2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 6 (VI) WBBSE
GEOGRAPHY QUESTION PAPER
Set-2
Class 6 Geography 2nd Unit Test Question Paper Set-2 wbbse | ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-২
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
Aranghata Girls’ High School
2nd Summative Evaluation-2025
Class-VI
Subject : Geography
Full Marks-50 Time -1 Hr. 40 Mins.
1. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : 1×10=10
(ⅰ) পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল-
(A) জলে (B) ভূমিতে (C) মাটির নীচে
(D) বাতাসে।
(ঘ) অ্যান্টার্কটিকার স্থায়ী বাসিন্দা পেঙ্গুইনের প্রধান খাদ্য হল-
(A) সিল (B) তিমি (C) ক্রিল (D) অ্যালবাট্রস।
(iii) যে পদ্ধতিতে আগত সৌররশ্মি ভূ-পৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে, তা হল-
(A) বিকিরণ (B) পরিবহন (C) পরিচলন
(D) ঘনীভবন।
(iv) বৃষ্টিপাতের পরিমান মাপা হয় যার দ্বারা, তা হল-
(A) থার্মোমিটার (B) রেনগজ (C) হাইগ্রোমিটার (D) অ্যানিমোমিটার।
(v) পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর প্রকৃতি-
(A) উষ্ণ-আর্দ্র (B) শীতল-আর্দ্র
(C) শীতল উষ্ণ (D) উষ্ণ-শুষ্ক।
(vi) ক্রান্তীয় পর্ণমোচী উদ্ভিদের একটি উদাহরণ হল-
(A) ফার (B) ক্যাকটাস (C) পলাশ
(D) গরান।
(vii) থার্মোস্ফিয়ারের উপরের স্তরের নাম হল-
(A) মেসোস্ফিয়ার (B) স্ট্যাটোস্ফিয়ার
(C) এক্সোস্ফিয়ার (D) ট্রপোস্ফিয়ার।
(viii) মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন কাল-
(A) শীতকাল (B) শরৎকাল (C) বর্ষাকাল
(D) গ্রীষ্মকাল।
(ix) কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান-
(A) বাঘ (B) সিংহ (C) একশৃঙ্গ-গন্ডার
(D) রেড পান্ডার জন্য বিখ্যাত।
(x) বেশি পরিমানে জৈব পদার্থ থাকে-
(A) লাল মাটিতে
(B) পলি মাটিতে
(C) পার্বত্য অঞ্চলের মাটিতে
(D) ল্যাটেরাইট মাটিতে।
2. নির্দেশ অনুসারে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
2.1 শূন্যস্থান পূরণ করো : 1×6=6
(i) কালো মাটির অপর নাম হল ____________।
(ii) সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু ___________ প্রকৃতির হয়।
(iii) অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ____________ হিমবাহ পৃথিবীর দীর্ঘতম হিমবাহ।
(iv) তামিলনাড়ু রাজ্যের ____________ উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয়।
(v) সাধারণত শীতকালে যে পাখিরা আমাদের দেশে উড়ে আসে তারা ___________ পাখি নামে পরিচিত।
(vi) ভারতের একটি জাতীয় উদ্যান হল _____________।
2.2 শুদ্ধ না অশুদ্ধ লেখো : 1×4=4
(i) হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে প্রধানত সরলবর্গীয় অরণ্য দেখা যায়।
(ii) উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়।
(iii) আয়নোস্ফিয়ারে রেডিয়ো তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে।
(iv) রাজস্থানে থর মরুভূমি এক শৃঙ্গ গন্ডারের প্রাকৃতিক আবাস।
3. এককথায় উত্তর দাও : 1×10=10
(i) বিশ্ব অরণ্য দিবস কবে পালিত হয় ?
(ii) বন্যপ্রাণী সংরক্ষন আইন চালু হয় কবে ?
(iii) সুন্দরবনে কোন ধরনের স্বাভাবিক উদ্ভিদ দেখা যায় ?
(iv) আন্টার্কটিকার জীবন্ত আগ্নেয়গিরির নাম কী ?
(v) বায়ুর আদ্রতা কী দিয়ে মাপা হয় ?
(vi) খাদার কী ?
(vii) রেসারপিন তৈরী হয় কী থেকে ?
(viii) একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের উদাহরণ দাও।
(ix) ল্যাটেরাইট মাটির প্রধান ফসল কী ?
(x) কালবৈশাখী কী ?
4. নির্দেশ অনুসারে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
4.1 সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (যে কোন দুটি) : 2×2=4
(i) বারিমন্ডল বলতে কী বোঝ ?
(ii) অ্যালবেডো কাকে বলে ?
(iⅲ) মাটি সংরক্ষনের দুটি উপায় লেখো।
4.2 সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (যে কোন দুটি) : 3×2=6
(i) আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য লেখো তিনটি ?
(ii) মৌসুমী বায়ুর বৈশিষ্ট্য লেখো।
(iii) জাতীয় উদ্যান।
5. যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : 5×2=10
(i) পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের স্তরগুলির চিত্রসহ বর্ণনা দাও।
(ii) ভারতে জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব লেখো।
(iii) অরন্য সংরক্ষন বলতে কী বোঝ এবং এর প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে লেখো।
—সমস্ত প্রশ্নের উত্তর—
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:
(i) পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল — (A) জলে।
(ii) অ্যান্টার্কটিকার স্থায়ী বাসিন্দা পেঙ্গুইনের প্রধান খাদ্য হল — (C) ক্রিল
(iii) যে পদ্ধতিতে আগত সৌররশ্মি ভূ-পৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে, তা হল
— (A) বিকিরণ।
(iv) বৃষ্টিপাতের পরিমান মাপা হয় যার দ্বারা, তা হল — (B) রেনগজ।
(v) পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর প্রকৃতি — (A) উষ্ণ-আর্দ্র (ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু)।
(vi) ক্রান্তীয় পর্ণমোচী উদ্ভিদের একটি উদাহরণ হল— (C) পলাশ।
(vii) থার্মোস্ফিয়ারের উপরের স্তরের নাম হল— (C) এক্সোস্ফিয়ার।
(viii) মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন কাল— (B) শরৎকাল।
(ix) কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান — (C) একশৃঙ্গ-গন্ডার-এর জন্য বিখ্যাত।
(x) বেশি পরিমানে জৈব পদার্থ থাকে — (C) পার্বত্য অঞ্চলের মাটিতে
২.১ শূন্যস্থান পূরণ করো :
(i) কালো মাটির অপর নাম হল রেগুর (বা কৃষ্ণ মৃত্তিকা)।
(ii) সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সমভাবাপন্ন প্রকৃতির হয়।
(iii) অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ল্যাম্বার্ট (Lambert) হিমবাহ পৃথিবীর দীর্ঘতম হিমবাহ।
(iv) তামিলনাড়ু রাজ্যের করোমণ্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয়।
(v) সাধারণত শীতকালে যে পাখিরা আমাদের দেশে উড়ে আসে তারা যাযাবর (বা পরিযায়ী) পাখি নামে পরিচিত।
(vi) ভারতের একটি জাতীয় উদ্যান হল করবেট (বা কাজিরাঙা / জলদাপাড়া)।
২.২ শুদ্ধ না অশুদ্ধ লেখো:
(i) হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে প্রধানত সরলবর্গীয় অরণ্য দেখা যায়। — শুদ্ধ
(ii) উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। — শুদ্ধ
(iii) আয়নোস্ফিয়ারে রেডিয়ো তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে। — শুদ্ধ
(দ্রষ্টব্য: থার্মোস্ফিয়ারের নীচের অংশকে আয়নোস্ফিয়ার বলে)
(iv) রাজস্থানে থর মরুভূমি এক শৃঙ্গ গন্ডারের প্রাকৃতিক আবাস। — অশুদ্ধ
(কারণ: একশৃঙ্গ গন্ডার অসমের কাজিরাঙা এবং পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়ার মতো জলাভূমিতে বাস করে, মরুভূমিতে নয়)
৩. এককথায় উত্তর দাও :
(i) বিশ্ব অরণ্য দিবস কবে পালিত হয়?
উত্তরঃ ২১শে মার্চ।
(ii) বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন চালু হয় কবে?
উত্তরঃ ১৯৭২ সালে।
(iii) সুন্দরবনে কোন ধরনের স্বাভাবিক উদ্ভিদ দেখা যায় ?
উত্তরঃ ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদ (যেমন: সুন্দরী, গরান, গেঁও)।
(iv) আন্টার্কটিকার জীবন্ত আগ্নেয়গিরির নাম কী ?
উত্তরঃ মাউন্ট এরেবাস।
(v) বায়ুর আর্দ্রতা কী দিয়ে মাপা হয়?
উত্তরঃ হাইগ্রোমিটার যন্ত্র দিয়ে।
(vi) খাদার কী?
উত্তরঃ নদীর অববাহিকায় পলি জমে তৈরি হওয়া নবীন বা নতুন পলি মাটিকে ‘খাদার’ বলে।
(vii) রেসারপিন তৈরি হয় কী থেকে?
উত্তরঃ সর্পগন্ধা গাছের মূল বা শিকড় থেকে।
(viii) একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল (যেমন: পুনে) অথবা মেঘালয়ের শিলং।
(ix) ল্যাটেরাইট মাটির প্রধান ফসল কী ?
উত্তরঃ কাজুবাদাম (এছাড়াও চিনেবাদাম ও চা চাষ হয়)।
(x) কালবৈশাখী কী ?
উত্তরঃ গ্রীষ্মকালে (প্রধানত এপ্রিল-মে মাসে) পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ যে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে।
৪.১ সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (যেকোনো দুটি):
(i) বারিমণ্ডল বলতে কী বোঝ?
সংজ্ঞা: ‘বারি’ শব্দের অর্থ জল। পৃথিবীর সমস্ত জলভাগকে একত্রে বারিমণ্ডল বা হাইড্রোস্ফিয়ার বলে।
বিস্তার: পৃথিবীর চারভাগের প্রায় তিনভাগ জল। সাগর, মহাসাগর, নদী, হ্রদ, ভূগর্ভস্থ জল এবং বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প—সবই বারিমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত।
পরিমাণ: পৃথিবীর মোট জলের প্রায় ৯৭% রয়েছে সমুদ্রের নোনা জল হিসেবে এবং মাত্র ৩% মিষ্টি জল।
(ii) অ্যালবেডো কাকে বলে ?
উত্তরঃ সংজ্ঞা: সূর্য থেকে আগত মোট সৌর বিকিরণের (১০০%) যে অংশটি বায়ুমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠকে কোনোভাবে উত্তপ্ত না করে মহাশূন্যে ফিরে যায়, তাকে অ্যালবেডো (Albedo) বলে।
পরিমাণ: পৃথিবী যে পরিমাণ সৌরশক্তি পায়, তার প্রায় ৩৪% অংশ মেঘপুঞ্জ, ধূলিকণা এবং ভূপৃষ্ঠের বরফ বা জলভাগ দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়। এই ৩৪% হলো পৃথিবীর গড় অ্যালবেডো।
(iii) মাটি সংরক্ষণের দুটি উপায় লেখো।
উত্তরঃ মাটি ক্ষয় রোধ করে মাটির উর্বরতা বজায় রাখার দুটি প্রধান উপায় হলো—
বৃক্ষরোপণ ও অরণ্য সৃষ্টি: ফাঁকা জমিতে বেশি করে গাছ লাগালে গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে। এর ফলে জল বা বাতাসের টানে মাটি সহজে ক্ষয় হতে পারে না।
ধাপ চাষ: পাহাড়ি ঢালু জমিতে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে চাষবাস করলে বৃষ্টির জলের গতি কমে যায়। ফলে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে মাটির ক্ষয় বা ধস নামার সম্ভাবনা অনেক কমে।
৪.২ সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (যেকোনো দুটি):
(i) আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো :
| পার্থক্যের বিষয় | আবহাওয়া | জলবায়ু |
| ১. সময়কাল | কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলের অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। | কোনো অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের কমপক্ষে ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে। |
| ২. পরিবর্তনশীলতা | আবহাওয়া খুব দ্রুত পরিবর্তনশীল। সকালে রোদ থাকলে দুপুরে বা বিকেলে বৃষ্টি হতে পারে। | জলবায়ু সহজে বা দ্রুত বদলায় না। এটি দীর্ঘকাল ধরে প্রায় একই রকম থাকে। |
| ৩. পরিধি | আবহাওয়া একটি নির্দিষ্ট ছোট অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় (যেমন একটি শহর বা জেলা)। | জলবায়ু অনেক বড় অঞ্চল বা বিশাল দেশ জুড়ে বিস্তৃত থাকে (যেমন সমগ্র ভারতের জলবায়ু)। |
(ii) মৌসুমি বায়ুর বৈশিষ্ট্য লেখো:
উত্তরঃ ভারতের জলবায়ু ও কৃষিকাজে মৌসুমি বায়ুর ভূমিকা অপরিসীম। এই বায়ুর প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো:
ঋতু পরিবর্তন: ‘মৌসুম’ শব্দের অর্থ ঋতু। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এই বায়ুর প্রবাহের দিক সম্পূর্ণ বদলে যায়। গ্রীষ্মকালে এই বায়ু সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে এবং শীতকালে স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়।
অনিশ্চিত বৃষ্টিপাত: ভারতে গ্রীষ্মকালীন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই প্রধানত বৃষ্টিপাত হয়। তবে এই বৃষ্টিপাত অত্যন্ত অনিশ্চিত—কোনো বছর সময়ে বৃষ্টি আসে, আবার কোনো বছর খরা বা অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দেয়।
আর্দ্র গ্রীষ্মকাল ও শুষ্ক শীতকাল: গ্রীষ্মকালে সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্প নিয়ে আসার কারণে এই বায়ু প্রচুর বৃষ্টি ঘটায় (আর্দ্র গ্রীষ্ম)। কিন্তু শীতকালে স্থলভাগ থেকে আসার কারণে এই বায়ুতে জলীয় বাষ্প থাকে না, ফলে শীতকাল শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন থাকে।
(iii) জাতীয় উদ্যান :
উত্তরঃ ধারণা: কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়ন্ত্রিত যে বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক অরণ্য অঞ্চলে বন্যপ্রাণীদের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা হয়, তাকে জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্ক বলে।
বৈশিষ্ট্য—
১. এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণী শিকার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
২. এখানে উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়কেই সমানভাবে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়।
৩. জাতীয় উদ্যানের ভেতরে মানুষের চাষবাস, পশুচারণ বা কাঠ কাটার মতো বাণিজ্যিক কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।
উদাহরণ: উত্তরাখণ্ডের জিম করবেট জাতীয় উদ্যান এবং অসমের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান।
৫. যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×২=১০)
(i) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলির চিত্রসহ বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে তাপমাত্রা এবং উপাদানের তারতম্য অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলকে প্রধানত পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। নিচে এই স্তরগুলির বর্ণনা দেওয়া হলো—
ট্রপোস্ফিয়ার : এটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের এবং ঘন স্তর (ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত)। বায়ুমণ্ডলের মোট গ্যাসের প্রায় ৭৫% এখানে থাকে। এই স্তরেই ধূলিকণা, মেঘ, ঝড় ও বৃষ্টি দেখা যায় বলে একে ‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’ বলে। ওপরে ওঠার সাথে সাথে এখানে তাপমাত্রা কমতে থাকে।
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার : ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরে প্রায় ৫০ কিমি পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত। এখানে মেঘ, ধূলিকণা বা ঝড়-বৃষ্টি থাকে না। আকাশ শান্ত থাকায় এই স্তরের মধ্য দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে। তাই একে ‘শান্তমণ্ডল’ বলে। এই স্তরের নীচের দিকে ওজোন গ্যাসের (O₃) স্তর থাকে, যা সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
মেসোস্ফিয়ার : স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওপরে প্রায় ৮০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরটি হলো মেসোস্ফিয়ার। এটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতলতম স্তর (তাপমাত্রা কমে প্রায় -১০০° সেলসিয়াস হয়)। মহাশূন্য থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে, সেগুলি এই স্তরে এসে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার : মেসোস্ফিয়ারের ওপরে প্রায় ৫০০ কিমি পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত। এখানে তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাড়ে। এই স্তরের বায়ু আয়নে রূপান্তরিত অবস্থায় থাকে বলে একে আয়নোস্ফিয়ার বলে। এখান থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং আকাশে চমৎকার মেরুজ্যোতি দেখা যায়।
এক্সোস্ফিয়ার : থার্মোস্ফিয়ারের ওপরে প্রায় ৭৫০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলের শেষ স্তর হলো এক্সোস্ফিয়ার। এখানে বায়ু অত্যন্ত হালকা। কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট এবং মহাকাশ স্টেশনগুলি সাধারণত এই স্তরেই স্থাপন করা হয়।
(ছবি দিতে হবে)
(ii) ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব লেখো।
উত্তরঃ ভারতের অর্থনীতি, সমাজ এবং জলবায়ু সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল। ভারতের জলবায়ুতে এই বায়ুর প্রধান প্রভাবগুলি নিচে আলোচনা করা হলো—
ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমি বায়ুর আগমন এবং প্রত্যাবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই ভারতে প্রধান চারটি ঋতুর চক্র আবর্তিত হয়—গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল, শরৎকাল ও শীতকাল।
বৃষ্টিপাতের বণ্টন: ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ঘটে গ্রীষ্মকালীন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই বায়ুর হাত ধরেই ভারতে বর্ষাকাল আসে।
আর্দ্র গ্রীষ্ম ও শুষ্ক শীতকাল: গ্রীষ্মের শেষে সমুদ্র থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রচুর জলীয় বাষ্প আনে, যা দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। আবার শীতকালে ভারতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় স্থলভাগ থেকে আসা শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু, যার ফলে তামিলনাড়ুর উপকূল ছাড়া সমগ্র ভারতে শীতকাল শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন থাকে।
উষ্ণতা হ্রাস: মে-জুন মাসে ভারতের তাপমাত্রা যখন চরম আকার ধারণ করে, তখন মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষা নামলে তীব্র গরম কমে গিয়ে আবহাওয়া আরামদায়ক হয়।
খরা ও বন্যা সৃষ্টি: মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত খামখেয়ালি। কোনো বছর এই বায়ু সময়ের আগে চলে এলে বা অতিরিক্ত সক্রিয় হলে দেশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। আবার কোনো বছর এই বায়ু দেরিতে এলে বা দুর্বল হলে বৃষ্টিপাতের অভাবে তীব্র খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়।
(iii) অরণ্য সংরক্ষণ বলতে কী বোঝ এবং এর প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তরঃ অরণ্য সংরক্ষণ : বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে গাছপালাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা, কাটার পর সমপরিমাণ নতুন চারাগাছ রোপণ করা এবং বনের উদ্ভিদের সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করাকেই এককথায় অরণ্য সংরক্ষণ বলে।
অরণ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা—
অক্সিজেনের জোগান ও কার্বন ডাই অক্সাইড হ্রাস: গাছপালা বাতাস থেকে ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস গ্রহণ করে এবং আমাদের বেঁচে থাকার প্রধান উপাদান অক্সিজেন বাতাসে ছাড়ে। অরণ্য ধ্বংস হলে বাতাসে অক্সিজেনের ঘাটতি হবে এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) দ্রুত বাড়বে।
বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: গাছপালা প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প ছাড়ে, যা মেঘ তৈরি করতে এবং বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে। অরণ্য কমে গেলে বৃষ্টিপাত কমে খরা দেখা দেবে।
মৃত্তিকা ক্ষয় ও বন্যা রোধ: গাছের মূল বা শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে। এর ফলে বৃষ্টির জল বা বাতাসের টানে মাটি সহজে ক্ষয় হতে পারে না। পাশাপাশি বনের গাছপালা বন্যার জলের গতি কমিয়ে দেয়।
বন্যপ্রাণের বাসস্থান রক্ষা: বনাঞ্চল হলো লক্ষ লক্ষ পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের প্রাকৃতিক বাসস্থান। অরণ্য ধ্বংস হলে বন্যপ্রাণীরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং প্রকৃতির পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব: অরণ্য থেকে আমরা কাঠ, মধু, মোম, আঠা এবং জীবনদায়ী নানা ভেষজ ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পাই। মানুষের অর্থনৈতিক ও জীবিকার প্রয়োজনেও অরণ্য টিকিয়ে রাখা দরকার।
📌আরও পড়ুনঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
