নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | Nobo Nobo Sristi Probondher SAE Question Answer Class 9 Bengali wbbse

নব নব সৃষ্টি
সৈয়দ মুজতবা আলী
নবম শ্রেণি বাংলা

নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | Nobo Nobo Sristi Probondher SAE Question Answer Class 9 Bengali wbbse

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধ নবম শ্রেণি বাংলা | Short and Explanatory Question Answer Nobo Nobo Sristi Class 9 Bengali wbbse

• প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি কমবেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও : (প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৩)

১. “সংস্কৃত ভাষা আত্মনির্ভরশীল’- সংস্কৃত ভাষা সম্পর্কে এ কথাবলা হয়েছে কেন ?

উত্তরঃ লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী সংস্কৃত ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল ভাষা বলেছেন কারণ কোনো নতুন চিন্তা, অনুভূতি প্রকাশের জন্য নতুন শব্দের প্রয়োজন হলে সংস্কৃত ভাষা তা অন্য ভাষা থেকে ধার করার কথা কখনওই ভাবে না। পরিবর্তে নিজের শব্দভাণ্ডারে তার খোঁজ করে। নিজের ভাণ্ডারে থাকা ধাতু বা শব্দ খোঁজে, যার সামান্য অদলবদল করে কিংবা পুরোনো ধাতু দিয়েই নতুন শব্দটি তৈরি করা যেতে পারে। এই কারণেই সংস্কৃতকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আত্মনির্ভরশীল ভাষা বলা হয়েছে।

২. ‘বর্তমান যুগের ইংরেজি ও বাংলা আত্মনির্ভরশীল নয়।’– ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কীভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন ?

উত্তরঃ প্রাচীন যুগের সংস্কৃত ভাষা তো বটেই, তা ছাড়া হিব্রু, গ্রিক, আবেস্তা প্রভৃতি সব ভাষাই ছিল আত্মনির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমান যুগের ইংরেজি ও বাংলা ভাষা আত্মনির্ভরশীল নয়। কারণ, প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ গৃহীত হয়েছে ও হচ্ছে। পাঠান-মোগল শাসন যুগে আইন-আদালত, খাজনাখারিজ ব্যাপারে নতুন নতুন শব্দের জন্য আরবি ও ফারসি ভাষা থেকে শব্দ নিতে হয়েছিল। তার পরবর্তী ইংরেজ শাসন যুগে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে নিতে হয়েছে কিংবা অন্যান্য ভাষা থেকে শব্দ নিতে হচ্ছে। ইংরেজির মাধ্যমে প্রচুর ইউরোপীয় শব্দ আমাদের বাংলা ভাষায় ঢুকেছে। কাজেই বর্তমান বাংলা ভাষা আত্মনির্ভরশীল নয়।

৩. “বিদেশি শব্দ নেওয়া ভালো না মন্দ সে প্রশ্ন অবান্তর”– কেন লেখক কথা বলেছেন আলোচনা করো।

উত্তরঃ ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন বাংলা ভাষা কখনোই আত্মনির্ভরশীল নয়। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে আমরা ভিন্ন ভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ নিয়েছি এবং সেই প্রক্রিয়া এখনও বজায় রয়েছে। পাঠান ও মোগল যুগে আইন-আদালত ইত্যাদি প্রসঙ্গে প্রচুর আরবি ও ফারসি শব্দ গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী যুগে ইংরেজি ভাষা থেকেও এই শব্দ নেওয়া হয়েছে। তার পরিমাণ এতটাই বেশি যে, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অর্থ হয় না। লেখকের মতে, শিক্ষার মাধ্যম রূপে ইংরেজিকে বর্জন করে বাংলা গ্রহণ করার পরে এই প্রবণতা আরও বাড়বে। ফলে বিদেশি শব্দের আমদানি করার ভাবনা যখন বন্ধ করা যাবে না, সেক্ষেত্রে তার ভালোমন্দ নিয়ে ভাবা নিতান্তই অর্থহীন।

