Class 7 History 2nd Unit Test Question with Answer 2026 wbbse | সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৬

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 7 (VII) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER

Class 7 History 2nd Unit Test Question with Answer 2026 wbbse | সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৬

📌 সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬
সপ্তম শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস

পূর্ণমান-৫০          সময় : ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট

১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে খাতায় লেখ (যে-কোনো ৭টি) : ১×৭=৭

(ক) ‘সড়ক-ই-আজম’ রাস্তাটি নির্মাণ করেন— (আকবর / শেরশাহ / আদিল শাহ / বাবর)।

(খ) ভারত থেকে ইউরোপে রপ্তানি করা হত— (নীল / তামা / রুপো / সোনা)।

(গ) ‘খুতবা’ কথাটির অর্থ হল— (পবিত্র / ভাষণ / কবিতা / গান)।

(ঘ) মহম্মদ বিন তুঘলক দ্বিতীয় রাজধানী তৈরি করেন— (দৌলতাবাদে / লখনৌতিতে / রামবতীতে / রামগড়ে)।

(ঙ) দিল্লি শহরের প্রধান জলপথ ছিল— (গঙ্গা নদী / যমুনা নদী / করতোয়া নদী / কাবেরী নদী)।

(চ) মোঘল আমলে সবথেকে ছোটো ঘরকে বলা হত— (হাভেলি / মকান / কোঠরি / নেহর-ই বিহিশত্)।

(ছ) নিজামউদ্দিন আউলিয়া ছিলেন একজন— (ঐতিহাসিক / কবি / আমির / সুফি সাধক)।

(জ) বিলগ্রামের যুদ্ধ হয়েছিল— (১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে / ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে / ১৫৪১ খ্রিস্টাব্দে / ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে)।

২. বেমানান শব্দটি খুঁজে বের করো (যেকোনো ৩টি) : ১×৩=৩
(ক) তঙ্কা, মোহর, হুন্ডি, জিতল।
(খ) ইলতুৎমিশ, রাজিয়া, ইবন বতুতা, বলবন।
(গ) তুঘলকাবাদ, বাগদাদ, ফিরোজাবাদ, শাহজাহানাবাদ।
(ঘ) পাণ্ডুয়া, চট্টগ্রাম, গৌড়, বুরহানপুর।

৩. অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (যে-কোনো ৬টি) : ১×৬=৬
(ক) মনসবদারি প্রথা কে প্রবর্তন করেন ?
(খ) সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ?
(গ) কে ‘সিজদা’ প্রথা চালু করেছিলেন ?
(ঘ) কত সালে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় ?
(ঙ) বাহমনি রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল ?
(চ) মালিক কাফুর কে ছিলেন ?
(ছ) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে হয় ?
(জ) ইবন বতুতা কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন ?

৪. শূন্যস্থান পূরণ করো (যেকোনো ৪টি) : ১×৪=৪
(ক) জাহাঙ্গিরের আমলে শিখ গুরু ___________ কে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।
(খ) সুলতান হোসেন শাহ ছিলেন ___________ এর ভক্ত।
(গ) আকবরের মৃত্যু হয় ___________ খ্রিস্টাব্দে।
(ঘ) আহমেদনগরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ___________।
(ঙ) ‘অল-রিহলা’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন ___________।
(চ) ___________ খ্রিস্টাব্দে ‘খানুয়ার যুদ্ধ’ হয়।

৫. দুই-তিনটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যেকোনো ৪টি) : ২×৪=৮
(ক) হুন্ডি কী ?
(খ) ‘পাট্টা’ ও ‘কবুলিয়ত’ বলতে কী বোঝো ?
(গ) ঘর্ঘরার যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে কাদের মধ্যে হয়েছিল ?
(ঘ) মোঘলরা কেন নিজেদের বাদশাহ বলতেন ?
(ঙ) কে, কত সালে ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন ?
(চ) ‘সুলহ্-ই কুল’ বলতে কী বোঝো ?

৬. পাঁচ-ছয়টি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যেকোনো ৪টি) : ৩×৪=১২
(ক) দিল্লি শহরে জলের সমস্যা প্রধান সমস্যা ছিল কেন ?
(খ) টীকা লেখো : দাক্ষিণাত্য ক্ষত।
(গ) টীকা লেখো : মুঘল-আফগান যুদ্ধ।
(ঘ) সুলতান ইলতুৎমিশের সামনে প্রধান তিনটি সমস্যা কী ছিল ?
(ঙ) ‘বারোভূঁইয়া’ কাদের বলা হত এবং তারা কার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল ?
(চ) ইকতা ও ইকতাদার বলতে কী বোঝায় ?

৭. আট-দশটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যেকোনো ২টি) : ৫×২=১০

(ক) আলাউদ্দিন খলজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণ নীতি আলোচনা করো।

(খ) শেরশাহের সংস্কারগুলি সংক্ষেপে লেখো।

(গ) মহম্মদ বিন তুঘলকের পরিকল্পনাগুলি আলোচনা করো।

(ঘ) দিল্লির সুলতানদের আমলে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার কেন ঘটেছিল ?

ইতিহাস প্রশ্নপত্র ২০২৫ সেট-১

ইতিহাস প্রশ্নপত্র ২০২৫ সেট-২

—সমস্ত প্রশ্নের উত্তর—

১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:

(ক) ‘সড়ক-ই-আজম’ রাস্তাটি নির্মাণ করেন— শেরশাহ।

(খ) ভারত থেকে ইউরোপে রপ্তানি করা হত— নীল।

(গ) ‘খুতবা’ কথাটির অর্থ হল— ভাষণ।

(ঘ) মহম্মদ বিন তুঘলক দ্বিতীয় রাজধানী তৈরি করেন— দৌলতাবাদে।

(ঙ) দিল্লি শহরের প্রধান জলপথ ছিল— যমুনা নদী।

(চ) মোঘল আমলে সবথেকে ছোটো ঘরকে বলা হত— কোঠরি।

(ছ) নিজামউদ্দিন আউলিয়া ছিলেন একজন— সুফি সাধক।

(জ) বিলগ্রামের যুদ্ধ হয়েছিল— ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে।

২. বেমানান শব্দটি খুঁজে বের করো:

(ক) হুন্ডি (বাকি তিনটি হলো সুলতানি ও মুঘল আমলের মুদ্রা বা কয়েন, আর হুন্ডি ছিল এক ধরণের টাকার বিনিময়পত্র বা চেক)।

(খ) ইবন বতুতা (বাকি তিনজন ছিলেন দিল্লির সুলতান বা শাসক, আর ইবন বতুতা ছিলেন একজন বিদেশি পর্যটক)।

(গ) বাগদাদ (বাকি তিনটি ভারতের দিল্লির প্রাচীন শহর বা রাজধানী এলাকা, আর বাগদাদ হলো ইরাকের শহর)।

(ঘ) বুরহানপুর (বাকি তিনটি মধ্যযুগীয় বাংলার বিখ্যাত শহর বা বন্দর, আর বুরহানপুর হলো মধ্যপ্রদেশের অন্তর্গত দাক্ষিণাত্যের শহর)।

৩. অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:

(ক) মনসবদারি প্রথা প্রবর্তন করেন মোঘল সম্রাট আকবর।

(খ) সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন খিজির খান।

(গ) সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ‘সিজদা’ প্রথা চালু করেছিলেন।

(ঘ) ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়।

(ঙ) বাহমনি রাজ্যের রাজধানী ছিল গুলবর্গা (পরবর্তীকালে বিদর)।

(চ) মালিক কাফুর ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন খলজির সেনাপতি ও বিশ্বস্ত অনুচর।

(ছ) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে হয়।

(জ) ইবন বতুতা উত্তর আফ্রিকার মরক্কো দেশের অধিবাসী ছিলেন।

৪. শূন্যস্থান পূরণ করো :

