Class 10 Bengali 2nd Unit Test Question Paper with Answer Set-3 | দশম শ্রেণির বাংলা ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৩

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 10 (X) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER

Class 10 Bengali 2nd Unit Test Question Paper Set-3 | দশম শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন সেট-৩

📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here

Set-3

DHULIYAN BALIKA VIDYALAYA (H.S)

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন 
দশম শ্রেণি
বিষয় : বাংলা

সময় : ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট             পূর্ণমান : ৪০

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×৭

১.১ ‘আমি বাবু ধর্মভীরু মানুষ’ – উক্তিটি করেছে—
(ক) অপূর্ব (খ) জগদীশবাবু (গ) তলওয়ার কর
(ঘ) গিরিশ মহাপাত্র

১.২ ‘বড়ো চমৎকার ছিল’- কোন সময়ের চেহারা ?
(ক) সকালের (খ) সন্ধ্যার (গ) ভোরের (ঘ) রাতের

১.৩ চরাচর স্তব্ধ হওয়ার কারণ-
(ক) অট্টরোলের হট্টগোল
(খ) জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে।
(গ) দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে
(ঘ) দিগন্তরের কাঁদন

১.৪ ‘হে রক্ষ – কুল-পতি’ – ‘রক্ষঃকুল পতি’ হলেন –
(ক) রাবণ (খ) বিভীষণ (গ) ইন্দ্ৰজিৎ (ঘ) বীরবাহু

১.৫ ‘রাজপথের ব্যাস বাক্য’ হল –
(ক) রাজার পথ (খ) পথের রাজা (গ) রাজচালিত পথ
(ঘ) রাজা গমন করে যে পথে

১.৬ যে সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না, তাকে বলে—
(ক) অলোপ (খ) নিত্য সমাস
(গ) অব্যয়ীভাব সমাস (ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস।

১.৭ সমস্যমান পদের বাইরে অন্য পদের প্রাধান্য থাকে যে সমাসে, তা হল-
(ক) দ্বিগু (খ) অব্যয়ীভাব (গ) কর্মধারয় (ঘ) বহুব্রীহি।

২। কমবেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো : ১×৮=৮

২.১” ‘কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করার দরকার নেই বড়বাবু।’ এখানে কে, কাকে, জানোয়ার বলে আখ্যা দিয়েছেন ?

২.২ ‘সন্ন্যাসী হাসলেন আর চলে গেলেন।’ সন্ন্যাসী কী দেখে হাসলেন আর চলে গেলেন ?

২.৩ “নাহি চাহে প্রাণ মম পাঠাইতে তোমা।” বক্তা এমন কথা কেন বলেছেন ?

২.৪ ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি ধ্বংসকে ভয় করতে বারন করেছেন কেন ?

২.৫ কোন সমাসকে ব্যাসবাক্যহীন সমাস বলা হয় ?

২.৬ ‘কথামৃত’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লিখ।

২.৭ ‘তেমাথা’ দ্বিগু সমাসের উদাহরণ, অথচ দশানন বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কেন ?

২.৮ সমাস শব্দের অর্থ লিখ ?

৩। কমবেশি ৬০টি শব্দে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৩×২=৬

৩.১ “গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা”— হরিদা কে ? তার গম্ভীর হয়ে যাওয়ার কারণ কি ?

৩.২ ‘আসছে নবীন- জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!”–তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। ১+২

৩.৩ ‘বুড়ো মানুষের কথাটা শুনো।’— ‘বুড়োমানুষ’ কে ? তাঁর কোন কথা শুনতে বলা হচ্ছে ?

৪. কমবেশি ১২৫ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৪×১=৪

৪.১ ‘তোমাদের কাছে আমি লজ্জিত’ কে, কাদের কাছে লজ্জিত ? লজ্জা পাওয়ার কারণটি পরিস্ফুট কর।

৪.২ সিরাজউদ্দোলার দেশপ্রেম ও কর্তব্যের পরিচয় দাও।

৫. কমবেশি ১৫০শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫×১=৫

৫.১ “কে বধিল কবে / প্রিয়ানুজে”- প্রিয়ানুজ কে ? তাঁর মৃত্যু সংবাদ কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল ? ১+৪

৫.২ “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে”– উদ্দিষ্ট ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও শখের কী পরিচয় পাওয়া যায় ?

৬. কমবেশি ১৫০টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫×১=৫

৬.১ ‘হঠাৎ কোনির দু’চোখ জলে ভরে এল।’– কোনি’র দু’চোখ জলে ভরে ওঠার কারণ কী ? এরপর কী ঘটেছিল ?

৬.২ “কী হয়েছ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ?”– কার ইনফ্লুয়েঞ্জা সম্পর্কে কে একথা বলেছে ? প্রসঙ্গ নির্দেশ করো। ১+১+৩

৭. কমবেশি ১৫০টি শব্দে একটি বিষয়ে প্রতিবেদন লিখ : ৫×১=৫

৭.১ কোনো দুর্ঘটনাকে বিষয় করে সংবাদপত্রের উপযোগী একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করো।

৭.২ তোমাদের বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

ANSWER KEY (উত্তরপত্র)

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×৭

১.১ (ঘ) গিরিশ মহাপাত্র, ১.২ (খ) সন্ধ্যার, ১.৩ (খ) জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে।, ১.৪ (ক) রাবণ, ১.৫ (খ) পথের রাজা, ১.৬ (খ) নিত্য সমাস, ১.৭ (ঘ) বহুব্রীহি।

২। কমবেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো : ১×৮=৮

২.১ ‘কিন্তু এই জানোয়ারটাকে ওয়াচ করার দরকার নেই বড়বাবু।’ এখানে কে, কাকে, জানোয়ার বলে আখ্যা দিয়েছেন ?

উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ গল্পে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর জগদীশবাবু তাঁর বড়বাবু নিমাইবাবুকে উদ্দেশ্য করে গিরীশ মহাপাত্রকে ‘জানোয়ার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

২.২ ‘সন্ন্যাসী হাসলেন আর চলে গেলেন।’ সন্ন্যাসী কী দেখে হাসলেন আর চলে গেলেন ?

উত্তরঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবু জোর করে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে একজোড়া সোনার খড়ম ধরলে সন্ন্যাসী সেই সোনার খড়ম জোড়া দেখে হাসলেন আর চলে গেলেন।

২.৩ “নাহি চাহে প্রাণ মম পাঠাইতে তোমা।” বক্তা এমন কথা কেন বলেছেন ?

উত্তরঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে লঙ্কাধিপতি রাবণ তাঁর একমাত্র জীবিত ও বীর পুত্র মেঘনাদকে হারাতে চাননি। ইতিপূর্বে রামচন্দ্রের হাতে বীরবাহুর মতো বীর পুত্রের মৃত্যু হওয়ায় শোকার্ত রাবণের প্রাণ মেঘনাদকে পুনরায় যুদ্ধে পাঠাতে চাইছিল না।

২.৪ ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি ধ্বংসকে ভয় করতে বারন করেছেন কেন ?

উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন ও সুন্দরের সৃষ্টি হয়। এই প্রলয়ংকরী ধ্বংস আসলে জরাজীর্ণ ও পরাধীন সমাজকে ভেঙে নতুন স্বাধীন জগত গড়ে তোলার পূর্বাভাস, তাই কবি ধ্বংসকে ভয় করতে বারণ করেছেন।

২.৫ কোন সমাসকে ব্যাসবাক্যহীন সমাস বলা হয় ?

উত্তরঃ সাধারণত ‘নিত্য সমাস’-কে ব্যাসবাক্যহীন সমাস বলা হয়, কারণ এই সমাসে প্রচলিত নিয়মে ব্যাসবাক্য হয় না অথবা ব্যাসবাক্য করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়।

২.৬ ‘কথামৃত’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লিখ।

উত্তরঃ কথামৃত = কথারূপ অমৃত (রূপক কর্মধারয় সমাস)।

২.৭ ‘তেমাথা’ দ্বিগু সমাসের উদাহরণ, অথচ ‘দশানন’ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কেন ?

উত্তরঃ ‘তেমাথা’ (তিন মাথার সমাহার) পদের দ্বারা সমাহার বা সমষ্টি বোঝায় এবং পূর্বপদ সংখ্যাবাচক হওয়ায় এটি দ্বিগু সমাস। অন্যদিকে, ‘দশানন’ (দশ আনন বা মুখ যার) পদের দ্বারা সংখ্যা বা মুখের সমাহার না বুঝিয়ে রাবণ নামক এক নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে (অন্য পদ) বোঝায়, তাই এটি বহুব্রীহি সমাস।

২.৮ সমাস শব্দের অর্থ লিখ ?

উত্তরঃ সমাস শব্দের অর্থ হলো ‘সংক্ষেপ’, ‘মিলন’ বা ‘একাধিক পদের একপদীকরণ’।

৩। কমবেশি ৬০টি শব্দে দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও। ৩×২=৬

৩.১ “গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা”— হরিদা কে ? তার গম্ভীর হয়ে যাওয়ার কারণ কি ?

উত্তরঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা হলেন একজন অতি দরিদ্র কিন্তু স্বাধীনচেতা বহুরূপী শিল্পী।
জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা এক হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে যান। জগদীশবাবু চাতুরী করে সোনার খড়ম পরিয়ে সেই সন্ন্যাসীর দুর্লভ পদধূলি নিয়েছিলেন এবং একশো টাকা বিদায়ী প্রণামী দিয়েছিলেন। এই গল্প শুনে হরিদার শিল্পীমন এক নতুন ও বড় চমত্কার নাটকীয় পরিকল্পনার কথা ভাবছিল। জগদীশবাবুকে কীভাবে নিজের বহুরূপী সাজে চমকে দেওয়া যায়, সেই চিন্তাতেই তিনি গম্ভীর হয়ে পড়েছিলেন।

৩.২ ‘আসছে নবীন — জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!”–তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো৷ ১+২

উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা থেকে নেওয়া উদ্ধৃত অংশটির মূল তাৎপর্য হলো— ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুনের আবাহন বা সৃষ্টি সুনিশ্চিত হয়।

এখানে ‘জীবন-হারা অ-সুন্দর’ বলতে পরাধীন ভারতের বুকে গেড়ে বসা ব্রিটিশ রাজশক্তি, সামাজিক জরাজীর্ণতা ও কুসংস্কারকে বোঝানো হয়েছে। কবি বিশ্বাস করেন যে, সমাজকে স্থবির করে রাখা এই জড়তাকে বিনাশ করতে রুদ্ররূপী বিপ্লবী যুবসমাজ তথা নবীনরা ধেয়ে আসছে। তারা তাদের প্রলয়ংকরী শক্তির দ্বারা পুরোনো সমস্ত পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে চুরমার করে দেবে এবং ধ্বংসের মধ্য দিয়ে এক স্বাধীন ও সুন্দর নতুন পৃথিবী গড়ে তুলবে।

৩.৩ ‘বুড়ো মানুষের কথাটা শুনো।’— ‘বুড়োমানুষ’ কে ? তাঁর কোন কথা শুনতে বলা হচ্ছে ?

উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ গল্পে ‘বুড়ো মানুষ’ বলতে পুলিশের বড়বাবু তথা নিমাইবাবুকে বোঝানো হয়েছে।
বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে ধৃত গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে গাঁজার কলিকা পাওয়া যায়। গিরীশ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানায় যে সে গাঁজা খায় না, কেবল কুড়িয়ে পেয়ে পকেটে রেখেছে। গিরীশের অত্যন্ত রুগ্ণ, জরাজীর্ণ এবং কাশির বহর দেখে নিমাইবাবু তাকে দয়া ও স্নেহের ছলে উপদেশ দেন। তিনি গিরীশকে গাঁজা খাওয়ার এই মারাত্মক ক্ষতিকর অভ্যাস ছাড়ার কথা বলেন এবং নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে নির্দেশ দেন।

৪. কমবেশি ১২৫ শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৪×১=৪

৪.১ ‘তোমাদের কাছে আমি লজ্জিত’ কে, কাদের কাছে লজ্জিত ? লজ্জা পাওয়ার কারণটি পরিস্ফুট করো।

উত্তরঃ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাট্যাংশে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ফরাসি প্রতিনিধি মসিয়ে লাঁ ও তাঁর সহযোগীদের কাছে নিজের এই লজ্জা প্রকাশ করেছেন।

লজ্জা পাওয়ার কারণ: ইংরেজরা ফরাসিদের চন্দননগর কুঠি দখল করে নেওয়ার পর মসিয়ে লাঁ নবাবের কাছে সামরিক সাহায্য চান। ফরাসিরা নবাবের পরম বন্ধু হলেও নবাবের পক্ষে তাঁদের সাহায্য করা সম্ভব ছিল না। কারণ, সেই সময় আলিবর্দি খাঁর আমল থেকে তৈরি হওয়া আর্থিক সংকট, আফগান বীর আহমদ শাহ আবদালীর আক্রমণের আশঙ্কা এবং ঘরের লোক মীরজাফর-ঘসেটি বেগমদের চরম অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারণে নবাবের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল ছিল। ইংরেজদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মতো ক্ষমতা নবাবের সেনাবাহিনীর তখন ছিল না। ফরাসিদের প্রতি আন্তরিক সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও এই নানাবিধ অপারগতার কারণে তিনি তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পারেননি। বন্ধু রাষ্ট্রকে বিপদে সাহায্য করতে না পারার এই চরম কূটনৈতিক ও সামরিক অক্ষমতার জন্যই নবাব লজ্জিত বোধ করেছিলেন।

৪.২ সিরাজউদ্দোলার দেশপ্রেম ও কর্তব্যের পরিচয় দাও।

উত্তরঃ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাট্যাংশে নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রটি গভীর দেশপ্রেম এবং উচ্চমানের রাজকীয় কর্তব্যবোধের এক অনন্য কোলাজ।

দেশপ্রেম: সিরাজের দেশপ্রেমের পরিচয় মেলে যখন তিনি নিজের সিংহাসন বা স্বার্থের চেয়ে বাংলার স্বাধীনতা ও আপামর জনগণের মান-মর্যাদাকে বেশি গুরুত্ব দেন। দরবারে উপস্থিত স্বার্থপর সভাসদ ও মীরজাফরদের ষড়যন্ত্রের কথা জানা সত্ত্বেও, তিনি নিজের অহংকার বিসর্জন দিয়ে দেশের স্বার্থে তাঁদের কাছে করজোড়ে মিনতি করেছিলেন। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকলকে তিনি “বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা” স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাতৃভূমি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানান।

কর্তব্যবোধ: নবাব হিসেবে সিরাজ তাঁর রাজধর্ম পালনে ছিলেন অবিচল। ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসনের চক্রান্ত হাতেনাতে ধরার পরেও তিনি চরম প্রতিশোধ না নিয়ে, কেবল দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো মানবিক কর্তব্য দেখান। আবার ফরাসিদের সৈন্য দিয়ে সাহায্য করতে না পারার জন্য একজন প্রকৃত শাসকের মতোই তাঁদের কাছে ক্ষমা চান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রজাদের নিরাপত্তা ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তাঁর এই লড়াই তাঁর সুমহান কর্তব্যপরায়ণতাকেই ফুটিয়ে তোলে।

৫. কমবেশি ১৫০শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫×১=৫

৫.১ “কে বধিল কবে / প্রিয়ানুজে”– প্রিয়ানুজ কে ? তাঁর মৃত্যু সংবাদ কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল ? ১+৪

উত্তরঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে ‘প্রিয়ানুজ’ (প্রিয় ছোট ভাই) বলতে লঙ্কাধিপতি রাবণের কনিষ্ঠ পুত্র তথা বীর মেঘনাদের অনুজ বীরবাহুকে বোঝানো হয়েছে।

মৃত্যু সংবাদের প্রতিক্রিয়া: মেঘনাদ যখন প্রমোদ উদ্যানে বিলাসব্যসনে মত্ত ছিলেন, তখন তাঁর ধাত্রীমাতা প্রভাষার ছদ্মবেশে লঙ্কাপুরী থেকে দেবী লক্ষ্মী এসে বীরবাহুর আকস্মিক মৃত্যুসংবাদ দেন। এই খবর শুনে মেঘনাদের মনে তীব্র ও বহুমুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল:

আকস্মিক বিস্ময়: মেঘনাদ নিজের কানে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি রামচন্দ্রকে যুদ্ধে পরাস্ত করে সশরীরে ছাই করে দেওয়ার পরেও কীভাবে সেই মৃত মানুষ পুনর্জীবিত হয়ে তাঁর বীর ভাইকে হত্যা করল, তা ভেবে তিনি চরম বিস্মিত হন।

শোক ও আত্মগ্লানি: লঙ্কাপুরী যখন শত্রুর আক্রমণে ছারখার হচ্ছে এবং তাঁর ভাই যখন বীরশয্যা নিচ্ছেন, তখন তিনি প্রমোদ উদ্যানে নারীদের মাঝে আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত— এই আত্মগ্লানি তাঁকে কুড়ে কুড়ে খায়।

তীব্র ক্রোধ: ক্ষোভে ও অপমানে মেঘনাদ তাঁর গলার ফুলের মালা ছিঁড়ে ফেলেন, হাতের সোনার বলয় দূরে ছুড়ে দেন এবং পায়ের কাছে কুন্ডল বা কানের দুল পড়ে যায়। তাঁর এই ক্রোধের রূপকে কবি অশোক গাছের নিচে পড়ে থাকা জ্বলন্ত তূণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা: শোককে নিমেষের মধ্যে প্রচণ্ড শক্তিতে রূপান্তর করে মেঘনাদ তৎক্ষণাৎ রণসজ্জায় মেতে ওঠেন এবং প্রতিজ্ঞা করেন যে রাঘবকে (রামচন্দ্র) এবার তিনি সমূলে বিনাশ করবেন।

৫.২ “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে”– উদ্দিষ্ট ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও শখের কী পরিচয় পাওয়া যায় ?

উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ গল্পে উদ্ধৃত অংশটির উদ্দিষ্ট ব্যক্তি হলেন রেঙ্গুন পুলিশ স্টেশনে ধৃত বিচিত্র চরিত্র গিরীশ মহাপাত্র।

স্বাস্থ্যের পরিচয়: গিরীশ মহাপাত্রের স্বাস্থ্য ছিল অত্যন্ত রুগ্ণ ও ভগ্ন। তার বয়স তিরিশ-বত্রিশের বেশি না হলেও, রোগব্যাধিতে শরীরটা ছিল একদম জরাজীর্ণ। তার গায়ের চামড়া ছিল অত্যন্ত ফ্যাকাশে এবং তার কাশির আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছিল যেন তার ফুসফুস থেকে রক্ত উঠে আসবে। তার এই দুর্বল ও ক্ষয়রোগা শরীর দেখেই নিমাইবাবু ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন যে, এর মধ্যে বড় কোনো রোগ লুকিয়ে আছে।

শখের পরিচয়: শরীরের এমন কঙ্কালসার অবস্থা হলেও গিরীশ মহাপাত্রের পোশাক ও সাজগোজের শখ ছিল দেখার মতো।

মাথার চুল: তার মাথার সামনের দিকে বড় বড় চুল থাকলেও, ঘাড় ও কানের দিকে চুল একদমই ছিল না। মাথায় প্রচুর লেবু তেল মাখায় সারা ঘর সুগন্ধে ম ম করছিল।

পোশাকের বাহার: তার পরনে ছিল রামধনু রঙের তাসের ঘর আঁকা শাড়ি, গায়ে সবুজ রঙের জাপানি সিল্কের কোট এবং পকেটে বাঘ আঁকা একটা সস্তা রুমাল ঝুলছিল।

জুতো ও মোজা: পায়ে ছিল সবুজ রঙের ফুল মোজা, যা হাঁটুর ওপরে লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা ছিল। তার ওপরে ছিল চামড়ার চকচকে কোলাপুরি জুতো।

পকেটের জিনিস: তল্লাশি করে তার পকেটে একটি গাঁজার কলিকা ও দেশলাই পাওয়া যায়। শরীর ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েও গাঁজার মতো মারাত্মক নেশার শখ সে সযত্নে বজায় রেখেছিল।

৬. কমবেশি ১৫০টি শব্দে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫×১=৫

৬.১ ‘হঠাৎ কোনির দু’চোখ জলে ভরে এল।’– কোনি’র দু’চোখ জলে ভরে ওঠার কারণ কী ? এরপর কী ঘটেছিল ?

উত্তরঃ মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় রিলে রেসের দলে জায়গা না পেয়ে এবং কর্মকর্তাদের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে কোনি চরম অপমানে একা ঘরে কাঁদছিল। ঠিক সেই সময় তার প্রিয় ট্রেনার ক্ষিতীশ সিংহ হুট করে সেই ঘরে এসে হাজির হন। জুপিটার ক্লাবের চক্রান্তে ক্ষিতীশের মাদ্রাজে আসার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাই নিজের পকেটের টাকা খরচ করে শুধু কোনির পাশে দাঁড়াতে তিনি মাদ্রাজে এসেছিলেন। এই চরম দুঃসময়ে নিজের একমাত্র ভরসা ও অভিভাবক ক্ষিতীশ সিংহকে হঠাৎ চোখের সামনে দেখে আবেগে ও চোখের জলে কোনির দু’চোখ ভরে উঠেছিল।

এরপর যা ঘটেছিল: ক্ষিতীশ ঘরে ঢুকেই কোনিকে কান্নাকাটি বন্ধ করতে বলেন এবং তীব্র ভাষায় তাকে উদ্দীপিত করেন। তিনি কোনির মনের ভেতরের ক্ষোভ ও বঞ্চনাকে এক অদম্য জেদে রূপান্তর করে দেন। তিনি কোনিকে মনে করিয়ে দেন যে, পুলে নেমেই তাকে এই অপমানের যোগ্য জবাব দিতে হবে। ক্ষিতীশের এই ‘চিঁড়িয়া’ বা জেদ জাগানোর মন্ত্র কোনির মনের সব দুর্বলতা ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়। এরপর যখন হীমা চ্যাটার্জির ব্যর্থতার কারণে বাধ্য হয়ে কর্মকর্তারা কোনিকে মূল পুলে নামায়, তখন কোনি ক্ষিতীশের সেই অনুপ্রেরণাকে বুকে নিয়ে জলে ঝড় তোলে এবং সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করে।

৬.২ “কী হয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ?”– কার ইনফ্লুয়েঞ্জা সম্পর্কে কে একথা বলেছে ? প্রসঙ্গ নির্দেশ করো। ১+১+৩

উত্তরঃ

বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে উদ্ধৃত কথাটির বক্তা হলেন সাঁতারের প্রধান প্রশিক্ষক তথা কোনি-র কোচ ক্ষিতীশ সিংহ (ক্ষিদ্দা)। তিনি কোনির বড়দা কমল পালের অসুস্থতা সম্পর্কে এই কথাটি বলেছিলেন।

প্রসঙ্গ নির্দেশ: গঙ্গার ঘাটে কোনির সাঁতারের সুপ্ত প্রতিভা দেখার পর ক্ষিতীশ সিংহ কোনির খোঁজ করতে করতে হঠাৎ একদিন তাদের শ্যামাপুকুর বস্তির জরাজীর্ণ বাড়িতে এসে উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান কোনির বড়দা কমল পাল তক্তপোশের ওপর শুয়ে আছেন। কমলের অত্যন্ত ফ্যাকাশে ও অসুস্থ চেহারা দেখে ক্ষিতীশ তক্তপোশের ধার ঘেঁষে বসেন এবং কিছুটা মজা করার ভঙ্গিতে হেসে প্রশ্ন করেন যে তার ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু হয়েছে কি না।

উত্তরে কমল হেসে মাথা হেলিয়ে স্বীকার করে যে তার ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়েছে এবং রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় ক্ষিতীশকে বেশি ক্ষণ বসতে বারণ করে। প্রকৃতপক্ষে, এই কথোপকথনের আড়ালে কমলের শরীরের এক মারাত্মক রোগ (টিবি/যক্ষ্মা) লুকিয়ে ছিল এবং পরবর্তীতে এই ইনফ্লুয়েঞ্জার ধাক্কা সামলাতে না পেরেই কমলের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। কমল নিজে অলিম্পিকে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও দারিদ্র্যের কারণে তা পূরণ করতে পারেনি। তাই নিজের জীবনের শেষ দিনগুলিতে দাঁড়িয়ে সে ক্ষিতীশের কাছে বোন কোনির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য যে আকুল প্রার্থনা জানিয়েছিল, এই দৃশ্যটি তারই এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ।

৭. কমবেশি ১৫০টি শব্দে একটি বিষয়ে প্রতিবেদন লিখ : ৫×১=৫

৭.১ ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা:

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরির ধাক্কা বাসে, মৃত ৫

নিজস্ব প্রতিনিধি, ডানকুনি, ২৫শে জুলাই, ২০২৬: ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ডানকুনি মোড়ের কাছে আজ সকালে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন যাত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ কলকাতা অভিমুখী একটি বেসরকারি বাস যাত্রী বোঝাই করে ডানকুনি ক্রসিং পার হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় পিছন থেকে আসা একটি গতিবেগী বালি বোঝাই লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে।

ধাক্কার তীব্রতায় বাসটির পিছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং সেটি রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে উল্টে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে প্রাথমিক উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে ডানকুনি থানার পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল এসে গ্যাস কাটার দিয়ে বাসের বডি কেটে আহত ও মৃতদের উদ্ধার করে।

আহতদের উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর লরির চালক পলাতক। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

৭.২ ‘সবুজায়নের লক্ষ্যে পদক্ষেপ’: বিদ্যালয়ে মহাসমারোহে বৃক্ষরোপণ উৎসব পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ২৫শে জুলাই, ২০২৬: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করার লক্ষ্যে গতকাল স্থানীয় এবিসি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘বৃক্ষরোপণ উৎসব’ উদযাপিত হলো। বিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্লাব ও এন.এস.এস ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এদিন সকালে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকমণ্ডলীর একটি সুসজ্জিত পরিবেশ সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা স্থানীয় এলাকা পরিক্রমা করে। এরপর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে প্রধান শিক্ষক মহাশয় পরিবেশ দূষণ রোধে গাছের অপরিহার্য ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।

উদ্বোধনের পর বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের চারপাশে নিম, বকুল, কৃষ্ণচূড়াসহ প্রায় শতাধিক চারা গাছ রোপণ করা হয়। নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা প্রতিটি চারাগাছ দত্তক নেয় এবং সেগুলির নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব ভাগ করে নেয়। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত বাসিন্দাদের মধ্যে বিনামূল্যে ফলদ চারা বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগটি ছাত্রছাত্রীদের মনে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও নাগরিক দায়বদ্ধতা গঠনে অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

📌 আরো দেখুনঃ

📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply