Class 9 History 2nd Unit Test Question Paper Set-1 wbbse | নবম শ্রেণি ইতিহাস দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট সেট-১

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 9 (IX) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER

Set-1

Class 9 History 2nd Unit Test Question Paper Set-1 wbbse | নবম শ্রেণি ইতিহাস দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট সেট-১

📌নবম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সমস্ত বিষয় | Class 9 All Subject Unit Test Question Paper Click Here

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
নবম শ্রেণি   বিষয় : ইতিহাস
সময় : ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট               পূর্ণ মান : ৪০

বিভাগ- ‘ক’

1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : 1×10=10

(i) ইয়ং ইতালি দল গঠন করেছিলেন—
(ক) ক্যাভুর (খ) ম্যাৎসিনি (গ) বিসমার্ক (ঘ) গ্যারিবল্ডি

উত্তরঃ (খ) ম্যাৎসিনি।

(ii) ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লব হয়েছিল—
(ক) ১৮৪০ খ্রিঃ (খ) ১৮৩০ খ্রিঃ (গ) ১৮৪৮ খ্রিঃ (ঘ) ১৮৫০ খ্রিঃ।

উত্তরঃ (খ) ১৮৩০ খ্রিঃ

(iii) কোন দেশকে ‘ইউরোপের অসুস্থ দেশ’ বলা হত ?
(ক) ইংল্যান্ড (খ) ফ্রান্স (গ) তুরস্ক (ঘ) বেলজিয়াম।

উত্তরঃ (গ) তুরস্ক।

(v) “শিল্পবিপ্লব’ কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন—
(ক) টয়েনবি (খ) অ্যাডামস্মিথ
(গ) আগস্ট ব্ল্যাঙ্কি (ঘ) হামফ্রেডেভি

উত্তরঃ (গ) আগস্ট ব্ল্যাঙ্কি।

(v) Safety Lamp আবিস্কার করেন—
(ক) জনকে (খ) হারগ্রিভস (গ) আর্করাইট (ঘ) হামফ্রেডেভি।

উত্তরঃ (ঘ) হামফ্রেডেভি।

(vi) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল—
(ক) ১৯০৭ খ্রিঃ (খ) ১৯১০ খ্রিঃ (গ) ১৯১২ খ্রিঃ (ঘ) ১৯১৪ খ্রিঃ।

উত্তরঃ (ঘ) ১৯১৪ খ্রিঃ।

(vii) ফ্যাসিস্ট দলের সদস্যদের বলা হত—
(ক) কালোকুর্তা (খ) সাদা কুর্তা (গ) লাল কুর্তা (ঘ) হলুদ কুর্তা।

উত্তরঃ (ক) কালোকুর্তা।

(viii) রুশ ভাষায় ‘নারদ’ শব্দের অর্থ—
(ক) জনগণ (খ) সংঘ (গ) বিপ্লব (ঘ) বিদ্রোহ।

উত্তরঃ (ক) জনগণ

(ix) ফুয়েরার উপাধি নিয়েছিলেন—
(ক) মুসোলিনি (খ) হিটলার (গ) লেনিন (ঘ) নিকোলাস।

উত্তরঃ (খ) হিটলার।

(x) জার্মানী একটি ‘পরিতৃপ্ত দেশ’ একথা ঘোষণা করেন—
(ক) কাইজার (খ) বিসমার্ক (গ) হিটলার (ঘ) লেনিন

উত্তরঃ (খ) বিসমার্ক

বিভাগ- ‘খ’

2. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও : 1×6=6

(i) কোন সময়কে ‘মেটারনিকের যুগ’ বলা হয় ?

উত্তরঃ ‘মেটারনিকের যুগ’ বলতে ইউরোপের এক ঐতিহাসিক সময় ১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ সাল পর্যন্ত সময়কালকে বোঝায়।

(ii) ওয়াটারলুর যুদ্ধ কবে হয়েছিল ?

উত্তরঃ 1815 সালের 18 জুন নেপোলিয়নের ফরাসি সেনাবাহিনী এবং ডিউক অফ ওয়েলিংটন এবং মার্শাল ব্লুচারের নেতৃত্বে একটি জোটের মধ্যে ওয়াটারলুর যুদ্ধ হয়েছিল।

(iii) ‘দাস ক্যাপিটাল’ গ্রন্থটি কার লেখা ?

উত্তরঃ ‘দাস ক্যাপিটাল’ গ্রন্থটি কার্ল মার্ক্সের লেখা পুঁজিবাদের সমালোচনামূলক একটি বই।

(iv) N.E.P -এর পুরো কথাটির অর্থ কী ?

উত্তরঃ N.E.P -এর পুরো কথাটির অর্থ National Education Policy (জাতীয় শিক্ষানীতি)।

(v) সুয়েজখাল কোন দুই সাগরকে সংযুক্ত করেছে ?

উত্তরঃ সুয়েজ খাল ভূমধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করেছে।

(vi) কোন সন্ধিকে ‘জবরদস্তিমূলক সন্ধি’ বলা হয় ?

উত্তরঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির সাথে মিত্রপক্ষের স্বাক্ষরিত ভার্সাই চুক্তিকে ‘জবরদস্তিমূলক সন্ধি’ বা ‘অপমানজনক সন্ধি’ বলা হয়।

বিভাগ – ‘গ’

3. দুটি অথবা তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (যে কোনো চারটি) 2×4=8

(i) ইউরোপের ইতিহাসে ‘Big Four’ নামে কারা পরিচিত ?

পরিচয়: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালের প্যারিস শান্তি সম্মেলনের চার প্রধান ব্যক্তিত্ব ‘বিগ ফোর’ নামে পরিচিত।

নেতৃবৃন্দ: তাঁরা হলেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড লয়েড জর্জ, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জর্জেস ক্লেমেনসো এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী ভিত্তোরিও অরল্যান্ডো।

(ii) কার্বোনারি কী ?

সংজ্ঞা: ‘কার্বোনারি’ হলো উনিশ শতকের প্রথম দিকে ইতালিতে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী গোপন বিপ্লবী সমিতি।

উদ্দেশ্য: ইতালির জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশ থেকে অস্ট্রিয়ার মতো বিদেশী শাসন হঠানোর উদ্দেশ্যে এই গুপ্ত সংগঠনটি সশস্ত্র আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিল।

(iii) ঘেটো বলতে কী বোঝ ?

অর্থ: ‘ঘেটো’ বলতে শহরের কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে বোঝায়, যেখানে কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বাধ্যতামূলকভাবে একসাথে বসবাস করত।ইতিহাস: মধ্যযুগে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ইহুদিদের মূল সমাজ থেকে আলাদা করে রাখার জন্য এই ধরনের অবহেলিত ও জনাকীর্ণ এলাকা তৈরি করা হয়েছিল।

(iv) ত্রিশক্তি আঁতাত কবে, কাদের মধ্যে হয় ?

গঠনের বছর: ১৯০৭ সালে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

সদস্য দেশসমূহ: এই আঁতাত বা মিত্রজোটের প্রধান তিনটি দেশ ছিল—গ্রেট ব্রিটেন (যুক্তরাজ্য), ফ্রান্স এবং রাশিয়া।মূল

উদ্দেশ্য: ইউরোপে জার্মানির ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং ‘ত্রিশক্তি মৈত্রী’ (Triple Alliance – জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালি) জোটের প্রভাব প্রতিহত করে নিজেদের পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

(v) সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব ঘটার দুটি কারণ লেখো।

মূলধনের প্রাচুর্য: অষ্টাদশ শতকে ঔপনিবেশিক বাণিজ্য এবং ভারতের মতো উপনিবেশগুলো থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ ইংল্যান্ডের পুঁজিপতিদের হাতে প্রচুর মূলধন এনে দিয়েছিল, যা তারা কলকারখানায় বিনিয়োগ করেছিলেন।

খনিজ সম্পদের সহজলভ্যতা: ইংল্যান্ডের ভূগর্ভে একই সাথে প্রচুর পরিমাণে উন্নত মানের কয়লা ও লোহার খনি পাশাপাশি অবস্থান করায় ভারী শিল্প ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও কাঁচামাল খুব সহজেই পাওয়া যেত।

(vi) ‘হেরেনভক তত্ত্ব’ কী ?

উত্তরঃ ‘হেরেনভক তত্ত্ব’ (Herrenvolk Theory) বা ‘প্রভু জাতি তত্ত্ব’ হলো জার্মানির একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের প্রচারিত একটি চরম উগ্র জাতিগত ও বর্ণবাদী মতবাদ।

মূল বক্তব্য: এই তত্ত্ব অনুসারে হিটলার দাবি করেন যে, জার্মানরা হলো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ আর্য রক্ত বহনকারী জাতি বা “মাস্টার রেস” (Master Race)। তাদের জন্মই হয়েছে অন্য সমস্ত জাতির ওপর প্রভুত্ব ও বিশ্ব শাসন করার জন্য।

পরিণতি: এই বর্ণবাদী তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই হিটলার জার্মানি থেকে ইহুদি, স্লাভ ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিকৃষ্ট বা অপূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গণ্য করেন এবং লাখ লাখ ইহুদিকে নির্মমভাবে হত্যা (হলোকাস্ট) করেন।

বিভাগ – “ঘ”

4. সাত বা আটটি বাক্যে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : 4×2=8

(i) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল ?

প্রেক্ষাপট: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পেছনে অনেক গভীর কারণ থাকলেও, ১৯১৪ সালের একটি হত্যাকাণ্ড এই যুদ্ধের সলতে পাকিয়েছিল।

সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড: ১৯১৪ সালের ২৮শে জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রান্সিস ফার্দিনান্দ এবং তাঁর স্ত্রী সোফি বসনিয়ার রাজধানী সেরাজেভো শহরে ঘুরতে যান। সেখানে ‘ব্ল্যাক হ্যান্ড’ নামক একটি সার্বিয়ান গুপ্ত বিপ্লবী সমিতির সদস্য গাভরিলো প্রিন্সিপ তাঁদের গুলি করে হত্যা করেন।

অস্ট্রিয়ার চরমপত্র: অস্ট্রিয়া এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি সার্বিয়া সরকারকে দায়ী করে এবং ২৩শে জুলাই সার্বিয়ার কাছে একটি কঠিন শর্তযুক্ত ৪৮ ঘণ্টার চরমপত্র পাঠায়।

যুদ্ধ ঘোষণা: সার্বিয়া অস্ট্রিয়ার সব দাবি মেনে না নেওয়ায়, ঠিক এক মাস পর অর্থাৎ ২৮শে জুলাই ১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়া সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

(ii) উড্রো উইলসনের চোদলফা নীতিগুলি লেখো।

পটভূমি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং বিশ্বব্যাপী স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ই জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসে একটি শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেন, যা ‘চৌদ্দ দফা নীতি’ নামে পরিচিত।

প্রধান নীতিসমূহ: এই ১৪টি দফার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলো ছিল—

উন্মুক্ত কূটনীতি: ভবিষ্যতে কোনো দেশের মধ্যে গোপনে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা গোপন চুক্তি করা যাবে না।সমুদ্রের

স্বাধীনতা: যুদ্ধ বা শান্তি—যেকোনো পরিস্থিতিতেই সব দেশের জন্য সমুদ্রপথ উন্মুক্ত রাখতে হবে।অস্ত্র হ্রাস: বিশ্বশান্তির স্বার্থে সমস্ত দেশকে সামরিক অস্ত্র ও সৈন্য সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে।

জাতিপুঞ্জ গঠন: বিশ্বের ছোট-বড় সব দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা (যা পরে ‘লীগ অব নেশনস’ বা জাতিপুঞ্জ নামে গঠিত হয়) তৈরি করতে হবে।

(iii) ইতালির ঐক্য আন্দোলনে ক্যাভুরের নীতি ও কর্মপদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

ভূমিকা: ইতালির ঐক্য আন্দোলনের (Risorgimento) প্রধান মস্তিষ্ক ও কূটনীতিবিদ ছিলেন পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার প্রধানমন্ত্রী কাউন্ট ক্যামিলো ডি ক্যাভুর।

ক্যাভুরের নীতি: ক্যাভুর বিশ্বাস করতেন যে, বিদেশী শক্তির (বিশেষ করে অস্ট্রিয়া) সাহায্য ছাড়া ইতালিকে একা স্বাধীন করা সম্ভব নয়। তাই তিনি বাস্তববাদী ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির নীতি গ্রহণ করেছিলেন।

কর্মপদ্ধতি ও পদক্ষেপ—

অভ্যন্তরীণ সংস্কার: তিনি প্রথমে নিজের রাজ্য পিডমন্টের অর্থনীতি, সেনাবাহিনী ও শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেন।

ক্রিমিয়ার যুদ্ধ (১৮৫৪-৫৬): এই যুদ্ধে ক্যাভুর কোনো স্বার্থ ছাড়াই ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের পক্ষে সেনা পাঠিয়ে তাদের সহানুভূতি লাভ করেন এবং ইতালির সমস্যাকে আন্তর্জাতিক দরবারে তুলে ধরেন।

প্লোম্বিয়ার্সের চুক্তি (১৮৫৮): তিনি ফ্রান্সের সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের সাথে একটি গোপন চুক্তি করেন যে, অস্ট্রিয়া আক্রমণ করলে ফ্রান্স ইতালিকে সাহায্য করবে।

ঐক্য সম্পন্ন: এই ফরাসি সাহায্যের ওপর ভর করে তিনি অস্ট্রিয়াকে পরাজিত করেন এবং উত্তর ও মধ্য ইতালিকে পিডমন্টের সাথে যুক্ত করে ইতালির ঐক্যের পথ প্রশস্ত করেন।

5. পনেরো বা ষোলটি বাক্যে যে-কোন একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : 8×1=8

(i) শিল্প বিপ্লবের সংজ্ঞা দাও। ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবের পিছনে পরিবহন ব্যবস্থার অবদান আলোচনা করো। 3+5

সংজ্ঞাঃ অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধে (১৭৫০ খ্রিস্টাব্দের পর) বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থায় মানুষের কায়িক শ্রমের পরিবর্তে যন্ত্রের ব্যবহার এবং কুটির শিল্পের পরিবর্তে কলকারখানা ভিত্তিক (Factory System) যে আমূল পরিবর্তন ঘটে, তাকে শিল্প বিপ্লব (Industrial Revolution) বলা হয়।

১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি অর্থনীতিবিদ অগাস্ত ব্লাঙ্কি প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন এবং পরবর্তীতে ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি তাঁর বক্তৃতার মাধ্যমে শব্দটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। এর ফলে কুটির শিল্প ধ্বংস হয়, বৃহদায়তন কারখানার জন্ম হয় এবং সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী—এই দুটি নতুন শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে।

পরিবহন ব্যবস্থার অবদানঃ ব্রিটেনে সর্বপ্রথম শিল্প বিপ্লব ঘটার পেছনে উন্নত অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা এক বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করেছিল। এই অবদানকে প্রধানত চারটি ভাগে আলোচনা করা যায়—

ম্যাকডাম পদ্ধতিতে সড়ক নির্মাণ: জন ম্যাকডাম নামক এক স্কটিশ ইঞ্জিনিয়ার পিচ ও পাথর কুচি দিয়ে শক্ত, মজবুত এবং স্থায়ী রাস্তা (Macadamized Roads) তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এর ফলে বর্ষাকালেও ভারী মালবাহী গাড়ি বা ওয়াগন অত্যন্ত দ্রুত কাঁচামাল কারখানায় এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছাতে পারত।

খাল ব্যবস্থার উন্নয়ন (Canal Era): ডুক অব ব্রিজওয়াটার এবং জেমস ব্রিন্ডলির উদ্যোগে ইংল্যান্ড জুড়ে অসংখ্য বাণিজ্যিক খাল খনন করা হয়। সড়কপথের তুলনায় জলপথে কয়লা, লোহা ও মাটির পাত্রের মতো ভারী কাঁচামাল অত্যন্ত কম খরচে এবং নিরাপদে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল।

রেলপথের সূচনা (Railway Age): ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দে জর্জ স্টিফেনসন আবিষ্কৃত বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালিত রেলগাড়ি ব্রিটেনের পরিবহন ব্যবস্থায় চূড়ান্ত গতি এনে দেয়। রেলের মাধ্যমে খনি থেকে কয়লা ও লোহা কারখানায় এবং কারখানা থেকে তৈরি সুতি বস্ত্র ও অন্যান্য পণ্য সমুদ্র বন্দরে পাঠানো সহজ ও দ্রুততর হয়।

বাজার ও বন্দরের সংযোগ: উন্নত সড়ক, খাল এবং রেলপথের এই সমন্বিত নেটওয়ার্কের কারণে দূর-দূরান্তের গ্রামীণ বাজার এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরগুলোর (যেমন: লিভারপুল, লন্ডন) সাথে শিল্পশহরগুলোর (যেমন: ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম) সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়। এটি কাঁচামাল সংগ্রহ এবং তৈরি পণ্য রপ্তানির পথকে মসৃণ করে ব্রিটেনের শিল্পায়নের গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

(ii) ভিয়েনা সম্মেলন কবে হয়েছিল ? এই সম্মেলনে কারা যোগদান করেছিলেন ? ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্য কী ছিল ? 1+2+5

উত্তরঃ ভিয়েনা সম্মেলনের সময়কাল—

নেপোলিয়নের পতনের পর ইউরোপের পুনর্গঠনের জন্য ১৮১৫ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে এই ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সম্মেলনে যোগদানকারী ব্যক্তিবর্গ—

এই সম্মেলনে ইউরোপের প্রায় সব রাষ্ট্রই অংশ নিয়েছিল, তবে মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন চার প্রধান শক্তির (Big Four) নেতৃবৃন্দ—

(i) অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর যুবরাজ মেটারনিক (যিনি সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন)।

(ii) রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডার।

(iii) ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড ক্যাসেলরি।

(iv) প্রুশিয়ার রাজা তৃতীয় ফ্রেডারিক উইলিয়াম এবং ফ্রান্সের কূটনীতিবিদ তিলিরঁ।

ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্যসমূহ—

ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো ছিল মূলত ফরাসি বিপ্লব এবং নেপোলিয়নের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ইউরোপের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দূর করে স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনা। এর মূল উদ্দেশ্যগুলোকে তিনটি নীতিতে ভাগ করা যায়—

ন্যায্য অধিকার নীতি (Principle of Legitimacy): এই নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ফরাসি বিপ্লবের আগের রাজবংশগুলোকে তাদের পুরনো রাজ্য ও সিংহাসন ফিরিয়ে দেওয়া। এর অধীনে ফ্রান্সে পুনরায় ‘বুরবোঁ রাজবংশ’কে এবং ইতালি ও হল্যান্ডে তাদের পুরনো রাজাদের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়।

শক্তিসাম্য নীতি (Balance of Power): ভবিষ্যতে ফ্রান্স যাতে পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ইউরোপের শান্তি ভঙ্গ করতে না পারে, তার জন্য ফ্রান্সের চারপাশে শক্তিশালী রাষ্ট্র দিয়ে এক ধরনের ‘প্রতিরোধ প্রাচীর’ গড়ে তোলা হয়। ফ্রান্সের সীমানা বিপ্লব-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে এনে সামরিক ভারসাম্য তৈরি করা হয়।

ক্ষতিপূরণ নীতি (Principle of Compensation): নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাদের উপযুক্ত অঞ্চল বা ভূখণ্ড দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল। এর ফলে রাশিয়া পায় পোল্যান্ডের একাংশ, অস্ট্রিয়া পায় ইতালির লম্বার্ডি ও ভেনিসিয়া এবং প্রুশিয়া পায় রাইন অঞ্চলের কিছু অংশ।

বিপ্লব প্রতিরোধ: ইউরোপের বুকে ফরাসি বিপ্লব প্রসূত উদারতাবাদ, জাতীয়তাবাদ ও গণতান্ত্রিক ভাবধারার বিস্তারকে কঠোরভাবে দমন করা এবং রাজতন্ত্রের প্রাধান্য বজায় রাখাও এই সম্মেলনের অন্যতম গোপন উদ্দেশ্য ছিল।

📌আরও পড়ুনঃ

📌নবম শ্রেণির ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সমস্ত বিষয় | Class 9 All Subject Unit Test Question Paper Click Here

📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply