SECOND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 10 (X) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER
Class 10 History 2nd Unit Test Question Paper Set-4 wbbse | দশম শ্রেণির ইতিহাস প্রশ্নপত্র দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট সেট-৪
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here
Set-4
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
দশম শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস
সময় : ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট পূর্ণমান : ৪০
১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে বাক্যটি লেখ : (১x৫=৫)
১.১‘বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা’ কবে গড়ে ওঠে ?
(ক) ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে
১.২ ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’ পাস হয়—
(ক) ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে (খ) ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে (ঘ) ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে
১.৩ ‘AITUC’ এর প্রথম সভাপতি ছিলেন—
(ক) বালগঙ্গাধর তিলক (খ) লালা হরদয়াল
(গ) লালা লাজপত রায় (ঘ) কেউই নয়।
১.৪ ‘গীতারহস্য’ গ্রন্থটির রচয়িতা—
(ক) বিপিনচন্দ্র পাল (খ) বালগঙ্গাধর তিলক
(গ) জওহরলাল নেহেরু (ঘ) অরবিন্দ ঘোষ।
১.৫ ‘দীপালি সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন—
(ক) উজ্জ্বলা মজুমদার (খ) সরলাদেবী চৌধুরাণী
(গ) সুচেতা কৃশালনী (ঘ) লীলা নাগ (রায়)
২। একটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (১x৫=৫)
(ক) মহারানী ভিক্টোরিয়া কবে এবং কোন আইন দ্বারা ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করেন ?
(খ) জাইলোগ্রাফি কী ?
(গ) পুনাচুক্তি কবে, কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ?
(ঘ) অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
(ঙ) কোন মামলার রায়ে বিপ্লবী ভগৎসিং এর ফাঁসি হয়েছিল ?
৩। নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : (২x৫=১০)
(ক) হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল ?
(খ) জমিদার সভা কবে, কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয় ? এর প্রথম ছিলেন ?
(গ) ঊনবিংশ শতকে বিজ্ঞানচর্চার প্রসারে প্রেসিডেন্সি কলেজের ভূমিকা লেখ।
(ঘ) চৌরিচৌরার ঘটনাটি কী ?
(ঙ) কোন দিনটি রশিদ আলি দিবস নামে খ্যাত ? বীনা দাসের আত্মজীবনীমূলক দুটি গ্রন্থের নাম লেখ।
৪। নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :(৪x৩=১২)
(ক) টীকা লেখ : মহারাণীর ঘোষণাপত্র।
(খ) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য আলোচনা কর।
(গ) বিনয়-বাদল-দীনেশ স্মরণীয় কেন?
৫। নিচের প্রশ্নটির উত্তর পনেরো ষোলটি বাক্যে লেখ : (৮x১=৮)
(ক) বিংশ শতকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা আলোচনা করো।
ANSWER KEY (উত্তরপত্র)
১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে বাক্যটি লেখ : (১x৫=৫)
১.১ (খ) ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে, ১.২ (ক) ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে, ১.৩ (গ) লালা লাজপত রায়, ১.৪ (খ) বালগঙ্গাধর তিলক, ১.৫ (ঘ) লীলা নাগ (রায়)।
২। একটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (১x৫=৫)
(ক) মহারানী ভিক্টোরিয়া কবে এবং কোন আইন দ্বারা ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করেন ?
উত্তরঃ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর ‘ভারত শাসন আইন’ (Government of India Act 1858) দ্বারা ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করেন।
(খ) জাইলোগ্রাফি কী ?
উত্তরঃ জাইলোগ্রাফি (Xylography) হলো কাঠের ব্লকে বা তক্তায় অক্ষর ও ছবি খোদাই করে মুদ্রণ বা ছাপানোর একটি প্রাচীন পদ্ধতি।
(গ) পুনাচুক্তি কবে, কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ?
উত্তরঃ পুনাচুক্তি ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর মহাত্মা গান্ধী এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
(ঘ) অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
উত্তরঃ ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে সরকারি দমনমূলক ‘কার্লাইল সার্কুলার’-এর প্রতিবাদে শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।
(ঙ) কোন মামলার রায়ে বিপ্লবী ভগৎসিং এর ফাঁসি হয়েছিল ?
উত্তরঃ বিখ্যাত ‘লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা’ (দ্বিতীয় লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা)-র রায়ে বিপ্লবী ভগৎসিং এর ফাঁসি হয়েছিল।
৩। নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : (২x৫=১০)
(ক) হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যগুলি কী ছিল ?
উত্তরঃ ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে নবগোপাল মিত্র ও রাজনারায়ণ বসুর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হিন্দুমেলার প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল ভারতীয়দের মধ্যে স্বাদেশিকতার আদর্শ প্রচার করা, দেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা করা এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করা।
(খ) জমিদার সভা কবে, কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয় ? এর প্রথম ছিলেন ?
উত্তরঃ জমিদার সভা (Landholders’ Society) ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১২ নভেম্বর কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রথম সভাপতি ছিলেন রাজা রাধাকান্ত দেব।
(গ) ঊনবিংশ শতকে বিজ্ঞানচর্চার প্রসারে প্রেসিডেন্সি কলেজের ভূমিকা লেখ।
উত্তরঃ ঊনবিংশ শতকে প্রেসিডেন্সি কলেজে আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার এক নতুন যুগের সূচনা হয়, যেখানে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু এবং আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের মতো কৃতি বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে তাঁদের যুগান্তকারী মৌলিক গবেষণা শুরু করেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের সেরা বিজ্ঞানীদের গড়ে তোলেন।
(ঘ) চৌরিচৌরার ঘটনাটি কী ?
উত্তরঃ ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৫ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরা গ্রামে এক ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী জনতা স্থানীয় পুলিশ থানায় আগুন ধরিয়ে দিলে ২২ জন পুলিশ কর্মী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান, যা ইতিহাসে ‘চৌরিচৌরার ঘটনা’ নামে পরিচিত এবং এর ফলেই গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
(ঙ) কোন দিনটি রশিদ আলি দিবস নামে খ্যাত ? বীনা দাসের আত্মজীবনীমূলক দুটি গ্রন্থের নাম লেখ।
উত্তরঃ আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলির কারাদণ্ডের প্রতিবাদে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটি ‘রশিদ আলি দিবস’ নামে খ্যাত এবং বিপ্লবী বীণা দাসের আত্মজীবনীমূলক দুটি গ্রন্থ হলো ‘শৃঙ্খলঝঙ্কার’ এবং ‘পিতৃধন’।
৪। নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :(৪x৩=১২)
(ক) টীকা লেখ : মহারাণীর ঘোষণাপত্র।
উত্তরঃ ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের অবসান ঘটার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ‘ভারত শাসন আইন (১৮৫৮)’ পাসের মাধ্যমে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায়। এরপর ১ নভেম্বর ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে এলাহাবাদে আয়োজিত এক বিশেষ দরবারে ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং মহারানী ভিক্টোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র পাঠ করেন, যা ‘মহারাণীর ঘোষণাপত্র’ নামে পরিচিত।
মূল প্রতিশ্রুতিসমূহ: এই ঘোষণাপত্রে মহারানী প্রতিশ্রুতি দেন যে ব্রিটিশ সরকার ভারতে আর নতুন কোনো রাজ্য জয় বা সাম্রাজ্য বিস্তার করবে না। দেশীয় রাজ্যগুলির ওপর ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’ বাতিল করা হবে। ভারতীয়দের যোগ্যতা ও শিক্ষাগত মান অনুযায়ী বৈষম্যহীনভাবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা হবে এবং ভারতীয়দের ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতিতে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।
ঐতিহাসিক তাৎপর্য: এই ঘোষণার মাধ্যমে ভারতের প্রত্যক্ষ শাসনভার কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনে আসে। যদিও পরবর্তীকালে এই প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই রক্ষা করা হয়নি এবং এটি ছিল মূলত ভারতীয়দের ক্ষোভ শান্ত করার একটি চাল, তবুও ভারতের ইতিহাসে এটি এক বড় শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন এনেছিল।
(খ) বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য আলোচনা কর।
উত্তরঃ ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশি আন্দোলনের যুগে বাংলায় কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (Bengal Technical Institute) প্রতিষ্ঠা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল।
প্রেক্ষাপট: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্ররা সরকারি স্কুল-কলেজ বয়কট করলে তাদের বিকল্প জাতীয় শিক্ষা প্রদানের জন্য ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ (National Council of Education) গঠিত হয়। এই পরিষদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারের নীতিকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ দেখা দিলে তারকনাথ পালিত, নীলরতন সরকার প্রমুখের উদ্যোগে ১৯০৬ সালের ২৫ জুলাই কলকাতায় এই ইনস্টিটিউটটি আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দেশ্য: এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি শিক্ষার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় পরিচালনায় ভারতীয় ছাত্রদের আধুনিক কারিগরি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তিমূলক শিক্ষা প্রদান করা। এছাড়া, বাংলার যুবসমাজকে স্বনির্ভর করে তোলা এবং কুটির ও ভারী শিল্পে দক্ষ কারিগর ও প্রযুক্তিবিদ তৈরি করাও ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। পরবর্তীতে এটিই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
(গ) বিনয়-বাদল-দীনেশ স্মরণীয় কেন?
উত্তরঃ বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে বিনয় কৃষ্ণ বসু, বাদল গুপ্ত এবং দীনেশ গুপ্ত (যাঁরা একত্রে ‘বিনয়-বাদল-দীনেশ’ বা ‘বি-বা-দী’ নামে পরিচিত) তাঁদের অসীম সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
রাইটার্স বিল্ডিংস অভিযান: ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর এই তিন তরুণ বিপ্লবী ছদ্মবেশে কলকাতার ব্রিটিশ শাসনের প্রাণকেন্দ্র ‘রাইটার্স বিল্ডিংস’ (মহাকরণ)-এ প্রবেশ করেন। তাঁরা সেখানে অত্যাচারী ব্রিটিশ ইনস্পেক্টর জেনারেল অব প্রিজনস কর্নেল সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। এই ঘটনাটি ইতিহাসে ‘অলিন্দ যুদ্ধ’ (Corridor Warfare) নামে বিখ্যাত।
আত্মত্যাগ: সিম্পসনকে হত্যার পর ব্রিটিশ পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এবং বন্দিত্ব এড়াতে বাদল গুপ্ত পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন। বিনয় বসু এবং দীনেশ গুপ্ত নিজেদের মাথায় গুলি করেন। বিনয় বসু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ ডিসেম্বর মারা যান এবং দীনেশ গুপ্ত সুস্থ হয়ে ওঠার পর ১৯৩১ সালের ৭ জুলাই ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ উৎসর্গ করেন। তাঁদের এই বীরত্বপূর্ণ লড়াই আজও ভারতীয়দের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।
৫। নিচের প্রশ্নটির উত্তর পনেরো ষোলটি বাক্যে লেখ : (৮x১=৮)
(ক) বিংশ শতকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে শ্রমিকদের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তরঃ বিংশ শতকে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল শ্রমিক শ্রেণীর সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সর্বাত্মক ও গণমুখী রূপ দিতে শ্রমিক আন্দোলন এক নতুন মাত্রার যোগ করেছিল।
∆ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশি আন্দোলন (১৯০৫)—
(i) বিংশ শতকের শুরুতেই বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে শ্রমিকদের প্রথম রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেখা যায়।
(ii) এই সময়ে কলকাতার প্রিন্টিং প্রেস, চটকল এবং রেলওয়ের শ্রমিকরা বিদেশি দ্রব্য বর্জনের সমর্থনে এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করার দাবিতে ব্যাপক ধর্মঘট শুরু করেন।
(iii) ১৯০৮ সালে বাল গঙ্গাধর তিলকের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে বোম্বাইয়ের বস্ত্রশিল্পের শ্রমিকরা টানা ছয় দিন রাজনৈতিক ধর্মঘট পালন করেন, যা লেনিনকেও গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
∆ অসহযোগ আন্দোলন ও AITUC প্রতিষ্ঠা (১৯২০)—
(iv) ১৯২০ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে ভারতের শ্রমিকরা দলে দলে তাতে শামিল হয়।
(v) এই আন্দোলনের সময়ই শ্রমিকদের সংগঠিত করতে ১৯২০ সালের ৩১ অক্টোবর ‘সারা ভারত Trade Union কংগ্রেস’ (AITUC) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং লালা লাজপত রায় এর প্রথম সভাপতি হন।
(vi) বাংলায় চা-বাগান শ্রমিকদের ওপর ব্রিটিশদের অত্যাচার (চাঁদপুর স্টিমার ঘাটের ঘটনা) এবং অসম-বেঙ্গল রেলওয়ে ধর্মঘট असहयोग আন্দোলনকে গ্রামীণ ও শহর—উভয় অঞ্চলেই শক্তিশালী করে তোলে।
∆ আইন অমান্য আন্দোলন ও বামপন্থী প্রভাব (১৯৩০)—
(vii) ১৯৩০-এর দশকে শ্রমিক আন্দোলনে কমিউনিস্ট ও বামপন্থী নেতাদের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং শ্রমিকরা ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
(viii) গান্ধীজির ডান্ডি অভিযানের সমর্থনে বোম্বাই, মাদ্রাজ এবং কলকাতার শ্রমিকরা বিদেশি কাপড় ও পণ্যের গুদামগুলোর সামনে পিকেটিং শুরু করে।
(ix) সোলাপুরের সুতাকল শ্রমিকরা ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অচল করে কিছুদিনের জন্য সমান্তরাল প্রশাসন গড়ে তুলেছিলেন।
∆ ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২)—
(x) ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’ ছিল শ্রমিকদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিবাদের এক চূড়ান্ত অধ্যায়।
(xi) জামশেদপুরে টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানির (TISCO) শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে দাবি করেন যে জাতীয় সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কারখানায় ফিরবেন না।
(xii) আহমেদাবাদের বস্ত্রশিল্পের প্রায় এক লক্ষ শ্রমিক একটানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ঐতিহাসিক ধর্মঘট পালন করেন, যা ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক ভিত নাড়িয়ে দেয়।
∆ আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নৌবিদ্রোহের সমর্থনে আন্দোলন (১৯৪৫-৪৬)—
(xiii) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দি সেনাদের মুক্তির দাবিতে এবং ১৯৪৬ সালের রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভির (নৌবিদ্রোহ) সমর্থনে শ্রমিকরা কলকাতায় ও বোম্বাইতে সর্বাত্মক চাকা বন্ধ ও সাধারণ ধর্মঘট পালন করেন।
উপসংহার: বিংশ শতকে ভারতের শ্রমিক সমাজ কেবল নিজেদের অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার জন্য লড়াই করেনি, বরং তারা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক চেতনা ধারণ করে দেশমাতৃকার মুক্তির যজ্ঞে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ভীক ভূমিকা পালন করেছিল।
📌 আরো দেখুনঃ
📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here