2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 6 (VI) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER
Set-2
Class 6 History 2nd Unit Test Question Paper with Answer Set-2 wbbse | ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট সেট-২
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
ষষ্ঠ শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস
সময় : ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পূর্ণমান : ৫০
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১x৬=৬
(ক) সবচেয়ে পুরানো বৈদিক সংহিতা (ঋগ্বেদ / সামবেদ / যজুর্বেদ / অথর্ববেদ)।
(খ) বৈদিক যুগে গুরু গৃহে শিক্ষা চলত (১০ বছর / ১২ বছর /১৪ বছর / ১৬ বছর)।
(গ) দশ রাজার যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন (ভরত / অশোক / সুদাস)।
(ঘ) জৈনদের প্রথম তীর্থঙ্কর ছিলেন (ঋষভনাথ / পার্শ্বনাথ / মহাবীর / ভদ্রবাহু)।
(ঙ) প্রথম বৌদ্ধ সংগীতের সভাপতি ছিলেন (যশ / অশোক / মহাকাশ্যপ / বসুমিত্র)।
(চ) আলেকজান্ডারের সেনাপতি ছিলেন (পুরু / হিমু / সেলুকাস / সাইকাস)।
(ছ) কনিষ্কের মস্তক বিহীন মূর্তিটি পাওয়া গেছে (অমরাবতীতে / গান্ধারে / মথুরায় / নবদ্বীপে)।
২। এক কথায় উত্তর দাও : ১×৭=৭
(ক) গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজার নাম লেখো।
(খ) সকলোত্তরপথনাথ কাকে বলা হত ?
(গ) অশোকের ধম্মের মূলকথা কী ?
(ঘ) ত্রিপিটক কোন ভাষায় লেখা ?
(ঙ) জৈনধর্মের শেষ দুজন তীর্থঙ্করের নাম কি ?
(চ) বৈদিক যুগে গুরুদক্ষিণা কী ছিল ?
(ছ) আর্যদের আদি বাসভূমি কোথায় ছিল ?
(জ) বৈদিক সমাজের প্রধান খাদ্যশস্য কী কী ছিল ?
৩। শূন্যস্থান পূরণ করো : ১×৪=৪
(ক) পরবর্তী বৈদিক যুগে মাটির পাত্রের রং ছিল ___________।
(খ) খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে অরাজতান্ত্রিক মহাজনপদ গুলিকে _________ বলে।
(গ) ইন্ডিকা গ্রন্থের রচয়িতা হলেন __________।
(ঘ) শকরাজ রুদ্রদমনের সম্পর্কে জানবার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শিলালেখ _________।
(ঙ) দাক্ষিণাত্যে চলে যাওয়া জৈন সন্ন্যাসীদের নেতা ছিলেন ___________।
(চ) মেগালিথ বলা হয় ____________কে।
৪। নীচের বাক্যগুলি কোনটি ঠিক কোনটি ভুল লেখো : ১×৩=৩
(ক) বৈদিক সাহিত্যে বিন্ধ্যপর্বত এর উল্লেখ নেই।
(খ) বৈদিক যুগের সমাজ ছিল মাতৃতান্ত্রিক।
(গ) খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮টি মহাজনপদের কথা জানা যায়।
(ঘ) শেষ মৌর্য সম্রাট ছিল বৃহদ্রথ।
৫। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৪টি) : 2×৪= ৮
(ক) সভা ও সমিতি কাকে বলে ?
(খ) অশোক একবারমাত্র যুদ্ধ করেছিলেন কেন ?
(গ) ভারতের রক্ষাকারী কাকে এবং কেন বলা হয় ?
(ঘ) আর্যসত্য বলতে কী বোঝায় ?
৬। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৪টি) : ৩×৪=১২
(ক) টীকা লেখো : চতুরাশ্রম।
(খ) হাতিগুম্ফা শিলালিপি সম্পর্কে লেখো।
(গ) কী কী কারণে মগধ শেষপর্যন্ত বাকি মহাজনপদগুলির থেকে শক্তিশালী হয় ?
(ঘ) সপ্তসিন্ধু অঞ্চল বলতে কী বোঝ ? বৈদিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য লেখো।
৭। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (২টি) : ৫×২=১০
(ক) সমুদ্র গুপ্তের কৃতিত্ব আলোচনা করো ?
(খ) ষোলোটি মহাজনপদের মধ্যে থেকে মগধের সবথেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠার কারণ গুলি ব্যাখ্যা করো।
(গ) বৈদিক যুগের শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন ছিল ?
ANSWER KEY (উত্তরপত্র)
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১x৬=৬
(ক) সবচেয়ে পুরানো বৈদিক সংহিতা (ঋগ্বেদ / সামবেদ / যজুর্বেদ / অথর্ববেদ)।
উত্তরঃ ঋগ্বেদ
(খ) বৈদিক যুগে গুরু গৃহে শিক্ষা চলত (১০ বছর / ১২ বছর /১৪ বছর / ১৬ বছর)।
উত্তরঃ ১২ বছর
(গ) দশ রাজার যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন (ভরত / অশোক / সুদাস)।
উত্তরঃ সুদাস।
(ঘ) জৈনদের প্রথম তীর্থঙ্কর ছিলেন (ঋষভনাথ / পার্শ্বনাথ / মহাবীর / ভদ্রবাহু)।
উত্তরঃ ঋষভনাথ।
(ঙ) প্রথম বৌদ্ধ সংগীতের সভাপতি ছিলেন (যশ / অশোক / মহাকাশ্যপ / বসুমিত্র)।
উত্তরঃ মহাকাশ্যপ।
(চ) আলেকজান্ডারের সেনাপতি ছিলেন (পুরু / হিমু / সেলুকাস / সাইকাস)।
উত্তরঃ সেলুকাস
(ছ) কনিষ্কের মস্তক বিহীন মূর্তিটি পাওয়া গেছে (অমরাবতীতে / গান্ধারে / মথুরায় / নবদ্বীপে)।
উত্তরঃ মথুরায়।
২। এক কথায় উত্তর দাও : ১×৭=৭
(ক) গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজার নাম লেখো।
উত্তরঃ সমুদ্র গুপ্ত
(খ) সকলোত্তরপথনাথ কাকে বলা হত ?
উত্তরঃ হর্ষবর্ধনকে।
(গ) অশোকের ধম্মের মূলকথা কী ?
উত্তরঃ অশোকের ধম্মের মূল কথা ছিল হিংসা না করা।
(ঘ) ত্রিপিটক কোন ভাষায় লেখা ?
উত্তরঃ পালি ভাষায়।
(ঙ) জৈনধর্মের শেষ দুজন তীর্থঙ্করের নাম কি ?
উত্তরঃ পার্শ্বনাথ ও বর্ধমান মহাবীর।
(চ) বৈদিক যুগে গুরুদক্ষিণা কী ছিল ?
উত্তরঃ গরু দান বা গো-দান
(ছ) আর্যদের আদি বাসভূমি কোথায় ছিল ?
উত্তরঃ আর্যদের আদি বাসভূমি ছিল সপ্তসিন্ধু অঞ্চল।
(জ) বৈদিক সমাজের প্রধান খাদ্যশস্য কী কী ছিল ?
উত্তরঃ যব, গম ও ধান।
৩। শূন্যস্থান পূরণ করো : ১×৪=৪
(ক) পরবর্তী বৈদিক যুগে মাটির পাত্রের রং ছিল ___________।
উত্তরঃ ধূসর।
(খ) খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে অরাজতান্ত্রিক মহাজনপদ গুলিকে _________ বলে।
উত্তরঃ গণরাজ্য।
(গ) ইন্ডিকা গ্রন্থের রচয়িতা হলেন __________।
উত্তরঃ মেগাস্থিনিস
(ঘ) শকরাজ রুদ্রদমনের সম্পর্কে জানবার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শিলালেখ _________।
উত্তরঃ জুনাগড়।
(ঙ) দাক্ষিণাত্যে চলে যাওয়া জৈন সন্ন্যাসীদের নেতা ছিলেন ___________।
উত্তরঃ ভদ্রবাহু।
(চ) মেগালিথ বলা হয় ____________কে।
উত্তরঃ পাথরের সমাধি।
৪। নীচের বাক্যগুলি কোনটি ঠিক কোনটি ভুল লেখো : ১×৩=৩
(ক) বৈদিক সাহিত্যে বিন্ধ্যপর্বত এর উল্লেখ নেই।
উত্তরঃ ঠিক
(খ) বৈদিক যুগের সমাজ ছিল মাতৃতান্ত্রিক।
উত্তরঃ ভুল
(গ) খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮টি মহাজনপদের কথা জানা যায়।
উত্তরঃ ভুল
(ঘ) শেষ মৌর্য সম্রাট ছিল বৃহদ্রথ।
উত্তরঃ ঠিক
৫। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৪টি) : 2×৪= ৮
(ক) সভা ও সমিতি কাকে বলে ?
উত্তরঃ পরবর্তী বৈদিক যুগে রাজনীতিতে সভা ও সমিতির গুরুত্বের কথা জানা যায়। সভাতে বয়স্ক ব্যক্তিরা যোগ দিতেন, আর গোষ্ঠীর সবাই সম্ভবত সমিতির সদস্য ছিলেন। সমিতিতে নানারকম রাজনীতির বিষয়ে আলোচনা হত।
(খ) অশোক একবারমাত্র যুদ্ধ করেছিলেন কেন ?
উত্তরঃ অশোক সারাজীবনে একটিমাত্র যুদ্ধ করেছিলেন, তা হল কলিঙ্গ যুদ্ধ। কলিঙ্গ যুদ্ধে অনেক মানুষ মারা যাওয়ায় অশোক সিদ্ধান্ত নেন, জীবনে আর কখনও তিনি যুদ্ধ করবেন না।
(গ) ভারতের রক্ষাকারী কাকে এবং কেন বলা হয় ?
উত্তরঃ গুপ্ত সম্রাট স্কন্দগুপ্তকে ভারতের রক্ষাকারী বলা হয়। তিনি ভারতকে হুন আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন, তাই তাঁকে ‘ভারতের রক্ষাকারী’ বলা হয়।
(ঘ) আর্যসত্য বলতে কী বোঝায় ?
উত্তরঃ বুদ্ধদেব নিজের শিষ্যদের কাছে ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন মানুষের দুঃখের কারণগুলি কী। তিনি আরও বলেছিলেন কীভাবে সেই দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং এই প্রশ্নগুলির ব্যাখ্যায় গৌতম বুদ্ধ চারটি মূল উপদেশ দেন। প্রতিটি উপদেশকে Point বলা হয় আর্যসত্য এবং চারটি উপদেশকে একসঙ্গে বলা হয় চতুরার্যসত্য।
৬। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৪টি) : ৩×৪=১২
(ক) টীকা লেখো : চতুরাশ্রম।
উত্তরঃ পরবর্তী বৈদিক যুগে জীবনযাপনের চারটি ভাগ বা পর্যায়ের নাম ছিল চতুরাশ্রম। এগুলি হল-
ব্রহ্মচর্য : এই পর্যায়ে ছাত্রদের তার গুরুগৃহে থেকে শিক্ষালাভ করতে হত।
গার্হস্থ্য : শিক্ষালাভের শেষে বিয়ে করে জীবনযাপনের এই পর্যায়ের নাম ছিল গার্হস্থ্য।
বানপ্রস্থ : এই পর্যায়ে সংসার থেকে দূরে বনে কুটির তৈরি করে, সেখানে ধর্মচর্চা করতে হত।
সন্ন্যাস আশ্রম : সবকিছু ভুলে ঈশ্বর চিন্তায় ডুবে থেকে শেষ জীবন কাটানোর এই পর্যায়কে সন্ন্যাস আশ্রম বলা হত।
(খ) হাতিগুম্ফা শিলালিপি সম্পর্কে লেখো।
উত্তরঃ কলিঙ্গরাজ খারবেল হাতিগুম্ফা শিলালেখ খোদাই করান। এই শিলালেখ থেকে চেদি বংশের শাসক খারবেলের শাসন বিষয়ে জানা যায়। পাশাপাশি এই শিলালেখতে ভারতবর্ষ শব্দের উল্লেখ মেলে, যদিও ভারতবর্ষ বলতে সে সময়ে হয়তো গঙ্গা উপত্যকার একটা অংশকে বোঝানো হয়েছিল। এই শিলালেখ থেকে আরও জানা যায় যে, খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের প্রথম দিকেই কলিঙ্গে চেদি বংশের শাসন শেষ হয়।
(গ) কী কী কারণে মগধ শেষপর্যন্ত বাকি মহাজনপদগুলির থেকে শক্তিশালী হয় ?
উত্তরঃ মগধ শেষপর্যন্ত সবথেকে শক্তিশালী মহাজনপদে পরিণত হয়। এর কারণ হল—
অবস্থানগত সুবিধা: মগধ রাজ্যটি নদী ও পাহাড় দিয়ে ঘেরা ছিল। তাই মগধ বাইরের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত ছিল।
আর্থিক সমৃদ্ধি: গঙ্গানদীর পলিমাটিতে উৎপাদিত কৃষিজ ফসল মগধের আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটায়। তা ছাড়া জল ও স্থলপথ ধরে চলা বাণিজ্য মগধের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
(ঘ) সপ্তসিন্ধু অঞ্চল বলতে কী বোঝ ? বৈদিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ সিন্ধু নদ ও তার পূর্ব দিকের উপনদীগুলি দিয়ে ঘেরা অঞ্চলটির নাম ছিল সপ্তসিন্ধু অঞ্চল। এই অঞ্চলটি ছিল আদি বৈদিক যুগের মানুষের বাসস্থান।
বৈদিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য—
- বৈদিক যুগে তামা ও ব্রোঞ্জ এবং এই যুগের শেষের দিকে লোহার ব্যবহার ছিল বলে জানা যায়।
- এই যুগে ঘোড়ায় টানা রথ ও তিরধনুকের ব্যবহার প্রচলিত ছিল।
৭। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (২টি) : ৫×২=১০
(ক) সমুদ্র গুপ্তের কৃতিত্ব আলোচনা করো ?
উত্তরঃ গুপ্ত রাজবংশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন সমুদ্রগুপ্ত। তাঁর রাজত্বকাল প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। তাঁর বহুমুখী কৃতিত্ব নিচে আলোচনা করা হলো—
দিগ্বিজয় ও রাজ্য বিস্তার: সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন এক বিশাল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সভাকবি হরিষেণ রচিত ‘এলাহাবাদ প্রশস্তি’ থেকে তাঁর যুদ্ধজয় সম্পর্কে জানা যায়। তিনি উত্তর ভারতের (আর্যাবর্ত) ৯ জন রাজাকে পরাজিত করে সরাসরি নিজের সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।
দক্ষিণ ভারত নীতি: দক্ষিণ ভারতের (দাক্ষিণাত্য) ১২ জন রাজাকে তিনি পরাজিত করলেও তাদের রাজ্য কেড়ে নেননি। তিনি রাজ্যগুলি ফিরিয়ে দিয়ে তাদের কাছ থেকে কর বা উপহার আদায় করতেন। তাঁর এই বিচক্ষণ নীতিকে বলা হয় ‘গ্রহণ-পরিমোক্ষ-অনুগ্রহ’ নীতি।
শিল্প ও সংস্কৃতির অনুরাগী: সমুদ্রগুপ্ত কেবল দক্ষ যোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন উচ্চমানের কবি এবং সংগীতজ্ঞ। মুদ্রায় তাঁর বীণা বাজানো ছবি থেকে প্রমাণিত হয় যে তিনি সংগীত ভালোবাসতেন।
উপাধি: তাঁর অসামান্য বীরত্বের জন্য ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ তাঁকে ‘ভারতের নেপোলিয়ন’ বলে অভিহিত করেছেন। এ ছাড়া তাঁর ‘কবিরাজ’, ‘বিক্রমাঙ্ক’ ও ‘সর্বরাজোচ্ছেত্তা’ উপাধি ছিল।
(খ) ষোলোটি মহাজনপদের মধ্যে থেকে মগধের সবথেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠার কারণ গুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে যে ১৬টি মহাজনপদ গড়ে উঠেছিল, তাদের মধ্যে মগধ বাকি সবাইকে হারিয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। মগধের এই উত্থানের প্রধান কারণগুলি হলো—
ভৌগোলিক অবস্থান: মগধের চারপাশ পাহাড় ও নদী দিয়ে ঘেরা ছিল। প্রথম রাজধানী রাজগৃহ ছিল পাহাড় বেষ্টিত এবং পরের রাজধানী পাটলিপুত্র ছিল গঙ্গা, সোন ও গণ্ডক নদীর মিলনস্থলে। এর ফলে শত্রুরা সহজে মগধ আক্রমণ করতে পারত না।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও উর্বর জমি: মগধের জমি ছিল অত্যন্ত উর্বর। গঙ্গা নদীর পলির ফলে প্রচুর ফসল ফলত, যা রাজ্যের অর্থনীতিকে মজবুত করে। এ ছাড়া মগধের কাছাকাছি অঞ্চলে (বর্তমান ঝাড়খণ্ড) প্রচুর লোহার খনি ছিল, যা দিয়ে উন্নত অস্ত্র ও কৃষিকাজের সরঞ্জাম তৈরি করা সহজ হয়েছিল।
হস্তীবাহিনীর ব্যবহার: মগধের জঙ্গলে প্রচুর হাতি পাওয়া যেত। যুদ্ধে হাতি বা হস্তীবাহিনীর সঠিক ব্যবহার মগধের সামরিক শক্তিকে অন্য মহাজনপদগুলির চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল।যোগ্য শাসক: মগধে বিম্বিসার, অজাতশত্রু ও মহাপদ্ম নন্দের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী, সাহসী এবং দূরদর্শী রাজারা শাসন করেছিলেন। তাঁদের রাজ্যবিস্তার নীতি মগধকে শ্রেষ্ঠ আসনে বসায়।
(গ) বৈদিক যুগের শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন ছিল ?
উত্তরঃ প্রাচীন ভারতে বৈদিক যুগের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমান যুগের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। এই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে আলোচনা করা হলো—
গুরুকুল প্রথা: বৈদিক যুগে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য গুরুর গৃহে বা আশ্রমে গিয়ে থাকতে হতো। একে ‘গুরুকুল’ বলা হতো। ছাত্ররা সেখানে গুরুর পরিবারের সদস্যের মতো বাস করত।
উপনয়ন ও শিক্ষার শুরু: শিক্ষা জীবনের শুরুতে ছাত্রদের ‘উপনয়ন’ বা পৈতে অনুষ্ঠান হতো। এই অনুষ্ঠানের পর ছাত্ররা ‘ব্রহ্মচর্য’ ব্রত পালন করত এবং গুরুর কাছে শিক্ষা নেওয়া শুরু করত।
শ্রুতি বা মৌখিক শিক্ষা: বৈদিক যুগে কোনো খাতা, কলম বা ছাপা বই ছিল না। গুরু মুখে মুখে বেদ বা অন্যান্য মন্ত্র উচ্চারণ করতেন এবং ছাত্ররা তা শুনে শুনে মুখস্থ করত। শুনে মনে রাখতে হতো বলে বেদের আর এক নাম ছিল ‘শ্রুতি’।
শিক্ষার বিষয়বস্তু: শিক্ষার মূল বিষয় ছিল বেদ ও বৈদিক সাহিত্য। এর পাশাপাশি ব্যাকরণ, গণিত, ছন্দ, যুক্তিবিজ্ঞান এবং যুদ্ধবিদ্যা বা ধনুর্বিদ্যাও শেখানো হতো।
ছাত্রদের কর্তব্য: আশ্রমে থাকার সময় ছাত্রদের পড়াশোনার পাশাপাশি গুরুর সেবা করা, আশ্রমের জন্য বনে গিয়ে কাঠ কুড়ানো এবং ভিক্ষা করে অন্ন সংগ্রহ করার মতো কাজ করতে হতো। এর মাধ্যমে তারা নিয়মানুবর্তিতা ও পরিশ্রম করতে শিখত।
সমাবর্তন বা শিক্ষা শেষ: শিক্ষা জীবন শেষ হলে ‘সমাবর্তন’ বা গুরুগৃহ ছাড়ার অনুষ্ঠান হতো। ছাত্ররা গুরুকে সাধ্যমতো ‘গুরুদক্ষিণা’ দিয়ে নিজেদের বাড়ি ফিরে আসত এবং গৃহস্থ জীবন শুরু করত।
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