৪. ‘ধর্ম বদলালেই জাতির চরিত্র বদলায় না।’– বক্তার এর উত্তেজিত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ আলোচ্য উদ্ধৃতিটি প্রবন্ধকার সৈয়দ
মুজতবা আলীর লেখা প্রবন্ধ ‘নব নব সৃষ্টির
অংশবিশেষ। বাঙালি হিন্দুর ভিতরেই বিদ্রোহ কেবল সীমাবদ্ধ নয়। বাঙালির মধ্যে মুসলমান ধর্মের লোকও আছে। তারা হিন্দু থেকে মুসলমান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। কিন্তু বাঙালি হিন্দুর মতো বাঙালি মুসলমানদের মধ্যেও একই বিদ্রোহের
প্রবণতা বিদ্যমান। ধর্ম পরিবর্তনের ফলে চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি।

৫. ‘স্কুল-কলেজ থেকে আমরা সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে দিতে চাই না’– ‘স্কুল-কলেজ থেকে সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে না দেবার কারণ প্রসঙ্গে বক্তা কী বলেছেন ?

উত্তরঃ অংশটি মুজতবা আলীর ‘নব নব সৃষ্টি’ নামক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। সংস্কৃত ভাষা অত্যন্ত উন্নত ও সমৃদ্ধশালী। নতুন শব্দ তৈরির ব্যাপারে অসামান্য দক্ষতা আছে এই ভাষার। প্রাচীনকাল থেকে এদেশে সংস্কৃত চর্চা ছিল বলে বহু সংস্কৃত শব্দ বাংলায় ঢুকেছে, ঢুকছে এবং আগামীতে যতদিন এ ভাষা থাকবে ততদিন ঢুকবে। স্কুল-কলেজে বাংলাতে এখনও আমাদের প্রচুর সংস্কৃত শব্দের প্রয়োজন। লেখকের মতে, ‘সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে দিলে আমরা অন্যতম প্রধান খাদ্য থেকে বঞ্চিত হব।’

৬. ‘ভাটিয়ালির নায়িকা, বাউলের ভক্ত, মুরশিদিয়ার আশিক ও পদাবলির শ্রীরাধা একই চরিত্র’– ভাটিয়ালি, বাউল, মুরশিদিয়া ও শ্রীরাধার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

উত্তরঃ

ভাটিয়ালি : বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে নৌকার মাঝি-মাল্লাদের গান। উল্লেখযোগ্য লোকসংগীত।

বাউল : বাউল সম্প্রদায়ের রচিত গান। একতারা, খঞ্জনি, ডুগি, খমক ইত্যাদি যন্ত্রের সঙ্গে এই গান গাওয়া হয়

মুর্শিদি : মুর্শিদি হল গুরুবাদী মুসলমান সম্প্রদায়ের ভাব ও গান।

শ্রীরাধা : রাধা হলেন কৃষপ্রেমিকা ও গোপবালা। পিতা বৃষভানু, মাতা কলাবতী ও স্বামী আয়ন ঘোষ। তিনি ঈশ্বর জ্ঞানে কৃষ্ণকে মনপ্রাণ সমর্পণ করেন।

৭. ‘সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে দিলে আমরা অন্যতম প্রধান খাদ্য থেকে বঞ্চিত হব।’– লেখক এ কথা বলেছেন কেন ?

উত্তরঃ নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী মনে করেন আমরা যে ভাষার চর্চা বেশি করি তার শব্দ আমাদের বাংলাতে ঢোকে বেশি। সংস্কৃত বেশি চর্চার ফলে বাংলায় বিস্তর সংস্কৃত এককালে ঢুকেছে। স্কুল-কলেজের পাঠ্য বিষয় থেকে সংস্কৃত তুলে না দেওয়াই শ্রেয়। কারণ বাংলা ভাষাতে এখনও সংস্কৃত শব্দের প্রয়োজন আছে। লেখক সেজন্য বলেছেন যে, সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে দেওয়ার অর্থ হল বাঙালির অন্যতম খাদ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া।

৮. আলাল’, ‘হূতোম’ ও ‘শংকরদর্শন’-এর পরিচয় দাও।

উত্তরঃ ‘আলাল’ শব্দটি ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম হল ‘টেকচাঁদ ঠাকুর। তিনি ছদ্মনামে চলিত বাংলায় ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসটি লেখেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহের লেখা ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ গদ্যরচনার সংক্ষিপ্ত নাম ‘হুতোম। কলকাতার কথ্য বাংলায় লেখা সেই আমলের কলকাতার বাবু চরিত্রের বর্ণনা নিয়ে লেখা ১৮৬১-৬২ খ্রিস্টাব্দে রচিত হয়।

শংকরাচার্য বিশ্বের সেরা দার্শনিকদের মধ্যে অন্যতম। অদ্বৈতবাদ নিয়ে তাঁর দর্শন। লেখক তাঁর দর্শনকে বলেছেন শংকরদর্শন।

৯. বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি তাৱ পদাবলি কীর্তনে।– এই মন্তব্যের স্বপক্ষে লেখকের বক্তব্য লেখো।

উত্তরঃ সৈয়দ মুজতবা আলী বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি তার পদাবলি কীর্তনে। পদাবলি সাহিত্যের দেহ ও প্রাণ দুই-ই খাঁটি বাঙালি। পদাবলি সাহিত্যের কানু বা কানাই মহাভারতের শ্রীকৃষ্ণের খাঁটি বাঙালি রূপ। পুরাণ ও ভাগবতের শ্রীরাধা পদাবলি সাহিত্যে খাঁটি বাঙালি মেয়ে। ভাটিয়ালির নায়িকা, বাউলের ভক্ত, মুরশিদিয়ার আশিক আর পদাবলির শ্রীরাধা একই চরিত্র।

১০. ‘বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ বিদ্যমান’– লেখকের অনুসরণে আলোচনা করো।

উত্তরঃ প্রবন্ধকার সৈয়দ মুজতবা আলী মনে করেন বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ বিদ্যমান। সে রাজনীতি, ধর্ম, সাহিত্য যাতেই যখনই সত্য-শিব-সুন্দরের খোঁজ পেয়েছে, তখনই সে সেটা গ্রহণ করতে চেয়েছে। কেউ তখন তাকে ‘গতানুগতিক পন্থা’ বা ‘প্রাচীন ঐতিহ্য’-এর দোহাই দিয়ে সে চেষ্টায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেই সে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। বিদ্রোহ উচ্ছঙ্খলতায় পরিণত হলে তার বিরুদ্ধে আবার বিদ্রোহ করেছে। এই বিদ্রোহের প্রবণতা কিন্তু হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সব বাঙালির মধ্যেই বিদ্যমান। ধর্ম পালটালেও জাতিগত চরিত্র থেকেছে অপরিবর্তিত।

১১. সংস্কৃত ভাষাকে ‘আত্মনির্ভরশীল’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তরঃ লেখক সংস্কৃত ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল বলেছেন কারণ এই ভাষা কোনো নতুন শব্দের প্রয়োজন হলে অন্য ভাষার ওপর নির্ভর করে না। নিজস্ব ধাতুর সঙ্গে উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে কিংবা সামান্য অদলবদল ঘটিয়ে এটি নতুন শব্দ তৈরি করে নেয়। প্রাচীন হিব্রু, গ্রিক বা আবেস্তাও এই গুণের অধিকারী ছিল।

১২. বাংলা ভাষাকে লেখক কেন ‘উদার’ বলেছেন ?

উত্তরঃ বাংলা ভাষা সংস্কৃতের মতো আত্মনির্ভরশীল নয়। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে পাঠান-মোগল ও ইংরেজ শাসনের প্রভাবে বাংলা ভাষা আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শব্দকে অবলীলায় আপন করে নিয়েছে। এই পরধর্মী শব্দ গ্রহণের মানসিকতা এবং নতুনকে স্থান দেওয়ার গুণের জন্যই লেখক একে ‘উদার’ বলেছেন।

১৩. প্যারীচাঁদ মিত্র ও কালীপ্রসন্ন সিংহের সাহিত্যিক অবদান উল্লেখ করো।

উত্তরঃ প্যারীচাঁদ মিত্র ‘আলালের ঘরের দুলাল’ গ্রন্থে যে চটুল গদ্যের প্রবর্তন করেন, তা বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সৃষ্টি করেছিল। একইভাবে কালীপ্রসন্ন সিংহ ‘হুতুম প্যাঁচার নকশা’য় কলকাতার তৎকালীন কথ্য ভাষাকে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরেন। তাঁদের এই ‘নব নব সৃষ্টি’ বাংলা গদ্যের আড়ষ্টতা কাটিয়ে তাকে আধুনিক রূপ দেয়।

১৪. আরবি-ফারসি শব্দ বর্জন করা কেন অসম্ভব বলে লেখক মনে করেন ?

উত্তরঃ দীর্ঘদিন মুসলিম শাসনের প্রভাবে রাজকার্য, আইন-কানুন ও জনজীবনের বহু আরবি-ফারসি শব্দ বাংলা ভাষার রক্তে মিশে গেছে। লেখক মনে করেন, আদালত বা ধর্মের পরিভাষা থেকে এই শব্দগুলো সরিয়ে দিলে বাংলা ভাষা তার স্বাভাবিক প্রকাশক্ষমতা ও সজীবতা হারিয়ে ফেলবে। তাই এগুলোর বর্জন অসম্ভব।

১৫. ‘ইনকিলাব’ শব্দের ব্যবহার প্রসঙ্গে লেখকের অভিমত কী ?

উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর লেখনীতে ‘ইনকিলাব’ (বিপ্লব) শব্দটি ব্যবহার করে বাংলা সাহিত্যে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। লেখক দেখিয়েছেন যে, কোনো মহৎ উদ্দেশ্য বা নতুন ভাব প্রকাশের প্রয়োজনে বিদেশি শব্দ গ্রহণ করলে ভাষার মর্যাদা কমে না, বরং তা আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হয়ে ওঠে।

১৬. ইংরেজি ভাষার চরিত্র সম্পর্কে লেখকের ধারণাটি লেখো।

উত্তরঃ লেখকের মতে, বর্তমান যুগের ইংরেজি ভাষা মোটেও আত্মনির্ভরশীল নয়। এটি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রান্ত থেকে অজস্র শব্দ ধার করে নিজের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে এবং আজও করে চলেছে। এই পরনির্ভরশীলতার কারণেই ইংরেজি ভাষা আজ বিশ্বব্যাপী এত প্রসারিত ও শক্তিশালী হতে পেরেছে।

১৭. বাঙালি চরিত্রের বৈপরীত্য বা দ্বিমুখী সত্তা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে ?

উত্তরঃ লেখক মনে করেন, বাঙালির চরিত্রে এক বিচিত্র সংমিশ্রণ আছে। বাঙালি যেমন গোঁড়া বা রক্ষণশীল হতে পারে, তেমনি প্রয়োজনে চরম বিদ্রোহী হয়ে সব পুরনো সংস্কার ভেঙে ফেলতে পারে। ধর্ম ও রাজনীতির ইতিহাসে বাঙালির এই বিদ্রোহ ও নতুন সৃষ্টির মানসিকতা বারবার পরিলক্ষিত হয়েছে।

১৮. ধর্মতত্ত্বের আলোচনায় বিদেশি শব্দের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ ইসলাম বা খ্রিষ্টধর্মের মতো বিশ্বধর্মের গূঢ় তত্ত্বগুলো আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট ভাষার (আরবি বা ল্যাটিন) বিশেষ কিছু শব্দ অপরিহার্য হয়ে পড়ে। নিজস্ব ভাষায় সেগুলোর যথাযথ প্রতিশব্দ পাওয়া কঠিন। তাই অর্থের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মূল উৎস থেকে শব্দ গ্রহণ করা সাহিত্যের জন্য লাভজনক।

১৯. বিদ্যাসাগর কেন তাঁর রচনায় আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছিলেন ?

উত্তরঃ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃতের পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও জানতেন কখন কোন শব্দ প্রয়োগ করতে হয়। গম্ভীর রচনার বাইরে যখন তিনি বেনামে বা রসাত্মক লেখা লিখতেন, তখন ভাষার স্বাদ পরিবর্তনের জন্য এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করার তাগিদে তিনি সার্থকভাবে প্রচুর আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন।

২০. প্রবন্ধের নামকরণে ‘নব নব সৃষ্টি’ শব্দবন্ধটির সার্থকতা কী ?

উত্তরঃ প্রবন্ধটিতে লেখক দেখিয়েছেন যে, ভাষা কোনো স্থির বস্তু নয়। নতুন শব্দ গ্রহণ, শৈলীর পরিবর্তন এবং পুরনোকে ভেঙে নতুনের আবাহনই ভাষার ধর্ম। এই অবিরাম রূপান্তরের মাধ্যমেই একটি ভাষা ও সাহিত্য প্রাণবন্ত থাকে। এই বিবর্তনমুখী প্রক্রিয়াটি বোঝাতেই ‘নব নব সৃষ্টি’ নামটি সার্থক ও যথাযথ।

নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের বিষয়বস্তু

MCQ প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১)

VSAQ প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১)

বড়ো প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫)

📌 আরো দেখুনঃ

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply