2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 8 (VIII) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER
Set-3
Class 8 Bengali 2nd Unit Test Question Paper Set-3 wbbse | অষ্টম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৩
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
DAKSHIN BARASAT S.A HIGH SCHOOL (H.S)
Class – VIII
Suh-Bengal
2nd Summative Evaluation 2025
Full Marks- 50
Time 1 hour 40 min
১। নীচের প্রশ্নগুলির পূর্ণবাক্যে উত্তর দাও (৮টি) : ১×৮=৮
১.১ গোপাল সরকারের কাছে বসে রমেশ কী দেখছিল ?
১.২ বৃক্ষশিশু কোথায় নিদ্রা যায় ?
১.৩ বুকু কোন স্কুলে ভর্তি হয়েছিল ?
১.৪ নাটোরের মহারাজার নাম কী ?
১.৫ জল সিড়িটি কী ?
১.৬ বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয় তার নাম কী ?
১.৭ অপুর পাঠশালার গুরুমশাইয়ের নাম কী ছিল ?
১.৮ কবি কাদের ফাঁদ পাতার কথা বলেছেন ?
১.৯ উঠানেতে কী কী শুকোচ্ছে ?
২। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো (৮টি) : ১×৮=৮
২.১ রমা ও রমেশের কতদিন পর দেখা ?
(ক) প্রায় একমাস পর
(খ) প্রায় দুমাস পর
(গ) প্রায় ছয়মাস পর
২.২ রৌদ্রে কীসের গন্ধ লেগে আছে ?
(ক) ভিজে বেদনার
(খ) ভিজে আনন্দের
(গ) দুঃখের
২.৩ ‘তেমনি মিষ্টি ছেলে _________ ঘুম যায়’-
(ক) বিছানায়
(খ) পালঙ্কে
(গ) দোলনায়
২.৪ ক্রিয়ার মূলকে বলে–
(ক) ধাতু
(খ) সমাপিকা
(গ) অসমাপিকা
২.৫ “তিনি ছিলেন পার্লামেন্টারি বক্তা”- কে ?
(ক) জানকীনাথ ঘোষাল
(খ) লালমোহন ঘোষ
(গ) সুরেন্দ্র বাঁড়ুজ্জে
২.৬ ‘শাক মেলিছে রঙের ঢেউ’,- কোন্ শাক ?
(ক) পালং
(খ) লাল-নটে
(গ) কলমি
২.৭ ‘প্রাণ ভরে বলো’- কথাটি বলেছে—
(ক) নির্মলা
(খ) ছেনুমাসি
(গ) বেনুমাসি
২.৮ শিমুল ফল ফেটে যায়—
(ক) বাতাসে
(ঘ) রোদে
(গ) ঝড়ে
২.৯ ‘দাঁড়াও’ কবিতাটিতে কবি কার সাথে দাঁড়াতে বলেছেন ?
(ক) মানুষের
(খ) বন্যের
(গ) ঈশ্বরের
৩। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৩টি) : ৩×৩=৯
৩.১ “মানুষ বড়ো কাঁদছে”- কী কারণে কবি এইকথা বলেছেন ? ৩
৩.২ হাওয়াদের কী নেই ? হাওয়ারা কোথায়, কীভাবে তারা খোঁজ করে ? ৩
৩.৩ ‘মোরা নালিশ করতি পারব না’- কে, একথা বলেছ ? সে নালিশ করতে পারবে না কেন ? ১+২
৩.৪ অমলা কে ? তার সঙ্গে কীভাবে অপুর পরিচয় হয়েছিল ? ১+২
৪। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো (২টি) : ৫×২=১০
৪.১ “গড়াই নদীর তীরে” কবিতায় কবি যে গ্রামীণ কুটিরের ছবি এঁকেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।
৪.২ “কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে”- এই উদ্ধৃতিটির বক্তা কে ? গল্পে বক্তার কী করা উচিত বলে তোমার মনে হয় তা লেখো।
৪.৩ পাড়াগাঁয়ের দ্বিপ্রহরকে কবি ভালোবাসেন কেন ?
৫। নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো। (৩টি) : ১×৩=৩
৫.১ আর বলবেন না মসাই। (হ্যাঁ সূচক বাক্য)
৫.২ অবশ্য গাছের গতি হঠাৎ দেখা যায় না। (হ্যাঁ সূচক বাক্য)
৫.৩ সেদিকটার দরজা বন্ধ। (নাসূচক বাক্য)
৫.৪ এগিয়ে চলতে হবে। (অনুজ্ঞাবাচক বাক্য)
৬। “অব্যয়” বলতে কী বোঝ ? উদাহরণ দাও। ১
৭। বিশেষণ পদ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও। ১
৮। নীচের বাক্যগুলিতে কোনটি কোন্ শ্রেনির অব্যয়, সর্বনাম তা নির্দেশ করো : ১×৩=৩
৮.১ বাঃ! চমৎকার বলেছ।
৮.২ “এ তো মেয়ে মেয়ে নয়, দেবতা নিশ্চয়।”
৮.৩ যে দেখেছে সে-ই বলতে পারবে।
৮.৪ সবাই মিলে সিনেমাটা দেখেছি।
৯। ‘চোখ’ অথবা ‘হাত’ শব্দটি দিয়ে ২টি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহার দেখিয়ে ২টি করে বাক্য রচনা করো। ২
১০। তোমার এলাকার পুরানো গ্রন্থাগারের উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের কাছে পত্র লেখো। ৫
—সমস্ত প্রশ্নের উত্তর—
১। নীচের প্রশ্নগুলির পূর্ণবাক্যে উত্তর দাও (৮টি) : ১×৮=৮
১.১ গোপাল সরকারের কাছে বসে রমেশ কী দেখছিল ?
উত্তরঃ চণ্ডীমণ্ডপে গােপাল সরকারের কাছে বসে রমেশ জমিদারির হিসাবপত্র দেখছিল।
১.২ বৃক্ষশিশু কোথায় নিদ্রা যায় ?
উত্তরঃ বীজের উপর এক কঠিন আবরণ বা ঢাকনা থাকে, তার মধ্যে বৃক্ষশিশু নিরাপদে নিদ্রা যায়।
১.৩ বুকু কোন স্কুলে ভর্তি হয়েছিল ?
উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকু ‘আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ নামক স্কুলে ভর্তি হয়েছিল।
১.৪ নাটোরের মহারাজার নাম কী ?
উত্তরঃ নাটোরের মহারাজার নাম ছিল জগদিন্দ্রনাথ রায়।
১.৫ জল সিড়িটি কী ?
উত্তরঃ জল সিড়ি একটি নদীর নাম।
১.৬ বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয় তার নাম কী ?
উত্তরঃ বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয় তার নাম সর্বনাম পদ।
১.৭ অপুর পাঠশালার গুরুমশাইয়ের নাম কী ছিল ?
উত্তরঃ অপুর পাঠশালার গুরুমশাইয়ের নাম ছিল প্রসন্ন গুরুমশাই।
১.৮ কবি কাদের ফাঁদ পাতার কথা বলেছেন ?
উত্তরঃ মানুষের ফাঁদ পাতার কথা কবি বলেছেন।
১.৯ উঠানেতে কী কী শুকোচ্ছে ?
উত্তরঃ উঠানেতে মটরের ডাল, মসুরের ডাল, কালো জিরে, ধনে ও লঙ্কা শুকোচ্ছে।
২। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো (৮টি) : ১×৮=৮
২.১ (ক) প্রায় একমাস পর।
২.২ (ক) ভিজে বেদনার
২.৩ (গ) দোলনায়।
২.৪ (ক) ধাতু
২.৫ (খ) লালমোহন ঘোষ।
২.৬ (খ) লাল-নটে
২.৭ (খ) ছেনুমাসি
২.৮ (ক) বাতাসে
২.৯ (ক) মানুষের
৩। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৩টি) : ৩×৩=৯
৩.১ “মানুষ বড়ো কাঁদছে”— কী কারণে কবি এই কথা বলেছেন ?
উত্তরঃ কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘দাঁড়াও’ কবিতায় আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার স্বার্থপর রূপটি ফুটে উঠেছে। বর্তমান সমাজে মানুষ অত্যন্ত আত্মকেন্দ্রিক ও হিংসুটে হয়ে পড়েছে। লোভের কারণে মানুষ মানুষের বিরুদ্ধে ‘ফাঁদ’ পাতছে। ফলে চারদিকে আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার চরম অভাব দেখা দিয়েছে। এই সামাজিক অবক্ষয় ও তীব্র একাকীত্বের যন্ত্রণায় সাধারণ মানুষ আজ ভীষণ অসহায় ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মানুষের এই মানসিক কষ্ট ও ক্রন্দন দেখেই কবি গভীর বেদনায় কথাটি বলেছেন।
৩.২ হাওয়াদের কী নেই ? হাওয়ারা কোথায়, কীভাবে তারা খোঁজ করে ?
উত্তরঃ কবি বুদ্ধদেব বসুর মতে হাওয়াদের নিজস্ব কোনো বাড়ি বা স্থায়ী আশ্রয় নেই।
তারা তাদের সেই হারানো বাড়ির খোঁজে সারা পৃথিবী জুড়ে কেঁদে মরে। চিরআশ্রয়হীন হাওয়ারা তাই পৃথিবীর সমস্ত জল-স্থল, পাহাড়, বন্দর, অরণ্য, নগর, পার্কের বেঞ্চ থেকে শুরু করে তেপান্তরের মাঠ পর্যন্ত সর্বত্র হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায়। ঘরের জানলার আরশিতে ও বাগানের শুকনো পাতায় দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারা অবিরাম, ব্যাকুলভাবে নিজেদের বাসস্থানের সন্ধান করে চলে।
৩.৩ ‘মোরা নালিশ করতি পারব না’— কে, একথা বলেছে ? সে নালিশ করতে পারবে না কেন ?
উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পল্লীসমাজ’ গল্পে উদ্ধৃত কথাটি পিরপুরের লাঠিয়াল সর্দার আকবর বলেছে।
রমেশ জোর করে বাঁধ কাটতে গেলে আকবর ও তার ছেলেরা তাকে বাধা দেয়। তখন রমেশের লাঠির আঘাতে তারা মারাত্মক জখম হয়। তা সত্ত্বেও আকবর থানায় গিয়ে রমেশের বিরুদ্ধে মিথ্যে নালিশ করতে রাজি হয়নি। কারণ পাঁচখানা গ্রামের লাঠিয়াল সর্দার হিসেবে নিজের পরাজয়ের কথা নিজে মুখে বলা তার পক্ষে লজ্জাজনক। তাছাড়া রমেশের অসাধারণ বীরত্ব, সততা ও কৃষকদের প্রতি ভালোবাসা দেখে সে মনে মনে রমেশের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল হয়ে পড়েছিল।
৩.৪ অমলা কে ? তার সঙ্গে কীভাবে অপুর পরিচয় হয়েছিল ?
উত্তরঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ছোটোদের পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে অমলা হলো অপুর বাবা হরিহরের শিষ্য লক্ষ্মণ মহারাজের গ্রামের এক প্রতিবেশীর মেয়ে। সে বয়সে অপুর দিদি দুর্গার মতো ছিল।
অপুর বাবা হরিহর তাকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার দূরবর্তী এক গ্রামে নিজের শিষ্যবাড়িতে দীক্ষা দিতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর বিকেলের দিকে যখন অপু একা একাই ওই বাড়ির চণ্ডীমণ্ডপের সামনে বসে খেলা করছিল, ঠিক তখনই অমলা সেখানে আসে। অমলাই প্রথমে উপযাচক হয়ে অপুর নাম জিজ্ঞেস করে তার সাথে কথা বলা শুরু করে। এভাবেই তাদের মধ্যে সুন্দর আলাপ ও পরিচয় হয়েছিল।
৪। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো (২টি) : ৫×২=১০
৪.১ “গড়াই নদীর তীরে” কবিতায় কবি যে গ্রামীণ কুটিরের ছবি এঁকেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তরঃ পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ‘গড়াই নদীর তীরে’ কবিতায় বাংলার এক শান্ত, স্নিগ্ধ ও রূপময় গ্রামীণ কুটিরের নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত এই কুটিরটি যেন প্রকৃতির এক পরম আশ্রয়। কুটিরটিকে ঘিরে লতাপাতা এবং বুনো ফুলেরা এমনভাবে জড়িয়ে রয়েছে, যেন মনে হয় তারা পরম স্নেহে বাড়িটিকে বুকে ধরে রেখেছে। এখানে মানুষের হাতের কৃত্রিমতার চেয়ে প্রকৃতির সহজ ছোঁয়াই বেশি স্পষ্ট।
কুটিরের আঙিনা বা উঠোনটি গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপাদানে সাজানো। সেখানে মাচানের ওপর লাউ-কুমড়োর লতা সুন্দরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। উঠোনের এক কোণে চাষের নানা ফসল যেমন— মটরের ডাল, শিম ও কালো জিরে রোদে শুকোতে দেওয়া হয়েছে। কুটিরের এই শান্ত পরিবেশে বুনো পাখিরাও নির্ভয়ে এসে আশ্রয় নেয়, গান গায় এবং পরম সুখে ডানা মেলে ওড়ে।
কবি এই কুটিরের চালের ওপর সোনালি রঙের আলো-ছায়ার খেলা এবং সন্ধ্যার হালকা মেঘের রঙের তুলনা টেনেছেন। সব মিলিয়ে, এই কুটিরটি কেবল একটি বাসস্থান নয়, বরং মানুষের তৈরি জীবনের সাথে প্রকৃতির এক অপরূপ, শান্তিময় ও চিরন্তন মেলবন্ধন।
৪.২ “কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে”— এই উদ্ধৃতিটির বক্তা কে ? গল্পে বক্তার কী করা উচিত বলে তোমার মনে হয় তা লেখো।
উত্তরঃ কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর লেখা ‘কী করে বুঝব’ গল্পে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলো ছয় বছরের ছোট্ট ছেলে বুকু।
গল্পে বুকু তার মায়ের শেখানো নীতিশিক্ষা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে গিয়ে সত্য কথা বলেছিল। কিন্তু সময়ের উপযোগিতা এবং বড়দের সামাজিক লোকদেখানো আচরণের পার্থক্য বুঝতে না পেরে সে অতিথিদের সামনে তার মায়ের গোপন ক্ষোভ ফাঁস করে দেয়। এর ফলে তাকে নির্মম মার খেতে হয়।আমার মতে, বুকুর উচিত ছিল—
পরিস্থিতি বিবেচনা করাঃ সবসময় সব সত্য কথা সবার সামনে বলতে নেই, বিশেষ করে যা অন্যের মনে কষ্ট দিতে পারে। বুকুর উচিত ছিল স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা করে কথা বলা।
অতিথিদের সম্মান দেওয়াঃ বাড়িতে অতিথি এলে তাদের সামনে ঘরের ভেতরের অপ্রিয় আলোচনা প্রকাশ না করে তাদের আপ্যায়ন করা ও শ্রদ্ধা দেখানোই শ্রেয়।
তবে বুকুর বয়স মাত্র ছয় বছর। তাই আসল দোষ বুকুর নয়, বরং বড়দের দ্বিমুখী আচরণের। বড়রা শিশুদের মুখে এক নীতিশিক্ষা দেন, আর নিজেরা কাজ করেন অন্যরকম। তাই বড়দের উচিত শিশুদের সামনে কথা ও কাজের মিল রাখা, যাতে বুকুর মতো সরল শিশুদের এমন বিভ্রান্তিতে পড়তে না হয়।
৪.৩ পাড়াগাঁয়ের দ্বিপ্রহরকে কবি ভালোবাসেন কেন ?
উত্তরঃ কবি জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির এক পরম উপাসক। পাড়াগাঁয়ের শান্ত ও নিস্তব্ধ দুপুরের মাঝে তিনি এক অদ্ভুত মায়াবী রূপ খুঁজে পান, যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। দুপুরের এই নির্জনতায় রোদের গন্ধ, শঙ্খচিলের ডানা থেকে ঝরে পড়া জলপাই বনের মৃদু শব্দ এবং বুনো চালতা গাছে জল-ধোওয়া গন্ধ কবির মনকে ব্যাকুল করে তোলে।
এই দ্বিপ্রহরে পল্লীপ্রকৃতির এক গভীর ক্লান্তি ও বেদনার সুর ধ্বনিত হয়। নদীর তীরে পড়ে থাকা জীর্ণ ও ভাঙা ডিঙি নৌকা এবং হিজল গাছে বাঁধা মালিকহীন মালিকহীন খাঁ খাঁ দুপুরের শান্ত রূপ কবির হৃদয়ে এক চিরন্তন বিষাদ ছুঁয়ে যায়। প্রকৃতির এই নীরবতা এবং তার ভেতরের একাকিত্বের সুর কবিকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে। এই নির্জন দুপুরের সাথে কবির আত্মিক ও স্মৃতির গভীর বন্ধন রয়েছে, তাই তিনি পাড়াগাঁয়ের এই রূপকে এত ভালোবাসেন।
৫। নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো।
৫.১ আর বলবেন না মসাই। (হ্যাঁ সূচক বাক্য)
উত্তরঃ এখন চুপ থাকুন মসাই।
৫.২ অবশ্য গাছের গতি হঠাৎ দেখা যায় না। (হ্যাঁ সূচক বাক্য)
উত্তরঃ অবশ্য গাছের গতি ধীরে ধীরে দেখা যায়।
৫.৩ সেদিকটার দরজা বন্ধ। (নাসূচক বাক্য)
উত্তরঃ সেদিকটার দরজা খোলা নয়।
৫.৪ এগিয়ে চলতে হবে। (অনুজ্ঞাবাচক বাক্য)
উত্তরঃ এগিয়ে চলো।
৬। “অব্যয়” বলতে কী বোঝ ? উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ যে পদের কোনো পরিবর্তন বা বিকার হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।
উদাহরণ: এবং, কিন্তু, আহা, যদি ইত্যাদি।
৭। বিশেষণ পদ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ যে পদ দ্বারা কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের দোষ, গুণ, সংখ্যা, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
উদাহরণ: সুন্দর ফুল, ভালো ছেলে, পাঁচটি আম।
৮। নীচের বাক্যগুলিতে কোনটি কোন্ শ্রেণির অব্যয়, সর্বনাম তা নির্দেশ করো।
৮.১ বাঃ! চমৎকার বলেছ।
উত্তরঃ বাঃ — বিস্ময়সূচক অব্যয়।
৮.২ “এ তো মেয়ে মেয়ে নয়, দেবতা নিশ্চয়।”
উত্তরঃ এ — নির্দেশক সর্বনাম।
৮.৩ যে দেখেছে সে-ই বলতে পারবে।
উত্তরঃ যে — প্রশ্নবাচক/সম্বন্ধবাচক সর্বনাম।
সে — পুরুষবাচক সর্বনাম।
৮.৪ সবাই মিলে সিনেমাটা দেখেছি।
উত্তরঃ সবাই — অনির্দিষ্টবাচক সর্বনাম।
৯। ‘চোখ’ অথবা ‘হাত’ শব্দটি দিয়ে ২টি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহার দেখিয়ে ২টি করে বাক্য রচনা করো।
উত্তরঃ
চোখ—
১) রিমার চোখ খুব সুন্দর। (অর্থ — দৃষ্টির অঙ্গ)
২) পুলিশের চোখ এড়িয়ে চোর পালাতে পারেনি। (অর্থ — নজর বা দৃষ্টি)
হাত—
১) আমার হাত ব্যথা করছে। (অর্থ — শরীরের অঙ্গ)
২) এই কাজটি শেষ করতে তোমার হাত লাগবে। (অর্থ — সাহায্য)
১০। তোমার এলাকার পুরানো গ্রন্থাগারের উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের কাছে পত্র লেখো।
উত্তরঃ
প্রাপক,
সম্পাদক মহাশয়,
দৈনিক সংবাদপত্র,
কলকাতা।
বিষয়ঃ এলাকার পুরানো গ্রন্থাগারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আবেদন।
মহাশয়,
আপনার জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে আমাদের এলাকার পুরানো গ্রন্থাগারটির দুরবস্থার কথা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনতে চাই।
আমাদের এলাকার এই গ্রন্থাগারটি বহু পুরানো এবং এখান থেকে এলাকার ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হন। কিন্তু বর্তমানে গ্রন্থাগারের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বইপত্রের যথাযথ সংরক্ষণ হচ্ছে না এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থাও নেই। ফলে পাঠকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আবেদন, গ্রন্থাগারটির দ্রুত সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং বইপত্রের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।
আপনার পত্রিকার মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশা করি।
ধন্যবাদান্তে,
আপনার বিশ্বস্ত,
একজন সচেতন নাগরিক।
তারিখ: ________
স্থান: ________
📌আরও পড়ুনঃ
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
