দশম শ্রেণির ইতিহাস টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৫ | Class 10 History Test Question Paper 2025

মাধ্যমিক ২০২৭ পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য এখানে দেওয়া হলো দশম শ্রেণির ইতিহাস টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৫। বিগত বছরের এই বাংলা টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অনুশীলন করলে পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। সমস্ত বিষয়ে প্রশ্নপত্র দেখতে এখানে ক্লিক করো

বিষয়ইতিহাস
শ্রেণিদশম
পরীক্ষাটেস্ট পরীক্ষা
সাল২০২৫
বোর্ডWBBSE

দশম শ্রেণির ইতিহাস টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৫

SUNDARBAN ADARSHA VIDYAMANDIR
CLASS – X
HISTORY TEST EXAM 2025

Full Marks : 90   Time : 3 hrs 15 Min

বিভাগ – ক

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×২০=২০

১.১ ‘ম্যাডনেস অ্যান্ড সিভিলাইজেশন’ গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন—
(ক) হব্স
(খ) মিশেল ফুকো
(গ) ক্রিস্টোফার হিল
(ঘ) ই.পি. থম্পসন

১.২ আধুনিক ভারতীয় ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে সরকারি উপাদান হিসেবে পরিগণিত নয় যেটি হল—
(ক) সরকারি প্রতিবেদন
(খ) গোয়েন্দা প্রতিবেদন
(গ) ব্যক্তিগত চিঠিপত্র
(ঘ) পুলিশের প্রতিবেদন

১.৩ ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকা দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়—
(ক) ১৮৯২ খ্রি. মার্চ মাস
(খ) ১৮৯২ খ্রি. নভেম্বর মাস
(গ) ১৮৯২ খ্রি.
(ঘ) ১৯০৫ খ্রি.

১.৪ ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত জনশিক্ষা কমিটি (GCPI)-এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন—
(ক) জেমস প্রিন্সেপ
(খ) এইচ.এইচ. উইলসন
(গ) কোলব্রুক
(ঘ) টমাস ব্যাবিংটন

১.৫ ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ক্যানিং ‘বিধবা বিবাহ আইন’ পাস করেন—
(ক) ১১ নং রেগুলেশন
(খ) ১৪ নং রেগুলেশন
(গ) ১৫ নং রেগুলেশন
(ঘ) ১৭ নং রেগুলেশন দ্বারা

১.৬ টিপুশাহ যে বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—
(ক) ভিল বিদ্রোহ
(খ) পাবনা কৃষক বিদ্রোহ
(গ) চুয়াড় বিদ্রোহ
(ঘ) পাগলপন্থীদের বিদ্রোহ

১.৭ INDIAN FOREST DEPARTMENT গঠিত হয়েছিল—
(ক) ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে

১.৮ নবগোপাল মিত্র হিন্দু মেলার প্রথম—
(ক) সভাপতি
(খ) সহ-সভাপতি
(গ) সম্পাদক
(ঘ) সহ-সম্পাদক

১.৯ ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উৎসর্গ করেছিলেন—
(ক) দীনবন্ধু মিত্র
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) স্বামী বিবেকানন্দ
(ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-কে

১.১০ মহারানীর ঘোষণাপত্রের (১৮৫৮ খ্রি.) প্রধান উদ্দেশ্য ছিল—
(ক) ভারতে ব্রিটিশের একচেটিয়া ব্যবসার অধিকার লাভ
(খ) ভারতবাসীর আনুগত্য অর্জন
(গ) ভারতীয়দের স্বায়ত্তাধিকার
(ঘ) বন্দি ভারতীয়দের মুক্তি দান

১.১১ ‘লাইনো টাইপ’ প্রথম ব্যবহার করা হয় যে পত্রিকায়—
(ক) সন্দেশ
(খ) সংবাদ প্রভাকর
(গ) তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা
(ঘ) আনন্দবাজার পত্রিকা

১.১২ বাংলা মুদ্রণ শিল্পের বিশ্বকর্মা নামে পরিচিত—
(ক) পঞ্চানন কর্মকার
(খ) মনোহর কর্মকার
(গ) গঙ্গা কিশোর ভট্টাচার্য
(ঘ) উপেন্দ্রকিশোর রায়

১.১৩ মালাবারের মোপলা সম্প্রদায় ছিল—
(ক) জাঠ কৃষক
(খ) মুসলিম কৃষক
(গ) হিন্দু কৃষক
(ঘ) উপজাতি কৃষক

১.১৪ আইন অমান্য আন্দোলনের কালে ধারসানা লবণ গোলা অভিযানে নেতৃত্ব দেন—
(ক) সরোজিনী নাইডু
(খ) কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়
(গ) বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত
(ঘ) দুর্গাবাই দেশমুখ

১.১৫ বিজোলিয়া সত্যাগ্রহ সংঘটিত হয়েছিল—
(ক) মেবারে
(খ) গুজরাটে
(গ) বিহারে
(ঘ) পুনাতে

১.১৬ সরলাদেবী চৌধুরাণী ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—
(ক) ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে

১.১৭ ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (১৯২৫ খ্রি.) প্রথম সম্পাদক ছিলেন—
(ক) মানবেন্দ্রনাথ রায়
(খ) সচ্চিদানন্দ ঘাটে
(গ) সিঙ্গারাবেলু চেট্টিয়ার
(ঘ) মুজফফর আহমেদ

১.১৮ রামস্বামী নাইকারের নেতৃত্বে ‘আত্মসম্মান আন্দোলন’ হয়েছিল—
(ক) ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে
(খ) ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে

১.১৯ ‘ভারতীয় স্বাধীনতা আইন’ পাশ হয়—
(ক) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই জুলাই
(খ) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই আগস্ট
(গ) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জানুয়ারি
(ঘ) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে নভেম্বর

১.২০ ‘সুপর্ণরেখার সারি’ গ্রন্থটি রচনা করেন—
(ক) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(খ) প্রফুল্ল রায়
(গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
(ঘ) শঙ্খ ঘোষ

বিভাগ – খ

২। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্ততঃ ১টি করে মোট ১৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও) : ১×১৬ = ১৬

উপবিভাগ – ২.১

২.১ একটি বাক্যে উত্তর দাও : ১×৪ = ৪

২.১.১ কার জন্মদিন ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবস’ রূপে পালিত হয় ?

২.১.২ ডামন-ই-কোহতে কোন বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল?

২.১.৩ বঙ্গভঙ্গ কবে রদ হয়?

২.১.৪ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ছদ্মনাম কী ছিল ?

উপবিভাগ – ২.২

২.২ ঠিক বা ভুল নির্ণয় করো : ১×৪ = ৪

২.২.১ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম এম.ডি. উপাধি পান চন্দ্রকুমার দে।

২.২.২ ভারত সভা কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

২.২.৩ ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় ‘বর্তমান ভারত’ প্রথম প্রকাশিত হয়।

২.২.৪ ‘মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ’ চন্দ্রশেখর আজাদের নেতৃত্বে হয়েছিল।

উপবিভাগ – ২.৩

২.৩ ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও : ১×৪ = ৪

‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ
২.৩.১ রাধাকান্ত দেব ১) চাষীবাসা যুদ্ধ
২.৩.২ রোগাসেস      ২) কমিউনিস্ট নেতা
২.৩.৩ কুনওয়ার সিং ৩) সিপাহি বিদ্রোহ
২.৩.৪ বেঞ্জামিন ব্র্যাডলি ৪) শব্দকল্পদ্রুম

উপবিভাগ – ২.৪

২.৪ প্রদত্ত ভারতবর্ষের রেখা-মানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত করো ও নাম লেখো : ১×৪ = ৪

২.৪.১ কোল বিদ্রোহের এলাকা— ছোটনাগপুর।

২.৪.২ মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) অন্যতম কেন্দ্র— ব্যারাকপুর।

২.৪.৩ গান্ধীজির সফল কৃষক আন্দোলনের কেন্দ্র— বারদোলী।

২.৪.৪ ভারত ছাড়ো আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র— তমলুক।

উপবিভাগ – ২.৫

২.৫। নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলির সঙ্গে সঠিক ব্যাখ্যা নির্বাচন করো : ১×৪ = ৪

২.৫.১ বিবৃতি : ‘আত্মজীবনী’ ও ‘স্মৃতিকথা’ আধুনিক ইতিহাস চর্চার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানরূপে স্বীকৃত।

ব্যাখ্যা ১ : এর সমস্ত বিষয় সত্য বলে ইতিহাসের উপাদানরূপে গুরুত্বলাভ করেছে।

ব্যাখ্যা ২ : এগুলিতে সমসাময়িককালের কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে গুরুত্বলাভ করেছে।

ব্যাখ্যা ৩ : এখান থেকে লেখকদের ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবন জানা যায়।

২.৫.২ বিবৃতি : ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার ঘটে।

ব্যাখ্যা ১ : ইংরেজরা ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে চেয়েছিল।

ব্যাখ্যা ২ : ইংরেজরা কম খরচে কেরানিকুল তৈরি করতে চেয়েছিল।

ব্যাখ্যা ৩ : ভারতীয়রা পাশ্চাত্য শিক্ষা লাভের জন্য আন্দোলন করেছিল।

২.৫.৩ বিবৃতি : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠা করেন।

ব্যাখ্যা ১ : প্রকৃতির সংস্পর্শে শিক্ষাদানের জন্য তিনি বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন।

ব্যাখ্যা ২ : ভারতের পরিবর্তনশীল শহর ও গ্রামের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে শিক্ষাদানের জন্য তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ব্যাখ্যা ৩ : বিশ্বভারতীকে তিনি বিশ্বভারতীর মিলনভূমিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।

২.৫.৪ বিবৃতি : স্বাধীনতা লাভের পরও গোয়া, দমন, দিউ, দাদরা ও নগর হাভেলিতে পর্তুগিজদের আধিপত্য বজায় ছিল।

ব্যাখ্যা ১ : এই দেশীয় রাজ্যগুলির জনগণ পর্তুগিজদের শাসন বেশি পছন্দ করত।

ব্যাখ্যা ২ : এই দেশীয় রাজ্যগুলি স্বাধীনতা লাভের মতো অবস্থায় ছিল না।

ব্যাখ্যা ৩ : এই দেশীয় রাজ্যগুলি পর্তুগিজদের শাসনাধীন ছিল।

বিভাগ – গ

৩। দুটি অথবা তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও। যেকোনো ১১টি : ২×১১ = ২২

৩.১ সামরিক ইতিহাসচর্চা কাকে বলা হয়?

