পাতাবাহার
বাংলা | পঞ্চম শ্রেণি
পাখির কাছে ফুলের কাছে কবিতার প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণির বাংলা | Pakhir Kache Phuler Kache Kobitar Question Answer Class 5 Bengali wbbse
📌 পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
পাখির কাছে ফুলের কাছে
—আল মাহমুদ
নারকোলের ওই লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল
ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে ঠান্ডা ও গোলগাল।
ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর
ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিল থরথর।
মিনারটাকে দেখছি যেন দাঁড়িয়ে আছেন কেউ,
পাথরঘাটার গির্জেটা কি লাল পাথরের ঢেউ?
দরগাতলা পার হয়ে যেই মোড় ফিরেছি বাঁয়
কোত্থেকে এক উটকো পাহাড় ডাক দিল আয় আয়।
পাহাড়টাকে হাত বুলিয়ে লালদিঘিটার পার
এগিয়ে দেখি জোনাকিদের বসেছে দরবার।
আমায় দেখে কলকলিয়ে দিঘির কালো জল
বলল, এসো, আমরা সবাই না ঘুমানোর দল
পকেট থেকে খোলো তোমার পদ্য লেখার ভাঁজ
রক্তজবার ঝোপের কাছে কাব্য হবে আজ।
দিঘির কথায় উঠল হেসে ফুল পাখিরা সব
কাব্য হবে, কাব্য কবে —জুড়ল কলরব।
কী আর করি পকেট থেকে খুলে ছড়ার বই
পাখির কাছে, ফুলের কাছে মনের কথা কই।
কবি পরিচিতিঃ আল মাহমুদ (জন্ম ১৯৩৬) : জন্ম বাংলাদেশের কুমিল্লায়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তাঁর কবিতা ও গল্প ‘দৈনিক সত্যযুগ’ পত্রিকায় ছাপা হয়। তিনি যখন দশম শ্রেণির ছাত্র, তখন বাংলাদেশে ভাষা-বিদ্রোহ শুরু হলে তিনি সক্রিয়ভাবে তাতে যোগ দেন। ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ কাগজের সম্পাদক ছিলেন। উল্লেখযোগ্য কবিতার বই ‘লোক-লোকান্তর’, ‘কলের কলম’, ‘সোনালি কাবিন’। তিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি। সে-দেশের বাংলা আকাদেমি পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে সম্মানিত। এই কবিতাটি ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতার বই থেকে নেওয়া হয়েছে।
শব্দার্থ : গোলগাল– ভরাট। ছিটকিনি– দরজা-জানলা বন্ধ করার হুক, হুড়কো। ঝিমধরা– অবসন্ন। মিনার– সৌধ। গির্জে– গির্জা, খ্রিস্টানদের উপাসনালয়। দরগাতলা– পিরের কবর ও তার সংলগ্ন স্মৃতিমন্দির। উটকো– অপরিচিত। দরবার– সভা। দিঘি– বড়ো পুকুর। কলরব– কোলাহল / বহু লোকের সমবেত আওয়াজ। ছড়া– শিশু-ভোলানো কবিতা।
বিষয় সংক্ষেপঃ কবি আল মাহমুদ তাঁর ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় এক মোহময় চাঁদনি রাতের বিবরণ তুলে ধরেছেন। এক রাতে তিনি হঠাৎ খেয়াল করে দেখেন, নারকেল গাছের লম্বা মাথার ওপরে ডাবের মতো গোলগাল, ঠান্ডা চাঁদ ঝুলে আছে। ছিটকিনি খুলে বাইরে বেরোতেই তাঁর চোখে পড়ে— ঝিমধরা শহরটা শীতের আমেজে নিস্তব্ধ হয়ে কাঁপছে। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মিনারকে দেখে মনে হয় যেন কেউ পাহারায় রয়েছে, আর পাথুরিয়া ঘাটার গির্জা যেন লাল পাথরের ঢেউ হয়ে রাতের নীরবতার মধ্যে স্থির হয়ে আছে। কলকাতায় তখন মেট্রোরেলের কাজ চলছিল, আর সেই কাজের জন্য কাটা মাটির উঁচু ঢিবি কবির চোখে এক ‘উটকো পাহাড়’-এর মতো ভাসতে থাকে, যা যেন তাঁকে ‘আয় আয়’ বলে ডাকছে।
কবি যখন সেই উটকো পাহাড়ের পাশ দিয়ে এগিয়ে যান, পাহাড়টার গায়ে হাত বুলিয়ে অনুভব করেন এক অদ্ভুত টান। এরপর লালদিঘির ধারে গিয়ে তিনি দেখতে পান জোনাকিরা যেন আলো জ্বেলে এক রাজসভার আয়োজন করেছে। দিঘির কালো জল কবিকে আহ্বান জানায়— তারা সবাই নাকি ‘না ঘুমানোর দল’, তাই কবিকেও ঘুমোতে দেওয়া যাবে না। তারা কবিকে বলে তাঁর মনের ভাঁজ খুলে কবিতা বের করে দিতে। দিঘির জল, জোনাকি, পাখি, ফুল— সবাই মিলে যেন এক অলৌকিক কাব্য-সভা সাজিয়ে তোলে। প্রকৃতির এই ডাক কবিকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, আর তিনি পকেট থেকে ছড়ার বই বের করে পাখি ও ফুলের কাছে নিজের মনের কথা উজাড় করে বলতে শুরু করেন।
নামকরণঃ নামকরণ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নামকরণের মাধ্যমেই রচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগাম ধারণালাভ করা যায়। তাই যে-কোনো সাহিত্যরচনার ক্ষেত্রেই অনিবার্যভাবে যুক্ত হয় তার নাম।
আল মাহমুদের ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় কবি রাতের শহরের সৌন্দর্য গভীরভাবে অনুভব করেছেন। তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দেখেছেন শীতের আমেজে পুরো শহর কাঁপছে, আর আকাশে ঝলমলে চাঁদ চারপাশকে আলোকিত করে তুলেছে। চাঁদের আলোয় দেখা মিনারকে তাঁর মনে হয়েছে যেন কেউ দাঁড়িয়ে আছে, আর পাথুরিয়াঘাটার গির্জাকে মনে হয়েছে লাল পাথরের ঢেউ। এভাবে শহরের বিভিন্ন দৃশ্য দেখে কবি আবেগে ভরে ওঠেন এবং তাঁর মনে প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা জন্মায়।
কবি যখন লালদিঘির পারে পৌঁছান, তখন দিঘির কালো জল যেন তাঁকে কবিতা বলতে অনুরোধ করে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে কবি পকেট থেকে বই বের করে বসে পড়েন এবং পাখি ও ফুলের কাছে নিজের মনের কথা বলতে শুরু করেন। প্রকৃতির প্রতি এই মমতা ও আন্তরিকতার কারণেই কবিতার নাম ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ পুরোপুরি মানানসই হয়েছে। কারণ পুরো কবিতাতেই পাখি, ফুল ও প্রকৃতির সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে কবি তার নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাই এই নামকরণ যথার্থ ও সার্থক।
হাতে কলমে প্রশ্নোত্তর : পাখির কাছে ফুলের কাছে কবিতা পঞ্চম শ্রেণির বাংলা | Hate Kolome Question Answer Pakhir Kache Phuler Kache Kobita Class 5 Bengali wbbse
১। ঠিক শব্দটি/শব্দগুলি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো :
১.১ জোনাকি এক ধরনের (পাখি / মাছ / পোকা / খেলনা)।
উত্তরঃ পোকা।
১.২ মোড়া বলতে বোঝানো হয় (গোল / বাঁক / যোগ / চওড়া)।
উত্তরঃ বাঁক।
১.৩ দরবার’ শব্দটির অর্থ হল (দরজা / সভা / দরগা / দোকান)।
উত্তরঃ সভা।
১.৪ প্রকৃতির সুন্দর চেহারা যে অংশটিতে ফুটে উঠেছে সেটি হল- (কাব্য হবে / মোড় ফিরেছি / কালো জল / ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে)।
উত্তরঃ ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে।
∆ অতিরিক্ত MCQ প্রশ্ন উত্তর :
৫. পাখির কাছে ফুলের কাছে কবিতাটির কবি হলেন— (জসীমউদ্দীন / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / আল মাহমুদ / জীবনানন্দ দাশ)।
উত্তরঃ আল মাহমুদ।
৬. ‘ঝিমধরা এই মস্ত শহর’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ?
(খুব আনন্দিত / খুব ব্যস্ত / নিস্তব্ধ ও ঘুমঘুম / ভয়ংকর)।
উত্তরঃ নিস্তব্ধ ও ঘুমঘুম
৭. কবিতায় চাঁদকে তুলনা করা হয়েছে—
(ফুল / পাথর / ডাব / প্রদীপ)-এর সঙ্গে।
উত্তরঃ ডাব।
৮. দিঘির জল কবিকে কী করতে বলেছে ?
(ঘুমোতে / চলে যেতে / গান গাইতে / কবিতা লিখতে)
উত্তরঃ কবিতা লিখতে
৯. ‘পাখির কাছে, ফুলের কাছে’ কবি বলতে চান— (মানুষের কথা / মনের কথা / রাগের কথা / ইতিহাসের কথা)
উত্তরঃ মনের কথা
১০. কবিতাটির মূল ভাব হলো— (যুদ্ধ / প্রকৃতি ও কাব্যের মিলন / নগরজীবনের কষ্ট / ইতিহাস)
উত্তরঃ প্রকৃতি ও কাব্যের মিলন।
২। ‘ক’ এর সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো :
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| চাঁদ | গিরি |
| ঠাণ্ডা | শশী |
| পাহাড় | শীতল |
| জোনাকি | জলাশয়/দীর্ঘিকা |
| দীঘি | খদ্যোত |
| জল | পুষ্প |
| ফুল | নীর |
উত্তরঃ
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| চাঁদ | শশী |
| ঠাণ্ডা | শীতল |
| পাহাড় | গিরি |
| জোনাকি | খদ্যোত |
| দীঘি | জলাশয়/দীর্ঘিকা |
| জল | নীর |
| ফুল | পুষ্প |
৩। শব্দঝুড়ি থেকে নিয়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো :
শব্দঝুড়ি : ঠান্ডা, চাঁদ, লাল, শহর,
দরগাতলা, জোনাকি, মস্ত, গোলগাল, উটকো, কলরব
উত্তরঃ
বিশেষ্য— চাঁদ, শহর, দরগাতলা, জোনাকি, কলরব।
বিশেষণ— ঠান্ডা, লাল, মস্ত,গোলগাল, উটকো।
৪। ‘থরথর’ শব্দে ‘র’ বর্ণটি দু-বার রয়েছে। এরকম ‘ল’ বর্ণটি দু-বার আছে, এমন পাঁচটি শব্দ লেখো (যেমন— টলটল) :
উত্তরঃ গোলগাল, কলকলিয়ে, ছলছল, দলবল, হালচাল।
৪.২ ‘কাছে’ শব্দটিকে ‘নিকটে’ এবং ‘দেখা করা’ এই দুই অর্থে ব্যবহার করে দুটি বাক্যে লেখো :
উত্তরঃ কাছে (নিকটে)– আমার কাছে কোনো খাতা নেই।
কাছে (দেখা করা)– আমি এখন মার কাছে যাচ্ছি।
৫। ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও :
৫.১ ছিটকিনিটা আস্তে খুলে বেরিয়ে গেলাম ঘর।
উত্তরঃ বেরিয়ে গেলাম।
৫.২ নারকোলের ওই লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল।
উত্তরঃ দেখি।
৫.৩ এসো, আমরা সবাই না ঘুমানোর দল।
উত্তরঃ এসো, ঘুমানোর।
৫.৪ কাব্য হবে, কাব্য হবে— জুড়ল কলরব।
উত্তরঃ জুড়ল।
৫.৫ পাখির কাছে, ফুলের কাছে মনের কথা কই।
উত্তরঃ কই।
৬। অর্থ লেখো : ঝিমধরা, উটকো, দরবার, কলরব, মিনার।
উত্তরঃ ঝিমধরা— অবসন্ন।
উটকো— অচেনা।
দরবার— সভা।
কলরব— পাখিদের মিলিত রব।
মিনার— সৌধ।
৭। সমার্থক শব্দ লেখো : চাঁদ, পাখি, ফুল, গাছ, জোনাকি।
উত্তরঃ চাঁদ— শশী, পাখি— বিহঙ্গ, ফুল— পুষ্প, গাছ— উদ্ভিদ, জোনাকি— খদ্যোত।
৮। বিপরীতার্থক শব্দ লেখো : লম্বা, ঠান্ডা, হেসে, পদ্য, মস্ত।
উত্তরঃ লম্বা— বেঁটে, ঠান্ডা— গরম, হেসে— কেঁদে, পদ্য— গদ্য, মস্ত— ছোটো।
৯.১ কবি আল মাহমুদ কোন্ দেশের মানুষ ?
উত্তরঃ কবি আল মাহমুদ বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার মানুষ ছিলেন।
৯.২ তিনি কোন্ বিখ্যাত আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন ?
উত্তরঃ তিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত ভাষা আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন।
৯.৩ তাঁর লেখা একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম লেখো।
উত্তরঃ তাঁর লেখা একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম ‘সোনালি কাবিন’।
১০। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :
১০.১ কবি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন কেন ?
উত্তরঃ লম্বা নারকেল গাছের মাথায় ঠান্ডা ও গোলগাল চাঁদ উঠেছে— এই অপূর্ব দৃশ্যে মুগ্ধ কবি প্রকৃতিকে প্রাণ ভরে দেখার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন।
১০.২ কবি কেন ছিটকিনিটি আস্তে খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন ?
উত্তরঃ কবি একদিন রাতে জানলা দিয়ে দেখেন যে নারকেল গাছের লম্বা মাথায় ডাবের মতো ঠান্ডা ও গোলগাল চাঁদ উঠেছে। রাতের আকাশের এই সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য কবি নিঃশব্দে ছিটকিনিটি খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।
১০.৩ বাইরে বেরিয়ে এসে কবি শহরকে কেমন অবস্থায় দেখলেন ?
উত্তরঃ বাইরে বেরিয়ে এসে কবি দেখলেন ঝিমধরা শহরটি যেন থরথর করে কাঁপছে। মিনারটা থমকে দাঁড়িয়ে আছে এবং পাথরঘাটার গির্জাটাকে যেন লাল পাথরের ঢেউয়ের মতো মনে হচ্ছে।
১০.৪ শহরে নেই, অথচ কবির মনে হল তিনি দেখছেন, এমন কোন্ কোন্ জিনিসের কথা কবিতায় রয়েছে ?
উত্তরঃ শহরে নেই, অথচ কবির মনে হয়েছে তিনি দেখছেন, এমন যে জিনিসগুলির উল্লেখ কবিতায় আছে সেগুলি হল– ‘লাল পাথরের ঢেউ’ এবং ‘এক উটকো পাহাড়।’ আসলে পাথুরিয়াঘাটার গির্জাটাকে কবির ‘লাল পাথরের ঢেউ’ এবং দর্গাতলা পার হয়ে কোন এক উঁচু জায়গাকে ‘উটকো পাহাড় বলে মনে হয়েছিল।
১০.৫ সেই রাতে জেগে থাকার দলে কারা কারা ছিল ? তারা কবির কাছে কী আবদার জানিয়েছিল ?
উত্তরঃ সেই রাতে জেগে থাকার দলে ছিল জোনাকি পোকা, পাখির দল, ফুলগাছ, রক্তজবার ঝোপ ও দিঘির কালো জল।
জেগে থাকার দল কবির কাছে আবদার জানিয়েছিল যে, রক্তজবার ঝোপের কাছে যে কাব্যের সভা বসবে, কবি যেন তাতে কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করেন। তারা সবাই কবির কাছে এও আবদার জানিয়েছিল পকেট থেকে পদ্য লেখার খাতা বের করে কাব্য করতে।
১০.৬ তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে কবি কী করলেন ?
উত্তরঃ ফুল, পাখিদের আবদার শুনে কবি নিজের লেখা ছড়ার বই পকেট থেকে বের করে পাখির কাছে, ফুলের কাছে ওই ছড়াতে যেসব মনের কথা লেখা আছে, সেগুলো পড়ে শোনালেন।
১০.৭ রক্তজবার ঝোপের কাছে কাব্যের যে আসর বসেছিল, সেই পরিবেশটি কেমন, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তরঃ রক্তজবার ঝোপের কাছে যে কাব্যের আসর বসেছিল, সেটা অত্যন্ত সুন্দর। সেই পরিবেশে আকাশে গোলগাল ডাবের মতো চাঁদ আলো দিচ্ছে। পাশে দিঘির জল টলটল করছে, জোনাকিরা ঝিকমিক করছে। ফুলেদের গন্ধ ছড়িয়েছে। রক্তজবা ঝোপে ছোটো ছোটো পাখিরা বসে কবির ছড়া শুনছে।
১০.৮ ‘চাঁদ’-কে নিয়ে তোমার পড়া বা শোনা একটি ছড়া লেখো।
উত্তরঃ চাঁদ-কে নিয়ে আমার পড়া একটি ছড়া হল—
“চাঁদ উঠেছে, ফুল ফুটেছে,
কদমতলায় কে ?
হাতি নাচছে, ঘোড়া নাচছে
সোনামণির বে।।”
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর : পাখির কাছে ফুলের কাছে কবিতা পঞ্চম শ্রেণির বাংলা | Extra Question Answer Pakhir Kache Phuler Kache Kobita Class 5 Bengali wbbse
∆ দু-এক কথায় উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. পাখির কাছে ফুলের কাছে কবিতাটি কার লেখা
উত্তরঃ ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতাটি কবি আল মাহমুদের লেখা।
২. নারকোলের লম্বা মাথায় হঠাৎ কবি কী দেখলেন ?
উত্তরঃ কবি দেখলেন নারকোলের লম্বা মাথায় ঠান্ডা ও গোলগাল ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে।
৩. কবি ঘর থেকে কীভাবে বেরোলেন ?
উত্তরঃ কবি ঘরের ছিটকিনিটা আস্তে করে খুলে বেরোলেন।
৪. কবি কখন ঘর থেকে বেরিয়েছেন ?
উত্তরঃ কবি রাতেরবেলা ঘর থেকে বেরিয়েছেন।
৫. দিঘির জলের রংটা কীরকম ?
উত্তরঃ রাতেরবেলা দিঘির জলের রং কালো।
৬. লালদীঘিটার পারে কোথায় কাব্য হবে ?
উত্তরঃ রক্তজবা ঝোপের কাছে কাব্য হবে।
৭. জোনাকিদের দরবার কোথায় বসেছিল ?
উত্তরঃ জোনাকিদের দরবারও এসেছিল লালদিঘির পাড়ে।
৮. পাখির কাছে ফুলের কাছে কে গিয়েছেন ?
উত্তরঃ পাখির কাছে ফুলের কাছে কবি আল মাহমুদ গিয়েছেন।
৯. পাথরঘাটার গির্জাটাকে কবির কী মনে হয়েছে ?
উত্তরঃ কবির মনে হয়েছে পাথরঘাটার গির্জাটা যেন লাল পাথরের ঢেউ।
১০. কবি ঘর থেকে পেরিয়ে যাবার সময় শহরের অবস্থা কী হয়েছিল ?
উত্তরঃ ঘর থেকে পেরিয়ে কবি যাওয়ার সময় ঝিমধরা এই মস্ত শহর থরথর করে কাপছিল।
১১. শহরের মিনারটাকে কবির কী মনে হয়েছে ?
উত্তরঃ শহরের মিনারটাকে কবির মনে হয়েছে যেন কোনো মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।
∆ দু-তিনটি বাক্যে প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২
১. কবিতার শুরুতে কবি কী দৃশ্য দেখেছেন ?
উত্তরঃ কবি নারকোল গাছের লম্বা মাথায় ডাবের মতো গোল ও ঠান্ডা চাঁদ উঠতে দেখেছেন। এই দৃশ্যটি রাতের নীরব ও স্বপ্নময় পরিবেশ তৈরি করে।
২. কবি কেন ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে পড়েন?
উত্তরঃ কবি ঝিমধরা শহরের মধ্যে অস্থিরতা অনুভব করেন। সেই অস্থিরতা থেকেই তিনি বাইরে বেরিয়ে প্রকৃতির টানে এগিয়ে যান।
৩. শহরের পরিবেশ কবির কাছে কেমন মনে হয়েছে?
উত্তরঃ শহরকে কবির কাছে থরথর করে কাঁপতে থাকা মনে হয়েছে। এটি শহরের ক্লান্তি ও অচলাবস্থার প্রতীক।
৪. মিনার ও গির্জা সম্পর্কে কবির অনুভূতি কী?
উত্তরঃ মিনারটাকে কবির কাছে মানুষের মতো দাঁড়িয়ে থাকা মনে হয়। গির্জাটিকে তিনি লাল পাথরের ঢেউয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
৫. কবিতায় পাহাড়ের ভূমিকা কী?
উত্তরঃ পাহাড় কবিকে ডাক দিয়ে আহ্বান জানায়। এটি প্রকৃতির শক্তি ও মানুষের সঙ্গে তার জীবন্ত সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
৬. লালদিঘির কাছে কবি কী দেখেন?
উত্তরঃ কবি দেখেন জোনাকিরা যেন দরবার বসিয়েছে। এই দৃশ্য প্রকৃতির আনন্দ ও কাব্যিক সৌন্দর্য প্রকাশ করে।
৭. দিঘির জল কবিকে কী বার্তা দেয়?
উত্তরঃ দিঘির জল কবিকে না ঘুমানোর দলে যোগ দিতে বলে। অর্থাৎ কবিকে সৃষ্টিশীল ও সচেতন থাকার আহ্বান জানায়।
৮. কবিতায় ফুল ও পাখিরা কীসের প্রতীক?
উত্তরঃ ফুল ও পাখি প্রকৃতির সৌন্দর্য ও প্রাণের প্রতীক। তারা কবিতার আনন্দ ও কাব্য সৃষ্টির উৎস হিসেবে এসেছে।
৯. কবি কোথায় ও কীভাবে কাব্য রচনা করেন ?
উত্তরঃ কবি রক্তজবার ঝোপের কাছে কাব্য রচনা করেন। প্রকৃতির সান্নিধ্যেই তার কাব্যিক ভাবনা জেগে ওঠে।
১০. কবিতার মূল ভাব কী ?
উত্তরঃ এই কবিতার মূল ভাব হলো প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্ক। কবি দেখিয়েছেন, প্রকৃতিই কবির প্রকৃত আশ্রয় ও কাব্যের উৎস।
📌 আরো দেখুনঃ
📌পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
