Class 9 Bengali 2nd Unit Test Question Paper Set-2 wbbse | নবম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন সেট-২

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 9 (IX) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER

Class 9 Bengali 2nd Unit Test Question Paper Set-2 wbbse | নবম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন সেট-২

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

Set-2

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
নবম শ্রেণি    বিষয় : বাংলা

সময় : ১.২০ মিনিট                      পূর্ণমান : ৪০

KHALINA HIGH SCHOOL (H.S)
2nd Summative Evaluation – 2023
Class – IX     Sub : Bengali

F.M. 40          Time : 1hrs. 30 minutes.

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×৭=৭

১.১ ‘রাধারানীর এই কাপড়’ কোন্ কাপড় ?
(বিষ্ণুপুর বালুচরী / কুঞ্জদার শান্তিপুরী / বাংলাদেশি ঢাকাই / শ্রীরামপুর বেনারসী)।

১.২ ‘ইনকিলাব’ ও ‘শহিদ’ শব্দ বাংলায় ঢুকিয়েছেন- (জীবনানন্দ দাশ / নজরুল ইসলাম / বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

১.৩ ‘কর্ভাস’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ (কোকিল / কাক / ময়না / টিয়া)।

১.৪ ‘গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে’ কে ডুবে গেছে ? (গৌধুলি মেঘ / কুয়াশা ঢাকা মেঘ / কাম রাঙা লাল মেঘ / সিন্দুর মেঘ)।

১.৫ কারক প্রকৃতি প্রত্যয় নির্নয় করো–
(ক্র + অক্ / কার + অক / করক + অ / কৃ + অক)।

১.৬ সংস্কৃত উপসর্গের সংখ্যা হলো (২১টি / ১৯টি / ২০টি / ২২টি)।

১.৭ ‘সূর্য’ শব্দের উৎসগত শ্রেনি হলো– (তদ্ভব / অর্ধতৎসম / তৎসম / দেশি)।

২। অনধিক ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১×৭ = ৭

২.১ “তাহার নামও নোটে লেখা আছে”– কার নাম কোন্ নোটে লেখা আছে ?

২.২ “বহু সাহিত্যিক উঠে পড়ে লেগেছেন”– বহু সাহিত্যিক কেন উঠে পড়ে লেগেছেন ?

২.৩ “কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে”– কবিতায় কাকে ‘কেশবতী কন্যা’ বলা হয়েছে ?

২.৪ “তাঁর বর্তমান সংকল্প এই যে”– কার কোন সংকল্পের কথা বলা হয়েছে ?

২.৫ অনুসর্গ ও বিভক্তির পার্থক্য লেখো।

২.৬ যোগরূঢ় শব্দ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

২.৭ শব্দগুলি কোন জাতীয় উল্লেখ করো : কৃষ্ণ, কানাই।

৩। অনধিক ৬০টি শব্দে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ২x৩= ৬

৩.১ “কিন্তু আর আহারের সংস্থান রহিল ন।”– কাদের কেন, আহারের সংস্থান রহিল না ? ১+২

৩.২ “আমি এই ঘাসে বসে থাকি”– আমি কে ? তিনি কেন ঘাসে বসে থাকেন ?

৩.৩ “সারাটা রাত তারায় তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে।”– কে স্বপ্ন আঁকে ? কেন স্বপ্ন আঁকে ?

৪। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও ১৫০টি শব্দে : ৫×১=৫

৪.১ “অগত্যা রাধারানী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল।”– রাধারানী কে ? সে কোথায় কী উদ্দেশ্যে গিয়েছিল ? সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরিল কেন ?

৪.২ “নটে গাছটা বুড়িয়ে উঠে, কিন্তু মুড়োয় না” বলতে কবি কী কী বুঝিয়েছেন ? বুঝি নটে গাছটা বুড়িয়ে ওঠে কিন্তু মুড়োয় না বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?