৩.২ স্থাপত্যের ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব আলোচনা করো।

৩.৩ নারীশিক্ষা বিস্তারে রাজা রাধাকান্ত দেবের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

৩.৪ স্বামীজির নব্যবেদান্ত ধর্মের বৈশিষ্ট্য কী?

৩.৫ নীলবিদ্রোহে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কীরূপ ছিল?

৩.৬ বালাকোটের যুদ্ধ কবে, কেন হয়েছিল?

৩.৭ ‘সভা সমিতির যুগ’ বলতে কী বোঝ?

৩.৮ হিন্দু মেলার সীমাবদ্ধতা লেখো।

৩.৯ তারকনাথ পালিত স্মরণীয় কেন?

৩.১০ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ?

৩.১১ তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার বলতে কী বোঝ?

৩.১২ ‘সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস’ (AITUC) কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

৩.১৩ ‘বি. আম্মা’ স্মরণীয় কেন?

৩.১৪ জাস্টিস পার্টি কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

৩.১৫ ‘অপারেশন বিজয়’ বলতে কী বোঝ?

৩.১৬ পত্তি শ্রীরামালু কে ছিলেন?

বিভাগ – ঘ

৪। সাত বা আটটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও। প্রতিটি উপবিভাগ থেকে অন্ততঃ ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ৪×৬ = ২৪

উপবিভাগ – ঘ : ১

৪.১ আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার উন্নতিতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ভূমিকা কী?

৪.২ ব্রাহ্মসমাজের বিভাজন ঘটেছিল কেন?

উপবিভাগ – ঘ : ২

৪.৩ ‘গোরা’ উপন্যাসটিতে রবীন্দ্রনাথের যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার পরিচয় পাওয়া যায় তা বিশ্লেষণ করো।

৪.৪ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ‘জাতীয় বিদ্রোহ’ বলা যায় কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উপবিভাগ – ঘ : ৩

৪.৫ বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখ।

৪.৬ ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’-এর শ্রমিক আন্দোলনের ভূমিকা লেখো।

উপবিভাগ – ঘ : ৪

৪.৭ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের অবদান বিশ্লেষণ করো।

৪.৮ হায়দ্রাবাদ রাজ্যটি কীভাবে ভারতভুক্ত হয়েছিল?

বিভাগ – ঙ

৫। পনেরো বা ষোলোটি বাক্যে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৮×১ = ৮

৫.১ বাংলার নবজাগরণে নব্যবঙ্গ বা ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীর ভূমিকা আলোচনা করো।

৫.২ ভারতসভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্রিটিশবিরোধী জনমত গঠনে ভারতসভার ভূমিকা লেখো।

৫.৩ বিংশ শতাব্দীতে ভারতে বামপন্থী রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে লেখো। এর প্রধান ত্রুটিগুলি কী ছিল? ৫+৩ = ৮

ANSWER KEY (উত্তরপত্র)

১.১ (খ) মিশেল ফুকো
১.২ (গ) ব্যক্তিগত চিঠিপত্র
১.৩ (ক) ১৮৯২ খ্রি. মার্চ মাস
১.৪ (ঘ) টমাস ব্যাবিংটন
১.৫ (গ) ১৫ নং রেগুলেশন
১.৬ (ঘ) পাগলপন্থীদের বিদ্রোহ
১.৭ (খ) ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে
১.৮ (ঘ) সহ-সম্পাদক
১.৯ (ক) দীনবন্ধু মিত্র
১.১০ (খ) ভারতবাসীর আনুগত্য অর্জন
১.১১ (ঘ) আনন্দবাজার পত্রিকা
১.১২ (ক) পঞ্চানন কর্মকার
১.১৩ (খ) মুসলিম কৃষক
১.১৪ (ক) সরোজিনী নাইডু
১.১৫ (ক) মেবারে
১.১৬ (ঘ) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
১.১৭ (খ) সচ্চিদানন্দ ঘাটে
১.১৮ (খ) ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে
১.১৯ (ক) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই জুলাই
১.২০ (ঘ) শঙ্খ ঘোষ

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটা হয়েছে, তা যাচাই করতে দাও MCQ মক টেস্ট! শুরু করতে এখানে ক্লিক করো

উপবিভাগ – ২.১

২.১.১ কার জন্মদিন ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবস’ রূপে পালিত হয় ?
উত্তরঃ হকি জাদুকর মেজর ধ্যান চাঁদের জন্মদিন ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবস’ রূপে পালিত হয়।

২.১.২ ডামন-ই-কোহতে কোন বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল?
উত্তরঃ ডামন-ই-কোহতে সাঁওতাল বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল।

২.১.৩ বঙ্গভঙ্গ কবে রদ হয়?
উত্তরঃ ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়।

২.১.৪ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ছদ্মনাম কী ছিল ?
উত্তরঃ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ছদ্মনাম ছিল ফুলতার।

উপবিভাগ – ২.২

২.২.১ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম এম.ডি. উপাধি পান চন্দ্রকুমার দে। উত্তরঃ ঠিক।

২.২.২ ভারত সভা কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উত্তরঃ ঠিক।

২.২.৩ ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় ‘বর্তমান ভারত’ প্রথম প্রকাশিত হয়। উত্তরঃ ঠিক।

২.২.৪ ‘মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ’ চন্দ্রশেখর আজাদের নেতৃত্বে হয়েছিল। উত্তরঃ ভুল।

উপবিভাগ – ২.৩

২.৩.১ রাধাকান্ত দেব ৪) শব্দকল্পদ্রুম
২.৩.২ রোগাসেস ১) চাষীবাসা যুদ্ধ
২.৩.৩ কুনওয়ার সিং ৩) সিপাহি বিদ্রোহ
২.৩.৪ বেঞ্জামিন ব্র্যাডলি ২) কমিউনিস্ট নেতা

উপবিভাগ – ২.৫

২.৫.১ বিবৃতি : ‘আত্মজীবনী’ ও ‘স্মৃতিকথা’ আধুনিক ইতিহাস চর্চার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানরূপে স্বীকৃত।
উত্তরঃ ব্যাখ্যা ২ : এগুলিতে সমসাময়িককালের কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে গুরুত্বলাভ করেছে।

২.৫.২ বিবৃতি : ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার ঘটে।
উত্তরঃ ব্যাখ্যা ২ : ইংরেজরা কম খরচে কেরানিকুল তৈরি করতে চেয়েছিল।

২.৫.৩ বিবৃতি : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠা করেন।
উত্তরঃ ব্যাখ্যা ৩ : বিশ্বভারতীকে তিনি বিশ্বভারতীর মিলনভূমিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।

২.৫.৪ বিবৃতি : স্বাধীনতা লাভের পরও গোয়া, দমন, দিউ, দাদরা ও নগর হাভেলিতে পর্তুগিজদের আধিপত্য বজায় ছিল।
উত্তরঃ ব্যাখ্যা ৩ : এই দেশীয় রাজ্যগুলি পর্তুগিজদের শাসনাধীন ছিল।

বিভাগ – গ

দুটি অথবা তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৩.১ সামরিক ইতিহাসচর্চা কাকে বলা হয়?

উত্তরঃ যে ইতিহাসচর্চায় কোনো দেশের যুদ্ধবিগ্রহ, যুদ্ধকৌশল, সামরিক সরঞ্জাম, সৈন্যদের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ও প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে সামরিক ইতিহাসচর্চা বলা হয়।

৩.২ স্থাপত্যের ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তরঃ স্থাপত্যের ইতিহাসচর্চার মাধ্যমে প্রাচীনকালের সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতির পাশাপাশি তৎকালীন যুগের শিল্পকলা ও প্রযুক্তির বিকাশ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এছাড়া এটি কোনো অঞ্চলের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক বিবর্তনকে বুঝতেও সাহায্য করে।

৩.৩ নারীশিক্ষা বিস্তারে রাজা রাধাকান্ত দেবের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের নেতা হওয়া সত্ত্বেও রাজা রাধাকান্ত দেব নারীশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তিনি ডেভিড হেয়ারের ‘ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি’-কে সাহায্য করেন এবং নিজের বাড়িতে মেয়েদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন।

৩.৪ স্বামীজির নব্যবেদান্ত ধর্মের বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দের নব্যবেদান্ত ধর্মের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল ‘জীবসেবাই শিবসেবা’। তিনি উপনিষদের তত্ত্বকে বনের কোণ থেকে লোকালয়ে এনে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের সেবাকেই ঈশ্বরের প্রকৃত উপাসনা বলে ঘোষণা করেন।

৩.৫ নীলবিদ্রোহে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কীরূপ ছিল?

উত্তরঃ ‘হিন্দু পেট্রিয়ট’ পত্রিকার সম্পাদক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তাঁর লেখনীর মাধ্যমে নীলকর সাহেবদের অত্যাচার ও শোষণের কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি নীলচাষীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করতেন এবং নিজের খরচায় চাষীদের সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।

৩.৬ বালাকোটের যুদ্ধ কবে, কেন হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ আহমেদ ব্রেলভীর নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে শিখদের বিরুদ্ধে বালাকোটের যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধের মূল কারণ ছিল পঞ্জাবের শিখ রাজত্বে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করা এবং সেখানে একটি স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র বা দার-উল-ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা।

৩.৭ ‘সভা সমিতির যুগ’ বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ ঊনবিংশ শতাব্দীতে (বিশেষত ১৮৩৬-১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) ভারতের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, ভারত সভা, পুনা সর্বজনীন সভার মতো একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। ঐতিহাসিক অনিল শীল ঊনবিংশ শতকের এই সময়কালকে ‘সভা সমিতির যুগ’ বলে অভিহিত করেছেন।

৩.৮ হিন্দু মেলার সীমাবদ্ধতা লেখো।

উত্তরঃ হিন্দু মেলার প্রধান সীমাবদ্ধতা ছিল যে, এর আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারা মূলত উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই মেলায় তৎকালীন ভারতের বিশাল মুসলিম সমাজ এবং সাধারণ কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর কোনো অংশগ্রহণ ছিল না।

৩.৯ তারকনাথ পালিত স্মরণীয় কেন?

উত্তরঃ স্যার তারকনাথ পালিত ভারতে কারিগরি ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য স্মরণীয়। তিনি ১৯০৬ সালে ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নেন এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান কলেজের জন্য বিপুল অর্থ ও সম্পত্তি দান করেন।

৩.১০ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ?

উত্তরঃ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা বয়কট করার ফলে ভারতীয় ছাত্রদের বিকল্প শিক্ষার সুযোগ দিতে ১৯০৬ সালে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ বা ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ দেশীয় নিয়ন্ত্রণে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো।

৩.১১ তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরের তমলুকে সতীশচন্দ্র সামন্তর নেতৃত্বে যে সমান্তরাল স্বাধীন সরকার গঠিত হয়েছিল, তাকে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার বলা হয়। এই সরকার নিজস্ব বিচার বিভাগ, পুলিশ বাহিনী ও ‘ভগিনী সেনা’ গঠন করে ইংরেজ শাসনকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

৩.১২ ‘সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস’ (AITUC) কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাইতে ভারতের শ্রমিক আন্দোলনের অধিকার রক্ষা এবং শ্রমিকদের দাবিদাওয়া সুসংগঠিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ‘সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস’ (AITUC) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর প্রথম সভাপতি ছিলেন লালা লাজপত রায়।

৩.১৩ ‘বি. আম্মা’ স্মরণীয় কেন?

উত্তরঃ বি. আম্মা (আসল নাম আবাদী বানো বেগম) ছিলেন খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট মুসলিম মহিলা নেত্রী। তিনি আলী ভাইদের (শওকত আলী ও মহম্মদ আলী) মাতা ছিলেন এবং পর্দা প্রথা অগ্রাহ্য করে খিলাফত আন্দোলনের তহবিল সংগ্রহ ও হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন।

৩.১৪ জাস্টিস পার্টি কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজে অ-ব্রাহ্মণদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার রক্ষা, সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ এবং রাজনীতিতে ব্রাহ্মণদের আধিপত্যের বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে ড. সি. এন. মুদালিয়ার, টি. এম. নায়ার প্রমুখের নেতৃত্বে জাস্টিস পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

৩.১৫ ‘অপারেশন বিজয়’ বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ স্বাধীনতা লাভের পরও গোয়া পর্তুগিজদের অধীনে থাকায়, ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে ভারত সরকার গোয়াকে মুক্ত করার জন্য যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, তাকে ‘অপারেশন বিজয়’ বলা হয়। এই সফল অভিযানের ফলে গোয়া, দমন ও দিউ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।

৩.১৬ পত্তি শ্রীরামালু কে ছিলেন?

উত্তরঃ পত্তি শ্রীরামালু ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের একজন প্রখ্যাত গান্ধীবাদী নেতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি মাদ্রাজ প্রদেশ ভেঙে তেলুগুভাষীদের জন্য পৃথক ‘অন্ধ্রপ্রদেশ’ রাজ্যের দাবিতে ৫৮ দিন আমরণ অনশন করার পর মৃত্যুবরণ করেন, যার ফলে ভারত সরকার ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠনে বাধ্য হয়।

উপবিভাগ – ঘ : ১

৪.১ আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যার উন্নতিতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ভূমিকা কী?

উত্তরঃ ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ভারতে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রসারে এক যুগান্তকারী ভূমিকা নিয়েছিল। এই কলেজের মাধ্যমেই ভারতে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিদ্যার পঠন-পাঠন শুরু হয়। ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে পণ্ডিত মধুসূদন গুপ্তের নেতৃত্বে এখানে প্রথম শবব্যবচ্ছেদ (Dissection) করা হয়, যা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভারতীয় সমাজে এক বৈপ্লবিক ঘটনা ছিল। এই কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসকরা (যেমন: প্রথম এম.ডি. চন্দ্রকুমার দে) দেশজুড়ে চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করেন। এছাড়া, মহামারী প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানের অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

৪.২ ব্রাহ্মসমাজের বিভাজন ঘটেছিল কেন?

উত্তরঃ ঊনবিংশ শতাব্দীতে আদর্শগত ও নীতিগত পার্থক্যের কারণে ব্রাহ্মসমাজে দুবার বড় বিভাজন ঘটেছিল। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের প্রথম বিভাজনটি হয় মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্ষণশীল মনোভাব এবং কেশবচন্দ্র সেনের উগ্র সমাজ সংস্কারবাদী ভাবধারার সংঘাতের কারণে, যার ফলে ‘আদি ব্রাহ্মসমাজ’ ও ‘ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ’ গঠিত হয়। এরপর ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে কেশবচন্দ্র সেন তাঁর নিজস্ব তৈরি ‘বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন’ অমান্য করে নিজের নাবালিকা কন্যার সাথে কোচবিহারের মহারাজার বিবাহ দিলে দ্বিতীয় বিভাজনটি ঘটে। কেশবচন্দ্রের এই স্ববিরোধী নীতির প্রতিবাদে আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী প্রমুখ যুবনেতারা বেরিয়ে গিয়ে ‘সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।

উপবিভাগ – ঘ : ২

৪.৩ ‘গোরা’ উপন্যাসটিতে রবীন্দ্রনাথের যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার পরিচয় পাওয়া যায় তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ (১৯১০) উপন্যাসটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিবর্তনে একটি অনন্য দলিল। উপন্যাসের মূল চরিত্র ‘গোরা’ প্রথমদিকে হিন্দুধর্মের গোঁড়ামি ও আচার-সর্বস্ব উগ্র জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু উপন্যাসের শেষে যখন সে জানতে পারে যে সে আসলে এক আইরিশ দম্পতির সন্তান (অর্থাৎ জন্মসূত্রে ভারতীয় নয়), তখন তার সংকীর্ণ ধর্মীয় অহংকার ভেঙে যায়। সে উপলব্ধি করে যে প্রকৃত জাতীয়তাবাদ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সর্বশেষে গোরা এমন এক ‘ভারতবর্ষ’-এর সন্ধান পায় যেখানে জাতপাত, ছোঁয়াছুঁয়ি ও ধর্মের প্রাচীর নেই এবং সব মানুষ সমান মর্যাদা পায়—এভাবেই উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ এক বিশ্বজনীন ও উদারপন্থী জাতীয়তাবাদের বার্তা দিয়েছেন।

৪.৪ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহকে ‘জাতীয় বিদ্রোহ’ বলা যায় কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তরঃ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও একে আংশিকভাবে ‘জাতীয় বিদ্রোহ’ বলা যুক্তিযুক্ত। কার্ল মার্ক্স এবং জাতীয়তাবাদী নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকর এই বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বা জাতীয় বিদ্রোহ বলে অভিহিত করেছেন। এর সপক্ষে যুক্তি হলো—এই বিদ্রোহ শুধু সিপাহিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও কারিগররা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয়েছিল। হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে নেমেছিল। যদিও ভারতের একটি বড় অংশ এবং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ এই বিদ্রোহ থেকে দূরে ছিল, তাও এর গণচরিত্র ও ব্রিটিশ বিরোধী তীব্রতা একে একটি জাতীয় রূপ দিয়েছিল।

উপবিভাগ – ঘ : ৩

৪.৫ বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ভূমিকা সংক্ষেপে লেখ।

উত্তরঃ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন একাধারে বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী, দূরদর্শী শিক্ষক এবং ভারতের ল্যাবরেটরি গবেষণার পথিকৃৎ। রসায়নবিদ হিসেবে প্রেসিডেন্সি কলেজে গবেষণাকালে ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর ‘মারকিউরাস নাইট্রাইট’ (Mercurous Nitrite) আবিষ্কার বিশ্ব বিজ্ঞান মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞান সাধনার ইতিহাস নিয়ে ‘A History of Hindu Chemistry’ নামক আকর গ্রন্থটি রচনা করেন। ভারতে বিজ্ঞানচর্চাকে স্বনির্ভর ও বাণিজ্যিক রূপ দিতে তিনি ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে দেশের প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ, নীলরতন ধর প্রমুখ বিজ্ঞানীদের নিয়ে ভারতে রসায়ন চর্চার একটি নিজস্ব ঘরানা বা ‘ইন্ডিয়ান স্কুল অফ কেমিস্ট্রি’ গড়ে উঠেছিল।

৪.৬ ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’-এর শ্রমিক আন্দোলনের ভূমিকা লেখো।

উত্তরঃ ১৯২০-র দশকে ভারতের কমিউনিস্ট ভাবধারার প্রসারে এবং শ্রমিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’ (WPP) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই দল কারখানার শ্রমিকদের সংগঠিত করে মে দিবস উদযাপন, ধর্মঘট পরিচালনা এবং কাজের সময় কমানো ও মজুরি বৃদ্ধির মতো নানাবিধ দাবিদাওয়া তুলে ধরে। বম্বে ও কলকাতার চটকল, সুতাকল এবং রেলওয়ে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে এই দলের বামপন্থী নেতারা অগ্রণী ছিলেন। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের ঐতিহাসিক বোম্বাই সুতাকল ধর্মঘট এবং লিলাউয়া রেল ওয়ার্কশপ ধর্মঘটে এই দল প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দেয়। শ্রমিক ও কৃষকদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে এই দল ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয় আন্দোলনকে এক ব্যাপক গণভিত্তি প্রদান করেছিল।

উপবিভাগ – ঘ : ৪

৪.৭ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের অবদান বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ ভারতের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল বীরত্ব ও আত্মত্যাগে মহিমান্বিত। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার মাস্টারদা সূর্য সেনের নির্দেশে চট্টগ্রামের ‘ইউরোপীয় ক্লাব’ আক্রমণ করেন এবং ধরা পড়ার আগে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মবলিদান দেন। তাঁর সহযোদ্ধা কল্পনা দত্ত ডিনামাইট দিয়ে চট্টগ্রাম জেল উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ও বিপ্লবী কার্যকলাপে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, কলকাতার বিপ্লবী ছাত্রী বীণা দাস বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে সমাবর্তন উৎসবে গুলি করে সাহসিকতার পরিচয় দেন। এছাড়া সুনীতি চৌধুরী ও শান্তি ঘোষ কুমিল্লার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেন্সকে গুলি করে হত্যা করে প্রমাণ করেন যে নারীরাও সশস্ত্র প্রতিরোধে সমান পারদর্শী।

৪.৮ হায়দ্রাবাদ রাজ্যটি কীভাবে ভারতভুক্ত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের স্বাধীনতার সময় হায়দ্রাবাদের শাসক নিজাম উসমান আলি খান একগুঁয়েমিবশত স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ভারতভুক্তির প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানান। নিজামের মদতপুষ্ট কট্টরপন্থী উগ্র বাহিনী ‘রাজাকার’-রা স্থানীয় হিন্দু জনগণের ওপর তীব্র অত্যাচার শুরু করলে হায়দ্রাবাদে এক চরম অরাজকতা ও মানবিক সংকট তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কঠোর নীতি গ্রহণ করেন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই সেপ্টেম্বর ভারত সরকার হায়দ্রাবাদে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার কোড নাম ছিল ‘অপারেশন পোলো’। মাত্র পাঁচ দিনের এই সফল সেনা অভিযানের পর নিজাম আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন এবং ১৯৪৮ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে হায়দ্রাবাদ রাজ্যটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।

বিভাগ – ঙ

৫.১ বাংলার নবজাগরণে নব্যবঙ্গ বা ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীর ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তরঃ উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক ডিরোজিওর নেতৃত্বে যে প্রগতিশীল ছাত্রগোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল, ইতিহাসে তারা নব্যবঙ্গ বা ইয়ং বেঙ্গল নামে পরিচিত। বাংলার নবজাগরণে এবং সমাজ সংস্কারের ইতিহাসে এই গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

১) যুক্তিবাদের প্রসার ও কুসংস্কারের বিরোধিতা: ডিরোজিওর অনুগামীরা (যেমন: রামগোপাল ঘোষ, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র প্রমুখ) হিন্দু সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার, ছোঁয়াছুঁয়ি প্রথা, জাতিভেদ এবং পুত্তলিকার আরাধনার বিরুদ্ধে তীব্র জেহাদ ঘোষণা করেন। তাঁরা প্রতিটি সামাজিক বিষয়কে অন্ধবিশ্বাসের পরিবর্তে যুক্তি, বিজ্ঞান ও স্বাধীন চিন্তার কষ্টিপাথরে বিচার করতে শুরু করেন।

২) সমাজ সংস্কার ও নারীশিক্ষা: নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী নারীশিক্ষার প্রসার এবং সতীদাহ প্রথার মতো নিষ্ঠুর সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে জোরালো সওয়াল করেছিল। তাঁরা বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে বিধবাবিবাহের সপক্ষে এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন।

৩) পত্রপত্রিকা ও বিতর্ক সভা প্রতিষ্ঠা: নিজেদের প্রগতিশীল আদর্শ প্রচারের জন্য তাঁরা ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামক বিতর্ক সভা এবং ‘জ্ঞানান্বেষণ’, ‘এনকোয়্যারার’, ‘বেঙ্গল স্পেকটেটর’ প্রভৃতি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই মঞ্চগুলি থেকে তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া হতো।

৪) রাজনৈতিক সচেতনতা: ডিরোজিওর ছাত্ররা কেবল সমাজ সংস্কারেই আটকে থাকেননি, তাঁরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভারতীয়দের উচ্চপদে নিয়োগ এবং জুরি প্রথার প্রবর্তনের দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা করে ভারতের ভাবী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

মূল্যায়ন ও সীমাবদ্ধতা: চরমপন্থী মনোভাবের কারণে তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ তাঁদের গ্রহণ করেনি এবং সাধারণ মানুষের সাথে তাঁদের কোনো সংযোগ ছিল না। তা সত্ত্বেও, বাঙালির চিন্তাজগতে মধ্যযুগীয় জড়তা কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা করতে নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিল।

৫.২ ভারতসভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্রিটিশবিরোধী জনমত গঠনে ভারতসভার ভূমিকা লেখো।

উত্তরঃ ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জুলাই কলকাতার অ্যালবার্ট হলে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আনন্দমোহন বসুর নেতৃত্বে ভারতসভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পূর্বে এটিই ছিল ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।

ভারতসভা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য:

১) ভারতে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সাধারণ জনমত গঠন করা।
২) অভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থ ও কর্মসূচির ভিত্তিতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের একতাবদ্ধ করা।
৩) হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও মৈত্রীর বন্ধন সুদৃঢ় করা।
৪) সমকালীন গণআন্দোলনগুলিতে সাধারণ মানুষকে শামিল করা।

ব্রিটিশবিরোধী জনমত গঠনে ভূমিকা:

১) আইসিএস (ICS) আন্দোলন: ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের প্রশাসনিক উচ্চপদ থেকে দূরে রাখতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৯ বছর করলে ভারতসভা এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। সুরেন্দ্রনাথ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাতীয় জনমত তৈরি করেন।

২) দমনমূলক আইনের বিরোধিতা: লর্ড লিটনের প্রবর্তিত দেশীয় সংবাদপত্র দমন আইন এবং অস্ত্র আইনের বিরুদ্ধে ভারতসভা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই আন্দোলনের চাপেই পরবর্তীকালে সংবাদপত্র দমন আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সরকার।

৩) ইলবার্ট বিল আন্দোলন: ভারতীয় বিচারকদের শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের বিচার করার অধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে ‘ইলবার্ট বিল’ আনা হলে ইউরোপীয়রা এর বিরুদ্ধে ‘ডিফেন্স অ্যাসোসিয়েশন’ গড়ে তোলে। এর জবাবে ভারতসভা এই বিলের সপক্ষে দেশব্যাপী পাল্টা আন্দোলন গড়ে তুলে শ্বেতাঙ্গদের বর্ণবিদ্বেষী চরিত্রকে জনসমক্ষে নগ্ন করে দেয়।

৪) কৃষক ও সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো: ভারতসভা কেবল শিক্ষিত মধ্যবিত্তের স্বার্থেই লড়েনি, বরং লর্ড রিপনের ‘বেঙ্গল টেন্যান্সি বিল’ বা প্রজাস্বত্ব বিলকে সমর্থন জানিয়ে কৃষকদের অধিকার রক্ষার পক্ষে জোরদার সওয়াল করেছিল।

৫.৩ বিংশ শতাব্দীতে ভারতে বামপন্থী রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে লেখো। এর প্রধান ত্রুটিগুলি কী ছিল?
উত্তরঃ ১৯২০-র দশকে মানবেন্দ্রনাথ রায়, মোজাফফর আহমেদ প্রমুখের হাত ধরে ভারতের রাজনীতিতে বামপন্থী ভাবধারার আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কানপুরে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (CPI) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।

বামপন্থী রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১) শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণীর সংগঠিতকরণ: বামপন্থীরাই প্রথম ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে সমাজের প্রান্তিক কৃষক ও কলকারখানার মজুর শ্রেণীকে সক্রিয়ভাবে শামিল করেন। তাঁরা অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস এবং নিখিল ভারত কিষাণ সভাকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেন।

২) পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি: যেখানে জাতীয় কংগ্রেস প্রথমদিকে স্বায়ত্তশাসন বা ডোমিনিয়ান স্টেটাসের দাবি জানাচ্ছিল, সেখানে বামপন্থীরাই প্রথম ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের আমেদাবাদ অধিবেশনে ভারতের জন্য ‘পূর্ণ স্বরাজ’ বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেন।

৩) শ্রেণী সংগ্রামের আদর্শ: মার্ক্সবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বামপন্থীরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পাশাপাশি দেশীয় জমিদার, পুঁজিপতি ও মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধেও সমান্তরাল আন্দোলন গড়ে তোলেন।

৪) সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ঐক্য: ভারতের বামপন্থী দলগুলি তাত্ত্বিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে কমিউনিস্ট, কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট ও অন্যান্য প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদীদের নিয়ে একটি যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল।

বামপন্থী আন্দোলনের প্রধান ত্রুটিসমূহ:

১) বিদেশের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা ও ভুল রণকৌশল: ভারতীয় কমিউনিস্টরা অনেক সময় ভারতের বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে মস্কোর কমিন্টার্ন-এর নির্দেশের ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিলেন। এর ফলে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এবং মহাত্মা গান্ধীর গণভিত্তিকে তাঁরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি, যা তাঁদের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

২) জাতীয় আন্দোলনের ক্রান্তিলগ্নে নিষ্ক্রিয়তা: ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এর সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন মিত্রশক্তির পক্ষে যোগ দেওয়ায়, ভারতীয় কমিউনিস্টরা এই আন্দোলন থেকে দূরে থাকেন এবং ব্রিটিশ সরকারকে পরোক্ষ সমর্থন করেন। এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় জনমানসে তাঁদের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছিল।

৩) নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা ও অন্তর্দ্বন্দ্ব: আন্দোলনের তাত্ত্বিক নেতারা বেশিরভাগই উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত সমাজ থেকে আসায়, তাঁরা তৃণমূল স্তরের সাধারণ শ্রমিক-কৃষকদের মানসিকতার সাথে পুরোপুরি একাত্ম হতে পারেননি। তদুপরি, সমাজতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা ও উপদলের মধ্যকার অন্তহীন তাত্ত্বিক কোন্দল এই আন্দোলনকে দুর্বল করে দিয়েছিল।

মাধ্যমিক পরীক্ষার বিগত বছরের সমস্ত বিষয়ের প্রশ্নপত্র দেখতে এখানে ক্লিক করো

Leave a Comment