(ক) জাহাঙ্গিরের আমলে শিখ গুরু অর্জুন-কে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।

(খ) সুলতান হোসেন শাহ ছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব-এর ভক্ত।

(গ) আকবরের মৃত্যু হয় ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে।

(ঘ) আহমেদনগরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মালিক অম্বর।

(ঙ) ‘অল-রিহলা’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন ইবন বতুতা।

(চ) ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে ‘খানুয়ার যুদ্ধ’ হয়।

৫. দুই-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও (২ নম্বরের প্রশ্ন)

(ক) হুন্ডি কী ?

উত্তরঃ মধ্যযুগে ভারতের ব্যবসায়ী ও বণিকদের সুবিধার্থে প্রচলিত এক ধরণের কাগজের হুন্ডি বা টাকার বিনিময়পত্র হলো হুন্ডি। বণিকরা কোনো এক জায়গায় অর্থ জমা দিয়ে সেই কাগজ বা হুন্ডিটি নিয়ে অন্য জায়গায় গিয়ে তা দেখালে নগদ টাকা পেয়ে যেতেন। এর ফলে দূরবর্তী স্থানে যাতায়াতের সময় চোর-ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেত এবং নগদ টাকা বয়ে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমত।

(খ) ‘পাট্টা’ ও ‘কবুলিয়ত’ বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ শেরশাহ রাজস্ব সংস্কারের উদ্দেশ্যে এই দুটি দলিল চালু করেন। পাট্টা হলো এমন একটি দলিল, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র কৃষকের নাম, জমির অধিকার এবং রাজস্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিত। আর কৃষকেরা সেই পাট্টা পেয়ে নির্দিষ্ট রাজস্ব দেওয়ার কথা স্বীকার করে সরকারকে যে সম্মতিপত্র সই করে দিত, তাকে কবুলিয়ত বলা হতো।

(গ) ঘর্ঘরার যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে কাদের মধ্যে হয়েছিল?

উত্তরঃ ঘর্ঘরার যুদ্ধ ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল। এই যুদ্ধ মুঘল সম্রাট বাবর এবং আফগান নেতা মহমুদ লোদী (নুসরাত শাহের সহায়তায় গঠিত আফগান জোট)-এর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে বাবর জয়লাভ করেন।

(ঘ) মোঘলরা কেন নিজেদের বাদশাহ বলতেন ?

উত্তরঃ ‘বাদশাহ’ বা ‘পাদশাহ’ হলো একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হলো ‘সার্বভৌম শাসক’ বা ‘প্রভুদের প্রভু’। মুঘলরা বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তারা কোনো বহিরাগত শক্তি যেমন—বাগদাদের খলিফা বা অন্য কারও অধীনে নন, তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং তাদের ক্ষমতা কোনো শর্তের ওপর নির্ভর করে না।

(ঙ) কে, কত সালে ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন?

উত্তরঃ পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপ থেকে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছানোর মাধ্যমে এক নতুন জলপথ আবিষ্কার করেন।

(চ) ‘সুলহ্-ই কুল’ বলতে কী বোঝো ?

উত্তরঃ ‘সুলহ্-ই কুল’ শব্দটির অর্থ হলো ‘সব মানুষের প্রতি সহনশীলতা এবং সকলের মধ্যে শান্তি’। মুঘল সম্রাট আকবর তাঁর সাম্রাজ্যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এই আদর্শ প্রচার করেছিলেন। এর মূল কথা ছিল—ধর্ম নিয়ে কোনো বৈষম্য করা যাবে না এবং সাম্রাজ্যের সবাই সমান মর্যাদা পাবে।

৬. পাঁচ-ছয়টি বাক্যে উত্তর দাও (৩ নম্বরের প্রশ্ন)

(ক) দিল্লি শহরে জলের সমস্যা প্রধান সমস্যা ছিল কেন?

উত্তরঃ মধ্যযুগে দিল্লির জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছিল। দিল্লির ভৌগোলিক অবস্থান পাহাড়ি ও পাথুরে হওয়ায় মাটির নিচের জল সহজে পাওয়া যেত না। তাছাড়া যমুনা নদীর জলধারা ঋতুভেদে পরিবর্তিত হতো এবং গ্রীষ্মকালে তা শুকিয়ে যেত। এই সমস্যা মেটানোর জন্য সুলতানরা সুলতানি আমলে প্রচুর কুয়ো, বড় বড় পুকুর এবং ‘হৌজ’ বা জলাশয় (যেমন- হৌজ-ই-শামসী, হৌজ-ই-আলাই) নির্মাণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

(খ) টীকা লেখো: দাক্ষিণাত্য ক্ষত।

উত্তরঃ মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্যের শিয়া রাজ্য (বিজাপুর ও গোলকোণ্ডা) এবং মারাঠাদের দমন করার জন্য তাঁর রাজত্বের শেষ ২৫ বছর (১৬৮১-১৭০৭ খ্রি.) দাক্ষিণাত্যেই কাটিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে মুঘলদের প্রচুর অর্থ অপচয় হয় এবং হাজার হাজার সেরা সেনা মারা যায়। উত্তর ভারতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং মুঘল সাম্রাজ্যের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার স্পেনের ক্ষত যেমন নেপোলিয়নকে ধ্বংস করেছিল, তেমনই দাক্ষিণাত্যের এই ক্ষতিকে ‘দাক্ষিণাত্য ক্ষত’ বলে অভিহিত করেছেন।

(গ) টীকা লেখো: মুঘল-আফগান যুদ্ধ।

উত্তরঃ ভারতে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মুঘল ও আফগানদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর আফগান সুলতান ইব্রাহিম লোদীকে হারিয়ে মুঘল বংশ প্রতিষ্ঠা করলেও আফগানরা সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। পরবর্তীতে শেরশাহ সূরি মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে চৌসা (১৫৩৯ খ্রি.) ও বিলগ্রামের (১৫৪০ খ্রি.) যুদ্ধে হারিয়ে ভারতে সাময়িকভাবে আফগান শাসন পুনপ্রতিষ্ঠা করেন। এরপর আকবরের আমলে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১৫৫৬ খ্রি.) আফগান নেতা হিমুর পরাজয় এবং জাহাঙ্গিরের আমলে বাংলার আফগানদের দমনের মাধ্যমে এই দীর্ঘ মুঘল-আফগান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে।

(ঘ) সুলতান ইলতুৎমিশের সামনে প্রধান তিনটি সমস্যা কী ছিল?

উত্তরঃ সিংহাসনে বসার পর ইলতুৎমিশকে মূলত তিনটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল—

অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ: দিল্লির আমির ও ওমরাহরা তাঁর সিংহাসন লাভ মেনে নিতে না পেরে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ভয়: তুর্কি নেতা তাজউদ্দিন ইয়ালদুজ এবং নাসিরুদ্দিন কুবাচা দিল্লির সিংহাসন দখল করার জন্য ষড়যন্ত্র করছিলেন।

মঙ্গোল আক্রমণ: মধ্য এশিয়া থেকে চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে মঙ্গোল আক্রমণের এক তীব্র আতঙ্ক ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে তৈরি হয়েছিল।

(ঙ) ‘বারোভূঁইয়া’ কাদের বলা হত এবং তারা কার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল ?

উত্তর: আকবরের রাজত্বকালে এবং বিশেষ করে সম্রাট জাহাঙ্গিরের আমলে বাংলার (পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ) বিভিন্ন অঞ্চলের বারোজন শক্তিশালী ও স্বাধীনচেতা জমিদার ও আফগান নেতাদের একসঙ্গে ‘বারোভূঁইয়া’ বলা হতো (যেমন—ঈসা খাঁ, প্রতাপাদিত্য, চাঁদ রায়)। এরা দিল্লির মুঘলদের অধীনতা স্বীকার করতে চাননি। তারা বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য সম্মিলিতভাবে মুঘল সাম্রাজ্য এবং মোঘল সুবাদারদের বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

(চ) ইকতা ও ইকতাদার বলতে কী বোঝায় ?

