জল-স্থল-বাতাস
পঞ্চম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | Class 6 geography Question Answer Ch-5 wbbse
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
জল-স্থল-বাতাস
পঞ্চম অধ্যায়
∆ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. দিনের বেলা আকাশ— (লাল / সবুজ / নীল / হলুদ) দেখায়।
উত্তরঃ নীল।
২. মহাকাশ থেকে আকাশকে সবসময়— (সাদা / কালো / নীল / ধূসর) দেখায়।
উত্তরঃ কালো।
৩. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রায়— (২১ / ৭০ / ৭৮ / ০.০৩) শতাংশ।
উত্তরঃ ৭৮ শতাংশ।
৪. বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায়— (২১ / ৭৮ / ১ / ০.৯) শতাংশ।
উত্তরঃ ২১ শতাংশ।
৫. মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি দেখা যায়— (ট্রপোস্ফিয়ার / স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার / মেসোস্ফিয়ার) স্তরে।
উত্তরঃ ট্রপোস্ফিয়ার।
৬. প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা কমে— (৫.৫° / ৬.৫° / ১০° / ৪°) সেলসিয়াস।
উত্তরঃ ৬.৫° সেলসিয়াস।
৭. শান্তমণ্ডল বলা হয়— (ট্রপোস্ফিয়ার / স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার / থার্মোস্ফিয়ার) স্তরকে।
উত্তরঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।
৮. জেট প্লেনগুলো চলাচল করে— (ট্রপোস্ফিয়ার / মেসোস্ফিয়ার / স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার) দিয়ে।
উত্তরঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।
৯. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে— (অক্সিজেন / ওজোন / নাইট্রোজেন / হিলিয়াম) গ্যাস।
উত্তরঃ ওজোন।
১০. বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর হলো— (মেসোস্ফিয়ার / থার্মোস্ফিয়ার / এক্সোস্ফিয়ার)।
উত্তরঃ মেসোস্ফিয়ার।
১১. মহাকাশ থেকে আসা উল্কা পুড়ে ছাই হয়— (স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার / মেসোস্ফিয়ার / থার্মোস্ফিয়ার) স্তরে।
উত্তরঃ মেসোস্ফিয়ার।
১২. বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়— (ট্রপোস্ফিয়ার / মেসোস্ফিয়ার / আয়নোস্ফিয়ার) থেকে।
উত্তরঃ আয়নোস্ফিয়ার (থার্মোস্ফিয়ার)।
১৩. মেরুজ্যোতি বা অরোরা দেখা যায়— (ট্রপোস্ফিয়ার / স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার / থার্মোস্ফিয়ার) স্তরে।
উত্তরঃ থার্মোস্ফিয়ার।
১৪. কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশ স্টেশন থাকে— (মেসোস্ফিয়ার / থার্মোস্ফিয়ার / এক্সোস্ফিয়ার) স্তরে।
উত্তরঃ এক্সোস্ফিয়ার।
১৫. আজ থেকে প্রায়— (১০০ / ২০০ / ৩৫০ / ৪৬০) কোটি বছর আগে পৃথিবী একটা জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড ছিল।
উত্তরঃ ৪৬০ কোটি বছর।
১৬. পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের পাতলা শক্ত আস্তরণ হলো— (কেন্দ্রমণ্ডল / গুরুমণ্ডল / ভূ-ত্বক)।
উত্তরঃ ভূ-ত্বক।
১৭. ভূ-ত্বকের নিচে পৃথিবীর মাঝের স্তরটি হলো— (কেন্দ্রমণ্ডল / গুরুমণ্ডল / শিলামণ্ডল)।
উত্তরঃ গুরুমণ্ডল।
১৮. পৃথিবীর একেবারে ভিতরের অংশটি হলো— (কেন্দ্রমণ্ডল / গুরুমণ্ডল / ভূ-ত্বক)।
উত্তরঃ কেন্দ্রমণ্ডল।
১৯. কয়লা ও খনিজ তেল পাওয়া যায়— (শিলামণ্ডলে / বারিমণ্ডলে / বায়ুমণ্ডলে)।
উত্তরঃ শিলামণ্ডলে।
২০. পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের আবির্ভাব হয়েছিল প্রায়— (৪৬০ / ৩৫০ / ২০০ / ১০০) কোটি বছর আগে।
উত্তরঃ ৩৫০ কোটি বছর।
২১. পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায়— (২৯ / ৭১ / ৫০ / ৯৭) শতাংশ জল।
উত্তরঃ ৭১ শতাংশ।
২২. পৃথিবীর মোট জলের প্রায়— (৩ / ৫০ / ৭০ / ৯৭) শতাংশ সমুদ্রে আছে।
উত্তরঃ ৯৭ শতাংশ।
২৩. জলীয় বাষ্প ধূলিকণাকে আশ্রয় করে— (বৃষ্টি / মেঘ / শিশির / তুষার) তৈরি করে।
উত্তরঃ মেঘ।
২৪. মহাদেশগুলো বছরে গড়ে— (২-২০ / ৫০-১০০ / ১-৫) সেন্টিমিটার করে সরছে।
উত্তরঃ ২-২০ সেন্টিমিটার।
২৫. সাড়ে ২২ কোটি বছর আগেকার একক বিশাল ভূখণ্ডের নাম ছিল— (প্যানথালাসা / প্যানজিয়া / এশিয়া)।
উত্তরঃ প্যানজিয়া।
২৬. প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা বিশাল জলভাগের নাম ছিল— (প্যানজিয়া / প্যানথালাসা / টেথিস)।
উত্তরঃ প্যানথালাসা।
২৭. প্যানজিয়া ভাঙতে শুরু করে প্রায়— (১০ / ২০ / ৫০ / ১০০) কোটি বছর আগে।
উত্তরঃ ২০ কোটি বছর।
২৮. মহাদেশ সঞ্চরণের মূল কারণ গুরুমণ্ডলের— (তাপ / পরিচলন স্রোত / চাপ / ভূমিকম্প)।
উত্তরঃ পরিচলন স্রোত।
২৯. আফ্রিকা মহাদেশের পশ্চিমদিকের সাথে— (ইউরোপ / এশিয়া / দক্ষিণ আমেরিকা) মহাদেশের মিল আছে।
উত্তরঃ দক্ষিণ আমেরিকা।
৩০. ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগর আয়তনে আরও— (বড় / ছোট / একই / গভীর) হবে।
উত্তরঃ ছোট।
৩১. পৃথিবীর বৃহত্তম ও জনবহুল মহাদেশ হলো— (আফ্রিকা / ইউরোপ / এশিয়া / ওশিয়ানিয়া)।
উত্তরঃ এশিয়া।
৩২. পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ হলো— (এশিয়া / আফ্রিকা / উত্তর আমেরিকা)।
উত্তরঃ আফ্রিকা।
৩৩. পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ— (এশিয়া / ইউরোপ / আফ্রিকা) মহাদেশে অবস্থিত।
উত্তরঃ আফ্রিকা।
৩৪. পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি সাহারা আছে— (আফ্রিকা / এশিয়া / ওশিয়ানিয়া) মহাদেশে।
উত্তরঃ আফ্রিকা।
৩৫. রকি পর্বতশ্রেণী ও মিসিসিপি-মিসৌরি নদী আছে— (দক্ষিণ আমেরিকা / উত্তর আমেরিকা / ইউরোপ) মহাদেশে।
উত্তরঃ উত্তর আমেরিকা।
৩৬. আমাজন নদী ও আন্দিজ পর্বতমালা— (উত্তর আমেরিকা / দক্ষিণ আমেরিকা / এশিয়া) মহাদেশে অবস্থিত।
উত্তরঃ দক্ষিণ আমেরিকা।
৩৭. ইউরোপের একটি প্রধান পর্বতশ্রেণী হলো— (হিমালয় / রকি / আল্পস / আন্দিজ)।
উত্তরঃ আল্পস।
৩৮. পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ হলো— (ইউরোপ / আফ্রিকা / ওশিয়ানিয়া / এশিয়া)।
উত্তরঃ ওশিয়ানিয়া।
৩৯. মারে-ডার্লিং নদী ও গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ আছে— (এশিয়া / ওশিয়ানিয়া / আফ্রিকা) মহাদেশে।
উত্তরঃ ওশিয়ানিয়া।
৪০. পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর হলো— (আটলান্টিক / ভারত / প্রশান্ত / সুমেরু) মহাসাগর।
উত্তরঃ প্রশান্ত।
৪১. পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর হলো— (প্রশান্ত / ভারত / আটলান্টিক / কুমেরু)।
উত্তরঃ আটলান্টিক।
৪২. ভারত মহাসাগর আয়তনে পৃথিবীর— (প্রথম / দ্বিতীয় / তৃতীয় / চতুর্থ) বৃহত্তম মহাসাগর।
উত্তরঃ তৃতীয়।
পৃষ্ঠা : ৩৭ ও ৩৮ (জীবমণ্ডল ও পরিবেশ)
৪৩. দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ স্থলভাগের চেয়ে প্রায়— (৫ / ১০ / ১৫ / ২০) শতাংশ বেশি।
উত্তরঃ ১৫ শতাংশ।
৪৪. উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি নিয়ে তৈরি হয়েছে পৃথিবীর— (শিলামণ্ডল / বারিমণ্ডল / জীবমণ্ডল)।
উত্তরঃ জীবমণ্ডল।
৪৫. জীবমণ্ডলে প্রাণী প্রজাতির সংখ্যা প্রায়— (৩৫ হাজার / ১৫ লক্ষ / ২ কোটি)।
উত্তরঃ ১৫ লক্ষ।
৪৬. জল, বাতাস ও সূর্যের আলো পরিবেশের— (সজীব / জড় / রাসায়নিক) উপাদান।
উত্তরঃ জড়।
৪৭. পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বেড়ে যাওয়াকে বলে— (জলচক্র / পরিচলন / বিশ্ব উষ্ণায়ন)।
উত্তরঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন।
৪৮. ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য দায়ী মূলত— (অক্সিজেন / বিষাক্ত গ্যাস / নাইট্রোজেন)।
উত্তরঃ বিষাক্ত গ্যাস (CFC)।
৪৯. উত্তর গোলার্ধে জল ও স্থলের পরিমাণ প্রায়— (সমান / অসমান / দ্বিগুণ)।
উত্তরঃ সমান।
৫০. উচ্চতা বা গভীরতা মাপার সময় প্রমাণ ধরা হয়— (পাহাড়কে / সমভূমিকে / গড় সমুদ্রতলকে)।
উত্তরঃ গড় সমুদ্রতলকে।
∆ শূন্যস্থান পূরণ করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. আকাশজুড়ে নীল রং বেশি ___________ হয় বলেই আকাশকে নীল দেখায়।
উত্তরঃ বিচ্ছুরিত।
২. মহাকাশ থেকে আকাশকে সবসময় ___________ দেখায়।
উত্তরঃ কালো।
৩. বায়ুমণ্ডলে ___________ গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৭৮ ভাগ)।
উত্তরঃ নাইট্রোজেন।
৪. মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি বায়ুমণ্ডলের ___________ স্তরে দেখা যায়।
উত্তরঃ ট্রপোস্ফিয়ার।
৫. বায়ুমণ্ডলের ___________ স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে।
উত্তরঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।
৬. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে নেয় ___________ স্তর।
উত্তরঃ ওজোন।
৭. মহাকাশ থেকে আসা উল্কা বায়ুমণ্ডলের ___________ স্তরে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
উত্তরঃ মেসোস্ফিয়ার।
৮. ___________ স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে।
উত্তরঃ আয়নোস্ফিয়ার।
৯. পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের পাতলা শক্ত আস্তরণটি হলো ___________
উত্তরঃ ভূ-ত্বক।
১০. ভূ-ত্বকের নিচে ও কেন্দ্রমণ্ডলের উপরে অবস্থিত স্তরটি হলো ___________।
উত্তরঃ গুরুমণ্ডল।
১১. পৃথিবীর মোট জলভাণ্ডারের নাম হলো ___________।
উত্তরঃ বারিমণ্ডল।
১২. পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় _________ শতাংশ জল।
উত্তরঃ ৭১।
১৩. পৃথিবীর মোট জলের প্রায় __________ শতাংশ সমুদ্রে আছে।
উত্তরঃ ৯৭।
১৪. প্রায় সাড়ে ২২ কোটি বছর আগেকার একক বিশাল ভূখণ্ডটির নাম ছিল ___________।
উত্তরঃ প্যানজিয়া।
১৫. প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা বিশাল জলভাগের নাম ছিল ___________।
উত্তরঃ প্যানথালাসা।
১৬. গুরুমণ্ডলের ___________ মহাদেশ সঞ্চরণের প্রধান কারণ।
উত্তরঃ পরিচলন স্রোত।
১৭. পৃথিবীর বৃহত্তম ও জনবহুল মহাদেশ হলো ___________।
উত্তরঃ এশিয়া।
১৮. পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি সাহারা ___________ মহাদেশে অবস্থিত।
উত্তরঃ আফ্রিকা।
১৯. উত্তর আমেরিকার প্রধান পর্বতশ্রেণী হলো ___________।
উত্তরঃ রকি।
২০. পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী আন্দিজ ___________ মহাদেশে অবস্থিত।
উত্তরঃ দক্ষিণ আমেরিকা।
২১. পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশের নাম হলো ___________।
উত্তরঃ ওশিয়ানিয়া।
২২. পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর হলো ___________।
উত্তরঃ প্রশান্ত মহাসাগর।
২৩. উচ্চতা বা গভীরতা মাপার সময় ___________-কে প্রমাণ ধরা হয়।
উত্তরঃ গড় সমুদ্রতল।
২৪. পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে ___________ বলা হয়।
উত্তরঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন।
২৫. জল, বাতাস ও সূর্যের আলো পরিবেশের ___________ উপাদান।
উত্তরঃ জড়।
∆ সত্য বা মিথ্যা নির্ণয় কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. ধূলিকণা আছে বলেই আকাশ নীল দেখায়।
উত্তরঃ সত্য।
২. বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: নাইট্রোজেন)
৩. ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে মেঘ, ঝড় ও বৃষ্টি দেখা যায়।
উত্তরঃ সত্য।
৪. মেসোস্ফিয়ার স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার)
৫. ওজোন স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
উত্তরঃ সত্য।
৬. থার্মোস্ফিয়ার স্তরে উল্কাপিণ্ড পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: মেসোস্ফিয়ার)
৭. আয়নোস্ফিয়ার থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়।
উত্তরঃ সত্য।
৮. মহাকাশ স্টেশন বায়ুমণ্ডলের এক্সোস্ফিয়ার স্তরে থাকে।
উত্তরঃ সত্য।
৯. প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে পৃথিবী একটি জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড ছিল।
উত্তরঃ সত্য।
১০. পৃথিবীর সবচেয়ে ভিতরের স্তরটি হলো গুরুমণ্ডল।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: কেন্দ্রমণ্ডল)
১১. শিলামণ্ডল বা লিথোস্ফিয়ার মূলত শিলা ও মাটি দিয়ে গঠিত।
উত্তরঃ সত্য।
১২. পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের আবির্ভাব হয়েছিল প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে।
উত্তরঃ সত্য।
১৩. পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ২৯ শতাংশ জলভাগ।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: ৭১ শতাংশ)
১৪. সমুদ্রের জল হলো পানের অযোগ্য নোনা জল।
উত্তরঃ সত্য।
১৫. সাড়ে ২২ কোটি বছর আগেকার অখণ্ড স্থলভাগটির নাম ছিল প্যানজিয়া।
উত্তরঃ সত্য।
১৬. প্যানথালাসা বলতে বিশাল মহাদেশকে বোঝায়।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: বিশাল জলভাগ)
১৭. মহাদেশ সঞ্চরণের প্রধান কারণ হলো পরিচলন স্রোত।
উত্তরঃ সত্য।
১৮. এশিয়া হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও জনবহুল মহাদেশ।
উত্তরঃ সত্য।
১৯. সাহারা মরুভূমি ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: আফ্রিকা)
২০. আমাজন নদী দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রধান নদী।
উত্তরঃ সত্য।
২১. পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর হলো প্রশান্ত মহাসাগর।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: সুমেরু মহাসাগর)
২২. দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ স্থলভাগের চেয়ে বেশি।
উত্তরঃ সত্য।
২৩. বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে।
উত্তরঃ সত্য।
২৪. ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য অক্সিজেন গ্যাস দায়ী।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: বিষাক্ত গ্যাস বা CFC)
২৫. গাছপালা ও পশু-পাখি পরিবেশের জড় উপাদান।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: সজীব উপাদান)
∆ বামদিক ও ডান দিক মেলাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
সেট – ১
| বামস্তম্ভ | ডানস্তম্ভ |
| (ক) ট্রপোস্ফিয়ার | ১. বেতার তরঙ্গ প্রতিফলন |
| (খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার | ২. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ |
| (গ) ওজোন স্তর | ৩. উল্কাপিণ্ড পুড়ে ছাই হওয়া |
| (ঘ) মেসোস্ফিয়ার | ৪. মেঘ, ঝড় ও বৃষ্টি |
| (ঙ) আয়নোস্ফিয়ার | ৫. জেট বিমান চলাচল |
উত্তরঃ (ক)-৪, (খ)-৫, (গ)-২, (ঘ)-৩, (ঙ)-১
সেট – ২
| বামস্তম্ভ | ডানস্তম্ভ |
| (ক) ভূ-ত্বক | ১. পৃথিবীর মাঝের অংশ |
| (খ) গুরুমণ্ডল | ২. পানের অযোগ্য নোনা জল |
| (গ) কেন্দ্রমণ্ডল | ৩. ৩৫০ কোটি বছর আগে |
| (ঘ) প্রাণের আবির্ভাব | ৪. পৃথিবীর ভিতরের স্তর |
| (ঙ) সমুদ্রের জল | ৫. শিলা ও মাটি দিয়ে গঠিত |
উত্তরঃ (ক)-৫, (খ)-১, (গ)-৪, (ঘ)-৩, (ঙ)-২
সেট – ৩
| বামস্তম্ভ | ডানস্তম্ভ |
| (ক) এশিয়া | ১. রকি পর্বতমালা |
| (খ) আফ্রিকা | ২. আন্দিজ পর্বতমালা |
| (গ) উত্তর আমেরিকা | ৩. বৃহত্তম মহাসাগর |
| (ঘ) দক্ষিণ আমেরিকা | ৪. বৃহত্তম ও জনবহুল মহাদেশ |
| (ঙ) প্রশান্ত মহাসাগর | ৫. সাহারা মরুভূমি |
উত্তরঃ (ক)-৪, (খ)-৫, (গ)-১, (ঘ)-২, (ঙ)-৩
সেট-৪
| বামস্তম্ভ | ডানস্তম্ভ |
| (ক) ওশিয়ানিয়া | ১. দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর |
| (খ) ইউরোপ | ২. ক্ষুদ্রতম মহাসাগর |
| (গ) আটলান্টিক মহাসাগর | ৩. ক্ষুদ্রতম মহাদেশ |
| (ঘ) সুমেরু মহাসাগর | ৪. বরফে ঢাকা সাদা মহাদেশ |
| (ঙ) অ্যান্টার্কটিকা | ৫. আল্পস পর্বতমালা |
উত্তরঃ (ক)-৩, (খ)-৫, (গ)-১, (ঘ)-২, (ঙ)-৪
সেট – ৫
| বামস্তম্ভ | ডানস্তম্ভ |
| (ক) প্যানজিয়া | ১. জড় উপাদান |
| (খ) প্যানথালাসা | ২. অখণ্ড বিশাল ভূখণ্ড |
| (গ) পরিচলন স্রোত | ৩. গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি |
| (ঘ) বিশ্ব উষ্ণায়ন | ৪. বিশাল জলভাগ |
| (ঙ) সূর্যালোক | ৫. মহাদেশ সঞ্চরণের কারণ |
উত্তরঃ (ক)-২, (খ)-৪, (গ)-৫, (ঘ)-৩, (ঙ)-১
∆ এক কথায় উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. আকাশ নীল দেখায় কেন ?
উত্তরঃ ধূলিকণা আছে বলে।
২. মহাকাশ থেকে আকাশ কেমন দেখায়?
উত্তরঃ কালো।
৩. সূর্যর আলো ধূলিকণায় ধাক্কা খেয়ে কটি রঙে ভেঙে যায়?
উত্তরঃ সাতটি।
৪. বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাস সবচেয়ে বেশি আছে?
উত্তরঃ নাইট্রোজেন।
৫. বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?
উত্তরঃ প্রায় ২১ শতাংশ।
৬. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে মেঘ-বৃষ্টি দেখা যায়?
উত্তরঃ ট্রপোস্ফিয়ার।
৭. ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরের স্তরটির নাম কী?
উত্তরঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।
৮. জেট প্লেন কোন স্তর দিয়ে ওড়ে?
উত্তরঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।
৯. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে কোন স্তর?
উত্তরঃ ওজোন স্তর।
১০. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে উল্কাপিণ্ড পুড়ে ছাই হয়?
উত্তরঃ মেসোস্ফিয়ার।
১১. মেরুজ্যোতি কোন স্তরে দেখা যায়?
উত্তরঃ থার্মোস্ফিয়ার।
১২. বেতার তরঙ্গ কোন স্তর থেকে ফিরে আসে?
উত্তরঃ আয়নোস্ফিয়ার (থার্মোস্ফিয়ার)।
১৩. বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে ওপরের স্তরের নাম কী?
উত্তরঃ এক্সোস্ফিয়ার।
১৪. ৪৬০ কোটি বছর আগে পৃথিবী কেমন ছিল ?
উত্তরঃ জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড।
১৫. ভূত্বকের নিচে পৃথিবীর মাঝের স্তরের নাম কী ?
উত্তরঃ গুরুমণ্ডল।
১৬. পৃথিবীর একেবারে ভেতরের স্তরটির নাম কী ?
উত্তরঃ কেন্দ্রমণ্ডল।
১৭. শিলামণ্ডলের কত ভাগ স্থলভাগ?
উত্তরঃ এক-চতুর্থাংশ (২৯%)।
১৮. পৃথিবীর মোট কত শতাংশ জল?
উত্তরঃ প্রায় ৭১ শতাংশ।
১৯. পৃথিবীতে কত বছর আগে প্রাণের আবির্ভাব হয়?
উত্তরঃ প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে।
২০. পৃথিবীর সমস্ত জলের কত ভাগ সমুদ্রে আছে?
উত্তরঃ ৯৭ শতাংশ।
২১. কোন পদ্ধতিতে পৃথিবীতে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে?
উত্তরঃ জলচক্র।
২২. মহাদেশগুলো বছরে গড়ে কতটুকু সরে?
উত্তরঃ ২-২০ সেন্টিমিটার।
২৩. সাড়ে ২২ কোটি বছর আগের অখণ্ড ভূখণ্ডটির নাম কী?
উত্তরঃ প্যানজিয়া।
২৪. প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা জলভাগের নাম কী?
উত্তরঃ প্যানথালাসা।
২৫. মহাদেশ সঞ্চরণের মূল কারণ কী?
উত্তরঃ পরিচলন স্রোত।
২৬. পরিচলন স্রোত কোথায় সৃষ্টি হয়?
উত্তরঃ গুরুমণ্ডলে।
২৭. ভবিষ্যতে কোন মহাসাগর আরও বড় হবে?
উত্তরঃ আটলান্টিক মহাসাগর।
২৮. পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ কোনটি ?
উত্তরঃ এশিয়া।
২৯. মাউন্ট এভারেস্ট কোন মহাদেশে অবস্থিত?
উত্তরঃ এশিয়া।
৩০. সাহারা মরুভূমি কোন মহাদেশে আছে?
উত্তরঃ আফ্রিকা।
৩১. নীল নদ কোন মহাদেশের প্রধান নদী?
উত্তরঃ আফ্রিকা।
৩২. উত্তর আমেরিকার প্রধান পর্বতশ্রেণী কোনটি?
উত্তরঃ রকি।
৩৩. পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী আন্দিজ কোথায়?
উত্তরঃ দক্ষিণ আমেরিকা।
৩৪. আমাজন নদী কোন মহাদেশে অবস্থিত?
উত্তরঃ দক্ষিণ আমেরিকা।
৩৫. পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কোনটি?
উত্তরঃ ওশেনিয়া।
৩৬. আল্পস পর্বতমালা কোন মহাদেশে অবস্থিত?
উত্তরঃ ইউরোপ।
৩৭. পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি?
উত্তরঃ প্রশান্ত মহাসাগর।
৩৮. পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর কোনটি?
উত্তরঃ সুমেরু মহাসাগর।
৩৯. আটলান্টিক মহাসাগর আয়তনে কততম?
উত্তরঃ দ্বিতীয় বৃহত্তম।
৪০. কোন মহাদেশকে ‘সাদা মহাদেশ’ বলে?
উত্তরঃ অ্যান্টার্কটিকা।
৪১. জল, স্থল ও বাতাস মিলে কী তৈরি হয়েছে ?
উত্তরঃ জীবমণ্ডল।
৪২. পৃথিবীতে কত প্রজাতির উদ্ভিদ আছে?
উত্তরঃ প্রায় ৩৫ হাজার।
৪৩. জীবমণ্ডলে কত লক্ষ প্রজাতির প্রাণী আছে ?
উত্তরঃ ১৫ লক্ষ।
৪৪. সূর্যালোক পরিবেশের কী ধরণের উপাদান?
উত্তরঃ জড় উপাদান।
৪৫. বায়ুর তাপমাত্রা বাড়াকে কী বলে?
উত্তরঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন।
৪৬. ওজোন স্তর নষ্টের প্রধান কারণ কী?
উত্তরঃ বিষাক্ত গ্যাস (CFC)।
৪৭. উচ্চতা মাপার সময় প্রমাণ ধরা হয় কাকে?
উত্তরঃ গড় সমুদ্রতলকে।
৪৮. পরিবেশের ওপর চরম সংকট নেমে আসবে কেন?
উত্তরঃ প্রকৃতির অবক্ষয় হলে।
৪৯. উত্তর গোলার্ধে জল ও স্থলের পরিমাণ কেমন?
উত্তরঃ প্রায় সমান।
৫০. দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ কত শতাংশ বেশি?
উত্তরঃ প্রায় ১৫ শতাংশ।
∆ সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২
১. আকাশ নীল দেখায় কেন?
উত্তরঃ সূর্যর আলো সাতটি রঙে গঠিত। দিনের বেলা সূর্যের আলো যখন বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসে, তখন বাতাসে থাকা ধুলোর কণা ও জলকণায় ধাক্কা খেয়ে ওই আলোগুলো বিচ্ছুরিত হয়। নীল রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম হওয়ায় এটি আকাশে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তাই আকাশকে নীল দেখায়।
২. বায়ুমণ্ডল বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ পৃথিবীকে বেষ্টন করে চাদরের মতো লেগে থাকা যে বায়ুর স্তর পৃথিবীর আকর্ষণে পৃথিবীর চারদিকে আটকে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর বিভিন্ন স্তরে নানারকম গ্যাসীয় উপাদান থাকে।
৩. ট্রপোস্ফিয়ারকে ‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’ বলা হয় কেন?
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন এই স্তরে বাতাসের প্রায় ৭৫ ভাগ গ্যাস থাকে। এখানে প্রচুর পরিমাণে ধুলোর কণা ও জলকণা থাকায় মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি ও কুয়াশার মতো আবহাওয়ার নানা গোলযোগ দেখা যায়, তাই একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলা হয়।
৪. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য কী ?
উত্তরঃ ট্রপোস্ফিয়ারের ওপর থেকে ৫০ কিমি পর্যন্ত এই স্তরে বাতাসের পরিমাণ খুব কম। এখানে ধুলোর কণা বা জলকণা নেই বলে মেঘ-বৃষ্টি হয় না। আকাশ সবসময় পরিষ্কার থাকে বলে এর মধ্য দিয়ে দ্রুতগামী জেট প্লেনগুলো চলাচল করে।
৫. ওজোন স্তরের গুরুত্ব লেখো।
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে (ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০-২৫ কিমি উচ্চতায়) ওজোন গ্যাসের একটি স্তর থাকে। এই স্তর সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে পৃথিবীতে আসতে বাধা দেয় এবং জীবজগতকে রক্ষা করে।
৬. থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ারের উপযোগিতা কী?
উত্তরঃ এই স্তরে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে বায়ুর অণুগুলো আয়নে পরিণত হয়। এর ফলে পৃথিবী থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ এই স্তরে ধাক্কা খেয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে, যার ফলে আমরা রেডিও শুনতে পাই।
৭. বায়ুমণ্ডল না থাকলে কী হতো?
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবী অন্য গ্রহের মতো প্রাণহীন হয়ে পড়ত। সূর্যোদয়ের পর পৃথিবী হঠাৎ প্রবল গরম হয়ে যেত এবং সূর্যাস্তের পর প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হয়ে যেত। বাতাস ছাড়া কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীই বাঁচতে পারত না।
৮. ‘প্যানজিয়া’ ও ‘প্যানথালাসা’ কী?
উত্তরঃ প্রায় সাড়ে ২২ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একটি অখণ্ড বিশাল মহাদেশ হিসেবে ছিল, যার নাম ছিল ‘প্যানজিয়া’। আর এই প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা চারদিকের বিশাল জলভাগকে বলা হতো ‘প্যানথালাসা’।
৯. পরিচলন স্রোত কীভাবে মহাদেশ সঞ্চরণ ঘটায়?
উত্তরঃ পৃথিবীর অভ্যন্তরে গুরুমণ্ডলে প্রচণ্ড তাপে পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি হয়। এই স্রোতের ধাক্কায় প্যানজিয়ার ভাঙা ভূখণ্ডগুলো বা বর্তমানের মহাদেশগুলো খুব ধীর গতিতে (বছরে ২-২০ সেমি) এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যাচ্ছে।
১০. শিলামণ্ডল বা লিথোস্ফিয়ার কাকে বলে?
উত্তরঃ পৃথিবীর চারভাগের একভাগ হলো স্থলভাগ। এই স্থলভাগ মূলত নানা রকম শিলা ও মাটি দিয়ে তৈরি। পৃথিবীর এই উপরিভাগের কঠিন আবরণকে শিলামণ্ডল বা লিথোস্ফিয়ার বলা হয়।
১১. বারিমণ্ডল বা হাইড্রোস্ফিয়ার বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ পৃথিবীর উপরিভাগের নীচু জায়গাগুলো বৃষ্টির জলে ভরাট হয়ে সাগর, মহাসাগর ও হ্রদ তৈরি করেছে। পৃথিবীর এই বিশাল জলভাণ্ডার বা জলভাগকে বারিমণ্ডল বলা হয়। এটি পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৭১ শতাংশ।
১২. জলচক্র বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ সূর্যের তাপে সমুদ্র ও জলাশয়ের জল বাষ্প হয়ে আকাশে ওঠে এবং মেঘ ও বৃষ্টি হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে নেমে আসে। জলের এই যে চক্রাকার আবর্তন, যার মাধ্যমে পৃথিবীতে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে, তাকেই জলচক্র বলে।
১৩. জীবমণ্ডল বা বায়োস্ফিয়ার কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডল (বাতাস), শিলামণ্ডল (স্থল) ও বারিমণ্ডল (জল)—এই তিনটির মিলনে পৃথিবীর যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব দেখা যায়, তাকে জীবমণ্ডল বলে। প্রায় ৩৫ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ১৫ লক্ষ প্রজাতির প্রাণী নিয়ে এই জীবমণ্ডল গঠিত।
১৪. উত্তর আমেরিকা মহাদেশের ভৌগোলিক পরিচয় দাও।
উত্তরঃ এটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ। এর প্রধান পর্বতশ্রেণী হলো ‘রকি’ এবং প্রধান নদী হলো মিসিসিপি-মিসৌরি। এই মহাদেশে মোট ২৩টি দেশ আছে।
১৫. ‘ইউরেশিয়া’ বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশ ভৌগোলিকভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত। এই দুটি মহাদেশকে একত্রে বলা হয় ইউরেশিয়া।
১৬. এশিয়া মহাদেশের বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ এশিয়া হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ। এই মহাদেশের প্রধান পর্বতশ্রেণী হলো হিমালয় এবং প্রধান নদী হলো ইয়াংসি ও ওব। এখানে মোট ৪৪টি দেশ আছে।
১৭. আফ্রিকা মহাদেশের দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ আফ্রিকা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ। পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি ‘সাহারা’ এবং দীর্ঘতম নদী ‘নীল নদ’ এই মহাদেশেই অবস্থিত।
১৮. ওশিয়ানিয়া বা ওশেনিয়া মহাদেশের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ এটি পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ যা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। এটি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও আরও কিছু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত। এর প্রধান নদী মারে-ডার্লিং এবং পর্বতশ্রেণী গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ।
১৯. বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কী?
উত্তরঃ যানবাহন ও কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস বায়ুমণ্ডলে একটি স্তর তৈরি করে, যা পৃথিবীর তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয়। ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, একেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
২০. ওজোন স্তর ধ্বংসের ফলাফল কী?
উত্তরঃ ফ্রিজ, এসি ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য থেকে নির্গত গ্যাসের ফলে ওজোন স্তর ফুটো হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে চলে আসবে এবং মানুষের ত্বকের ক্যান্সার ও উদ্ভিদের ব্যাপক ক্ষতি করবে।
২১. পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার দুটি কারণ লেখো।
উত্তরঃ ১. দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত বনজঙ্গল ধ্বংস করে বসতি নির্মাণ। ২. কলকারখানা ও যানবাহন থেকে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়া বাতাসে মেশা।
২২. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কী কী সংকট দেখা দিচ্ছে?
উত্তরঃ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলতল বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হওয়া ছাড়াও বিধ্বংসী ঝড়, তীব্র খরা ও অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটছে।
২৩. দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি কেন?
উত্তরঃ উত্তর গোলার্ধে জল ও স্থলের পরিমাণ প্রায় সমান হলেও দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের পরিমাণ প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। তাই দক্ষিণ গোলার্ধকে জলগোলার্ধও বলা হয়ে থাকে।
২৪. ‘গড় সমুদ্রতল’ বা Mean Sea Level কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তরঃ পৃথিবীর সব জায়গার উচ্চতা বা গভীরতা সমান নয়, কিন্তু সব মহাসাগর একে অপরের সাথে যুক্ত থাকায় সমুদ্রের উপরিভাগের উচ্চতা পৃথিবীর সর্বত্র প্রায় সমান। তাই সঠিক উচ্চতা মাপার জন্য গড় সমুদ্রতলকে প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।
২৫. পরিবেশের ‘সজীব’ ও ‘জড়’ উপাদানের সম্পর্ক কী?
উত্তরঃ মাটি, জল, বাতাস ও আলো হলো পরিবেশের জড় উপাদান। উদ্ভিদ ও প্রাণীসহ সমস্ত জীবজগত বা সজীব উপাদান তাদের খাদ্য, বাসস্থান ও বেঁচে থাকার জন্য এই জড় উপাদানগুলোর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
∆ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্ন উত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৩
১. ট্রপোস্ফিয়ার স্তরের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ আবহাওয়ার পরিবর্তন: বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ধুলিকণা ও জলকণা থাকে বলে মেঘ, ঝড় ও বৃষ্টি হয়।
তাপমাত্রা হ্রাস: এই স্তরে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা ৬.৫° সেলসিয়াস হারে কমতে থাকে।
ঘনত্ব: বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্যাসীয় উপাদান এই স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকে।
২. ওজোন স্তরকে পৃথিবীর ‘রক্ষাকবচ’ বলা হয় কেন?
উত্তরঃ অবস্থান: ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০-২৫ কিমি উচ্চতায় অবস্থিত।
শোষণ: এই স্তর সূর্য থেকে আসা প্রাণঘাতী অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে নেয়।
সুরক্ষা: এই রশ্মি পৃথিবীতে সরাসরি পৌঁছালে মানুষের ত্বকের ক্যান্সার ও চোখের ক্ষতি হতো এবং প্রাণিজগৎ ধ্বংস হতো। তাই একে রক্ষাকবচ বলে।
৩. থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ারের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ তাপমাত্রা: এই স্তরে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে প্রায় ১২০০° সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
আয়ন গঠন: এখানে বায়ুর অণুগুলো আয়নিত অবস্থায় থাকে।
বেতার যোগাযোগ: এই স্তরের সাহায্যেই পৃথিবী থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে, যার ফলে আমরা রেডিওর অনুষ্ঠান শুনতে পাই।
৪. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ স্তর তিনটি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ ভূ-ত্বক: পৃথিবীর সবচেয়ে উপরের পাতলা ও শক্ত স্তর। এটি শিলা ও মাটি দিয়ে গঠিত।
গুরুমণ্ডল: ভূ-ত্বকের নিচে ও কেন্দ্রমণ্ডলের উপরে অবস্থিত অংশ। এখানে প্রচণ্ড তাপে শিলা সান্দ্র অবস্থায় থাকে এবং পরিচলন স্রোত দেখা যায়।
কেন্দ্রমণ্ডল: পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত অংশ যা অত্যন্ত উত্তপ্ত।
৫. ‘প্যানজিয়া’ ও ‘প্যানথালাসা’ বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ প্যানজিয়া: আজ থেকে প্রায় সাড়ে ২২ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একটি অখণ্ড বিশাল মহাদেশ হিসেবে ছিল, তাকে বলা হয় প্যানজিয়া।
প্যানথালাসা: এই প্যানজিয়া মহাদেশের চারদিকে যে অখণ্ড বিশাল জলভাগ বা মহাসাগর ছিল, তাকে প্যানথালাসা বলা হয়।
বিচ্ছেদ: প্রায় ২০ কোটি বছর আগে প্যানজিয়া ভেঙে টুকরো হয়ে বর্তমান মহাদেশগুলো তৈরি হয়েছে।
৬. গুরুমণ্ডলের পরিচলন স্রোত মহাদেশ সঞ্চরণে কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তরঃ পৃথিবীর ভেতরের প্রচণ্ড তাপে গুরুমণ্ডলের উপাদানগুলো হালকা হয়ে উপরের দিকে ওঠে এবং শীতল হয়ে নিচে নামে। এর ফলে পরিচলন স্রোত তৈরি হয়।
এই স্রোতের ধাক্কায় প্যানজিয়ার ভাঙা ভূখণ্ডগুলো বা বর্তমানের মহাদেশগুলো খুব ধীর গতিতে বছরে ২-২০ সেমি করে সরে যায়।
এই পদ্ধতির মাধ্যমেই মানচিত্রের পরিবর্তন ঘটে।
৭. পৃথিবীকে কেন ‘নীল গ্রহ’ বলা হয়?
উত্তরঃ জলের পরিমাণ: পৃথিবীর উপরিভাগের প্রায় ৭১ শতাংশই জলভাগ বা বারিমণ্ডল।
মহাকাশ থেকে দৃশ্য: মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখলে প্রচুর জলের উপস্থিতির কারণে একে উজ্জ্বল নীল গোলকের মতো দেখায়।
অন্য গ্রহের তুলনা: সৌরজগতের অন্য কোনো গ্রহে এত বিশাল পরিমাণ জল পাওয়া যায় না বলেই পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলে।
৮. জলচক্রের প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ সূর্যের তাপে সমুদ্র ও জলাশয়ের জল বাষ্প হয়ে আকাশে ওঠে এবং বাতাসে থাকা
ধুলিকণাকে আশ্রয় করে মেঘ তৈরি করে।
মেঘের জলকণা বড় হয়ে বৃষ্টি বা তুষার রূপে পুনরায় পৃথিবীতে নেমে আসে।
এই জল নদী বা ভূগর্ভস্থ পথে পুনরায় সমুদ্রে মেশে। জলের এই চক্রাকার আবর্তনই হলো জলচক্র।
৯. জীবমণ্ডল (Biosphere) কীভাবে গঠিত হয় ?
উত্তরঃ পৃথিবীর তিন মণ্ডল— শিলা, জল ও বাতাস যেখানে মিলিত হয়েছে, সেখানেই জীবমণ্ডল গঠিত হয়েছে।
ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের ও নিচের সামান্য অংশ নিয়ে এই মণ্ডল গঠিত যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব।
প্রায় ৩৫ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ ও ১৫ লক্ষ প্রজাতির প্রাণীর সমন্বয়ে এই বিচিত্র জীবমণ্ডল গড়ে উঠেছে।
১০. বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) তিনটি কুফল লেখো।
উত্তরঃ বরফ গলে যাওয়া: পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে।
সমুদ্র জলতল বৃদ্ধি: বরফ গলা জল সমুদ্রে মিশে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার ভয় থাকছে।
জলবায়ু পরিবর্তন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বিধ্বংসী ঝড়, তীব্র খরা ও অনাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে।
১১. উচ্চতা বা গভীরতা মাপার সময় ‘গড় সমুদ্রতল’ ব্যবহার করা হয় কেন ?
উত্তরঃ পৃথিবীর স্থলভাগের উচ্চতা সব জায়গায় সমান নয়, কোথাও পাহাড় আবার কোথাও সমভূমি।
কিন্তু পৃথিবীর সব মহাসাগর একে অপরের সাথে যুক্ত থাকায় সমুদ্রের উপরিভাগের জলতল প্রায় সব জায়গায় সমান থাকে।
তাই সঠিক ও নিখুঁত পরিমাপের জন্য সমুদ্রের গড় তলকে জিরো (০) ধরে উচ্চতা বা গভীরতা মাপা হয়।
১২. এশিয়া মহাদেশের প্রধান ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তরঃ এশিয়া হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ (প্রায় ৪৪টি দেশ)।
এই মহাদেশের প্রধান পর্বতশ্রেণী হলো হিমালয় এবং প্রধান নদীগুলো হলো ইয়াংসি ও ওব।
এটি উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত এবং এর উত্তর দিকে সুমেরু মহাসাগর অবস্থিত।
১৩. উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রধান পার্থক্যগুলি কী কী?
উত্তরঃ আয়তন: উত্তর আমেরিকা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম এবং দক্ষিণ আমেরিকা চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ।
পর্বতশ্রেণী: উত্তর আমেরিকার প্রধান পর্বত রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার প্রধান পর্বত হলো আন্দিজ।
নদী: উত্তর আমেরিকার প্রধান নদী মিসিসিপি-মিসৌরি এবং দক্ষিণ আমেরিকার প্রধান নদী আমাজন।
১৪. ওশিয়ানিয়া বা ওশেনিয়া মহাদেশের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তরঃ এটি পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ যা সম্পূর্ণ দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অসংখ্য ছোট দ্বীপ নিয়ে এই মহাদেশ গঠিত।
এই মহাদেশের প্রধান পর্বতশ্রেণী গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ এবং প্রধান নদী হলো মারে-ডার্লিং।
১৫. মানুষ কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে?
উত্তরঃ বনজঙ্গল ধ্বংস: জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মানুষ বন কেটে ঘরবাড়ি ও কলকারখানা তৈরি করছে।
দূষণ: যানবাহন ও শিল্প-কারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে বাতাস ও জলকে দূষিত করছে।
ওজোন স্তর ক্ষয়: ফ্রিজ, এসি ও নানা রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা প্রাণিকুলের জন্য সংকট তৈরি করছে।
∆ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৫
১। বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস ও তাদের বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তরঃ ট্রপোস্ফিয়ার: ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে ধুলিকণা ও জলকণা থাকে বলে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি হয়। প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ৬.৫° সেলসিয়াস হারে কমে।
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার: ১৬ থেকে ৫০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে বায়ু শান্ত থাকে বলে জেট প্লেন চলাচল করে। এই স্তরে ২০-২৫ কিমি উচ্চতায় ওজোন স্তর থাকে যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
মেসোস্ফিয়ার: ৫০ থেকে ৮০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। উচ্চতা বাড়ার সাথে তাপমাত্রা কমে। এখানে মহাকাশ থেকে আসা উল্কাপিণ্ড পুড়ে ছাই হয়।
থার্মোস্ফিয়ার: ৮০ থেকে ৩০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে ১২০০° সেলসিয়াসে পৌঁছায়। এখান থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়।
এক্সোস্ফিয়ার: এটি থার্মোস্ফিয়ারের পরের স্তর। এখানে কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশ স্টেশন থাকে। এর পরেই শুরু হয় মহাকাশ।
২। ওজোন স্তর কী ? ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তরঃ পরিচয়: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন গ্যাসের স্তরকে ওজোন স্তর বলে। এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে।
ধ্বংসের কারণ: আধুনিক মানুষের ব্যবহৃত এসি, ফ্রিজ ও বিভিন্ন রাসায়নিক স্প্রে থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস (যেমন- CFC) ওজোন স্তরে পৌঁছে ওজোন অণুগুলোকে ভেঙে দেয়। এর ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে ‘ওজোন ছিদ্র’ তৈরি হয়।
ফলাফল: ওজোন স্তর ধ্বংস হলে সরাসরি অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে আসবে। এতে মানুষের ত্বকের ক্যান্সার ও চোখের সমস্যা দেখা দেবে। উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হবে এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত হবে।
৩। পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ স্তরবিন্যাস বা পৃথিবীর গভীরের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ ভূ-ত্বক: এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের পাতলা শক্ত আবরণ। এটি মূলত শিলা ও মাটি দিয়ে গঠিত। এর ওপরই পাহাড়, নদী ও সমভূমি অবস্থিত।
গুরুমণ্ডল: ভূ-ত্বকের নিচে প্রায় ২৯০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত স্তর। এখানে প্রচণ্ড তাপে শিলা সান্দ্র বা থকথকে অবস্থায় থাকে। এখানকার পরিচলন স্রোতই মহাদেশ সঞ্চরণের প্রধান কারণ।
কেন্দ্রমণ্ডল: পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত স্তর। এটি সবচেয়ে উত্তপ্ত (২০০০°-৪০০০° সে.)। এটি লোহা ও নিকেলের মতো ভারী খনিজ পদার্থ দিয়ে গঠিত। এর বাইরের অংশ তরল ও ভিতরের অংশ কঠিন।
৪। চিত্র ছাড়াই জলচক্রের বিভিন্ন পর্যায়গুলি বর্ণনা করো।
উত্তরঃ বাষ্পীভবন: সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদী ও জলাশয়ের জল বাষ্প হয়ে হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়।
ঘনীভবন: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু উপরে উঠে শীতল বাতাসের সংস্পর্শে আসে এবং ধূলিকণাকে আশ্রয় করে জলকণায় পরিণত হয় ও মেঘ সৃষ্টি করে।
অধঃক্ষেপণ: মেঘের জলকণাগুলি বড় হয়ে অভিকর্ষজ টানে বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি বা তুষাররূপে পৃথিবীতে ফিরে আসে।
প্রবাহ ও সংগ্রহ: বৃষ্টির জল পুনরায় নদী ও ভূগর্ভস্থ পথে প্রবাহিত হয়ে সাগরে গিয়ে মেশে। এই চক্রাকার আবর্তনই হলো জলচক্র। এটি পৃথিবীতে জলের ভারসাম্য ও জীবমণ্ডলের অস্তিত্ব রক্ষা করে।
৫। মহাদেশ সঞ্চরণ বলতে কী বোঝো? প্যানজিয়া ও প্যানথালাসার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ মহাদেশ সঞ্চরণ: আজ থেকে প্রায় সাড়ে ২২ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একটি অখণ্ড ভূখণ্ড ছিল, যার নাম ছিল ‘প্যানজিয়া’। প্রায় ২০ কোটি বছর আগে প্যানজিয়া ভাঙতে শুরু করে এবং টুকরোগুলো ধীর গতিতে বছরে ২-২০ সেমি করে সরে যায়। একেই মহাদেশ সঞ্চরণ বলে।
প্যানজিয়া ও প্যানথালাসা: প্যানজিয়া ছিল বিশাল মহাদেশ এবং একে ঘিরে থাকা জলভাগ ছিল প্যানথালাসা।
গুরুত্ব: মহাদেশ সঞ্চরণের ফলে আটলান্টিক মহাসাগর বড় হচ্ছে এবং প্রশান্ত মহাসাগর ছোট হচ্ছে। ভবিষ্যতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এশিয়ার সাথে ধাক্কা খাবে এবং মানচিত্র বদলে যাবে।
৬। বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming): কারণ ও প্রভাব
উত্তরঃ সংজ্ঞা: বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়াকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
• কারণ—
(i) প্রচুর পরিমাণে বনজঙ্গল ও গাছ কেটে ফেলা।
(ii) কলকারখানা ও যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে মেশা।
• প্রভাব—
(i) উষ্ণতা বাড়ার ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে।
(ii) বরফ গলা জল সমুদ্রে মিশে সমুদ্রের জলস্তর বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে উপকূলীয় এলাকা ডুবে যাওয়ার ভয় থাকছে।
(iii) অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বিধ্বংসী ঝড় ও খরা বাড়ছে।
(iv) বহু উদ্ভিদ ও প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
৭। এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের ভৌগোলিক পরিচয়
উত্তরঃ এশিয়া মহাদেশ—
(i) এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ও সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ (৪৪টি দেশ)।
(ii) পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণী হিমালয় ও উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এখানে অবস্থিত।
(iii) প্রধান নদীগুলো হলো ইয়াংসি ও ওব।
• আফ্রিকা মহাদেশ—
(i) এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ (৫৪টি দেশ)।
(ii) পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি সাহারা এই মহাদেশেই অবস্থিত।
(iii) পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ আফ্রিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
(iv) এই মহাদেশের ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি, মকরক্রান্তি ও নিরক্ষরেখা—তিনটিই গেছে।
৮। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য
উত্তরঃ
• উত্তর আমেরিকা মহাদেশ—
(১) এটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ (২৩টি দেশ)।
(২) এর প্রধান পর্বতশ্রেণী হলো রকি এবং প্রধান নদী হলো মিসিসিপি-মিসৌরি।
(৩) এখানে পৃথিবীর বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ সুপিরিয়র সহ মোট ৫টি বড় হ্রদ আছে।
• দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ—
(১) এটি পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ (১৩টি দেশ)।
(২) পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী আন্দিজ এই মহাদেশের পশ্চিম উপকূল বরাবর অবস্থিত।
(৩) পৃথিবীর বৃহত্তম নদী আমাজন দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
(৪) এই মহাদেশে পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক ও শীতল মরুভূমি প্যাটাগোনিয়া দেখা যায়।
৯। জীবমণ্ডল (Biosphere) কাকে বলে? জীবমণ্ডলের অস্তিত্ব রক্ষায় জল, স্থল ও বাতাসের ভূমিকা লেখো।
উত্তরঃ সংজ্ঞা: জল, স্থল ও বাতাসের যে সংকীর্ণ মিলনস্থলে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে তাকে জীবমণ্ডল বলে। এটি প্রায় ৩৫ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ ও ১৫ লক্ষ প্রজাতির প্রাণীর সমন্বয়।
ভূমিকা—
স্থল: শিলামণ্ডল আমাদের বসবাস ও খাদ্য উৎপাদনের জন্য মাটি ও খনিজ সরবরাহ করে।
জল: বারিমণ্ডল পানীয় জল দেয় এবং জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে প্রাণের বিকাশ ঘটায়।
বাতাস: বায়ুমণ্ডল আমাদের শ্বাসকার্যের জন্য অক্সিজেন দেয় এবং ওজন স্তরের মাধ্যমে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
১০. বর্তমান সময়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণ ও প্রতিকার আলোচনা করো।
উত্তরঃ কারণ: জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত গাছ কাটা, কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও ধোঁয়া এবং প্লাস্টিকের অবাধ ব্যবহার পরিবেশের জল, মাটি ও বাতাসকে দূষিত করছে। ফলে অনেক প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
প্রতিকার: পরিবেশ রক্ষায় আমাদের—
১. বনভূমি বাড়ানো ও গাছ কাটা বন্ধ করা,
২. দূষণমুক্ত শক্তির (সৌরশক্তি) ব্যবহার বাড়ানো,
৩. প্লাস্টিক বর্জন করা এবং
৪. পরিবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কারণ পরিবেশ সুস্থ না থাকলে মানুষের অস্তিত্বও বিলুপ্ত হবে।
📌 আরো দেখোঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here
