নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের বিষয়বস্তু নবম শ্রেণি বাংলা | Nobo Nobo Sristi Probondher Bishoibostu Class 9 Bengali wbbse

নব নব সৃষ্টি
সৈয়দ মুজতবা আলী
নবম শ্রেণি বাংলা

নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের বিষয়বস্তু নবম শ্রেণি বাংলা | Nobo Nobo Sristi Probondher Bishoibostu Class 9 Bengali wbbse

নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের বিষয়বস্তু, সারাংশ, সারমর্ম, সারসংক্ষেপ নবম শ্রেণি বাংলা | Nobo Nobo Sristi Bishoibostu Class 9 Bengali wbbse

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

নব নব সৃষ্টি পাঠ্য প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি, উৎস, বিষয় সংক্ষেপ, নামকরণ নবম শ্রেণি বাংলা।

লেখক পরিচিতিঃ সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪ – ১৯৭৪) : জন্ম শ্রীহট্টের করিমগঞ্জে। বাবার নাম সৈয়দ সিকান্দর আলি।‌ মহাত্মা গান্ধির ডাকে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে স্কুল ছাড়েন। শান্তিনিকেতনে পড়া শেষ করে তিনি কাবুলের শিক্ষাবিভাগে অধ্যাপক হন। তিনি আরবি, ফারসি, জার্মান সহ ১৫টি ভাষা জানতেন। প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, উপন্যাস ও রম্য-রচনায় তাঁর দক্ষতা অসামান্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘দেশে বিদেশে’, ‘পঞ্চতন্ত্র’, চাচাকাহিনি, ময়ূরকণ্ঠী, শবনম, ধূপছায়া, টুনিমেম, হিটলার প্রভৃতি। তিনি ‘নরসিংহদাস পুরস্কারে’ সম্মানিত।

উৎসঃ মুজতবা আলীর ‘চতুরঙ্গ’ নামক গ্রন্থ থেকে সংকলিত পাঠ্য অংশ ‘নব নব সৃষ্টি’। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে এই নামটি সংকলকদের দেওয়া। আসল রচনাটির নাম ‘মামদোর পুনর্জন্ম’।

বিষয়সংক্ষেপঃ প্রাচীন যুগের অধিকাংশ ভাষাকে লেখক আত্মনির্ভরশীল এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাষা বলেছেন। হিব্রু, গ্রীক, আবেস্তা, সংস্কৃত এবং কিছুটা পরবর্তী যুগের আরবিও নতুন ভাষার প্রয়োজন হলে নিজ ভান্ডারে প্রথমে শব্দের খোঁজ করেছে। এই সমস্ত ভাষা খুব সামান্যই বিদেশী ভাষা ব্যবহার করেছে, এই ভাষা গুলি স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিয়ে লেখক কোন আপত্তি প্রকাশ করেননি। এই বিচারে লেখক বর্তমান যুগের বাংলা এবং ইংরেজিকে অন্য ভাষার উপর নির্ভরশীল বলেছেন। কারণ বাংলা এবং ইংরেজি প্রয়োজন ছাড়াও বিদেশি শব্দ ব্যবহার করে। পাঠান-মোগল যুগে আরবি, ফারসি শব্দের খুব বেশি প্রচলনের ফলে এই দুই ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় প্রচুর শব্দ প্রবেশ করেছে।

লেখক স্পষ্ট ভাবে বলেছেন যে বিদেশী শব্দ বাংলা ভাষায় প্রবেশ করবেই সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। আলু কফির বা বিলেতি ওষুধের ব্যবহার যেমন‌ রোজ বাড়ছে, তেমনি বাংলা ভাষাতে বিদেশি শব্দ থেকে যাবে এবং আরো নতুন শব্দের প্রবেশ ঘটবে। হিন্দি ভাষার তরুণ সাহিত্যিকরা হিন্দি ভাষা থেকে আরবি, ফারসি, ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বন্ধ করার প্রচেষ্টা শুরু করেছেন। তাঁদের এই চেষ্টার ফলাফল ভালো না মন্দ হবে, সে কথা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে রবীন্দ্রনাথ নজরুল বা বিদ্যাসাগর বাংলা ভাষায় অনায়াসেই বিদেশি শব্দের ব্যবহার করেছেন। এমনকি হিন্দি ভাষার বঙ্কিমচন্দ্র হিসেবে পরিচিত মুন্সি প্রেম চন্দও হিন্দি ভাষার আরবি, ফরাসি শব্দের ব্যবহার করেছেন। শংকর দর্শনের ভাষা সংস্কৃত ভাষা হবে। আবার মোগলাই রেস্তোরাঁর ভাষা হুতুম প্যাঁচার নকশায় ব্যবহৃত ভাষার মতোই হবে। বসুমতি পত্রিকার সম্পাদকীয়তে গাম্ভীর্য থাকলেও বাঁকা চোখের ভাষাতে রয়েছে চটুলতা।

