Class 10 History 2nd Unit Test Question Paper Set-3 wbbse | দশম শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট

SECOND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 10 (X) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER

Class 10 History 2nd Unit Test Question Paper Set-3 wbbse | দশম শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট সেট-৩

📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here

Set-3

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
দশম শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস
সময় : ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট           পূর্ণমান : ৪০

ক-বিভাগ

১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×১০=১০

১.১ ভারতের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোন্‌টি ?
(ক) বেঙ্গল গেজেট, (খ) দিগ্দর্শন,
(গ) সমাচার দর্পণ, (ঘ) সংবাদ সমাচার

১.২ ‘বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা’-এর প্রথম সভাপতি ছিলেন—
(ক) গৌরীশংকর তর্কবাগীশ
(খ) দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়
(গ) দ্বারকানাথ ঠাকুর,
(ঘ) প্রসন্নকুমার ঠাকুর।

১.৩ কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়—
(ক) ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে

১.৪ মহাবিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার গ্রহণ করেন–
(ক) ভাইসরয় (খ) লর্ড ক্যানিং,
(গ) ভারতসচিব, (ঘ) মহারানি ভিক্টোরিয়া

১.৫ বর্ণপরিচয় পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয় কবে ?
(ক) ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে।

১.৬ ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি (১৯২৫ খ্রি) গঠিত হয়—
(ক) কানপুরে, (খ) বোম্বাই-এ
(গ) কলকাতায়, (ঘ) মাদ্রাজে।

১.৭ ছাপাখানায় মুদ্রণের জন্য সর্বপ্রথম বাংলা অক্ষর তৈরি করেন—
(ক) হ্যালহেড, (খ) চার্লস উইলকিনস্
(গ) সুরেশচন্দ্র মজুমদার (ঘ) প্রজ্ঞানন কর্মকার।

১.৮ হিন্দুমেলা কবে প্রতিষ্ঠিত হয় ?
(ক) ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে।

১.৯ শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল–
(ক) ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে।

১.১০ বারদৌলি সত্যাগ্রহ আন্দোলনের নেতা ছিলেন–
(ক) মাদারি পাসি, (খ) জয়প্রকাশ নারায়ণ
(গ) গান্ধিজি, (ঘ) বল্লভভাই প্যাটেল,

বিভাগ – ‘খ’

২. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও : ১×৬ = ৬

‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ
(২.১.১) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১. শ্রীরামপুর মিশন প্রেস
(২.১.২) উইলিয়াম কেরি ২. ওয়াকার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি
(২.১.৩) মুজাফফর আহমদ ৩. ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন

২.২ প্রদত্ত ভারতের মানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত ও নামাঙ্কিত করো :
(২.২.১) ১৮৫৭-র বিদ্রোহের একটি কেন্দ্র
(২.২.২) ছাপাখানার বিকাশের কেন্দ্র শ্রীরামপুর
(২.২.৩) ভারত ছাড়ো আন্দোলনের কেন্দ্র তমলুক

‘গ’ – বিভাগ

৩. নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও : (যে-কোনো চারটি) ২×৪ = ৮

(i) শিক্ষিত বাঙালি সমাজ কেন ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে সমর্থন করেনি ?

(ii) কাদের শ্রীরামপুর ত্রয়ী বলা হয় ?

(iii) শিশুশিক্ষা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ধারণা কী ছিল ?

(iv) মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ শুরু করা হয়েছিল কেন?

(v) কে, কেন ‘ব্র্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’ গঠন করেন ?

অথবা,

(কেবল দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের জন্য)

শূন্যস্থান পূরণ করো :

(২.২.১) ঔপনিবেশিক ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন _________________।

(২.২.২) ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কল্টিভেশন অফ সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা _______________।

(২.২.৩) চৌরিচৌরার ঘটনা ঘটেছিল ______________ খ্রিস্টাব্দে।

বিভাগ : ‘ঘ’

৪. সাত বা আটটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (যে কোনো ২টি) : ৪×২ = ৮

৪.১ মহারাণীর ঘোষণাপত্রের (১৮৫৮) ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী ছিল ?

৪.২ ছাপাখানার বিস্তার এবং গণশিক্ষার প্রসারের সম্পর্ক সমানুপাতিক – উনিশ শতকের শেষভাগের বাংলার পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

৪.৩. টীকা লেখো – সর্বভারতীয় কিষাণসভা (১৯৩৬)।

বিভাগ – ‘ঙ’

৫. পনেরাে বা ষোলােটি বাক্যে যে-কোনাে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৮×১=৮

৫.১ জাতীয়তাবাদের বিকাশে চিত্রশিল্পী গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান লেখো।

৫.২ ছাপাখানার মুদ্রণের ইতিহাসে হিকির অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। এ ব্যাপারে শ্রীরামপুর মিশনারীদের অবদান আলোচনা করো।

৫.৩ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণীর ভূমিকা আলোচনা করো।

ANSWER KEY (উত্তরপত্র)

১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×১০=১০

১.১ (ক) বেঙ্গল গেজেট, ১.২ (ক) গৌরীশংকর তর্কবাগীশ, ১.৩ (গ) ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে, ১.৪ (ঘ) মহারানি ভিক্টোরিয়া।, ১.৫ (খ) ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে, ১.৬ (ক) কানপুরে, ১.৭ (খ) চার্লস উইলকিনস্, ১.৮ (গ) ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে, ১.৯ (গ) ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে, ১.১০ (ঘ) বল্লভভাই প্যাটেল

বিভাগ – ‘খ’

২. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও : ১×৬ = ৬

‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ
(২.১.১) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ৩. ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন
(২.১.২) উইলিয়াম কেরি ১. শ্রীরামপুর মিশন প্রেস
(২.১.৩) মুজাফফর আহমদ ২. ওয়াকার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি

২.২ প্রদত্ত ভারতের মানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত ও নামাঙ্কিত করো :
(২.২.১) ১৮৫৭-র বিদ্রোহের একটি কেন্দ্র
(২.২.২) ছাপাখানার বিকাশের কেন্দ্র শ্রীরামপুর
(২.২.৩) ভারত ছাড়ো আন্দোলনের কেন্দ্র তমলুক

‘গ’-বিভাগ

৩. নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও : (যে-কোনো চারটি) ২×৪ = ৮

(i) শিক্ষিত বাঙালি সমাজ কেন ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে সমর্থন করেনি ?

উত্তরঃ উনিশ শতকের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজ মনে করত যে ব্রিটিশ শাসন ভারতের আধুনিকীকরণ ও সমাজ সংস্কারের জন্য অনুকূল। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে তারা সামন্ততান্ত্রিক শক্তির পুরোনো রক্ষণশীল ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা বলে মনে করেছিল, তাই তারা এই বিদ্রোহকে সমর্থন করেনি।

(ii) কাদের শ্রীরামপুর ত্রয়ী বলা হয় ?

উত্তরঃ শ্রীরামপুরে খ্রিস্টধর্ম ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার এবং মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে অবদান রাখা তিনজনকে একত্রে ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ বলা হয়। তাঁরা হলেন—উইলিয়াম কেরি, জশুয়া মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড।

(iii) শিশুশিক্ষা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ধারণা কী ছিল ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, শিশুদের শিক্ষা চার দেওয়ালের বন্দি ঘরের পরিবর্তে প্রকৃতির উন্মুক্ত ও আনন্দময় পরিবেশে হওয়া উচিত। তিনি বিশ্বাস করতেন যে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষার চেয়ে খেলার ছলে ও চারপাশের প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে শিশুর স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ ঘটে।

(iv) মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ শুরু করা হয়েছিল কেন ?

উত্তরঃ ভারতে ক্রমবিকাশমান সাম্যবাদী বা কমিউনিস্ট আন্দোলনকে দমন করা এবং শ্রমিক ও রাজদ্রোহী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ স্তব্ধ করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ সালে এই মামলা শুরু করে। মুজাফফর আহমদ, এস. এ. ডাঙ্গে সহ ৩৩ জন বামপন্থী শ্রমিক নেতাকে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

(v) কে, কেন ‘ব্র্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’ গঠন করেন ?

উত্তরঃ ১৯৪০ সালে বিপ্লবী বামপন্থী নেতা মানবেন্দ্রনাথ রায় (এম. এন. রায়) ‘র‍্যাডিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’ গঠন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মিত্রশক্তিকে (ব্রিটিশ সরকারকে) শর্তহীন সমর্থন দেওয়া এবং ভারতের মাটিতে এক নতুন আমূল পরিবর্তনকামী ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি এই দল গড়ে তোলেন।

অথবা,

(কেবল দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের জন্য) শূন্যস্থান পূরণ করো :
(২.২.১) লর্ড ক্যানিং
(২.২.২) ডা. মহেন্দ্রলাল সরকার।
(২.২.৩) ১৯২২

বিভাগ : ‘ঘ’

৪. সাত বা আটটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (যে কোনো ২টি) : ৪×২ = ৮

৪.১ মহারাণীর ঘোষণাপত্রের (১৮৫৮) ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী ছিল ?

উত্তরঃ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এক আইন পাসের মাধ্যমে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনে আনা হয়। এই উদ্দেশ্যে ১ নভেম্বর ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ইলাহাবাদ দরবারে লর্ড ক্যানিং মহারানী ভিক্টোরিয়ার একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, যার ঐতিহাসিক তাৎপর্য ছিল নিম্নরূপ—

শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন: এর মাধ্যমে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে এবং মহারানী ভারতের প্রত্যক্ষ শাসনভার গ্রহণ করেন, ফলে ভারতের ইতিহাসে এক নতুন প্রশাসনিক যুগের সূচনা হয়।

সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি ত্যাগ: ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট জানানো হয় যে ব্রিটিশ সরকার ভারতে আর নতুন করে কোনো রাজ্য জয় বা সাম্রাজ্য বিস্তার করবে না এবং দেশীয় রাজ্যগুলির স্বত্ব বিলোপ নীতি বাতিল করা হয়।

অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা: ভারতীয়দের যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতিতে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

উপসংহার: যদিও এই ঘোষণার অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই পরবর্তীকালে বাস্তবে রক্ষিত হয়নি এবং এটি ছিল মূলত ভারতীয়দের ক্ষোভ প্রশমনের এক কূটনৈতিক চাল, তবুও এটি ভারতের ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

৪.২ ছাপাখানার বিস্তার এবং গণ শিক্ষার প্রসারের সম্পর্ক সমানুপাতিক – উনিশ শতকের শেষ ভাগের বাংলার পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ উনিশ শতকের শেষ ভাগে বাংলায় ছাপাখানার অভাবনীয় বিকাশ এবং গণশিক্ষার প্রসারের মধ্যে সম্পর্কটি সত্যিই সমানুপাতিক ছিল। ছাপাখানাগুলো সুলভে বইপত্র সরবরাহ করে শিক্ষার আলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছিল।

সহজলভ্য পাঠ্যপুস্তক: ছাপাখানার বিস্তারের ফলে অল্প খরচে এবং প্রচুর পরিমাণে স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তক, ব্যাকরণ ও মানচিত্র তৈরি হতে থাকে, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিধি বাড়িয়ে দেয়।

শিশুশিক্ষা ও বর্ণপরিচয়: বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’, মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘শিশুশিক্ষা’ প্রভৃতি বই লক্ষ লক্ষ পিস ছাপা হতে থাকে, যা বাংলার গণশিক্ষার ভিত বা প্রাথমিক বুনিয়াদ মজবুত করে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা: ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি এবং বিশেষ করে উনিশ শতকের শেষ দিকে ‘ইউ রায় অ্যান্ড সন্স’-এর মতো আধুনিক ছাপাখানাগুলির কারণে ঘরে ঘরে শিশু ও কিশোরদের পাঠ্যবই এবং রামায়ণ-মহাভারতের সহজ সংস্করণ পৌঁছে যায়।

উপসংহার: মুদ্রণ প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে বই কেবল উচ্চবিত্তের একচেটিয়া সম্পত্তি না থেকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে। অর্থাৎ, বাংলায় যত বেশি ছাপাখানার বিস্তার ঘটেছিল, গণশিক্ষার হারও ঠিক ততটাই ত্বরান্বিত হয়েছিল।

৪.৩ টীকা লেখো – সর্বভারতীয় কিষাণসভা (১৯৩৬)।

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট: ১৯৩০-এর দশকের আইন অমান্য আন্দোলনের সময় থেকেই ভারতের কৃষক সমাজ নিজেদের স্বতন্ত্র অধিকার রক্ষার জন্য একটি কেন্দ্রীয় সংগঠনের প্রয়োজন অনুভব করছিল। এই উদ্দেশ্যে ১৯৩৬ সালের ১১ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশের লখনউতে ‘সর্বভারতীয় কিষাণসভা’ বা নিখিল ভারত কিষাণ সভা প্রতিষ্ঠিত হয়।

নেতৃত্ব: এই সভার প্রথম সভাপতি ছিলেন বিহারের বিশিষ্ট কৃষক নেতা স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী এবং প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন অন্ধ্রপ্রদেশের অধ্যাপক এন. জি. রঙ্গা। এছাড়া ইন্দুলাল ইয়াগনিক, রামমনোহর লোহিয়া ও জয়প্রকাশ নারায়ণের মতো বামপন্থী ও সমাজতন্ত্রী নেতারাও এই সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

প্রধান দাবি ও উদ্দেশ্য: কিষাণসভার মূল লক্ষ্য ছিল জমিদারী প্রথার সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটানো, কৃষকদের ঋণের বোঝা মকুব করা, খাস জমি দরিদ্র চাষিদের মধ্যে বণ্টন এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।

ঐতিহাসিক তাৎপর্য: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এই কিষাণসভা ছিল প্রথম কোনো সর্বভারতীয় কৃষক সংগঠন, যা কৃষকদের স্থানীয় দাবিগুলিকে জাতীয় রাজনীতির মূল ধারার সাথে যুক্ত করতে পেরেছিল। জওহরলাল নেহরু এই সভার লখনউ অধিবেশনে যোগ দিয়ে একে সমর্থন জানান, যার ফলে কৃষকদের আন্দোলন আরও বেশি গণমুখী ও শক্তিশালী রূপ লাভ করেছিল।

বিভাগ – ‘ঙ’

৫. পনেরাে বা ষোলােটি বাক্যে যে-কোনাে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৮×১=৮

৫.১ জাতীয়তাবাদের বিকাশে চিত্রশিল্পী গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান লেখো।

উত্তরঃ উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতের জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ও বিকাশে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির দুই কৃতি শিল্পী—অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর চিত্রশিল্পের মাধ্যমে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

∆ জাতীয়তাবাদের বিকাশে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান—

(i) ‘ভারত মাতা’ চিত্র অঙ্কন: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ১৯০৫ সালে স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিতে ‘বঙ্গমাতা’ (পরবর্তীতে ‘ভারত মাতা’) চিত্র অঙ্কন। এই চিত্রে তিনি ভারতকে এক চারহাত বিশিষ্ট দেবী হিসেবে কল্পনা করেন, যার হাতগুলিতে ছিল অন্ন (ধানের শিষ), বস্ত্র (শ্বেতবস্ত্র), শিক্ষা (পুঁথি) ও দীক্ষা (জপমালা)—যা ভারতীয় সংস্কৃতির মূল ভিত্তি।

(ii) স্বদেশি চেতনার সঞ্চার: তাঁর আঁকা ভারতমাতা কোনো সশস্ত্র বা উগ্র দেবী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক শান্ত ও করুণাময়ী নারীমূর্তি। এই চিত্রটি তৎকালীন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম ও ঐক্যবোধের জন্ম দিয়েছিল।

(iii) নব্যবঙ্গ চিত্ররীতি: তিনি পাশ্চাত্য বা ইউরোপীয় অনুকরণ সংস্কৃতির বিরোধিতা করে ভারতীয় অজন্তা, মোগল ও রাজপুত চিত্ররীতির মিশ্রণে ‘নব্যবঙ্গ চিত্রশৈলী’ প্রবর্তন করেন, যা চিত্রশিল্পে স্বাদেশিকতার এক অনন্য উদাহরণ।

∆ জাতীয়তাবাদের বিকাশে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান—

(iv) ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে প্রতিবাদ: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর কোনো প্রথাগত ধারায় না গিয়ে ‘কার্টুন’ বা ব্যঙ্গচিত্রকে হাতিয়ার করে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও তৎকালীন বাবু সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

(v) পাশ্চাত্য অন্ধ-অনুকরণের সমালোচনা: তাঁর ‘আদালতের খাঁচায় বাঙালি সাহেব’ বা ‘নয়া হুল্লোড়’ চিত্রে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে কিছু বাঙালি নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে সাহেবদের অন্ধ চাটুকারিতা করত।

(vi) সামাজিক ভণ্ডামি প্রকাশ: তাঁর ‘অদ্ভুত লোক’ বা ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কল’ নামক কার্টুনগুলোতে তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থার যান্ত্রিকতা এবং সমাজের উচ্চবিত্তদের ভণ্ডামির রূপ ফুটিয়ে তুলে সমাজকে জাগ্রত করার চেষ্টা করেছিলেন।

উপসংহার: অবনীন্দ্রনাথ যেখানে তাঁর তুলির টানে ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও গৌরবকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে ইতিবাচক জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটিয়েছিলেন, গগনেন্দ্রনাথ সেখানে ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার ভিতকে আক্রমণ করেছিলেন।

৫.২ ছাপাখানার মুদ্রণের ইতিহাসে হিকির অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। এ ব্যাপারে শ্রীরামপুর মিশনারীদের অবদান আলোচনা করো।

উত্তরঃ বাংলার তথা ভারতের ছাপাখানা ও মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসের আদিপর্বে জেমস অগাস্টাস হিকি এবং পরবর্তীকালে শ্রীরামপুর মিশনারীদের অবদান ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বৈপ্লবিক।

∆ ছাপাখানার মুদ্রণের ইতিহাসে হিকির অবদান—

(i) প্রথম মুদ্রণ উদ্যোগ: ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে জেমস অগাস্টাস হিকি কলকাতায় ভারতের প্রথম মুদ্রণযন্ত্র বা ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।

(ii) প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশ: এই ছাপাখানা থেকেই তিনি ভারতের প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ‘বেঙ্গল গেজেট’ (Bengal Gazette) বা ‘হিকিস গেজেট’ প্রকাশ করেন।

(iii) মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: হিকি তাঁর পত্রিকার মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি, লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসের কুশাসন এবং তৎকালীন সমাজের নানা কুপ্রথার বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে সরব হয়েছিলেন। যদিও এর জন্য তাঁকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হয় এবং তাঁর ছাপাখানা বাজেয়াপ্ত করা হয়, তবুও ভারতে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুদ্রণ সংস্কৃতির সূচনা তাঁর হাত ধরেই হয়েছিল।

∆ ছাপাখানার মুদ্রণের ইতিহাসে শ্রীরামপুর মিশনারীদের অবদান—

(iv) শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠা: ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে উইলিয়াম কেরি, জশুয়া মার্শম্যান এবং উইলিয়াম ওয়ার্ড (যাঁদের একত্রে ‘শ্রীরামপুর ত্রয়ী’ বলা হয়) শ্রীরামপুরে ‘শ্রীরামপুর মিশন প্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন।

(v) ভার্নাকুলার বা আঞ্চলিক ভাষার টাইপ নির্মাণ: এই প্রেসে পঞ্চানন কর্মকারের সহায়তায় বাংলা, সাশ্রয়ী ও সুদৃশ্য টাইপ বা হরফ তৈরি করা হয়। কেরি সাহেবের উদ্যোগে কেবল বাংলা নয়, ওড়িয়া, অসমীয়া, মারাঠি, হিন্দি সহ প্রায় ৪০টি আঞ্চলিক ভাষায় হরফ তৈরি ও বই ছাপা শুরু হয়।

(vi) পাঠ্যপুস্তক ও সাহিত্য প্রকাশ: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তক, রামায়ণ-মহাভারতের অনুবাদ এবং বিভিন্ন অভিধান এখান থেকে সস্তায় মুদ্রিত হতে থাকে, যা বাংলার শিক্ষা বিস্তারে বিশাল জোয়ার আনে।

(vii) সংবাদপত্র ও সাময়িকী: ১৮১৮ সালে এই প্রেস থেকেই প্রথম বাংলা সাময়িক পত্র ‘দিকদর্শন’ এবং প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ‘সমাচার দর্পণ’ প্রকাশিত হয়।

উপসংহার: হিকি যদি ভারতে মুদ্রণ শিল্পের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করে থাকেন, তবে শ্রীরামপুর মিশনারীরা সেই মুদ্রণ প্রযুক্তিকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণমানুষের ভাষার সাথে যুক্ত করে একে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন।

৫.৩ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণীর ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তরঃ ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’ ছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শেষ এবং সবচেয়ে বৃহত্তম গণ-আন্দোলন। এই আন্দোলনে ভারতের শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণী অত্যন্ত সক্রিয়, স্বতঃস্ফূর্ত ও হিংসাত্মক ভূমিকা পালন করে আন্দোলনকে এক চরম রূপ দিয়েছিল।

∆ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষক শ্রেণীর ভূমিকা—

(i) আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি: ৯ আগস্ট ১৯৪২-এ গান্ধীজি সহ জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হলে গ্রামীণ ভারতের কৃষকরা আন্দোলনের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেয়।

(ii) যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্নকরণ: বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং বাংলার কৃষকরা দলে দলে সংগঠিত হয়ে ব্রিটিশ সরকারের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ভিত অবরুদ্ধ করতে রেললাইন উপড়ে ফেলে, টেলিগ্রাফের তার কেটে দেয় এবং থানা-পোস্ট অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।

(iii) সমান্তরাল স্বাধীন সরকার গঠন: বাংলার মেদিনীপুরের তমলুকে কৃষকরা ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ গঠন করে ব্রিটিশ শাসনকে অচল করে দেয়। অনুরূপভাবে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া, মহারাষ্ট্রের সাতারা এবং ওড়িশার তালচেরে কৃষকরা নিজস্ব স্বাধীন শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে।

(iv) খাজনা বন্ধ আন্দোলন: বহু অঞ্চলে কৃষকরা ব্রিটিশ অনুগত জমিদারদের কর বা খাজনা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় এবং সরকারি শস্যভাণ্ডার লুট করে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়।

∆ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণীর ভূমিকা—

(v) স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট: আন্দোলনের শুরুতেই বোম্বাই, কলকাতা, মাদ্রাজ, কানপুর ও আহমেদাবাদের মতো প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোর শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ বন্ধ করে ধর্মঘটের ডাক দেয়।

(vi) আহমেদাবাদের বস্ত্রশিল্প ধর্মঘট: আহমেদাবাদের টেক্সটাইল মিলের প্রায় এক লক্ষ শ্রমিক একটানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ধর্মঘট পালন করে, যা ইতিহাসে ‘ভারতের ম্যানচেস্টারের ধর্মঘট’ নামে পরিচিত।

(vii) জামশেদপুরের ধর্মঘট: টাটা স্টিল কারখানার (TISCO) শ্রমিকরা উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় এবং ঘোষণা করে যে জাতীয় সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কারখানায় ফিরবে না।

(viii) শ্রমিক-কৃষক মেলবন্ধন: বহু জায়গায় মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শ্রমিকরা গ্রামে ফিরে গিয়ে কৃষকদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়।

উপসংহার: ব্রিটিশ সরকারের তীব্র দমননীতি, লাঠিচার্জ ও গুলিচালনা উপেক্ষা করে শ্রমিক ও কৃষকদের এই যৌথ প্রতিরোধ ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে একটি প্রকৃত ‘গণ-অভ্যুত্থানে’ পরিণত করেছিল, যা ব্রিটিশদের বাধ্য করেছিল ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবতে।

📌 আরো দেখুনঃ

📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here

Leave a Comment