2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 8 (VIII) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER
Set-4
Class 8 Bengali 2nd Unit Test Question Paper 2026 wbbse | অষ্টম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৬
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন-2026
অষ্টম শ্রেণি
বিষয় : বাংলা
সময় : ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পূর্ণমান : ৫০
১। নীচের বিকল্পগুলি থেকে সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও : ১x১২=১২
১.১ “ইহাদের মধ্যেও তাহারা কিছু কিছু দেখা যায়।”- কী দেখা যায় ?
(ক) শত্রুতা (খ) লোভ (গ) গুসন (ঘ) বীজ।
১.২ নাটোরের মহারাজার নাম হল–
(ক) রবীন্দ্রনাথ (খ) জগদিন্দ্রনাথ
(গ) রথীন্দ্রনাথ (ঘ) জানকীনাথ।
১.৩ “…..ওষ্ঠপ্রান্তে ইষৎ হাসি প্রকাশ পাইল।”- কার কথা বলা হয়েছে ?
(ক) রমার (খ) রমেশের (গ) বেনীর
(ঘ) আকবরের।
১.৪ ডাম্বল যার ছেলে—
(ক) রমার (খ) নির্মলার (গ) ছেনুমাসির
(ঘ) বেণুমাসির।
১.৫ “তারা শুধু কেঁদে মরে বাইরে।”- এখানে তারা কারা ?
(ক) বন্যপশু (খ) আমগাছ (গ) বেকারযুবক
(খ) হাওয়া।
১.৬ ‘দাঁড়াও’ কবিতায় ‘দাঁড়াও’- শব্দটি কতবার পাওয়া যায় ?
(ক) আট (খ) নয় (গ) দশ (ঘ) এগারো বার।
১.৭ ভিক্ষার জন্যে পাত্র একটা আছে তো / তার মধ্যে একটা _________ ফুটো।
(ক) ছোট্ট (খ) প্রকান্ড (গ) ক্ষুদ্র (ঘ) সংশয়।
১.৮ ‘পাড়াগাঁর দু-প্রহর ভালোবাসি’ কবিতায়
কোন্ নদীর কথা আছে ?
(ক) গড়াই (খ) জলসিড়ি (গ) যমুনা
(ঘ) ধানসিড়ি।
১.৯ “বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক।”- এখানে ‘ত্রিপিটক’ যে বিশেষ্যপদের উদাহরণ–
(ক) সংজ্ঞাবাচক
(খ) জাতিবাচক
(গ) গুণবাচক
(ঘ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য।
১.১০ ‘ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বীজ পাকিয়া থাকে’- এটি কী ধরনের বাক্য ?
(ক) অনুজ্ঞাবাচক
(খ) নির্দেশক
(গ) আবেগসূচক
(ঘ) প্রশ্নবোধক।
১.১১ ‘তোকে নিয়ে আর পারি না।’- নিম্নরেখ অংশটি হল–
(ক) বিশেষ্য (খ) বিশেষণ (গ) অব্যয়
(ঘ) ক্রিয়া।
১.১২ ‘তাঁর একলার অমতে কিছুই আসে যায় না।’- বাক্যটি—
(ক) বিবৃতিমূলক বাক্য
(খ) প্রশ্নবোধক
(গ) আবেগসূচক
(ঘ) সংশয়সূচক বাক্য।
২। একটি বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১x১২=১২
২.১ গ্রামের একমাত্র ভরসা কী ছিল ?
২.২ ‘কেহ বলিতে পারে না।’- লেখক কোন কথা বলতে না পারার কথা বলেছেন ?
২.৩ লিচুর বীজ কোন্ মাসে পাকে ?
২.৪ প্রভিনসিয়াল কনফারেন্স কোথায় হয়েছিল এবং তার প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন ?
২.৫ বাড়িটিকে ভালোবেসে কারা বেড়াতে এলে কিছুক্ষন থেমে যায় ?
২.৬ ‘চেঁচিয়ে উঠল সমস্বরে’- কী বলে তারা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল ?
২.৭ ডিঙিটি কীসের সঙ্গে বাঁধা আছে ?
২ ৮ কে বড়ো একলা ?
২.৯ অপুর ঠাকুরদাদার নাম কী ছিল ?
২.১০ দুর্গা ছোটো হাঁড়িতে কী রান্না করেছিল ?
২.১১ গুড় বোঝাই গোরুর গাড়ি কোথায় যাচ্ছিল ?
২.১২ অপু কোথায় কড়ি খেলতে গিয়েছিল?
৩। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ৩x৬=১৮
৩.১ “সিঁড়ি ভেঙ্গে আর উঠতে পারব না বাবা”- কারা একথা বলেছেন ? তাঁরা সিঁড়ি ভেঙ্গে আর উঠতে পারবে না কেন ?
অথবা, ‘এবারে বেণু মাসির মুখ চুন।’- কেন ?
৩.২ ‘যেন ইন্দ্রপুরী’- কীসের সঙ্গে ইন্দ্রপুরীর তুলনা করা হয়েছে ? কেনই বা লেখক এমন তুলনা করেছেন ?
অথবা, “রমেশ কহিল তুমি অত্যন্ত হীন এবং নীচ।”- উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেন ‘হীন’ এবং ‘নীচ’ বলা হয়েছে ?
৩.৩ “তাই এখন পথে এসে দাঁড়িয়েছে সড়কের মাঝখানে।’- এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে ? তাদের জীবনের এমন পরিণতির কারণ কবিতায় কীভাবে ধরা পড়েছে তা নির্দেশ করো।
অথবা, ‘ফিরে আসতেই দেখি’- ফেরার পথে কবির চোখে কী ধরা পড়ল ?
৩.৪ “যেন একথাটি সুখের কাহিনি নানান আখরে ভরি।”- ‘আখর’ শব্দের অর্থ কী ? সুখের কাহিনির যে নানা ছবি কবি এঁকেছেন তা সংক্ষেপে লেখো।
অথবা, ‘নুয়ে আছে বহুদিন ছন্দহীন’- কে কোথায় নুয়ে আছে ?
৩.৫ নরোত্তম দাস বাবাজি কে ? তার সঙ্গে অপুর কীভাবে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল লেখো।
অথবা, অপু-দুর্গার চড়ুইভাতির আয়োজন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
৩.৬ অপু-দুর্গার রেলের রাস্তা দেখার যে অভিজ্ঞতা তা নিজের ভাষায় লেখো।
অথবা, ‘আজ যেন একটি উৎসবের দিন’- কখন, কেন দুর্গার এমন মনে হয়েছিল ?
৪। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১x৩=৩
৪.১ অসমাপিকা ক্রিয়া কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।
৪.২ ‘মাথা’ শব্দটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করে দুটি বাক্য রচনা করো।
৪.৩ ‘কাঁচা’ শব্দটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করে দুটি বাক্য রচনা করো।
৫। নীচের যে কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে পত্ররচনা করো : ৫x১=৫
৫.১ জীর্ন সেতু সংস্কারের বিষয় তুলে ধরে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদককে একটি পত্র লেখো।
৫.২ তোমার অঞ্চলের জলসংকট সমস্যার সমাধানের দাবিতে পৌরপ্রধানের কাছে চিঠি লেখো।
—সমস্ত প্রশ্নের উত্তর—
১। নীচের বিকল্পগুলি থেকে সঠিক বিকল্পটি বেছে নাও : ১x১২=১২
১.১ উত্তরঃ (ঘ) বীজ। ১.২ উত্তরঃ (খ) জগদিন্দ্রনাথ। ১.৩ উত্তরঃ (খ) রমেশের। ১.৪ উত্তরঃ (ঘ) বেণুমাসির। ১.৫ উত্তরঃ (খ) হাওয়া। ১.৬ উত্তরঃ (খ) নয় বার। ১.৭ উত্তরঃ (খ) প্রকাণ্ড। ১.৮ উত্তরঃ (খ) জলসিড়ি। ১.৯ উত্তরঃ (ক) সংজ্ঞাবাচক। ১.১০ উত্তরঃ (খ) নির্দেশক। ১.১১ উত্তরঃ (গ) অব্যয়। ১.১২ উত্তরঃ (ক) বিবৃতিমূলক বাক্য।
২। একটি বাক্যে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১x১২=১২
২.১ উত্তরঃ গ্রামের একমাত্র ভরসা ছিল একশো বিঘার মাঠের ফসল।
২.২ উত্তরঃ প্রতিটি বীজ থেকে শেষ পর্যন্ত গাছ জন্মায় কি না, লেখক সেই কথা বলতে না পারার কথা বলেছেন।
২.৩ উত্তরঃ লিচুর বীজ বৈশাখ মাসে পাকে।
২.৪ উত্তরঃ প্রভিনসিয়াল কনফারেন্স নাটোরে হয়েছিল এবং তার প্রেসিডেন্ট ছিলেন নাটোরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ।
২.৫ উত্তরঃ বাড়িটিকে ভালোবেসে সাঁঝ-সকালের রঙিন মেঘেরা বেড়াতে এলে কিছুক্ষণ থেমে যায়।
২.৬ উত্তরঃ “প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে” বলে তারা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল।
২.৭ উত্তরঃ ডিঙিটি একটি হিজল গাছের সঙ্গে বাঁধা আছে।
২.৮ উত্তরঃ বর্তমান সমাজে মানুষ বড়ো একলা।
২.৯ উত্তরঃ অপুর ঠাকুরদাদার নাম ছিল রামচাঁদ তর্কালঙ্কার।
২.১০ উত্তরঃ দুর্গা ছোটো হাঁড়িতে নুড়ি-পাথর দিয়ে ভুয়ো ভাত-তরকারি রান্না করেছিল।
২.১১ উত্তরঃ গুড় বোঝাই গোরুর গাড়ি আষাঢ়ের হাটে যাচ্ছিল।
২.১২ উত্তরঃ অপু জেলেপাড়ায় কড়ি খেলতে গিয়েছিল।
৩। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ৩x৬=১৮
৩.১ “সিঁড়ি ভেঙ্গে আর উঠতে পারব না বাবা”- কারা একথা বলেছেন ? তাঁরা সিঁড়ি ভেঙ্গে আর উঠতে পারবে না কেন?
উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবীর ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বুকুর বাড়িতে বেড়াতে আসা ছেনুমাসি ও তাঁর সাথে আসা অপর এক মাসিমা একথা বলেছেন।
তারা তিনতলার সিঁড়ি ভেঙে ওপরে ওঠার পর অতিরিক্ত ক্লান্ত ও হাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বুকুর মা আড়ালে তাদের আসা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন জানার পর অভিমানে ও অপমানে তারা সিঁড়ি ভেঙে আর ওপরে বুকুদের ড্রয়িংরুমে বসতে চাননি।
অথবা, ‘এবারে বেণু মাসির মুখ চুন।’- কেন ?
উত্তরঃ ‘কী করে বুঝব’ গল্পে বেণুমাসি বুকুর মায়ের কাছে গর্ব করে বলেছিলেন যে তার ছেলে ডাম্বল নাকি মারপিট কী জিনিস তা জানেই না। কিন্তু পরক্ষণেই বুকু হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়ে বলে যে ডাম্বলদা কালই পাড়ার নুটুকে মেরে কপাল ফাটিয়ে দিয়েছে। নিজের ছেলের এই কীর্তি সবার সামনে ফাঁস হয়ে যাওয়াতেই বেণুমাসির মুখ চুন হয়ে গিয়েছিল।
৩.২ ‘যেন ইন্দ্রপুরী’- কীসের সঙ্গে ইন্দ্রপুরীর তুলনা করা হয়েছে ? কেনই বা লেখক এমন তুলনা করেছেন ?
উত্তরঃ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নাটোরের কথা’ প্রবন্ধে নাটোরের রাজবাড়ির রাজকীয় সমাদর, আলো, সাজসজ্জা এবং উৎসবমুখর পরিবেশকে ইন্দ্রপুরীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
প্রাদেশিক সম্মেলনের ডেলিগেটদের জন্য রাজবাড়িতে কোনো ত্রুটি ছিল না। শোবার ঘর থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, চাকরবাকরের তদারকি এবং রাজকীয় আতিথেয়তা এতটাই নিখুঁত ও জমকালো ছিল যে লেখকের মনে হয়েছিল তারা যেন স্বর্গের দেবতা ইন্দ্রের পুরীতে এসে উপস্থিত হয়েছেন।
অথবা, “রমেশ কহিল তুমি অত্যন্ত হীন এবং নীচ।”- উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেন ‘হীন’ এবং ‘নীচ’ বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পল্লীসমাজ’ গল্পে রমেশ রমাকে ‘হীন’ এবং ‘নীচ’ বলেছে।
টানা বৃষ্টিতে চাষিদের একশো বিঘার মাঠ ডুবে যাচ্ছিল। জল না কাটলে চাষিরা না খেতে পেয়ে মারা যাবে জেনেও রমা নিজের সামান্য কয়েক টাকার মাছের ক্ষতি স্বীকার করতে রাজি হয়নি। রমার এই চরম স্বার্থপরতা ও নিষ্ঠুর মানবিকতাহীনতা দেখেই রমেশ তাকে এই তীব্র মন্তব্য করেছিল।
৩.৩ “তাই এখন পথে এসে দাঁড়িয়েছে সড়কের মাঝখানে।’- এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে ? তাদের জীবনের এমন পরিণতির কারণ কবিতায় কীভাবে ধরা পড়েছে তা নির্দেশ করো।
উত্তরঃ অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ‘ছন্নছাড়া’ কবিতায় পাড়ার মোড়ে আড্ডা দেওয়া একদল ছন্নছাড়া, বেকার ও আশ্রয়হীন যুবকের কথা বলা হয়েছে।
তাদের কোনো ভালো বাড়ি নেই, নেই কোনো সুনির্দিষ্ট জীবিকা বা ভবিষ্যৎ। সমাজ ও সংসারের চরম অবহেলা, বেকারত্ব এবং চারপাশের উদাসীনতার কারণেই তাদের জীবন আজ এমন ঠিকানাহীন ও ভবঘুরে হয়ে পড়েছে। তারা আজ আক্ষরিক অর্থেই পথের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে।
অথবা, ‘ফিরে আসতেই দেখি’- ফেরার পথে কবির চোখে কী ধরা পড়ল ?
উত্তরঃ ‘ছন্নছাড়া’ কবিতায় ফেরার পথে কবি দেখতে পান যে একটি ট্যাক্সি দুর্ঘটনায় এক ভিখারি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর কিছুক্ষণ আগে যে বেকার যুবকদের কবি ছন্নছাড়া ভেবেছিলেন, তারাই মানবিকতার খাতিরে সেই রক্তাক্ত ভিখারিকে পরম যত্নে পাঁজাকোলা করে ট্যাক্সিতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।
৩.৪ “যেন একথাটি সুখের কাহিনি নানান আখরে ভরি।”- ‘আখর’ শব্দের অর্থ কী ? সুখের কাহিনির যে নানা ছবি কবি এঁকেছেন তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ জসীমউদ্দীনের ‘গড়াই নদীর তীরে’ কবিতা থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিটিতে ‘আখর’ শব্দের অর্থ হলো অক্ষর।
কবি এই কবিতায় গ্রামীণ কুটিরের এক শান্ত ও সুখী ছবি এঁকেছেন। কুটিরের উঠোনে লাউ-কুমড়োর মাচা ডালপালা মেলেছে, শিম-মটর ও কালো জিরে রোদে শুকোতে দেওয়া হয়েছে। বুনো ফুল আর লতাপাতায় ঘেরা এই সহজ সরল ও শান্তিপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশের মাধ্যমেই কবি সুখের কাহিনির ছবি এঁকেছেন।
অথবা, ‘নুয়ে আছে বহুদিন ছন্দহীন’- কে কোথায় নুয়ে আছে ?
উত্তরঃ জীবনানন্দ দাশের ‘পাড়াগাঁয়ের দু-পহর ভালোবাসিয়াছি’ কবিতায় একটি জীর্ণ, বিষণ্ণ ও ভাঙা ডিঙি নৌকা নদীর তীরে হিজল গাছের পাশে নুয়ে আছে।
নৌকাটির মালিক হয়তো অনেকদিন আগে তাকে সেখানে বেঁধে চলে গেছে, তাই দীর্ঘকাল ধরে সেটি কোনো ব্যবহার ছাড়া, অবহেলায় একাকী নিঝুম দুপুরের শান্ত জলপ্রবাহের পাশে ছন্দহীনভাবে পড়ে রয়েছে।
৩.৫ নরোত্তম দাস বাবাজি কে ? তার সঙ্গে অপুর কীভাবে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল লেখো।
উত্তরঃ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ছোটোদের পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে নরোত্তম দাস বাবাজি হলেন বৈষ্ণব ধর্মের একজন পরম সাধক, যিনি অপুর গ্রামের এক কোণে কুটিরে থাকতেন।
অপু অত্যন্ত বই পড়তে ভালোবাসত এবং সে মুখে মুখে সুন্দর কথা বলতে পারত। একদিন নরোত্তম বাবাজির কুটিরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বাবাজি তাকে ডাকেন। অপুর মুখে ভক্তিমূলক কথাবার্তা এবং তার সরল স্বভাব দেখে বৃদ্ধ বাবাজি তাকে ভালোবেসে ফেলেন এবং তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
অথবা, অপু-দুর্গার চড়ুইভাতির আয়োজন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ ‘ছোটোদের পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে অপু ও দুর্গা মিলে নীলমণি রায়ের জঙ্গলাকীর্ণ ভিটের এক কোণে চড়ুইভাতির আয়োজন করেছিল।
দুর্গা ঘর থেকে চাল, তেল, নুন এবং ভাট কলমির শাক জোগাড় করে এনেছিল। অপু তার ছোট্ট রাঁধুনি খুরিটি এনেছিল এবং দিদির কথামতো শুকনো কুড়োনো কাঠ এনে দিয়েছিল। একটি ছোট মাটির হাঁড়িতে নুড়ি-পাথর দিয়ে তারা খেলার ছলে এই চড়ুইভাতির আনন্দ উপভোগ করেছিল।
৩.৬ অপু-দুর্গার রেলের রাস্তা দেখার যে অভিজ্ঞতা তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তরঃ অপু ও দুর্গা দুজনেই কোনোদিন রেলগাড়ি বা রেলের রাস্তা দেখেনি। একদিন তারা তাদের গ্রাম থেকে অনেক দূরে সোনডাঙার মাঠ পার হয়ে কাশবনের ভেতর দিয়ে রেলের রাস্তা দেখতে যায়।
সেখানে গিয়ে তারা উঁচু মাটির ঢিবি, লোহার রেললাইন এবং সারিবদ্ধ টেলিগ্রামের খুঁটি দেখে অবাক হয়। খুঁটিতে কান পেতে বাতাসের শোঁ-শোঁ শব্দ শোনার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তাদের শিশুমনকে এক অদ্ভুত আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছিল।
অথবা, ‘আজ যেন একটি উৎসবের দিন’- কখন কেন দুর্গার এমন মনে হয়েছিল ?
উত্তরঃ ‘ছোটোদের পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে যেদিন অপুর বাবা হরিহর অনেকদিন পর দূর দেশ থেকে টাকা-পয়সা এবং পুজো ও মেলা থেকে নানা জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফিরেছিলেন, সেদিন দুর্গার এমন মনে হয়েছিল।
বাবা বাড়ি ফেরায় ঘরে নতুন কাপড় ও খাবারের আয়োজন হয়েছিল। দীর্ঘদিন অভাবের পর সংসারে এমন খুশির হাওয়া এবং বাবার সান্নিধ্য পেয়ে দুর্গার মনে হয়েছিল আজ যেন কোনো উৎসবের দিন।
৪। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১x৩=৩
৪.১ উত্তরঃ অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদের দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না এবং বাক্যটি শেষ করার জন্য অন্য একটি সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
উদাহরণ: ছেলেটি বিকেলে মাঠে খেলতে গেল। (এখানে ‘খেলতে’ হলো অসমাপিকা ক্রিয়া)।
৪.২ উত্তরঃ ‘মাথা’ শব্দটির ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ—
প্রধান অর্থে: আমাদের ক্লাসের সুমিত সব বিষয়েই বেশ মাথা খাটিয়ে কাজ করে।
শিরোমণি বা মুরুব্বি অর্থে: পঞ্চায়েত প্রধান হলেন আমাদের এই গ্রামের আসল মাথা।
৪.৩ উত্তরঃ ‘কাঁচা’ শব্দটির ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ—
অপরিণত বা অপক্ব অর্থে: গাছের সব কাঁচা আম কালকের ঝড়ে পড়ে গেছে।
দুর্বল বা অপটু অর্থে: রোহিত অঙ্কে খুব কাঁচা, তাই তাকে প্রতিদিন অনুশীলন করতে হবে।
৫। নীচের যে কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে পত্ররচনা করো : ৫x১=৫
৫.১ জীর্ণ সেতু সংস্কারের বিষয় তুলে ধরে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদককে একটি পত্র লেখো।
প্রতি
মাননীয় সম্পাদক মহাশয়,
আনন্দবাজার পত্রিকা,
৬, প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,
কলকাতা – ৭০০০০১।
বিষয়: জীর্ণ সেতু সংস্কারের দাবিতে আবেদন।
মহাশয়,
আপনার বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে আমি আমাদের এলাকার একটি অত্যন্ত জরুরি ও বিপজ্জনক সমস্যার প্রতি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।
আমাদের এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর ওপর যে পুরোনো সেতুটি রয়েছে, সেটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারের অভাবে অত্যন্ত জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুর সিমেন্টের আস্তরণ খসে পড়েছে এবং ভেতরের মরচে ধরা লোহার রডগুলি বিপজ্জনকভাবে বেরিয়ে এসেছে। এই সেতুটি আমাদের অঞ্চলের প্রধান সংযোগকারী মাধ্যম, যার ওপর দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, অফিসযাত্রী এবং বহু যানবাহন চলাচল করে। ভারী গাড়ি উঠলে পুরো সেতুটি কাঁপতে থাকে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
অতএব, জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে যাতে এই জীর্ণ সেতুটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
নমস্কারান্তে,
তারিখ: ১৮ই জুলাই, ২০২৬
স্থান: বর্ধমান
বিনীত,
অনির্বাণ দাস
(অঞ্চলের বাসিন্দাদের পক্ষে)
৫.২ তোমার অঞ্চলের জলসংকট সমস্যার সমাধানের দাবিতে পৌরপ্রধানের কাছে চিঠি লেখো।
প্রতি
মাননীয় পৌরপ্রধান মহাশয়,
শ্রীরামপুর পৌরসভা,
হুগলি।
বিষয়: এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সংকট দূরীকরণের আবেদন।
মহাশয়,
আমি আপনার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে আমাদের এলাকার পানীয় জলের তীব্র সংকটের কথা জানাচ্ছি।
গত কয়েক মাস ধরে আমাদের এলাকায় পানীয় জলের সরবরাহ ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পুরসভা থেকে দিনে মাত্র একবার খুব অল্প সময়ের জন্য জল দেওয়া হয়, যার গতিও অত্যন্ত ক্ষীণ। ফলে লাইনে দাঁড়িয়েও বহু পরিবার প্রতিদিন প্রয়োজন মতো জল পাচ্ছে না। এলাকার সাধারণ কলগুলিও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। তীব্র গরমের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে এবং সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে জল বয়ে আনতে হচ্ছে। জলের অভাবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কার্যত স্তব্ধ হওয়ার জোগাড়।
অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে, আমাদের ওয়ার্ডে পানীয় জলের সরবরাহ বৃদ্ধি করতে এবং প্রয়োজনে সাময়িকভাবে জলের ট্যাঙ্কের ব্যবস্থা করে এই তীব্র জলসংকট থেকে আমাদের মুক্ত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ধন্যবাদান্তে,
তারিখ: ১৮ই জুলাই, ২০২৬
স্থান: শ্রীরামপুর
বিনীত,
সন্দীপন মুখোপাধ্যায়
(৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পক্ষে)
📌আরও পড়ুনঃ
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