৫। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও ১৫০টি শব্দে : ৫×১=৫

৫.১ লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী সংস্কৃত ভাষাকে কেন আত্ম নির্ভরশীল বলেছেন ? সংস্কৃত ছাড়া লেখক আর কোন্ কোন্ ভাষাকে আত্ম নির্ভশীল বলেছেন ? ৩+২

৫.২ “কর্মে ঝাঁপ দেবার পূর্বে বিশেষভাবে চিন্তা করো”– কে, কোন কর্মে ঝাঁপ দিতে চান ? ঝাঁপ দেবার পূর্বে তাঁকে চিন্তা করতে হবে কেন ? ১+১+৩

৬। যে-কোন একটি প্রশ্নের উত্তর দাও ১৫০টি শব্দে : ৫×১ = ৫

৬.১ “ওই পাখি আমার চাই প্রোফেসর”– বক্তা কে ? কোন প্রসঙ্গে তাঁর এই উক্তি ? শেষ পর্যন্ত তিনি কী করেছিলেন ? ১+২+২

৬.২ “আমার অরনিথন যন্ত্র আজ তৈরি শেষ হল”– যন্ত্রটির পরিচয় দাও ? এই যন্ত্রটির ব্যবহার কীভাবে শুরু হল ? ২+৩

৭। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (১৫০টি শব্দে) ৫×১=৫

৭.১ সারাংশ লেখো :

বাল্যকাল হইতেই আমাদের শিক্ষার সহিত আনন্দ নাই, কেবল যাহা নিজের আবশ্যক তাহা কণ্ঠস্থ করিতেছি। তেমন করিয়া কোনো মতে কাজ চলা মাত্র। কিন্তু মনের বিকাশ লাভ হয় না। হাওয়া খাইলে পেট ভরে না, আহার করিলে পেট ভরে, কিন্তু আহারাদি রীতি মতো হজম করিবার জন্যও হাওয়া খাওয়া আবশ্যক। আনন্দের সহিত পড়িতে পড়িতে পড়িবার শক্তি অলক্ষিত ভাবে বৃদ্ধি পাইতে থাকে। গ্রহন শক্তি ধারন শক্তি চিন্তা শক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বল লাভ করে।

৭.২ কাহিনি সূত্র অবলম্বন করে শিরোনাম সহ গল্প লেখো :

সূত্র : এক বৃদ্ধ মৃত্যুকালে তাঁর অক্ষম ও কলহ প্রিয় পুত্রদের বললেন আমাদের জমিতে গুপ্তধন আছে। ছেলেরা জমি খুঁড়ে কিছুই পেল না। কিন্তু ফসল পেল।

—সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর—

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×৭=৭

১.১ ‘রাধারানীর এই কাপড়’ কোন্ কাপড় ?

উত্তরঃ (খ) কুঞ্জদার শান্তিপুরী

১.২ ‘ইনকিলাব’ ও ‘শহিদ’ শব্দ বাংলায় ঢুকিয়েছেন-

উত্তরঃ (খ) নজরুল ইসলাম

১.৩ ‘কর্ভাস’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ–

উত্তরঃ (খ) কাক

১.৪ ‘গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে’ কে ডুবে গেছে ?

উত্তরঃ (গ) কাম রাঙা লাল মেঘ

১.৫ কারক প্রকৃতি প্রত্যয় নির্নয় করো–

উত্তরঃ (ঘ) কৃ + অক

১.৬ সংস্কৃত উপসর্গের সংখ্যা হলো–

উত্তরঃ (গ) ২০টি

১.৭ ‘সূর্য’ শব্দের উৎসগত শ্রেনি হলো–

উত্তরঃ (গ) তৎসম

২। অনধিক ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১×৭=৭

২.১ “তাহার নামও নোটে লেখা আছে”– কার নাম কোন্ নোটে লেখা আছে ?

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে দাতা রুক্মিণীকুমার রায়ের নাম রাধারাণীদের কুটিরের মেঝেতে ফেলে যাওয়া টাকার নোটের উপর লেখা ছিল।

২.২ “বহু সাহিত্যিক উঠে পড়ে লেগেছেন”– বহু সাহিত্যিক কেন উঠে পড়ে লেগেছেন ?

উত্তরঃ ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে হিন্দি ভাষা থেকে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শব্দ তাড়িয়ে খাঁটি হিন্দি ব্যবহারের জন্য বহু সাহিত্যিক উঠে পড়ে লেগেছেন।

২.৩ “কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে”– কবিতায় কাকে ‘কেশবতী কন্যা’ বলা হয়েছে ?

উত্তরঃ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার রূপসী নীল সন্ধ্যাকে ‘কেশবতী কন্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

২.৪ “তাঁর বর্তমান সংকল্প এই যে”– কার কোন সংকল্পের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তরঃ ‘চিঠি’ স্বামী বিবেকানন্দের বর্তমান সংকল্প ছিল যে তিনি মিস নোবেলকে ভারতের সেবা কাজে নিয়োজিত করবেন।

২.৫ অনুসর্গ ও বিভক্তির পার্থক্য লেখো।

উত্তরঃ বিভক্তির নিজস্ব কোনো অর্থ নেই এবং তা শব্দের সঙ্গে জুড়ে বসে, কিন্তু অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে এবং তা শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে।

২.৬ যোগরূঢ় শব্দ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ যে শব্দ বুৎপত্তিগত অর্থের অনুগামী না হয়ে একটিমাত্র নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন: ‘পঙ্কজ’ (পঙ্কে জন্মে যা, কিন্তু নির্দিষ্ট অর্থ পদ্মফুল)।

২.৭ শব্দগুলি কোন জাতীয় উল্লেখ করো : কৃষ্ণ, কানাই।

উত্তরঃ ‘কৃষ্ণ’ হলো তৎসম শব্দ এবং ‘কানাই’ হলো তদ্ভব শব্দ।

৩। অনধিক ৬০টি শব্দে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩×২= ৬

৩.১ “কিন্তু আর আহারের সংস্থান রহিল ন।”– কাদের কেন, আহারের সংস্থান রহিল না ? ১+২

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে রাধারাণী এবং তার বিধবা মায়ের আহারের সংস্থান ছিল না।

কারণ: এক জ্ঞাতির সঙ্গে মামলায় হেরে গিয়ে তারা সর্বস্বান্ত হন। তাঁদের বসতবাড়ি থেকেও উচ্ছেদ হতে হয়। আদালতের ডিক্রি জারি হওয়ার পর সমস্ত সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় রাধারাণীদের খাওয়ার মতো কোনো সম্বল আর অবশিষ্ট রইল না।

৩.২ “আমি এই ঘাসে বসে থাকি”– আমি কে ? তিনি কেন ঘাসে বসে থাকেন ? ১+২

উত্তরঃ জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় ‘আমি’ হলেন স্বয়ং কবি প্রকৃতি প্রেমিক জীবনানন্দ দাশ।

কারণ: আকাশে যখন সাতটি তারা ফোটে, তখন বাংলার বুকে এক অপরূপ কামরাঙা লাল মেঘের শান্ত অনুগত নীল সন্ধ্যা নেমে আসে। কবি ঘাসে বসে বাংলার সেই স্নিগ্ধ রূপ, হিজল-বট-কাঁঠালের গন্ধ এবং বাংলার অবিনাশী রূপের নীরব স্পর্শ নিজের মন দিয়ে অনুভব করতে চান।

৩.৩ “সারাটা রাত তারায় তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে।”– কে স্বপ্ন আঁকে ? কেন স্বপ্ন আঁকে ? ১+২

উত্তরঃ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতা অনুযায়ী, ঘরের কোণের ছোট্ট উঠোনে যে লাউমাচাটি রয়েছে, সেটি সারা রাত তারায় তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে।

কারণ: গ্রামীণ জীবনের চিরায়ত সৌন্দর্য এবং ঘরের টানে মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই মাটির পৃথিবীতে ফিরে আসে। গ্রামীণ প্রকৃতির এই চিরন্তন রূপ ও মানুষের বেঁচে থাকার যে আশা-আকাঙ্ক্ষা, তাকেই বাঁচিয়ে রাখতে লাউমাচাটি রূপকের মতো সারা রাত ধরে স্বপ্ন বোনে।

৪। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও ১৫০টি শব্দে : ৫×১=৫

৪.১ “অগত্যা রাধারানী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল।”– রাধারানী কে ? সে কোথায় কী উদ্দেশ্যে গিয়েছিল ? সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরিল কেন ? (১+২+২)

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হলো এক এগারো বছরের পিতৃহীন দরিদ্র বালিকা রাধারাণী।

উদ্দেশ্য: রথের মেলার দিন রাধারাণীর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। মায়ের পথ্য ও ওষুধের জোগাড় করার জন্য কোনো টাকা পয়সা তাদের ঘরে ছিল না। তাই রাধারাণী নিজের বাগানের ফুল দিয়ে একটি মালা গেঁথেছিল। সেই মালাটি বিক্রি করে মায়ের পথ্যের পয়সা জোগাড় করার উদ্দেশ্যে সে মাহেশের রথের মেলায় গিয়েছিল।

কাঁদতে কাঁদতে ফেরার কারণ: রাধারাণী যখন মেলায় পৌঁছায়, তখন প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে রথ টানা বন্ধ হয়ে যায় এবং মেলা ভেঙে মানুষজন যে যার বাড়ি চলে যায়। ফলে রাধারাণীর ফুলগাছের মালাটি কেউ কেনেনি। মেলা অন্ধকার হয়ে আসায় এবং চারদিক কাদা ও পিছল হয়ে যাওয়ায় সে আর পথ দেখতে পাচ্ছিল না। একদিকে বুনো ফুলের মালার কোনো ক্রেতা মেলেনি, অন্যদিকে ঘরে অসুস্থ মা না খেয়ে পড়ে আছেন— এই চরম অসহায়তা ও দুশ্চিন্তার কারণেই রাধারাণী কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে রওনা হয়েছিল।

৪.২ “নটে গাছটা বুড়িয়ে উঠে, কিন্তু মুড়োয় না” বলতে কবি কী কী বুঝিয়েছেন ? বুঝি নটে গাছটা বুড়িয়ে ওঠে কিন্তু মুড়োয় না বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ? (৫)

উত্তরঃ কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতায় ‘নটে গাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়োয় না’— এই প্রচলিত বাংলা রূপকথাধর্মী প্রবাদের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন ও অবিনাশী সত্যকে বুঝিয়েছেন।

রূপকথার গল্প শেষ হলে সাধারণত বলা হয় ‘নটে গাছটি মুড়োলো, আমার কথাটি ফুরোলো’। কিন্তু কবির মতে, পল্লীপ্রকৃতির সৌন্দর্য এবং তার প্রতি মানুষের যে চিরকালীন টান, তা কখনো ফুরিয়ে যায় না। জীবিকার টানে মানুষ হয়তো গ্রাম ছেড়ে শহরের যান্ত্রিক জীবনে চলে যায়, কিন্তু নাড়ির টান সে কখনো ভুলতে পারে না। বছরের পর বছর কেটে যায়, মানুষের বয়স বাড়ে, সময় বদলে যায় (যার প্রতীক ‘বুড়িয়ে ওঠা’)— কিন্তু গ্রামের সেই চেনা উঠোন, লাউমাচা, কুন্দ ফুলের গন্ধ আর স্নিগ্ধ শান্ত রূপ একই রকম রয়ে যায়।

শহরের কৃত্রিমতায় হাঁপিয়ে উঠে মানুষ বারবার ফিরে আসে তার চেনা মাটির টানে। মানুষের এই স্মৃতিকাতরতা এবং গ্রামের শান্ত রূপের আবেদন কোনোদিন শেষ বা ধ্বংস হয় না। এই শাশ্বত ও ফুরিয়ে না যাওয়া রূপটিকে বোঝাতেই কবি বলেছেন নটে গাছটি বুড়িয়ে গেলেও তা কখনো মুড়োয় না বা শেষ হয় না।

৫। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও ১৫০টি শব্দে : ৫×১=৫

৫.১ লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী সংস্কৃত ভাষাকে কেন আত্ম নির্ভরশীল বলেছেন ? সংস্কৃত ছাড়া লেখক আর কোন্ কোন্ ভাষাকে আত্ম নির্ভশীল বলেছেন ? (৩+২)

উত্তরঃ প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে সংস্কৃত ভাষাকে ‘আত্মনির্ভরশীল’ বলেছেন।

আত্মনির্ভরশীল বলার কারণ: কোনো নতুন চিন্তা, অনুভূতি বা ভাব প্রকাশ করার জন্য নতুন কোনো শব্দের প্রয়োজন হলে, সংস্কৃত ভাষা অন্য কোনো বিদেশি ভাষার কাছে হাত পাতে না বা ধার করে না। তার বদলে সংস্কৃত নিজের শব্দভাণ্ডার অনুসন্ধান করে। যদি সেখানে উপযুক্ত শব্দ না পাওয়া যায়, তবে সংস্কৃত নিজের ধাতু বা প্রকৃতির সঙ্গে নতুন প্রত্যয় যুক্ত করে কিংবা পুরোনো শব্দের অর্থ সামান্য বদলে নিয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার এবং অন্য ভাষার মুখাপেক্ষী না হওয়ার এই অসামান্য ক্ষমতার জন্যই লেখক সংস্কৃতকে আত্মনির্ভরশীল ভাষা বলেছেন।

অন্যান্য আত্মনির্ভরশীল ভাষা: বর্তমান যুগে ইংরেজি ও বাংলা ভাষা প্রচুর বিদেশি শব্দ গ্রহণ করলেও, প্রাচীন যুগের ভাষাগুলির মধ্যে লেখক সংস্কৃত ছাড়া হিব্রু, গ্রিক, আবেস্তা এবং পরবর্তীকালের আরবি ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল ভাষা বলে উল্লেখ করেছেন।

৫.২ “কর্মে ঝাঁপ দেবার পূর্বে বিশেষভাবে চিন্তা করো”– কে, কোন কর্মে ঝাঁপ দিতে চান ? ঝাঁপ দেবার পূর্বে তাঁকে চিন্তা করতে হবে কেন ? (১+১+৩)

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ প্রবন্ধ অনুযায়ী, এই সতর্কবার্তাটি দেওয়া হয়েছে তাঁর সুযোগ্য শিষ্যা মিস মার্গারেট নোবেলকে (ভগিনী নিবেদিতা)।

উদ্দেশ্য: মিস নোবেল ভারতের নারী সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও শিক্ষার প্রসারের জন্য ভারতের সেবাকর্মে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে বা ঝাঁপ দিতে চান।

চিন্তা করার কারণ: স্বামীজি মনে করতেন ভারতের সমাজব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং ইউরোপীয়দের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। মিস নোবেল একজন শ্বেতাঙ্গিনী হয়ে ভারতে কাজ করতে এলে তাঁকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে, যেমন—

আবহাওয়া: এদেশের তীব্র গরম এবং আর্দ্র জলবায়ু একজন ইউরোপীয়র পক্ষে সহ্য করা অত্যন্ত কঠিন।

সামাজিক রীতিনীতি: এখানকার মানুষের অশিক্ষা, কুসংস্কার এবং জাতিভেদের কারণে তিনি পদে পদে বাধার সম্মুখীন হবেন। ইউরোপীয় হওয়ার কারণে ভারতীয়রা তাঁকে ম্লেচ্ছ ভেবে এড়িয়ে চলতে পারে, আবার শ্বেতাঙ্গ সমাজও তাঁর এই ভারতীয় প্রীতিকে ভালো চোখে দেখবে না।

জীবনযাত্রার মান: এদেশের মানুষের দারিদ্র্য এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া খুবই কষ্টকর।

এই সমস্ত প্রতিকূলতা ও একাকীত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বামীজি মিস নোবেলকে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করতে বলেছিলেন।

৬। যে-কোন একটি প্রশ্নের উত্তর দাও ১৫০টি শব্দে : ৫×১ = ৫

৬.১ “ওই পাখি আমার চাই প্রোফেসর”– বক্তা কে ? কোন প্রসঙ্গে তাঁর এই উক্তি ? শেষ পর্যন্ত তিনি কী করেছিলেন ? (১+২+২)

উত্তরঃ সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ গল্পে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন চিলির জাদুকর আর্গাস।

প্রসঙ্গ: প্রোফেসর শঙ্কুর তৈরি ‘অরনিথন’ যন্ত্রের সাহায্যে ‘কর্ভাস’ নামের কাকটি অসাধারণ বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছিল। সে পেনসিল দিয়ে নিজের নাম লিখতে ও মানুষের নির্দেশ বুঝতে পারত। সান্তিয়াগোর হোটেলে কর্ভাসের এই অলৌকিক বুদ্ধিমত্তা দেখে জাদুকর আর্গাস বুঝতে পারেন যে, পাখিটিকে তাঁর ম্যাজিক শো-তে ব্যবহার করতে পারলে তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি ও অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এই লোভ থেকেই তিনি কর্ভাসকে কেনার উদ্দেশ্যে উক্তিটি করেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি যা করেছিলেন: শঙ্কু কর্ভাসকে বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় আর্গাস চুরির পথ বেছে নেন। তিনি এক রাতে শঙ্কুর চাকর প্রহ্লাদকে অজ্ঞান করে খাঁচাসুদ্ধ কর্ভাসকে নিয়ে নিজের গাড়িতে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে প্রোফেসর শঙ্কু ও তাঁর বন্ধু গ্রেনফেল পুলিশ নিয়ে আর্গাসকে ধাওয়া করেন। পথিমধ্যে কর্ভাস নিজেই আর্গাসের চশমাটি কেড়ে নিলে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং আর্গাস পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। কর্ভাস অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়

৬.২ “আমার অরনিথন যন্ত্র আজ তৈরি শেষ হল”– যন্ত্রটির পরিচয় দাও ? এই যন্ত্রটির ব্যবহার কীভাবে শুরু হল ? (২+৩)

উত্তরঃ সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কু আবিষ্কৃত ‘অরনিথন’ হলো পাখিদের বুদ্ধি বাড়ানোর একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্র।

যন্ত্রটির পরিচয়: এই যন্ত্রটির গঠন অনেকটা খাঁচার মতো, যার বাইরে দুটি খাঁজকাটা গোল তামা ও প্লাস্টিকের চাকতি লাগানো থাকে। খাঁচার ভেতরে একটি তারের জালের সাথে যুক্ত থাকে একটি বিশেষ হেডফোন। এই হেডফোনের মাধ্যমে পাখিদের মস্তিষ্কে মৃদু বৈদ্যুতিক কম্পন (माइल्ड इलेक्ट्रिक शॉक) বা তরঙ্গ পাঠানো হয়। এর ফলে পাখিদের বুদ্ধি মানুষের মতোই দ্রুত বিকশিত হতে শুরু করে।

ব্যবহার শুরু হওয়ার বিবরণ: যন্ত্রটি তৈরি হওয়ার পর শঙ্কু তাঁর ল্যাবরেটরির জানলায় রোজ আসা একটি সাধারণ দাঁড়কাককে (যার নাম তিনি পরে ‘কর্ভাস’ রেখেছিলেন) দিয়ে এর ব্যবহার শুরু করেন। প্রথম দিকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ৯টা— এই এক ঘণ্টা কাকটিকে যন্ত্রটির খাঁচায় ঢুকিয়ে রাখা হতো। প্রথম কয়েকদিন কাকটি কিছুটা ঝিমিয়ে থাকলেও, ধীরে ধীরে তার মধ্যে এক আশ্চর্য পরিবর্তন দেখা যায়। সে মানুষের নির্দেশ বুঝতে শুরু করে, পেনসিল মুখে নিয়ে খাতায় ইংরেজি হরফ লিখতে শেখে এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অত্যন্ত চতুর ও বুদ্ধিমান পাখি হয়ে ওঠে। এভাবেই অরনিথন যন্ত্রের সফল ব্যবহার শুরু হয়েছিল।

৭। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (১৫০টি শব্দে) ৫×১=৫

৭.১ সারাংশ লেখো :

উত্তরঃ

সারাংশ:

আনন্দহীন শিক্ষা মানুষের মনের স্বাভাবিক বিকাশ ঘটাতে পারে না। শুধু প্রয়োজনের তাগিদে পড়া মুখস্থ করলে কোনোমতে কাজ চালানো যায়, কিন্তু জ্ঞান অর্জনের ক্ষমতা বাড়ে না। যেমন আহার করা ছাড়াও তা হজম করার জন্য মুক্ত বাতাসের প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি আনন্দের সাথে পড়াশোনা করলে মানুষের গ্রহণ শক্তি, ধারণ শক্তি এবং চিন্তাশক্তি স্বাভাবিক নিয়মে বৃদ্ধি পায়। প্রকৃত শিক্ষার প্রধান শর্তই হলো আনন্দলাভ।

৭.২ কাহিনি সূত্র অবলম্বন করে শিরোনাম সহ গল্প লেখো :

উত্তরঃ

শ্রমের পুরস্কার ও গুপ্তধন

এক গাঁয়ে এক বুড়ো চাষি বাস করত। তার ছেলেরা ছিল অত্যন্ত অলস এবং তারা সারাদিন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ করে সময় কাটাত। চাষি কঠোর পরিশ্রম করে অনেক টাকা আয় করলেও, ছেলেদের এই কুঁড়েমি ও কলহ দেখে সে সবসময় চিন্তিত থাকত।

বৃদ্ধ বয়সে চাষি যখন মরণশয্যায় শায়িত, তখন ছেলেদের কর্মঠ করার জন্য সে এক বুদ্ধি খাটাল। সে ছেলেদের ডেকে বলল, “বাবাজিরা, আমার শেষ সময় উপস্থিত। তোমাদের জন্য আমি আমাদের চাষের জমিতে একটি গুপ্তধন লুকিয়ে রেখেছি। আমার মৃত্যুর পর তোমরা জমি খুঁড়ে তা বের করে নিও।”

চাষির মৃত্যুর পর ছেলেরা লোভের বশে কোদাল নিয়ে মাঠে গেল। গুপ্তধনের খোঁজে তারা গভীর মনোযোগ দিয়ে পুরো জমিটি খুঁড়ে ফেলল। কিন্তু কোথাও কোনো সোনার ঘড়া বা ধনসম্পদ খুঁজে পেল না। হতাশ হয়ে তারা যখন বাড়ি ফিরে যাবে, তখন গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি তাদের পরামর্শ দিলেন যে, জমি যখন খোঁড়াই হয়ে গেছে, তখন সেখানে কিছু ধানের বীজ বুনে দেওয়া হোক।

ছেলেরা তা-ই করল। সঠিক সময়ে জমিতে চমৎকার সোনার ফসল ফলে উঠল। সেই ফসল বাজারে বিক্রি করে ছেলেরা প্রচুর টাকা রোজগার করল। তখন তারা বুঝতে পারল যে, পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত এই ফসলই ছিল তাদের বাবার আসল ‘গুপ্তধন’। সেই থেকে তারা অলসতা ও ঝগড়া ছেড়ে একতাবদ্ধ হয়ে কঠোর পরিশ্রমে মন দিল।

নীতিশিক্ষা: অলসতা মানুষকে ধ্বংস করে, কিন্তু কঠোর পরিশ্রমই জীবনের আসল গুপ্তধন এনে দেয়।

📌আরও পড়ুনঃ

📌নবম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply