WBBSE Class 10 History 2nd Unit Test Question Paper 2025 | দশম শ্রেণির ইতিহাস  দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট

SECOND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 10 (X) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER

WBBSE Class 10 History 2nd Unit Test Question Paper 2025 Set-2 | দশম শ্রেণির ইতিহাস  দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট ২০২৫

📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here

Set-2

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
দশম শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস
সময় : ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট             পূর্ণমান : ৪০

ক-বিভাগ

১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো (যে কোনো তিনটি) : ১×৩=৩

(ক) ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রপিতামহ হলেন—
(i) বালগঙ্গাধর তিলক (ii) সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী
(iii) রাজনারায়ণ বসু (iv) আনন্দ মোহন বসু।

(খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়—
(i) ১৮৫৪ সালে (ii) ১৮৫৭ সালে
(iii) ১৮৫৯ সালে (iv) ১৮৬০ সালে।

(গ) র‍্যাডিক্যাল ডেমক্রাটিক দল গঠন করেছিলেন—
(i) সুভাষ চন্দ্র বসু (ii) পি.সি. যোশী
(iii) এম. এন. রায় (iv) এস. এ. ডাঙ্গে

(ঘ) ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ভারতের প্রথম স্বাধীনতা দিবস পালন করে—
(i) ১১২৯ খ্রিস্টাব্দে (ii) ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে
(iii) ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে (iv) ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে।

২। সত্য/মিথ্যা নির্ণয় করো (যে-কোনো তিনটি) : ১×৩=৩

(ক) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা চিত্রগুলি ভারতীয় জাতীয় সংস্কৃতির প্রকাশ বিদেশী প্রভাবের বিরোধিতায়।

(খ) ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে সিঙ্গুরাভেল চেটিয়ার নেতৃত্বে ভারতে মাদ্রাজ শহরে প্রথম ‘মে দিবস’ পালন করা হয়।

(গ) এম.এন.রায় রাশিয়ায় ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।

(ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম ‘লাঙ্গল’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন।

৩। দুই-এক কথায় উত্তর দাও (যে-কোনো তিনটি) : ১×৩=৩

(ক) কত সালে ‘সারা ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস’ স্থাপিত হয়েছিল ?

(খ) হোমরুল লীগ কে গঠন করেছিলেন ?

(গ) কে, কত সালে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করেন ?

(ঘ) অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দুইজন নারীর নাম উল্লেখ করো।

৪। সংক্ষেপে যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ২x৪=৮

(ক) কে প্রথম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছাপাখানা আরম্ভ করেন এবং কখন ?

(খ) সি. ভি. রমন স্মরণীয় কেন ?

(গ) ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন-এর উদ্দেশ্যগুলি কী কী ?

(ঘ) ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ সম্বন্ধে তুমি কী জানো ?

(ঙ) কখন এবং কে ‘ইণ্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডস্ লিগ’ স্থাপন করে ?

৫। দুইটি স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো : ১×৩=৩

বামস্তম্ভ ডানস্তম্ভ
(১) ভাইসরয় (ক) পি. সি. রায়
(২) শ্রীরামপুর মিশন (খ) লর্ড ক্যানিং
(৩) বেঙ্গল কেমিক্যাল (গ) উইলিয়াম কেরি

৬। সংক্ষেপে সাত/আটটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো তিনটি) : ৪x৩=১২

(ক) ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে স্বামী বিবেকানন্দ কি বলেছেন ?

(খ) গগণেন্দ্রনাথ ঠাকুর কিভাবে ইংরাজী উপনিবেশিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ?

(গ) আইন অমান্য আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণীকে সংগঠিত করতে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের কি ভূমিকা ছিল?

(ঘ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

৭। একটি প্রশ্নের পনেরো/ষোলটি বাক্যে উত্তর দাও : ৮x১=৮

(ক) আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষকদের অংশগ্রহণের বিবরণ দাও।

(খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য রচনায় জাতীয়তাবাদের প্রকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।

(গ) শিক্ষার প্রসারে শান্তি নিকেতনর ভূমিকা বিবৃত করো।

ANSWER KEY (উত্তরপত্র)

১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো (যে কোনো তিনটি) : ১×৩=৩

(ক) (iii) রাজনারায়ণ বসু, (খ) (ii) ১৮৫৭ সালে, (গ) (iii) এম. এন. রায়, (ঘ) (ii) ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে।

২। সত্য/মিথ্যা নির্ণয় করো (যে-কোনো তিনটি) : ১×৩=৩

(ক) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা চিত্রগুলি ভারতীয় জাতীয় সংস্কৃতির প্রকাশ বিদেশী প্রভাবের বিরোধিতায়।

উত্তরঃ সত্য

(খ) ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে সিঙ্গুরাভেল চেটিয়ার নেতৃত্বে ভারতে মাদ্রাজ শহরে প্রথম ‘মে দিবস’ পালন করা হয়।

উত্তরঃ সত্য

(গ) এম.এন.রায় রাশিয়ায় ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।

উত্তরঃ সত্য

(ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম ‘লাঙ্গল’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন।

উত্তরঃ সত্য

৩। দুই-এক কথায় উত্তর দাও :

(ক) কত সালে ‘সারা ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস’ স্থাপিত হয়েছিল ?

উত্তরঃ ১৯২০ সালে ‘সারা ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস’ (AITUC) স্থাপিত হয়েছিল।

(খ) হোমরুল লীগ কে গঠন করেছিলেন ?

উত্তরঃ অ্যানি বেসান্ত এবং বাল গঙ্গাধর তিলক হোমরুল লীগ গঠন করেছিলেন।

(গ) কে, কত সালে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করেন ?

উত্তরঃ লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করেন।

(ঘ) অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দুইজন নারীর নাম উল্লেখ করো।

উত্তরঃ অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দুইজন নারী হলেন বাসন্তী দেবী এবং ঊর্মিলা দেবী।

৪। সংক্ষেপে যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ২x৪=৮

(ক) কে প্রথম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছাপাখানা আরম্ভ করেন এবং কখন ?

উত্তরঃ ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে পর্তুগিজরা প্রথম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (ভারতের গোয়ায়) ছাপাখানা বা মুদ্রণযন্ত্রের সূচনা করেন। গোয়ার জেসুইট পাদ্রিরা মূলত খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এই ছাপাখানা স্থাপন করেছিলেন।

(খ) সি. ভি. রমন স্মরণীয় কেন ?

উত্তরঃ ভারতীয় বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন আলোকবিজ্ঞানে তাঁর যুগান্তকারী আবিষ্কার ‘রমন এফেক্ট’-এর জন্য বিশ্বজুড়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন। এই গবেষণার অনন্য স্বীকৃতির জন্য ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রথম ভারতীয় তথা প্রথম এশীয় বিজ্ঞানী হিসেবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

(গ) ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন-এর উদ্দেশ্যগুলি কী কী ?

উত্তরঃ ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসুর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন বা ভারত সভার প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল—

(i) দেশে একটি শক্তিশালী জনমত গঠন করা।

(ii) ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের সাধারণ রাজনৈতিক স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ করা।

(iii) হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও মৈত্রী সুদৃঢ় করা।

(ঘ) ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ সম্বন্ধে তুমি কী জানো ?

উত্তরঃ বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ নভেম্বর কলকাতায় বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল এশিয়ার প্রথম আধুনিক আন্তঃডিসিপ্লিনারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যেখানে উদ্ভিদের জীবন, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার বিভিন্ন শাখায় মৌলিক গবেষণা শুরু হয়।

(ঙ) কখন এবং কে ‘ইণ্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডস্ লিগ’ স্থাপন করে ?

উত্তরঃ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বিপ্লবী রাসবিহারী বসু টোকিওতে (জাপান) ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ’ বা ভারতীয় স্বাধীনতা লীগ স্থাপন করেন। ভারতের বাইরে প্রবাসী ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে সাহায্য করাই ছিল এই লীগের মূল লক্ষ্য।

৫। দুইটি স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো : ১×৩=৩

উত্তরঃ
(১) ভাইসরয় → (খ) লর্ড ক্যানিং
(২) শ্রীরামপুর মিশন → (গ) উইলিয়াম কেরি
(৩) বেঙ্গল কেমিক্যাল → (ক) পি. সি. রায়

৬। সংক্ষেপে সাত / আটটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো তিনটি) : ৪x৩=১২

(ক) ‘বর্তমান ভারত’ গ্রন্থে স্বামী বিবেকানন্দ কি বলেছেন ?

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর বিখ্যাত ‘বর্তমান ভারত’ (১৯০৫) গ্রন্থে ভারতের সমাজ ও সংস্কৃতির এক গভীর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

বৈদিক যুগ থেকে ব্রিটিশ শাসন: তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ভারতের ক্ষমতা বৈদিক যুগে পুরোহিততন্ত্র, পরে রাজতন্ত্র এবং সবশেষে আধুনিক বৈশ্য বা বণিকতন্ত্রের (ব্রিটিশ শাসন) হাতে এসেছে।

শূদ্র জাগরণের বাণী: তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে ভবিষ্যতে সমাজে শ্রমজীবী বা ‘শূদ্র’ শ্রেণীর জাগরণ ঘটবে এবং তারা সমাজ পরিচালনা করবে।

দেশপ্রেম ও ঐক্যের আহ্বান: বিবেকানন্দ ভারতের সমস্ত মানুষকে এক মায়ের সন্তান বলে মনে করেছেন। তিনি মুচি, মেথর, চণ্ডাল থেকে শুরু করে সমাজের নিম্নস্তরের মানুষকে নিজের ভাই বলে আলিঙ্গন করতে বলেছেন।

উপসংহার: ভারতের মাটিকে তিনি তাঁর স্বর্গ এবং ভারতের কল্যাণকে নিজের কল্যাণ বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই বাণী তৎকালীন তরুণ সমাজকে তীব্র দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

(খ) গগণেন্দ্রনাথ ঠাকুর কিভাবে ইংরাজী উপনিবেশিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ?

উত্তরঃ বিখ্যাত চিত্রশিল্পী গগণেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুনের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন ও বাঙালি বাবু সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

বাবু সংস্কৃতির ব্যঙ্গ: তিনি তাঁর তুলির টানে ‘আদালতের খাঁচায় বাঙালি সাহেব’, ‘নয়া হুল্লোড়’ প্রভৃতি চিত্রে দেখিয়েছেন কীভাবে কিছু বাঙালি অন্ধভাবে সাহেবদের অনুকরণ করে নিজের সংস্কৃতিকে ভুলে যেতো।

শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা: ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কল’ নামক ব্যঙ্গচিত্রে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে তৎকালীন ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের যান্ত্রিক মানুষে পরিণত করছিল।

সামাজিক ভণ্ডামি প্রকাশ: তাঁর ‘অদ্ভুত লোক’ বা ‘রূপরঙ্গ’ নামক চিত্রমালাগুলিতে সমাজের উচ্চবিত্তদের ভণ্ডামি, জাতপাতের ভেদাভেদ এবং ব্রিটিশদের প্রতি চাটুকারিতার রূপ ফুটিয়ে তুলেছিলেন।

উপসংহার: এইভাবে গগণেন্দ্রনাথ ঠাকুর ড্রইং বা ব্যঙ্গচিত্রকে হাতিয়ার করে অত্যন্ত কৌতুকপূর্ণ অথচ কঠোরভাবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সংস্কৃতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

(গ) আইন অমান্য আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণীকে সংগঠিত করতে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের কি ভূমিকা ছিল ?

উত্তরঃ ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণীকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের ভূমিকা কিছুটা মিশ্র ও সীমাবদ্ধ ছিল।

কংগ্রেসের দ্বিমুখী নীতি: গান্ধীজি তথা জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতারা পুঁজিপতি বা শিল্পপতিদের বড় আর্থিক সহায়তাকারী মনে করতেন। তাই তাঁরা এমন কোনো শ্রমিক আন্দোলন চাননি যা দেশীয় শিল্পপতিদের স্বার্থে আঘাত করে।

শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ: কংগ্রেস সরাসরি বড় কোনো শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক না দিলেও বোম্বাই, কলকাতা এবং মাদ্রাজের শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যোগ দেয়। বোম্বাইয়ের বস্ত্রশিল্পের শ্রমিকরা বিদেশি বস্ত্র বর্জনের ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমেছিল।

স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা: সোলাপুর, কিশোরগঞ্জ বা করাচির মতো জায়গায় স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীরা বামপন্থী নেতাদের সাথে মিলে শ্রমিকদের সংগঠিত করেছিলেন।

উপসংহার: সামগ্রিকভাবে কংগ্রেস শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা অপেক্ষা জাতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। ফলে আন্দোলনের শেষের দিকে শ্রমিকদের একটি বড় অংশ কংগ্রেসের থেকে দূরত্ব তৈরি করে বামপন্থী দলগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ে।

(ঘ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তরঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ (University College of Science and Technology) প্রতিষ্ঠা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল।

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট: ১৯১৪ সালের ২৭ মার্চ তৎকালীন উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই বিজ্ঞান কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

দানশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা: এই কলেজটি গড়ে তোলার জন্য জমি ও বিপুল অর্থ দান করেছিলেন স্যার তারকনাথ পালিত এবং স্যার রাসবিহারী ঘোষ। তাঁদের এই মহৎ দানের কারণে কলেজের দুটি প্রধান শাখার নামকরণ করা হয় তাঁদের নামে।

কৃতি বিজ্ঞানীদের সমাগম: এখানে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সি. ভি. রমন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহার মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীরা শিক্ষকতা ও মৌলিক গবেষণা শুরু করেন। সি. ভি. রমন এখানেই তাঁর নোবেলজয়ী ‘রমন এফেক্ট’ নিয়ে কাজ করেছিলেন।

উপসংহার: সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে এবং সরকারি অনুদান ছাড়াই বিজ্ঞান চর্চাকে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিল।

৭। একটি প্রশ্নের পনেরো/ষোলটি বাক্যে উত্তর দাও : ৮x১=৮

(ক) আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষকদের অংশগ্রহণের বিবরণ দাও।

উত্তরঃ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ১৯৩০-এর দশকের ‘আইন অমান্য আন্দোলন’ এবং ১৯৪২-এর ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’-এ কৃষক শ্রেণীর অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও গণমুখী।

∆ আইন অমান্য আন্দোলনে কৃষকদের ভূমিকা (১৯৩০-৩৪)—

(i) গান্ধীজির ডান্ডি অভিযানের পর ভারতের বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষকরা কর বা খাজনা বন্ধের আন্দোলন শুরু করে।

(ii) উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলি ও বারাবাঁকিতে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে কৃষকরা জমিদারের খাজনা এবং সরকারের রাজস্ব দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

(iii) গুজরাটের বারদোলি ও খেদা অঞ্চলে পতিদার কৃষকরা সরকারের দমননীতি উপেক্ষা করে কর বয়কট আন্দোলনকে তীব্র করে তোলে।

(iv) বাংলার মেদিনীপুর (বিশেষত কাঁথি ও তমলুক), আরামবাগ এবং ২৪ পরগনায় কৃষকরা চৌকিদারি কর ও ইউনিয়ন বোর্ড ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং লবণ আইন অমান্য করে।

∆ ভারত ছাড়ো আন্দোলনে কৃষকদের ভূমিকা (১৯৪২)—

(v) ১৯৪২ সালের আগস্ট মাসে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হলে গ্রামীণ ভারতের কৃষকরা এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।

(vi) বিহার ও উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে কৃষকরা ব্যাপক হিংসাত্মক আন্দোলনে মেতে ওঠে; তারা রেললাইন উপড়ে ফেলে, থানা ও পোস্ট অফিসে আগুন দেয় এবং সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে।

(vii) বাংলায় মেদিনীপুরের তমলুকে কৃষকরা ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ গঠন করে এবং অজয় মুখোপাধ্যায়, সতীশ সামন্তের নেতৃত্বে সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা চালায়।

(viii) সাতারা (মহারাষ্ট্র), বালিয়া (উত্তরপ্রদেশ) এবং তালচের (ওড়িশা)-এর মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কৃষকরা নিজস্ব স্বাধীন সরকার গড়ে তোলে।

মূল্যায়ন: আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলন—উভয় ক্ষেত্রেই গ্রামীণ কৃষকরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। শোষণের হাত থেকে মুক্তি এবং দেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এই দুই আন্দোলনে কৃষকদের অংশগ্রহণকে ঐতিহাসিক রূপ দিয়েছিল।

(খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য রচনায় জাতীয়তাবাদের প্রকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।

উত্তরঃ উনিশ ও বিশ শতকে বাংলায় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল।

∆ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যে জাতীয়তাবাদ—

(i) বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বাংলার ঋষি’ বা ‘জাতীয়তাবাদের গুরু’ বলা হয়। তাঁর রাজনৈতিক উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’ (১৮৮২) ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রধান উৎস।

(ii) এই উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত ‘বন্দে মাতরম্’ সঙ্গীতটি সমগ্র ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মূল মন্ত্র বা রণধ্বনিতে পরিণত হয়েছিল।

(iii) তিনি দেশকে কেবল মানচিত্র হিসেবে না দেখে, ‘দেশমাতা’ বা ‘জগদ্ধাত্রী-দুর্গা’ রূপে কল্পনা করে দেশবাসীর মনে গভীর আবেগ ও ভক্তির জন্ম দেন।

(iv) তাঁর ‘দেবী চৌধুরানী’ ও ‘সীতারাম’ উপন্যাসেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং স্বাদেশিকতার আদর্শ তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

∆ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যে জাতীয়তাবাদ—

(v) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ (১৯১০) উপন্যাসটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ দলিল। এই উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি সংকীর্ণ হিন্দু জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে এক উদার ও সর্বজনীন মানবতাবাদী জাতীয়তাবাদের রূপরেখা তুলে ধরেন।

(vi) ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় তাঁর লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ প্রভৃতি গান বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সাহায্য করেছিল।

(vii) তাঁর ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসে তিনি স্বদেশি আন্দোলনের উন্মাদনা এবং তার অন্তরালে থাকা কিছু বাস্তব ত্রুটিকেও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরেছেন।

(viii) এছাড়া তাঁর ‘স্বদেশী সমাজ’ প্রবন্ধে তিনি বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর না করে আত্মশক্তির ওপর ভর করে গ্রামোন্নয়ন ও স্বনির্ভর সমাজ গঠনের কথা বলেন।

উপসংহার: বঙ্কিমচন্দ্র যেখানে দেশমাতৃকার চরণে আত্মত্যাগের মন্ত্র দিয়ে বীরত্বপূর্ণ জাতীয়তাবাদের জন্ম দিয়েছিলেন, রবীন্দ্রনাথ সেখানে জাতীয়তাবাদকে বিশ্বমানবতা ও সংস্কৃতির আঙিনায় এক উদার রূপ দান করেছিলেন।

(গ) শিক্ষার প্রসারে শান্তি নিকেতনের ভূমিকা বিবৃত করো।

উত্তরঃ ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে এবং প্রকৃতির কোলে মুক্ত শিক্ষার প্রসারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল।

∆ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য—

(i) রবীন্দ্রনাথ তৎকালীন চার দেওয়ালে বন্দি ইংরেজদের তৈরি যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে পছন্দ করতেন না। তিনি মনে করতেন শিক্ষা হওয়া উচিত আনন্দময় এবং প্রকৃতির সাথে নিবিড় যোগযুক্ত।

(ii) এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে বীরভূমের বোলপুরের কাছে শান্তিনিকেতনে ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ নামক একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে ১৯২১ সালে ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’-এ রূপ নেয়।

∆ শিক্ষার প্রসারে শান্তিনিকেতনের ভূমিকা—

(iii) প্রকৃতির কোলে শিক্ষা: শান্তিনিকেতনে উন্মুক্ত আকাশের নিচে, গাছের তলায় ক্লাস নেওয়ার প্রথা চালু ছিল, যা শিক্ষার্থীর মনকে সংকীর্ণতার হাত থেকে মুক্ত করত।

(iv) প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিলন: রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনকে এমন এক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন যেখানে পূর্ব ও পশ্চিমের সংস্কৃতির মিলন ঘটবে। তাঁর আদর্শ ছিল—”যত্র বিশ্বং ভবত্যেকনীড়ম্” (যেখানে সমগ্র বিশ্ব একটি নীড়ে পরিণত হয়)।

(v) সমন্বিত শিক্ষা: এখানে কেবল পুঁথিগত শিক্ষা নয়, সংগীত, নৃত্য, চিত্রকলা, নাটক এবং হাতের কাজের ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হতো। ‘কলাভবন’ ও ‘সঙ্গীতভবন’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি শিল্পশিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

(vi) পল্লী পুনর্গঠন ও শ্রীনিকেতন: শিক্ষার সাথে গ্রামীণ জীবনের উন্নয়নকে যুক্ত করতে ১৯২২ সালে তিনি শান্তিনিকেতনের কাছে ‘শ্রীনিকেতন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে কৃষিকাজ, কুটির শিল্প এবং সমাজকল্যাণের ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হতো।

(vii) উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষা: শান্তিনিকেতনে বৃক্ষরোপণ, বর্ষামঙ্গল, বসন্তোৎসব ও পৌষ মেলার মতো উৎসবের আয়োজন করা হতো, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির রূপ বদলের সাথে সাথে মানবিক মূল্যবোধে দীক্ষিত করত।

উপসংহার: শান্তিনিকেতন কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না, এটি ছিল মানুষের সামগ্রিক বিকাশের এক পরীক্ষাগার। বিশ্বভারতীর রূপ ধারণ করে এটি বিশ্বের দরবারে ভারতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।

📌 আরো দেখুনঃ

📌দশম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 মাধ্যমিক সমস্ত বিষয় প্রশ্নপত্র Click Here

Leave a Comment