আবহাওয়া ও জলবায়ু
সপ্তম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল সপ্তম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর | Class 6 geography Question Answer Ch-7 wbbse
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
আবহাওয়া ও জলবায়ু
সপ্তম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল
∆ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুর অবস্থা হলো— (আবহাওয়া / জলবায়ু / মেঘাচ্ছন্নতা / আর্দ্রতা)।
উত্তরঃ আবহাওয়া।
২. পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু কী প্রকৃতির?— (শীতল / উষ্ণ ও শুষ্ক / উষ্ণ ও আর্দ্র / অতি শীতল)।
উত্তরঃ উষ্ণ ও আর্দ্র।
৩. কোনো অঞ্চলের কত বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে?— (১০-১৫ বছর / ২০-২৫ বছর / ৩০-৩৫ বছর / ৫০-৬০ বছর)।
উত্তরঃ ৩০-৩৫ বছর।
৪. সূর্য থেকে আসা তাপের কত ভাগ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়?— (১০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ / ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ / ৫০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ / ১০০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ)।
উত্তরঃ ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ।
৫. আগত সৌর বিকিরণকে কী বলা হয়?— (Insolation / Albedo / Radiation / Convection)।
উত্তরঃ Insolation।
৬. কার্যকরী সৌর বিকিরণের পরিমাণ কত?— (৪৫% / ৫১% / ৪৯% / ৩৫%)।
উত্তরঃ ৫১%।
৭. সূর্যরশ্মির যে অংশ বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়, তাকে বলে— (অ্যালবেডো / তাপফল / বিকিরণ / পরিবহন)।
উত্তরঃ অ্যালবেডো।
৮. পৃথিবী থেকে ফিরে যাওয়া তাপকে কী বলা হয়?— (সৌর বিকিরণ / মহাজাগতিক বিকিরণ / পার্থিব বিকিরণ / পরিচলন)।
উত্তরঃ পার্থিব বিকিরণ।
৯. বায়ুস্তর সূর্যরশ্মি দ্বারা সরাসরি উত্তপ্ত হয় না কোন পদ্ধতিতে?— (পরিবহন / বিকিরণ / পরিচলন / কোনোটিই নয়)।
উত্তরঃ বিকিরণ।
১০. তাপের পরিমাণ মাপা হয় কোন এককে?— (ডিগ্রি / ক্যালোরি / তাপমাত্রা / শক্তি)।
উত্তরঃ তাপমাত্রা বা উষ্ণতা।
১১. তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালনের পদ্ধতিটি হলো— (পরিবহন / বিকিরণ / পরিচলন / শোষণ)।
উত্তরঃ পরিচলন।
১২. কোনো স্থানের ২৪ ঘণ্টার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যকে বলে— (বার্ষিক উষ্ণতার প্রসার / দৈনিক উষ্ণতার প্রসার / গড় তাপমাত্রা / চরম তাপমাত্রা)।
উত্তরঃ দৈনিক উষ্ণতার প্রসার।
১৩. বায়ুর উষ্ণতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?— (ব্যারোমিটার / হাইগ্রোমিটার / থার্মোমিটার / রেনগজ)।
উত্তরঃ থার্মোমিটার।
১৪. একদিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাপার জন্য কোন থার্মোমিটার ব্যবহৃত হয়?— (সিক্স-এর থার্মোমিটার / ক্লিনিকাল থার্মোমিটার / ডিজিটাল থার্মোমিটার / ল্যাবরেটরি থার্মোমিটার)।
উত্তরঃ সিক্স-এর থার্মোমিটার।
১৫. সেলসিয়াস স্কেলে জল কত ডিগ্রি উষ্ণতায় জমে বরফ হয়?— (৩২° / ১০০° / ০° / ২১২°)।
উত্তরঃ ০°।
১৬. ফারেনহাইট স্কেলে জল কত ডিগ্রি উষ্ণতায় ফুটে বাষ্প হয়?— (১০০° / ২১২° / ৩২° / ৮০°)।
উত্তরঃ ২১২°।
১৭. বায়ুতে থাকা জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে কী বলা হয়?— (আর্দ্রতা / চাপ / কুয়াশা / বৃষ্টিপাত)।
উত্তরঃ আর্দ্রতা।
১৮. বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?— (ব্যারোমিটার / থার্মোমিটার / হাইগ্রোমিটার / অ্যানিমোমিটার)।
উত্তরঃ হাইগ্রোমিটার।
১৯. বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম কী?— (ফর্টিন ব্যারোমিটার / রেনগজ / বাতপতাকা / হাইগ্রোমিটার)।
উত্তরঃ ফর্টিন ব্যারোমিটার।
২০. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ কত থাকে?— (সবচেয়ে কম / সবচেয়ে বেশি / মাঝারি / থাকে না)।
উত্তরঃ সবচেয়ে বেশি।
২১. বায়ু কোন দিক থেকে কোন দিকে প্রবাহিত হয়?— (নিম্নচাপ থেকে উচ্চচাপ / উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ / স্থির থাকে / উত্তর থেকে দক্ষিণ)।
উত্তরঃ উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে।
২২. বায়ুর দিক মাপার যন্ত্রের নাম কী?— (অ্যানিমোমিটার / বাতপতাকা / ব্যারোমিটার / থার্মোমিটার)।
উত্তরঃ বাতপতাকা।
২৩. বায়ুর গতিবেগ মাপার যন্ত্রের নাম কী?— (অ্যানিমোমিটার / বাতপতাকা / হাইগ্রোমিটার / রেনগজ)।
উত্তরঃ অ্যানিমোমিটার।
২৪. আকাশ যখন সম্পূর্ণ মেঘে ঢাকা থাকে তখন মেঘাচ্ছন্নতার পরিমাণ কত?— (০% / ২৫% / ৭৫% / ১০০%)।
উত্তরঃ ১০০%।
২৫. মেঘাচ্ছন্নতার পরিমাপকে ইংরেজিতে কী বলে?— (Humidity / Rainfall / Cloud Cover / Pressure)।
উত্তরঃ Cloud Cover।
২৬. জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ছোট ছোট জলকণায় পরিণত হওয়াকে কী বলে?— (অধঃক্ষেপণ / তুষারপাত / কুয়াশা / মেঘ)।
উত্তরঃ মেঘ।
২৭. বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা ০° সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে কী হয় ?— (বৃষ্টিপাত / তুষারপাত / শিলাবৃষ্টি / কুয়াশা)।
উত্তরঃ তুষারপাত।
২৮. বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্রের নাম কী?— (রেনগজ / ব্যারোমিটার / অ্যানিমোমিটার / হাইগ্রোমিটার)।
উত্তরঃ রেনগজ।
২৯. সাহারা মরুভূমিতে দীর্ঘকাল বৃষ্টি না হওয়া কিসের উদাহরণ?— (আবহাওয়া / জলবায়ু / মেঘাচ্ছন্নতা / আর্দ্রতা)।
উত্তরঃ জলবায়ু।
৩০. গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ২০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে— এটি কিসের খবর?— (আবহাওয়া / জলবায়ু / ঋতু / কোনটিই নয়)।
উত্তরঃ আবহাওয়া।
৩১. আবহাওয়ার পূর্বাভাস (Weather Forecast) দেওয়া হয় কোথা থেকে?— (পুলিশ স্টেশন / পোস্ট অফিস / আবহাওয়া অফিস / স্কুল)।
উত্তরঃ আবহাওয়া অফিস।
৩২. সূর্যরশ্মি পৃথিবীর ওপর কীভাবে পড়লে উষ্ণতা বেশি হয়?— (তির্যকভাবে / লম্বভাবে / সমান্তরালভাবে / বক্রভাবে)।
উত্তরঃ লম্বভাবে।
৩৩. সূর্যরশ্মি পৃথিবীর পৃষ্ঠের সাথে যে কোণ তৈরি করে তাকে কী বলে?— (পতনকোণ / প্রতিফলন কোণ / প্রতিসরণ কোণ / সমকোণ)।
উত্তরঃ পতনকোণ।
৩৪. প্রতি কত মিটার উচ্চতায় ১° সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা কমে যায়?— (১৬৫ মিটার / ৫০০ মিটার / ১০০০ মিটার / ১৫০০ মিটার)।
উত্তরঃ ১৬৫ মিটার।
৩৫. প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা হ্রাসের হার কত?— (৬.৫° সেলসিয়াস / ৫.৫° সেলসিয়াস / ৪.৫° সেলসিয়াস / ৭.৫° সেলসিয়াস)।
উত্তরঃ ৬.৫° সেলসিয়াস।
৩৬. সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু কেমন হয়?— (চরমভাবাপন্ন / সমভাবাপন্ন / খুব শীতল / খুব উষ্ণ)।
উত্তরঃ সমভাবাপন্ন।
৩৭. মানচিত্রে সমান গড় উষ্ণতাযুক্ত রেখাকে কী বলে?— (সমচাপ রেখা / সমবর্ষণ রেখা / সমোষ্ণরেখা / সমবৃষ্টি রেখা)।
উত্তরঃ সমোষ্ণরেখা (Isotherm)।
৩৮. নিরক্ষরেখার উভয় দিকে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মাঝের অঞ্চলকে কী বলে?— (নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল / হিমমণ্ডল / উষ্ণমণ্ডল / মেরু অঞ্চল)।
উত্তরঃ উষ্ণমণ্ডল।
৩৯. সুমেরুবৃত্ত থেকে উত্তর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলটি কোন মণ্ডলের অন্তর্গত?— (উষ্ণমণ্ডল / নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল / হিমমণ্ডল / কোনোটিই নয়)।
উত্তরঃ হিমমণ্ডল।
৪০. উত্তর গোলার্ধের তুলনায় দক্ষিণ গোলার্ধে সমোষ্ণরেখাগুলো দূরে দূরে অবস্থান করে কেন?— (বেশি স্থলভাগ থাকায় / বেশি জলভাগ থাকায় / পাহাড় থাকায় / মরুভূমি থাকায়)।
উত্তরঃ জলভাগ বেশি থাকায়।
∆ শূন্যস্থান পূরণ করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. কোনো অঞ্চলের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে বলে ____________।
উত্তরঃ জলবায়ু।
২. সূর্যরশ্মির ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, একে বলে ____________।
উত্তরঃ ইনসোলেশন (Insolation)।
৩. সূর্যরশ্মির যে ৩৫ শতাংশ অংশ বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করে মহাশূন্যে ফিরে যায় তাকে বলে ____________।
উত্তরঃ অ্যালবেডো।
৪. আগত সৌর বিকিরণের ____________ শতাংশ পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে।
উত্তরঃ ৫১।
৫. উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলে তাপ ফিরে যাওয়ার পদ্ধতিকে বলে ____________।
উত্তরঃ বিকিরণ।
৬. বায়ুস্তর উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতি হলো ____________।
উত্তরঃ পরিবহন।
৭. বায়ুর উলম্ব চলাচলের মাধ্যমে পুরো পাত্রের জল গরম হওয়ার মতো বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতি হলো ____________।
উত্তরঃ পরিচলন।
৮. তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো তাপের ____________।
উত্তরঃ পরিমাণ।
৯. কোনো স্থানের একদিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য হলো ওই স্থানের ____________।
উত্তরঃ দৈনিক উষ্ণতার প্রসার।
১০. বায়ুর উষ্ণতা মাপার জন্য ____________ ব্যবহার করা হয়।
উত্তরঃ থার্মোমিটার।
১১. ফারেনহাইট স্কেলে জল ____________ ডিগ্রি উষ্ণতায় জমে বরফে পরিণত হয়।
উত্তরঃ ৩২।
১২. নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে, তাই হলো বায়ুর ____________।
উত্তরঃ আর্দ্রতা।
১৩. বায়ুর আর্দ্রতা মাপা হয় ____________ যন্ত্রের সাহায্যে।
উত্তরঃ হাইগ্রোমিটার।
১৪. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ সবথেকে ____________ হয়।
উত্তরঃ বেশি।
১৫. বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ____________।
উত্তরঃ ফর্টিন ব্যারোমিটার।
১৬. ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বায়ুর প্রবাহ হলো ____________।
উত্তরঃ বায়ুপ্রবাহ।
১৭. বায়ু সব সময় ____________ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
উত্তরঃ উচ্চচাপ।
১৮. বায়ুপ্রবাহের দিক মাপা হয় ____________ দিয়ে।
উত্তরঃ বাতপতাকা।
১৯. বায়ুর গতিবেগ মাপা হয় ____________ যন্ত্র দিয়ে।
উত্তরঃ অ্যানিমোমিটার।
২০. আকাশে মেঘের পরিমাণের পরিমাপই হলো ____________।
উত্তরঃ মেঘাচ্ছন্নতা।
২১. ৭৫% মেঘাচ্ছন্নতা মানে হলো আকাশ ____________।
উত্তরঃ প্রায় মেঘলা।
২২. বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণাকে কেন্দ্র করে জলীয় বাষ্প জমাট বেঁধে ____________ তৈরি হয়।
উত্তরঃ মেঘ।
২৩. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাপার যন্ত্রের নাম ____________।
উত্তরঃ রেনগজ।
২৪. কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবহাওয়া অফিস আবহাওয়ার ____________ জানায়।
উত্তরঃ পূর্বাভাস।
২৫. সূর্যরশ্মি পৃথিবীর পৃষ্ঠের সাথে যে কোণ তৈরি করে তাকে বলে ____________।
উত্তরঃ পতনকোণ।
২৬. প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ____________ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে কমে যায়।
উত্তরঃ ৬.৫।
২৭. পৃথিবীর মানচিত্রে সমান গড় উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলোকে যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় তাকে বলে ____________।
উত্তরঃ সমোষ্ণরেখা।
২৮. নিরক্ষরেখার উভয় দিকে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মাঝের অঞ্চল হলো ____________।
উত্তরঃ উষ্ণমণ্ডল।
২৯. উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর চারপাশের অতি শীতল অঞ্চলটি হলো ____________।
উত্তরঃ হিমমণ্ডল।
৩০. সমুদ্রের ধারের জলবায়ু হয় ____________ প্রকৃতির।
উত্তরঃ সমভাবাপন্ন।
∆ সত্য বা মিথ্যা নির্ণয় কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. আবহাওয়া প্রতিদিন এমনকি প্রতি মুহূর্তে বদলাতে পারে।
উত্তরঃ সত্য।
২. কোনো অঞ্চলের অন্তত ৫০ বছরের আবহাওয়ার গড় হলো জলবায়ু।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: ৩০-৩৫ বছর)
৩. সূর্য থেকে আসা তাপের সবটাই ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: মাত্র ৫১ শতাংশ)
৪. অ্যালবেডো বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করতে পারে না।
উত্তরঃ সত্য।
৫. বিকিরণ পদ্ধতিতে সূর্য থেকে তাপ সরাসরি পৃথিবীতে আসে।
উত্তরঃ সত্য।
৬. থার্মোমিটারের সাহায্যে বায়ুর চাপ মাপা হয়।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: বায়ুর উষ্ণতা মাপা হয়)
৭. সেলসিয়াস স্কেলে জল ১০০° ডিগ্রি উষ্ণতায় ফুটতে শুরু করে।
উত্তরঃ সত্য।
৮. বায়ুতে জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে তাকে আর্দ্র বায়ু বলে।
উত্তরঃ সত্য।
৯. হাইগ্রোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর গতিবেগ মাপা হয়।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: বায়ুর আর্দ্রতা মাপা হয়)
১০. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ সবথেকে কম হয়।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: সবথেকে বেশি হয়)
১১. নিম্নচাপ হলে সাধারণত পরিষ্কার ও শান্ত আবহাওয়া দেখা যায়।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: ঝড়-বৃষ্টি বা অশান্ত আবহাওয়া দেখা যায়)
১২. বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
উত্তরঃ সত্য।
১৩. বাতপতাকার সাহায্যে বায়ুর প্রবাহের দিক জানা যায়।
উত্তরঃ সত্য।
১৪. ০% মেঘাচ্ছন্নতা মানে হলো আকাশ সম্পূর্ণ মেঘলা।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: পরিষ্কার আকাশ)
১৫. রেনগজ যন্ত্রের সাহায্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাপা হয়।
উত্তরঃ সত্য।
১৬. সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়লে সেখানে উষ্ণতা বেশি হয়।
উত্তরঃ সত্য।
১৭. প্রতি ১৬৫ মিটার উচ্চতায় ১° সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বাড়ে।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: তাপমাত্রা কমে)
১৮. সমোষ্ণরেখাগুলো একে অপরকে ছেদ করতে পারে না।
উত্তরঃ সত্য।
১৯. নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারা বছর তির্যকভাবে পড়ে।
উত্তরঃ মিথ্যা। (সঠিক উত্তর: লম্বভাবে পড়ে)
২০. হিমমণ্ডলে সারা বছর প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে।
উত্তরঃ সত্য।
∆ বামদিক ও ডান দিক মেলাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১ নম্বর সেট
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ |
| (ক) বায়ুর উষ্ণতা | (১) অ্যানিমোমিটার |
| (খ) বায়ুর চাপ | (২) হাইগ্রোমিটার |
| (গ) বায়ুর আর্দ্রতা | (৩) থার্মোমিটার |
| (ঘ) বায়ুর গতিবেগ | (৪) রেনগজ |
| (ঙ) বৃষ্টিপাত | (৫) ফর্টিন ব্যারোমিটার |
উত্তরঃ (ক)-(৩), (খ)-(৫), (গ)-(২), (ঘ)-(১), (ঙ)-(৪)।
২ নম্বর সেট
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ |
| (ক) ০% মেঘাচ্ছন্নতা | (১) প্রায় মেঘলা আকাশ |
| (খ) ২৫% মেঘাচ্ছন্নতা | (২) সম্পূর্ণ মেঘলা আকাশ |
| (গ) ৭৫% মেঘাচ্ছন্নতা | (৩) ইনসোলেশন |
| (ঘ) ১০০% মেঘাচ্ছন্নতা | (৪) পরিষ্কার আকাশ |
| (ঙ) আগত সৌর বিকিরণ | (৫) আংশিক মেঘলা আকাশ |
উত্তরঃ (ক)-(৪), (খ)-(৫), (গ)-(১), (ঘ)-(২), (ঙ)-(৩)।
৩ নম্বর সেট
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ |
| (ক) অ্যালবেডো | (১) সমভাবাপন্ন জলবায়ু |
| (খ) নিম্নচাপ | (২) ৩৫ শতাংশ |
| (গ) উচ্চচাপ | (৩) চরমভাবাপন্ন জলবায়ু |
| (ঘ) সমুদ্রের ধার | (৪) ঝড়-বৃষ্টি ও অশান্ত আবহাওয়া |
| (ঙ) সমুদ্র থেকে দূরে | (৫) পরিষ্কার আকাশ ও শান্ত আবহাওয়া |
উত্তরঃ (ক)-(২), (খ)-(৪), (গ)-(৫), (ঘ)-(১), (ঙ)-(৩)।
৪ নম্বর সেট
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ |
| (ক) সেলসিয়াস স্কেলে হিমাঙ্ক | (১) ২১২° ফারেনহাইট |
| (খ) ফারেনহাইট স্কেলে হিমাঙ্ক | (২) ১০০° সেলসিয়াস |
| (গ) সেলসিয়াস স্কেলে স্ফুটনাঙ্ক | (৩) ০° সেলসিয়াস |
| (ঘ) ফারেনহাইট স্কেলে স্ফুটনাঙ্ক | (৪) বাতপতাকা |
| (ঙ) বায়ুর প্রবাহের দিক | (৫) ৩২° ফারেনহাইট |
উত্তরঃ (ক)-(৩), (খ)-(৫), (গ)-(২), (ঘ)-(১), (ঙ)-(৪)।
৫ নম্বর সেট
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ |
| (ক) লম্ব সূর্যরশ্মি | (১) হিমমণ্ডল |
| (খ) অত্যন্ত তির্যক সূর্যরশ্মি | (২) ১৬৫ মিটার উচ্চতা |
| (গ) ১° সেলসিয়াস উষ্ণতা হ্রাস | (৩) সমোষ্ণরেখা |
| (ঘ) সমান উষ্ণতাযুক্ত রেখা | (৪) উষ্ণমণ্ডল |
| (ঙ) আবহাওয়ার পূর্বাভাস | (৫) আবহাওয়া অফিস |
উত্তরঃ (ক)-(৪), (খ)-(১), (গ)-(২), (ঘ)-(৩), (ঙ)-(৫)।
∆ এক কথায় উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে কোনটি সদা পরিবর্তনশীল?
উত্তরঃ আবহাওয়া।
২. পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু কী প্রকৃতির ?
উত্তরঃ ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির।
৩. সূর্যের আগত সৌর বিকিরণকে এককথায় কী বলে?
উত্তরঃ ইনসোলেশন (Insolation)।
৪. বায়ুমণ্ডল সরাসরি সূর্যরশ্মি দ্বারা উত্তপ্ত হয় না— এটি কোন পদ্ধতি?
উত্তরঃ বিকিরণ।
৫. ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে থাকা বায়ুস্তর কোন পদ্ধতিতে উত্তপ্ত হয়?
উত্তরঃ পরিবহন।
৬. বায়ুর পরিচলন স্রোতের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতি কোনটি?
উত্তরঃ পরিচলন।
৭. তাপ মাপা হয় কোন এককে?
উত্তরঃ ক্যালোরি।
৮. তাপমাত্রার পরিমাপকে কী বলা হয়?
উত্তরঃ উষ্ণতা।
৯. একদিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্যকে কী বলে?
উত্তরঃ দৈনিক উষ্ণতার প্রসার।
১০. বায়ুর উষ্ণতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তরঃ থার্মোমিটার।
১১. সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাপার বিশেষ থার্মোমিটারের নাম কী?
উত্তরঃ সিক্স-এর থার্মোমিটার।
১২. ফারেনহাইট স্কেলে হিমাঙ্ক বা বরফ জমার তাপমাত্রা কত ?
উত্তরঃ ৩২° ফারেনহাইট।
১৩. সেলসিয়াস স্কেলে জল ফোটার তাপমাত্রা কত ?
উত্তরঃ ১০০° সেলসিয়াস।
১৪. বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কী ?
উত্তরঃ হাইগ্রোমিটার।
১৫. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ কেমন থাকে ?
উত্তরঃ সবচেয়ে বেশি।
১৬. বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তরঃ ফর্টিন ব্যারোমিটার।
১৭. আকাশ পরিষ্কার ও শান্ত থাকে কোন চাপে?
উত্তরঃ উচ্চচাপে।
১৮. ঝড়-বৃষ্টি ও অশান্ত আবহাওয়া তৈরি হয় কোন চাপে?
উত্তরঃ নিম্নচাপে।
১৯. বায়ুর দিক মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তরঃ বাতপতাকা।
২০. বায়ুর গতিবেগ মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তরঃ অ্যানিমোমিটার।
২১. আকাশে মেঘের পরিমাণের পরিমাপকে কী বলে?
উত্তরঃ মেঘাচ্ছন্নতা (Cloud Cover)।
২২. আকাশ ২৫% মেঘে ঢাকা থাকলে তাকে কী বলে?
উত্তরঃ আংশিক মেঘলা আকাশ।
২৩. ১০০% মেঘাচ্ছন্নতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ সম্পূর্ণ মেঘলা আকাশ।
২৪. মেঘ তৈরি হয় কী থেকে?
উত্তরঃ জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে।
২৫. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তরঃ রেনগজ।
২৬. আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয় কোন অফিস থেকে?
উত্তরঃ আবহাওয়া অফিস।
২৭. আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহের জন্য মহাকাশে কী পাঠানো হয়?
উত্তরঃ কৃত্রিম উপগ্রহ।
২৮. সূর্যরশ্মি পৃথিবীর সাথে যে কোণ তৈরি করে তাকে কী বলে?
উত্তরঃ পতনকোণ।
২৯. সূর্যরশ্মি কোথায় সারা বছর লম্বভাবে পড়ে?
উত্তরঃ নিরক্ষীয় অঞ্চলে।
৩০. উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বায়ুর উষ্ণতা কমে না বাড়ে?
উত্তরঃ কমে।
৩১. প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় কত ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে?
উত্তরঃ ৬.৫° সেলসিয়াস।
৩২. সমুদ্রের ধারের জলবায়ুকে কী বলা হয়?
উত্তরঃ সমভাবাপন্ন জলবায়ু।
৩৩. সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত অঞ্চলের জলবায়ুকে কী বলে?
উত্তরঃ চরমভাবাপন্ন জলবায়ু।
৩৪. মানচিত্রে সমান উষ্ণতাযুক্ত রেখাকে কী বলে?
উত্তরঃ সমোষ্ণরেখা।
৩৫. সূর্যরশ্মির পতনকোণের ভিত্তিতে পৃথিবীকে কয়টি তাপমন্ডলে ভাগ করা হয়?
উত্তরঃ তিনটি।
৩৬. কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মাঝের অঞ্চলকে কী বলে?
উত্তরঃ উষ্ণমণ্ডল।
৩৭. উষ্ণমণ্ডলের উত্তর ও দক্ষিণে কোন মণ্ডল অবস্থিত?
উত্তরঃ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল।
৩৮. পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল তাপমণ্ডল কোনটি?
উত্তরঃ হিমমণ্ডল।
৩৯. দক্ষিণ গোলার্ধে সমোষ্ণরেখাগুলো দূরে দূরে থাকে কেন?
উত্তরঃ জলভাগ বেশি থাকায়।
৪০. ‘অ্যালবেডো’ এর পরিমাণ কত শতাংশ?
উত্তরঃ ৩৫ শতাংশ।
∆ সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২
১. আবহাওয়া বলতে কী বোঝ ?
উত্তরঃ কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুর উষ্ণতা, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা এবং মেঘাচ্ছন্নতার অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। এটি প্রতিদিন বা প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে পারে।
২. জলবায়ু কাকে বলে ?
উত্তরঃ কোনো একটি বিশাল অঞ্চলের অন্তত ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে। জলবায়ু খুব ধীরে পরিবর্তিত হয় এবং এটি একটি অঞ্চলের স্থায়ী অবস্থা।
৩. ইনসোলেশন (Insolation) বা আগত সৌর বিকিরণ কী?
উত্তরঃ সূর্য থেকে আগত তাপের ২০০ কোটি ভাগের মাত্র ১ ভাগ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। একেই ইনসোলেশন বা আগত সৌর বিকিরণ বলে।
৪. কার্যকরী সৌর বিকিরণ কাকে বলে?
উত্তরঃ আগত সৌর বিকিরণকে ১০০ শতাংশ ধরলে তার মাত্র ৫১ শতাংশ ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করতে কাজে লাগে। একেই কার্যকরী সৌর বিকিরণ বলে।
৫. অ্যালবেডো (Albedo) কী?
উত্তরঃ আগত সৌর বিকিরণের যে ৩৫ শতাংশ তাপ বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়, তাকে অ্যালবেডো বলে।
৬. পার্থিব বিকিরণ বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ দিনের বেলা ভূপৃষ্ঠ যে তাপ গ্রহণ করে, রাতে সেই তাপ আবার মহাকাশে ফিরে যায়। পৃথিবী থেকে ফিরে যাওয়া এই তাপকেই পার্থিব বিকিরণ বলে।
৭. বিকিরণ পদ্ধতি বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ কোনো মাধ্যম ছাড়াই বা মাধ্যম থাকলেও তাকে উত্তপ্ত না করে যখন তাপ এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে সঞ্চারিত হয়, তাকে বিকিরণ পদ্ধতি বলে। সূর্য থেকে এই পদ্ধতিতে পৃথিবী উত্তপ্ত হয়।
৮. পরিবহন পদ্ধতি কী?
উত্তরঃ উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে যখন তার সংলগ্ন শীতল বায়ুস্তর উত্তপ্ত হয় এবং সেই তাপ ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে পরিবহন পদ্ধতি বলে।
৯. পরিচলন পদ্ধতি কাকে বলে?
উত্তরঃ ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় এবং ওপরের শীতল বায়ু নিচে নেমে আসে। এভাবে চক্রাকারে বায়ু উত্তপ্ত হওয়ার পদ্ধতিকে পরিচলন বলে।
১০. দৈনিক উষ্ণতার প্রসার বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ কোনো নির্দিষ্ট স্থানের একটি দিনের (২৪ ঘণ্টা) সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায়, তাকে ওই স্থানের দৈনিক উষ্ণতার প্রসার বলে।
১১. সিক্স-এর থার্মোমিটারের কাজ কী?
উত্তরঃ কোনো একটি দিনের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাপার জন্য সিক্স-এর থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়। এর সাহায্যে আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়।
১২. বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে?
উত্তরঃ নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প মিশে থাকে, তাকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। এটি হাইগ্রোমিটার যন্ত্র দিয়ে মাপা হয়।
১৩. বায়ুর চাপ কেন হয়?
উত্তরঃ বায়ুর নির্দিষ্ট ওজন আছে। পৃথিবীর ওপর বায়ু যে বল প্রয়োগ করে তাকেই বায়ুর চাপ বলে। উচ্চতা বাড়লে বায়ুর চাপ কমে যায়।
১৪. উচ্চচাপ ও নিম্নচাপের মধ্যে পার্থক্য কী ?
উত্তরঃ বায়ুর চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চচাপ (শান্ত আবহাওয়া) এবং বায়ুর চাপ আশপাশের তুলনায় কমে গেলে তাকে নিম্নচাপ (ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা) বলে।
১৫. বায়ুপ্রবাহ কেন ঘটে?
উত্তরঃ বায়ুর সব জায়গায় চাপ সমান রাখার জন্য উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বাতাস প্রবাহিত হয়। একেই বায়ুপ্রবাহ বলে।
১৬. বাতপতাকা ও অ্যানিমোমিটারের মধ্যে তফাত কী?
উত্তরঃ বাতপতাকার সাহায্যে বায়ুর প্রবাহের দিক (উত্তর/দক্ষিণ) মাপা হয়, আর অ্যানিমোমিটারের সাহায্যে বায়ুর গতিবেগ (গতি কত) মাপা হয়।
১৭. মেঘ কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তরঃ জলীয় বাষ্পপূর্ণ হালকা বাতাস ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে ধূলিকণাকে আশ্রয় করে জলকণায় পরিণত হয়। এই জলকণাগুলি আকাশে ভেসে থেকে মেঘ তৈরি করে।
১৮. তুষারপাত কেন হয় ?
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা যখন ০° সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়, তখন জলকণা বরফে পরিণত হয়ে নিচে পড়ে। একেই তুষারপাত বলে।
১৯. মেঘাচ্ছন্নতা (Cloud Cover) কী?
উত্তরঃ আকাশ কতটা মেঘে ঢাকা আছে তার শতাংশের হিসাবকেই মেঘাচ্ছন্নতা বলে। এটি সাধারণত ০%, ২৫%, ৭৫% বা ১০০% হিসেবে বোঝানো হয়।
২০. আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া কেমন থাকবে (যেমন—বৃষ্টির সম্ভাবনা বা ঝড়ের সতর্কবার্তা), তা আগে থেকে জানানোকেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলে।
২১. সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ু কী?
উত্তরঃ দিনের বেলা সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে প্রবাহিত বাতাস হলো সমুদ্রবায়ু। রাতের বেলা স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত বাতাস হলো স্থলবায়ু।
২২. সূর্যরশ্মির পতনকোণ উষ্ণতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
উত্তরঃ সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়লে অল্প জায়গায় বেশি তাপ দেয় (উষ্ণতা বাড়ে), আর তির্যকভাবে পড়লে বেশি জায়গায় ছড়িয়ে যায় বলে তাপ কম হয় (উষ্ণতা কমে)।
২৩. সমভাবাপন্ন জলবায়ু কাকে বলে?
উত্তরঃ সমুদ্রের কাছে অবস্থিত অঞ্চলগুলিতে জল ও স্থলের প্রভাবে আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ থাকে, অর্থাৎ খুব গরম বা খুব ঠান্ডা লাগে না। একে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।
২৪. চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত অঞ্চলগুলিতে গরমের সময় খুব গরম এবং শীতের সময় খুব ঠান্ডা পড়ে। একে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।
২৫. উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে কেন?
উত্তরঃ ভূপৃষ্ঠ আগে উত্তপ্ত হয় এবং পরে তা ওপরের বায়ুস্তরকে উত্তপ্ত করে। এছাড়া ওপরের দিকে বায়ু হালকা হয় বলে তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।
২৬. সমোষ্ণরেখা (Isotherm) বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ পৃথিবীর মানচিত্রে সমান গড় উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলোকে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমোষ্ণরেখা বলে।
২৭. উষ্ণমণ্ডল কাকে বলে?
উত্তরঃ নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মাঝের অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়। একে উষ্ণমণ্ডল বলে।
২৮. নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ উষ্ণমণ্ডল ও হিমমণ্ডলের মাঝখানের অঞ্চল যেখানে খুব গরম বা খুব ঠান্ডা পড়ে না, তাকে নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল বলে।
২৯. হিমমণ্ডল কাকে বলে?
উত্তরঃ সুমেরু ও কুমেরু বৃত্ত থেকে মেরুবিন্দু পর্যন্ত অঞ্চলে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে। ফলে এখানে সারাবছর প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে। একেই হিমমণ্ডল বলে।
৩০. আবহাওয়া অফিস কেন প্রয়োজন?
উত্তরঃ আবহাওয়া অফিস আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে ঝড়, বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দেয়, যা সাধারণ মানুষ এবং মৎস্যজীবীদের সতর্ক করতে সাহায্য করে।
∆ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্ন উত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৩
১. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
স্থায়িত্ব: আবহাওয়া কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের (কয়েক ঘণ্টা বা এক দিন) বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা, কিন্তু জলবায়ু কোনো অঞ্চলের অন্তত ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
পরিবর্তন: আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং এটি প্রতি মুহূর্তে বা দিনে দিনে বদলাতে পারে, কিন্তু জলবায়ু দীর্ঘ সময়ের ফল এবং এটি সহজে পরিবর্তিত হয় না।
ব্যাপ্তি: আবহাওয়া সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ছোট অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে, কিন্তু জলবায়ু একটি বিশাল ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকে।
২. আগত সৌর বিকিরণ বা ইনসোলেশনের তিনটি গুরুত্ব লেখো।
তাপের উৎস: সূর্যরশ্মির ক্ষুদ্র তরঙ্গরূপী এই তাপই পৃথিবীর সমস্ত শক্তির মূল উৎস এবং এটি ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে।
আলোকশক্তি: ইনসোলেশন পৃথিবীকে আলোকিত করে এবং উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ: ইনসোলেশনের তারতম্যের কারণেই বায়ুর উষ্ণতা, চাপ এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন ঘটে যা বিভিন্ন আবহাওয়া তৈরি করে।
৩. অ্যালবেডো (Albedo) সম্পর্কে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লেখো।
পরিমাণ: সূর্য থেকে আসা মোট তাপের প্রায় ৩৫ শতাংশ বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়।
উত্তাপের সাথে সম্পর্ক: অ্যালবেডো ভূপৃষ্ঠ বা বায়ুমণ্ডলকে কোনোভাবেই উত্তপ্ত করতে পারে না, এটি কেবল মহাকাশে প্রতিফলিত হয়।
প্রতিফলক: মেঘপুঞ্জ (২৫%), বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণা (৮%) এবং ভূপৃষ্ঠ বা বরফ (২%) দ্বারা এই প্রতিফলন ঘটে।
৪. বিকিরণ পদ্ধতিতে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে লেখো।
ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হওয়া: সূর্য থেকে আসা ক্ষুদ্র তরঙ্গরূপী তাপ প্রথমে সরাসরি বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে।
পার্থিব বিকিরণ: উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ পরবর্তীকালে দীর্ঘ তরঙ্গের আকারে তাপ মহাকাশে ফিরিয়ে দেয়, যাকে পার্থিব বিকিরণ বলে।
বায়ুস্তর উত্তপ্ত হওয়া: এই ফিরে যাওয়া তাপ বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর থেকে ওপরের দিকে ক্রমশ উত্তপ্ত করতে শুরু করে।
৫. বায়ুমণ্ডলের ‘পরিচলন’ পদ্ধতির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
বায়ুর চলাচল: ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায় এবং ওপরের শীতল ও ভারী বায়ু নিচে নেমে আসে।
উষ্ণতা বণ্টন: এই চক্রাকার পদ্ধতিতে বায়ুর অণুগুলো নিজেরাই স্থানান্তরের মাধ্যমে তাপকে ওপরের স্তরে পৌঁছে দেয়।
প্রভাব: মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চলে এবং মেঘ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই পরিচলন পদ্ধতি সবথেকে বেশি কার্যকরী ভূমিকা নেয়।
৬. দৈনিক উষ্ণতার প্রসার সম্পর্কে তিনটি বিষয় আলোচনা করো।
সংজ্ঞা: কোনো স্থানের একটি নির্দিষ্ট দিনের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধানকে ওই স্থানের দৈনিক উষ্ণতার প্রসার বলে।
আবহাওয়ার প্রকৃতি: এই প্রসারের মাধ্যমে বোঝা যায় কোনো জায়গায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার ফারাক কতটা তীব্র।
উদাহরণ: মরু অঞ্চলে দৈনিক উষ্ণতার প্রসার খুব বেশি হয় (দিনে প্রচণ্ড গরম ও রাতে খুব ঠান্ডা), কিন্তু সমুদ্র উপকূলে এটি অনেক কম হয়।
৭. বায়ুর উষ্ণতা মাপক সিক্স-এর থার্মোমিটারের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উভয় তাপমাত্রা: এই বিশেষ থার্মোমিটারের সাহায্যে একই সঙ্গে দিনের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়।
নকশা: এতে ইউ (U) আকৃতির একটি কাচনল থাকে যার দুই প্রান্তে দুটি আলাদা স্কেল ও সূচক থাকে।
ব্যবহার: আবহাওয়া দপ্তরে ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার রেকর্ড রাখার জন্য এই যন্ত্রটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৮. বায়ুর আর্দ্রতা আমাদের জীবনে কী প্রভাব ফেলে ?
স্বস্তি ও অস্বস্তি: বাতাসে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে (বর্ষাকাল) শরীর থেকে ঘাম শুকাতে চায় না এবং চরম অস্বস্তি তৈরি হয়।
বস্ত্র শুষ্ককরণ: বায়ু শুষ্ক হলে জামাকাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়, কিন্তু আর্দ্র বায়ুতে জামাকাপড় শুকাতে অনেক সময় নেয়।
তাত্ক্ষণিক আবহাওয়া: বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে মেঘ তৈরি হয় এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
৯. বায়ুর উচ্চচাপ ও নিম্নচাপের তিনটি পার্থক্য লেখো।
অবস্থা: উচ্চচাপ অঞ্চলে বায়ু শীতল ও ভারী হয়ে নিচে নেমে আসে, কিন্তু নিম্নচাপ অঞ্চলে বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়।
আবহাওয়ার ধরন: উচ্চচাপে আকাশ পরিষ্কার ও শান্ত থাকে, কিন্তু নিম্নচাপে মেঘলা আকাশ ও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দেয়।
বায়ুপ্রবাহ: উচ্চচাপ থেকে বায়ু বাইরের দিকে বেরিয়ে যায়, কিন্তু নিম্নচাপে চারপাশ থেকে বায়ু কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে।
১০. বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টির তিনটি কারণ লেখো।
চাপের পার্থক্য: বায়ুমণ্ডলের কোনো স্থানে উচ্চচাপ এবং কোথাও নিম্নচাপ তৈরি হলে চাপের সমতা রক্ষার জন্য বায়ু প্রবাহিত হয়।
উষ্ণতার তারতম্য: সূর্যতাপের পার্থক্যের কারণে একদিকের বায়ু বেশি গরম হলে তা হালকা হয়ে ওপরে ওঠে এবং বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করে।
ভূপৃষ্ঠের প্রকৃতি: জলভাগ ও স্থলভাগের অসম উত্তপ্ত হওয়ার ফলেও সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর মতো বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়।
১১. মেঘাচ্ছন্নতার পরিমাপ ও প্রভাব সম্পর্কে তিনটি তথ্য দাও।
পরিমাপ: আকাশ কতটা মেঘে ঢাকা আছে তার হিসাবকে শতাংশের (০%, ২৫%, ৭৫%, ১০০%) মাধ্যমে মেঘাচ্ছন্নতা বলা হয়।
দিনের তাপমাত্রা: দিনের বেলা মেঘ থাকলে তা সূর্যরশ্মিকে বাধা দেয়, ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়তে পারে না।
রাতের তাপমাত্রা: রাতের বেলা মেঘলা আকাশ থাকলে ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত তাপ মহাকাশে যেতে পারে না, ফলে গুমোট গরম লাগে।
১২. বৃষ্টিপাত হওয়ার তিনটি প্রধান শর্ত লেখো।
জলীয় বাষ্প: বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকতে হবে যা মেঘ তৈরির মূল উপাদান।
ঘনীভবন: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস ওপরে উঠে শীতল হয়ে ঘনীভূত হওয়ার মাধ্যমে জলকণায় পরিণত হতে হবে।
ধূলিকণা: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা বা লবণকণা থাকতে হবে যাকে আশ্রয় করে জলকণাগুলো বড় হয়ে বৃষ্টির আকারে ঝরতে পারে।
১৩. আবহাওয়ার পূর্বাভাসের তিনটি প্রয়োজনীয়তা লেখো।
দুর্যোগ মোকাবিলা: ঝড় বা ঘূর্ণিঝড়ের আগে থেকে পূর্বাভাস দিলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব হয়।
কৃষি সুবিধা: বৃষ্টিপাত বা খরা সম্পর্কে চাষিরা আগে থেকে জানলে তারা সঠিকভাবে চাষের পরিকল্পনা করতে পারে।
যাতায়াত ও মৎস্যজীবী: সমুদ্রযাত্রার আগে সতর্কবার্তা পেলে মৎস্যজীবীরা নিরাপদ থাকতে পারে এবং বিমান চলাচলও সহজ হয়।
১৪. সূর্যরশ্মির পতনকোণ কীভাবে উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করে?
লম্ব রশ্মি: নিরক্ষরেখায় সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে অল্প জায়গায় বেশি তাপ পড়ে এবং উষ্ণতা বেশি হয়।
তির্যক রশ্মি: মেরু অঞ্চলে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে বলে বিশাল এলাকায় তাপ ছড়িয়ে যায় এবং উষ্ণতা খুব কম থাকে।
বায়ুস্তরের দৈর্ঘ্য: লম্ব রশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের কম পথ অতিক্রম করতে হয় বলে তাপের ক্ষয় কম হয়, তির্যক রশ্মির ক্ষেত্রে উল্টোটা ঘটে।
১৫. উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমার তিনটি কারণ লেখো।
বিকিরণ পদ্ধতি: বায়ুমণ্ডল সরাসরি সূর্যরশ্মিতে উত্তপ্ত হয় না, বরং ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপের প্রভাবে নিচ থেকে ওপরে উত্তপ্ত হয়।
বায়ুর ঘনত্ব: উচ্চতা বাড়লে বায়ুর ঘনত্ব ও কণার পরিমাণ কমে যায়, ফলে উপরের পাতলা বাতাস তাপ ধরে রাখতে পারে না।
চাপ ও প্রসার: বায়ু ওপরে উঠলে প্রসারিত হয় এবং চাপ কমে যায়, এর ফলেও বায়ু শীতল হয়ে পড়ে।
১৬. সমভাবাপন্ন জলবায়ুর তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
অবস্থান: এই জলবায়ু সাধারণত সমুদ্রের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে দেখা যায় (যেমন— দিঘা বা মুম্বই)।
তাপমাত্রা: এখানে গ্রীষ্মকালে যেমন খুব গরম লাগে না, তেমনি শীতকালেও খুব বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয় না।
উষ্ণতার প্রসার: এই অঞ্চলে দিন ও রাতের বা গ্রীষ্ম ও শীতের তাপমাত্রার ব্যবধান বা প্রসার খুব কম থাকে।
১৭. চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
অবস্থান: সমুদ্র থেকে দূরে স্থলভাগের অভ্যন্তরে এই জলবায়ু দেখা যায় (যেমন— দিল্লি বা রাজস্থান)।
চরম অবস্থা: এখানে গ্রীষ্মকালে অসহ্য গরম এবং শীতকালে প্রচণ্ড হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হয়।
উষ্ণতার প্রসার: এই অঞ্চলে দৈনিক এবং বার্ষিক উষ্ণতার প্রসার বা পার্থক্যের পরিমাণ অনেক বেশি হয়।
১৮. মানচিত্রে সমোষ্ণরেখার তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
সংজ্ঞা: পৃথিবীর মানচিত্রে সমান গড় উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলোকে যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় তাকে সমোষ্ণরেখা বলে।
ব্যবধান: দুটি স্থানের মধ্যে উষ্ণতার পার্থক্য বেশি হলে রেখাগুলো কাছাকাছি থাকে এবং পার্থক্য কম হলে দূরে থাকে।
দক্ষিণ গোলার্ধের অবস্থা: দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি থাকায় সেখানে এই রেখাগুলো উত্তর গোলার্ধের তুলনায় দূরে দূরে অবস্থান করে।
১৯. পৃথিবীর তিনটি তাপমণ্ডলের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উষ্ণমণ্ডল: নিরক্ষরেখার আশেপাশে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চল যেখানে সূর্য লম্বভাবে পড়ে।
নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল: মেরুবৃত্ত ও ক্রান্তিরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চল যেখানে সারাবছর আবহাওয়া মনোরম থাকে।
হিমমণ্ডল: দুই মেরুর চারপাশের অতি শীতল এলাকা যেখানে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে এবং সারাবছর বরফ জমে থাকে।
২০. আমাদের জীবনে জলবায়ুর প্রভাবের তিনটি উদাহরণ দাও।
পোশাক: শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষ পশমের গরম কাপড় পরে, কিন্তু গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষ হালকা সুতির পোশাক পছন্দ করে।
খাদ্যাভ্যাস: জলবায়ু অনুযায়ী চাষবাস আলাদা হয়, যেমন— বৃষ্টির আধিক্যে ধান চাষ হয় এবং শীতপ্রধান এলাকায় গমের চাষ ভালো হয়।
ঘরবাড়ি: বেশি বৃষ্টিপাতের জায়গায় বাড়ির ছাদ ঢালু হয় যাতে জল জমে না থাকে, আবার মরু অঞ্চলে মাটির মোটা দেওয়ালের বাড়ি দেখা যায়।
∆ রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৫
১. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ আবহাওয়া ও জলবায়ু শব্দ দুটি একে অপরের সাথে যুক্ত হলেও এদের মধ্যে গভীর পার্থক্য রয়েছে—
সংজ্ঞা ও সময়: কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমণ্ডলের অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। এটি কয়েক ঘণ্টা বা এক দিনের জন্য হয়। অন্যদিকে, কোনো অঞ্চলের অন্তত ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
পরিবর্তনশীলতা: আবহাওয়া অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল; সকালে রোদ থাকলে বিকেলে বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু জলবায়ু সহজে পরিবর্তন হয় না, এটি কোনো অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা।
ভৌগোলিক ব্যাপ্তি: আবহাওয়া একটি ছোট এলাকার (যেমন—একটি শহর) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। কিন্তু জলবায়ু একটি বিশাল অঞ্চল বা মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত থাকে।
উপাদানের অবস্থা: আবহাওয়ার ক্ষেত্রে উপাদানের (উষ্ণতা, আর্দ্রতা) বর্তমান অবস্থা দেখা হয়, কিন্তু জলবায়ুর ক্ষেত্রে উপাদানগুলোর দীর্ঘকালীন গড় অবস্থা বিচার করা হয়।
নির্ভরশীলতা: কোনো অঞ্চলের জলবায়ু তার আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তনে জলবায়ুর কোনো পরিবর্তন ঘটে না।
২. বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার প্রধান তিনটি পদ্ধতি (বিকিরণ, পরিবহন ও পরিচলন) বর্ণনা করো।
উত্তরঃ সূর্য থেকে আসা তাপ সরাসরি বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করতে পারে না। এটি তিনটি প্রধান পদ্ধতিতে ঘটে—
বিকিরণ পদ্ধতি: সূর্য থেকে আসা ক্ষুদ্র তরঙ্গরূপী তাপ প্রথমে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। রাতে বা বিকেলের দিকে উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ সেই তাপ দীর্ঘ তরঙ্গের আকারে মহাকাশে ফিরিয়ে দেয় (পার্থিব বিকিরণ)। এই তাপ যখন বায়ুস্তরের মধ্য দিয়ে যায়, তখন বায়ু উত্তপ্ত হয়।
পরিবহন পদ্ধতি: উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠের ঠিক ওপরে লেগে থাকা বায়ুস্তর প্রথমে গরম হয়। এরপর সেই বায়ুস্তর তার ওপরের শীতল বায়ুস্তরকে তাপ স্থানান্তরের মাধ্যমে উত্তপ্ত করে। একে পরিবহন বলে।
পরিচলন পদ্ধতি: ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত হলে হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়। তখন ওপরের শীতল ও ভারী বায়ু নিচে নেমে আসে। এভাবে চক্রাকারে বায়ু চলাচলের মাধ্যমে পুরো বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়াকে পরিচলন পদ্ধতি বলে।
৩. আগত সৌর বিকিরণ (Insolation) ও পৃথিবীর তাপের বাজেট (Heat Budget) বুঝিয়ে লেখো।
উত্তরঃ সূর্য থেকে আসা তাপ পৃথিবীতে কীভাবে বণ্টিত হয়, তাকেই তাপের বাজেট বলা হয়—
ইনসোলেশন: সূর্য থেকে আসা মোট তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, একে আগত সৌর বিকিরণ বলে।
অ্যালবেডো: আগত তাপকে ১০০ শতাংশ ধরলে তার ৩৫ শতাংশ বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায় (মেঘ-২৫%, ধূলিকণা-৮%, ভূপৃষ্ঠ-২%)। একে অ্যালবেডো বলে।
কার্যকরী সৌর বিকিরণ: বাকি ৬৫ শতাংশের মধ্যে ৫১ শতাংশ তাপ সরাসরি ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। একে কার্যকরী সৌর বিকিরণ বলে।
শোষণ: বাকি ১৪ শতাংশ তাপ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাস ও জলীয় বাষ্প দ্বারা সরাসরি শোষিত হয়।
সাম্যবস্থা: পৃথিবী দিনের বেলা যে তাপ গ্রহণ করে, রাতে সেই তাপ বিকিরণ করে ফিরিয়ে দেয়। ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা চিরকাল একই থাকে।
৪. উচ্চতা ও সূর্যরশ্মির পতনকোণ কীভাবে কোনো স্থানের উষ্ণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে ?
উত্তরঃ উষ্ণতার তারতম্যের পেছনে দুটি প্রধান কারণ হলো—
সূর্যরশ্মির পতনকোণ: নিরক্ষরেখায় সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়। লম্ব রশ্মি কম জায়গায় পড়ে বলে তাপের তীব্রতা বেশি হয়। কিন্তু মেরু অঞ্চলের দিকে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে। তির্যক রশ্মি অনেক বড় জায়গায় ছড়িয়ে যায় বলে সেখানে তাপের তীব্রতা ও উষ্ণতা কম থাকে।
উচ্চতার প্রভাব: বায়ুমণ্ডল নিচ থেকে ওপরে উত্তপ্ত হয়। তাই ভূপৃষ্ঠের কাছের বায়ুস্তর বেশি গরম থাকে। উচ্চতা বাড়লে বায়ুর ঘনত্ব ও তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।
তাপমাত্রা হ্রাসের হার: সাধারণত প্রতি ১৬৫ মিটার উচ্চতায় ১° সেলসিয়াস হারে অথবা প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস হারে তাপমাত্রা কমে যায়। এই কারণেই সমভূমি অঞ্চলের তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলে ঠান্ডা বেশি থাকে।
৫. বায়ুর আর্দ্রতা ও মেঘ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডলে মেঘ ও বৃষ্টি তৈরির প্রক্রিয়াটি নিচে আলোচনা করা হলো:
জলীয় বাষ্প গঠন: সূর্যের তাপে নদী, নালা ও সমুদ্রের জল বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশলে তাকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। উষ্ণ বায়ু বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে।
ঘনীভবন: জলীয় বাষ্পপূর্ণ হালকা বাতাস ওপরে উঠে গেলে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে। ঠান্ডা হওয়ার ফলে বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং তা ছোট ছোট জলকণায় পরিণত হয়। একে ঘনীভবন বলে।
মেঘ সৃষ্টি: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা, লবণাংশ বা ছাইয়ের কণাকে আশ্রয় করে এই জলকণাগুলো যখন জোট বাঁধে, তখন তাকে মেঘ বলা হয়।
বৃষ্টিপাত: মেঘের জলকণাগুলো যখন একে অপরের সাথে মিশে বড় ও ভারী হয়ে যায়, তখন পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ টানে তা নিচে ঝরে পড়ে। একেই বৃষ্টিপাত বলে।
তুষারপাত: বায়ুর তাপমাত্রা যদি হিমাঙ্কের (০° সেলসিয়াস) নিচে চলে যায়, তবে জলকণা বরফে পরিণত হয়ে তুষার আকারে নিচে পড়ে।
৬. বায়ুর চাপের তারতম্যের কারণ এবং এর ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তরঃ বায়ুর চাপ সব জায়গায় সমান থাকে না, এর প্রধান কারণগুলি হলো—
উষ্ণতা: বায়ু গরম হলে তা হালকা ও প্রসারিত হয়, ফলে বায়ুর চাপ কমে যায় (নিম্নচাপ)। আবার বায়ু ঠান্ডা হলে তা সংকুচিত ও ভারী হয়, ফলে বায়ুর চাপ বাড়ে (উচ্চচাপ)।
উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ সবথেকে বেশি থাকে। যত ওপরে ওঠা যায়, বায়ুস্তর তত পাতলা হয় এবং বায়ুর চাপ কমতে থাকে।
জলীয় বাষ্প: জলীয় বাষ্প সাধারণ বায়ুর চেয়ে হালকা। তাই বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লে বায়ুর চাপ কমে যায়।
ফলাফল (বায়ুপ্রবাহ): বায়ু সব সময় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস: হঠাৎ বায়ুর চাপ কমে গেলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং বায়ুর চাপ বাড়লে শান্ত ও পরিষ্কার আবহাওয়া দেখা যায়।
৭. সমুদ্রের অবস্থান কীভাবে কোনো স্থানের জলবায়ুকে প্রভাবিত করে?
উত্তরঃ সমুদ্রের কাছাকাছি এবং সমুদ্র থেকে দূরে থাকা অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়—
সমভাবাপন্ন জলবায়ু: সমুদ্রের ধারের অঞ্চলে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে খুব গরম লাগে না এবং শীতকালেও খুব ঠান্ডা লাগে না। একে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে (যেমন— দিঘা বা মুম্বই)।
চরমভাবাপন্ন জলবায়ু: সমুদ্র থেকে দূরে স্থলভাগের ভেতরে অবস্থিত অঞ্চলে সমুদ্রের বাতাস পৌঁছাতে পারে না। ফলে সেখানে গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম এবং শীতে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভূত হয়। একে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে (যেমন— দিল্লি বা পাঞ্জাব)।
উষ্ণতার প্রসার: সমুদ্রের ধারের এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য (দৈনিক উষ্ণতার প্রসার) খুব কম থাকে। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরবর্তী এলাকায় এই ব্যবধান অনেক বেশি হয়।
বৃষ্টিপাত: সমুদ্রের ধারের এলাকায় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
৮. চিত্র ছাড়াই পৃথিবীর তিনটি প্রধান তাপমণ্ডল বা তাপ অঞ্চলের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ সূর্যরশ্মির পতনকোণের ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীকে তিনটি তাপমণ্ডলে ভাগ করা হয়েছে—
উষ্ণমণ্ডল: নিরক্ষরেখার দুই পাশে কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলকে উষ্ণমণ্ডল বলে। এখানে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়, তাই এখানে তাপমাত্রা সবথেকে বেশি থাকে এবং ঋতু পরিবর্তন খুব একটা বোঝা যায় না।
নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল: কর্কটক্রান্তি থেকে সুমেরুবৃত্ত এবং মকরক্রান্তি থেকে কুমেরুবৃত্ত পর্যন্ত অঞ্চলকে নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল বলে। এখানে সূর্যরশ্মি কিছুটা তির্যকভাবে পড়ে। ফলে এখানে খুব বেশি গরম বা খুব বেশি ঠান্ডা লাগে না, আবহাওয়া মনোরম থাকে।
হিমমণ্ডল: সুমেরুবৃত্ত থেকে উত্তর মেরু এবং কুমেরুবৃত্ত থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত অঞ্চলকে হিমমণ্ডল বলে। এখানে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে। ফলে সারাবছর প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে এবং অধিকাংশ সময় বরফ জমে থাকে।
৯. আবহাওয়ার উপাদান পরিমাপক বিভিন্ন যন্ত্রপাতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তরঃ আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান মাপার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রগুলি হলো—
থার্মোমিটার: বায়ুর উষ্ণতা মাপার জন্য সাধারণ থার্মোমিটার এবং দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাপার জন্য ‘সিক্স-এর থার্মোমিটার’ ব্যবহৃত হয়।
ব্যারোমিটার: বায়ুর চাপ মাপার জন্য ফর্টিন ব্যারোমিটার ব্যবহৃত হয়। এর রিডিং হঠাৎ কমে গেলে ঝড়ের সংকেত পাওয়া যায়।
হাইগ্রোমিটার: বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা বায়ুর আর্দ্রতা মাপার জন্য এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
বাতপতাকা ও অ্যানিমোমিটার: বায়ুপ্রবাহের দিক জানার জন্য বাতপতাকা এবং বায়ুর গতিবেগ মাপার জন্য অ্যানিমোমিটার ব্যবহৃত হয়।
রেনগজ: কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কত পরিমাণ বৃষ্টিপাত হলো, তা মাপার জন্য রেনগজ নামক যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়।
১০. মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জলবায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তরঃ জলবায়ু মানুষের জীবনযাত্রার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে—
পোশাক-আশাক: জলবায়ু অনুযায়ী মানুষের পোশাক বদলে যায়। মরুভূমি বা উষ্ণ অঞ্চলের মানুষ হালকা সুতির কাপড় পরে, আবার মেরু অঞ্চলের মানুষ পশম বা চামড়ার ভারী পোশাক পরে।
খাদ্যাভ্যাস ও কৃষিকাজ: জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করেই ফসল উৎপাদিত হয়। প্রচুর বৃষ্টির অঞ্চলে মানুষ ভাত ও মাছ খায়, আবার শুষ্ক বা ঠান্ডা অঞ্চলে গম ও রুটি প্রধান খাদ্য।
ঘরবাড়ি: জলবায়ুর প্রভাবে ঘরবাড়ির ধরন পাল্টায়। যেমন—অত্যধিক বৃষ্টিপাতের এলাকায় বাড়ির ছাদ ঢালু হয় যাতে জল জমে না থাকে, আবার গরমের জায়গায় মাটির মোটা দেওয়ালওয়ালা বাড়ি দেখা যায়।
স্বাস্থ্য ও কার্যক্ষমতা: মনোরম নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে মানুষের কার্যক্ষমতা বেশি থাকে। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডায় মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং নানা রোগব্যাধি দেখা দেয়।
📌 আরো দেখোঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here