বাংলা ভাষায় যেসব বিদেশি শব্দ প্রবেশ করেছে তাদের মধ্যে আরবি ফারসি এবং ইংরেজি প্রধান। স্কুল-কলেজ থেকে সংস্কৃত চর্চা বন্ধ করা উচিত নয় কারণ বাংলা ভাষার বর্তমানেও সংস্কৃত ভাষার প্রয়োজন আছে। ইংরেজি ভাষার ক্ষেত্রেও সংস্কৃতের মতই একই কথা প্রযোজ্য কারণ দর্শন নন্দন শাস্ত্র এবং বিজ্ঞান বিষয়ক সাহিত্যচর্চাতে ইংরেজি ভাষার বিকল্প নেই কারণ রেলের ইঞ্জিন চালাতে হয় কি করে তা জানার জন্য ইংরেজি ভাষারই বেশি প্রয়োজন। আরবি এবং ফারসি ভাষা দারুন ভাবে বাংলায় প্রবেশ আর করবে না, কারণ তরুণ বাঙালিরা এই দুই ভাষার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। তবে যে সব আরবি ফরাসি শব্দ বাংলা ভাষায় ইতিমধ্যে ঢুকে গেছে সেগুলি দীর্ঘদিন চালু থাকবে।

প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় মাদ্রাসাগুলিতে আরবি ভাষা পড়ানো হলেও ভারতীয় আর্যরা ফরাসি ভাষার প্রতি অনেক বেশি আকৃষ্ট হন। ফরাসি ভাষার জন্মের সঙ্গে সঙ্গে ভারতে উর্দু এবং কাশ্মীরি ভাষার জন্ম হয়। উর্দু কবি ইকবাল উর্দু ভাষাকে ফরাসির প্রভাব থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন।

বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্য পদাবলী কীর্তন। এই কাব্যের শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীমতি রাধার চরিত্রে খাঁটি বাঙালিয়ানা ফুটে উঠেছে। ভাটিয়ালির নায়িকা, বাউলের ভক্ত, মুর্শিদি গানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বাঙালি তার ধর্ম, রাজনীতি, সাহিত্য-সর্বত্রই সত্য-শিব- সুন্দরের আরাধনা করেছেন এবং সেই আরাধনায় কেউ বাধা দিলে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। এই বিদ্রোহী মনোভাব বাঙালি
হিন্দু-মুসলিম উভয় জাতির ক্ষেত্রেই বর্তমান।

📌সৈয়দ মুজতবা আলির ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধটির বিষয়বস্তু আলোচনা।

সৈয়দ মুজতবা আলির ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধটি ভাষার গতিশীলতা, আত্মনির্ভরতা এবং বিদেশি শব্দের মেলবন্ধন নিয়ে রচিত।

সংস্কৃত ভাষার আত্মনির্ভরশীলতা: প্রবন্ধের শুরুতেই লেখক সংস্কৃত ভাষাকে একটি ‘আত্মনির্ভরশীল’ ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কোনো নতুন শব্দের প্রয়োজন হলে সংস্কৃত অন্য ভাষার কাছে হাত না পেতে নিজের ভাণ্ডার থেকেই নতুন শব্দ তৈরি করে নিতে পারে। প্রাচীন হিব্রু, গ্রিক বা আবেস্তা ভাষাও এই গুণের অধিকারী ছিল।

বাংলা ভাষার উদারতা: বাংলা ভাষা সংস্কৃতের মতো পুরোপুরি আত্মনির্ভরশীল নয়। লেখক দেখিয়েছেন, বাংলা ভাষা অত্যন্ত উদার। বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনে বাংলা ভাষা আরবি, ফারসি, ইংরেজি এমনকি পর্তুগিজ শব্দকেও আপন করে নিয়েছে। এই বিদেশি শব্দগুলো বাংলা শব্দভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ ও সজীব করেছে।

বিদেশি শব্দের প্রয়োজনীয়তা: লেখক মনে করেন, শুধু গোঁড়ামির কারণে বিদেশি শব্দ বর্জন করা উচিত নয়। পাঠান-মোগল আমলের আরবি-ফারসি শব্দ বা বর্তমানের ইংরেজি শব্দ বাংলা ভাষায় এমনভাবে মিশে গেছে যে, সেগুলো বাদ দিলে ভাষা তার স্বাভাবিক গতি ও জৌলুস হারাবে।

সাহিত্যের বিবর্তন ও ‘নব নব সৃষ্টি’: সাহিত্যের ক্ষেত্রেও লেখক পরিবর্তনের কথা বলেছেন। প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ যেমন বাংলা গদ্যের এক নতুন রূপ (আলালী ভাষা) তৈরি করেছিল, তেমনি রবীন্দ্রনাথ বা পরবর্তী লেখকরাও ভাষাকে নতুন নতুন রূপ দিয়েছেন। এই ক্রমাগত পরিবর্তন এবং নতুনকে গ্রহণ করার প্রক্রিয়াই হলো ‘নব নব সৃষ্টি’।

বাঙালির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য: লেখক বাঙালির চরিত্রের একটি বিশেষ দিক তুলে ধরেছেন। বাঙালিরা যেমন নতুনকে গ্রহণ করতে দ্বিধা করে না, তেমনি নিজের মৌলিকত্বও হারায় না। ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভাষার ক্ষেত্রে এই মিশ্রণই বাঙালির আসল শক্তি।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, ভাষা কোনো স্থির বিষয় নয়, বরং নদীর মতো প্রবহমান। সময়ের প্রয়োজনে অন্য ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করে নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলাই হলো ভাষার সার্থকতা। এই ‘নব নব সৃষ্টি’র মাধ্যমেই বাংলা ভাষা আজও টিকে আছে এবং সমৃদ্ধ হচ্ছে।

📌নামকরণঃ সাহিত্যের নামকরণের ক্ষেত্রে সাধারণত বিষয়বস্তু বা মূল ভাবকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই প্রবন্ধটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

ভাষার পরিবর্তনশীলতা: লেখক দেখিয়েছেন যে ভাষা কোনো স্থির বা স্থবির বিষয় নয়। সময়ের প্রয়োজনে ভাষা নিজেকে বদলে নেয়। বাংলা ভাষা সংস্কৃত, আরবি, ফারসি এবং ইংরেজি শব্দ গ্রহণ করে প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছে। এই প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া এবং নতুন রূপ ধারণ করাই হলো ‘নব নব সৃষ্টি’।

সংস্কৃত ও অন্যান্য ভাষার তুলনা: লেখক সংস্কৃত ভাষাকে ‘আত্মনির্ভরশীল’ বললেও বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে দেখিয়েছেন তার উদারতা। বাংলা ভাষা বিদেশি শব্দকে বর্জন না করে আপন করে নিয়েছে। এই আত্তীকরণের ফলেই বাংলা ভাষায় নতুন নতুন শব্দের উদ্ভব ঘটেছে, যা প্রবন্ধের নামের সাথে সংগতিপূর্ণ।

সাহিত্যের বিবর্তন: প্রবন্ধটিতে লেখক কেবল শব্দের কথা বলেননি, সাহিত্যের শৈলীর পরিবর্তনের কথাও বলেছেন। যেমন—প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালী ভাষা’ বা হুতোম প্যাঁচার নকশার ভাষা বাংলা গদ্যে এক নতুন সৃষ্টির সূচনা করেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে নতুন রূপে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বাঙালির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য: বাঙালির ধর্ম, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার মধ্যেও লেখক এক ধরণের মিশ্রণ ও নতুনত্ব খুঁজে পেয়েছেন। বাঙালি জাতি যেমন নতুনকে গ্রহণ করতে দ্বিধা করে না, তেমনি তাদের ভাষাও নতুন নতুন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সজীব থাকে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, প্রবন্ধটিতে লেখক ভাষার প্রবহমানতা এবং নতুন শব্দ ও শৈলী গ্রহণের মাধ্যমে ভাষার যে সমৃদ্ধি ঘটে, তাকেই মূল উপজীব্য করেছেন। ‘নব নব সৃষ্টি’র মাধ্যমেই একটি ভাষা জীবন্ত থাকে— এই সত্যটিই লেখক এখানে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই বিষয়বস্তুর দিক থেকে প্রবন্ধটির নামকরণ অত্যন্ত যথাযথ ও সার্থক হয়েছে।

শব্দার্থ ও টিকা: আত্মনির্ভরশীল— স্বনির্ভর, চিন্তা— ভাবনা, অনুভূতি— চেতনা, কিংবা— অথবা, নবীন— নতুন, ভান্ডার— ভাঁড়ার, অনুসন্ধান— খোঁজ, অদলবদল— পরিবর্তন, ধাতু— ক্রিয়ার মূল রূপ, নির্মাণ— গঠন, কস্মিনকালে— কোনো কালে, মুষ্টিমেয়— অল্প পরিমাণ, স্বয়ংসম্পূর্ণ— যে নিজেই সম্পূর্ণ, আপত্তি— অমত, ঈষৎ— অল্প, সামান্য, ভিন্ন— আলাদা, খাজনা— কর, খারিজ— বাতিল, আদালত— বিচারালয়, মারফত— মধ্যস্থতায়, অবান্তর— অপ্রাসঙ্গিক, সজ্ঞানে— সচেতনভাবে, খুশি— আনন্দ, মাধ্যম— যার মারফত কোনো কাজ করা হয়, মধ্যস্থ। বর্জন— ত্যাগ প্রচুর অনেক, সম্বন্ধে— ব্যাপারে, সম্পূর্ণ— পরিপূর্ণ, তরুণ— নবযুবক, পাঠক— পড়ুয়া, বলা বাহুল্য— বেশি বলা হয়, স্বচ্ছন্দ— স্বাধীন। আব্রু— আবরণ, ইজ্জত— মান, ইমান— ধর্মবিশ্বাস, ইনকিলাব— বিপ্লব। শহিদ— মহৎ উদ্দেশ্যে মৃত্যুবরণকারী। ব্যবহার— আচরণ, অতিশয়— অত্যন্ত, নিষ্ঠাবান— নিষ্ঠা আছে যার, জিহাদ— অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আহাম্মুখী— বোকামি, নির্মিত— তৈরি। নিষ্প্রয়োজন— প্রয়োজন নেই, এস্থলে— এখানে, বিস্তর— অনেক, প্রচুর। এক্সপেরিমেন্ট— পরীক্ষা, অধুনা— বর্তমানে, অনায়াসে— সহজে, জীবস্মৃত— জীবিত থেকেও মরার অবস্থা, মৃততুল্য। মক্তব ইসলামি রীতির প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা— ইসলামীয় বিদ্যাশিক্ষাকেন্দ্র, সেমিতি— সেই মতো, ঐশ্বর্যশালী— সম্পদশালী, ঐশ্বর্যবান। সম্যক— পরিপূর্ণ, সম্পূর্ণরূপে। নির্ভর— অবলম্বন, পক্ষান্তরে— অপর দিকে, মোগলাই— মোগল সম্বন্ধীয়, গাম্ভীর্য— গম্ভীর ভাব, অচঞ্চলতা, চটুলতা— অস্থিরতা, অত্যধিক— খুব বেশি, দুশ্চিন্তা— দুর্ভাবনা, বঞ্চিত— প্রতারিত, অনায়াসে— সহজে। টেকনিক্যাল— কলাকৌশল, কৌতূহল— দেখার বা জানার ইচ্ছা, সম্প্রদায়— দল, অতিশয়— অতিরিক্ত, ক্ষীণ— শীর্ণ, রোগা, দুর্বল, ক্ষয়প্রাপ্ত, অল্প বা মৃদু। অভূতপূর্ব— আগে কখনও হয়নি এমন। অচলিত— যা বর্তমানে চলে না, যার চল নেই। মেয়াদ— নির্দিষ্টকাল, পরিস্থিতি— পারিপার্শ্বিক অবস্থা, খতেন— দফায় দফায় তৈরি হিসাব, অভিভূত— বিহ্বল, হৃদয়ঙ্গম— উপলব্ধি, অনুকরণ— অন্যের কথা বা আচরণ নকল, নিষ্কৃতি— অব্যাহতি, সক্ষম— সমর্থ, খাঁটি— বিশুদ্ধ, বিদ্রোহ— বিরোধিতা, ঐতিহ্য— বরাবর চলে আসছে এমন কাহিনি, প্রথা বা ভাবধারা।, দোহাই— ছুতা বা অছিলা, বিদ্যমান— বর্তমান, উচ্ছৃঙ্খলতা— যথেচ্ছাচারিতা, তৎপর— উদ্যোগ, পরম— চরম।

বসুমতী: হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষের সম্পাদনায় ১৮৯৬ সালে আত্মপ্রকাশ করা ‘বসুমতী’ ছিল বাংলা ভাষার একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯২৩ থেকে ১৯৪৪ পর্যন্ত সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এটি তার গৌরবময় ‘স্বর্ণযুগে’ পৌঁছায় এবং তৎকালীন প্রথিতযশা লেখকদের অবদানে সমৃদ্ধ হয়।

আলাল: প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে ১৮৫৮ সালে ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসটি রচনা করেন, যা বাংলার প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে গণ্য হয়। এই উপন্যাসে কলকাতার চলতি ভাষা ও বিভিন্ন উপভাষার মিশ্রণে তৈরি ‘আলালী ভাষা’ বা ‘আলালের ভাষা’ ব্যবহৃত হয়েছে, যা তৎকালীন গুরুগম্ভীর সাধু ভাষার বাইরে এক আধুনিক ও ঘরোয়া গদ্যরূপ।

হুতোম: ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ গ্রন্থে কলকাতার সমকালীন বাবুসমাজের বাস্তব ও ব্যঙ্গাত্মক চিত্র ফুটে উঠেছে। জনজীবনের সঠিক রূপায়ণে সাধু-চলিত রীতির সাথে উত্তর কলকাতার কথ্যরীতির মিশ্রণে লেখক ‘হুতোমি ভাষা’ নামে এক বিশেষ শৈলী নির্মাণ করেছিলেন।

কীর্তন: কীর্তন’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো মহৎ কীর্তি বা গুণগান, যা বাংলাদেশে প্রাচীনকাল থেকে মূলত শ্রীকৃষ্ণের মাহাত্ম্য বর্ণনা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই গীতরীতি প্রধানত দুই প্রকার— নামকীর্তন ও লীলাকীর্তন, যার মধ্যে সময়ের উপযোগিতা অনুযায়ী চতুষ্প্রহর থেকে চব্বিশ প্রহর বা তারও বেশি সময় ধরে নামকীর্তন পরিবেশিত হয়। পরিবেশনা অনুযায়ী এই কীর্তন মণ্ডপে চাঁদোয়া খাটিয়ে বা দলবদ্ধভাবে বাদ্যসহ নগরের পথে পথে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলা অবলম্বনে যে সকল কীর্তনগান গীত হয় তা লীলাকীর্তন নামে পরিচিত। সাধারণত বৃন্দাবনলীলা-কেন্দ্রিক কীর্তনকেই লীলাকীর্তন বলা হয়। লীলাকীর্তনের অপর নাম রসকীর্তন। রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক এই রসকীর্তনকেই সৈয়দ মুজতবা আলী বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি বলেছেন।

বাউল: বাউল বাংলার একটি বিশেষ ধর্মসম্প্রদায় এবং তাদের পল্লিসংগীতকে বোঝায়, যা একতারা, খঞ্জনি, ডুগি ও খমকসহ নৃত্য ও ঘুঙুরের তালে পরিবেশিত হয়। বাউল গানের সাধারণ অর্থের অন্তরালে এক গভীর আধ্যাত্মিক দর্শন থাকে, যার কেন্দ্রে রয়েছে ‘মনের মানুষ’ বা পরম সত্যের আরাধনা। বাউল সংগীত রচয়িতাদের মধ্যে লালন শাহ ফকির সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য, এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম এই বাউল গান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বাউল দর্শন ও লালন শাহের গান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।

ভাটিয়ালি: পূর্ববঙ্গের ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা ও শ্রীহট্ট জেলায় বিশেষভাবে প্রচলিত এক অনন্য পল্লিগীতি হলো ভাটিয়ালি। তালহীন এই গানগুলো সাধারণত খোলা মাঠে রাখাল বা নদীর বুকে মাঝিমাল্লাদের কন্ঠে উদাত্ত সুরে শোনা যায়, যা বিষয় ও অবস্থা ভেদে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত।

আবেস্তা: আবেস্তা হলো প্রাচীন পারস্যের ঋষি জরথুষ্ট্রের সময়কার ধর্মগ্রন্থ এবং ওই যুগান্তকারী ভাষার নাম, যা পরবর্তী পুরোহিতগণ ব্যবহার করতেন। ঋগ্বেদের সংস্কৃত ভাষার সাথে গভীর সম্পর্কযুক্ত আবেস্তা গ্রন্থাবলি পশ্চিম এশিয়ার আর্যদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান হিসেবে গণ্য হয়।

হিব্রু: হিব্রু হলো প্রাচীন বিশ্বের একটি সমৃদ্ধ সেমীয় ভাষা, যা ভাষাতাত্ত্বিক বিচারে প্রাচীনতম সেমীয়-হামীয় গোষ্ঠীর অন্তর্গত। এই ভাষাটি পশ্চিমি সেমীয় উপশাখার উত্তরাঞ্চলীয় শাখা থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং পবিত্র বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন নিয়মে ব্যবহৃত হয়েছে।

MCQ প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১)

VSAQ প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১)

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৩)

বড়ো প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫)

📌 আরো দেখুনঃ

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply