Class 7 Geography 2nd Unit Test Question With Answer 2026 | সপ্তম শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৬

2ND SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 7 (VII) WBBSE
GEOGRAPHY QUESTION PAPER

Class 7 Geography 2nd Unit Test Question With Answer 2026 | সপ্তম শ্রেণির ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র ২০২৬

📌 সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণির ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here


2ND SUMMATIVE EVALUATION 2026
CLASS-VII
SUB – GEOGRAPHY

TIME – 1 Hour 40 Minutes       F.M – 50

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে খাতায় লেখো (১০টি) : ১×১০=১০

১.১ মাটিতে বাতাস থাকে— (10 / 15 / 25 / 50) শতাংশ ।

১.২ সাহারা মরুভূমির শুকনো নদীখাতগুলিকে বলা হয়— (ওয়াদি / হামাদা / আর্গ / রেগ)।

১.৩ একটি লাভা গঠিত মালভূমি হল— (তিব্বত মালভূমি / পামির মালভূমি / লাদাখ মালভূমি / মালব মালভূমি) ।

১.৪ ‘I’ আকৃতির গিরিখাতকে বলে— (জলবিভাজিকা / ক্যানিয়ন / মিয়েন্ডার / জলপ্রপাত) ।

১.৫ শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয় তার নাম— (স্তূপ পর্বত / সঞ্চয়জাত পর্বত / ভঙ্গিল পর্বত / ক্ষয়জাত পর্বত)।

১.৬ একটি আগ্নেয় শিলা হল— (স্লেট / নিস / গ্রানাইট / বেলেপাথর)।

১.৭ মিশরের রাজধানী হল— (খার্তুম / হারারে / কায়রো / নাইরোবি)।

১.৮ পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী— (আমাজন নদী / গঙ্গা নদী / দানিয়ুব নদী / নীল নদ)।

১.৯ আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ দিকে বালুকাময় মরুভূমিটি হল— (সাহারা / থর / কালাহারি / গোবি)।

১.১০ ওক গাছ দেখা যায়— (নিরক্ষীয় / ভূমধ্যসাগরীয় / উষ্ণ মরু / নাতিশীতোষ্ণ) জলবায়ু অঞ্চলে ।

১.১১ ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে— (কঙ্গো নদী / জাম্বেজি নদী / জাইরে নদী / নীলনদ) -এর ওপর ।

১.১২ আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হল— (মাউন্ট তৌবকল / মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো / মাউন্ট এলবুর্জ / মাউন্ট ড্রাকেন্সবার্গ)।

২। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (৫টি) : ১×৫=৫

২.১ তাজমহল কোন শিলা দিয়ে তৈরি ?

২.২ যে নদীতে সারাবছর জল থাকে তাকে কী বলে ?

২.৩ ‘পৃথিবীর ছাদ’ কাকে বলা হয় ?

২.৪ অ্যাটলাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী ?

২.৫ ভারতের সাতপুরা কী জাতীয় পর্বত ?

২.৬ ব্লু নীলের উৎপত্তি হয়েছে কোন্ হ্রদ থেকে ?

২.৭ ক্যারাভান কী ?

৩। শূন্যস্থান পূরণ করো (৫টি) : ১×৫=৫

৩.১ পৃথিবীর দীর্ঘতম গ্রস্ত উপত্যকা হল ____________ ।

৩.২ বাঁকুড়ার গন্ধেশ্বরী হল ___________ নদীর উদাহরণ।

৩.৩ আফ্রিকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ___________ বায়ু উষ্ণ ও শুষ্ক প্রকৃতির।

৩.৪ __________ মাটিতে বালি ও কাদার ভাগ সমান সমান।

৩.৫ ‘ঘরজাইয়া’ হল সাহারা মরুভূমির একটি __________ ।

৩.৬ আফ্রিকার __________ নদী ‘তেলের নদী’ নামে পরিচিত।

৩.৭ মরুভূমির সারিবদ্ধ উটের দলকে ___________ বলে।

৪। সংক্ষিপ্ত উত্তর করো (৪টি) : ২×৪=৮

৪.১ রেগোলিথ কী ?

৪.২ প্লাবনভূমি কীভাবে সৃষ্টি হয় ?

৪.৩ ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কাকে বলে ?

৪.৪ অন্তর্বাহিনী নদী কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

৪.৫ রূপান্তরিত শিলার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

৪.৬ টীকা লেখো : মিয়েন্ডার।

৫। নিচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (৪টি) : ৩×৪=১২

৫.১ নিত্যবহ নদী ও অনিত্যবহ নদী কাকে বলে ?

৫.২ আগ্নেয় শিলা কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

৫.৩ টীকা লেখো : পর্বতবেষ্টিত মালভূমি।

৫.৪ আফ্রিকার উষ্ণ মরু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য লেখো।

৫.৫ সাহারা মরুভূমির ভূমিরূপ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

৫.৬ “অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ” কাকে বলে ও কেন বলা হয় ?

৬। নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (২টি) : ৫×২=১০

৬.১ আদর্শ নদী কাকে বলে ? নদীর উচ্চগতিতে সৃষ্ট দুটি ভূমিরূপ চিত্রসহ আলোচনা করো। ২+৩

৬.২ মানবজীবনে পর্বতের প্রভাব আলোচনা করো।

৬.৩ মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় কেন ? বহুমুখী নদী পরিকল্পনা কাকে বলে ?   ৩+২

৬.৪ আফ্রিকা মহাদেশের জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈচিত্র্যের কারণ লেখো।

ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট ২০২৫ সেট-১

ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট ২০২৫ সেট-২

ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট ২০২৫ সেট-৩

ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট ২০২৫ সেট-৪

—প্রশ্নপত্রের সম্পূর্ণ উত্তর—

১। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে খাতায় লেখো :

১.১ মাটিতে বাতাস থাকে— ২৫ শতাংশ।

১.২ সাহারা মরুভূমির শুকনো নদীখাতগুলিকে বলা হয়— ওয়াদি।

১.৩ একটি লাভা গঠিত মালভূমি হল — মালব মালভূমি।

১.৪ ‘I’ আকৃতির গিরিখাতকে বলে— ক্যানিয়ন।

১.৫ শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয় তার নাম— ভঙ্গিল পর্বত

১.৬ একটি আগ্নেয় শিলা হল— গ্রানাইট

১.৭ মিশরের রাজধানী হল— কায়রো।

১.৮ পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী— নীল নদ

১.৯ আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ দিকে বালুকাময় মরুভূমিটি হল— কালাহারি।

১.১০ ওক গাছ দেখা যায়— ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে।

১.১১ ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে —
জাম্বেজি নদী -এর ওপর

১.১২ আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হল— মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো

২। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

২.১ তাজমহল কোন শিলা দিয়ে তৈরি?

উত্তরঃ তাজমহল রূপান্তরিত শিলা (শ্বেতপাথর বা মার্বেল) দিয়ে তৈরি।

২.২ যে নদীতে সারাবছর জল থাকে তাকে কী বলে?

উত্তরঃ যে নদীতে সারাবছর জল থাকে তাকে নিত্যবহ নদী বলে।

২.৩ ‘পৃথিবীর ছাদ’ কাকে বলা হয় ?

উত্তরঃ পামির মালভূমিকে ‘পৃথিবীর ছাদ’ বলা হয়।

২.৪ অ্যাটলাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী ?

উত্তরঃ মাউন্ট তৌবকাল (Mount Toubkal)

২.৫ ভারতের সাতপুরা কী জাতীয় পর্বত?

উত্তরঃ ভারতের সাতপুরা একটি স্তূপ পর্বত।

২.৬ ব্লু নীলের উৎপত্তি হয়েছে কোন্ হ্রদ থেকে?

উত্তরঃ টানা হ্রদ (Lake Tana)

২.৭ ক্যারাভান কী ?

উত্তরঃ সাহারা মরুভূমিতে দল বেঁধে যখন পশুপালক বা ব্যবসায়ীরা উটের পিঠে চড়ে একসঙ্গে যাতায়াত করে, তখন সেই উটের দলকে ক্যারাভান বলে।

৩। শূন্যস্থান পূরণ করো :

৩.১ পৃথিবীর দীর্ঘতম গ্রস্ত উপত্যকা হল [গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি] (বা পূর্ব আফ্রিকার গ্রস্ত উপত্যকা)।

৩.২ বাঁকুড়ার গন্ধেশ্বরী হল অনিত্যবহ (বা বর্ষার জলে পুষ্ট) নদীর উদাহরণ।

৩.৩ আফ্রিকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত খামসিন / হারমাটান বায়ু উষ্ণ ও শুষ্ক প্রকৃতির।

৩.৪ দোআঁশ মাটিতে বালি ও কাদার ভাগ সমান সমান।

৩.৫ ‘ঘরজাইয়া’ (Ghardaia) হল সাহারা মরুভূমির একটি বিখ্যাত মরূদ্যান (Oasis)।

৩.৬ আফ্রিকার নাইজার নদী ‘তেলের নদী’ নামে পরিচিত।

৩.৭ মরুভূমির সারিবদ্ধ উটের দলকে ক্যারাভান (বা কাফেলা) বলে।

৪। সংক্ষিপ্ত উত্তর কর (চারটি) :

৪.১ রেগোলিথ কী ?

উত্তরঃ আবহবিকারের (Weathering) ফলে ভূপৃষ্ঠের আদি শিলাসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ ও শিথিল হয়ে মূল শিলার ওপরেই এক নরম, ভূস্তর বা আস্তরণ তৈরি করে। শিলাচূর্ণের এই নরম ও আলগা আস্তরণকে ‘রেগোলিথ’ (Regolith) বলা হয়। এটি মাটি বা মৃত্তিকা সৃষ্টির ঠিক পূর্ববর্তী অবস্থা।

৪.২ প্লাবনভূমি কীভাবে সৃষ্টি হয় ?

উত্তরঃ নদীর নিম্নগতিতে নদীর গভীরতা ও জল বহন ক্ষমতা কমে যায়।

বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে নদীতে যখন হঠাৎ বন্যা বা প্লাবন দেখা দেয়, তখন নদীর দুকূল উপচে পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়ে।

বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর নদীর দুই তীরে পলি, বালি ও কাদা থিতিয়ে পড়ে যে উর্বর ও সমতল ভূভাগের সৃষ্টি করে, তাকে প্লাবনভূমি বলে।

৪.৩ ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কাকে বলে?

সংজ্ঞা: নদী, বায়ু বা হিমবাহের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির ক্রমাগত ক্ষয়কাজের ফলে কোনো বিস্তীর্ণ মালভূমি অঞ্চল যখন ছোট ছোট অংশে খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে।
উদাহরণ: ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি এবং কর্ণাটক মালভূমি।

৪.৪ অন্তর্বাহিনী নদী কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

সংজ্ঞা: যে সমস্ত নদী কোনো দেশের অভ্যন্তরে কোনো পর্বত বা উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে সেই দেশেরই কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে পতিত হয় অথবা মরুভূমিতে গিয়ে শুকিয়ে যায় (সমুদ্রে পৌঁছাতে পারে না), তাদের অন্তর্বাহিনী নদী বলে।

উদাহরণ: ভারতের লুনী নদী এবং রাশিয়ার আমু দরিয়া নদী।

৪.৫ রূপান্তরিত শিলার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

অধিক কঠিন: আগ্নেয় বা পলল শিলা তাপে ও চাপে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে অত্যন্ত স্ফটিকাকার, শক্ত ও ক্ষয়প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।

জীবাশ্মহীনতা: পলল শিলা রূপান্তরিত হওয়ার সময় অতিরিক্ত উত্তাপ ও চাপের কারণে এর ভেতরের জীবাশ্ম বা ফসিল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

৪.৬ টীকা লেখো: মিয়েন্ডার।

উৎস: তুরস্কের অত্যন্ত আঁকাবাঁকা ‘মিয়েনড্রেস’ (Meandres) নদীর নামানুসারে এই শব্দের উৎপত্তি।

গঠন: নদীর মধ্য বা নিম্নগতিতে ভূমির ঢাল খুব কমে যায়। ফলে নদী সোজা পথে না চলে সামান্য বাধা পেলেই সাপের মতো এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হতে থাকে। নদীর এই ধরনের আঁকাবাঁকা বাঁককে ‘মিয়েন্ডার’ বলে।

উদাহরণ: পশ্চিমবঙ্গের ভাগীরথী-হুগলী নদীর গতিপথে বহু মিয়েন্ডার দেখা যায়।

৫। নিচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও :

৫.১ নিত্যবহ নদী ও অনিত্যবহ নদী কাকে বলে ?

নিত্যবহ নদী: যে সমস্ত নদী সাধারণত উচ্চ পর্বতের বরফগলা জলে পুষ্ট এবং যেখানে সারাবছর জল থাকে, তাদের নিত্যবহ নদী বলে। যেমন— গঙ্গা নদী, সিন্ধু নদী।

অনিত্যবহ নদী: যে সমস্ত নদী মূলত বর্ষার বৃষ্টির জলে পুষ্ট এবং বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্য সময়ে জল থাকে না বা শুকিয়ে যায়, তাদের অনিত্যবহ নদী বলে। যেমন— দামোদর নদী, গন্ধেশ্বরী নদী।

৫.২ আগ্নেয় শিলা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

সংজ্ঞা: পৃথিবী সৃষ্টির শুরুতে উত্তপ্ত ও গলিত ম্যাগমা বা লাভা ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি করেছে, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে। এই শিলা পৃথিবীতে প্রথম তৈরি হয়েছিল বলে একে প্রাথমিক শিলাও বলা হয়।

উদাহরণ: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট এবং পিউমিস।

৫.৩ টীকা লেখো: পর্বতবেষ্টিত মালভূমি।

সংজ্ঞা: ভূ-আন্দোলনের সময় ভঙ্গিল পর্বত গঠনের সাথে সাথে চারদিকের উচ্চ পর্বতশ্রেণী দ্বারা বেষ্টিত বা ঘেরা মধ্যবর্তী সমতল ভূভাগকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে।

বৈশিষ্ট্য: এই মালভূমিগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ও বিস্তৃত মালভূমি হয়।

উদাহরণ: এশিয়ার তিব্বত মালভূমি (চারদিকে হিমালয়, কুয়েনলুন প্রভৃতি পর্বত দ্বারা বেষ্টিত)।

৫.৪ আফ্রিকার উষ্ণ মরু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তরঃ

(i) চরমভাবাপন্ন জলবায়ু: এই অঞ্চলে দিনের বেলা তীব্র গরম (তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়) এবং রাতের বেলা প্রচন্ড ঠান্ডা থাকে।

(ii) বৃষ্টিহীনতা: বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৫ সেমি-রও কম, ফলে বাতাস অত্যন্ত শুষ্ক ও আর্দ্রতাহীন থাকে।

(iii) কাঁটাঝোপ উদ্ভিদের আধিক্য: জলের অভাবে এখানে ক্যাকটাস, বাবলা, খেজুর এবং বিভিন্ন ধরনের কাঁটাঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়।

৫.৫ সাহারা মরুভূমির ভূমিরূপ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ সাহারা পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি। এর ভূমিরূপ সর্বত্র একরকম নয়, প্রধানত ৩টি রূপে বিভক্ত—

(i) আর্গ (Erg): সাহারার যেসব অঞ্চল সম্পূর্ণ বালুকাময় এবং যেখানে মাইলের পর মাইল শুধু বালিয়াড়ি দেখা যায়, তাকে আর্গ বলে।

(ii) হামাদা (Hamada): সাহারার যেসব অঞ্চল বালিহীন, শক্ত পাথুরে এবং নগ্ন পাহাড় বা পাথরে ঢাকা, তাকে হামাদা বলে।

(iii) রেগ (Reg): বালি এবং ছোট ছোট পাথরের টুকরো একসঙ্গে মিশে যে মিশ্র ভূমিরূপ তৈরি করে, তাকে রেগ বলে। এছাড়া এখানে শুকিয়ে যাওয়া নদীখাত বা ‘ওয়াদি’ দেখা যায়।

৫.৬ “অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ” কাকে বলে ও কেন বলা হয়?

উত্তরঃ আফ্রিকা মহাদেশকে “অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ” বলা হয়। কারণ—

(i) ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত এই মহাদেশের অভ্যন্তরভাগ সম্পর্কে বাইরের পৃথিবীর মানুষের কাছে কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না।

(ii) দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, ঘন ও অন্ধকার ক্রান্তীয় অরণ্য, হিংস্র বন্য জন্তু এবং বিষাক্ত পতঙ্গের উপদ্রবের কারণে এই মহাদেশে প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল।

(iii) প্রতিকূল জলবায়ু এবং অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘকাল ধরে এটি অনাবিষ্কৃত ও রহস্যে ঘেরা ছিল।

৬। নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৬.১ আদর্শ নদী কাকে বলে? নদীর উচ্চগতিতে সৃষ্ট দুটি ভূমিরূপ চিত্রসহ আলোচনা করো। ২+৩

উত্তরঃ আদর্শ নদী: যে নদীর গতিপথে স্পষ্ট তিনটি অবস্থা— উচ্চগতি (পার্বত্য অববাহিকা), মধ্যগতি (সমভূমি প্রবাহ) এবং নিম্নগতি (বদ্বীপ প্রবাহ) দেখতে পাওয়া যায়, তাকে আদর্শ নদী বলে। যেমন— ভারতের গঙ্গা নদী।

উচ্চগতিতে সৃষ্ট দুটি ভূমিরূপ—

আই (I) ও ভি (V) আকৃতির উপত্যকা বা গিরিখাত: উচ্চগতিতে ভূমির ঢাল বেশি থাকায় নদী প্রধানত নিচের দিকে ক্ষয় করে (নিম্নক্ষয়)। নদীর দুপাশের অংশ বৃষ্টির অভাবে সহজে ধসে পড়ে না। ফলে নদী উপত্যকাটি দেখতে ইংরেজি ‘I’ বা ‘V’ অক্ষরের মতো গভীর ও সংকীর্ণ হয়ে যায়।

জলপ্রপাত: নদীর গতিপথে কঠিন শিলা এবং কোমল শিলা আড়াআড়ি বা লম্বালম্বিভাবে অবস্থান করলে, কোমল শিলাটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচে বসে যায়। এর ফলে নদীর জল খাড়া ঢাল বেয়ে প্রচণ্ড বেগে নিচের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যাকে জলপ্রপাত বলে।

(পরীক্ষায় উত্তরের সাথে ছোটখাটো ‘গিরিখাত’ ও ‘জলপ্রপাত’ এর সাধারণ রেখাচিত্র বা ড্রয়িং পেন্সিল দিয়ে এঁকে দেবে।)

৬.২ মানবজীবনে পর্বতের প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তরঃ মানবজীবনে পর্বতের প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী—

নদীর উৎস: পর্বতের মাথায় জমে থাকা বরফ গলে বহু নিত্যবহ নদীর সৃষ্টি হয়, যা মানব সভ্যতা ও কৃষিকাজের প্রধান ভিত্তি।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: পর্বত বিশাল প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন— হিমালয় পর্বত থাকার কারণে সাইবেরিয়ার তীব্র ঠান্ডা বাতাস ভারতে প্রবেশ করতে পারে না এবং মৌসুমী বায়ু বাধা পেয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

পর্যটন ও অর্থনীতি: পর্বতের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটন শিল্প গড়ে তোলে। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের বনভূমি থেকে কাঠ, মধু এবং খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়।

জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: পার্বত্য অঞ্চলের খরস্রোতা নদীগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রচুর জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

৬.৩ মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় কেন ? বহুমুখী নদী পরিকল্পনা কাকে বলে ? ৩+২

উত্তরঃ মিশরকে নীলনদের দান বলার কারণ—

গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিশরকে ‘নীলনদের দান’ বলেছেন। যদি নীলনদ না থাকত, তবে মিশর আজ এক বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে পরিণত হতো। নীলনদের জলের ওপর ভিত্তি করেই মিশরের সমগ্র কৃষিকাজ, পানীয় জলের জোগান, যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। প্রতি বছর নীলনদের বন্যায় ভেসে আসা উর্বর পলিমাটি মিশরের কৃষিজমিকে উর্বর করে তোলে, যার ফলে মিশরে প্রাচীন সভ্যতা ও সমৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

বহুমুখী নদী পরিকল্পনা: নদীর ওপর কেবল একটি উদ্দেশ্যে বাঁধ না দিয়ে, যখন নদীর জলকে একসাথে বহুবিধ উদ্দেশ্যে (যেমন— বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ কাজ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, মাছ চাষ, জলপথ পরিবহন এবং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা) ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়, তখন তাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে। যেমন— মিশরের আসোয়ান বাঁধ।

৬.৪ আফ্রিকা মহাদেশের জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈচিত্র্যের কারণ লেখো।

উত্তরঃ আফ্রিকা মহাদেশের মাঝখান দিয়ে নিরক্ষরেখা, উত্তরে কর্কটক্রান্তিরেখা এবং দক্ষিণে মকরক্রান্তিরেখা বিস্তৃত হওয়ায় এখানে জলবায়ু ও উদ্ভিদের প্রচুর বৈচিত্র্য দেখা যায়। কারণগুলো হলো—

অক্ষাংশগত অবস্থান: নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়, তাই এখানে তীব্র গরম থাকে। আবার উত্তর ও দক্ষিণ দিকে অক্ষাংশ বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা কিছুটা কমে।

বৃষ্টিপাতের তারতম্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় সেখানে চিরসবুজ ঘন অরণ্য (সেলভা) গড়ে উঠেছে। আবার নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে দূরে বৃষ্টিপাত কমতে থাকায় বিশাল তৃণভূমি (সাভানা) এবং মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে।

সমুদ্রের প্রভাব ও উচ্চতা: সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন হলেও ভেতরের দিকে তা চরমভাবাপন্ন হয়। এছাড়া পূর্ব আফ্রিকার উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতার কারণে জলবায়ু বেশ শীতল থাকে।

ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট ২০২৫ সেট-১

ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট ২০২৫ সেট-২

ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট ২০২৫ সেট-৩

ভূগোল দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট ২০২৫ সেট-৪

📌আরও দেখোঃ

📌 সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণির ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply