নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নপত্র
দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট
Class 9 Bengali 2nd Unit Test Model Question Paper Set-6 wbbse | নবম শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৬
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
Set-6
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
(পূর্ণমান ৪০ + অন্তর্বর্তী প্রস্তুতিকালীন মূল্যায়ন ১০)
মূল্যায়নের সময়কাল : আগস্ট
পাঠ্যসূচী/Syllabus—
গদ্য : (১) নব নব সৃষ্টি, (২) রাধারাণী, (৩)চিঠি।
পদ্য : (১)আকাশে সাতটি তারা, (২) আবহমান।
ব্যাকরণ – বাংলা শব্দ-ভাণ্ডার, শব্দ ও পদ এবং বিশেষ্য-বিশেষণ-সর্বনাম বিস্তারিত আলোচনা।
নির্মিতি – ভাবার্থ ও সারাংশ।
সহায়ক পাঠ – এই বইয়ের ‘ব্যোমযাত্রীর
ডায়রি’,‘কর্ভাস’ এবং ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প
তিনটি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তিনটি
পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উপরোক্ত ক্রম অনুসারে একটি করে গল্প পড়াতে হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
নবম শ্রেণি বিষয় : বাংলা
সময় : ১ঘণ্টা ২০ মিনিট পূর্ণমান : ৪০
SARALPUR HIGH SCHOOL
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন-২০২৩
বিষয়: বাংলা
নবম শ্রেণি
সময়- ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পূর্ণমান- ৪০
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১×৭=৭
(ক) রাধারাণীর বয়স ছিল (অনধিক দশ / বারো / এগারোর বেশি / প্রায় এগারো)।
(খ) ‘ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা’ ব্যথিত গন্ধ আছে- (সন্ধ্যার আকাশে / গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে / কিশোরের পায়ে দলা মুথা ঘাসে আর বটের লাল ফলে / চাঁদা-সরপুঁটিদের মৃদু ঘ্রাণে)।
(গ) বাংলা ভাষায় যে সব বিদেশি শব্দ প্রবেশ করেছে তার মধ্যে ইংরেজি, আরবি ছাড়া প্রধান হল – (ফারসি / সিন্ধি / সংস্কৃত / হিন্দি)।
(ঘ) “……চিঠিটি বড়ো শুষ্ক এবং প্রাণহীন।” এই ‘শুভ’ প্রাণহীন চিঠিটির লেখক (মিস্টার স্টার্ডি / মিস মুলার / মিসেস সেভিয়ার / মিসেস ম্যাকলাউড)।
(ঙ) আগাসের মাইনাস কুড়ি পাওয়ারের চশমাটা ছিল (রুপোর / সোনার / ব্রোঞ্জের / ফাইবারের)।
(চ) ‘ম্যানেজার’ শব্দটির উৎস (সংস্কৃত / ফারসি / ওলন্দাজ / ইংরেজি)।
(ছ) ধার্মিক ব্যক্তি- ‘ধার্মিক’ পদটি (বিশেষ্যের বিশেষণ / বিশেষণের বিশেষণ / ক্রিয়ার বিশেষণ / পুরণবাচক বিশেষণ)।
২। কমবেশি ১৫টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১×৭=৭
(ক) “মালা কেহ কিনিল না।” মালা না কেনার কারণ কী ছিল ?
(খ) ‘আবহমান’ কবিতায় গ্রামবাংলার বাগান থেকে কোন্ ফুলের হাসি হারায় না ?
(গ) “ধর্ম বদলালেই জাতির চরিত্র বদলায় না।” কোন্ কোন্ ধর্মের কথা এখানে বলেছেন লেখক ?
(ঘ) “কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।” কোন্ কাজে বিঘ্ন আছে ?
(ঙ) “আমার ছাত্রটিকে আমি ওই নামেই ডাকছি।”- ছাত্রটি কে ?
(চ) আগন্তুক শব্দ বলতে কী বোঝো ? উদাহরণ দাও।
(ছ) নামধাতুজ ক্রিয়ার একটি বাক্যের উদাহরণ দাও।
৩। কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও : (যে কোনো দুটি) ৩×২=৬
(ক) “আমি বলি তোমাদের কুটুম্ব।”– কোন্ পরিপ্রেক্ষিতে বক্তা এই মন্তব্য করেছিলেন ?
(খ) “আসিয়াছে শান্ত অনুগত বাংলার নীল সন্ধ্যা”– কবি বাংলার সন্ধ্যাকে ‘শান্ত’, ‘অনুগত’, ‘নীল’ কেন বলেছেন ?
(গ) “সারাটা দিন আপন মনে ঘাসের গন্ধ মাখে”– কে, কেন ঘাসের গন্ধ মাখে ?
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :- ৫×৩=১৫
(ক) “কর্মে ঝাঁপ দেবার পূর্বে বিশেষভাবে চিন্তা করো…..”- কে, কোন্ কর্মে ঝাঁপ দিতে চান ? ঝাঁপ দেবার পূর্বে কেন ‘বিশেষভাবে’ চিন্তা করা দরকার ? ২+৩
(খ) “নেভে না তার যন্ত্রণা যে, দুঃখ হয় না বাসী”– এখানে যার যন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে তার যন্ত্রণা কেন নেভে না ? ‘দুঃখ হয় না বাসী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? ২+৩
অথবা,
“পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”- এখানে কোন্ কন্যার কথা বলা হয়েছে ? পৃথিবীর কোনো পথ তাকে দেখেনি কেন ? ১+৪
(গ) “আমার ‘অরনিথন’ যন্ত্র আজ তৈরি শেষ হল।”– যন্ত্রটির পরিচয় দাও। এই যন্ত্রটির ব্যবহার কীভাবে শুরু হল ? ২+৩
অথবা,
“খাঁচাসমেত কর্ভাস উধাও।”– কর্ভাস কীভাবে উধাও হয়ে গিয়েছিল ?
৫। ভাবার্থ লেখো : ৫
ভয় মানুষের অবধারিত শত্রু। সে তাহার আত্মশক্তির সুদৃঢ় ভিত্তিকে দুর্বল করিয়া সাধন করে তাহার চরম সর্বনাশ। ভয়হীনতাই শক্তি। আত্মশক্তিতে বিশ্বাসী হইয়া ভয়কে জয় করিতে হইবে। ‘শক্তি মরে ভীতির কবলে’। সেই শক্তিকে ভীতির কবল মুক্ত করিয়া ভয়কে পদদলিত করিয়া ঋজু মেরুদন্ড লইয়া এই পৃথিবীতে যথার্থ মানুষের মতো বাঁচিতে হইবে। নিশ্চেষ্ট ও পরনির্ভর হইয়া বাঁচিয়া থাকার চেয়ে মৃত্যুও শ্রেয়। সেই মৃত্যুতে আছে গৌরব। অথচ দুর্বল ভগবৎ- নির্ভর হইয়া বাঁচিয়া থাকা চরম অবমাননাকর। যাহারা ভীরু, ভয়ের গুহায় যাহারা সারাজীবন আত্মগোপন করিয়া থাকে, যাহারা মৃত্যুর পূর্বে বহুবার মরে, তাহারা মানবতার কলঙ্ক। মানুষ, তাহাদের প্রতি শ্রদ্ধাহীন, ইতিহাস তাহাদের সম্পর্কে কঠিনভাবে নীরব, ঘৃণা ও বিকৃত জীবনই তাহাদের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।
—সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর—
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১×৭=৭
১.১ রাধারাণীর বয়স ছিল—
উত্তরঃ প্রায় এগারো
(গল্পের শুরুতে পরিষ্কার বলা আছে: “রাধারাণী নামে এক একাদশবর্ষীয়া বালিকা…”)
১.২ ‘ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা’ ব্যথিত গন্ধ আছে-
উত্তরঃ বটের লাল ফলে
(জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার লাইন: “বটের ফলের ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা”)
১.৩ বাংলা ভাষায় যে সব বিদেশি শব্দ প্রবেশ করেছে তার মধ্যে ইংরেজি, আরবি ছাড়া প্রধান হল –
উত্তরঃ ফারসি
(প্রবন্ধ অনুযায়ী বাঙালির রক্তে বা ভাষায় বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি প্রধান)
১.৪ “……চিঠিটি বড়ো শুষ্ক এবং প্রাণহীন।” এই চিঠিটির লেখক—
উত্তরঃ মিস্টার স্টার্ডি
(স্বামীজি চিঠিতে লিখেছিলেন: “স্টার্ডির এক চিঠি কাল পেয়েছি। চিঠিটি বড়ো শুষ্ক এবং প্রাণহীন…”)।
১.৫ আর্গাসের মাইনাস কুড়ি পাওয়ারের চশমাটা ছিল—
উত্তরঃ সোনার
(গল্পের বর্ণনা অনুযায়ী আর্গাসের মাইনাস কুড়ি পাওয়ারের চশমাটির ফ্রেম ছিল সোনার)
১.৬ ‘ম্যানেজার’ শব্দটির উৎস—
উত্তরঃ ইংরেজি
(‘Manager’ একটি সরাসরি ইংরেজি শব্দ)
১.৭ ধার্মিক ব্যক্তি- ‘ধার্মিক’ পদটি—
উত্তরঃ বিশেষ্যের বিশেষণ
(এখানে ‘ব্যক্তি’ হলো বিশেষ্য পদ এবং তার গুণ বা অবস্থা বোঝাচ্ছে ‘ধার্মিক’ শব্দটি, তাই এটি বিশেষ্যের বিশেষণ)
২। কমবেশি ১৫টি শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ১×৭=৭
(ক) “মালা কেহ কিনিল না।” মালা না কেনার কারণ কী ছিল ?
উত্তরঃ প্রবল বৃষ্টির কারণে রথের মেলা তাড়াতাড়ি ভেঙে যাওয়ায় এবং লোকশূন্য হয়ে পড়ায় কেউ রাধারাণীর মালা কেনেনি।
(খ) ‘আবহমান’ কবিতায় গ্রামবাংলার বাগান থেকে কোন্ ফুলের হাসি হারায় না ?
উত্তরঃ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতায় গ্রামবাংলার বাগান থেকে কুন্দ ফুলের হাসি কখনো হারায় না।
(গ) “ধর্ম বদলালেই জাতির চরিত্র বদলায় না।” কোন্ কোন্ ধর্মের কথা এখানে বলেছেন লেখক ?
উত্তরঃ ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মূলত হিন্দুধর্ম এবং ইসলাম ধর্মের কথা উল্লেখ করেছেন।
(ঘ) “কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।” কোন্ কাজে বিঘ্ন আছে ?
উত্তরঃ মিস মার্গারেট নোবেলের পক্ষে ভারতে এসে এদেশের নারী সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও সেবাকাজে নিযুক্ত হওয়ার মধ্যে বহু বিঘ্ন আছে।
(ঙ) “আমার ছাত্রটিকে আমি ওই নামেই ডাকছি।”- ছাত্রটি কে ?
উত্তরঃ ‘কর্ভাস’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কুর ছাত্রটি হলো তাঁর আবিষ্কৃত অরনিথন যন্ত্রে শিক্ষা নেওয়া বুদ্ধিমান দাঁড়কাক ‘কর্ভাস’।
(চ) আগন্তুক শব্দ বলতে কী বোঝো ? উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ সংস্কৃত ছাড়া অন্য যেকোনো দেশি বা বিদেশি ভাষা থেকে যেসব শব্দ বাংলা শব্দভাণ্ডারে এসেছে, তাদের আগন্তুক শব্দ বলে। যেমন: চেয়ার (ইংরেজি), আদালত (আরবি)।
(ছ) নামধাতুজ ক্রিয়ার একটি বাক্যের উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দের শেষে ‘আ’ প্রত্যয় যোগ করে যে ধাতু তৈরি হয়, তা দিয়ে গঠিত ক্রিয়াই হলো নামধাতুজ ক্রিয়া।
উদাহরণ: শিক্ষক মহাশয় পড়াটি আমাদের সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলেন।
৩। কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও : ৩×২=৬
(ক) “আমি বলি তোমাদের কুটুম্ব।”– কোন্ পরিপ্রেক্ষিতে বক্তা এই মন্তব্য করেছিলেন ?
উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাধারাণী’ গল্পে ছদ্মনামধারী দাতা রুক্মিণীকুমার রায় এই উক্তিটি করেছেন। রথের মেলার দুর্যোগে রাধারাণীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে তিনি তাদের চরম অভাবের কথা জানতে পারেন। রাধারাণীর মাকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে তিনি বাজার থেকে কাপড় কিনে দিতে চান। রাধারাণীর মা অপরিচিত যুবকের কাছ থেকে দান নিতে ইতস্তত করে পরিচয় জানতে চাইলে, আত্মীয়তা পাতানোর ছলে যুবকটি পরিহাস করে এই মন্তব্যটি করেছিলেন।
(খ) “আসিয়াছে শান্ত অনুগত বাংলার নীল সন্ধ্যা”– কবি বাংলার সন্ধ্যাকে ‘শান্ত’, ‘অনুগত’, ‘নীল’ কেন বলেছেন ?
উত্তরঃ জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় পল্লিপ্রকৃতির সন্ধ্যার রূপ প্রকাশ পেয়েছে। কোনো কোলাহল ছাড়া ধীর গতিতে নেমে আসে বলে সন্ধ্যা ‘শান্ত’ এবং প্রতিদিন প্রকৃতির নিয়মে নিঃশব্দে ধরণীতে ফিরে আসে বলে তা ‘অনুগত’। গোধূলির আলো নিভে যাওয়ার পর বাংলার আকাশে, গাছপালায় এবং হিজল-বটের পাতায় যে মায়াবী অন্ধকার বিছিয়ে যায়, তার আভা কালচে নীল দেখায় বলে একে কবি ‘নীল সন্ধ্যা’ বলেছেন।
(গ) “সারাটা দিন আপন মনে ঘাসের গন্ধ মাখে”– কে, কেন ঘাসের গন্ধ মাখে ?
উত্তরঃ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতা অনুযায়ী, ঘরের কোণের ছোট্ট উঠোনে থাকা লাউমাচাটি সারা দিন আপন মনে ঘাসের গন্ধ মাখে।
কারণ: গ্রামবাংলার চিরন্তন প্রকৃতি ও মাটির সোঁদা গন্ধের কোনো বিনাশ নেই। মানুষ জীবিকার টানে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেলেও তার মন চিরকাল শৈশবের চেনা পরিবেশকে আঁকড়ে ধরে থাকে। গ্রামীণ প্রকৃতির এই অবিচ্ছেদ্য রূপ এবং মানুষের নাড়ির টানকে ফুটিয়ে তুলতেই লাউমাচাটি প্রতীকীভাবে সারা দিন ঘাসের গন্ধ মাখে।
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ৫×৩=১৫
(ক) “কর্মে ঝাঁপ দেবার পূর্বে বিশেষভাবে চিন্তা করো…..”- কে, কোন্ কর্মে ঝাঁপ দিতে চান ? ঝাঁপ দেবার পূর্বে কেন ‘বিশেষভাবে’ চিন্তা করা দরকার ? (২+৩)
উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ প্রবন্ধ অনুযায়ী, তাঁর স্নেহভাজন আইরিশ শিষ্যা মিস মার্গারেট নোবেল (ভগিনী নিবেদিতা) ভারতের নারী সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও নারী শিক্ষার প্রসারের মতো মহৎ সেবাকর্মে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে বা ঝাঁপ দিতে চান।
চিন্তা করার কারণ: স্বামীজি মনে করতেন ভারতের সমাজব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং ইউরোপীয়দের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। মিস নোবেল একজন বিদেশী শ্বেতাঙ্গিনী নারী হওয়ায় ভারতে কাজ করতে এলে তাঁকে বেশ কিছু গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে, যেমন—
প্রতিকূল আবহাওয়া: এদেশের তীব্র গরম এবং আর্দ্র জলবায়ু একজন ইউরোপীয়র পক্ষে সহ্য করা অত্যন্ত কঠিন।
সামাজিক কুসংস্কার: এখানকার মানুষের অশিক্ষা, অন্ধবিশ্বাস এবং জাতিভেদের কারণে তিনি পদে পদে বাধার সম্মুখীন হবেন। ভারতীয়রা তাঁকে ম্লেচ্ছ ভেবে এড়িয়ে চলতে পারে, আবার শ্বেতাঙ্গ সমাজও তাঁর এই ভারতীয় প্রীতিকে ভালো চোখে দেখবে না।
জীবনযাত্রার মান: এখানকার মানুষের চরম দারিদ্র্য এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া খুবই কষ্টকর।
এই সমস্ত সামাজিক প্রতিকূলতা ও একাকীত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েই স্বামীজি মিস নোবেলকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করতে বলেছিলেন।
(খ) “নেভে না তার যন্ত্রণা যে, দুঃখ হয় না বাসী”– এখানে যার যন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে তার যন্ত্রণা কেন নেভে না ? ‘দুঃখ হয় না বাসী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? (২+৩)
উত্তরঃ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতা অনুযায়ী, জীবিকার তাগিদে পল্লিপ্রকৃতির শান্ত পরিবেশ ছেড়ে যান্ত্রিক শহরে চলে যাওয়া স্মৃতিকাতর প্রবাসী মানুষদের অন্তহীন মানসিক যন্ত্রণার কথা এখানে বলা হয়েছে।
যন্ত্রণা না নেভার কারণ: মানুষ বাধ্য হয়ে গ্রাম ছাড়লেও শৈশবের সেই অতি চেনা উঠোন, লাউমাচা এবং কুন্দ ফুলের গন্ধের প্রতি তার ভেতরের নাড়ির টান কোনোদিন শেষ হয় না। শহরের কৃত্রিম কোলাহলের মাঝেও তার মন অবিরত গ্রামীণ জীবনের শান্ত স্মৃতির দিকে ছুটে যায়। অতীত স্মৃতির এই অবিরাম তাড়না ও নাড়ির টানের কারণেই তার ভেতরের সুপ্ত যন্ত্রণা কখনোই নেভে না।
‘দুঃখ হয় না বাসী’র তাৎপর্য: সাধারণত সময়ের সাথে সাথে মানুষের দুঃখের তীব্রতা কমে আসে, অর্থাৎ তা ‘বাসী’ বা পুরোনো হয়ে যায়। কিন্তু জন্মভূমির মায়া ছেড়ে আসা মানুষদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না। যত দিন যায়, গ্রামের মাটির প্রতি তাদের ভালোবাসা ও ফিরে যাওয়ার আকুলতা ততই সতেজ থাকে। গ্রামীণ রূপ-রস-গন্ধের স্মৃতি তাদের মনে এতটাই অমলিন যে, প্রিয় মাতৃভূমিকে হারানোর সেই গভীর বেদনা প্রতিদিন নতুন হয়ে ধরা দেয়। একেই কবি দুঃখ বাসী না হওয়া বলেছেন।
অথবা, “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”- এখানে কোন্ কন্যার কথা বলা হয়েছে ? পৃথিবীর কোনো পথ তাকে দেখেনি কেন ? (১+৪)
উত্তরঃ জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় ‘এ কন্যা’ বলতে কবি রূপকের মাধ্যমে বাংলার পল্লিপ্রকৃতির বুকে নেমে আসা রূপসী নীল সন্ধ্যাকে বুঝিয়েছেন।
পৃথিবীর কোনো পথ না দেখার কারণ: কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার রূপের এক পরম উপাসক। তাঁর মতে, আকাশে সাতটি তারা ফুটলে বাংলার বুকে যে শান্ত, অনুগত সন্ধ্যা নেমে আসে, তার সৌন্দর্য পৃথিবীর আর কোথাও মেলা অসম্ভব। কবি কল্পনা করেছেন, এই রূপসী সন্ধ্যার কালো চুলের রাশি যেন ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার সমস্ত আকাশে। সেই চুলের নরম ছোঁয়া ও মায়াবী চুম্বন অবিরত ঝরে পড়ে হিজল, বট আর কাঁঠাল গাছের পাতায়। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সন্ধ্যার এমন স্নিগ্ধ, রহস্যময় এবং রূপকথাধর্মী রূপ দেখতে পাওয়া যায় না। বাংলার এই অনন্য শান্ত রূপের গভীর মায়া, চুলে ছড়ানো মৃদু সোঁদা গন্ধ এবং ধানের ঘ্রাণের অপরূপ মেলবন্ধন পৃথিবীর আর কোনো পথ বা যান্ত্রিক দেশ কোনোদিন দেখেনি বলেই কবি এমন মন্তব্য করেছেন।
(গ) “আমার ‘অরনিথন’ যন্ত্র আজ তৈরি শেষ হল।”– যন্ত্রটির পরিচয় দাও। এই যন্ত্রটির ব্যবহার কীভাবে শুরু হল ? (২+৩)
উত্তরঃ সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কু আবিষ্কৃত ‘অরনিথন’ হলো পাখিদের বুদ্ধিবৃত্তি কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে মানুষের স্তরে উন্নীত করার একটি অভিনব কল্পবিজ্ঞান বৈদ্যুতিক যন্ত্র।
যন্ত্রটির পরিচয়: যন্ত্রটির বাহ্যিক গঠন দেখতে মূলত একটি মাঝারি মাপের সাধারণ পাখির খাঁচার মতো। এর বাইরের দিকে তামা ও প্লাস্টিকের তৈরি দুটি খাঁজকাটা গোল চাকতি লাগানো থাকে। খাঁচার ভেতরের অংশটি একটি সূক্ষ্ম তারের জালের সাহায্যে একটি বিশেষ হেডফোনের সাথে যুক্ত থাকে, যার মাধ্যমে পাখির মস্তিষ্কে অত্যন্ত মৃদু ও নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ পাঠানো হয়।
ব্যবহার শুরুর বিবরণ: যন্ত্রটি তৈরি হওয়ার পর শঙ্কু তাঁর ল্যাবরেটরির জানলায় রোজ দানা খেতে আসা একটি সাধারণ দাঁড়কাককে (যার নাম তিনি পরে ‘কর্ভাস’ রেখেছিলেন) দিয়ে এর ব্যবহার শুরু করেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ৯টা— এই এক ঘণ্টা কাকটিকে যন্ত্রটির খাঁচায় ঢুকিয়ে রাখা হতো। প্রথম কয়েকদিন কাকটি কিছুটা নিস্তেজ ও ঝিমিয়ে থাকলেও, ধীরে ধীরে তার সুপ্ত বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে মানুষের নির্দেশ বুঝতে শুরু করে এবং পেনসিল মুখে নিয়ে খাতায় ইংরেজি হরফ লিখতে শেখে। এভাবেই অরনিথন যন্ত্রটির সফল ব্যবহার শুরু হয়েছিল।
অথবা, “খাঁচাসমেত কর্ভাস উধাও।”– কর্ভাস কীভাবে উধাও হয়ে গিয়েছিল ? (৫)
উত্তরঃ সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ গল্পে চিলির সান্তিয়াগো শহরের প্লাজা হোটেলে বিজ্ঞানী প্রোফেসর শঙ্কুর ঘর থেকে খাঁচাসমেত বুদ্ধিমান দাঁড়কাক ‘কর্ভাস’ উধাও বা চুরি হয়ে গিয়েছিল।
উধাও হওয়ার বিবরণ: সান্তিয়াগোর পক্ষীবিজ্ঞান সম্মেলনে কর্ভাসের অলৌকিক বুদ্ধিমত্তা নিজের চোখে দেখে জাদুকর আর্গাস অত্যন্ত লোভী হয়ে ওঠেন। তিনি নিজের ম্যাজিক শো-তে ব্যবহার করার জন্য শঙ্কুর কাছে পাখিটিকে কিনতে চান, কিন্তু শঙ্কু সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের অসৎ উদ্দেশ্য পূরণ করতে আর্গাস এক গভীর রাতে চুরির পথ বেছে নেন। হোটেলের সবাই যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন আর্গাস চুপিচুপি প্রোফেসর শঙ্কুর ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে কর্ভাসকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা শঙ্কুর বিশ্বস্ত চাকর প্রহ্লাদকে আর্গাস কোনো শক্তিশালী রাসায়নিক (যেমন ক্লোরোফর্ম বা কোনো সম্মোহন বিদ্যা) প্রয়োগ করে সম্পূর্ণরূপে অচেতন বা অজ্ঞান করে দেন। এরপর ল্যাবরেটরির টেবিল থেকে খাঁচাসুদ্ধ কর্ভাসকে তুলে নিয়ে তিনি হোটেল থেকে চোরের মতো চম্পট দেন। বাইরে তাঁর মার্সিডিজ গাড়ি প্রস্তুত রাখা ছিল, যাতে চেপে তিনি রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যান। এভাবেই খাঁচাসমেত কর্ভাস উধাও হয়ে গিয়েছিল।
৫। ভাবার্থ লেখো : ৫
উত্তরঃ
ভাবার্থ: ভয় মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু, যা মানুষের আত্মশক্তিকে দুর্বল করে চরম সর্বনাশ ডেকে আনে। ভয়হীনতাই হলো প্রকৃত শক্তি। ভাগ্য বা ঈশ্বরের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করে, ভীরুর মতো নিশ্চেষ্ট হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আত্মসম্মান ও বীরত্বের সাথে মৃত্যুবরণ করাও অনেক শ্রেয়। যারা সারাজীবন ভয়ের কাছে মাথা নত করে বেঁচে থাকে, তারা মানবতার কলঙ্ক এবং ইতিহাস তাদের মনে রাখে না। তাই ভয়কে জয় করে নিজের মেরুদণ্ড সোজা রেখে যথার্থ মানুষের মতো বাঁচাই জীবনের আসল সার্থকতা।
📌আরও পড়ুনঃ
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