উত্তরঃ সুলতানি আমলে সাম্রাজ্যের আয়তন বৃদ্ধির পর বিজিত অঞ্চলগুলোকে কয়েকটি প্রশাসনিক ভাগে বা প্রদেশে ভাগ করা হতো, এই এক একটি ভাগকে বলা হতো ‘ইকতা’।

আর যে সমস্ত সামরিক কর্মচারীদের বা সেনাপতিদের এই ইকতাগুলোর শাসনভার এবং রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হতো, তাদের বলা হতো ‘ইকতাদার’ বা ‘মুক্তি’। ইকতাদারের কাজ ছিল সেই অঞ্চল থেকে রাজস্ব আদায় করা, নিজের ও সৈন্যবাহিনীর খরচ চালানো এবং সুলতানের প্রয়োজনে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করা।

৭. আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও (৫ নম্বরের প্রশ্ন)

(ক) আলাউদ্দিন খলজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণ নীতি আলোচনা করো।

ভুমিকা: দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খলজি সামরিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এক অভূতপূর্ব বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। মূলত কম বেতনে বিশাল সেনাবাহিনীর জীবনযাত্রা সচল রাখাই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

মূল নীতিসমূহ—

মূল্য নির্ধারণ: সুলতান চাল, ডাল, তেল, চিনি, কাপড়, এমনকি ঘোড়া ও দাসের মতো প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সরকারিভাবে নির্দিষ্ট করে দেন।

বাজার বিভাজন: দিল্লিতে চার ধরণের আলাদা বাজার তৈরি করা হয়েছিল— শস্যের বাজার, কাপড়ের বাজার (সরাই-ই-আদল), ঘোড়া ও গবাদি পশুর বাজার এবং সাধারণ জিনিসপত্রের বাজার।

রেশন ব্যবস্থা: খরা বা সংকটের সময় যাতে খাদ্যাভাব না হয়, তার জন্য সরকারি শস্যভাণ্ডার (গোডাউন) তৈরি করা হয় এবং রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবারপিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ শস্য বরাদ্দ করা হয়।

কর্মচারী নিয়োগ: বাজার তদারকি এবং কালোবাজারি রুখতে তিনি ‘শাহানা-ই-মণ্ডী’ (বাজার পরিদর্শক) এবং ‘দেওয়ান-ই-রিয়াসত’ নামক কঠোর রাজকর্মচারী নিয়োগ করেন। এছাড়া ‘বরিদ’ ও ‘মুন্হিয়ান’ নামক গুপ্তচরদের মাধ্যমে তিনি বাজারের খবর রাখতেন।

কঠোর শাস্তি: কোনো ব্যবসায়ী ওজনে কম দিলে বা বেশি দাম নিলে তার শরীর থেকে সমপরিমাণ মাংস কেটে নেওয়ার মতো কঠোর শাস্তির বিধান ছিল।

উপসংহার: আলাউদ্দিন খলজির এই কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে তাঁর রাজত্বকালে দিল্লির বাজারে জিনিসপত্রের দাম এক পয়সাও বাড়েনি। তবে এই ব্যবস্থা মূলত দিল্লি ও তার আশেপাশের এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।

(খ) শেরশাহের সংস্কারগুলি সংক্ষেপে লেখো।

ভূমিকা: সম্রাট শেরশাহ সূরি মাত্র পাঁচ বছর (১৫৪০-১৫৪৫ খ্রি.) রাজত্ব করলেও তাঁর দূরদর্শী প্রশাসনিক ও জনকল্যাণমূলক সংস্কারের জন্য ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

প্রধান সংস্কারসমূহ—

ভূমি রাজস্ব সংস্কার: শেরশাহ জমি জরিপ করে উর্বরতা অনুযায়ী রাজস্ব নির্ধারণ করেন। তিনি কৃষকদের স্বত্ব দিয়ে ‘পাট্টা’ প্রদান করেন এবং কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্বের নিশ্চয়তা নিয়ে ‘কবুলিয়ত’ নামক সম্মতিপত্র গ্রহণ করেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি: সাম্রাজ্যের যাতায়াত ও বাণিজ্যের প্রসারে তিনি বহু রাস্তা তৈরি করেন। এর মধ্যে প্রধান হলো সোনারগাঁ থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১,৫০০ কোশ দীর্ঘ ‘সড়ক-ই-আজম’ (যা আজ গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড বা G.T. Road নামে পরিচিত)। যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তার ধারে ধারে প্রচুর ‘সরাইখানা’ ও গাছ রোপণ করা হয়।

ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা: দ্রুত খবর আদান-প্রদানের জন্য তিনি ঘোড়ার পিঠে ডাক যোগাযোগের (Horse Post) উন্নত ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।

মুদ্রা সংস্কার: তিনি পুরনো মুদ্রা বাতিল করে খাঁটি রুপোর মুদ্রা ‘রুপীয়া’ (Rupia) এবং তামার মুদ্রা ‘দাম’ (Dam) চালু করেন, যা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে।

সামরিক সংস্কার: সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি রুখতে তিনি আলাউদ্দিন খলজির মতো সৈন্যদের বিবরণী লিপিবদ্ধ করার ‘হুলিয়া’ প্রথা এবং ঘোড়া চিহ্নিতকরণের ‘দাগ’ প্রথা পুনরায় চালু করেন।

উপসংহার: শেরশাহের এই জনহিতকর সংস্কারগুলো এতটাই সফল ছিল যে, পরবর্তীকালে মোঘল সম্রাট আকবর তাঁর বহু নীতি (বিশেষ করে রাজস্ব নীতি) হুবহু গ্রহণ করেছিলেন। তাই শেরশাহকে ‘আকবরের অগ্রদূত’ বলা হয়।

(গ) মহম্মদ বিন তুঘলকের পরিকল্পনাগুলি আলোচনা করো।

ভূমিকা: দিল্লির সুলতান মহম্মদ বিন তুঘলক ছিলেন এক অত্যন্ত পণ্ডিত কিন্তু খামখেয়ালি শাসক। তাঁর রাজত্বকালে তিনি বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী ও অভিনব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন, যা সঠিক বাস্তবায়নের অভাবে ব্যর্থ হয়।

প্রধান পরিকল্পনাগুলি—

দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি: সুলতান গঙ্গা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী উর্বর দোয়াব অঞ্চলে করের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। দুর্ভাগ্যবশত সেই বছরই সেখানে খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ায় কৃষকেরা কর দিতে পারেনি এবং বিদ্রোহ করে। পরে সুলতান কর মকুব ও কৃষিঋণ (তকাবি) দিলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।

রাজধানী স্থানান্তর: মোঘল ও মঙ্গোল আক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং দক্ষিণ ভারত ভালোভাবে শাসন করার জন্য তিনি রাজধানী দিল্লি থেকে দাক্ষিণাত্যের দেবগিরিতে (দৌলতাবাদ) স্থানান্তরিত করেন। দিল্লির সমস্ত বাসিন্দাকে জোর করে দীর্ঘ পথ হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ মারা যায়। পরে ভুল বুঝতে পেরে তিনি আবার সকলকে দিল্লিতে ফিরে আসার নির্দেশ দেন।

তামার প্রতীকী মুদ্রা প্রবর্তন: সোনা ও রুপোর ঘাটতি মেটাতে তিনি সোনা-রুপোর মুদ্রার সমমূল্যের তামার নোট বা প্রতীকী মুদ্রা (Token Currency) চালু করেন। কিন্তু সরকারি নিয়ন্ত্রণের অভাবে ঘরে ঘরে জাল মুদ্রা তৈরি হতে শুরু করে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে ওঠে এবং সুলতান রাজকোষ থেকে সোনা-রুপো দিয়ে সমস্ত জাল মুদ্রা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

খোরাসান ও করাচিল অভিযান: মধ্য এশিয়ার খোরাসান এবং হিমালয়ের করাচিল জয়ের জন্য তিনি বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করেন এবং সৈন্যদের এক বছরের অগ্রিম বেতন দেন। কিন্তু প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে এই অভিযানগুলো চরমভাবে ব্যর্থ হয় এবং রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে।

উপসংহার: এই ব্যর্থ পরিকল্পনাগুলোর জন্য ঐতিহাসিকরা তাঁকে ‘পাগলা রাজা’ বা ‘স্ববিরোধী ব্যক্তিত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন, যদিও তাঁর চিন্তাভাবনাগুলো যুগের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল।

(ঘ) দিল্লির সুলতানদের আমলে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার কেন ঘটেছিল?

ভূমিকা: সুলতানি আমলে (দ্বাদশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী) ভারতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় প্রকার ব্যবসা-বাণিজ্যের এক অভূতপূর্ব জোয়ার এসেছিল। এর পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বেশ কিছু কারণ ছিল।

বিস্তারের প্রধান কারণসমূহ—

রাজনৈতিক ঐক্য ও নিরাপত্তা: সুলতানরা ভারতে একটি কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করায় বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যকার রাজনৈতিক বাধা দূর হয়। সড়ক ও বাণিজ্যপথগুলোতে চোর-ডাকাত দমন করে বণিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা: সুলতানদের তৈরি করা দীর্ঘ রাস্তাঘাট এবং রাস্তার ধারে নির্মিত সরাইখানাগুলো বণিক ও পণ্য পরিবহণকে অনেক সহজ করে দিয়েছিল।

নতুন মুদ্রার প্রচলন: সুলতান ইলতুৎমিশ প্রবর্তিত খাঁটি রুপোর মুদ্রা ‘তঙ্কা’ এবং তামার মুদ্রা ‘জিতল’ সারা দেশে বাণিজ্যের লেনদেনকে সহজ ও সার্বজনীন করে তোলে। এছাড়া ‘হুন্ডি’ বা কাগজের বিনিময়পত্রের ব্যবহার নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমায়।

নগরায়ণ ও চাহিদা বৃদ্ধি: সুলতানি আমলে দিল্লি, ফিরোজাবাদ, লখনৌতি, জৌনপুরের মতো বড় বড় শহরের বিকাশ ঘটে। শহরের বিশাল জনসংখ্যা, রাজদরবার এবং সেনাবাহিনীর জন্য প্রচুর বিলাসদ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়।

সামুদ্রিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তি : ভারতের সঙ্গে আরব দুনিয়া, পারস্য ও ইউরোপের সামুদ্রিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। সুতি বস্ত্র, নীল, মসলা ও চিনি বিদেশে রপ্তানি হতো এবং বিদেশ থেকে ঘোড়া ও রেশম আমদানি হতো। এছাড়া চরকা আবিষ্কারের ফলে সুতো কাটা এবং বস্ত্রশিল্পের ব্যাপক উন্নতি বাণিজ্যে গতি আনে।

উপসংহার : সংক্ষেপে বলতে গেলে, সুলতানদের অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা, মুদ্রার স্থায়িত্ব এবং উন্নত বাজার ব্যবস্থার ফলেই এই যুগে ব্যবসা-বাণিজ্যের অভাবনীয় বিস্তার ঘটেছিল।

ইতিহাস প্রশ্নপত্র ২০২৫ সেট-১

ইতিহাস প্রশ্নপত্র ২০২৫ সেট-২

—সমস্ত প্রশ্নের উত্তর—

📌আরও পড়ুনঃ

📌 সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণির ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply