ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল ভারতের মাটি প্রশ্ন উত্তর দশম অধ্যায় | Class 6 geography Bharoter Mati Question Answer Ch-10 wbbse

ভারতের মাটি
দশম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল

ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল ভারতের মাটি প্রশ্ন উত্তর দশম অধ্যায়| Class 6 geography Bharoter Mati Question Answer Ch-10 wbbse

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

ভারতের মাটি
দশম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল

∆ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১

১. ভারতের কৃষিতে (লাল / কালো / পলি / ল্যাটেরাইট) মাটির গুরুত্ব সর্বাধিক।

উত্তরঃ পলি।

২. ভারতে নদী তীরবর্তী প্রাচীন পলি মাটিকে বলা হয় – (খাদার / ভাঙ্গার / তরাই / রাঢ়)।

উত্তরঃ ভাঙ্গার।

৩. (লাল মাটি / কালো মাটি / পলি মাটি / ল্যাটেরাইট) মাটির জলধারণ ক্ষমতা বেশি।

উত্তরঃ কালো মাটি।

৪. তুলা চাষ সবচেয়ে ভালো হয় (লাল / কালো / ল্যাটেরাইট / পার্বত্য) মাটিতে।

উত্তরঃ কালো।

৫. রূপান্তরিত শিলা বহু বছর ধরে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে (ল্যাটেরাইট / পলি / লাল / কালো) মাটি সৃষ্টি করে।

উত্তরঃ লাল।

৬. ভারতের সর্বাধিক রাজ্যে‌ দেখা যায় (লাল / কালো / ল্যাটেরাইট / পলি) মাটি।

উত্তরঃ লাল।

৭. লাল মাটিতে (সিসা / অ্যালুমিনিয়াম / তামা / লোহা)-এর পরিমাণ বেশি।

উত্তরঃ লোহা।

৮. ইটের মত গাঢ় লাল রং হয় (ল্যাটেরাইট / পলি / লাল / কালো) মাটি।

উত্তরঃ ল্যাটেরাইট।

৯. ল্যাটেরাইট মাটির প্রধান ফসল (চিনাবাদাম / ধান / পাট / গম)।

উত্তরঃ চিনাবাদাম।

১০. জল ধারণ ক্ষমতা কম এবং অনুর্বর (পার্বত্য অঞ্চলের মাটি / মরু অঞ্চলের মাটি / ল্যাটেরাইট মাটি / কালো মাটি)।

উত্তরঃ মরু অঞ্চলের মাটি।

১১. মরু অঞ্চলের মাটিতে (ধান / গম / কার্পাস / মিলেট) চাষ ভালো হয়।

উত্তরঃ মিলেট।

১২. (লাল মাটি / পলি মাটি / পার্বত্য অঞ্চলের মাটি / ল্যাটেরাইট মাটি)-তে বেশি পরিমাণে জৈব পদার্থ থাকে।

উত্তরঃ অঞ্চলের মাটি।

১৩. মশলা চাষ বেশি হয় (লাল / কালো / পার্বত্য / মরু) মাটিতে।

উত্তরঃ পার্বত্য।

∆ শূন্যস্থান পূরণ করো : ভারতের মাটি ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর দশম অধ্যায় | Bharoter Mati Question Answer Ch-10 Class 6 wbbse

১. যত বেশি সময় ধরে তৈরি হয়, মাটি তত _________ হয়।

উত্তরঃ পরিণত।

২. মাটি তৈরির সক্রিয় উপাদান জলবায়ু ও __________।

উত্তরঃ জৈব পদার্থ।

৩. উত্তর ভারতের নদীগঠিত সমভূমিতে _________ মাটি দেখা যায়।

উত্তরঃ পলি।

৪. কালো মাটির অপর নাম __________।

উত্তরঃ

৫. _________ মৃত্তিকা তুলো চাষের জন্য বিখ্যাত।

উত্তরঃ

৬. মরু অঞ্চলের মাটি __________ ও ছিদ্রযুক্ত।

উত্তরঃ মোটা দানা।

৭. মেঘালয় মালভূমির বেশিরভাগ অংশে _________ মাটি দেখা যায়।

উত্তরঃ ল্যাটেরাইট।

৮. _________ উপস্থিতির জন্য ল্যাটেরাইট মাটির রং ইটের মতো লাল।

উত্তরঃ লৌহ অক্সাইড।

৯. পাহাড়ি অঞ্চলে মাটি ক্ষয় রোধের জন্য ঢালু জমিতে ________ চাষ করা হয়।

উত্তরঃ ধাপ।

১০. প্রধানত আর্দ্র নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে __________ অঞ্চলের মাটি সৃষ্টি হয়।

উত্তরঃ পার্বত্য।

১১. অত্যধিক বাষ্পীভবনের কারণে মরু অঞ্চলের মাটিতে ________ -এর পরিমাণ বেশি।

উত্তরঃ লবণ।

১২. মেঘালয় রাজ্যের __________ তে প্রচুর বৃষ্টি হয় তবুও এখানে বিশেষ চাষ করা যায় না।

উত্তরঃ চেরাপুঞ্জি।

১৩. মাটির উপরের স্তর ক্ষয় হলে মাটি সাধারণত _________ হয়ে পড়ে।

উত্তরঃ অনুর্বর।

∆ দু এক কথায় উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১ ভারতের মাটি ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর দশম অধ্যায় | Bharoter Mati Question Answer Ch-10 Class 6 wbbse

১. উদ্ভিদ কোথা থেকে পুষ্টি পায় ?

উত্তরঃ উদ্ভিদ মাটি থেকে পুষ্টি পায়।

২. কাকে ‘মাটির বন্ধু’ বলা হয় ?

উত্তরঃ কেঁচোকে মাটির বন্ধু বলা হয়।

৩. ভারতে নদী তীরবর্তী নবীন পলি মাটিকে কী বলে ?

উত্তরঃ ভারতের নদীর তীরবর্তী নবীন পলিমাটিকে খাদার বলা হয়।

৪. নদীর প্লাবনভূমিতে কোন্ মাটি দেখা যায় ?

উত্তরঃ নদীর প্লাবনভূমিতে পলিমাটি দেখা যায়।

৫. কালো মাটি কোন্ আদিশিলা থেকে সৃষ্টি হয় ?

উত্তরঃ কালো মাটি শিলা থেকে সৃষ্টি হয়।

৬. ইটের মতো গাঢ় লালবর্ণের মাটির নাম কী ?

উত্তরঃ ইটের মতো গাঢ় লালবর্ণের মাটির নাম ল্যাটেরাইট।

৭. ছোটোনাগপুর মালভূমিতে কোন্ মাটি দেখা যায় ?

উত্তরঃ ছোটনাগপুর মালভূমিতে ল্যাটেরাইট মাটি দেখা যায়।

৮. কোন্ মাটিতে চা, কফির চাষ ভালো হয় ?

উত্তরঃ পার্বত্য অঞ্চলের মাটিতে চা কফির চাষ ভালো হয়।

৯. কোন মাটিতে প্রায় সব রকম ফসল চাষ হয় ?

উত্তরঃ পলি মাটিতে প্রায় সব রকম ফসলই চাষ করা হয়।

∆ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২

১. মাটি কী বা মাটি কাকে বলে ?

উত্তরঃ মাটি হল ভেঙে যাওয়া শিলার সূক্ষ্ম দানা, জীবিত বা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ, খনিজ পদার্থ, জল ও বাতাস মিলে ভূপৃষ্ঠের ওপরে গড়ে ওঠা যে পাতলা স্তর থেকে উদ্ভিদ পুষ্টি পায় তাকে মাটি বলে।

২. ল্যাটেরাইট মাটির রং লাল কেন ?

উত্তরঃ খুব বেশি উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে যেখানে পর্যায়ক্রমে শুষ্ক ও আর্দ্র ঋতু দেখা যায় সেখানে এই মাঠে সৃষ্টি হয়। লৌহ অক্সাইডের উপস্থিতির জন্য এই মাটির রং ইটের মতো গারো লাল হয়।

৩. মিলেট শস্য বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ জোয়ার, বাজরা ও রাগি এই তিন শস্যকে একত্রে মিলেট শস্য বলে। এগুলি চাষ করতে খুব বেশি জলের প্রয়োজন হয় না।

৪. ভারতের মাটিগুলির মধ্যে কোন্ মাটি সবচেয়ে বেশি উর্বর ? এই মাটিতে কী কী ফসল চাষ হয় ?

উত্তরঃ ভারতের মাটিগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি উর্বর মাটি হল পলি মাটি। ধান, পাট, গম, যব, লা, আখ প্রভৃতি ফসল পলি মাটিতে চাষ হয়।

৫. মরু মাটির জলধারণ ক্ষমতা কম কেন ?

উত্তরঃ মরুভূমির মাটিতে জলসেচ করলেও জল থাকে না। কারণ এই মাটি মোটা দানা ও ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় জলধারণ করতে পারে না। জল সহজেই মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে। জৈব পদার্থ প্রায় না থাকার জন্য মরু মাটির জলধারণ ক্ষমতা কম।

৬. মাটি ক্ষয় কাকে বলে ?

উত্তরঃ বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন জলপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতির দ্বারা এবং মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে মাটির ওপরের অংশ আলগা হয়ে অপসারিত হলে, তাকে মাটি ক্ষয় বলে।

৭. মাটি সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষয় খোয় হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে মাটির গুণাগুণ বজায় রাখাকে মাটি সংরক্ষণ বলে।

৮. গাছ কীভাবে মাটিকে সংরক্ষণ করে ?

উত্তরঃ মাটি সংরক্ষণে গাছের ভূমিকা অপরিসীম। গাছের শিকড় মাটিকে দৃঢ়ভাবে ধরে রেখে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। গাছ থাকলে বৃষ্টির ফোটা সরাসরি মাটিতে পড়ে না। ফলে মাটি ক্ষয় কম হয়।

৯. মৃত্তিকা সংরক্ষণ প্রয়োজন হয় কেন ?

উত্তরঃ জীবকূলের বাসভূমিরূপে মাটিকে সংরক্ষণ করা,ও মাটির উর্বরতা বজায় রাখা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা, পরিবেশের আর্দ্রতা বজায় রাখা, ভূমিধস রোধ করা প্রয়োজন।

∆ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৩

১. মাটি কীভাবে সৃষ্টি হয় ?

উত্তরঃ মাটি হল প্রকৃতির দান নানা প্রাকৃতিক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে মাঠে সৃষ্টি হয়। জলবায়ু, আদি শিলা, জৈব পদার্থ, ভূপ্রকৃতি ও সময়ের ওপর নির্ভর করে মাটি তৈরি হয়। মাটি তৈরিতে অনেক সময় লাগে। যত বেশি সময় ধরে তৈরি হয়, মাটি তত পরিণত হয়। ভেঙে যাওয়া শিলার সূক্ষ্ম দানা, জীবিত ও মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ, খনিজ পদার্থ, জল, বাতাস মাটি তৈরিতে সাহায্য করে।

২. মাটি আছে বলে আমরা বেঁচে আছি’– ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ স্থলভাগে থাকা মাটি হল প্রকৃতির সবচেয়ে বড়ো দান। এই মাটি আছে বলেই জীবকূল বেঁচে আছে।

আবাসস্থল : সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান এই মাটি। কৃষিকাজ, ঘরবাড়ি নির্মাণ ছাড়াও আমরা অনেক কিছু করতে পারি।

খাদ্য সংস্থান : গাছ একমাত্র মাটিতেই জন্মায়। ফসল ও ফল উৎপাদন করে। আমাদের খাবারের যোগান দেয়।

জীবনধারণ : মাটিতে যদি গাছপালা না জন্মাত তবে প্রাণী জগতের অস্তিত্ব থাকত না। অক্সিজেনের অভাবে প্রাণীরা মারা যেত, বেঁচে থাকতে পারত না।

৩. ভারতের পলি মাটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ অবস্থান : উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও অসমের একটা বড়ো অংশে পলিমাটি দেখা যায়।

বৈশিষ্ট্য : মূলত নদীবাহিত পলি থেকে এই মাটি সৃষ্টি হয়। নদীর প্লাবনভূমি, বদ্বীপ অঞ্চলে পলিমাটি দেখা যায়। ভারতে নদী তীরবর্তী উর্বর নবীন পলিমাটি ‘খাদার’ আর তার পশ্চাদবর্তী অনুর্বর প্রাচীন পলিমাটি ‘ভাঙ্গার’ নামে পরিচিত।

উৎপন্ন ফসল : পলিমাটি উর্বর হওয়ায় এই মাটিতে প্রায় সবরকম ফসলই চাষ করা যায়।

৪. ভারতের ল্যাটেরাইট মাটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ অবস্থান : ছোটোনাগপুর মালভূমি, পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতের কিছু অংশে এবং মেঘালয় মালভূমির বেশিরভাগ অংশে ল্যাটেরাইট মাটি দেখা যায়।

বৈশিষ্ট্য : খুব বেশি উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে যেখানে পর্যায়ক্রমে শুষ্ক ও আর্দ্র ঋতু দেখা যায় সেখানে এই মাটি সৃষ্টি হয়। লৌহ অক্সাইডের উপস্থিতির জন্য এই মাটির রং ইটের মতো গাঢ় লাল। এই মাটি অনুর্বর।।

উৎপন্ন ফসল : চিনেবাদাম, জোয়ার, বাজরা, রাগি এই মাটিতে চাষ হয়।

৫. ভারতের মরু অঞ্চলের মাটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তরঃ অবস্থান : ভারতের রাজস্থান রাজ্যের মরু অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়।

বৈশিষ্ট্য : খুব কম বৃষ্টিপাত ও অত্যধিক উষ্ণতা অঞ্চলে এই মাটি সৃষ্টি হয়। এই মাটি মোটা দানা ও ছিদ্রযুক্ত। জলধারণ ক্ষমতা খুব কম এবং অনুর্বর।

উৎপন্ন ফসল : প্রধানত এই মাটিতে মিলেট জাতীয় শস্য (জোয়ার, বাজরা, রাগি), গম, তুলো চাষ করা হয়।

৬. ভারতের পার্বত্য অঞ্চলের মাটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ অবস্থান : হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, পশ্চিমঘাট ও দাক্ষিণাত্যের নীলগিরি পার্বত্য অঞ্চলে এই মাটি দেখা যায়।

বৈশিষ্ট্য : প্রধানত আর্দ্র নাতিশীতোষ্ণ পার্বত্য জলবায়ুতে এই মাটি সৃষ্টি হয়। এই মাটিতে বেশি পরিমাণে জৈব পদার্থ থাকে।

উৎপন্ন ফসল : চা, কফি, বিভিন্ন ধরনের মশলা, ফল প্রভৃতি এই মাটিতে খুব ভালো চাষ হয়।

৭. মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হলেও কৃষিকাজ ভালো হয় না কেন ?

উত্তরঃ মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জির মৌসিনরামে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হলেও কৃষিকাজ ভালো হয় না। কারণ—

(i) প্রচণ্ড বৃষ্টিতে এই অঞ্চলের লাল রঙের ল্যাটেরাইট মাটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ধুয়ে যায়। মৃত্তিকা ক্ষয়ের ফলে কৃষিকাজ ভালো হয় না।

(ii) বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে মাটির ওপরের স্তর ধুয়ে গেলে মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে।

(iii) বেশি বৃষ্টি হলেও এখানকার ল্যাটেরাইট মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কম, তাই কৃষিকাজ ভালো হয় না।

৮. ভাঙ্গার ও খাদারের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখ।

উত্তরঃ ভাঙ্গার ও খাদারের মধ্যে তিনটি পার্থক্য—

(১) ভারতে প্রাচীন পলিমাটি ভাঙ্গার আর নবীন পলিমাটি খাদার নামে পরিচিত।

(২) ভাঙ্গার মাটির উর্বরতা কম অন্যদিকে খাদার অত্যন্ত উর্বর মাটি।

(৩) ভাঙ্গার মাটি নদী থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে দেখা যায় অন্যদিকে খাদার মাটি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে দেখা যায়।

৯. কালো মাটি ও মরু মাটির মধ্যে পার্থক্য লেখ।

উত্তরঃ কালো মাটি ও মরু মাটির মধ্যে পার্থক্য—

(১) কালো মাটি সাধারণত ব্যাসল্ট শিলা গঠিত অঞ্চলে এই মাটি সৃষ্টি হয় অন্যদিকে মরু মাটি খুব কম বৃষ্টিপাত ও অত্যধিক উষ্ণতা যুক্ত অঞ্চলে এই মাটির সৃষ্টি হয়।

(২) কালো মাটির জল ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি অন্যদিকে মরু মাটির জল ধারণ ক্ষমতা খুব কম।

(৩) কালো মাটি যথেষ্ট উর্বর অন্যদিকে মরু মাটি অনুর্বর।

(৪) কাল মাটিতে তুলো, আখ, চিাবাদাম চাষের জন্য আদর্শ অন্যদিকে মোড় মাটিতে মিলেট জাতীয় শস্য চাষ হয়।

১০. টীকা লেখ : লালমাটি।

উত্তরঃ অবস্থান : কেরালা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাংশ, মনিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যে লাল মাটি দেখা যায়।

বৈশিষ্ট্য : রূপান্তরিত শিলা বহু ধরে বছর চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে এই মাটি তৈরি হয়, এই মাটি খুব অনুর্বর, লোহার পরিমাণ বেশি থাকায়
এই মাটির রং লাল, এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা কম, এই মাটিতে কাদা ও বালির পরিমাণ সমান থাকে।

উৎপন্ন ফসল : জলসেচ ও সারের সাহায্যে এই মাটিতে জোয়ার, বাজরা, রাগি, বাদাম, তামাক, ছোলা ও অল্প পরিমাণে ধান চাষ করা হয়।

∆ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৫

১. ভারতের বিভিন্ন প্রকার মাটি গুলির নাম লেখ। যেকোনো দুই প্রকার মাটির বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ ভারতের মতো বিশাল দেশে নানা ধরনের মাটি দেখতে পাওয়া যায়, এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— (১) পলি মাটি (২) কালো মাটি (৩) লাল মাটি (৪) ল্যাটেরাইট মাটি, (৫) মরু অঞ্চলের মাটি, (৬) পার্বত্য অঞ্চলের মাটি।

দুই প্রকার মাটির বর্ণনা—

পলিমাটি—

অবস্থান : উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও অসমের একটা বড়ো অংশে পলিমাটি দেখা যায়।

বৈশিষ্ট্য : মূলত নদীবাহিত পলি থেকে এই মাটি সৃষ্টি হয়। নদীর প্লাবনভূমি, বদ্বীপ অঞ্চলে পলিমাটি দেখা যায়। ভারতে নদী তীরবর্তী উর্বর নবীন পলিমাটি ‘খাদার’ আর তার পশ্চাদবর্তী অনুর্বর প্রাচীন পলিমাটি ‘ভাঙ্গার’ নামে পরিচিত।

উৎপন্ন ফসল : পলিমাটি উর্বর হওয়ায় এই মাটিতে প্রায় সবরকম ফসলই চাষ করা যায়।

ল্যাটেরাইট মাটি—

অবস্থান : ছোটোনাগপুর মালভূমি, পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতের কিছু অংশে এবং মেঘালয় মালভূমির বেশিরভাগ অংশে ল্যাটেরাইট মাটি দেখা যায়।

বৈশিষ্ট্য : খুব বেশি উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে যেখানে পর্যায়ক্রমে শুষ্ক ও আর্দ্র ঋতু দেখা যায় সেখানে এই মাটি সৃষ্টি হয়। লৌহ অক্সাইডের উপস্থিতির জন্য এই মাটির রং ইটের মতো গাঢ় লাল। এই মাটি অনুর্বর।।

উৎপন্ন ফসল : চিনেবাদাম, জোয়ার, বাজরা, রাগি এই মাটিতে চাষ হয়।

২. মাটির ব্যবহার বা গুরুত্ব লেখ।

উত্তরঃ পৃথিবীতে মাটির গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন—

(১) জীবকুলের আবাসস্থল : পৃথিবীর প্রায় সমস্ত জীব সম্প্রদায়ের বাসভূমি হল মাটি।

(২) কৃষিকাজ : মাটি ছাড়া কৃষিকাজ অসম্ভব। বিভিন্ন মাটিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ ভালো হয়। যেমন– পলি মাটিতে ধান, পাট চাষ; কালো মাটিতে তুলো চাষ প্রভৃতি।

(৩) পরিবেশের আর্দ্রতা রক্ষা : মাটি বৃষ্টির জল ধারণ করে পরিবেশের আর্দ্রতা রক্ষা করে। মাটির তলা থেকে এই জল সংগ্রহ করে আমরা পান করি এবং নানা কাজে ব্যবহার করি।

(৪) প্রতিমা নির্মাণ : মানুষের বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি নির্মাণে মাটি ব্যবহৃত হয়।

(৫) ঘরবাড়ি নির্মাণের উপকরণ : গ্রামে মাটি দিয়ে বাড়ি তৈরি করা হয়। এ ছাড়া বাড়ি-ঘর নির্মাণে ব্যবহৃত ইট, সিমেন্ট, টালি প্রভৃতি তৈরিতে মাটি ব্যবহার করা হয়।

(৬) কুটির শিল্প : মাটি দিয়ে নানা প্রকারের খেলনা, ঘর সাজানোর জিনিস তৈরি হয়। যেমন– কৃষ্ণনগরের পোড়ামাটির পুতুল বিশ্ববিখ্যাত।

(৭) অন্যান্য ব্যবহার : এছাড়া বাগান তৈরি, ফুল গাছ রোপণ, পশুচারণ প্রভৃতি কাজ মাটি ছাড়া ভাবা যায় না।

৩. ভারতের মাটি ক্ষয় বা ভূমিক্ষয়ের কারণ গুলি লেখ।

উত্তরঃ প্রাকৃতিক কারণ

(১) বৃষ্টিপাত : অনেক সময় ধরে প্রবল বৃষ্টি হলে মাটি ক্ষয় বৃদ্ধি পায় বৃষ্টির জল যখন ঢালবে নেমে আসে তখন মাটি জলের সঙ্গে ধুয়ে যায়। যেমন– চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য ল্যাটেরাইট মাটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ধুয়ে যায়।

(২) বায়ুপ্রবাহ : গাছপালা হীন মরুভূমিতে তীব্র বায়ু প্রবাহের জন্য বিশাল এলাকা জুড়ে মৃত্তিকা ক্ষয় হয়

মনুষ্যসৃষ্টি কারণ—

(১) বৃক্ষচ্ছেদন : গাছের শিকড় মাটিকে খুব শক্ত করে ধরে রাখে। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে মাটির এই বাঁধন আলগা হয়ে গিয়ে মাটির ক্ষয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

(২) পশুচারণ : বেশি পরিমাণে পশুচারণ করলে মাটির ওপরের ঘাস নষ্ট হয়, পশুদের পায়ের চাপে মাটি আলগা হয়। ফলে মাটি সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

(৩) অন্যান্য কারণ : এ ছাড়া খনিজ সম্পদ উত্তোলনের সময়, বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার সময়, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করার ফলে মাটি ক্ষয় হয়।

৪. মাটি সংরক্ষণের উপায় গুলি লেখ।

উত্তরঃ যে পদ্ধতিতে মাটির ক্ষয় রোধ করে মাটির উর্বরতা শক্তি বজায় রাখা হয় তা মাটি সংরক্ষণ নামে পরিচিত।

মাটি সংরক্ষণের উপায়—

মাটির উপরের স্তরে নানা জৈব পদার্থ থাকে। এই স্তর ক্ষয় হলে মাটি সাধারণত অনুর্বর হয়ে পড়ে। তাই মাটি সংরক্ষণ করা দরকার। মাটি সংরক্ষণের উপায় গুলি হল—

(১) নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করা উচিত।

(২) বনভূমি সংরক্ষণ করা ও অনেক বেশি সংখ্যায় চারা গাছ লাগানো উচিত।

(৩) কৃষি কাজে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করা।

(৪) পাহাড়ের ঢালু অংশে ধাপ কেটে চাষ করা, বেশি ঢাল যুক্ত অংশে রাস্তাঘাট ঘরবাড়ি নির্মাণ কাজ কম করা।

(৫) পশুচারণ নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় করা উচিত‌।

(৬) মাটির বেশি গভীরে খনিজ সম্পদ আহরণ বন্ধ করা।

(৭) সর্বোপরি মানুষকে মাটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করা।

📌 আরো দেখোঃ

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply