ভারতের অরণ্য ও বন্যপ্রাণ
দশম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল অরণ্য ও বন্যপ্রাণ প্রশ্ন উত্তর দশম অধ্যায় | Class 6 geography Aronnyo O Bonnopran Question Answer Ch-10 wbbse
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
ভারতের অরণ্য ও বন্যপ্রাণ
দশম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল
∆ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. রাজস্থানের মরু অঞ্চলে দেখা যায় এমন একটি প্রাণী হলো— (একশৃঙ্গ গণ্ডার / রেড পান্ডা / উট / সিংহ)।
উত্তরঃ উট।
২. ভারতের গুজরাটের গির অরণ্যে কোন প্রাণীকে দেখা যায়?— (রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার / সিংহ / বুনো গাধা / ভালুক)।
উত্তরঃ সিংহ।
৩. শীতকালে শীতপ্রধান দেশ থেকে আসা পাখিদের কী বলা হয়?— (দেশি পাখি / বন্য পাখি / পরিযায়ী পাখি / বিদেশি পাখি)।
উত্তরঃ পরিযায়ী পাখি।
৪. যেখানে অরণ্যের ওপর নির্ভরশীল মানুষদের শিকার ও পশুচারণের অধিকার দেওয়া হয়, তাকে বলে— (সংরক্ষিত অরণ্য / সুরক্ষিত অরণ্য / অভয়ারণ্য / জাতীয় উদ্যান)।
উত্তরঃ সুরক্ষিত অরণ্য।
৫. জলদাপাড়া হলো একটি— (জাতীয় উদ্যান / সংরক্ষিত অরণ্য / অভয়ারণ্য / বদ্বীপ অঞ্চল)।
উত্তরঃ অভয়ারণ্য।
৬. ভারতে প্রতি বছর কোন সময়টি ‘বন্যপ্রাণ সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়?— (জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ / জুন মাসের শেষ সপ্তাহ / অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ / ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ)।
উত্তরঃ অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ।
৭. ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কত সালে চালু হয়?— (১৯৭০ সালে / ১৯৭১ সালে / ১৯৭২ সালে / ১৯৭৫ সালে)।
উত্তরঃ ১৯৭২ সালে।
৮. ভারতের কোন জায়গায় ‘বুনো গাধা’ দেখতে পাওয়া যায়?— (সুন্দরবন / কচ্ছের রান / হিমালয় পর্বত / রাজস্থান)।
উত্তরঃ কচ্ছের রান।
৯. কাজিরাঙা হলো একটি— (অভয়ারণ্য / সংরক্ষিত অরণ্য / জাতীয় উদ্যান / সুরক্ষিত অরণ্য)।
উত্তরঃ জাতীয় উদ্যান।
১০. যেখানে অরণ্যে শিকার, পশুচারণ ও অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তাকে কী বলে?— (সংরক্ষিত অরণ্য / সুরক্ষিত অরণ্য / অভয়ারণ্য / জাতীয় উদ্যান)।
উত্তরঃ সংরক্ষিত অরণ্য।
∆ শূন্যস্থান পূরণ কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলে বিখ্যাত ________ দেখতে পাওয়া যায়।
উত্তরঃ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
২. গুজরাটের ________ অরণ্যে সিংহ দেখা যায়।
উত্তরঃ গির।
৩. যে সব পাখি শীতকালে শীতপ্রধান দেশ থেকে আমাদের দেশে আসে, তাদের ________ পাখি বলে।
উত্তরঃ পরিযায়ী।
৪. ________ অরণ্যে শিকার, পশুচারণ ও অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উত্তরঃ সংরক্ষিত (Reserved Forest)।
৫. কোডার্মা হলো একটি ________ অরণ্যের উদাহরণ।
উত্তরঃ সংরক্ষিত।
৬. লুইপ্তপ্রায় প্রজাতির সুরক্ষা ও উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রাখা হয় ________-এ।
উত্তরঃ অভয়ারণ্যে (Sanctuary)।
৭. অসমের ________ একটি বিখ্যাত জাতীয় উদ্যান।
উত্তরঃ কাজিরাঙা।
৮. ভারতে ________ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন চালু হয়।
উত্তরঃ ১৯৭২।
৯. প্রতি বছর ________ মাসের প্রথম সপ্তাহটি ভারতে ‘বন্যপ্রাণ সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়।
উত্তরঃ অক্টোবর।
১০. হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে ভালুক ও ________ দেখা যায়।
উত্তরঃ রেড পান্ডা / চিতা।
∆ সত্য মিথ্যা নির্ণয় কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলে সিংহ দেখা যায়।
উত্তরঃ মিথ্যা (সেখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখা যায়)।
২. গুজরাটের কচ্ছের রানে বুনো গাধা দেখতে পাওয়া যায়।
উত্তরঃ সত্য।
৩. পরিযায়ী পাখিরা গরম পড়লে আবার নিজেদের দেশে ফিরে যায়।
উত্তরঃ সত্য।
৪. সুরক্ষিত অরণ্যে (Protected Forest) সাধারণ মানুষের কোনো অধিকার থাকে না।
উত্তরঃ মিথ্যা (সেখানে মানুষের শিকার ও পশুচারণের সীমিত অধিকার থাকে)।
৫. কোডার্মা হলো একটি সংরক্ষিত অরণ্যের উদাহরণ।
উত্তরঃ সত্য।
৬. অভয়ারণ্যে লুপ্তপ্রায় প্রজাতির সুরক্ষা ও উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হয়।
উত্তরঃ সত্য।
৭. কাজিরাঙা হলো একটি বিখ্যাত অভয়ারণ্য।
উত্তরঃ মিথ্যা (কাজিরাঙা একটি জাতীয় উদ্যান)।
৮. ১৯৭২ সালে ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন চালু হয়।
উত্তরঃ সত্য।
৯. নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহটি ‘বন্যপ্রাণ সপ্তাহ’ হিসেবে পালিত হয়।
উত্তরঃ মিথ্যা (এটি অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে পালিত হয়)।
১০. দক্ষিণ ভারতে হাতি ও হরিণ দেখতে পাওয়া যায়।
উত্তরঃ সত্য।
∆ বাম স্তম্ভের সঙ্গে স্তম্ভ মেলাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
বাম স্তম্ভ ডান স্তম্ভ
১. গির অরণ্য (অ) জাতীয় উদ্যান
২. পরিযায়ী পাখি (আ) সিংহ
৩. জলদাপাড়া (ই) বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন
৪. কাজিরাঙা (ঈ) শীতপ্রধান দেশ থেকে আসে
৫. ১৯৭২ সাল (উ) অভয়ারণ্য
উত্তরঃ
১. গির অরণ্য — (আ) সিংহ
২. পরিযায়ী পাখি — (ঈ) শীতপ্রধান দেশ থেকে আসে
৩. জলদাপাড়া — (উ) অভয়ারণ্য
৪. কাজিরাঙা — (অ) জাতীয় উদ্যান
৫. ১৯৭২ সাল — (ই) বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন।
∆ এক কথায় প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১. কচ্ছের রানে কোন বন্যপ্রাণী দেখা যায়?
উত্তরঃ বুনো গাধা।
২. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চল কোন প্রাণীর জন্য বিখ্যাত?
উত্তরঃ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
৩. শীতকালে শীতপ্রধান দেশ থেকে উড়ে আসা পাখিদের কী বলা হয়?
উত্তরঃ পরিযায়ী পাখি।
৪. একটি সংরক্ষিত অরণ্যের (Reserved Forest) নাম লেখো।
উত্তরঃ কোডার্মা সংরক্ষিত অরণ্য।
৫. জলদাপাড়া কী ধরনের বনভূমি বা অরণ্য?
উত্তরঃ অভয়ারণ্য (Sanctuary)।
৬. কোন ধরনের অরণ্যে বন্যপ্রাণীর সাথে সাথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার দিকেও নজর দেওয়া হয়?
উত্তরঃ জাতীয় উদ্যান (National Park)।
৭. কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত? (পাঠ্যবইয়ের তথ্য অনুযায়ী)
উত্তরঃ উত্তর-পূর্বাঞ্চল (অসম)।
৮. ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কত সালে পাস হয়?
উত্তরঃ ১৯৭২ সালে।
৯. অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহটি ভারতে কী হিসেবে পালিত হয়?
উত্তরঃ বন্যপ্রাণ সপ্তাহ।
১০. হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায় এমন একটি প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তরঃ রেড পান্ডা (বা তুষার চিতা/ভালুক)।
∆ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-২
১. পরিযায়ী পাখি কাদের বলা হয়?
উত্তরঃ শীতকালে শীতপ্রধান দেশ থেকে যে সমস্ত পাখি খাবারের খোঁজে বা আশ্রয়ের টানে আমাদের দেশে উড়ে আসে এবং গরম পড়লে আবার নিজেদের দেশে ফিরে যায়, তাদের পরিযায়ী পাখি বলে।
২. সংরক্ষিত অরণ্য (Reserved Forest) বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ যে অরণ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ এবং কাঠ কাটা, শিকার করা বা পশুচারণ করার মতো সমস্ত ক্রিয়াকলাপ সম্পূর্ণ সরকারিভাবে নিষিদ্ধ, তাকে সংরক্ষিত অরণ্য বলে। যেমন— কোডার্মা সংরক্ষিত অরণ্য।
৩. সুরক্ষিত অরণ্য (Protected Forest) কাকে বলে?
উত্তরঃ যে অরণ্যে বনভূমির ওপর নির্ভরশীল মানুষদের জীবনধারণের জন্য সীমিত আকারে শিকার এবং পশুচারণের অনুমতি দেওয়া হয়, তাকে সুরক্ষিত অরণ্য বলে।
৪. অভয়ারণ্য (Sanctuary) বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ যে নির্দিষ্ট বনভূমিতে বিশেষ কোনো লুপ্তপ্রায় প্রজাতির সুরক্ষা ও উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হয় এবং প্রাণীরা নির্ভয়ে বিচরণ করতে পারে, তাকে অভয়ারণ্য বলে। যেমন— জলদাপাড়া অভয়ারণ্য।
৫. জাতীয় উদ্যান (National Park) কী?
উত্তরঃ যে বিশাল বনভূমিতে বন্যপ্রাণীর সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্বাভাবিক উদ্ভিদ রক্ষার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়, তাকে জাতীয় উদ্যান বলে। যেমন— কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান।
৬. ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন (১৯৭২) এর উদ্দেশ্য কী?
উত্তরঃ ১৯৭২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন চালুর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অবলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীদের চোরাশিকার রোধ করা এবং তাদের বংশবৃদ্ধি ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।
৭. ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অরণ্যে কোন কোন বন্যপ্রাণী দেখা যায়?
উত্তরঃ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঘন অরণ্যে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁদর, হাতি, একশৃঙ্গ গণ্ডার এবং জলাজমিতে নানা ধরণের সাপ ইত্যাদি দেখতে পাওয়া যায়।
৮. ‘বন্যপ্রাণ সপ্তাহ’ কেন পালন করা হয়?
উত্তরঃ বন্যপ্রাণীদের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং তাদের সংরক্ষণে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহটি ভারতে ‘বন্যপ্রাণ সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়।
৯. হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে কী কী প্রাণী দেখা যায়?
উত্তরঃ হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে সাধারণত ভালুক, রেড পান্ডা এবং চিতাবাঘ (তুষার চিতা) দেখা যায়।
১০. সুন্দরবন অঞ্চল কোন কোন প্রাণীর জন্য বিখ্যাত?
উত্তরঃ পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চল মূলত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও এখানে প্রচুর পরিমাণে কুমির ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ দেখা যায়।
১১. ভারতের কোন অংশে সিংহ ও বুনো গাধা দেখা যায়?
উত্তরঃ ভারতের গুজরাট রাজ্যের গির অরণ্যে সিংহ দেখা যায় এবং কচ্ছের রান অঞ্চলে বুনো গাধা দেখা যায়।
১২. দক্ষিণ ভারতের অরণ্যে প্রধানত কোন কোন প্রাণী দেখা যায়?
উত্তরঃ দক্ষিণ ভারতের অরণ্যে মূলত হাতি ও হরিণের আধিক্য বেশি দেখা যায়।
∆ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-৩
১. সংরক্ষিত অরণ্য ও সুরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তরঃ সংরক্ষিত অরণ্য ও সুরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:
নিয়ন্ত্রণ: সংরক্ষিত অরণ্যে মানুষের প্রবেশ এবং সমস্ত রকম কার্যকলাপ (যেমন—কাঠ কাটা, শিকার) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, সুরক্ষিত অরণ্যে বনভূমির ওপর নির্ভরশীল মানুষদের জীবনধারণের জন্য কিছু অধিকার দেওয়া হয়।
অধিকার: সংরক্ষিত অরণ্যে কোনো ব্যক্তিগত অধিকার থাকে না, কিন্তু সুরক্ষিত অরণ্যে সীমিত পরিসরে পশুচারণ বা শিকারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
উদাহরণ: কোডার্মা হলো একটি সংরক্ষিত অরণ্য।
২. অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ অভয়ারণ্য: এখানে মূলত লুপ্তপ্রায় প্রজাতির সুরক্ষা ও উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হয়। বন্যপ্রাণীরা এখানে নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পারে। যেমন— জলদাপাড়া অভয়ারণ্য।
জাতীয় উদ্যান: এখানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি এলাকার স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন— অসমের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান।
৩. ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী ?
উত্তরঃ ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম কারণ:
ভারসাম্য রক্ষা: প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে বন্যপ্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।
অবলুপ্তি রোধ: চোরাশিকার ও বাসভূমি ধ্বংসের কারণে অনেক প্রাণী (যেমন—বাঘ, গণ্ডার) হারিয়ে যাচ্ছে, তাদের রক্ষা করার জন্য সংরক্ষণ প্রয়োজন।
আইনগত সুরক্ষা: বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষার জন্যই সরকার ১৯৭২ সালে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন’ চালু করেছে এবং প্রতি বছর ‘বন্যপ্রাণ সপ্তাহ’ পালন করা হয়।
৪. পরিযায়ী পাখি বলতে কী বোঝো? এরা কেন আমাদের দেশে আসে?
উত্তরঃ শীতকালে শীতপ্রধান দেশ (যেমন— সাইবেরিয়া) থেকে যে সমস্ত পাখি আমাদের দেশে উড়ে আসে, তাদের পরিযায়ী পাখি বলে। এদের আসার প্রধান কারণগুলি হলো—
চরম শীত থেকে রক্ষা: শীতপ্রধান দেশের তীব্র ঠান্ডা থেকে বাঁচতে তারা অপেক্ষাকৃত কম ঠান্ডা অঞ্চলে আসে।
খাদ্যের অভাব: শীতকালে বরফ জমার ফলে ওইসব দেশে খাবারের অভাব দেখা দেয়, তাই তারা খাবারের সন্ধানে ভারতে আসে। গরম পড়লে এই পাখিরা আবার নিজ দেশে ফিরে যায়।
৫. ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কী ধরনের বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী দেখা যায় ?
উত্তরঃ ভারতের বিশাল ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে এখানে নানা ধরনের প্রাণী দেখা যায়—
পশ্চিমবঙ্গ: সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও কুমির দেখা যায়।
পশ্চিম ভারত: গুজরাটের গির অরণ্যে সিংহ এবং কচ্ছের রানে বুনো গাধা দেখা যায়।
উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারত: হিমালয়ে রেড পান্ডা ও ভালুক এবং অসমের ঘন অরণ্যে একশৃঙ্গ গণ্ডার ও হাতি দেখা যায়।
দক্ষিণ ভারত: এখানকার অরণ্যে প্রচুর হাতি ও হরিণ দেখা যায়।
∆ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-৫
১. অরণ্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো। ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকার কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে?
উত্তরঃ অরণ্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা—
বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য: প্রকৃতিতে খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখতে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
অবলুপ্তি রোধ: চোরাশিকারিদের উপদ্রব এবং বনভূমি ধ্বংসের ফলে অনেক মূল্যবান প্রাণী (যেমন—বাঘ, গণ্ডার, সিংহ) আজ বিলুপ্তির পথে। তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সংরক্ষণ জরুরি।
পরিবেশের সুরক্ষা: অরণ্য রক্ষা করলে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক থাকে এবং ভূমিক্ষয় রোধ হয়, যা পরোক্ষভাবে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করে।
সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা—
আইন প্রণয়ন: ভারত সরকার ১৯৭২ সালে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী হত্যা বা ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ।
সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা: বন্যপ্রাণীদের জন্য সরকার সারা দেশজুড়ে জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য এবং সংরক্ষিত অরণ্য তৈরি করেছে।
সচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষকে বন্যপ্রাণীর গুরুত্ব বোঝাতে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহটি ‘বন্যপ্রাণ সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়।
📌 আরো দেখোঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here
