2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 9 (IX) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER
Class 9 Bengali 2nd Unit Test Question Paper Set-5 wbbse | নবম শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৫
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
Set-5
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
(পূর্ণমান ৪০ + অন্তর্বর্তী প্রস্তুতিকালীন মূল্যায়ন ১০)
মূল্যায়নের সময়কাল : আগস্ট
পাঠ্যসূচী/Syllabus—
গদ্য : (১) নব নব সৃষ্টি, (২) রাধারাণী, (৩)চিঠি।
পদ্য : (১)আকাশে সাতটি তারা, (২) আবহমান।
ব্যাকরণ – বাংলা শব্দ-ভাণ্ডার, শব্দ ও পদ এবং বিশেষ্য-বিশেষণ-সর্বনাম বিস্তারিত আলোচনা।
নির্মিতি – ভাবার্থ ও সারাংশ।
সহায়ক পাঠ – এই বইয়ের ‘ব্যোমযাত্রীর
ডায়রি’,‘কর্ভাস’ এবং ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প
তিনটি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তিনটি
পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উপরোক্ত ক্রম অনুসারে একটি করে গল্প পড়াতে হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
নবম শ্রেণি
বিষয় : বাংলা
সময় : ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট পূর্ণমান : ৪০
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১×৯=৯
১.১ স্বামী বিবেকানন্দ চিঠিটি লিখেছেন–
(ক) বেলুড় মঠ থেকে
(ঘ) মায়াবতী আশ্রম থেকে।
(খ) আলমোড়া থেকে
(গ) কোলকাতা থেকে
১.২ রাধারাণীর মা মোকদ্দমা হেরেছিলেন–
(ক) হাইকোর্টে (খ) লোয়ার কোর্টে
(গ) সুপ্রিমকোর্টে (ঘ) প্রিবি কৌন্সিলে।
১.৩ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি বসে আছেন–
(ক) পাহাড়ে (খ) নদীর তীরে (গ) ঘাসের উপর (ঘ) সমুদ্রের তীরে।
১.৪ প্রাচীন যুগের ভাষা নয়–
(ক) হিব্রু (খ) গ্রিক (গ) আবেস্তা (ঘ) এস্পেরান্তো।
১.৫ ‘আবহমান’ কথাটির প্রকৃত অর্থ–
(ক) আহ্বান (খ) ক্ষণকালীন (গ) চিরন্তন
(ঘ) আগমন।
১.৬ শঙ্কুর পোষা বিড়ালটির নাম–
(ক) নিউটন (খ) প্রহ্লাদ (গ) বিধুশেখর
(ঘ) আইনস্টাইন।
১.৭ উপসর্গ শব্দ বা ধাতু মূলের–
(ক) পরে বসে (খ) আগে বসে
(গ) পাশে বসে (ঘ) লুপ্ত হয়।
১.৮ ‘কর্’, ‘পড়’, ‘নাচ্’-এগুলি হল—
(ক) যৌগিক ধাতু (খ) প্রযোজক ধাতু
(গ) মৌলিক ধাতু (ঘ) ধ্বন্যাত্মক ধাতু।
১.৯ প্রত্যয়ের কাজ হল—
(ক) নতুন শব্দ তৈরি করা
(খ) নতুন পদ তৈরী করা
(গ) সমস তৈরী করা
(ঘ) দল তৈরী করা।
২। কমবেশি পনেরোটি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও: ১×৮=৮
২.১ ‘একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন’ কীসের জন্য ?
২.২ রাধারাণীর বাড়ি কোথায় ছিল ?
২.৩ ‘আবহমান’ কবিতায় কবি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন ?
২.৪ প্রফেসর শঙ্কুর পাখি পড়ানো যন্ত্রটির নাম কী ?
২.৫ তৎসম শব্দ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ?
২.৬ ‘রাম’ উপসর্গ দিয়ে দুটি নতুন শব্দ তৈরি করো।
২.৭ প্রত্যয় শব্দের সাধারণ অর্থ কী ?
২.৮ দেশি শব্দ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ?
৩। কমবেশি ৬০টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৩x১=৩
৩.১ রাধারাণীর বাড়িতে কে, কোন্ কাপড় নিয়ে এসেছিল ? কাপড়ে কত লাভ করতে পারে বলে রাধারাণীর মায়ের অনুমান ? ১+১+১=৩
৩.২ ‘আসিয়াছে শান্ত অনুগত’- কী এসেছে ? তাকে শান্ত অনুগত বলা হয়েছে কেন ? ১+২=৩
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৫×১=৫
৪.১ ‘যে ঘাড়ের উপর আসিয়া পড়িয়াছিল, সে বলিল’– সে কে ? তার সঙ্গে রাধারাণীর যে কথাবার্তা হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখ। ১+৪=৫
৪.২ ‘পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো’- ‘এ কন্যা’ কাকে বলা হয়েছে ? কন্যার সৌন্দর্যের পরিচয় দাও ?
৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১=৫
৫.১ সংস্কৃত ভাষা আত্মনির্ভরশীল’- লেখক কেন সংস্কৃত ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল বলেছেন ? বাংলা এবং ইংরেজি আত্মনির্ভরশীল ভাষা নয় কেন ?
৫.২ ‘বিঘ্নও আছে বহু’- কোন্ উদ্দেশ্যে একথা বলেছেন ? বক্তা কোন্ কোন বিঘ্নের আশঙ্কা করেছিলেন ? ২+৩=৫
৬। কমবেশি ১৫০ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫
৬.১ আমার ‘অরনিথন’ যন্ত্র আজ তৈরী শেষ হলো- যন্ত্রটির পরিচয় দাও। ৫
৬.২ ‘ওই পাখি আমার চাই প্রফেসর’- বক্তা কে ? কোন প্রসঙ্গে তাঁর এই উক্তি ? শেষ পর্যন্ত তিনি কী করেছিলেন ? ১+১+৩
৭। নীচের প্রশ্নটির উত্তর দাও : শিরোনামসহ সারাংশ লেখঃ ৫
“ভয় মানুষের অবধারিত শত্রু। সে তাহার আত্মশক্তির সুদৃঢ় ভিত্তিকে দুর্বল করিয়া সাধন করে তাহার চরম সর্বনাশ। ভয়হীনতাই শক্তি। আত্মশক্তিতে বিশ্বাসী হইয়া ভয়কে জয় করিতে হইবে। ‘শক্তি মরে ভীতির কবলে’। সেই শক্তিকে ভীতির কবল মুক্ত করিয়া ভয়কে পদদলিত করিয়া ঋজু মেরুদন্ড লইয়া এই পৃথিবীতে যথার্থ মানুষের মতো বাঁচিতে হইবে। নিশ্চেষ্ট ও পরনির্ভর হইয়া বাঁচিয়া থাকার চেয়ে মৃত্যুও শ্রেয়। সেই মৃত্যুতে আছে গৌরব। অথচ দুর্বল ভগবৎ- নির্ভর হইয়া বাঁচিয়া থাকা চরম অবমাননাকর। যাহারা ভীরু, ভয়ের গুহায় যাহারা সারাজীবন আত্মগোপন করিয়া থাকে, যাহারা মৃত্যুর পূর্বে বহুবার মরে, তাহারা মানবতার কলঙ্ক। মানুষ, তাহাদের প্রতি শ্রদ্ধাহীন, ইতিহাস তাহাদের সম্পর্কে কঠিনভাবে নীরব, ঘৃণা ও বিকৃত জীবনই তাহাদের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।
—সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর—
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১×৯=৯
১.১ স্বামী বিবেকানন্দ চিঠিটি লিখেছেন–
উত্তরঃ (খ) আলমোড়া থেকে
১.২ রাধারাণীর মা মোকদ্দমা হেরেছিলেন–
উত্তরঃ (ঘ) প্রিবি কৌন্সিলে।
১.৩ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি বসে আছেন–
উত্তরঃ (গ) ঘাসের উপর।
১.৪ প্রাচীন যুগের ভাষা নয়–
উত্তরঃ (ঘ) এস্পেরান্তো।
১.৫ ‘আবহমান’ কথাটির প্রকৃত অর্থ–
উত্তরঃ (গ) চিরন্তন।
১.৬ শঙ্কুর পোষা বিড়ালটির নাম–
উত্তরঃ (ক) নিউটন
১.৭ উপসর্গ শব্দ বা ধাতু মূলের–
উত্তরঃ (খ) আগে বসে।
১.৮ ‘কর্’, ‘পড়’, ‘নাচ্’-এগুলি হল—
উত্তরঃ (গ) মৌলিক ধাতু।
১.৯ প্রত্যয়ের কাজ হল—
উত্তরঃ (ক) নতুন শব্দ তৈরি করা
২। কমবেশি পনেরোটি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও: ১×৮=৮
২.১ ‘একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন’ কীসের জন্য ?
উত্তরঃ ভারতের নারী সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও নারী শিক্ষার প্রসারের কাজ পরিচালনা করার জন্য একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন।
২.২ রাধারাণীর বাড়ি কোথায় ছিল ?
উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্প অনুযায়ী রাধারাণীদের বাড়ি ছিল শ্রীরামপুরে।
২.৩ ‘আবহমান’ কবিতায় কবি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন ?
উত্তরঃ ‘আবহমান’ কবিতায় কবি গ্রামীণ জীবনের চেনা উঠোনের লাউমাচাটির পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন।
২.৪ প্রফেসর শঙ্কুর পাখি পড়ানো যন্ত্রটির নাম কী ?
উত্তরঃ প্রফেসর শঙ্কুর পাখি পড়ানো তথা পাখিদের বুদ্ধি বাড়ানোর যন্ত্রটির নাম হলো ‘অরনিথন’।
২.৫ তৎসম শব্দ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ?
উত্তরঃ যেসব সংস্কৃত শব্দ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে, তাদের তৎসম শব্দ বলে। যেমন: সূর্য, চন্দ্র।
২.৬ ‘রাম’ উপসর্গ দিয়ে দুটি নতুন শব্দ তৈরি করো।
উত্তরঃ ‘রাম’ (বাংলা উপসর্গ) দিয়ে তৈরি দুটি শব্দ হলো: রামছাগল এবং রামদা।
২.৭ প্রত্যয় শব্দের সাধারণ অর্থ কী ?
উত্তরঃ ‘প্রত্যয়’ শব্দের সাধারণ বা আভিধানিক অর্থ হলো বিশ্বাস বা ধারণা (তবে ব্যাকরণে এর অর্থ শব্দ বা ধাতুর উত্তর সংযোগকারী চিহ্ন)।
২.৮ দেশি শব্দ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ?
উত্তরঃ এদেশের প্রাচীন আদিবাসী (যেমন: কোল, ভিল, সাঁওতাল)দের ভাষার যেসব শব্দ বাংলায় রয়ে গেছে, তাদের দেশি শব্দ বলে। যেমন: ঝাটা, কুলা, ডিঙি।
৩। কমবেশি ৬০টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৩×১=৩
৩.১ রাধারাণীর বাড়িতে কে, কোন্ কাপড় নিয়ে এসেছিল ? কাপড়ে কত লাভ করতে পারে বলে রাধারাণীর মায়ের অনুমান ? ১+১+১=৩
উত্তরঃ
কে এসেছিল: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে এক কাপুড়ে (কাপড় বিক্রেতা) রাধারাণীর বাড়িতে এসেছিল।
কোন্ কাপড়: সে রাধারাণীর জন্য একজোড়া কুঞ্জদার শান্তিপুরী শাড়ি বা কাপড় নিয়ে এসেছিল।
মায়ের অনুমান: রাধারাণীর মা কাপড়টি দেখে অনুমান করেছিলেন যে, কাপুড়েটি এই কাপড়ে অন্তত আট আনা লাভ করতে পারে।
৩.২ ‘আসিয়াছে শান্ত অনুগত’- কী এসেছে ? তাকে শান্ত অনুগত বলা হয়েছে কেন ? ১+২=৩
উত্তরঃ
কী এসেছে: জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা অনুযায়ী বাংলার বুকে রূপসী নীল সন্ধ্যা নেমে এসেছে।
শান্ত অনুগত বলার কারণ: বাংলার পল্লিপ্রকৃতির বুকে সন্ধ্যা কোনো রকম হাহাকার বা কোলাহল ছাড়াই অত্যন্ত ধীর ও স্নিগ্ধ গতিতে নেমে আসে। কোনো চঞ্চলতা বা উগ্রতা না দেখিয়ে তা প্রকৃতির গাছপালা, নদী ও ঘাসের ওপর এক মায়াবী শান্ত পরিবেশ তৈরি করে। সন্ধ্যার এই নিঃশব্দ, ধীর এবং প্রকৃতির চিরন্তন নিয়মের কাছে নতিস্বীকার করার রূপটিকে বোঝাতেই কবি তাকে ‘শান্ত অনুগত’ বলেছেন।
৪। কমবেশি ১৫০ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ৫×১=৫
৪.১ ‘যে ঘাড়ের উপর আসিয়া পড়িয়াছিল, সে বলিল’– সে কে ? তার সঙ্গে রাধারাণীর যে কথাবার্তা হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখ। (১+৪)
উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে অন্ধকারে পথ চলতে গিয়ে রাধারাণী যার ঘাড়ের উপর আছড়ে পড়েছিল, সে হলো ছদ্মনামধারী দাতা রুক্মিণীকুমার রায়।
কথাবার্তার বিবরণ: রাধারাণী তাঁর ঘাড়ের উপর পড়ে কেঁদে উঠলে পুরুষটি দয়ার্দ্র কণ্ঠে রাধারাণীর পরিচয় জানতে চান এবং সে কেন কাঁদছে তা জিজ্ঞেস করেন। রাধারাণী জানায় যে সে বালিকা এবং বৃষ্টির কারণে মেলা ভেঙে যাওয়ায় সে তার বুনো ফুলের মালাটি বিক্রি করতে পারেনি। পুরুষটি তখন সহানুভূতির সাথে জানান যে তিনিও মালার খোঁজেই ঘুরছিলেন। রাধারাণীর গেঁথে আনা মালাটি দেখার পর তিনি সেটির প্রশংসা করেন এবং জিজ্ঞাসা করেন যে রাধারাণী সেটির দাম কত চায়। রাধারাণী সরলভাবে জানায় যে মেলায় সাধারণত চার পয়সা দাম পেত, কিন্তু আজ মায়ের পথ্যের প্রয়োজনে সে এক পয়সা পেলেই মালাটি দিয়ে দেবে। দয়ালু পুরুষটি রাধারাণীর অসহায়তা বুঝতে পেরে তাকে সান্ত্বনা দেন এবং বলেন যে তিনি মালাটি চার পয়সা দিয়েই কিনে নেবেন। এরপর তিনি রাধারাণীকে অন্ধকারে একা বাড়ি না পাঠিয়ে হাত ধরে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
৪.২ ‘পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো’- ‘এ কন্যা’ কাকে বলা হয়েছে ? কন্যার সৌন্দর্যের পরিচয় দাও ? (১+৪)
উত্তরঃ জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় ‘এ কন্যা’ বলতে কবি রূপকের মাধ্যমে বাংলার রূপসী নীল সন্ধ্যাকে বুঝিয়েছেন।
সৌন্দর্যের পরিচয়: কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার অবিনাশী রূপের উপাসক। তাঁর চোখে বাংলার বুকে নেমে আসা সন্ধ্যা কোনো সাধারণ অন্ধকার নয়, তা এক অপরূপ কেশবতী কন্যা। আকাশে যখন সাতটি তারা ফোটে, তখন কামরাঙা লাল মেঘ গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যায় এবং শান্ত, অনুগত নীল সন্ধ্যা নেমে আসে। কবি কল্পনা করেছেন, এই রূপসী সন্ধ্যার কালো চুলের রাশি যেন ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার আকাশে। সেই চুলের চুম্বন অবিরত ঝরে পড়ছে হিজল, বট আর কাঁঠাল গাছের পাতায়। পৃথিবীর অন্য কোথাও সন্ধ্যার এমন স্নিগ্ধ, রূপকথাধর্মী এবং রহস্যময় রূপ দেখতে পাওয়া যায় না। বাংলার এই অনন্য শান্ত রূপের গভীর মায়া এবং চুলে ছড়ানো স্নিগ্ধ গন্ধের প্রকাশ পৃথিবীর আর কোনো পথ বা দেশ দেখেনি বলেই কবি এর এক মায়াবী সৌন্দর্যের চিত্র অঙ্কন করেছেন।
৫। কমবেশি ১৫০ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৫×১=৫
৫.১ সংস্কৃত ভাষা আত্মনির্ভরশীল’- লেখক কেন সংস্কৃত ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল বলেছেন ? বাংলা এবং ইংরেজি আত্মনির্ভরশীল ভাষা নয় কেন ? (৩+২)
উত্তরঃ প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে সংস্কৃত ভাষাকে ‘আত্মনির্ভরশীল’ বলেছেন।
আত্মনির্ভরশীল বলার কারণ: কোনো নতুন চিন্তা, অনুভূতি বা ভাব প্রকাশ করার জন্য নতুন কোনো শব্দের প্রয়োজন হলে, সংস্কৃত ভাষা অন্য কোনো বিদেশি ভাষার কাছে ধার চায় না। তার বদলে সংস্কৃত নিজের শব্দভাণ্ডার অনুসন্ধান করে। যদি সেখানে উপযুক্ত শব্দ না পাওয়া যায়, তবে সংস্কৃত নিজের ধাতু বা প্রকৃতির সঙ্গে নতুন প্রত্যয় যুক্ত করে কিংবা পুরোনো শব্দের অর্থ সামান্য বদলে নিয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার এই ক্ষমতার জন্যই এটি আত্মনির্ভরশীল।
বাংলা ও ইংরেজি আত্মনির্ভরশীল না হওয়ার কারণ: অপরদিকে, বাংলা ও ইংরেজি ভাষা তাদের শব্দভাণ্ডার বাড়ানোর জন্য সম্পূর্ণভাবে অন্য ভাষার ওপর নির্ভরশীল। নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক বা রাজনৈতিক ভাব প্রকাশের জন্য এই দুই ভাষা নিজের ভেতরে খোঁজার চেয়ে অন্য ভাষা থেকে সরাসরি শব্দ ধার করতে পছন্দ করে। যেমন— ইংরেজি ভাষা দেদার হিব্রু, ফরাসি বা ল্যাটিন শব্দ গ্রহণ করেছে। একইভাবে, বাংলা ভাষাও সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শব্দকে আপন করে নিয়েছে। নিজের পায়ে একা দাঁড়িয়ে থাকতে না পারার এই স্বভাবের জন্যই বাংলা ও ইংরেজি আত্মনির্ভরশীল ভাষা নয়।
৫.২ ‘বিঘ্নও আছে বহু’- কোন্ উদ্দেশ্যে একথা বলেছেন ? বক্তা কোন্ কোন বিঘ্নের আশঙ্কা করেছিলেন ? (২+৩)
উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ প্রবন্ধ অনুযায়ী, মিস মার্গারেট নোবেল যখন ভারতের নারী সমাজের কল্যাণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চান, তখন তাঁকে এখানকার বাস্তব কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করার জন্য স্বামীজি সতর্কতার উদ্দেশ্যে একথা বলেছিলেন।
বিঘ্নের আশঙ্কা: স্বামীজি ভালো করেই জানতেন যে একজন ইউরোপীয় নারীর পক্ষে ভারতে এসে কাজ করা কতটা কঠিন। তিনি যে সমস্ত বিঘ্নের আশঙ্কা করেছিলেন, সেগুলি হলো—
আবহাওয়া: এদেশের তীব্র গরম এবং আর্দ্র জলবায়ু একজন ইউরোপীয়র পক্ষে সহ্য করা অত্যন্ত কষ্টকর।
সামাজিক কুসংস্কার: এখানকার মানুষের চরম অশিক্ষা, অন্ধবিশ্বাস এবং জাতিভেদের কারণে তিনি পদে পদে বাধার সম্মুখীন হবেন। ইউরোপীয় হওয়ার কারণে ভারতীয়রা তাঁকে ম্লেচ্ছ ভেবে এড়িয়ে চলতে পারে।
শ্বেতাঙ্গ সমাজ: এদেশের শ্বেতাঙ্গ বা ইংরেজ সমাজ তাঁর এই ভারতীয় প্রীতিকে ভালো চোখে দেখবে না, বরং তাঁকে সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখবে।
জীবনযাত্রার মান: এদেশের মানুষের চরম দারিদ্র্য এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে কাজ করা অত্যন্ত কঠিন ও মানসিক যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।
৬.১ আমার ‘অরনিথন’ যন্ত্র আজ তৈরী শেষ হলো- যন্ত্রটির পরিচয় দাও। ৫
যন্ত্রটির পরিচয়: প্রোফেসর শঙ্কু গিরিডিতে তাঁর ল্যাবরেটরিতে এই অভিনব যন্ত্রটি তৈরি করেছিলেন। যন্ত্রটির বাহ্যিক অবয়ব খাঁচার মতো হলেও এর কার্যপ্রণালী ছিল অত্যন্ত জটিল ও বৈদ্যুতিক বিজ্ঞানসম্মত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে দেওয়া হলো—
গঠনশৈলী ও আকৃতি: যন্ত্রটি দেখতে মূলত একটি মাঝারি মাপের সাধারণ পাখির খাঁচার মতো। এর বাইরের দিকে তামা এবং প্লাস্টিকের তৈরি দুটি খাঁজকাটা গোল চাকতি লাগানো থাকে।
কার্যপদ্ধতি: খাঁচার ভেতরের অংশটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম তারের জালের সাথে যুক্ত থাকে, যা একটি বিশেষ হেডফোনের রূপ নেয়। এই হেডফোনের মাধ্যমে খাঁচায় বন্দি পাখির মস্তিষ্কে অত্যন্ত মৃদু ও নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ পাঠানো হয়।
উদ্দেশ্য ও ক্ষমতা: এই মৃদু বৈদ্যুতিক স্পন্দন পাখিদের মস্তিষ্কের সুপ্ত কোষগুলিকে জাগ্রত করে। এর ফলে পাখিদের বুদ্ধি সাধারণ স্তরের থেকে কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং তারা মানুষের মতো বুদ্ধিমান ও চতুর হয়ে ওঠে।
প্রোফেসর শঙ্কু এই যন্ত্রটির সাহায্যে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর পোষা দাঁড়কাক ‘কর্ভাস’-কে মানুষের ভাষা ও নির্দেশ বোঝার মতো উপযুক্ত করে তুলেছিলেন। কর্ভাস এই যন্ত্রের প্রভাবেই পেনসিল মুখে নিয়ে ইংরেজি হরফ লিখতে শিখেছিল। এককথায়, ‘অরনিথন’ ছিল পাখিদের মানবীয় বুদ্ধিতে দীক্ষিত করার এক জাদুকরী বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার।
৭। শিরোনামসহ সারাংশ লেখঃ ৫
উত্তরঃ
শিরোনাম: ভয়হীনতা এবং আত্মশক্তিতে জাগরণ
সারাংশ:
ভয় মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু, যা মানুষের আত্মবিশ্বাস ও আত্মশক্তিকে ধ্বংস করে চরম সর্বনাশ ডেকে আনে। পক্ষান্তরে, ভয়হীনতাই হলো আসল শক্তি। ভাগ্য বা ঈশ্বরের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করে, নিশ্চেষ্ট ও ভীরু হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে বীরের মতো মৃত্যুবরণ করাও অনেক বেশি গৌরবের। যারা সারাজীবন ভয়ের কাছে মাথা নত করে বেঁচে থাকে, তারা মূলত মৃত্যুর আগেই বহুবার মরে এবং মানবসমাজের কাছে কলঙ্ক হিসেবে গণ্য হয়। সমাজ বা ইতিহাস কখনোই ভীরুদের মনে রাখে না। তাই ভয়কে পদদলিত করে নিজের মেরুদণ্ড সোজা রেখে যথার্থ মানুষের মতো বাঁচাই জীবনের আসল সার্থকতা।
📌আরও পড়ুনঃ
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
