Class 9 Bengali 2nd Unit Test Question Paper with Answer Set-3 wbbse | নবম শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৩

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 9 (IX) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER

Class 9 Bengali 2nd Unit Test Question Paper with Answer Set-3 wbbse | নবম শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৩

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

Set-3

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
(পূর্ণমান ৪০ + অন্তর্বর্তী প্রস্তুতিকালীন মূল্যায়ন ১০)
মূল্যায়নের সময়কাল : আগস্ট

পাঠ্যসূচী/Syllabus—
গদ্য : (১) নব নব সৃষ্টি, (২) রাধারাণী, (৩)চিঠি।
পদ্য : (১)আকাশে সাতটি তারা, (২) আবহমান।
ব্যাকরণ – বাংলা শব্দ-ভাণ্ডার, শব্দ ও পদ এবং বিশেষ্য-বিশেষণ-সর্বনাম বিস্তারিত আলোচনা।
নির্মিতি – ভাবার্থ ও সারাংশ।
সহায়ক পাঠ – এই বইয়ের ‘ব্যোমযাত্রীর
ডায়রি’,‘কর্ভাস’ এবং ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প
তিনটি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তিনটি
পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উপরোক্ত ক্রম অনুসারে একটি করে গল্প পড়াতে হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
নবম শ্রেণি   বিষয় : বাংলা
সময় : ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট               পূর্ণমান : ৪০

১. সঠিক উত্তর নির্বাচন করে বাক্যটি সম্পূর্ণ করঃ ১×৭=৭

১.১ আসিয়াছে শান্ত অনুগত—
(ক) নীল সন্ধ্যা (খ) গোধূলি
(গ) কালো সন্ধ্যা (ঘ) সোনালি সন্ধ্যা ।

১.২ মুজতবা আলীর মতে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্য সৃষ্টি হল—
(ক) গীতাঞ্জলি (খ) শাক্ত সাহিত্য
(গ) পদাবলি কীৰ্ত্তন (ঘ) অনুবাদ সাহিত্য।

১.৩ রাধারাণী গল্পাংশের উৎস হল—
(ক) সীতারাম (খ) আনন্দমঠ
(গ) রাধারাণী (ঘ) রজনী উপন্যাস।

১.৪ কোন পাখি মাটিতে বাসা বাঁধে ?
(ক) ম্যালি-কিউল (খ) ম্যালি-ফাউল
(গ) ম্যালি-আউল (ঘ) ম্যালি-ফিউল

১.৫ নীচের কোন্ শব্দটি তৎসম—
(ক) সূর্য (খ) চাঁদ (গ) আলমারি (ঘ) টেবিল

১.৬ প্র, প্ররা- এদুটি হল—
(ক) সংস্কৃত উপসর্গ (খ) বাংলা উপসর্গ
(গ) বিদেশী উপসর্গ (ঘ) কোনোটিই নয়

১.৭ কর্তব্য শব্দের প্রত্যয় হল—
(ক) ক + তব্য (খ) কর্তা + ব্য (গ) কৃ + তব্য
(ঘ) কোনোটিই নয়

২. পূর্ণবাক্যে উত্তর দাওঃ ১×৪=৪

২.১ ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধটির রচয়িতা কে ?

২.২ ‘আবহমান’ কবিতায় কোন গাছটি বুড়িয়ে ওঠে ?

২.৩ ‘তিনি আজন্ম নেত্রী’- তিনি কে ?

২.৪ আর্গাসের পুরো নাম কী ?

৩. যে কোন ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও (কমবেশি ৬০টি শব্দ) : ৩x২=৬

৩.১ ‘নোটখানি তাহারা ভাঙাইল না- তুলিয়া রাখিল’- কাদের কথা বলা হয়েছে ? এমন করার কারণ কী ছিল ?

৩.২ ‘এরই মাঝে বাংলার প্রাণ’- কার মাঝে বাংলার প্রাণ খুঁজে পান কবি ?

৩.৩ ‘আবহমান’ কথার অর্থ কী ? নামের সঙ্গে কবিতার বিষয়গত কোনো মিল আছে কী ?

৪. কমবেশি ১৫০টি শব্দে যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৫x২=১০

৪.১ ‘তুমি ঠিক সেইরূপে নারী যাকে আজ প্রয়োজন’– কোন নারীর কথা এখানে বলা হয়েছে ? তাঁকে আজ প্রয়োজন কেন ?

৪.২ ‘ধর্ম বদলালেই জাতির চরিত্র বদলায় না’- কোন্ রচনার অংশ ? উক্তিটির সত্যতা বিচার করো।

৪.৩ ‘তিনিই ধন্য’- তিনি কে ? তাঁর ধন্য হওয়ার স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।

৫. কমবেশি ১৫০ শব্দে ১টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৫×১=৫

৫.১ কর্ভাসকে কী জন্য ও কীভাবে আর্গাস চুরি করেছিল ?

৫.২ ‘আমার অরনিথিন যন্ত্র আজ তৈরি শেষ হল’- বক্তা কে ? যন্ত্রটির পরিচয় দাও। যন্ত্রটির ব্যবহার কীভাবে শুরু হল ?

৬. পূর্ণবাক্যে উত্তর দাওঃ ১×৪=৪

৬.১ উপসর্গ পদের কোথায় বসে ?

৬.২ তৎসম শব্দ কাকে বলে ?

৬.৩ অনুদিত শব্দ কাকে বলে ?

৬.৪ অনুসর্গ কাকে বলে ?

৭. সংকেত সূত্র অনুযায়ী গল্প লেখো : ৪

রাজা সভাকবি নির্বাচন করবেন – কবিদের বন্দি করলেন – জানালেন মুক্তির শর্ত একটাই – কবিতা লেখা ছাড়তে হবে – তিনজন লুকিয়ে কবিতা লিখলেন – কবিতা না লেখার জন্য অন্যদের অর্থ দিলেন – একজন কবিতা, লেখার দায়ে ধরা পড়লেন – তিনি সম্পদ চায় না – কবিতা লিখতে চান – তিনিই হলেন সভাকবি।

—সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর—

১. সঠিক উত্তর নির্বাচন করে বাক্যটি সম্পূর্ণ করঃ ১×৭=৭
১.১ উত্তরঃ (ক) নীল সন্ধ্যা
১.২ উত্তরঃ (গ) পদাবলি কীৰ্ত্তন
১.৩ উত্তরঃ (গ) রাধারাণী
১.৪ উত্তরঃ (খ) ম্যালি-ফাউল
১.৫ উত্তরঃ (ক) সূর্য
১.৬ উত্তরঃ (ক) সংস্কৃত উপসর্গ
১.৭ উত্তরঃ (গ) কৃ + তব্য

২. পূর্ণবাক্যে উত্তর দাওঃ ১×৪=৪

২.১ ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধটির রচয়িতা কে ?

উত্তরঃ ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধটির রচয়িতা হলেন বেগম রোকেয়া।

২.২ ‘আবহমান’ কবিতায় কোন গাছটি বুড়িয়ে ওঠে ?

উত্তরঃ ‘আবহমান’ কবিতায় নটে গাছটি বুড়িয়ে ওঠে।

২.৩ ‘তিনি আজন্ম নেত্রী’- তিনি কে ?

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ প্রবন্ধ অনুযায়ী এখানে ‘তিনি’ বলতে মিস মার্গারেট নোবেলকে (ভগিনী নিবেদিতা) বোঝানো হয়েছে।

২.৪ আর্গাসের পুরো নাম কী ?

উত্তরঃ ‘কর্ভাস’ গল্প অনুযায়ী জাদুকর আর্গাসের পুরো নাম হলো ডোমিঙ্গো বার্টলোমিউ আর্গাস।

৩. যে কোন ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও : (কমবেশি ৬০টি শব্দ) ৩×২=৬

৩.১ ‘নোটখানি তাহারা ভাঙাইল না- তুলিয়া রাখিল’- কাদের কথা বলা হয়েছে ? এমন করার কারণ কী ছিল ? (১+২)

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে এখানে বালিকা রাধারাণী এবং তার দুঃখী বিধবা মায়ের কথা বলা হয়েছে।

কারণ: অচেনা দাতা রুক্মিণীকুমার রায় রাধারাণীদের চরম দারিদ্র্যের দিনে সাহায্য করতে একটি নোট কুটিরের মেঝেতে ফেলে যান। নোটটিতে রাধারাণী ও তার মায়ের নাম লেখা ছিল। নোটটি খরচ করলে হয়তো তাঁদের অভাব মিটে যেত, কিন্তু তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে ওই ব্যক্তি তাঁদের প্রতি দয়া করে অর্থটি দান করেছেন। রুক্মিণীকুমারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধাবোধ থেকেই তাঁরা টাকাটি খরচ না করে আজীবন স্মারক হিসেবে তুলে রেখেছিলেন।

৩.২ ‘এরই মাঝে বাংলার প্রাণ’- কার মাঝে বাংলার প্রাণ খুঁজে পান কবি ? (৩)

উত্তরঃ জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি পল্লীপ্রকৃতির নানা চিরন্তন উপাদানের মাঝে বাংলার শাশ্বত প্রাণ খুঁজে পান।

আকাশে সাতটি তারা ফুটলে বাংলার বুকে যে শান্ত অনুগত নীল সন্ধ্যা নেমে আসে, তার রূপের মধ্যে কবি বাংলার প্রাণকে অনুভব করেন। এ ছাড়া নরম ধানের গন্ধ, কলমির ঘ্রাণ, পুকুরের জল, হাঁসের পালক, শর ও চাঁদার মৃদু গন্ধ এবং কিশোরীর হাতের স্পর্শে মথিত হওয়া কিশোরের পায়ের চালতা-ঘাসের গন্ধের মাঝেই কবি বাংলার অকৃত্রিম স্পন্দন ও অবিনাশী প্রাণকে খুঁজে পান।

৩.৩ ‘আবহমান’ কথার অর্থ কী ? নামের সঙ্গে কবিতার বিষয়গত কোনো মিল আছে কী ? (১+২)

উত্তরঃ ‘আবহমান’ শব্দের অভিধানগত অর্থ হলো— যা চিরকাল ধরে চলে আসছে বা যা প্রাচীনকাল থেকে অনবরত ঘটে চলেছে।

মিল: কবিতার নামকরণের সাথে এর বিষয়বস্তুর গভীর মিল রয়েছে। কবি এখানে দেখিয়েছেন যে, জীবিকার তাগিদে বা সময়ের নিয়মে মানুষ শহরবাসী হলেও, নিজের শিকড় বা গ্রামের মাটির টান সে কখনো ভুলতে পারে না। যুগের পর যুগ ধরে মানুষের গ্রামে ফিরে আসার এই আকাঙ্ক্ষা, চেনা উঠোন, লাউমাচা এবং পল্লীপ্রকৃতির চিরন্তন রূপ একই রকম থেকে যায়। এই অন্তহীন ও চিরকালীন প্রবাহকে ফুটিয়ে তুলেছে বলেই কবিতাটির নামকরণ সম্পূর্ণ সার্থক।

৪. কমবেশি ১৫০টি শব্দে যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৫×২=১০

৪.১ ‘তুমি ঠিক সেইরূপে নারী যাকে আজ প্রয়োজন’– কোন নারীর কথা এখানে বলা হয়েছে ? তাঁকে আজ প্রয়োজন কেন ? (১+৪)

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ প্রবন্ধ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশটিতে আইরিশ মহিয়সী নারী মিস মার্গারেট নোবেলের (ভগিনী নিবেদিতা) কথা বলা হয়েছে।

তাঁকে প্রয়োজন হওয়ার কারণ: স্বামীজি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে ভারতের নারী সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও নারী শিক্ষার প্রসারের জন্য একজন উপযুক্ত সিংহী বা তেজস্বিনী নারীর অত্যন্ত প্রয়োজন। মিস নোবেলের শিক্ষা, পবিত্রতা, কর্মকুশলতা এবং সর্বোপরি তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তা তাঁকে এই মহান কাজের জন্য সবচেয়ে যোগ্য করে তুলেছিল।

এদেশের নারী সমাজ তখন কুসংস্কার, অশিক্ষা ও পরাধীনতার অন্ধকারে ডুবে ছিল। একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে এই রক্ষণশীল সমাজকে বদলানো সম্ভব ছিল না। কিন্তু মিস নোবেল ছিলেন একজন কেতাবি শিক্ষায় দীক্ষিত ও মুক্তমনা বিদেশী নারী, যাঁর মধ্যে জাতপাত বা এদেশীয় গোঁড়ামির প্রভাব ছিল না। তিনি ভারতের দুঃখী ও অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে মাটির কাছাকাছি গিয়ে কাজ করতে পারতেন। স্বামীজি মনে করেছিলেন, ভারতের নারী জাতিকে জাগিয়ে তুলতে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে মিস নোবেলের মতো নিঃস্বার্থ ও দৃঢ়চেতা নেত্রীর আগমন আজ একপ্রকার অনিবার্য।

৪.২ ‘ধর্ম বদলালেই জাতির চরিত্র বদলায় না’- কোন্ রচনার অংশ ? উক্তিটির সত্যতা বিচার করো। (১+৪)

উত্তরঃ উদ্ধৃত উক্তিটি প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘নব নব সৃষ্টি’ নামক প্রবন্ধের অংশ।

সত্যতা বিচার: লেখক উক্তিটির মাধ্যমে মানবচরিত্রের এক শাশ্বত ও গভীর সামাজিক সত্যকে তুলে ধরেছেন। বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান বা ধর্মের পরিবর্তন ঘটলেও কোনো জাতির মজ্জাগত সংস্কার, ভাষা, সংস্কৃতি ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রাতারাতি বদলে যায় না।

বাঙালি জাতির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে এই সত্যটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্যন্ত ধর্মীয় কারণে বাঙালি সমাজ বহুবার বিভক্ত হয়েছে। হিন্দুধর্ম থেকে বহু মানুষ ইসলাম বা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। কিন্তু ধর্ম পরিবর্তন করলেও তাঁদের ভেতরের ‘বাঙালি’ সত্তা বা মানসিকতা হারিয়ে যায়নি। উদাহরণস্বরূপ, বাঙালি মুসলমানরা যখন কোনো উৎকৃষ্ট সাহিত্য সৃষ্টি করতে চেয়েছেন, তখন তাঁরা তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পথেই হেঁটেছেন। তাঁরা ধর্ম পরিবর্তন করলেও হিন্দু কবিদের মতো একই আবেগ ও মাধুর্য দিয়ে ‘পদাবলি কীর্তন’-এর মতো অনুপম সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ, ধর্মের পোশাক বদলালেও রক্তে মিশে থাকা ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র অপরিবর্তিতই থেকে যায়। তাই লেখকের এই উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য।

৪.৩ ‘তিনিই ধন্য’- তিনি কে ? তাঁর ধন্য হওয়ার স্বরূপ ব্যাখ্যা করো। (১+৪)

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে এখানে ‘তিনি’ বলতে ছদ্মনামধারী দাতা রুক্মিণীকুমার রায়কে বোঝানো হয়েছে।

ধন্য হওয়ার স্বরূপ: রথের মেলার সেই অন্ধকার ও দুর্যোগপূর্ণ রাতে এগারো বছরের পিতৃহীন দরিদ্র বালিকা রাধারাণী যখন তার অসুস্থ মায়ের পথ্যের জোগাড় করতে না পেরে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিল, তখন রুক্মিণীকুমার রায় দেবদূতের মতো তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। তিনি কেবল রাধারাণীর বুনো ফুলের মালাটি অতিরিক্ত মূল্যে কিনে নেননি, বরং বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে তাঁর অন্ধকার জীবনে আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন।

পরবর্তীকালে তিনি অত্যন্ত গোপনে রাধারাণীদের কুটিরের মেঝেতে একটি বড় কারেন্সি নোট ফেলে যান, যাতে তাঁরা অভাবমুক্ত হতে পারেন। এই দানের পেছনে তাঁর কোনো অহংকার বা নিজের নাম জাহির করার মানসিকতা ছিল না। এমনকি পাছে কেউ সেই টাকা চুরির অপবাদ দেয়, তাই নোটে নিজের ও রাধারাণীর নাম লিখে রেখে যান। রাধারাণীর মা তাঁর এই পরম দয়া ও নিঃস্বার্থ পরোপকারী রূপটি দেখেই তাঁকে ‘ধন্য’ বলে অভিহিত করেছিলেন। নিজের পরিচয় গোপন রেখে একজন আর্তের জীবন রক্ষা করার এই যে মহান আত্মত্যাগ, এখানেই তাঁর ধন্য হওয়ার আসল স্বরূপ প্রকাশিত হয়।

৫. কমবেশি ১৫০ শব্দে ১টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৫×১=৫

৫.১ কর্ভাসকে কী জন্য ও কীভাবে আর্গাস চুরি করেছিল ? (২+৩)

উত্তরঃ

চুরির কারণ: সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ গল্পে চিলির জাদুকর আর্গাস প্রোফেসর শঙ্কুর অলৌকিক বুদ্ধিসম্পন্ন দাঁড়কাক ‘কর্ভাস’-কে নিজের চোখে দেখেছিলেন। একজন পেশাদার জাদুকর হিসেবে তিনি বুঝতে পারেন যে, এই অতিমানবিক ক্ষমতাসম্পন্ন পাখিটিকে যদি তিনি তাঁর ম্যাজিক শো-তে ব্যবহার করতে পারেন, তবে তিনি বিশ্বজুড়ে অসামান্য খ্যাতি ও প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এই তীব্র লোভের বশবর্তী হয়েই শঙ্কুর অসম্মতি সত্ত্বেও তিনি কর্ভাসকে চুরির সিদ্ধান্ত নেন।

চুরির বিবরণ: আর্গাস চুরির কাজটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে সম্পন্ন করেছিলেন। গভীর রাতে, যখন হোটেলের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন তিনি প্রোফেসর শঙ্কুর ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে পাহারায় থাকা বিশ্বস্ত চাকর প্রহ্লাদকে আর্গাস কোনো শক্তিশালী রাসায়নিক (যেমন ক্লোরোফর্ম বা কোনো সম্মোহন বিদ্যা) প্রয়োগ করে সম্পূর্ণরূপে অচেতন বা অজ্ঞান করে দেন। এরপর ল্যাবরেটরির টেবিল থেকে খাঁচাসুদ্ধ কর্ভাসকে তুলে নিয়ে তিনি চোরের মতো চুপিচুপি হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। বাইরে তাঁর নিজের দামি মার্সিডিজ গাড়িটি প্রস্তুত রাখা ছিল। আর্গাস দ্রুত গাড়িতে উঠে স্টার্ট দেন এবং রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সান্তিয়াগো শহর ছেড়ে চিলির জাতীয় সড়ক ধরে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যান।

৫.২ ‘আমার অরনিথিন যন্ত্র আজ তৈরি শেষ হল’- বক্তা কে ? যন্ত্রটির পরিচয় দাও। যন্ত্রটির ব্যবহার কীভাবে শুরু হল ? (১+২+২)

উত্তরঃ সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞান গল্পে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু।

যন্ত্রটির পরিচয়: প্রোফেসর শঙ্কু আবিষ্কৃত ‘অরনিথিন’ (Ornithon) হলো পাখিদের বুদ্ধিবৃত্তি কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর একটি অভিনব বৈদ্যুতিক যন্ত্র। যন্ত্রটি দেখতে মূলত একটি মাঝারি মাপের পাখির খাঁচার মতো। এর বাইরের দিকে তামা ও প্লাস্টিকের দুটি খাঁজকাটা গোল চাকতি লাগানো থাকে। খাঁচার ভেতরের অংশটি একটি সূক্ষ্ম তারের জালের সাহায্যে একটি বিশেষ হেডফোনের সাথে যুক্ত থাকে। এই হেডফোনের মাধ্যমে পাখিদের মস্তিষ্কে অত্যন্ত মৃদু ও নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ পাঠানো হয়, যা তাদের বুদ্ধিকে মানুষের স্তরে উন্নীত করে।

ব্যবহারের শুরু: যন্ত্রটি তৈরি হওয়ার পর শঙ্কু তাঁর ঘরের জানলায় রোজ দানা খেতে আসা একটি সাধারণ দাঁড়কাককে (যার নাম পরে রাখা হয় কর্ভাস) দিয়ে এর পরীক্ষা শুরু করেন। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে নয়টা— এই এক ঘণ্টা কাকটিকে অরনিথিন যন্ত্রের খাঁচায় বন্দি করে রাখা হতো। প্রথম কয়েকদিন পাখিটি কিছুটা নিস্তেজ ও ঝিমিয়ে থাকলেও, দিন দশেকের মাথায় তার মধ্যে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যায়। সে মানুষের ভাষা ও নির্দেশ খুব দ্রুত বুঝতে শুরু করে। এভাবেই অরনিথিন যন্ত্রের সফল ব্যবহার শুরু হয়েছিল।

৬. পূর্ণবাক্যে উত্তর দাওঃ ১×৪=৪

৬.১ উপসর্গ পদের কোথায় বসে ?

উত্তরঃ উপসর্গ পদের বা ধাতুর আগে (পূর্বে) বসে।

৬.২ তৎসম শব্দ কাকে বলে ?

উত্তরঃ যেসব সংস্কৃত শব্দ কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, তাদের তৎসম শব্দ বলে। (যেমন: সূর্য, চন্দ্র ইত্যাদি)।

৬.৩ অনুদিত শব্দ কাকে বলে ?

উত্তরঃ অন্য কোনো বিদেশী ভাষা থেকে অনুবাদের মাধ্যমে যেসব নতুন শব্দ বাংলা শব্দভাণ্ডারে এসেছে, তাদের অনুদিত শব্দ বলে। (যেমন: দূরদর্শন < Television)।

৬.৪ অনুসর্গ কাকে বলে ?

উত্তরঃ যেসব শব্দ বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে আলাদাভাবে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে এবং বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করে, তাদের অনুসর্গ বলে। (যেমন: দিয়ে, থেকে, চেয়ে ইত্যাদি)।

৭. সংকেত সূত্র অনুযায়ী গল্প লেখো : ৪

প্রকৃত কবির সন্ধান

এক দেশে এক সাহিত্যপ্রেমী রাজা ছিলেন। তিনি তাঁর রাজসভার জন্য একজন যোগ্য সভাকবি নির্বাচন করতে চাইলেন। উপযুক্ত কবি খুঁজে বের করার জন্য রাজা এক অভিনব পরীক্ষা নিলেন। তিনি রাজ্যের সমস্ত নামকরা কবিদের ডেকে এনে রাজপ্রাসাদের একটি ভবনে বন্দি করলেন। এরপর রাজা ঘোষণা করলেন, “তোমাদের মুক্তির শর্ত একটাই— আজ থেকে তোমাদের কবিতা লেখা সম্পূর্ণ ছেড়ে দিতে হবে।”

রাজার এই অদ্ভুত শর্ত শুনে বেশিরভাগ কবিই ভয় পেয়ে গেলেন। বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা কবিতা লেখা বন্ধ করে দিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে তিনজন কবি লোভ সামলাতে না পেরে রাজপ্রাহরিদের চোখ এড়িয়ে গোপনে লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা লিখতে শুরু করলেন। আবার কিছু কবি ছিলেন অলস, তাঁরা নিজেরা কবিতা না লিখলেও অন্য কবিদের গোপনে অর্থ (টাকা) দিতে লাগলেন যাতে তাঁরা তাঁদের হয়ে কবিতা লিখে দেন এবং রাজার কাছে ধরা না পড়েন।

কিন্তু এই ভিড়ের মধ্যে একজন কবি ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি কবিতা লেখার অপরাধে বা দায়ে রক্ষীদের হাতে ধরা পড়লেন। রাজা তাঁকে ডেকে কঠোর শাস্তির ভয় দেখিয়ে বললেন, “তুমি যদি কবিতা লেখা বন্ধ করো, তবে তোমাকে প্রচুর ধনসম্পদ ও মুক্তি দেওয়া হবে।” কিন্তু সেই প্রকৃত কবি মাথা উঁচু করে বললেন, “মহারাজ! আমি কোনো ধনসম্পদ বা বিলাসিতা চাই না, আমি শুধু স্বাধীনভাবে কবিতা লিখতে চাই। কবিতা ছাড়া আমার জীবন অর্থহীন।”

রাজা কবিদের এই মানসিকতা লক্ষ্য করছিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে বাকিরা কেবল ক্ষমতার লোভে বা ভয়ে কবিতা লিখছিলেন, তাঁদের মধ্যে কাব্যের প্রতি কোনো সত্য ভালোবাসা নেই। একমাত্র এই বন্দী কবিই হলেন আসল কবি, যাঁর কাছে কবিতার মূল্য সম্পদের চেয়েও বেশি। রাজা তখন সেই নির্ভীক কবিকেই পরম আদরে মুক্ত করে নিজের রাজসভার প্রধান সভাকবি হিসেবে নির্বাচিত করলেন।

নীতিশিক্ষা: লোভ বা ভয়ের কাছে যে মাথা নত করে না, সেই আসল শিল্পী এবং সেই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সম্মান লাভ করে।

📌আরও পড়ুনঃ

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply