ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ
দশম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ প্রশ্ন উত্তর দশম অধ্যায় | Class 6 geography Bharoter Sabhabik Udbhid Question Answer Ch-10 wbbse
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ
দশম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল
∆ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. ভারতের সবচেয়ে বেশি অঞ্চল জুড়ে রয়েছে — (ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য / ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য / পার্বত্য অরণ্য)।
উত্তরঃ ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য
২. মেহগনি, রোজউড কোন অরণ্যের প্রধান উদ্ভিদ? — (চিরসবুজ / পর্ণমোচী / ম্যানগ্রোভ)।
উত্তরঃ চিরসবুজ
৩. যে অরণ্যের গাছগুলির পাতা বছরে একবার নির্দিষ্ট ঋতুতে ঝরে যায়, তাকে বলে — (চিরসবুজ অরণ্য / পর্ণমোচী অরণ্য / মরু উদ্ভিদ)।
উত্তরঃ পর্ণমোচী অরণ্য
৪. শাল ও সেগুন হলো এক ধরণের — (চিরসবুজ উদ্ভিদ / পর্ণমোচী উদ্ভিদ / সরলবর্গীয় উদ্ভিদ)।
উত্তরঃ পর্ণমোচী উদ্ভিদ
৫. রাজস্থানের মরুভূমি অঞ্চলে মূলত দেখা যায় — (কাঁটাঝোপ ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ / চিরসবুজ অরণ্য / ম্যানগ্রোভ অরণ্য)।
উত্তরঃ কাঁটাঝোপ ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ
৬. বাষ্পীভবন কমানোর জন্য মরু অঞ্চলের উদ্ভিদের পাতাগুলি কিসে রূপান্তরিত হয়? — (ফুলে / কাঁটায় / ফলে)।
উত্তরঃ কাঁটায়
৭. ক্যাকটাস ও বাবলা হলো এক প্রকার — (মরু উদ্ভিদ / পার্বত্য উদ্ভিদ / ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ)।
উত্তরঃ মরু উদ্ভিদ
৮. নদীর মোহনায় ও উপকূলের লবণাক্ত মাটিতে যে উদ্ভিদ জন্মায়, তাকে বলে — (ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ / পর্ণমোচী উদ্ভিদ / সরলবর্গীয় উদ্ভিদ)।
উত্তরঃ ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ
৯. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে প্রধানত কোন গাছ দেখা যায়? — (পাইন / সুন্দরী / চন্দন)।
উত্তরঃ সুন্দরী
১০. শ্বাসমূল ও ঠেসমূল দেখা যায় কোন উদ্ভিদে? — (পার্বত্য উদ্ভিদে / মরু উদ্ভিদে / ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে)।
উত্তরঃ ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে
১১. সুন্দরী গাছ থেকে প্রাপ্ত কাঠ মূলত কী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়? — (আসবাবপত্র / নৌকা / দেশলাই কাঠি)।
উত্তরঃ নৌকা
১২. হিমালয় পর্বতের উঁচু ঢালে কোন ধরণের অরণ্য গড়ে ওঠে? — (ম্যানগ্রোভ অরণ্য / পার্বত্য বা সরলবর্গীয় অরণ্য / ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য)।
উত্তরঃ পার্বত্য বা সরলবর্গীয় অরণ্য
১৩. পাইন, ফার, দেবদারু হলো এক প্রকার — (পর্ণমোচী গাছ / সরলবর্গীয় গাছ / ম্যানগ্রোভ গাছ)।
উত্তরঃ সরলবর্গীয় গাছ
১৪. সরলবর্গীয় গাছের পাতাগুলি কেমন হয়? — (গোল ও চওড়া / কাঁটাযুক্ত / সুচালো)।
উত্তরঃ সুচালো
১৫. চন্দন গাছ ভারতের কোন রাজ্যে বেশি দেখা যায়? — (পশ্চিমবঙ্গ / কর্ণাটক / রাজস্থান)।
উত্তরঃ কর্ণাটক
১৬. শিঙ্কোনা গাছ থেকে কোন রোগের ওষুধ তৈরি হয়? — (ক্যান্সার / ম্যালেরিয়া / আমাশয়)।
উত্তরঃ ম্যালেরিয়া (কুইনাইন তৈরি হয়)
১৭. ভারতের মোট ভূখণ্ডের অন্তত কত শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন? — (২০% / ৩৩% / ৫০%)।
উত্তরঃ ৩৩%
১৮. প্রতি বছর কোন মাসে ‘বনমহোৎসব’ পালন করা হয়? — (জানুয়ারি / জুলাই / ডিসেম্বর)।
উত্তরঃ জুলাই
১৯. গাছেদের পাতা সবুজ রাখার জন্য বাতাসে কোন গ্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি? — (অক্সিজেন / কার্বন ডাই অক্সাইড / নাইট্রোজেন)।
উত্তরঃ কার্বন ডাই অক্সাইড
২০. গাছের শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে রেখে কী রোধ করে? — (ভূমিক্ষয় / বন্যা / খরা)।
উত্তরঃ ভূমিক্ষয়
২১. ভারতে প্রায় (৪০০০ / ৫০০০ / ৬০০০) রকমের গাছ দেখা যায়।
উত্তরঃ ৫০০০
২২. গাছ আমাদের জীবনদায়ী কোন গ্যাস দেয় এবং বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখে? — (নাইট্রোজেন / কার্বন ডাই অক্সাইড / অক্সিজেন)।
উত্তরঃ অক্সিজেন
২৩. বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নিয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা নেয় কে? — (নদীতীর / অরণ্য / মরুভূমি)।
উত্তরঃ অরণ্য
২৪. উদ্ভিদের শিকড় মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রেখে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ করে? — (ভূমিক্ষয় ও ধস / ভূমিকম্প / আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত)।
উত্তরঃ ভূমিক্ষয় ও ধস
২৫. গাছের ঝরা পাতা, ডালপালা মাটিতে পচে গিয়ে মাটির কী বৃদ্ধি করে? — (লবণাক্ততা / উর্বরতা / অম্লতা)।
উত্তরঃ উর্বরতা
২৬. কোন গাছের ছাল থেকে ম্যালেরিয়া রোগের প্রতিষেধক ‘কুইনাইন’ ওষুধ তৈরি হয়? — (কালমেঘ / শিঙ্কোনা / তুলসী)।
উত্তরঃ শিঙ্কোনা
২৭. সর্দি-কাশি ও ঠাণ্ডা লাগলে সাধারণত কোন উদ্ভিদের পাতার রস উপশমকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়? — (বেল / নিম / তুলসী)।
উত্তরঃ তুলসী
২৮. কৃমি নাশ করতে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে কোন তিতো স্বাদের ভেষজ উদ্ভিদটি ব্যবহৃত হয়? — (কালমেঘ / ঘৃতকুমারী / বাসক)।
উত্তরঃ কালমেঘ
২৯. রক্ত পরিষ্কার রাখতে এবং চর্মরোগ দূর করতে কোন গাছের পাতার রস প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে? — (নিম / বাসক / নয়নতারা)।
উত্তরঃ নিম।
৩০. বিশ্ব অরণ্য দিবস পালিত হয়— (২১ মার্চ / ২১ জুলাই / ২১ সেপ্টেম্বর)।
উত্তরঃ ২১ মার্চ
∆ শূন্যস্থান পূরণ কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১. মানুষের চেষ্টা ছাড়া প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে যে সমস্ত গাছপালা জন্মায়, তাদের __________ বলে।
উত্তরঃ স্বাভাবিক উদ্ভিদ
২. ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্যের গাছগুলির পাতা কখনোই একসঙ্গে __________ না।
উত্তরঃ ঝরে যায়
৩. __________ গাছের কাঠ থেকে সাধারণত সুগন্ধি তেল ও ধূপ তৈরি করা হয়।
উত্তরঃ চন্দন
৪. মরু অঞ্চলের উদ্ভিদের মূল বা শিকড় মাটির অনেক __________ প্রবেশ করে।
উত্তরঃ গভীরে
৫. ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ড সবুজ ও __________ হয়।
উত্তরঃ রসালো
৬. ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের মাটির ওপরে খাড়া হয়ে থাকা মূলগুলিকে __________ বলে।
উত্তরঃ শ্বাসমূল
৭. পার্বত্য অঞ্চলের সরলবর্গীয় গাছের আকার দেখতে অনেকটা __________ মতো হয়।
উত্তরঃ মোচাকৃতির (বা টোপরের)
৮. বন্যপ্রাণীদের প্রধান প্রাকৃতিক বাসস্থান হলো __________।
উত্তরঃ অরণ্য (বা বনভূমি)
৯. জীবজগৎকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় __________ গ্যাস আমরা গাছ থেকে পাই।
উত্তরঃ অক্সিজেন
১০. একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে নতুন করে গাছ লাগিয়ে বনভূমি তৈরি করাকে __________ বলে।
উত্তরঃ বনসৃজন
১. গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকারক __________ গ্যাস শোষণ করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
উত্তরঃ কার্বন ডাই অক্সাইড
২. অরণ্য বা জঙ্গল থেকে আমরা মধু, মোম, রজন এবং বিভিন্ন জীবনদায়ী __________ পেয়ে থাকি।
উত্তরঃ ওষুধি গাছ (বা ভেষজ উদ্ভিদ / ওষুধ)
৩. গাছের শেকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রেখে বন্যা ও __________ রোধ করতে সাহায্য করে।
উত্তরঃ ভূমিক্ষয়
৪. __________ গাছের ছাল থেকে ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধ ‘কুইনাইন’ তৈরি হয়।
উত্তরঃ শিঙ্কোনা
৫. সর্দি-কাশি হলে তুলসী পাতার রসের সাথে __________ মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
উত্তরঃ মধু
∆ সত্য মিথ্যা নির্ণয় কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১. ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্যের গাছগুলির পাতা বছরের একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে সব একসঙ্গে ঝরে যায়।
উত্তরঃ মিথ্যা (পর্ণমোচী অরণ্যের পাতা ঝরে যায়, চিরসবুজ অরণ্য সারা বছর সবুজ থাকে)।
২. মরুভূমি অঞ্চলের উদ্ভিদের পাতাগুলি বাষ্পীভবন কমানোর জন্য কাঁটায় রূপান্তরিত হয়।
উত্তরঃ সত্য।
৩. সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের মাটির ওপরে খাড়া হয়ে থাকা মূলগুলিকে শ্বাসমূল বলে।
উত্তরঃ সত্য।
৪. হিমালয় পর্বতের উঁচু ঢালে মূলত চন্দন ও মহুয়া গাছ দেখা যায়।
উত্তরঃ মিথ্যা (সেখানে পাইন, ফার, দেবদারুর মতো সরলবর্গীয় গাছ দেখা যায়)।
৫. গাছ বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ছেড়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।
উত্তরঃ মিথ্যা (গাছ আমাদের জীবনদায়ী অক্সিজেন দেয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে)।
৬. বনের গাছের ঝরা পাতা এবং ডালপালা মাটিতে পচে গিয়ে মাটির উর্বরতা বাড়িয়ে তোলে।
উত্তরঃ সত্য।
৭. উদ্ভিদের শিকড় মাটিকে আলগা করে দেয়, যার ফলে ভূমিক্ষয় আরও বেড়ে যায়।
উত্তরঃ মিথ্যা (শিকড় মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রেখে ভূমিক্ষয় রোধ করে)।
৮. শিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকে ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধ ‘কুইনাইন’ তৈরি করা হয়।
উত্তরঃ সত্য।
৯. সর্দি-কাশি বা বুকে কফ জমলে বাসক পাতার রস অত্যন্ত উপকারী।
উত্তরঃ সত্য।
১০. কালমেঘ একটি অত্যন্ত মিষ্টি স্বাদের ভেষজ উদ্ভিদ যা পেটের অসুখে কাজ দেয়।
উত্তরঃ মিথ্যা (কালমেঘ একটি তিতো স্বাদের ভেষজ উদ্ভিদ যা লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে ও কৃমি নাশ করতে ব্যবহৃত হয়)।
১১. ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলেই মূলত ক্রান্তীয় পর্ণমোচী বা পাতাঝরা অরণ্য দেখা যায়।
উত্তরঃ সত্য।
১২. সরলবর্গীয় গাছের পাতাগুলি চওড়া ও গোল আকৃতির হয় যাতে বরফ জমে থাকতে পারে।
উত্তরঃ মিথ্যা (পাতাগুলি সুচালো হয় যাতে বরফ পিছলে পড়ে যায়)।
১৩. অরণ্য বা জঙ্গল হলো বন্যপ্রাণীদের প্রধান প্রাকৃতিক বাসস্থান।
উত্তরঃ সত্য।
১৪. সর্দি-কাশি হলে তুলসী পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী ভেষজ ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
উত্তরঃ সত্য।
১৫. নতুন করে চারা গাছ লাগিয়ে বনভূমি তৈরি করার পদ্ধতিকে বলা হয় অরণ্য নিধন।
উত্তরঃ মিথ্যা (চারা গাছ লাগিয়ে বনভূমি তৈরি করাকে ‘বনসৃজন’ বলা হয়)।
∆ বাম স্তম্ভের সঙ্গে স্তম্ভ মেলাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
সেট-১
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ |
| (ক) ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য | (১) সুন্দরী ও গরান |
| (খ) ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য | (২) পাইন ও দেবদারু |
| (গ) মরু অঞ্চলের উদ্ভিদ | (৩) মেহগনি ও রোজউড |
| (ঘ) ম্যানগ্রোভ অরণ্য | (৪) শাল ও সেগুন |
| (ঙ) পার্বত্য অরণ্য | (৫) ফণীমনসা ও বাবলা |
উত্তরঃ (ক) → (৩), (খ) → (৪), (গ) → (৫), (ঘ) → (১), (ঙ) → (২)
সেট-২
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ |
| (ক) তুলসী পাতা | (১) ম্যালেরিয়ার ওষুধ কুইনাইন |
| (খ) শিঙ্কোনা ছাল | (২) কৃমি নাশ ও লিভারের কাজ |
| (গ) বাসক পাতা | (৩) রক্ত পরিষ্কার ও চর্মরোগ উপশম |
| (ঘ) কালমেঘ | (৪) সর্দি-কাশি ও ঠাণ্ডা লাগা |
| (ঙ) নিম পাতা | (৫) বুকে কফ জমা ও কাশি |
উত্তরঃ (ক) → (৪), (খ) → (১), (গ) → (৫), (ঘ) → (২), (ঙ) → (৩)
সেট-৩
| বাম স্তম্ভ | ডান স্তম্ভ |
| (ক) সুচালো পাতা | (১) অরণ্যের গাছপালা |
| (খ) শ্বাসমূল ও ঠেসমূল | (২) সরলবর্গীয় গাছের বৈশিষ্ট্য |
| (গ) বাষ্পীভবন রোধে কাঁটা | (৩) নতুন করে গাছ লাগানো |
| (ঘ) বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান | (৪) ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য |
| (ঙ) বনসৃজন | (৫) মরুভূমির উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য |
উত্তরঃ (ক) → (২), (খ) → (৪), (গ) → (৫), (ঘ) → (১), (ঙ) → (৩)
∆ এক কথায় প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১. স্বাভাবিক উদ্ভিদ কাকে বলে?
উত্তরঃ মানুষের চেষ্টা ছাড়া প্রকৃতির জলবায়ু ও মাটির ওপর নির্ভর করে যে সমস্ত গাছপালা নিজে থেকেই জন্মায়, তাদের স্বাভাবিক উদ্ভিদ বলে।
২. ভারতের কোন অরণ্যের গাছগুলির পাতা সারা বছর সবুজ থাকে?
উত্তরঃ ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্যের।
৩. ভারতের কোন জলবায়ু অঞ্চলে ক্রান্তীয় পর্ণমোচী বা পাতাঝরা অরণ্য দেখা যায়?
উত্তরঃ যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১০০ থেকে ২০০ সেমি।
৪. চন্দন গাছ ভারতের কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি জন্মায় ?
উত্তরঃ কর্ণাটক রাজ্যে।
৫. বাষ্পীভবন কমানোর জন্য মরু অঞ্চলের উদ্ভিদের পাতা কিসে রূপান্তরিত হয়?
উত্তরঃ কাঁটায়।
৬. ফণীমনসা বা ক্যাকটাস কোন অঞ্চলের প্রধান স্বাভাবিক উদ্ভিদ?
উত্তরঃ মরুভূমি অঞ্চলের।
৭. নদী মোহনা ও উপকূলের লবণাক্ত মাটিতে কোন ধরণের অরণ্য গড়ে ওঠে?
উত্তরঃ ম্যানগ্রোভ অরণ্য।
৮. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলে কোন গাছ প্রধানত দেখা যায় ?
উত্তরঃ সুন্দরী গাছ।
৯. ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের মাটিতে খাড়া হয়ে থাকা মূলগুলিকে কী বলা হয়?
উত্তরঃ শ্বাসমূল।
১০. নরম ও কর্দমাক্ত মাটিতে গাছকে খাড়া রাখতে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের কোন মূল সাহায্য করে ?
উত্তরঃ ঠেসমূল।
১১. হিমালয় পর্বতের উঁচু ঢালে কোন আকৃতির সরলবর্গীয় গাছ দেখা যায়?
উত্তরঃ মোচাকৃতির (বা টোপরের মতো)।
১২. পাইন, ফার ও দেবদারু কোন অরণ্যের প্রধান উদ্ভিদ ?
উত্তরঃ পার্বত্য বা সরলবর্গীয় অরণ্যের।
১৩. গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে কোন ক্ষতিকারক গ্যাস শোষণ করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে?
উত্তরঃ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস।
১৪. উদ্ভিদের শিকড় মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রেখে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ করে ?
উত্তরঃ ভূমিক্ষয় ও ধস।
১৫. বন্যপ্রাণীদের প্রধান প্রাকৃতিক বাসস্থান কী?
উত্তরঃ অরণ্য বা বনভূমি।
৬. ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধি উপাদান ‘কুইনাইন’ কোন গাছের ছাল থেকে পাওয়া যায়?
উত্তরঃ শিঙ্কোনা গাছের।
১৭. সর্দি-কাশি বা ঠাণ্ডা লাগলে সাধারণত কোন উদ্ভিদের পাতার রস মধুর সাথে খাওয়া হয়?
উত্তরঃ তুলসী পাতার রস।
১৮. বুকে কফ জমলে বা কাশি হলে কোন ওষুধি উদ্ভিদের পাতার রস খেলে উপকার পাওয়া যায় ?
উত্তরঃ বাসক পাতার রস।
১৯. কৃমি নাশ করতে এবং লিভার ভালো রাখতে কোন তিতো স্বাদের ভেষজ উদ্ভিদটি ব্যবহৃত হয়?
উত্তরঃ কালমেঘ।
২০. একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে মানুষের দ্বারা চারা গাছ লাগিয়ে নতুন করে বনভূমি তৈরি করাকে কী বলে ?
উত্তরঃ বনসৃজন।
∆ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-২
১. ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য বলতে কী বোঝো ?
উত্তরঃ যে সমস্ত অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি এবং গড় তাপমাত্রা বেশি, সেখানে এই অরণ্য গড়ে ওঠে। প্রচুর জলের কারণে এই অরণ্যের গাছগুলির পাতা কখনোই একসঙ্গে ঝরে যায় না। তাই এই অরণ্য সারা বছর সবুজ দেখায়। যেমন: মেহগনি, রোজউড ইত্যাদি।
২. ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্যকে ‘পাতাঝরা অরণ্য’ বলা হয় কেন ?
উত্তরঃ ভারতের যে সমস্ত অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১০০ থেকে ২০০ সেমি, সেখানে এই অরণ্য দেখা যায়। শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে জলের অভাব মেটানোর জন্য এই অরণ্যের গাছগুলির সমস্ত পাতা একসঙ্গে ঝরে যায়। পাতা ঝরে যায় বলেই একে পর্ণমোচী বা পাতাঝরা অরণ্য বলে। যেমন: শাল, সেগুন ইত্যাদি।
৩. মরু অঞ্চলের উদ্ভিদের পাতাগুলি কাঁটায় রূপান্তরিত হয় কেন?
উত্তরঃ মরুভূমি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত খুব কম (৫০ সেমি-র কম) এবং গরম খুব বেশি থাকে। এই চরম শুষ্ক আবহাওয়ায় গাছগুলি যাতে নিজেদের শরীর থেকে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে অতিরিক্ত জল বের করে না দেয় (জল ধরে রাখতে পারে), সেই কারণে মরু উদ্ভিদের পাতাগুলি কাঁটায় রূপান্তরিত হয়।
৪. সুন্দরবনের উদ্ভিদের ‘শ্বাসমূল’ দেখা যায় কেন?
উত্তরঃ সুন্দরবনের মোহনা ও উপকূলবর্তী অঞ্চলের মাটি লবণাক্ত ও কাদাটে প্রকৃতির হয়। এই কর্দমাক্ত মাটিতে বাতাসের অভাব থাকায় উদ্ভিদের মূল মাটির নিচে অক্সিজেন পায় না। তাই শ্বাস নেওয়ার জন্য মূলের কিছু অংশ মাটির ওপরে খাড়া হয়ে উঠে আসে। একেই শ্বাসমূল বলে।
৫. সরলবর্গীয় গাছের পাতা সুচালো এবং আকার মোচাকৃতির হয় কেন?
উত্তরঃ হিমালয় পর্বতের উঁচু ঢালে তীব্র ঠান্ডা থাকে এবং শীতকালে প্রচুর তুষারপাত হয়। গাছের পাতা সুচালো এবং ডালপালা নিচের দিকে হেলে মোচাকৃতির (টোপরের মতো) হওয়ায় বরফ গাছের পাতায় বা ডালে জমে থাকতে পারে না, সহজেই নিচে পিছলে পড়ে যায়।
৬. গাছকে ‘আমাদের পরম বন্ধু’ বলা হয় কেন?
উত্তরঃ গাছ আমাদের জীবনদায়ী অক্সিজেন গ্যাস দেয় এবং ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। এছাড়া গাছ থেকে আমরা খাদ্য, কাঠ, ওষুধি উপাদান, মধু ও মোম পাই। তাই গাছ আমাদের পরম বন্ধু।
৭. অরণ্য কীভাবে ভূমিক্ষয় রোধ করে?
উত্তরঃ গাছপালার শিকড় বা মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে মাটির কণাগুলোকে অত্যন্ত শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে। এর ফলে ঝড়, বৃষ্টি বা বন্যার জলের তোড়েও মাটি সহজে ধুয়ে বা ক্ষয়ে যেতে পারে না। এভাবে অরণ্য ভূমিক্ষয় ও ধস রোধ করে।
৮. শিঙ্কোনা গাছের অর্থনৈতিক ও চিকিৎসাগত গুরুত্ব কী?
উত্তরঃ শিঙ্কোনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উদ্ভিদ। এই গাছের শুকনো ছাল থেকে ম্যালেরিয়া রোগের একমাত্র উপশমকারী ওষুধ ‘কুইনাইন’ তৈরি করা হয়। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ম্যালেরিয়া দমনে এই গাছের গুরুত্ব অপরিসীম।
৯. তুলসী পাতার দুটি ভেষজ গুণ উল্লেখ করো।
উত্তরঃ তুলসী পাতার দুটি প্রধান ভেষজ গুণ হলো—
সাধারণ সর্দি-কাশি, ঠাণ্ডা লাগা এবং গলার খুসখুসানি কমাতে তুলসী পাতার রস মধুর সাথে খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
১০. বনসৃজন কাকে বলে? এর একটি সুবিধা লেখো।
উত্তরঃ যে সমস্ত অঞ্চলে আগে কোনো অরণ্য ছিল না বা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, সেইসব খালি জায়গায় মানুষের উদ্যোগে নতুন করে চারা গাছ লাগিয়ে বনভূমি তৈরি করাকে বনসৃজন বলে।
সুবিধা: এর ফলে পরিবেশের অক্সিজেনের জোগান বাড়ে এবং বন্যপ্রাণীদের প্রাকৃতিক বাসস্থান ফিরে পাওয়া যায়।
∆ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-৩
১. ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য এবং ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্যের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তরঃ এই দুই অরণ্যের প্রধান তিনটি পার্থক্য হলো—
পাতার বৈশিষ্ট্য: চিরসবুজ অরণ্যের গাছগুলির পাতা কখনোই একসঙ্গে ঝরে যায় না, তাই সারা বছর সবুজ দেখায়। অন্যদিকে, পর্ণমোচী অরণ্যের গাছের পাতা শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে একসঙ্গে সব ঝরে যায়।
বৃষ্টিপাত: চিরসবুজ অরণ্যে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি হয়। কিন্তু পর্ণমোচী অরণ্যে বৃষ্টিপাত ১০০ থেকে ২০০ সেমি হয়ে থাকে।
প্রধান উদ্ভিদ: চিরসবুজ অরণ্যের প্রধান গাছ হলো মেহগনি ও রোজউড। পর্ণমোচী অরণ্যের প্রধান গাছ হলো শাল ও সেগুন।
২. মরু অঞ্চলের উদ্ভিদের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তরঃ মরু অঞ্চলের উদ্ভিদের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো—
কাঁটার উপস্থিতি: বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়া রোধ করতে এই সব উদ্ভিদের পাতা ছোট বা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়।
রসালো কাণ্ড: জল ধরে রাখার জন্য ফণীমনসা বা ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ড সবুজ, পুরু ও রসালো হয়।
দীর্ঘ মূল: মাটির নিচে জলের খোঁজে এই সব উদ্ভিদের মূল বা শিকড় মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে।
৩. উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের উদ্ভিদের ‘শ্বাসমূল’ ও ‘ঠেসমূল’ থাকার কারণ কী ?
উত্তরঃ উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের উদ্ভিদে এই দুই বিশেষ মূল দেখা যাওয়ার কারণ—
শ্বাসমূল: সুন্দরবনের কাদাময় ও লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকে। তাই শ্বাস নেওয়ার জন্য উদ্ভিদের মূলের কিছু অংশ মাটির ওপরে খাড়া হয়ে উঠে আসে, যাকে শ্বাসমূল বলে।
ঠেসমূল: জোয়ার-ভাটার জল ও নরম কর্দমাক্ত মাটিতে গাছগুলি যাতে সহজে উপড়ে না পড়ে এবং সোজা হয়ে খাড়া থাকতে পারে, তার জন্য কাণ্ডের গোড়া থেকে একধরণের বাঁকা মূল মাটিতে প্রবেশ করে গাছকে ঠেস দিয়ে রাখে। একে ঠেসমূল বলে।
৪. পার্বত্য অঞ্চলের সরলবর্গীয় গাছের পাতা সুচালো এবং আকার মোচাকৃতির হয় কেন ?
উত্তরঃ হিমালয় পর্বতের উঁচু ঢালে তীব্র ঠান্ডা থাকে এবং শীতকালে নিয়মিত তুষারপাত (বরফ পড়া) হয়।
গাছের আকার মোচাকৃতির (টোপরের মতো) হওয়ায় উপর থেকে পড়া বরফ গাছের ডালে আটকে না থেকে সহজে নিচে পিছলে পড়ে যায়।
পাতাগুলি সুচালো এবং মোমের প্রলেপযুক্ত হওয়ায় প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও পাতা সহজে পচে যায় না বা ঠান্ডায় জমে নষ্ট হয় না।
৫. অরণ্য বা গাছপালা কীভাবে আমাদের দেশের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে?
উত্তরঃ জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে অরণ্যের ভূমিকা অপরিসীম—
তাপমাত্রা হ্রাস: গাছপালা তাদের প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাতাসে জলীয় বাষ্প ছাড়ে, যা বাতাসকে ঠান্ডা রাখতে এবং পরিবেশের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
বৃষ্টিপাত ঘটানো: বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ার ফলে মেঘ তৈরি হয় এবং তা বৃষ্টিপাত ঘটাতে সরাসরি সাহায্য করে।
গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ: গাছ বায়ুমণ্ডলের ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ করে।
৬. বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অরণ্যের ভূমিকা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ বন্যপ্রাণী ও অরণ্যের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়—
প্রাকৃতিক বাসস্থান: অরণ্য বা জঙ্গল হলো বাঘ, সিংহ, হরিণ, পাখি ও বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর একমাত্র স্বাভাবিক ও নিরাপদ বাসস্থান। অরণ্য ধ্বংস হলে তারা গৃহহীন হয়ে পড়ে।
খাদ্যের জোগান: বনের গাছপালা, ফলমূল এবং লতাগুল্ম তৃণভোজী প্রাণীদের প্রধান খাদ্য। আবার এই তৃণভোজী প্রাণীদের খেয়ে মাংসাশী প্রাণীরা বেঁচে থাকে। অরণ্য না থাকলে এই খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়বে।
বংশবৃদ্ধি: বনের নির্জন ও সুরক্ষিত পরিবেশ বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৭. প্রকৃতিতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে অরণ্যের অবদান কী?
উত্তরঃ প্রকৃতি রক্ষায় অরণ্যের এই দুই অবদান নিচে আলোচনা করা হলো—
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি: অরণ্যের গাছের ঝরা পাতা, ডালপালা, ফল ইত্যাদি মাটিতে পড়ে এবং পচে গিয়ে ‘হিউমাস’ বা জৈব সারে পরিণত হয়, যা মাটির উর্বরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ: বর্ষাকালে বৃষ্টির জল সরাসরি মাটিতে না পড়ে গাছের পাতা ও ডালের বাধা পেয়ে ধীরে ধীরে মাটিতে পড়ে। এছাড়া গাছের মূল মাটির জল শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে অতিরিক্ত জল দ্রুত মাটির নিচে চলে যায় এবং বন্যার প্রকোপ কমে।
৮. ‘সবুজ বাহিনীর ভেষজ বাগান’ থেকে পাওয়া তুলসী ও বাসক পাতার ওষুধি গুণাগুণ তুলনা করো।
উত্তরঃ তুলসী ও বাসক পাতা দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধি উদ্ভিদ—
তুলসী পাতার গুণ: সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি-কাশি, গলার খুসখুসানি দূর করতে তুলসী পাতার রস মধুর সাথে খাওয়া হয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও অত্যন্ত কার্যকরী।
বাসক পাতার গুণ: প্রধানত বুকে কফ জমে গেলে বা দীর্ঘদিনের পুরনো কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দূর করতে বাসক পাতার রস গরম করে বা ফুটিয়ে খাওয়া হয়। এটি কফ তরল করে বের করে দিতে সাহায্য করে।
৯. ওষুধি উদ্ভিদ হিসেবে ‘নিম’ এবং ‘কালমেঘ’ গাছের তিনটি ব্যবহার লেখো।
উত্তরঃ নিম এবং কালমেঘ গাছের প্রধান তিনটি ব্যবহার হলো—
নিম গাছের ব্যবহার: নিমের পাতা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। খোস-পাঁচড়া, চুলকানি বা যেকোনো চর্মরোগ দূর করতে নিম পাতার রস বা নিম তেল অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া এর পাতা জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
কালমেঘের ব্যবহার: কালমেঘ একটি অত্যন্ত তিতো স্বাদের ওষুধি গাছ। এটি মূলত মানবদেহের লিভার বা যকৃতের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং পেটের নানাবিধ গোলমাল দূর করতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কৃমি নাশ করতেও কালমেঘের রস ব্যবহার করা হয়।
১০. আমাদের কেন অরণ্য সংরক্ষণ করা উচিত ? (যেকোনো তিনটি কারণ)
উত্তরঃ আমাদের জীবন ও পরিবেশ বাঁচাতে অরণ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ:
অক্সিজেনের জোগান: গাছ আমাদের বেঁচে থাকার প্রধান উপাদান অক্সিজেন সরবরাহ করে। অরণ্য ধ্বংস হলে বাতাসে অক্সিজেনের অভাব ঘটবে।
পরিবেশের ভারসাম্য: অরণ্য না থাকলে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে এবং খরা, বন্যার মতো বিপর্যয় ঘটবে।
সম্পদ লাভ: অরণ্য থেকে আমরা কাঠ, মধু, মোম, রজন ও জীবনদায়ী ওষুধ পাই। মানুষের অর্থনৈতিক চাহিদার স্বার্থেই অরণ্যকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-৫
১. ভারতের ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য ও ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্যের অঞ্চল, জলবায়ু ও প্রধান উদ্ভিদের তুলনামূলক বিবরণ দাও।
উত্তরঃ ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের মধ্যে ক্রান্তীয় চিরসবুজ এবং ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এদের তুলনামূলক বিবরণ দেওয়া হলো—
ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য—
জলবায়ু ও পরিবেশ: যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি এবং গড় তাপমাত্রা ২৫°-২৭° সেলসিয়াস, সেখানে এই অরণ্য জন্মায়। প্রচুর আর্দ্রতার কারণে গাছগুলির পাতা একসঙ্গে ঝরে যায় না, তাই বন সারা বছর সবুজ দেখায়।
অঞ্চল: ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্য অঞ্চল এবং পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে এই অরণ্য দেখা যায়।প্রধান
উদ্ভিদ: মেহগনি, রোজউড, এবোনি, বাঁশ এবং রবার।
ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য—
জলবায়ু ও পরিবেশ: যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১০০ থেকে ২০০ সেমি এবং ঋতুভিত্তিক আবহাওয়া দেখা যায়। শীতের শেষে বা বসন্তের শুরুতে জলের অভাব মেটানোর জন্য এই বনের গাছের সমস্ত পাতা একসঙ্গে ঝরে যায়।
অঞ্চল: ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চল জুড়ে এই অরণ্য অবস্থিত। বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে এই অরণ্য দেখা যায়।প্রধান উদ্ভিদ: শাল, সেগুন, মহুয়া, পলাশ, শিমুল ও চন্দন।
২. মরুভূমি অঞ্চলের উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি উপযুক্ত ভৌগোলিক কারণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ ভারতের থর মরুভূমি (রাজস্থান ও গুজরাটের অংশ) অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অত্যন্ত কম (৫০ সেমি-র কম) এবং তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে। এই চরম শুষ্ক পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য এখানকার উদ্ভিদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়—
পাতা কাঁটায় রূপান্তর: মরুভূমির শুষ্ক বাতাসে গাছগুলি যাতে প্রস্বেদন বা বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল হারিয়ে না ফেলে, সেই জন্য এদের পাতাগুলি ছোট এবং তীক্ষ্ণ কাঁটায় রূপান্তরিত হয়।
রসালো ও পুরু কাণ্ড: ক্যাকটাস বা ফণীমনসা জাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ড সবুজ, পুরু এবং মোমের প্রলেপযুক্ত রসালো হয়। এটি গাছকে দীর্ঘ শুষ্ক সময়ে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে।
দীর্ঘ মূল বা শিকড়: মাটির উপরিভাগে জল না থাকায় এই সব উদ্ভিদের মূল বা শিকড় জলের সন্ধানে মাটির অনেক গভীরে (কখনও কখনও ৩০ ফুট পর্যন্ত) প্রবেশ করে।
দূরত্ব বজায় রেখে জন্মানো: জলের অভাবের কারণে এই গাছগুলি ঘন জঙ্গল তৈরি করে না, বরং একে অপরের থেকে বেশ কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে scattered বা ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় জন্মায়।
৩. উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের পরিবেশগত গুরুত্ব এবং এই উদ্ভিদের দুটি প্রধান অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তরঃ নদীর মোহনা ও সমুদ্র উপকূলবর্তী লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে ম্যানগ্রোভ অরণ্য গড়ে ওঠে, যেমন পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন।
পরিবেশগত গুরুত্ব—
ঝড় ও সুনামি প্রতিরোধ: ম্যানগ্রোভ অরণ্য উপকূলবর্তী অঞ্চলে ‘প্রাকৃতিক প্রাচীর’ হিসেবে কাজ করে। এটি সমুদ্রের তীব্র ঝড় (যেমন আমফান, ইয়াস) এবং জলোচ্ছ্বাসের গতিবেগ কমিয়ে স্থলভাগকে রক্ষা করে।
মাটি ক্ষয় ও ভাঙন রোধ: এই উদ্ভিদের ঘন মূলের জাল উপকূলের নরম কাদা মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে, যা সমুদ্রের ঢেউয়ের কারণে হওয়া পার ভাঙন ও ভূমিক্ষয় রোধ করে।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা: ম্যানগ্রোভ অরণ্য রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ বহু বন্যপ্রাণী, পাখি, মাছ এবং কাঁকড়ার প্রধান আশ্রয়স্থল ও প্রজনন ক্ষেত্র।
দুটি প্রধান অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য: শ্বাসমূল (Pneumatophore): জোয়ারের জল এবং কাদা মাটির নিচে অক্সিজেনের অভাব থাকায় গাছগুলি শ্বাস নেওয়ার জন্য তাদের মূলের কিছু অংশ তীরের মতো মাটির ওপরে খাড়া করে বাতাসে তুলে আনে।
ঠেসমূল (Stilt root): জোয়ার-ভাটার জল ও নরম মাটিতে গাছগুলি যাতে উল্টে না পড়ে এবং সোজা হয়ে খাড়া থাকতে পারে, তার জন্য কাণ্ডের গোড়া থেকে কিছু ঠেসমূল বের হয়ে মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে।
৪. হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে স্বাভাবিক উদ্ভিদের কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তরঃ হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে থাকে। এই কারণে উচ্চতা ভেদে স্বাভাবিক উদ্ভিদের গঠনে এক স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়—
হিমালয়ের পাদদেশ (১০০০ মিটার পর্যন্ত): এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত মাঝারি হওয়ায় ক্রান্তীয় পর্ণমোচী বা পাতাঝরা অরণ্য দেখা যায়। এখানকার প্রধান গাছ হলো শাল, সেগুন ও শিমুল।
মাঝারি উচ্চতা (১০০০ থেকে ৩০০০ মিটার): উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে আবহাওয়া ঠান্ডা হতে থাকে। এই স্তরে মূলত পার্বত্য নাতিশীতোষ্ণ সরলবর্গীয় অরণ্য দেখা যায়। তীব্র তুষারপাত থেকে বাঁচতে এই গাছগুলির আকার মোচাকৃতির (টোপরের মতো) এবং পাতাগুলি সুচালো হয়। প্রধান গাছ হলো পাইন, ফার, দেবদারু এবং ওক।
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল (৩০০০ মিটারের ওপরে): এই অঞ্চলে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে গাছের আকার খুব ছোট ও ঝোপঝাড়ের মতো হয়ে যায়, যাকে আল্পীয় উদ্ভিদ বলে (যেমন: রডোডেনড্রন)। আরও উঁচুতে তুষাররেখার কাছে কেবল মস (Moss) এবং লাইকেন (Lichen) জন্মায়।
৫. “অরণ্য আমাদের পরম বন্ধু” — এই উক্তিটির সপক্ষে পাঁচটি প্রধান যুক্তি দাও।
উত্তরঃ আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অরণ্য বা গাছপালার অবদান অপরিসীম। নিম্নলিখিত পাঁচটি প্রধান যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে অরণ্য আমাদের পরম বন্ধু—
অক্সিজেনের জোগান ও বায়ু শোধন: গাছ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় বাতাস থেকে ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে এবং আমাদের বেঁচে থাকার প্রধান উপাদান জীবনদায়ী অক্সিজেন গ্যাস বাতাসে ছাড়ে।
বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: অরণ্য প্রস্বেদনের মাধ্যমে বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প ছাড়ে, যা মেঘ তৈরি করতে এবং বৃষ্টিপাত ঘটাতে সরাসরি সাহায্য করে। এটি পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিবেশ ঠান্ডা রাখে।
ভূমিক্ষয় ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ: গাছের মূল মাটিকে শক্ত করে কামড়ে ধরে রাখে, যার ফলে বৃষ্টি বা বাতাসের তোড়ে মাটির ক্ষয় বা ধস হয় না। এছাড়া বনের গাছ বৃষ্টির জলের গতি কমিয়ে মাটির জল শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়, যা বন্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
অর্থনৈতিক সম্পদ দান: অরণ্য থেকে মানুষ ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরির জন্য মূল্যবান কাঠ পায়। এছাড়া শিল্প ও জীবিকার জন্য জঙ্গল থেকে মধু, মোম, রজন, আঠা এবং জ্বালানি কাঠ পাওয়া যায়।
বন্যপ্রাণীর আশ্রয় ও ওষুধি জোগান: অরণ্য হলো কোটি কোটি পশুপাখির একমাত্র প্রাকৃতিক বাসস্থান। পাশাপাশি অরণ্য আমাদের বহু জীবনদায়ী ভেষজ উদ্ভিদের জোগান দেয়।
৬. প্রকৃতিতে অরণ্য ধ্বংসের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ নির্বিচারে গাছ কাটা এবং অরণ্য ধ্বংস করার ফলে আমাদের পরিবেশ মারাত্মক সংকটের মুখে পড়ছে। এর প্রধান ক্ষতিকারক প্রভাবগুলি নিচে আলোচনা করা হলো—
বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং: অরণ্য কমে গেলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এই গ্যাস সূর্যের তাপকে ধরে রাখে, যার ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে চলেছে।
বন্যা ও খরার প্রাদুর্ভাব: গাছ না থাকলে বৃষ্টির জল সরাসরি মাটিতে পড়ে এবং মাটির জল ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বন্যা দেখা দেয়। আবার অন্যদিকে প্রস্বেদন কমে যাওয়ার কারণে বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং খরা সৃষ্টি হয়।
তীব্র ভূমিক্ষয় ও ধস: পার্বত্য ও সমভূমি অঞ্চলে গাছের শিকড় না থাকায় মাটি আলগা হয়ে যায়। ফলে বর্ষাকালে পাহাড়ে ধস নামে এবং সমভূমিতে উর্বর উপরিভাগের মাটি ধুয়ে নদীগর্ভে জমা হয়, যার ফলে নদীর নাব্যতা কমে যায়।
বন্যপ্রাণী বিলুপ্তি ও লোকালয়ে আগমন: বাসস্থান ও খাদ্যের অভাবে বহু বন্যপ্রাণী পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বেঁচে থাকার তাগিদে বাঘ, হাতি বা চিতার মতো বন্য জীবজন্তুরা অরণ্য ছেড়ে মানুষের লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।
৭. আমরা কীভাবে অরণ্য বা স্বাভাবিক উদ্ভিদ সংরক্ষণ করতে পারি ? পাঁচটি কার্যকর উপায় উল্লেখ করো।
উত্তরঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অরণ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। অরণ্য সংরক্ষণের পাঁচটি প্রধান কার্যকর উপায় হলো—
অনিয়ন্ত্রিত গাছ কাটা বন্ধ করা: পরিপক্ব বা বুড়ো গাছ কাটার প্রয়োজন হলে বৈজ্ঞানিক নিয়ম মেনে কাটতে হবে। একটি গাছ কাটলে তার পরিবর্তে অন্তত দুটি নতুন চারা গাছ রোপণ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
কৃষিভিত্তিক ও সামাজিক বনসৃজন: পতিত জমি, রাস্তার ধার, রেললাইনের পাশ এবং নদীর পাড়ে সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগে দ্রুত বড় হয় এমন চারা গাছ লাগিয়ে নতুন বনভূমি তৈরি করতে হবে।
দাবানল প্রতিরোধ: বনের আগুন বা দাবানলের কারণে প্রতি বছর বিশাল অরণ্য ধ্বংস হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও নজরদারির মাধ্যমে বনের আগুন দ্রুত নেভানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: বনের নির্দিষ্ট কিছু অংশে গবাদি পশু চড়ানো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে পশুদের পায়ের চাপে ছোট ছোট চারা গাছগুলি নষ্ট না হয়ে যায়।
আইন প্রণয়ন ও জনসচেতনতা: অরণ্য ধ্বংস রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ‘বনমহোৎসব’ এর মতো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
৮. ‘সবুজ বাহিনীর ভেষজ বাগান’-এর অন্তর্গত তুলসী, বাসক এবং শিঙ্কোনা উদ্ভিদের ওষুধি ব্যবহার ও গুণাগুণ বিস্তারিত লেখো।
উত্তরঃ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ভেষজ বা ওষুধি উদ্ভিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এই তিন উদ্ভিদের গুণাগুণ আলোচনা করা হলো—
তুলসী পাতা
ব্যবহার: প্রাচীনকাল থেকেই সর্দি, কাশি এবং ঠাণ্ডা লাগার ঘরোয়া চিকিৎসায় তুলসী পাতা ব্যবহৃত হয়। তুলসী পাতার রসের সাথে মধু ও আদার রস মিশিয়ে খেলে গলার খুসখুসানি ও কাশি দ্রুত কমে।
গুণ: এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমৃদ্ধ এবং মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বাড়াতে দারুণ সাহায্য করে।
বাসক পাতা
ব্যবহার: বুকে কফ জমে গেলে বা দীর্ঘস্থায়ী কাশির সমস্যায় বাসক পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী। এর পাতা ফুটিয়ে সেই জল বা পাতার রস হালকা গরম করে খেলে কফ তরল হয়ে সহজে বের হয়ে আসে।
গুণ: এটি শ্বাসনালীর প্রদাহ বা ব্রঙ্কাইটিসের মতো সমস্যা দূর করতে এবং ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
শিঙ্কোনা গাছ
ব্যবহার: শিঙ্কোনা গাছের শুকনো ছাল থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধি উপাদান ‘কুইনাইন’ তৈরি করা হয়। কুইনাইন হলো ম্যালেরিয়া রোগের প্রধান প্রতিষেধক ওষুধ।
গুণ: চিকিৎসা বিজ্ঞানে ম্যালেরিয়া জ্বরের জীবাণু ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এই উদ্ভিদের অবদান অনন্য ও অপরিসীম।
৯. ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে ‘নিম’ এবং ‘কালমেঘ’ গাছের কার্যকারিতা এবং মানবস্বাস্থ্যে এদের অবদান ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ ‘সবুজ বাহিনীর ভেষজ বাগান’-এর দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী তিতো স্বাদের ওষুধি গাছ হলো নিম এবং কালমেঘ। নিচে এদের কার্যকারিতা দেওয়া হলো—
নিম গাছ
রক্ত পরিষ্কার ও চর্মরোগ নিরাময়: নিম পাতা শরীরের রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। খোস-পাঁচড়া, চুলকানি, একজিমা বা যেকোনো ধরণের চর্মরোগে নিম পাতার রস খাওয়া বা নিম পাতা সেদ্ধ জল দিয়ে স্নান করলে দ্রুত উপশম হয়।
জীবাণুনাশক: নিমের ডাল অ্যান্টিসেপ্টিক বা জীবাণুনাশক গুণের জন্য দাঁত মাজতে (নিমের দাঁতন) এবং নিমের পাতা পোকা-মাকড় তাড়াতে ব্যবহার করা হয়।
কালমেঘ গাছ
যকৃত বা লিভারের সুরক্ষা: কালমেঘ একটি অত্যন্ত তিতো স্বাদের ওষুধি উদ্ভিদ। এটি মানবদেহের লিভার বা যকৃতের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং লিভারের নানাবিধ অসুখ নিরাময়ে প্রধান ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
হজমশক্তি ও কৃমিনাশ: শিশুদের পেটের গোলমাল দূর করতে, খিদে বাড়াতে এবং পেটের কৃমি নাশ করতে কালমেঘের পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
১০. বিদ্যালয় স্তরে একটি ‘ভেষজ বাগান’ বা ‘সবুজ বাহিনী’ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এবং এর সুবিধাগুলি কী কী?
উত্তরঃ পাঠ্যবইয়ের ‘সবুজ বাহিনীর ভেষজ বাগান’ অংশটি শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছাকাছি আনতে এবং ভেষজ উদ্ভিদের গুরুত্ব বোঝাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে এটি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা ও সুবিধাগুলি নিম্নরূপ—
বাস্তবিক শিক্ষা লাভ: ছাত্রছাত্রীরা বইয়ের পাতার পাশাপাশি সরাসরি তুলসী, বাসক, নিম, কালমেঘ প্রভৃতি গাছ নিজ হাতে লাগিয়ে এবং পরিচর্যা করে সেগুলির আকৃতি ও গুণাগুণ সম্পর্কে বাস্তবিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড (First Aid): বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীর হঠাৎ সর্দি-কাশি, পেট খারাপ বা ছোটখাটো কেটে-ছড়ে গেলে ভেষজ বাগান থেকে তুলসী বা নিম পাতা ব্যবহার করে প্রাথমিক উপশম করা সম্ভব হয়।
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি: চারা গাছের রোপণ ও জল দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা গড়ে ওঠে এবং তারা অরণ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে।
ভবিষ্যতের জন্য ভেষজ জ্ঞান সংরক্ষণ: আধুনিক কেমিক্যাল যুক্ত ওষুধের যুগে আমাদের প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ভেষজ উদ্ভিদের কার্যকারিতা বাঁচিয়ে রাখতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই অমূল্য জ্ঞান পৌঁছে দিতে এই ধরণের বাগান দারুণ ভূমিকা নেয়।
📌 আরো দেখোঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here
