দশম শ্রেণির বাংলা টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৫ | Class 10 Bengali Test Question Paper 2025

মাধ্যমিক ২০২৭ পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য এখানে দেওয়া হলো দশম শ্রেণির বাংলা টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৫। বিগত বছরের এই বাংলা টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অনুশীলন করলে পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। সমস্ত বিষয়ে প্রশ্নপত্র দেখতে এখানে ক্লিক করো

বিষয়বাংলা
শ্রেণিদশম
পরীক্ষাটেস্ট পরীক্ষা
সাল২০২৫
বোর্ডWBBSE

দশম শ্রেণির বাংলা টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৫

FALAKATA GIRLS’ HIGH SCHOOL (H.S.)
CLASS – X
BENGALI TEST EXAM 2025

Full Marks : 90       Time : 3 hrs 15 Min

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো : ১×১৭=১৭

১.১ আদিম যুগে স্রষ্টার কার প্রতি অসন্তোষ ছিল? —
(ক) দয়াময় দেবতার প্রতি
(খ) কবির সংগীতের প্রতি
(গ) নিজের প্রতি
(ঘ) ধরিত্রীর প্রতি

১.২ “আমরা ভিখারি………” —
(ক) বারোমাস
(খ) আটমাস
(গ) দশমাস
(ঘ) বারোমাস

১.৩ “গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে” — কে গান বাঁধবে?
(ক) চিল
(খ) কোকিল
(গ) শকুন
(ঘ) ময়ূর

১.৪ “খুব হয়েছে হরি, এইবার সরে পড়ো। অন্যদিকে যাও।” — একথা বলেছে —
(ক) ভবতোষ
(খ) অনাদি
(গ) কাশীনাথ
(ঘ) জনৈক যাত্রী

১.৫ অমৃত এবং ইসাবের জামা বদলানোর বিষয়টি ঘটেছিল —
(ক) মহরমের দিন
(খ) পুজোর দিন
(গ) ইদের দিন
(ঘ) হোলির দিন

১.৬ অপূর্বর পিতার বন্ধু ছিলেন —
(ক) গিরীশ মহাপাত্র
(খ) নিমাইবাবু
(গ) রামদাস
(ঘ) জগদীশবাবু

১.৭ উনিশ শতকে বত্রিশ হাজার অক্ষর লিখে পাওয়া যেত —
(ক) বারো আনা
(খ) চোদ্দো আনা
(গ) দশ আনা
(ঘ) পনেরো আনা

১.৮ “তা লেখককে নেশাগ্রস্ত করে” — ‘তা’ বলতে বোঝানো হয়েছে —
(ক) খাতা-পেন
(খ) বাঁশের পেন
(গ) পালকের পেন
(ঘ) ফাউন্টেন পেন

১.৯ “হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড” — কথাটি বলেছিলেন —
(ক) অশ্বঘোষ
(খ) কালিদাস
(গ) ভবভূতি
(ঘ) ধোয়ী

১.১০ বিভক্তি শব্দের অর্থ কী? —
(ক) বিভাজন
(খ) সংকোচন
(গ) প্রসারণ
(ঘ) সংযোজন

১.১১ “নমি পুত্র পিতার চরণে” — নিম্নরেখ পদটি হল —
(ক) কর্তৃকারক
(খ) সম্বন্ধ পদ
(গ) সম্বোধন পদ
(ঘ) কর্মকারক

১.১২ ‘গ্রামান্তর’ পদটি কোন সমাসের উদাহরণ?
(ক) নিত্য সমাস
(খ) দ্বন্দ্ব সমাস
(গ) বহুব্রীহি সমাস
(ঘ) কর্মধারয় সমাস

১.১৩ ‘উপনগরী’ সমাসটি গড়ে উঠেছে —
(ক) সাদৃশ্য অর্থে
(খ) সমীপ্য অর্থে
(গ) পশ্চাৎ অর্থে
(ঘ) বীপ্সা অর্থে

১.১৪ “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে।” —গঠনগতভাবে বাক্যটি —
(ক) সরলবাক্য
(খ) মিশ্রবাক্য
(গ) জটিলবাক্য
(ঘ) যৌগিক বাক্য

১.১৫ সে সারাদিন খুব পরিশ্রম করে গভীর রাতে বাড়ি ফিরিল। —এই বাক্যের নিম্নরেখ অংশটি হল —
(ক) উদ্দেশ্য
(খ) বিধেয়
(গ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
(ঘ) বিধেয়ের সম্প্রসারক

১.১৬ ছবিটি শ্যামের দ্বারা অঙ্কিত। > শ্যাম ছবিটি এঁকেছে। — এই বাচ্য পরিবর্তনটি হল—
(ক) কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য
(খ) কর্মবাচ্য থেকে ভাববাচ্য
(গ) কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
(ঘ) ভাববাচ্য থেকে কর্মবাচ্য

১.১৭ শাঁখ বাজে। — এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
(ক) কর্মবাচ্য
(খ) ভাববাচ্য
(গ) কর্তৃবাচ্য
(ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য

২. কম-বেশি ২০টি শব্দে নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (১×৪=৪)

২.১.১ “ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে” — কোন কথা ছড়িয়ে পড়ে?

২.১.২ “বলতে বলতে সিঁড়ি থেকে নেমে গেলেন বিরাগী।” — কী বলতে বলতে নেমেছিলেন?

২.১.৩ গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁকে ও পকেটে কী কী ছিল?

২.১.৪ অমৃতকে কে, কেন খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল?

২.১.৫ স্টেশনমাস্টারির করতে এসে নদেরচাঁদের সাথে পরিচয় হওয়া নদী আর তার দেশের নদীর মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?

২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (১×৪=৪)

২.২.১ “ধ্বংসে দেখে ভয় কেন তোর” — ধ্বংস দেখে কেন ভয় করা উচিত নয় বলে কবি মনে করেন?

২.২.২ “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।” — বেঁধে বেঁধে থাকার উদ্দেশ্য কী?

২.২.৩ “এ অদ্ভুত বারতা” — কোন ‘বারতা’-র কথা বলা হয়েছে?

২.২.৪ “কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল………” — কবির সংগীতে কী বেজে উঠেছিল?

২.২.৫ “চিত্রের পুতলী সমা” — এমন বলার কারণ কী?

২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (১×৩=৩)

২.৩.১ কলমকে কীসের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়?

২.৩.২ “বাংলায় একটা কথা চালু ছিল” — কোন কথা?

২.৩.৩ বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নাম প্রসঙ্গে কী বিধান দিয়েছিলেন?

২.৩.৪ “এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।” — কোন কথা মনে রাখা উচিত?

২.৪ যে-কোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (১×৮=৮)

২.৪.১ তির্যক বিভক্তি কাকে বলে?

২.৪.২ ব্যতিহার কর্তার একটি উদাহরণ দাও।

২.৪.৩ ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো — হস্তশিল্প।

২.৪.৪ কোন সমাসে কারক-সম্পর্ক বিদ্যমান?

২.৪.৫ একটি আকাঙ্ক্ষাহীন বাক্যের উদাহরণ দাও।

২.৪.৬ সে তখন যেতে পারবে না। — হ্যা-বাচক বাক্যে পরিবর্তন করো।

২.৪.৭ হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই। (যৌগিক বাক্যে)

২.৪.৮ বধূরা প্রদীপ তুলে ধর। — কর্মবাচ্যে পরিণত করো।

২.৪.৯ কর্মকর্তৃবাচ্য-এর একটি উদাহরণ দাও।

২.৪.১০ একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্যসহ একটি উদাহরণ দাও।

৩. প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও : (৩+৩=৬)

৩.১ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৩×১=৩)

৩.১.১ “আজ আর অন্য কথা নেই” — কোন দিনের কথা বলা হয়েছে? সেদিন অন্য কোনো কথা নেই কেন? (১+২=৩)

৩.১.২ “লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল।” — লোকটি কে? তাকে দেখে অপূর্বর কী মনে হয়েছিল? (১+২=৩)

৩.২ যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৩×১=৩)

৩.২.১ “যেখানে ছিল শহর” — শহরের কী পরিণতি হয়েছিল এবং কেন? (১+২=৩)

৩.২.২ “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ” — কন্যাটি কে? তিনি কোথায় সর্বক্ষণ থাকেন? (১+২=৩)

৪. কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×১=৫)

৪.১ “তার থেকে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের।” — কার এ কথা মনে হয়েছে? জীবনের কোন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে সে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে? (১+৪=৫)

৪.২ “হরিদার জীবনে একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।” — হরিদা কে? তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্যে যে নাটকীয় বৈচিত্র্য ধরা পড়েছে, তা গল্প অনুসারে লেখো। (১+৪=৫)

৫. কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×১=৫)

৫.১ “তারপর যুদ্ধ এল” — ‘তারপর’ কথাটির দ্বারা কবি কোন সময়ের কথা বলেছেন? কবিতায় যুদ্ধের যে বীভৎস রূপের প্রকাশ ঘটেছে, তা আলোচনা করো। (২+৩=৫)

৫.২ “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন” — ‘পঞ্চকন্যা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতনা ফিরে পেলো, তা নিজের ভাষায় লেখো। (১+৪=৫)

৬. কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×১=৫)

৬.১ “আমরা এত কিছু আয়োজন কোথায় পাব।” — কোন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে ? তাঁরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন? (২+৩=৫)

৬.২ “বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় এখনও নানারকম বাধা আছে।” — বাধাগুলি কী কী ছিল? (৫)

৭. কম-বেশি ১২৫ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৪×১=৪)

৭.১ “এই মুহূর্তে দরবার ত্যাগ করো।” — বক্তা কাকে দরবার ত্যাগ করতে বলেছেন? তাঁকে দরবার ত্যাগ করতে বলার কারণ কী? (১+৩=৪)

৭.২ ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে ঘসেটি বেগমের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। (৪)

৮. কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×২=১০)

৮.১ “একটা মেয়ে পেয়েছি, তাকে শেখাবার সুযোগটুকু দিও তাহলেই হবে” — বক্তার এমন কথা বলার কারণ কী? এরদ্বারা বক্তার কোন মানসিকতার পরিচয় পাও? (২+৩=৫)

৮.২ “অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।” — কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল, তা লেখো। (৫)

৮.৩ “সীতারাম অনেক বড়ো, সেনাপতির থেকে।” — বক্তা কে? বক্তাকে অনুসরণ করে উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (১+৪=৫)

৯. চলিত বাংলায় অনুবাদ করো : (৪)

Rabindranath had his own ideas of education. He believed that one can learn as much from nature as from books. For this reason he started a school of his own at Santiniketan. It is called Vishwabharati.

১০. কম-বেশি ১৫০ শব্দে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫×১=৫)

১০.১ ‘রক্তদানই জীবনদান’ — এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

১০.২ প্লাস্টিক বর্জন নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

১১. কম-বেশি ৪০০ শব্দে যে-কোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (১০×১=১০)

১১.১ আধুনিক জীবনে বিজ্ঞান বনাম কুসংস্কার
১১.২ পরিবেশ সচেতনতা ও ছাত্রসমাজ
১১.৩ বাংলার উৎসব
১১.৪ তোমার জীবনের লক্ষ্য

ANSWER KEY (উত্তরপত্র)

১.১. (গ) নিজের প্রতি
১.২. (ঘ) বারোমাস
১.৩. (খ) কোকিল
১.৪. (গ) কাশীনাথ
১.৫. (ঘ) হোলির দিন
১.৬. (খ) নিমাইবাবু
১.৭. (ক) বারো আনা
১.৮. (ঘ) ফাউন্টেন পেন
১.৯. (খ) কালিদাস
১.১০. (ক) বিভাজন
১.১১. (খ) সম্বন্ধ পদ
১.১২. (ক) নিত্যসমাস
১.১৩. (ক) সাদৃশ্য অর্থে
১.১৪. (ঘ) যৌগিক বাক্য
১.১৫. (খ) বিধেয়
১.১৬. (গ) কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য
১.১৭. (ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য

২.১ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

২.১.১ “ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে” — কোন কথা ছড়িয়ে পড়ে?
উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের গল্পটি যে তার নতুন মেসোমশাই একটু-আধটু কারেকশন (সংশোধন) করে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপিয়ে দিয়েছেন, সেই কথাটিই ছড়িয়ে পড়ে।

২.১.২ “বলতে বলতে সিঁড়ি থেকে নেমে গেলেন বিরাগী।” — কী বলতে বলতে নেমেছিলেন?

উত্তরঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগী জগদীশবাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, পরমার্থকে সোনা দিয়ে বাঁধা যায় না এবং তিনি সোনা স্পর্শ করলে তাঁর মনের বিরাগ ভাব নষ্ট হয়ে যাবে— এই কথা বলতে বলতে তিনি নেমে যান।

২.১.৩ গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁকে ও পকেটে কী কী ছিল?

উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁক থেকে একটি টাকা ও গণ্ডাছয়েক পয়সা এবং পকেট থেকে একটা লোহার কম্পাস, ফুটরুল, কয়েকটি বিড়ি, একটা দেশলাই ও একটা গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল।

২.১.৪ অমৃতকে কে, কেন খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল?

উত্তরঃ পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল-বদল’ গল্পে ইসাব তার ও অমৃতের নতুন জামার একইরকম মিল এবং তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা প্রমাণ করার জন্য ও কুস্তি লড়ানোর উদ্দেশ্যে অমৃতকে খোলা মাঠে নিয়ে এসেছিল।

২.১.৫ স্টেশনমাস্টারির করতে এসে নদেরচাঁদের সাথে পরিচয় হওয়া নদী আর তার দেশের নদীর মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদেরচাঁদের দেশের নদীটি ছিল ক্ষীণস্রোতা ও শুকিয়ে যাওয়া, কিন্তু তার কর্মস্থলের নদীটি ছিল অত্যন্ত চওড়া, স্রোতস্বিনী এবং বর্ষায় উন্মত্ত রূপ ধারণকারী।

২.২ যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

২.২.১ “ধ্বংসে দেখে ভয় কেন তোর” — ধ্বংস দেখে কেন ভয় করা উচিত নয় বলে কবি মনে করেন?

উত্তরঃ কবি কাজী নজরুল ইসলামের মতে, ধ্বংসের পরেই নতুনের আগমন ঘটে। মহাকাল বা প্রলয়ংকর আসলে সুন্দরকে নতুন করে সৃষ্টি করার জন্যই জীর্ণ-পুরাতনকে ধ্বংস করতে আসে, তাই ধ্বংস দেখে ভয় পাওয়া উচিত নয়।

২.২.২ “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।” — বেঁধে বেঁধে থাকার উদ্দেশ্য কী?

উত্তরঃ কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখে সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য পরস্পরকে নিবিড়ভাবে ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে।

২.২.৩ “এ অদ্ভুত বারতা” — কোন ‘বারতা’-র কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে বীরবাহুর মৃত্যু এবং স্বয়ং রাক্ষসাধিপতি রাবণের যুদ্ধযাত্রার সাজ সজ্জার খবর বা বারতাকে ইন্দ্রজিৎ অদ্ভুত বলেছেন।

২.২.৪ “কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল………” — কবির সংগীতে কী বেজে উঠেছিল?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অত্যাচারের বিপরীতে এবং আফ্রিকার নিজস্ব রুদ্র রূপের আবহে কবির সংগীতে ‘সুন্দরের আরাধনা’ বেজে উঠেছিল।

২.২.৫ “চিত্রের পুতলী সমা” — এমন বলার কারণ কী?

উত্তরঃ সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্রতীরে অচেতন হয়ে পড়ে থাকা রূপবতী পদ্মাবতীকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন কোনো চিত্রে আঁকা নিস্পন্দ পুতুলের মতো স্থির হয়ে আছেন।

২.৩ যে-কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও :

২.৩.১ কলমকে কীসের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়?

উত্তরঃ শ্রীপান্থের ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে প্রাচীন প্রবাদের উল্লেখ করে কলমকে তলোয়ার বা অসির চেয়েও বেশি শক্তিশালী ও প্রভাবশালি বলা হয়েছে।

২.৩.২ “বাংলায় একটা কথা চালু ছিল” — কোন কথা?

উত্তরঃ শ্রীপান্থের ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধ অনুযায়ী বাংলায় চালু থাকা কথাটি হলো— “কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি মুন্সি”।

২.৩.৩ বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নাম প্রসঙ্গে কী বিধান দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ অনুযায়ী, যদি কোনো নবাগত রাসায়নিক বস্তুর পরিচয় দিতে হয়, তবে তার ইংরেজি নামটিই বাংলা বানানে চালানো উচিত (যেমন: অক্সিজেন, ক্লোরিন)।

২.৩.৪ “এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।” — কোন কথা মনে রাখা উচিত?

উত্তরঃ বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে মনে রাখা উচিত যে, বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভ বা রচনার ভাষা অত্যন্ত সহজ, সরল ও সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ পাঠক তা সহজেই বুঝতে পারেন এবং কোনো অলংকার বা রূপকের অতিপ্রয়োগ না থাকে।

২.৪.১ তির্যক বিভক্তি কাকে বলে?

উত্তরঃ যে বিভক্তি চিহ্ন একাধিক কারকে বা সব কারকেই ব্যবহৃত হতে পারে, তাকে তির্যক বিভক্তি বলে। যেমন— ‘এ’ বিভক্তি।

২.৪.২ ব্যতিহার কর্তার একটি উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। (এখানে ‘রাজায় রাজায়’ হলো ব্যতিহার কর্তা)।

২.৪.৩ ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো — হস্তশিল্প।
উত্তরঃ হস্ত দ্বারা নির্মিত শিল্প = মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। (অথবা, হস্তের শিল্প = সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)।

২.৪.৪ কোন সমাসে কারক-সম্পর্ক বিদ্যমান?
উত্তরঃ তৎপুরুষ সমাসে কারক-সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে।

২.৪.৫ একটি আকাঙ্ক্ষাহীন বাক্যের উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ সূর্য পূর্ব দিকে উঠলে— (এই বাক্যটিতে শ্রোতার জানার ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ না হওয়ায় এটি আকাঙ্ক্ষাহীন বাক্য)।

২.৪.৬ সে তখন যেতে পারবে না। — হ্যা-বাচক বাক্যে পরিবর্তন করো।
উত্তরঃ সে তখন থাকতে বাধ্য হবে। (অথবা: সে তখন যাওয়া থেকে বিরত থাকবে)।

২.৪.৭ হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তরঃ হাত নাড়াই এবং বুলেট তাড়াই।

২.৪.৮ বধূরা প্রদীপ তুলে ধর। — কর্মবাচ্যে পরিণত করো।
উত্তরঃ বধূদের দ্বারা প্রদীপ তুলে ধরা হোক।

২.৪.৯ কর্মকর্তৃবাচ্য-এর একটি উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ শাঁখ বাজে। (অথবা: গাড়ি চলে)।

২.৪.১০ একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্যসহ একটি উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ তুমি, ও সে = তোমরা (অথবা: আমি, তুমি ও সে = আমরা)।

৩.১.১ “আজ আর অন্য কথা নেই” — কোন দিনের কথা বলা হয়েছে? সেদিন অন্য কোনো কথা নেই কেন?

উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনদের বাড়িতে যেদিন তার ছোটোমেসো এবং ছোটোমাসি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকা হাতে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন, এখানে সেই বিশেষ দিনটির কথা বলা হয়েছে।

সেদিন অন্য কোনো কথা না থাকার কারণ হলো, তপনের লেখা গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় সচিত্র ছেপে বের হয়েছিল। পত্রিকার সূচিপত্রে লেখক হিসেবে বড় বড় অক্ষরে শ্রীতপন কুমার রায়ের নাম জ্বলজ্বল করছিল। সারা বাড়িতে কেবল তপনের গল্প ছাপা হওয়ার আনন্দ, মেসোমশাইয়ের মহত্ত্ব এবং তপনের কপাল খোলার চর্চায় মেতে উঠেছিল সবাই। তাই ওই দিন বাড়িতে অন্য কোনো আলোচনার সুযোগ বা কথা ছিল না।

৩.১.২ “লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল।” — লোকটি কে? তাকে দেখে অপূর্বর কী মনে হয়েছিল?

উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে উদ্ধৃত অংশে ‘লোকটি’ বলতে রুগ্ন ও অদ্ভুত বেশধারী পলিটিক্যাল সাসপেক্ট গিরীশ মহাপাত্রকে বোঝানো হয়েছে।
গিরীশ মহাপাত্রকে দেখে অপূর্বের মনে হয়েছিল যে, তার বয়স তিরিশ-বত্রিশের বেশি নয়, কিন্তু ভারী রোগা দেখানোর কারণে মনে হয় যেন সে এক অদ্ভূত রোগে ভুগছে। তার কেবলই কাশি আসছিল এবং সেই কাশির আওয়াজ শুনে অপূর্বের মনে প্রবল আশঙ্কা জেগেছিল যে, লোকটির আয়ু আর বেশিদিন নেই, তার ফুসফুস হয়তো সম্পূর্ণ পচে গেছে।

৩.২.১ “যেখানে ছিল শহর” — শহরের কী পরিণতি হয়েছিল এবং কেন?

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যুদ্ধের লেলিহান শিখায় শান্ত, মনোরম শহরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল কয়লা, দুমড়ানো লোহা আর মূর্তির ভাঙা পাথরের মাথা।

সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নৃশংস আগ্রাসনে এক ভয়াবহ যুদ্ধ নেমে এসেছিল। সেই রাক্ষুসে যুদ্ধের সর্বগ্রাসী আগুন শহরের সমস্ত ঘরবাড়ি, দেবালয়, পার্ক এবং মানুষের সাধের বাগানকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। রক্তের এক একটা কালো দাগ রেখে শহরটিকে প্রাণহীন, জীর্ণ কঙ্কালে পরিণত করে দিয়েছিল সেই বিধ্বংসী যুদ্ধ।

৩.২.২ “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ” — কন্যাটি কে? তিনি কোথায় সর্বক্ষণ থাকেন?

উত্তরঃ সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে ‘কন্যাটি’ হলেন সমুদ্র নৃপতির রূপবতী রূপগুণবতী তনয়া বা কন্যা পদ্মা।
তিনি যেখানে সর্বক্ষণ থাকেন, তা হলো সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত এক অপরূপ মনোরম উদ্যান বা স্বর্গীয় উদ্যানপ্রাসাদ। সমুদ্রের সেই দ্বীপে পাহাড়ের ওপরে এক চমৎকার উদ্যান ছিল, যেখানে সুগন্ধি ফুল, সুস্বাদু ফল এবং রত্নখচিত এক প্রাসাদ তৈরি করা হয়েছিল। সমস্ত দুঃখ-কষ্টের অতীত এই মনোরম ও শান্ত উদ্যানপ্রাসাদেই রাজকন্যা পদ্মা তাঁর সখীদের সাথে সর্বদা বসবাস করতেন।

৪.১ “তার থেকে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের।” — কার এ কথা মনে হয়েছে? জীবনের কোন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে সে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে? (১+৪=৫)

উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে উদ্ধৃত অংশটি কিশোর লেখক তপনের মনে হয়েছে।

তপনের লেখা প্রথম গল্প ‘প্রথম দিন’ তার ছোটোমেসোমশাইয়ের সুপারিশে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। গল্পটি ছাপা হরফে দেখার জন্য তপন তীব্র ব্যাকুলতায় অপেক্ষা করছিল। অবশেষে যখন পত্রিকাটি বাড়িতে আসে, তখন চারদিকে মেসোমশাইয়ের মহত্ত্বের প্রশংসাই ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি না থাকলে তপনের গল্প কোনোদিনও ছাপা হতো না।

আসল আঘাতটি আসে যখন তপন সবার অনুরোধে নিজের লেখা গল্পটি সশব্দে পড়তে শুরু করে। সে দেখে, গল্পের প্রতিটি লাইন নতুন মেসোমশাই তাঁর নিজের পাকা হাতের কলমে সম্পূর্ণ কারেকশন বা সংশোধন করে বদলে দিয়েছেন। সেখানে তপনের নিজস্ব মৌলিকতা বা কৃতিত্বের আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। নিজের সৃষ্টির এই চরম বিকৃতি এবং অন্যের লেখা নিজের নামে পড়ার এই লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে তপনের মনে গভীর আত্মগ্লানির জন্ম নেয়। নিজের লেখা পড়তে গিয়ে অন্যের পাকা হাতের লেখা পড়ার এই অভিজ্ঞতা তপনকে অত্যন্ত মর্মাহত করে এবং সে বুঝতে পারে যে, নিজের কৃতিত্বের জায়গায় অন্যের করুণা পাওয়ার চেয়ে বড়ো দুঃখ ও অপমান আর কিছু হতে পারে না।

৪.২ “হরিদার জীবনে একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।” — হরিদা কে? তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্যে যে নাটকীয় বৈচিত্র্য ধরা পড়েছে, তা গল্প অনুসারে লেখো। (১+৪=৫)

উত্তরঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা হলেন এক অত্যন্ত দরিদ্র, মুক্তমনা এবং ভবঘুরে প্রকৃতির মানুষ, যিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য ‘বহুরূপী’ সাজতেন।

হরিদার জীবন কোনো গতে বাঁধা ছকে চলত না। ঘড়ির কাঁটা ধরে কোনো অফিসে বা দোকানে কাজ করা তাঁর স্বভাবের পরিপন্থী ছিল। তাই তিনি বহুরূপী সেজে মানুষকে চমকে দিয়ে যে সামান্য দু-এক আনা পেতেন, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চালাতেন। তাঁর এই পেশার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল নানারকম নাটকীয় বৈচিত্র্য।

কখনো তিনি চকের বাজারে উন্মাদ পাগল সেজে হাতে থানইট নিয়ে বাসের যাত্রীদের তাড়া করতেন, আবার কখনো রূপসী বাইজি সেজে ঘুঙুরের আওয়াজে শহরের বাবুদের মুগ্ধ করে পকেট থেকে টাকা ও আধুলি আদায় করতেন। কখনো বা শহরের বুকেও তিনি বাউল, কাপালিক কিংবা দয়াল বাবুর লিচু বাগানে নকল পুলিশ সেজে স্কুলের ছেলেদের ভয় দেখাতেন ও মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে ঘুষ নিতেন। হরিদার জীবনের সবচেয়ে বড়ো নাটকীয় বৈচিত্র্য দেখা যায় যখন তিনি পরম বৈরাগী বা ‘বিরাগী’ সেজে ধনী জগদীশবাবুর বাড়িতে যান। তাঁর নিখুঁত অভিনয় ও আধ্যাত্মিক কথাবার্তায় মুগ্ধ হয়ে জগদীশবাবু যখন তাঁকে একশো টাকার প্রণামী দিতে চান, তখন হরিদা একজন সত্যিকারের বিরাগীর মতো সেই বিপুল অর্থ স্পর্শ না করে প্রত্যাখ্যান করেন। অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজের শিল্পের মর্যাদাকে বজায় রাখার এই অদ্ভুত মানসিকতাই তাঁর জীবনের নাটকীয়তাকে অনন্য করে তুলেছে।

৫.১ “তারপর যুদ্ধ এল” — ‘তারপর’ কথাটির দ্বারা কবি কোন সময়ের কথা বলেছেন? কবিতায় যুদ্ধের যে বীভৎস রূপের প্রকাশ ঘটেছে, তা আলোচনা করো। (২+৩=৫)

উত্তরঃ চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় ‘তারপর’ শব্দটির মাধ্যমে কথকের প্রিয়তমাকে দরজায় দাঁড় করিয়ে চলে যাওয়ার এবং বছরের পর বছর ধরে তাঁর ফিরে না আসার অন্তহীন অপেক্ষার পরের সময়কে নির্দেশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, অপেক্ষার যন্ত্রণাময় দিনগুলো পার হওয়ার পর যখন সর্বগ্রাসী যুদ্ধের সূচনা হলো, সেই সময়ের কথাই এখানে বলা হয়েছে।

কবিতায় যুদ্ধের রূপটি অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী, নিষ্ঠুর ও ধ্বংসাত্মক বা বীভৎস রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। কবি যুদ্ধকে তুলনা করেছেন ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের’ সাথে। এই যুদ্ধ কোনো সাধারণ যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল এক সর্বগ্রাসী প্রলয়। যুদ্ধের আগুনে শিশু আর দেবালয়ের দেবতারাও রেহাই পায়নি। দেবতাদের শান্ত, হলুদ পাথরের মূর্তিগুলো টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়েছিল এবং তারা আর মানুষের স্বপ্ন দেখাতে পারল না।

যে মনোরম শহরে একদা শান্ত পরিবেশ, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ আর চিমনি ছিল, যুদ্ধের লেলিহান শিখায় তা সম্পূর্ণ ছারখার হয়ে গেল। সমস্ত ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। শহরের বুকে ছড়িয়ে রইল কেবল কয়লা, দুমড়ানো লোহা, আর মৃত মূর্তির বিভীষিকাময় পাথরের মাথা। নিষ্পাপ মানুষের রক্তের কালচে দাগ শহরের বুকে এঁকে দিয়ে যুদ্ধ প্রমাণ করল যে, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন কীভাবে একটি জীবন্ত ও সুন্দর সভ্যতাকে চোখের পলকে শ্মশানে পরিণত করতে পারে।

৫.২ “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন” — ‘পঞ্চকন্যা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতনা ফিরে পেলো, তা নিজের ভাষায় লেখো। (১+৪=৫)

উত্তরঃ মধ্যযুগীয় কবি সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে ‘পঞ্চকন্যা’ বলতে সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখী— চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিনী ও শ্যামলাকে বোঝানো হয়েছে।

সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে ভেলা ডুবে যাওয়ার পর রাজকন্যা পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী অচেতন অবস্থায় সিন্ধুতীরে এসে পড়েন। সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাঁর সখীদের সাথে উদ্যানে বেড়ানোর সময় তাঁদের এই মৃতপ্রায় অবস্থা দেখতে পান। রূপবতী পদ্মাবতীর এমন করুণ দশা দেখে পদ্মার মনে গভীর দয়া ও মমত্ববোধ জেগে ওঠে। তিনি বুঝতে পারেন যে, দৈব বিপর্যয় বা কোনো তীব্র ঝড়ের কারণেই এই রাজকন্যারা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছেন।

পদ্মা আর বিলম্ব না করে তাঁর সখীদের নির্দেশ দেন অবিলম্বে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। তাঁরা অচেতন পঞ্চকন্যাকে দ্রুত উদ্যানের মাঝে নিয়ে যান এবং শীতের হাত থেকে রক্ষা করতে তাঁদের শরীর গরম কাপড়ে ঢেকে দেন। এরপর শুরু হয় নিবিড় শুশ্রূষা। তাঁরা পঞ্চকন্যার শরীরের বিষ দূর করার জন্য তন্ত্র-মন্ত্র উচ্চারণ করতে থাকেন এবং একই সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভেষজ ওষুধ ও আগুনের সেঁক দিতে থাকেন। পদ্মা মনে মনে পরমেশ্বরের কাছে ব্যাকুল প্রার্থনা জানান, যেন চার দণ্ড বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নিরপরাধ কন্যারা জীবন ফিরে পান। ঈশ্বরের কৃপা এবং পদ্মার সখীদের এই চার প্রহরব্যাপী আন্তরিক চিকিৎসা, সেবা ও মন্ত্রৌষধির প্রভাবে অবশেষে পঞ্চকন্যার শরীরের বিষ ও জড়তা কেটে যায় এবং তাঁরা ধীরে ধীরে চোখ মেলে চেতনা ফিরে পান।

৬.১ “আমরা এত কিছু আয়োজন কোথায় পাব।” — কোন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে? তাঁরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন? (২+৩=৫)

উত্তরঃ শ্রীপান্থের ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে প্রাচীন বা প্রথাগত পদ্ধতিতে কালি তৈরির জন্য যেসব উপাদান ও নিয়মকানুন মেনে চলতে হতো, এখানে সেইসব জটিল ও দীর্ঘ আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। গ্রামীণ গৃহস্থ পদ্ধতিতে কালি তৈরির জন্য তিল, ত্রিফলা (আমলকী, বয়ড়া ও হরিতকী), শিমুল ছাল, লোহার পাত্র, ছাগলের দুধ ইত্যাদির প্রয়োজন হতো, যা সাধারণ ছেলেদের পক্ষে জোগাড় করা ছিল বেশ কঠিন।

লেখকদের ছেলেবেলায় তাঁরা সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও সহজ পদ্ধতিতে কালি তৈরি করতেন। সাধারণত বাড়ির রান্নার কাজে কাঠের উনুন ব্যবহার করা হতো এবং তার ফলে কড়াইয়ের তলায় যে কালি বা ভুসোকালি জমত, তা তাঁরা লাউ পাতা দিয়ে ঘষে ঘষে তুলে নিতেন। এরপর সেই ভুসোকালি একটি পাথরের বাটিতে জল দিয়ে ভালো করে গুলে নেওয়া হতো। তাঁদের মধ্যে যাঁরা একটু বেশি সদ্ভাব বা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে চাইতেন, তাঁরা সেই জলের মধ্যে আতপ চাল ভেজে পুড়িয়ে এবং তা ভালো করে বেটে মিশিয়ে দিতেন। জল ও কালির এই মিশ্রণটিকে এরপর একটি লোহার খুন্তি আগুনে লাল করে গরম করে সেই জলে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। এতে জলটি টগবগ করে ফুটত এবং উপাদানগুলি ভালোভাবে মিশে যেত। সবশেষে সেই মিশ্রণটিকে একটি পরিষ্কার সুতি কাপড়ে ছেঁকে নিয়ে দোয়াতে বা মাটির নোড়ায় ঢেলে রাখা হতো। এভাবেই অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের শৈশবের লেখার কালি তৈরি হতো।

৬.২ “বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় এখনও নানারকম বাধা আছে।” — বাধাগুলি কী কী ছিল? (৫)

উত্তরঃ রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ অনুসারে, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে প্রধান বাধাগুলি নিচে আলোচনা করা হলো—

উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাবঃ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার প্রধান অন্তরায় হলো আমাদের দেশে উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দের অভাব। বহু বছর ধরে ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা হওয়ার কারণে বিজ্ঞানের বহু শব্দের কোনো যুতসই বাংলা প্রতিশব্দ এখনো তৈরি হয়নি। উনিশ শতকে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ বা পরবর্তীকালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতি গঠন করে কিছু শব্দ তৈরি করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম।

ইংরেজি শব্দের অন্ধ অনুকরণ বা আক্ষরিক অনুবাদঃ অনেক লেখক ইংরেজি শব্দের হুবহু আক্ষরিক অনুবাদ করতে গিয়ে রচনাকে জটিল ও দুর্বোধ্য করে তোলেন। যেমন— ‘Sensitive plant’-এর অনুবাদ ‘উত্তেজনাপ্রবণ উদ্ভিদ’ না করে ‘লজ্জাবতী’ করলে তা সাধারণ পাঠকের পক্ষে বুঝতে অনেক বেশি সহজ হয়।

অল্পশিক্ষিত লেখকদের অপরিপক্বতাঃ বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও সাহিত্যের সঠিক মেলবন্ধন প্রয়োজন। কিন্তু অনেক লেখক নিজেরা বিষয়টি ভালো করে না বুঝে বা বিজ্ঞান সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা না রেখে বিজ্ঞান লিখতে যান, যার ফলে তাঁদের লেখা অনেক সময় খাপছাড়া ও বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে।

অলংকার ও রূপকের অতিপ্রয়োগঃ অনেকেই বিজ্ঞান রচনাকে সাধারণ সাহিত্যের মতো উপমা, অলংকার বা অতিশয়োক্তি দিয়ে সাজাতে পছন্দ করেন। কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষা হওয়া উচিত সরল, সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক। অতিরিক্ত অলংকার রচনার আসল বৈজ্ঞানিক গাম্ভীর্য ও সত্যকে নষ্ট করে দেয়।

গ্রাহকদের মানসিকতা ও অভ্যাসের অভাবঃ আমাদের দেশের সাধারণ পাঠক বা ছাত্রসমাজ ছোটোবেলা থেকেই ইংরেজি মাধ্যমে বা ইংরেজি পরিভাষায় বিজ্ঞান পড়তে অভ্যস্ত। হঠাৎ করে সম্পূর্ণ বাংলায় বিজ্ঞান পড়তে গেলে তাঁদের মানসিক জড়তা বা গ্রহণে অনিচ্ছা দেখা দেয়, যা বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম বড়ো সামাজিক বাধা।

৭.১ “এই মুহূর্তে দরবার ত্যাগ করো।” — বক্তা কাকে দরবার ত্যাগ করতে বলেছেন? তাঁকে দরবার ত্যাগ করতে বলার কারণ কী? (১+৩=৪)

উত্তরঃ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি বা দূত মসিয়ে লঁ-কে রাজদরবার ত্যাগ করতে বলেছেন।

মঁসিয়ে লা কে দরবার ত্যাগ করতে বলার কারণ হলো ফরাসিদের সাথে নবাবের সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এই মুহূর্তে তাঁর পক্ষে ফরাসিদের কোনো সামরিক সাহায্য করা সম্ভব ছিল না। ইংরেজরা ইতিমধ্যেই ফরাসিদের কুঠি চন্দননগর অধিকার করেছিল এবং নবাবের নিষেধ সত্ত্বেও তারা বাংলায় ফরাসিদের বাণিজ্য ও অস্তিত্ব সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছিল। নবাব নিজে ইংরেজদের সাথে ‘আলিগরের সন্ধি’-তে আবদ্ধ থাকায় সরাসরি ফরাসিদের পক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারছিলেন না। তদুপরি, নবাবের নিজের দরবারেই মীরজাফর, রাজবল্লভদের মতো অমাত্যরা ইংরেজদের পক্ষে এবং ফরাসিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। নবাব বুঝতে পেরেছিলেন যে মসিয়ে লঁ যদি আরও বেশি সময় দরবারে অবস্থান করেন, তবে ইংরেজরা এটিকে সন্ধির শর্তভঙ্গ হিসেবে গণ্য করবে এবং যুদ্ধ ত্বরান্বিত হবে। তাই ফরাসিদের প্রতি ব্যক্তিগত সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং রাজ্যের শান্তি রক্ষার তাগিদে নবাব অত্যন্ত দুঃখের সাথে লঁ-কে অবিলম্বে দরবার ত্যাগ করার আদেশ দেন।

৭.২ ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে ঘসেটি বেগমের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। (৪)

উত্তরঃ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে ঘসেটি বেগম (মেহেরউন্নিসা) হলেন এক অত্যন্ত কুচক্রী, প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং ট্রাজিক নারী চরিত্র। নবাব আলিবর্দী খাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার লোভ এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ তাঁকে দেশদ্রোহিতার অন্ধ গলিতে ঠেলে দিয়েছিল। নিচে তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করা হলো—

সীমাহীন প্রতিহিংসা ও আক্রোশঃ ঘসেটি বেগমের পালিত পুত্র শওকত জংকে হত্যা করে সিরাজ বাংলার নবাব হওয়ায় তিনি সিরাজকে নিজের পরম শত্রু বলে মনে করতেন। সিরাজের পতন এবং তাঁর সর্বনাশের মধ্যেই ঘসেটি নিজের জীবনের একমাত্র সান্ত্বনা খুঁজে পেয়েছিলেন।

রাজনীতি ও ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুঃ তিনি মীরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠদের মতো মীরমদনদের বিরোধী দেশদ্রোহী শিবিরের প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন। নবাবের অন্দরে বসেই তিনি ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে বাংলার স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে দ্বিধা করেননি।

ক্ষমতার লোভ ও কুৎসিত মানসিকতাঃ লুৎফুন্নিসার মধুর ব্যবহারের বিপরীতে ঘসেটির মুখে সর্বদা বিষোদ্গার শোনা যেত। তিনি নবাবের প্রাসাদে বন্দি থেকেও দম্ভের সাথে ঘোষণা করেন, “আমার রাজ্য নাই, তাই আমার প্রতিহিংসা আজ উন্মত্ত।”

সমগ্র নাট্যাংশে ঘসেটি বেগম কোনো মাতৃত্ব বা মানবিকতার প্রতীক নন, বরং তিনি হলেন বাংলার আকাশে ঘনীভূত হওয়া এক কালবৈশাখী ঝড়, যা নিজের প্রতিহিংসার আগুনে সমগ্র বাংলার স্বাধীনতাকে পুড়িয়ে ছারখার করতে চেয়েছিল।

৮.১ “একটা মেয়ে পেয়েছি, তাকে শেখাবার সুযোগটুকু দিও তাহলেই হবে” — বক্তার এমন কথা বলার কারণ কী? এরদ্বারা বক্তার কোন মানসিকতার পরিচয় পাও? (২+৩=৫)

উত্তরঃ মতিনন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে উদ্ধৃত কথাটির বক্তা হলেন জুপিটার ক্লাবের প্রাক্তন এবং কোনির প্রধান সাঁতার শিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ। জুপিটার ক্লাব থেকে অন্যায়ভাবে বিতাড়িত হওয়ার পর তিনি যখন অ্যাপোলো ক্লাবে যোগ দিতে যান, তখন ক্লাবের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এই কথাটি বলেছিলেন।

গঙ্গার ঘাটে কোনির কাঁচা আম কুড়ানোর অসাধারণ ক্ষিপ্রতা, পায়ের জোর এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে লড়াই করার ক্ষমতা দেখে জহুরি ক্ষিতীশ চিনেছিলেন যে এই মেয়েটির মধ্যে এক বিশ্বমানের সাঁতারু লুকিয়ে আছে। কোনির চরম দারিদ্র্য এবং জুপিটার ক্লাবের হরিচরণদের চক্রান্তের কারণে তাকে সাঁতার শেখানো ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। ক্ষিতীশের নিজের কোনো ক্লাব ছিল না, তাই কোনির মতো এক প্রতিভাকে অনুশীলন করানোর জন্য একটি ক্লাবের পরিকাঠামো ও ছাড়পত্রের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। অ্যাপোলো ক্লাবের কর্মকর্তাদের কাছে তিনি কোনো টাকা-পয়সা, সম্মান বা নিজের জন্য কোনো পদের দাবি করেননি; তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল কোনিকে সাঁতারের সুযোগ করে দেওয়া। এই কারণেই তিনি এই আকুতিভরা কথাটি বলেছিলেন।

এই উক্তির মধ্য দিয়ে ক্ষিতীশ সিংহের এক অনন্য, নিঃস্বার্থ এবং নিষ্ঠাবান ক্রীড়াগুরুর মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি একজন খাঁটি জহুরি, যিনি ক্ষমতার লোভ বা ব্যক্তিগত অপমানের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে চেয়েছিলেন। নিজের অহংকার বিসর্জন দিয়ে একটি মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য অন্য ক্লাবের কাছে সুযোগ ভিক্ষা করা তাঁর চরম আত্মত্যাগ এবং সাঁতারের প্রতি গভীর ভালোবাসাকেই প্রমাণ করে।

৮.২ “অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।” — কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল, তা লেখো। (৫)

উত্তরঃ মতিনন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে কোনির বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পাওয়ার পথটি ছিল অত্যন্ত কাঁটাভরা, চক্রান্তে পূর্ণ এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। কোনির প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও জুপিটার ক্লাবের হরিচরণ ও বেঙ্গল স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বি.এস.এ) কর্তাদের চরম দলাদলি ও চক্রান্তের কারণে তাকে বারবার দল থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতার জন্য বাংলা দল নির্বাচনের ট্রায়ালসে কোনিকে ইচ্ছে করে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। প্রথমে সময় পরিমাপের ক্ষেত্রে কারচুপি এবং পরে রুলবুকের অজুহাত দেখিয়ে অমিয়ারা কোনিকে দল থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করে। ট্রায়ালসে হিলিয়াম ক্লাবের বিন্দুর সাথে ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে কোনি অসাধারণ পারফর্ম করলেও তাকে রেফারিরা অন্যায়ভাবে ডিসকোয়ালিফাই বা বাতিল করার চেষ্টা করেন। এই নোংরা রাজনীতির বিরুদ্ধে ক্ষিতীশ সিংহ এবং অ্যাপোলো ক্লাবের সমর্থকেরা তীব্র প্রতিবাদ ও হট্টগোল শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা বাধ্য হয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেন।

অবশেষে সত্যের জয় হয়। কোনির টাইমিং এবং তার অসামান্য গতিকে কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় ছিল না। তা ছাড়া প্রধান ট্রেইনার বা নির্বাচকদের একাংশ বুঝতে পেরেছিলেন যে কোনিকে বাদ দিলে জাতীয় স্তরে বাংলার পদক পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। সমস্ত চক্রান্ত, নোংরা রাজনীতি এবং খলনায়কদের প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে নিজের অদম্য যোগ্যতা ও ক্ষিতীশের লড়াইয়ের জোরেই কোনি অবশেষে বোম্বাইগামী (মুম্বাই) জাতীয় প্রতিযোগিতার জন্য বাংলা সাঁতার দলে নিজের জায়গা ছিনিয়ে নেয়।

৮.৩ “সীতারাম অনেক বড়ো, সে সেনাপতির থেকে।” — বক্তা কে? বক্তাকে অনুসরণ করে উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (১+৪=৫)

উত্তরঃ মতিনন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন কোনির দাদা তথা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কমল পাল। তিনি তাঁর ছোটো ভাই সীতারামকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটি বলেছিলেন।

কমল নিজে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়েও পরিবারের আর্থিক অনটন দূর করতে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁদের মতো চরম দরিদ্র পরিবারের সাধারণ মানুষের জীবনযুদ্ধ কোনো রাজরাজড়া বা দেশের সীমানা রক্ষা করা সেনাবাহিনীর লড়াইয়ের চেয়ে কম নয়। সেনাপতিরা যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব দেখান, মেডেল পান এবং ইতিহাসে তাঁদের নাম লেখা থাকে। কিন্তু সাধারণ গরিব মানুষের জীবনযুদ্ধ প্রতিদিনের অন্নের সংস্থান করার যুদ্ধ, যা কোনো লাইমলাইট বা সম্মান ছাড়াই লড়তে হয়।

কমলের ছোটো ভাই সীতারাম পড়াশোনা ছেড়ে চায়ের দোকানে মাত্র সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে অত্যন্ত কষ্টের কাজ শুরু করেছিল, যাতে পরিবারের মুখে দু-মুঠো অন্ন তুলে দেওয়া যায়। কমলের দৃষ্টিতে, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও শৈশব বিসর্জন দিয়ে মাত্র বারো-তেরো বছর বয়সে একটি নাবালক ছেলে যেভাবে সংসারের জোয়াল কাঁধে তুলে নিয়েছে, সেই আত্মত্যাগ কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের সেনাপতির বীরত্বের চেয়ে অনেক বেশি মহান ও বড়ো। সেনাপতির লড়াইয়ে দেশের গৌরব থাকে, কিন্তু সীতারামের লড়াইয়ে জড়িয়ে ছিল একটি পরিবারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তীব্র আকুতি। এই মানবিক ও বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ থেকেই কমল সেনাপতির চেয়ে তাঁর ছোটো ভাই সীতারামকে অনেক বেশি বড়ো ও শ্রদ্ধেয় বলে সম্মান জানিয়েছেন।

৯. চলিত বাংলায় অনুবাদ করো : (৪)

Rabindranath had his own ideas of education. He believed that one can learn as much from nature as from books. For this reason he started a school of his own at Santiniketan. It is called Vishwabharati.

চলতি বাংলায় অনুবাদঃ

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা সম্পর্কে নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বইয়ের পাতা থেকে যতটা শেখা যায়, প্রকৃতি থেকেও ঠিক ততটাই শেখা সম্ভব। এই কারণেই তিনি শান্তিনিকেতনে নিজের মতো করে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি বিশ্বভারতী নামে পরিচিত।

১০.১ ‘রক্তদানই জীবনদান’ — এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। (৫)

রক্তদান শিবির ও সচেতনতাঃ রক্তদানই জীবনদান

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ৩০শে জুলাই: গত কাল স্থানীয় বিবেকানন্দ ক্লাবের উদ্যোগে এবং কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালের সহযোগিতায় ক্লাব প্রাঙ্গণে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই শিবিরে এলাকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

শিবিরটির উদ্বোধন করতে এসে মাননীয় বিধায়ক মহোদয় তাঁর বক্তব্যে বলেন, “রক্তের কোনো বিকল্প হয় না। একটি মানুষের দেওয়া রক্ত অন্য একজন মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পারে। তাই রক্তদানই হলো প্রকৃত জীবনদান।” শিবিরে রক্তদাতাদের রক্ত সংগ্রহের আগে চিকিৎসকদের দ্বারা শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। সারা দিনে প্রায় একশত পঞ্চাশ জন রক্তদাতা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে রক্তদান করেন, যার মধ্যে অনূর্ধ্ব-ত্রিশ বছর বয়সীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।

রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি করে চারাগাছ ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। বিকালের দিকে শিবিরের সমাপ্তি ঘোষণা করে ক্লাবের সম্পাদক জানান যে, রক্তের সংকট মেটাতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে রক্তদান নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতেই প্রতি বছরের মতো এবারও এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

১০.২ প্লাস্টিক বর্জন নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো। (৫)

উত্তরঃ প্লাস্টিক বর্জন এবং পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে দুই বন্ধু— আকাশ ও সুমিতের মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ নিচে দেওয়া হলো:

আকাশ: কীরে সুমিত! বাজার থেকে ফিরলি? কিন্তু তোর হাতে ওটা কী? আবার সেই প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ নিয়েছিস?
সুমিত: আরে আকাশ, দোকানদার দিল তাই নিয়ে নিলাম। আর প্লাস্টিক ব্যাগ তো বেশ সুবিধাজনক, সহজে ছিঁড়ে যায় না আর দামও লাগে না।

আকাশ: সুবিধা তো ঠিকই, কিন্তু এর মারাত্মক কুফলটার কথা ভেবেছিস কখনো? এই প্লাস্টিক কিন্তু আমাদের পরিবেশের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। এটা সহজে মাটিতে মেশে না।

সুমিত: তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু একটা প্লাস্টিক ব্যাগে আর এমন কী ক্ষতি হবে?

আকাশ: একটা নয় সুমিত, রোজ কোটি কোটি মানুষ এই প্লাস্টিক ব্যবহার করে ড্রেন বা রাস্তায় ফেলছে। এর ফলে নর্দমা জ্যাম হয়ে বর্ষায় জল জমছে। আর মাটিতে প্লাস্টিক জমে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সুমিত: হুম, তুই ঠিকই বলেছিস। খবরের কাগজেও সেদিন পড়ছিলাম প্লাস্টিক পোড়ালে যে বিষাক্ত গ্যাস বের হয়, তা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে।
আকাশ: একদমই তাই। এমনকি অনেক সময় গোরু বা অন্যান্য পশুরা খাবারের সাথে প্লাস্টিক খেয়ে মারাও যায়। সমুদ্রের মাছের পেটেও এখন মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে।

সুমিত: বাপরে! এটা তো সত্যি খুব ভয়ের ব্যাপার। তাহলে আমাদের কী করা উচিত বল তো?

আকাশ: আমাদের এখনই প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। বাজারে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে চটের বা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে যেতে হবে। আর দোকানদার প্লাস্টিক দিতে চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
সুমিত: একদম ঠিক বলেছিস। আজ থেকে আমি আর কোনোদিন প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করব না। বন্ধুদেরও এই ব্যাপারে সচেতন করব।

আকাশ: খুব ভালো সিদ্ধান্ত সুমিত। আমরা সচেতন হলেই আমাদের পৃথিবীটা আবার সুন্দর আর সুস্থ হয়ে উঠবে।

Leave a Comment