‘একুশের তাৎপর্য’ গল্পের প্রশ্ন উত্তর সপ্তম শ্রেণি বাংলা | Ekuser Tatporjo Golper Question Answer Class 7 Bengali wbbse

‘একুশের তাৎপর্য’ গল্পের প্রশ্ন উত্তর সপ্তম শ্রেণি বাংলা | Ekuser Tatporjo Golper Question Answer Class 7 Bengali wbbse

একুশের তাৎপর্য
—আবুল ফজল

এবং

নানান দেশে নানান ভাষা
—রামনিধি গুপ্ত

‘একুশের তাৎপর্য’ গল্পের লেখক পরিচিতি, বিষয় সংক্ষেপ, নামকরণ, অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর সপ্তম শ্রেণির বাংলা | Ekuser Tatporjo Golper Question Answer Class 7 Bengali wbbse

‘একুশের তাৎপর্য’ গল্পের লেখক পরিচিতি, বিষয় সংক্ষেপ, নামকরণ, অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর সপ্তম শ্রেণির বাংলা | Ekuser Tatporjo Golper Question Answer Class 7 Bengali wbbse

📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ

📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here

‘একুশের তাৎপর্য’ গল্পের লেখক পরিচিতি, বিষয় সংক্ষেপ, নামকরণ, অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর সপ্তম শ্রেণির বাংলা | Ekuser Tatporjo Golper Question Answer Class 7 Bengali wbbse

একুশের তাৎপর্য
—আবুল ফজল

ভাষা কী ও কেন, ভাষা দিয়ে কী হয় ব্যক্তি আর জাতির ? ভাষা না হলে আর না থাকলে কী চলে না ? এসব প্রশ্নের উত্তরেই নিহিত রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি তথা ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য। ভাষাই মানুষকে মানুষ করে তোলে-ভাষা ছাড়া মানুষ ভাবতে পারে না, কল্পনা করতে পারে না, পারে না চিন্তা করতে পর্যন্ত। মানুষ একই সঙ্গে প্রকাশ আর বিকাশধর্মী জীব। ভাষা ছাড়া মানুষ নিজেকে প্রকাশ করতে অক্ষম, মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশও ভাষাকে অবলম্বন করেই ঘটে। তাই ব্যক্তির ব্যক্তি হয়ে উঠতেই চাই ভাষা। ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিজীবনের বিকাশও ঘটে ভাষার সাহায্যেই।

ভাষা ছাড়া জাতিও জাতি হয়ে উঠতে পারে না-বিশেষ একটা ভাষাকে কেন্দ্র করেই জাতীয় সত্তা রূপ পায় ও গড়ে ওঠে। এ বিশেষ ভাষা যে মাতৃভাষা তাতে সন্দেহ নেই। কাজেই ব্যক্তি-জীবন ও জাতীয় জীবন উভয় ক্ষেত্রেই মাতৃভাষা ও মাতৃভাষার সাহিত্য অপরিহার্য। জাতির সাহিত্য, শিল্প, সভ্যতা, সংস্কৃতি সব কিছুরই প্রাণ হচ্ছে তার মাতৃভাষা ও মাতৃভাষার সাহিত্য। তাই মাতৃভাষার ইজ্জত আর অস্তিত্ব নিয়ে কোনো আপস চলে না। প্রাণ আর রক্তের বিনিময়ে হলেও মাতৃভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হয়। মাতৃভাষার দাবি স্বভাবের দাবি, মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার দাবি। এ দাবি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেই একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদেরা প্রাণ দিয়েছিলেন-প্রাণ দিয়ে তাঁরা শুধু আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকেই বাঁচাননি, আমাদেরও বাঁচার পথ করে দিয়েছেন। তাই তাঁরা ও তাঁদের স্মৃতি চিরস্মরণীয়। ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়ার এমন অনন্য দৃষ্টান্ত পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদেরা আমাদের অনন্য গৌরব ও আমাদের গর্ব।

একুশে ফেব্রুয়ারির অশ্রুসিক্ত ইতিহাস প্রতি বছর ফিরে এসে আমাদের সে কথা স্মরণ করিয়ে দেয় আর স্মরণ করিয়ে দেয় মাতৃভাষার প্রতি আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব। একুশে ফেব্রুয়ারিকে সার্থক করতে হলে একুশে ফেব্রুয়ারির এ তাৎপর্য বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে বছরের শুধু এক দিন নয়; সারা বছর ধরেই।

লেখক পরিচিতিঃ আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩) : জন্ম চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ। সমাজ ও সমকাল সচেতন প্রাবন্ধিক ও কথাশিল্পী। উপন্যাস, ছোটোগল্প, নাটক লিখেছেন অনেকগুলি। ‘রেখাচিত্র’ গ্রন্থের জন্য ‘আদমজি পুরস্কার’ লাভ করেন। সম্পাদনা করেছেন ‘শিখা’ পত্রিকা। রচনাংশটি তাঁর ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ গ্রন্থ থেকে গৃহীত।

একুশের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতাঃ

বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য, চেতনাদীপ্ত, অমর অক্ষয় অধ্যায় হল ২১ শে ফেব্রুয়ারী। রক্তে রঞ্জিত এই ২১ শে ফেব্রুয়ারীতেই মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রাখতে বাংলার কিছু তরুন তাজা প্রাণ অকাতরে আত্মোৎসর্গ করে বাংলার ইতিহাসে লাভ করেছে অমরত্ব, তাই এই দিনটি বাঙালি জাতীয়তাবোধের নবজন্মের দিন। এই দিনটির সাথে নির্যাতিত শোষিত ও বঞ্চিত বাঙালি জাতির এক করুন ইতিহাস জড়িত। প্রতিবছর ভাষা আন্দোলনের বেদনা-বিধুর স্মৃতি ও সংগ্রামী চেতনার অমিয় ধারাকে বহন করে একুশে ফেব্রুয়ারী আমাদের দ্বারে ফিরে আসে। জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটাবার ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য অপরিসীম।

২১এর ইতিহাসঃ একুশে ফেব্রুয়ারীর ইতিহাস খুবই বেদনাবহ, বাঙালীর জাতীয় জীবনে ১৯৫২ এর ফেব্রুয়ারী এক ক্রান্তিলগ্ন, তখন পাকিস্তান শাসনামল, ১৯৪৮ সালে ২১ শে মার্চ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রথম গর্ভনর জেনারেল মোহম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় ঘোষনা করেন “Urdu only, and Urdu shall be the state language of Pakistan” এর তিনদিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্জন হলে এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একই কথা জোরের সঙ্গে ঘোষনা করলে বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হলে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে, কিন্তু শত প্রতিবাদ সত্ত্বেও জিন্নাহ এতে কোন কর্ণপাত করেননি। এই ঘটনার প্রতিবাদে ৪ঠা ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ সালে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়,ষ। সমগ্র পূর্ব বাংলায় ২১ শে ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের কর্মসূচী ঘোষণা হলে, ছাত্র-জনতার মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া জাগে।
২০ ফ্রেব্রুয়ারী মধ্য রাত থেকে সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা অংশ নেয়। মূহুর্তের মধ্যেই জনসমুদ্রের রূপ ধারণ করে। মিছিলের রুপ দেখে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন আন্দোলনকারীদের উপর গুলি বর্ষনের নির্দেশ দেন, গুলিতে শহীদ হয় বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার, সফিউর সহ আরো অনেকে। এতে সারা বাংলায় প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। অবশেষে রাজশক্তি মেনে নেয় বাঙালির প্রানের দাবি, বাংলা স্বীকৃতি পায় অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে।

একুশের তাৎপর্যঃ একুশে ফেব্রুয়ারীর তাৎপর্য শুধু শহীদ দিবস পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা জাতীয় জীবনে সর্বত্র প্রচন্ডভাবে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়, একুশের আন্দোলন শুধু একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিল না, এর তীব্রতা ক্রমশই ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মণ্ডলে। একুশে ফেব্রুয়ারীর দিয়েছে গনতন্ত্রের চেতনা, সাম্যের চেতনা। শিখিয়েছে অধিকার প্রতিষ্ঠার লডাইয়ে অবতীর্ণ হতে। সবার মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন রচনা করে ভাষার মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে।

∆ অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তরঃ একুশের তাৎপর্য গল্প সপ্তম শ্রেণি বাংলা | Extra Question Answer Ekuser Tatporjo Class 7 Bengali wbbse

১। শূন্যস্থান পূরণ করো :

১.১ একুশে ________ হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

উত্তরঃ ফেব্রুয়ারি।

১.২ ________ কে অবলম্বন করেই মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ ঘটে।

উত্তরঃ ভাষা।

১.৩ ভাষা ছাড়া কোনো জাতিও ________ হয়ে উঠতে পারে না।

উত্তরঃ জাতি।

১.৪ প্রাণ আর রক্তের বিনিময়ে হলেও ____________ দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হয়।

উত্তরঃ মাতৃভাষার।

১.৫ একুশে ফেব্রুয়ারির ________ আমাদের অনন্য গৌরব ও আমাদের গর্ব।

উত্তরঃ শহিদরা।

২। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো।

২.১ ভাষা ছাড়া মানুষ (ভাবতে পারেনা / কল্পনা করতে পারে না / চিন্তা করতে পারে না / উপরের সব কটিই)।

উত্তরঃ উপরের সব কটিই

২.২ মাতৃভাষার ইজ্জত আর অস্তিত্ব নিয়ে চলে না (ঝগড়া / বিবাদ / আপস / কোনোটিই নয়)।

উত্তরঃ আপস।

২.৩ একুশের তাৎপর্য গদ্যের রচয়িতা হলেন
(আবুল ফজল / আশরাফ সিদ্দিকী / কেদারনাথ সিং / কোনোটিই ন)য়

উত্তরঃ আবুল ফজল।

২.৪ একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদদের প্রাণ দিয়েছিলেন (ইংরেজি ভাষার জন্য / বাংলা ভাষার জন্য / হিন্দি ভাষার জন্য / উর্দু ভাষার জন্য)।

উত্তরঃ বাংলা ভাষার জন্য।

২.৫ ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিজীবনের বিকাশ ঘটে
(পরিশ্রমের মাধ্যমে / শিক্ষার মাধ্যমে / ভাষার সাহায্যে / সমাজের মাধ্যমে)।

উত্তরঃ ভাষার সাহায্যে।

৩। একটি বাক্যে উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. একুশের তাৎপর্য রচনাটি আবুল ফজলের কোন গ্রন্থ থেকে গৃহীত ?

উত্তরঃ ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’।

২. ভাষা কী ?

উত্তরঃ ভাষা হল ভাব বিনিময়ের মাধ্যম।

৩. ভাষা কেন মানুষের জীবনে অপরিহার্য?

উত্তরঃ ভাষা ছাড়া মানুষ ভাবতে, কল্পনা করতে ও নিজেকে প্রকাশ করতে পারে না বলে ভাষা মানুষের জীবনে অপরিহার্য।

৪. ব্যক্তি হয়ে উঠতে মানুষের কী প্রয়োজন?

উত্তরঃ ব্যক্তি হয়ে উঠতে মানুষের ভাষার প্রয়োজন।

৫. জাতীয় সত্তা কীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে?

উত্তরঃ জাতীয় সত্তা বিশেষ একটি ভাষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।

৬. একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদেরা কেন প্রাণ দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদেরা মাতৃভাষা বাংলার দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন।

৭. একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য কবে আমাদের মনে রাখা উচিত?

উত্তরঃ একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য শুধু একদিন নয়, সারা বছর ধরেই আমাদের মনে রাখা উচিত।

৪। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-২

১. ভাষা কেন মানুষকে মানুষ করে তোলে?

উত্তরঃ ভাষা ছাড়া মানুষ ভাবতে, কল্পনা করতে ও চিন্তা করতে পারে না। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ নিজেকে প্রকাশ করে এবং তার মানসিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটে। তাই ভাষাই মানুষকে মানুষ করে তোলে।

২. ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব গঠনে ভাষার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ ভাষার সাহায্যেই মানুষের ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিজীবনের বিকাশ ঘটে। ভাষা ছাড়া মানুষ নিজেকে প্রকাশ করতে পারে না এবং পূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে পারে না।

৩. মাতৃভাষা জাতির জীবনে কেন অপরিহার্য?

উত্তরঃ মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করেই একটি জাতির জাতীয় সত্তা গড়ে ওঠে। জাতির সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও সভ্যতার প্রাণ হচ্ছে তার মাতৃভাষা।

৪. একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য কী?

উত্তরঃ একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদেরা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলে শুধু বাংলা ভাষাই নয়, আমাদের জাতিসত্তা ও বেঁচে থাকার অধিকারও রক্ষা পেয়েছে।

৫. একুশে ফেব্রুয়ারিকে সার্থক করতে আমাদের করণীয় কী?

উত্তরঃ একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। শুধু একদিন নয়, সারা বছর ধরেই মাতৃভাষার প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।

৬. ভাষার গুরুত্ব কোথায় ?

উত্তরঃ ভাষাই মানুষকে মানুষ করে তোলে— ভাষা ছাড়া মানুষ ভাবতে পারে না, কল্পনা করতে পারে না, চিন্তাও করতে পারে না।

৭. ব্যক্তির বিকাশে ভাষার গুরুত্ব কোথায় ?

উত্তরঃ ভাষা ছাড়া মানুষ নিজেকে প্রকাশ করতে অক্ষম, মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশও ভাষাকে অবলম্বন করে ঘটে। তাই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠতে চাই ভাষা।

৮. জাতির বিকাশে ভাষার গুরুত্ব কোথায় ?

উত্তরঃ ভাষা ছাড়া জাতিও জাতি হয়ে উঠতে পারে না—বিশেষ একটা ভাষাকে কেন্দ্র করেই জাতীয় সত্তা রূপ পায় ও গড়ে ওঠে। এ-বিশেষ ভাষা যে মাতৃভাষা তাতে সন্দেহ নেই। কাজেই ব্যক্তি-জীবন ও জাতীয় জীবন উভয় ক্ষেত্রেই মাতৃভাষা ও মাতৃভাষার সাহিত্য অপরিহার্য।

নানান দেশে নানান ভাষা
—রামনিধি গুপ্ত

নানান দেশে নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা পূরে কি আশা?
কত নদী সরোবর, কিবা ফল চাতকীর
ধরা জল বিনে কভু ঘুচে কি তৃষা।

রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯) : টপ্পা গানের অন্যতম প্রবর্তক। আখড়াই গানেরও তিনি আদিপুরুষ। তাঁর প্রধান গীতিগ্রন্থ ‘গীতরত্ন’। রামনিধি গুপ্ত সাধারণত নিধু বাবু নামে পরিচিত, বাংলা টপ্পা গানের অন্যতম প্রবর্তক ও সংস্কারক। তার পূর্ব পর্যন্ত টপ্পা এক ধরনের অরুচিকর গান হিসেবে বিবেচিত হতো। তার গানের ভক্তরা অধিকাংশই সেকালের ধনাঢ্য সম্ভ্রান্ত ছিলেন। পরবর্তীকালে, ভগিনী নিবেদিতা তার লেখা গানের প্রভূত প্রশংসা করেছিলেন। এদেশে তিনিই প্রথম ইংরেজি অভিজ্ঞ কবিয়াল এবং প্রথম স্বাদেশিক সঙ্গীতের রচয়িতা। তার গানের ছত্র– “নানান দেশের নানান ভাষা / বিনে স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা” – বাংলায় প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। আখড়াই গানেরও তিনি আদি পুরুষ। তাঁর প্রধান গীতিগ্রন্থ ‘গীতরত্ন’।

গানের মূল ভাব : আমাদের নানা দেশ আর নানা দেশে নানা ভাষা। প্রত্যেকটি দেশের কাছে তার নিজের ভাষা একমাত্র আশা-ভরসা। অন্য কোনো ভাষা তার আশাকে পূর্ণ করতে পারে না। যেমন কত নদী, সরোবর থাকা সত্ত্বেও বৃষ্টির জল না হলে চাকপাখির আশা পূর্ণ হয় না। ঠিক তেমনি নিজের মাতৃভাষা ছাড়া চলে না কিছুই।

∆ প্রশ্নোত্তরঃ নানান দেশে নানান ভাষা সপ্তম শ্রেণি বাংলা | Nanan Deshe Nanan Bhasa Class 7 Bengali wbbse

১. “নানান দেশে নানান ভাষা” গানটির রচয়িতা কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) রামনিধি গুপ্ত
(গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

উত্তরঃ (খ) রামনিধি গুপ্ত

২. রামনিধি গুপ্ত সাধারণত কোন নামে পরিচিত?
(ক) নিধু বাবু (খ) নিধুবাবু দত্ত (গ) নিধান গুপ্ত (ঘ) নিধু কবি

উত্তরঃ (ক) নিধু বাবু

৩. রামনিধি গুপ্ত কোন ধরনের গানের অন্যতম প্রবর্তক ও সংস্কারক ছিলেন?
(ক) কীর্তন (খ) ভাওয়াইয়া (গ) টপ্পা (ঘ) বাউল

উত্তরঃ (গ) টপ্পা

৪. রামনিধি গুপ্তের প্রধান গীতিগ্রন্থের নাম কী?
(ক) গীতাঞ্জলি (খ) গীতরত্ন (গ) সঙ্গীতমালা (ঘ) রাগরাগিণী

উত্তরঃ (খ) গীতরত্ন

৫. কবিতায় ‘চাতক পাখি’র উদাহরণ দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) বিদেশি ভাষার গুরুত্ব
(খ) প্রকৃতির সৌন্দর্য
(গ) মাতৃভাষার অপরিহার্যতা
(ঘ) নদী ও সরোবরের প্রয়োজনীয়তা

উত্তরঃ (গ) মাতৃভাষার অপরিহার্যতা

∆ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. নানা দেশে নানা ভাষায় সঙ্গীতটি কার রচনা ?

উত্তরঃ রামনিধি গুপ্ত।

২. রামনিধি গুপ্ত কোন গান সংস্কার করেছিলেন ?

উত্তরঃ টপ্পা গান।

৩. তাঁর প্রধান গীতিগ্রন্থ নাম কী ?

উত্তরঃ ‘গীতরত্ন’।

৪. রামনিধি গুপ্ত কত সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ?

উত্তরঃ ১৭৪১ খ্রিস্টাব্দে ৬ এপ্রিল।

৫. রামনিধি গুপ্ত বাংলা সঙ্গীতে আর কোন গানের আদিপুরুষ হিসেবে পরিচিত?

উত্তরঃ আখড়াই গান।

∆ সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২

১. “নানান দেশে নানান ভাষা” গানটি কার রচনা এবং তিনি কী নামে বেশি পরিচিত?

উত্তরঃ “নানান দেশে নানান ভাষা” গানটির রচয়িতা রামনিধি গুপ্ত। তিনি সাধারণত নিধু বাবু নামে পরিচিত।
তিনি বাংলা টপ্পা গানের অন্যতম প্রবর্তক ও সংস্কারক ছিলেন।

২. রামনিধি গুপ্ত বাংলা সঙ্গীতে কী কী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন?

উত্তরঃ রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পা গানকে জনপ্রিয় ও রুচিশীল করে তোলেন। তিনি আখড়াই গানেরও আদিপুরুষ। তাঁর মাধ্যমে বাংলা সঙ্গীতে নতুন ধারা ও ভাবের সংযোজন হয়।

৩. রামনিধি গুপ্তের প্রধান গীতিগ্রন্থের নাম কী এবং তার গুরুত্ব কী?

উত্তরঃ রামনিধি গুপ্তের প্রধান গীতিগ্রন্থের নাম ‘গীতরত্ন’। এই গ্রন্থে তাঁর রচিত বহু টপ্পা গান সংকলিত আছে। এটি বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।

৪. কবিতায় চাতক পাখির উদাহরণ দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ কবিতায় বলা হয়েছে, চাতক পাখি নদী বা সরোবরের জল পান করে না, সে শুধু বৃষ্টির জলের অপেক্ষা করে। এই উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে মাতৃভাষার মতো নিজের ভাষার বিকল্প কিছু হতে পারে না।

৫. “নানান দেশে নানান ভাষা” গানের মূল ভাব কী?

উত্তরঃ গানের মূল ভাব হলো-প্রত্যেক মানুষের কাছে তার নিজের মাতৃভাষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ভাষা যতই সমৃদ্ধ হোক, মাতৃভাষার অভাব পূরণ করতে পারে না। তাই স্বদেশীয় ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রথম ইউনিট টেস্ট বাংলা প্রশ্নোত্তর

ছন্দে শুধু কান রাখো কবিতার প্রশ্ন উত্তর

পাগলা গনেশ গল্পের বিষয়বস্তু

পাগলা গনেশ গল্পের প্রশ্ন উত্তর

বঙ্গভূমির প্রতি কবিতার বিষয়বস্তু

বঙ্গভূমির প্রতি কবিতার প্রশ্ন উত্তর

মাতৃভাষা কবিতার প্রশ্ন উত্তর

একুশের কবিতা প্রশ্ন উত্তর

আত্মকথা গল্পের বিষয়বস্তু

আত্মকথা গল্পের প্রশ্ন উত্তর

আঁকা লেখা কবিতার প্রশ্ন উত্তর

খোকনের প্রথম ছবি প্রশ্ন উত্তর

কুতুবমিনারের কথা প্রশ্ন উত্তর

মাকু প্রথম ও দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

মাকু হাতে কলমে প্রশ্ন উত্তর

ভাষাচর্চা প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

📌 আরো দেখুনঃ

📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ

📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here

📌 অন্যান্য ক্লাসের বাংলা প্রশ্নোত্তরঃ

📌পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply

  • Post comments:0 Comments
  • Reading time:11 mins read