিক ক্লেশের।
বঞ্চনা ও রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই: কোনির মতো সাধারণ সাঁতারুদের কেবল জলের বিরুদ্ধেই নয়, লড়াই করতে হয় সমাজের দারিদ্র্য, জুপিটার ক্লাবের মতো ক্রীড়া সংগঠনের নোংরা রাজনীতি, বঞ্চনা ও অপমানের বিরুদ্ধে। সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে পুলে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার জন্য যে অদম্য মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়, তা কোনো সাধারণ যুদ্ধের চেয়ে কম নয়।
ক্ষিতীশ বিশ্বাস করতেন, একজন সেনাপতি হেরে গেলে তার দায় সৈন্যদলের ওপর চাপাতে পারেন, কিন্তু সাঁতারুর পরাজয় বা জয় সম্পূর্ণ তার নিজের। তাই প্রতি মুহূর্তের এই আত্মলড়াই ও একক বীরত্বের কারণে ক্ষিতীশ একজন সাঁতারুকে সেনাপতির চেয়ে অনেক বেশি সম্মানের আসন দিয়েছেন।
৬.২ ‘এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক’– কী পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে ? কী কারণে এই পুষে রাখা ? ২+৩=৫
উত্তরঃ পুষে রাখার বিষয় : কোনি উপন্যাসে ক্ষিতীশের সঙ্গে কোনি গিয়েছিল চিড়িয়াখানা দেখতে। সেখানে ক্ষিতীশের কাছে খাবার থাকলেও জল ছিল না। কিছুটা দূরে থাকা স্কুলের মেয়েদের কাছে কোনি জল আনতে যায়। কিন্তু শিক্ষিকা তাকে অপমান করে ফিরিয়ে দেয়। এই অবস্থায় সেই মেয়েদের মধ্যেই থাকা হিয়া জলভরা প্লাস্টিকের দুটো গ্লাস নিয়ে তাদের কাছে আসে কিন্তু কোনি হাত দিয়ে হিয়ার গ্লাসে আঘাত করে। হাত থেকে তা ছিটকে পড়ে। “চাই না তোমাদের জল। আমার কলের জলই ভালো।” — কোনি এই বলে প্রবলভাবে প্রত্যাখ্যান করে হিয়াকে। ক্ষিতীশ চেয়েছিল এই রাগটাই মনের মধ্যে পুষে রাখুক কোনি।
পুষে রাখার কারণ : ক্ষিতীশ হিয়ার প্রতি কোনির আচরণকে সমর্থন করতে পারেনি। কিন্তু কোনিকে দারুণ বকবে ভেবেও ক্ষিতীশ শেষপর্যন্ত কিছুই বলেনি। কারণ সে বুঝে গিয়েছিল যে হিয়াই কোনির ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বী। রবীন্দ্র সরোবরের সাঁতার প্রতিযোগিতায় হিয়ার সাঁতার ক্ষিতীশ দেখেছে। বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবে গিয়েও সে হিয়ার ট্রেনিং দেখে এসেছে। এখান থেকেই ক্ষিতীশের মনে হয়েছে যে হিয়ার প্রতি কোনির হিংস্র আক্রোশটাকে ভোঁতা করে দেওয়া ঠিক হবে না। এই আক্রোশ কোনি তার বুকের মধ্যে পুষে রাখুক যা তাকে হিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে শক্তি জোগাবে এবং সাফল্যের পথে নিয়ে যাবে।
৭। তোমার এলাকায় ‘অরণ্য সপ্তাহ’ পালন হল এই বিষয়ে কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। ৫
উত্তরঃ বেণীপুর (মুর্শিদাবাদ), ১৮ নভেম্বর : ২০২৫ সালে বেণীপুর এলাকায় বন সপ্তাহ ছিল একটি সফল উদ্যোগ যার লক্ষ্য বন ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
সপ্তাহব্যাপী ইভেন্টে বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন বৃক্ষ রোপণ ড্রাইভ, প্রকৃতির পদচারণা, শিক্ষামূলক সেমিনার এবং শিল্প প্রদর্শনী ছিল। স্থানীয় মানুষজন প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের উপর জোর দিয়ে এই ইভেন্টগুলিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বনভূমির ভূমিকা তুলে ধরে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় বন সংরক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করেন। বন সপ্তাহটি বাসিন্দাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে, তাদের অনুশীলনে অংশ নিতে এবং বেণীপুরের মূল্যবান বন সম্পদ রক্ষায় অবদান রাখতে উৎসাহিত করে।
বন সপ্তাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক অনুষ্ঠান যার লক্ষ্য বনের তাৎপর্য এবং তাদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এটি সাধারণত বৃক্ষ রোপণ, শিক্ষামূলক সেমিনার, কর্মশালা এবং সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততার মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে। ইভেন্টটি জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের মঙ্গলের জন্য সংস্থান সরবরাহে বনের ভূমিকা তুলে ধরে।
📌 আরো দেখুনঃ
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here
