ছেলেবেলা (গল্প) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Chelebela Golper Prosno Uttor Class 5 Bengali wbbse

পাতাবাহার
বাংলা | পঞ্চম শ্রেণি

ছেলেবেলা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Chelebela Golper Prosno Uttor Class 5 Bengali wbbse

📌 পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

ছেলেবেলা
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হাতে কলমে প্রশ্ন উত্তর : ছেলেবেলা– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গল্প পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Hate Kolome Prosno Uttor Chelebela Golpo Class 5 Bengali wbbse

১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখ :

১.১ চিলেকোঠা হলো (কাঠের ঘর / তেতালার ঘর / ছাদের উপরে সিঁড়ির ঘর / বসবাস করার ঘর)।

উত্তরঃ ছাদের উপরে সিঁড়ির ঘর।

১.২ ভারতবর্ষের বিখ্যাত মরুভূমিটি হল (গোবি / সাহারা / থর)।

উত্তরঃ থর।

১.৩ লিডিস্টেন ছিলেন (ইতালি / জার্মানি / ইংল্যান্ড / স্কটল্যান্ড) দেশের মানুষ।

উত্তরঃ ইংল্যান্ড।

১.৪ জুড়িগাড়ি হল (ঘোড়ায় টানা‌ / জাতিতে টানা / যন্ত্রচালিত / গরুতে টানা) গাড়ি।

উত্তরঃ ঘোড়ায় টানা।

অতিরিক্ত MCQ প্রশ্ন উত্তর :

১.৫ ছেলেবেলা’ একটি– (কাব্য / নাটক / আত্মজীবনীমূলক গল্প / প্রবন্ধ)।

উত্তরঃ আত্মজীবনীমূলক গল্প।

১.৬ শিশু রবীন্দ্রনাথের প্রধান ছুটির দেশ ছিল (খোলা ছাদ / ঘর / বাগান / বারান্দা)।

উত্তরঃ খোলা ছাদ।

১.৭ শিশু রবীন্দ্রনাথের পিতা থাকতেন (একতলার / দোতলার / তেতলার / চারতলার) ঘরে।

উত্তরঃ তেতলার।

১.৮ (সকালবেলা / দুপুরবেলা / সন্ধ্যাবেলা / রাতেরবেলা) লেখক লুকিয়ে ছাদে উঠতেন।

উত্তরঃ দুপুরবেলা।

১.৯ সামনের গলি দিয়ে হেঁকে যেত (সবজিওয়ালা / ফেরিওয়ালা / মাছওয়ালা / চুড়িওয়ালা)।

উত্তরঃ চুড়িওয়ালা।

১.১০ খোলা চুল এলিয়ে শুয়ে থাকত বাড়ির (বউ / মেয়ে / দাসী / গিন্নি)।

উত্তরঃ বউ।

১.১১ রাস্তা থেকে (ফেরিওয়ালার / সইসের / বাসনওয়ালার / কাবুলিওয়ালার) হাঁক শোনা যাচ্ছে।

উত্তরঃ সইসের।

২। ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো :

‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ
কেতাব ঘোড়াকে দেখাশোনা করার লোক
মরুভূমি মরুদ্যান
ওয়েসিস বই
সইস পাহারাদার
চৌকিদার শুষ্ক জলহীন স্থান

উত্তরঃ

‘ক’ স্তম্ভ ‘খ’ স্তম্ভ
কেতাব বই
মরুভূমি শুষ্ক জলহীন স্থান
ওয়েসিস মরুদ্যান
সেইস ঘোড়াকে দেখাশোনা করার লোক
চৌকিদার পাহারাদার

৩। কোনটি বেমানান খুঁজে নিয়ে লেখো :

৩.১ পুকুরের পাতিহাঁস, ঘাটে লোকজনের আনাগোনা, অর্ধেক পুকুর জোড়া বট গাছের ছায়া, জুড়িগাড়ির সইস।

উত্তরঃ জুড়িগাড়ির সইস।

৩.২ তেতালা ঘর, সাত সমুদ্দুর, সেকেন্ড ক্লাস, পিপেগাড়ি।

উত্তরঃ সাত সমুদ্দুর।

৩.৩ চুড়িওয়ালা, ফেরিওয়ালা, সইস, বালক সন্ন্যাসী।

উত্তরঃ বালক সন্ন্যাসী।

৩.৪ পিলপেগাড়ি, জুড়িগাড়ি, রিকশা, গাড়িবারান্দা।

উত্তরঃ গাড়িবারান্দা।

৩.৫ চিল, রোদ্দুর, দুপুর, লোকবসতি।

উত্তরঃ লোকবসতি।

। তোমার পাঠ্যাংশে রয়েছে এমন পাঁচটা ইংরেজি শব্দ খুঁজে নিয়ে লেখো :

উত্তরঃ সোফা, সেকেন্ড, ক্লাস, ওয়েসিস, লিভিংস্টন।

৫। ‘চুড়িওয়ালা’ (চুড়ি + ওয়ালা), ‘ফেরিওয়ালা’ (ফেরি + ওয়ালা) এরকম শব্দের শেষে ‘ওয়ালা’ যোগ করে পাঁচটি নতুন শব্দ তৈরি করো।

উত্তরঃ বাড়ি +ওয়ালা = বাড়িওয়ালা।

পয়সা + ওয়ালা = পয়সাওয়ালা।

সবজি + ওয়ালা = সবজিওয়ালা।

বাসন + ওয়ালা = বাসনওয়ালা।

মাছ + ওয়ালা = মাছওয়ালা।

৬। শূন্যস্থান পূরণ করো :

৬.১ রাঙা হয়ে আসত ___________ চিল ডেকে যেত ___________।

উত্তরঃ রোদ্দুর, আকাশে।

৬.২ আমার জীবনে বাইরের ___________ ছাদ ছিল প্রধান ___________ দেশ।

উত্তরঃ খোলা, ছুটির।

৬.৩ ___________ তাকে যেন বাংলাদেশের ___________ এইমাত্র খুঁজে বের করল।

উত্তরঃ নাবার ঘর, শিশু লিভিংস্টন।

৬.৪ এই ছাদের মরুভূমিতে তখন একটা ___________ দেখা দিয়েছিল।

উত্তরঃ ওয়েসিস।

৬.৫ নীচের ___________ বাজল চারটে।

উত্তরঃ দেউড়ির ঘণ্টায়।

৭। বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো : বেলোয়ারি, চুড়ি, মাদুর, ঝাঁকড়া, বিবাগি, গড়ন, দামি, নীল, গরম, ঘোলা, পুকুর, লোকজন।

উত্তরঃ

বিশেষ্য— চুড়ি, মাদুর, পুকুর, গড়ন, লোকজন।

বিশেষণ— বেলোয়ারি, ঝাঁকড়া, বিবাগি,‌ দামি, নীল, গরম, ঘোলা।

৮। ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও :

৮.১ হঠাৎ তাদের হাঁক পৌঁছত।

উত্তরঃ হঠাৎ তাদের হাঁক [পৌঁছত।]

৮.২ সেইখানে অত্যন্ত একলা হয়ে বসতুম।

উত্তরঃ সেইখানে অত্যন্ত একলা হয়ে [বসতুম।]

৮.৩ হাত গলিয়ে ঘরের ছিটকিনি দিতুম খুলে।

উত্তরঃ হাত গলিয়ে ঘরের ছিটকিন [দিতুম খুলে।]

৮.৪ ধারাজল পড়ত সকল গায়ে।

উত্তরঃ ধারাজল [পড়ত] সকল গায়ে।

৮.৫ পুকুর থেকে পাতিহাঁসগুলো উঠে গিয়েছে।

উত্তরঃ পুকুর থেকে পাতিহাঁসগুলো [উঠে গিয়েছে।]

৯। বাক্যরচনা করো : প্রধান, দেশ, বালিশ, মরুভূমি, ধুলো।

উত্তরঃ

∆ প্রধান—‌

• প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চালাচ্ছেন।

• বাহাদুরপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক খুবই দয়ালু।

• আমাদের গ্রামের প্রধান উৎসব হলো বৈশাখী মেলা।

∆ বালিশ—

• রাতে ভালো ঘুমানোর জন্য নরম বালিশ দরকার।

• সে নিজের বালিশের উপর মাথা রেখে পড়াশোনা করছিল।

• নতুন ঘরের জন্য সুন্দর বালিশ কিনতে হবে।

∆ ধুলো—

• ঘর পরিষ্কার না করলে ধুলো জমে

• মাটির রাস্তায় খুব ধুলো ওড়ে।

• ধুলো পরিষ্কার করার জন্য ঝাড়ু ব্যবহার করা হয়।

∆ দেশ—

• আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি।

• দেশের উন্নতির জন্য আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

• দেশের জন্য ভাল কাজ করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।

∆ মরুভূমি—

• সাহারা মরুভূমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি।

• মরুভূমিতে খুব কম গাছপালা দেখা যায়।

• উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।

১০। ‘গ্রহণ’ শব্দটিকে দুটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে পৃথক বাক্যরচনা করো।

উত্তরঃ

গ্রহণ (কোনো কিছু নেওয়া)— ভালোবেসে কেউ কিছু দিলে তা গ্রহণ করা উচিত।

গ্রহণ (গ্রাস করা)— আগামীকাল দুপুর বেলা সূর্যগ্রহণ হবে।

১১। বিপরীতার্থক শব্দ লেখো : আড়াল, চুপ, আনন্দ, গলি, ফিকে।

উত্তরঃ আড়াল— প্রকাশ্য। চুপ— চিৎকার।
আনন্দ— নিরানন্দ। গলি— রাজপথ।
ফিকে— উজ্জ্বল।

১২। অর্থ লেখো : মূর্তি, পিলপেগাড়ি, বিবাগি, নাগাল, দেউড়ি।

উত্তরঃ মূর্তি— পাথর বা মাটির তৈরি প্রতিকৃতি, বিগ্রহ। পিলপেগাড়ি— হাতিতে টানা গাড়ি। বিবাগি— সংসার ত্যাগী। নাগাল— হস্তগত, হদিস। দেউড়ি— সদর দরজা।

১৩। প্রতিশব্দ লেখো : পৃথিবী, পাহাড়, আকাশ, জল, গাছ।

উত্তরঃ

পৃথিবী— ধরণি, পৃথ্বী, ভুবন, বসুমতী, ধরিত্রী, দেশ।

পাহাড়— গিরি, শৈল, অচল, অদ্রি, ভূধর।

আকাশ— গগন, নভঃ, অম্বর, অভ্র, নীলিমা, অন্তরীক্ষ ।

জল— বারি, সলিল, নীর, অপ, উদক।

গাছ— বৃক্ষ, তরু, পাদপ, দ্রুম, শাখী, বিটপী, অটবী।

১৪‌। দুটি বাক্যে ভেঙে লেখো :

১৪.১ আমার পিতা যখন বাড়ি থাকতেন তাঁর জায়গা ছিল তেতলার ঘরে।

উত্তরঃ আমার পিতা মাঝে মধ্যে বাড়ি থাকতেন। তাঁর জায়গা ছিল তেতলার ঘরে।

১৪.২ আমি লুকিয়ে ছাদে উঠতুম প্রায়ই দুপুর বেলায়।

উত্তরঃ আমি লুকিয়ে ছাদে উঠতুম। আমি প্রায় দুপুর বেলায় ছাদে উঠতুম ।

১৪.৩ হঠাৎ তাদের হাঁক পৌঁছোত, যেখানে বালিশের ওপর খোলা চুল এলিয়ে দিয়ে শুয়ে থাকত বাড়ির বউ।

উত্তরঃ বালিশের ওপর খোলা চুল এলিয়ে দিয়ে শুয়ে থাকত বাড়ির বউ। হঠাৎ তাদের হাঁক পৌঁছোত।

১৪.৪ বিছানার একখানা চাদর নিয়ে গা মুছে সহজ মানুষ হয়ে বসতুম।

উত্তরঃ বিছানার একখানা চাদর নিয়ে গা মুছতাম। গা মুছে সহজ মানুষ হয়ে বসতুম।

১৪.৫ গরম বাতাস হু হু করে ছুটে যাচ্ছে ধুলো উড়িয়ে।

উত্তরঃ গরম বাতাস হু হু করে ছুটে যাচ্ছে। ধুলো উড়ে যাচ্ছে।

১৫.১ কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের বাড়িটি কী নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ?

উত্তরঃ কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের বাড়িটি ‘জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি’ নামে পরিচিত।

১৫.২ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটোদের জন্য লিখেছেন এমন দুটি বইয়ের নাম লেখো।

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটোদের জন্য লিখেছেন ‘শিশু’, ও ‘শিশু ভোলানাথ’।

১৫.৩ ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত কোন্ দুটি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন ?

উত্তরঃ ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত ‘ভারতী’ এবং ‘বালক’ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত লিখতেন।

১৬। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

১৬.১ বালক রবীন্দ্রনাথের প্রধান ছুটির দেশ কী ছিল ?

উত্তরঃ বালক রবীন্দ্রনাথের প্রধান ছুটির দেশ ছিল তেতলার বাইরের খোলা ছাদ।

১৬.২ তাঁর বাড়ির নীচতলায় বারান্দায় বসে রেলিঙের ফাঁক দিয়ে কী কী দেখা যেত ?

উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথের বাড়ির নীচতলার বারান্দায় বসে রেলিঙের ফাঁক দিয়ে দেখা যেত রাস্তার লোক চলাচলের দৃশ্য।

১৬.৩ পাঠ্যাংশে ‘ওয়েসিস’-এর প্রসঙ্গ কীভাবে রয়েছে ?

উত্তরঃ ‘ছেলেবেলা’ পাঠ্যাংশ থেকে জানা যায় যে, বালক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বাড়ির ছাদটিকে কেতাবে পড়া মরুভূমির মতো মনে করতেন। গ্রীষ্মকালে সেই ছাদের উপর দিয়ে খুব গরম বাতাস হু হু করে বয়ে যেত। ছাদের পাশেই তেতলার একটি ঘরে জলের কল ছিল। সেই জলের কলঘরটিকেই রবীন্দ্রনাথ তাঁর কল্পনায় মরুভূমির মধ্যে থাকা ‘ওয়েসিস’ বা মরূদ্যান বলে ভাবতেন। এই স্নানের ঘরটির প্রসঙ্গেই পাঠ্যাংশে ‘ওয়েসিস’-এর কথা বলা হয়েছে।

১৬.৪ পাঠ্যাংশে রবীন্দ্রনাথের পিতার সম্পর্কে কী জানতে পারো ?

উত্তরঃ ‘ছেলেবেলা’ পাঠ্যাংশ থেকে আমরা রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে জানতে পারি যে তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক মানুষ। তিনি ভোরবেলায় সূর্য ওঠার আগেই ছাদে উঠে দুই হাত কোলে জড়ো করে একদম স্থির হয়ে বসে থাকতেন, যেন পাথরের মূর্তি। মাঝে মাঝে তিনি অনেক দিনের জন্য পাহাড়-পর্বতে ভ্রমণে চলে যেতেন। তিনি যখন বাড়িতে থাকতেন, তখন তেতলার একটি নির্দিষ্ট ঘরেই তাঁর থাকার ব্যবস্থা ছিল।

১৬.৫ পিতার কলঘরের প্রতি ছোট্ট রবির আকর্ষণের কথা কীভাবে জানা গেল ?

উত্তরঃ ‘ছেলেবেলা’ পাঠ্যাংশ থেকে আমরা জানতে পারি যে, গ্রীষ্মের সময় ছাদে যখন খুব গরম হাওয়া বইত, তখন বালক রবীন্দ্রনাথের কাছে সেই ছাদ মরুভূমির মতো মনে হতো। আর ছাদের পাশে তেতলার পিতার ঘরটি তাঁর কাছে ‘ওয়েসিস’-এর মতো লাগত। পিতার কলঘরের প্রতি তাঁর আকর্ষণের কারণেই, পিতা বাড়িতে না থাকলে ছোট্ট রবি পাহারাওয়ালাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দুপুরবেলায় ছাদে উঠে যেতেন। এরপর খড়খড়ির ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পিতার ঘরের ছিটকিনি খুলতেন এবং জলের কল খুলে খুব আনন্দের সঙ্গে স্নান করতেন। এইভাবেই পাঠ্যাংশ থেকে পিতার কলঘরের প্রতি ছোট্ট রবির আকর্ষণের কথা জানা যায়।

১৬.৬ ছুটি শেষের দিকে এসে পৌঁছলে রবির মনের ভাব কেমন হতো ?

উত্তরঃ ছুটি যত শেষের দিকে আসত, ততই রবীন্দ্রনাথের মন খারাপ হতে থাকত। তাঁর মনে হতো রবিবার বিকেলের আকাশটার মুখ যেন ধীরে ধীরে খারাপ হয়ে যাচ্ছে। মনে হতো সোমবার যেন বড় করে হাঁ করে তাঁকে গিলে খেতে আসছে। ছুটি শেষ হওয়ার চিন্তায় তাঁর মন ভারী হয়ে উঠত।

১৬.৭ পাঠ্যাংশে কাকে, কেন বাংলাদেশের ‘শিশু লিভিংস্টন’ বলা হয়েছে ?

উত্তরঃ ‘ছেলেবেলা’ পাঠ্যাংশে ছোটো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলাদেশের ‘শিশু লিভিংস্টন’ বলা হয়েছে। যেমন লিভিংস্টন নতুন নতুন জায়গা আবিষ্কার করতেন, তেমনই ছোট্ট রবি নিজের বাড়ির ছাদে বসেই তাঁর কল্পনায় ‘ওয়েসিস’ আবিষ্কার করেছিলেন। এই কারণে তাঁকে মজা করে বাংলাদেশের ‘শিশু লিভিংস্টন’ বলা হয়েছে।

১৬.৮ তুমি যখন আরও ছোটো ছিলে তখন তোমার দিন কীভাবে কাটত, তোমার চারপাশের প্রকৃতি কেমন ছিল তা লেখো।

উত্তরঃ আমি যখন আরও ছোটো ছিলাম, তখন আমার দিন খুব আনন্দের সঙ্গে কাটত। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আমি দুধ খেয়ে পড়তে বসতাম। তারপর স্নান করে স্কুলে যেতাম। স্কুলে আমার অনেক বন্ধু ছিল। আমরা সবাই একসঙ্গে পড়াশোনা করতাম এবং খেলাধুলো করতাম। স্কুল থেকে ফিরে একটু খেয়ে আমি আবার পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে বেরিয়ে পড়তাম। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে পড়তে বসতাম। রাতে খাবার খেয়ে মায়ের মুখে রূপকথার গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তাম। এইভাবেই আমার ছোটোবেলার দিনগুলো কেটে যেত।

∆ অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর : ছেলেবেলা গল্প পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Extra Question Answer Chelebela Golpo Class 5 Bengali wbbse

∆ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১

১. লেখকের জীবনে প্রধান ছুটির দেশ কী ছিল ?

উত্তরঃ লেখকের জীবনে প্রধান ছুটির দেশ ছিল বাড়ির খোলা ছাদ।

২. লেখকের পিতা বাড়িতে থাকলে কোথায় থাকতেন ?

উত্তরঃ লেখকের পিতা বাড়িতে থাকলে তেতালার ঘরে থাকতেন।

৩. ছাদে বসে লেখক তাঁর পিতাকে কেমন দেখতেন ?

উত্তরঃ লেখক তাঁর পিতাকে সাদা পাথরের মূর্তির মতো চুপ করে বসে থাকতে দেখতেন।

৪. পিতা পাহাড়ে চলে গেলে ছাদে যাওয়া লেখকের কাছে কিসের মতো আনন্দ ছিল ?

উত্তরঃ পিতা চলে গেলে ছাদে যাওয়া লেখকের কাছে সাত সমুদ্র পার হওয়ার আনন্দের মতো ছিল।

৫. ছাদে উঠলে লেখকের মন কোথায় চলে যেত ?

উত্তরঃ ছাদে উঠলে লেখকের মন আকাশ ও পৃথিবীর শেষ সীমানায় চলে যেত।

৬. লেখক সাধারণত কখন লুকিয়ে ছাদে উঠতেন ?

উত্তরঃ লেখক সাধারণত দুপুরবেলায় লুকিয়ে ছাদে উঠতেন।

৭. দুপুরবেলাকে লেখক কী বলে মনে করেছেন ?

উত্তরঃ লেখক দুপুরবেলাকে দিনের বেলাকার রাত্তির বলে মনে করেছেন।

৮. ছাদে লেখক কোথায় একা বসতেন ?

উত্তরঃ ছাদে দরজার সামনে রাখা সোফায় লেখক একা বসতেন।

৯. দুপুরবেলায় চৌকিদারদের কী অবস্থা হতো ?

উত্তরঃ দুপুরবেলায় চৌকিদাররা খেয়ে ঝিমিয়ে মাদুরে শুয়ে পড়ত।

১০. দুপুরের পরিবেশে কী কী শব্দ শোনা যেত ?

উত্তরঃ দুপুরে চিলের ডাক ও চুড়িওয়ালার হাঁক শোনা যেত।

১১. আজকের দিনে সেই দুপুরবেলার কোন জিনিসটি আর নেই ?

উত্তরঃ আজকের দিনে সেই চুপচাপ দুপুরবেলা ও ফেরিওয়ালা আর নেই।

১২. ছাদকে লেখক কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন ?

উত্তরঃ ছাদকে লেখক কেতাবে-পড়া মরুভূমির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

১৩. ছাদের মরুভূমিতে লেখকের কাছে ওয়েসিস কী ছিল ?

উত্তরঃ ছাদের মরুভূমিতে কলের জলই লেখকের কাছে ওয়েসিস ছিল।

১৪. ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথ কোন ঘরটি সবচেয়ে পছন্দ করতেন ?

উত্তরঃ চিলেকোঠা।

১৫. ‘চিলেকোঠা’ বলতে কী বোঝায় ?

উত্তরঃ ছাদের উপর সিঁড়িঘর।

∆ দু–তিনটি বাক্যে প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২

১. বাড়ির ছাদ লেখকের জীবনে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল ?

উত্তরঃ ছাদ ছিল লেখকের প্রধান অবকাশ ও কল্পনার জায়গা। ছোট থেকে বড়ো বয়স পর্যন্ত নানা অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা সেখানে জমা হয়েছে। ছাদেই তিনি একাকিত্ব ও স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছেন।

২. লেখকের পিতার ছাদে বসে থাকার দৃশ্য লেখকের মনে কী প্রভাব ফেলেছিল ?

উত্তরঃ পিতাকে চুপচাপ ধ্যানে বসে থাকতে দেখে লেখকের মনে গভীর শ্রদ্ধা ও রহস্যের অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। সেই দৃশ্য তাঁর মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছিল।

৩. পিতা পাহাড়ে চলে গেলে ছাদ লেখকের কাছে কেন বিশেষ হয়ে উঠত ?

উত্তরঃ পিতা চলে গেলে ছাদে যাওয়ার বাধা থাকত না। তাই ছাদে ওঠা লেখকের কাছে দূরদেশে যাওয়ার মতো আনন্দের হয়ে উঠত।

৪. দুপুরবেলাকে লেখক ‘দিনের বেলাকার রাত্তির’ বলেছেন কেন‌ ?

উত্তরঃ দুপুরবেলায় চারদিক নিস্তব্ধ ও নির্জন হয়ে যেত। সেই নীরবতা ও একাকিত্ব লেখকের কাছে রাতের মতো মনে হতো।

৫. লুকিয়ে ছাদে ওঠার সময় লেখকের আচরণ কেমন ছিল ?

উত্তরঃ লেখক খুব সাবধানে খড়খড়ি খুলে ছাদে উঠতেন। সেখানে তিনি একা বসে নিজের মনে ডুবে থাকতেন।

৬. দুপুরের পরিবেশ বর্ণনায় কোন কোন দৃশ্য উঠে এসেছে ?

উত্তরঃ রাঙা রোদ, আকাশে চিলের ডাক ও গলির চুড়িওয়ালার হাঁকের কথা বলা হয়েছে। এসব মিলিয়ে এক শান্ত অথচ জীবন্ত দুপুরের ছবি ফুটে উঠেছে।

৭. চুড়িওয়ালা ও বউয়ের প্রসঙ্গ লেখক কেন এনেছেন ?

উত্তরঃ লেখক সময়ের পরিবর্তন বোঝাতে এই প্রসঙ্গ এনেছেন। অতীতের মানুষ ও তাদের অবস্থান বর্তমানের সঙ্গে তুলনা করে স্মৃতির বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।

৮. ছাদকে ‘মরুভূমি’ বলার কারণ কী ?

উত্তরঃ ছাদে প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বাতাস বইত। চারদিকে ধূ ধূ ভাব থাকায় লেখকের কাছে তা মরুভূমির মতো মনে হতো।

৯. কলের জল লেখকের কাছে কেন ‘ওয়েসিস’-এর মতো ছিল ?

উত্তরঃ গরম ও শুষ্ক ছাদের মধ্যে কলের জল ছিল প্রশান্তির উৎস। সেই জল লেখককে স্বস্তি ও আনন্দ দিত।

১০. ছুটির দিনের শেষের পরিবেশ কেমন ছিল ?

উত্তরঃ বিকেলের আকাশ ভারী ও বিষণ্ণ হয়ে উঠেছিল। আসন্ন সোমবারের ভাব লেখকের মনে মনখারাপের ছায়া ফেলেছিল।

📌 আরো দেখুনঃ

📌পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply

  • Post comments:0 Comments
  • Reading time:11 mins read