ভারতের জলবায়ু ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল প্রশ্ন উত্তর দশম অধ্যায় | Class 6 geography Bharoter jolbayu Question Answer Ch-10 wbbse

ভারতের জলবায়ু
দশম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল

ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল প্রশ্ন উত্তর দশম অধ্যায় ভারতের জলবায়ু | Class 6 geography Bharoter jolbayu Question Answer Ch-10 wbbse

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

ভারতের জলবায়ু
দশম অধ্যায়
ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল

∆ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১

১. ভারতের (নিরক্ষরেখা / দ্রাঘিমা রেখা / কর্কটক্রান্তি রেখা / মকরক্রান্তি রেখা) ভারতকে উত্তর দক্ষিণে প্রায় সমান দু’ভাগে ভাগ করেছে।

উত্তরঃ কর্কটক্রান্তি রেখা

২. ‘মৌসুমি’ শব্দের অর্থ—
(ঝড় / ঋতু / বৃষ্টি / তুষার)

উত্তরঃ ঋতু

৩. গ্রীষ্মকালে পশ্চিম ভারতে যে ধূলিঝড় দেখা যায় তার নাম—
(কালবৈশাখী / আঁধি / লু / বরদৈছিলা)

উত্তরঃ আঁধি

৪. পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান হল—
(দাক্ষিণাত্য মালভূমি / মৌসিনরাম / মালাবার উপকূল / থর মরুভূমি)

উত্তরঃ মৌসিনরাম

৫. সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু—
(শুষ্ক / সমভাবাপন্ন / চরমভাবাপন্ন / উষ্ণ)

উত্তরঃ সমভাবাপন্ন

৬. মৌসুমি বায়ু একটি—
(নিয়তবায়ু / সাময়িক বায়ু / স্থানীয় বায়ু / আকস্মিক বায়ু)

উত্তরঃ সাময়িক বায়ু

৭. পশ্চিমি ঝঞ্ঝা হয়—
(জুন-আগস্ট / ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি / মার্চ-মে / সেপ্টেম্বর-নভেম্বর)

উত্তরঃ ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি

৮. ভারতের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য—
(অত্যধিক গরম / শুষ্কতা / ঋতুপরিবর্তন / অত্যধিক বৃষ্টি)

উত্তরঃ ঋতুপরিবর্তন

৯. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের উদাহরণ হল—
(পশ্চিমঘাটের উত্তর ঢাল / পশ্চিমঘাটের পূর্ব ঢাল / পশ্চিমঘাটের পশ্চিম ঢাল / পূর্বঘাটের পূর্ব ঢাল)

উত্তরঃ পশ্চিমঘাটের পূর্ব ঢাল

১০. ভারতে গরম ‘লু’ বায়ু প্রবাহিত হয়—
(শীত / বর্ষা / গ্রীষ্ম / শরৎ ঋতুতে)

উত্তরঃ গ্রীষ্ম

১১. সমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়—
(দিল্লি / মুম্বাই / লখনউ / চণ্ডীগড়)

উত্তরঃ মুম্বাই

১২. অক্টোবর মাসে করমন্ডল উপকূলে বছরে বৃষ্টিপাত হয়—
(চারবার / দুবার / একবার / তিনবার)

উত্তরঃ দুবার

১৩. আঁধি সৃষ্টি হয়—
(বর্ষাকালে / গ্রীষ্মকালে / শীতকালে / শরৎকালে)

উত্তরঃ গ্রীষ্মকালে

১৪. ভারতের কোন রাজ্যে কালবৈশাখী ঝড় হয়—
(মনিপুর / পশ্চিমবঙ্গ / পাঞ্জাব / তামিলনাড়ু)
উত্তরঃ পশ্চিমবঙ্গ

১৫. মে-জুন মাসে ভারতের কোথায় উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়? (ভোপাল / বঙ্গোপসাগর / চণ্ডীগড় / আম্বালা)

উত্তরঃ বঙ্গোপসাগর

১৬. পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান মৌসিনরামের গড় বৃষ্টিপাত—
(১০০০ / ১১৮৭ / ১২৫০ / ১১০০ সেমি)

উত্তরঃ ১১৮৭ সেমি

১৭. মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনকাল—
(শীতকাল / শরৎকাল / গ্রীষ্মকাল / বর্ষাকাল)

উত্তরঃ শরৎকাল

১৮. শুষ্ক ও উষ্ণ ‘লু’ বায়ু প্রবাহিত হয়—
(পূর্ব ভারত / উত্তর-পশ্চিম ভারত / দক্ষিণ ভারত / উত্তর-পূর্ব ভারত)

উত্তরঃ উত্তর-পশ্চিম ভারত

১৯. চেন্নাই / শ্রীনগর / দিল্লি / চণ্ডীগড়—এর মধ্যে সমুদ্র দ্বারা প্রভাবিত জলবায়ু—

উত্তরঃ চেন্নাই

২০. শরৎকালের ঘূর্ণিঝড়ের নাম—
(আঁধি / আশ্বিনের ঝড় / কালবৈশাখী / লু)

উত্তরঃ আশ্বিনের ঝড়

∆ শূন্যস্থান পূরণ কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. ভারতে কর্কটক্রান্তি রেখার _________ অংশে গড় উষ্ণতা সারাবছর সাধারণত বেশি হয়।

উত্তরঃ দক্ষিণ।

২. ভারতের গ্রীষ্মকাল আর্দ্র ও শীতকাল _________ প্রকৃতির।

উত্তরঃ শুষ্ক।

৩. ________ ঋতুতে ঘাসের আগায় শিশির দেখা যায়।

উত্তরঃ শরৎ ও শীত।

৪. খোদাইকানাল বা উঠিতে সারা বছরই ________ থাকে।

উত্তরঃ ঠান্ডা।

৫. ‘মৌসুমি’ কথাটির আরবীয় শব্দ _________ থেকে নেওয়া হয়েছে।

উত্তরঃ মৌসিন।

৬. _________ মৌসুমি বায়ু শীতল ও শুষ্ক।

উত্তরঃ উত্তরপূর্ব।

৭. ভারতের কৃষিকাজ ________ বায়ুর ওপর নির্ভরশীল।

উত্তরঃ মৌসুমী।

৮. সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু __________ প্রকৃতির হয়।

উত্তরঃ সমভাবাপন্ন।

৯. _________ বায়ুর প্রভাবে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে করমণ্ডল উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।

উত্তরঃ উত্তর-পূর্ব মৌসুমী।

১০. ভারতের আর _________ আর অর্থনীতি অনেকটাই মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল।

উত্তরঃ কৃষিকাজ ।

১১. জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই সময়কালকে ___________ বলে।

উত্তরঃ বর্ষাকাল।

১২. কালবৈশাখী হয় ___________ ঋতুতে।

উত্তরঃ গ্রীষ্ম।

১৩. পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী _________ মাসে ঘটে।

উত্তরঃ মার্চ থেকে যে।

১৪. __________ ঋতুতে বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে।

উত্তরঃ শীত।

১৫. ভারতের ___________ উপকূলে বছরে দুবার বৃষ্টিপাত হয়।

উত্তরঃ করমন্ডল।

১৬. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ____________ ।

উত্তরঃ কম।

∆ সত্য মিথ্যা নির্ণয় কর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১

১. ভারতের জলবায়ুকে ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু’ বলা হয়।

উত্তরঃ সত্য।

২. কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতকে পূর্ব-পশ্চিমে দু-ভাগে ভাগ করেছে।

উত্তরঃ মিথ্যা (সঠিক উত্তর: উত্তর-দক্ষিণে)।

৩. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা কমতে থাকে।

উত্তরঃ সত্য।

৪. দিল্লির জলবায়ু সমভাবাপন্ন প্রকৃতির।

উত্তরঃ মিথ্যা (সঠিক উত্তর: চরমভাবাপন্ন)।

৫. দক্ষিণ ভারত ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও সমুদ্রের কাছে হওয়ায় এখানে আবহাওয়া আরামদায়ক।

উত্তরঃ সত্য।

৬. মেঘালয়ের মৌসিনরাম পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান।

উত্তরঃ সত্য।

৭. ‘লু’ হলো শীতকালে প্রবাহিত এক প্রকার শীতল বায়ু।

উত্তরঃ মিথ্যা (সঠিক উত্তর: গ্রীষ্মকালের উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু)।

৮. গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গে যে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টি হয় তাকে কালবৈশাখী বলে।

উত্তরঃ সত্য।

৯. ভারতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল থাকে।

উত্তরঃ সত্য।

১০. পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় একে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।

উত্তরঃ মিথ্যা (সঠিক উত্তর: পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টি হয়, পূর্ব ঢালে বৃষ্টি কম হওয়ায় সেটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল)।

১১. তামিলনাড়ুর করমন্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয়।

উত্তরঃ সত্য।

১২. অক্টোবর-নভেম্বর মাসে প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু।

উত্তরঃ সত্য।

১৩. শীতকালে মাঝেমধ্যে যে ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয় তাকে ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’ বলে।

উত্তরঃ সত্য।

১৪. মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনার জন্য ভারতে কোথাও বন্যা আবার কোথাও খরা হয়।

উত্তরঃ সত্য।

১৫. ওনাম এবং বিহু উৎসবের সাথে মৌসুমি বৃষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই।

উত্তরঃ মিথ্যা (সঠিক উত্তর: এই উৎসবগুলো মৌসুমি বৃষ্টি ও ফসল কাটার সাথে যুক্ত)।

∆ বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১

সেট- ১

বামদিক ডানদিক
(১) কালবৈশাখী (ক) শীতকালীন বৃষ্টি
(২) লু (খ) অক্টোবর – নভেম্বর
(৩) পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (গ) গ্রীষ্মকালের ধুলোঝড়
(৪) আঁধি (ঘ) পশ্চিমবঙ্গ
(৫) মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তন (ঙ) উত্তর ভারতের উত্তপ্ত বায়ু

উত্তরঃ (১)—(ঘ), (২)—(ঙ), (৩)—(ক), (৪)—(গ), (৫)—(খ)।

সেট- ২ ‌

বামদিক ডানদিক
(১) মৌসিনরাম (ক) বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত
(২) করমন্ডল উপকূল (খ) বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল
(৩) রাজস্থানের মরুভূমি (গ) সমভাবাপন্ন জলবায়ু
(৪) সমুদ্রের উপকূলীয় এলাকা (ঘ) সর্বাধিক বৃষ্টিপাত
(৫) পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল (ঙ) অতি অল্প বৃষ্টিপাত

উত্তরঃ (১)—(ঘ), (২)—(ক), (৩)—(ঙ), (৪)—(গ), (৫)—(খ)।

∆ এক কথায় উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-১

১. ভারতের জলবায়ু প্রধানত কী প্রকৃতির?

উত্তরঃ ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতি।

২. কোন কাল্পনিক রেখা ভারতকে উত্তর ও দক্ষিণে দু-ভাগে ভাগ করেছে?

উত্তরঃ কর্কটক্রান্তি রেখা।

৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব বাড়লে জলবায়ুর কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে?

উত্তরঃ জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়।

৪. হিমালয়ের কোল ঘেঁষে অবস্থিত সিমলায় কেন বেশি ঠান্ডা পড়ে?

উত্তরঃ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বেশি হওয়ার কারণে।

৫. কোনো জায়গার জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে এমন একটি উপাদানের নাম লেখো।

উত্তরঃ অক্ষাংশগত অবস্থান (বা উচ্চতা)।

৬. মুম্বই বা কলকাতার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে কী ধরনের জলবায়ু দেখা যায়?

উত্তরঃ সমভাবাপন্ন জলবায়ু।

৭. ভারতের কোন স্থানে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়?

উত্তরঃ মেঘালয়ের মৌসিনরাম অঞ্চলে।

৮. ভারতের একটি অতি অল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলের নাম লেখো।

উত্তরঃ রাজস্থানের থর মরুভূমি।

৯. উত্তর ভারতে গ্রীষ্মকালে প্রবাহিত অতি উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুকে কী বলে?

উত্তরঃ লু (Loo)।

১০. গ্রীষ্মকালে বিকেলে পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় যে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় হয় তাকে কী বলে?

উত্তরঃ কালবৈশাখী।

১১. ভারতের অধিকাংশ বৃষ্টিপাত কোন বায়ুর প্রভাবে ঘটে?

উত্তরঃ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু।

১২. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর দুটি শাখার নাম কী কী?

উত্তরঃ আরব সাগরীয় শাখা ও বঙ্গোপসাগরীয় শাখা।

১৩. মেঘালয়ের কোন কোন পাহাড়ে বাধা পেয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়?

উত্তরঃ গারো, খাসি ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ে।

১৪. পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল কী নামে পরিচিত?

উত্তরঃ বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

১৫. ভারতের প্রধান কৃষিকাজ ও অর্থনীতি কিসের ওপর নির্ভরশীল?

উত্তরঃ মৌসুমি বায়ুর ওপর।

১৬. তামিলনাড়ুর করমন্ডল উপকূলে বছরে কয়বার বৃষ্টিপাত হয়?

উত্তরঃ দু-বার।

১৭. ভারতের শরৎকালে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়?

উত্তরঃ উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু (বা প্রত্যা প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু)।

১৮. শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে যে ঝিরঝিরে বৃষ্টি ও তুষারপাত হয় তাকে কী বলে?

উত্তরঃ পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance)।

১৯. মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনার ফলে ভারতে কী কী প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়?

উত্তরঃ বন্যা ও খরা।

২০. ওনাম ও বিহু উৎসব ভারতের কোন বিষয়ের সাথে যুক্ত?

উত্তরঃ মৌসুমি বৃষ্টি ও ফসল কাটার সাথে।

∆ সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২

১. সমভাবাপন্ন জলবায়ু কাকে বলে?

উত্তরঃ সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে সমুদ্রের প্রভাবে সারাবছর তাপমাত্রা মাঝারি রকমের থাকে। অর্থাৎ খুব বেশি গরম বা খুব বেশি ঠান্ডা লাগে না। একেই সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে। যেমন— মুম্বই বা চেন্নাইয়ের জলবায়ু।

২. চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রের প্রভাব পৌঁছাতে পারে না। ফলে সেখানে গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম এবং শীতকালে খুব ঠান্ডা পড়ে। এই ধরনের জলবায়ুকে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে। যেমন— দিল্লির জলবায়ু।

৩. ‘লু’ ও ‘আঁধি’ কী?

উত্তরঃ গ্রীষ্মকালে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে দিনের বেলা যে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে ‘লু’ বলে। এই তাপপ্রবাহের সাথে মাঝে মাঝে যে প্রবল ধূলিঝড় সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় ‘আঁধি’।

৪. কালবৈশাখী কাকে বলে?

উত্তরঃ গ্রীষ্মকালে (বিশেষত এপ্রিল-মে মাসে) পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে মাঝে মাঝে বজ্র-বিদ্যুৎসহ যে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে। এর ফলে উত্তাপ কিছুটা কমে গিয়ে আবহাওয়া আরামদায়ক হয়।

৫. ভারতকে কেন ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ’ বলা হয়?

উত্তরঃ ভারত ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত এবং ভারতের জলবায়ুর ওপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই ভারতের ঋতুচক্র আবর্তিত হয় বলে ভারতকে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলে।

৬. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ শীতকালে ভারত সাধারণত শুষ্ক থাকলেও মাঝেমধ্যে দু-চার দিন একটানা আকাশ মেঘলা থাকে এবং ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়। ভূমধ্যসাগর থেকে আসা এই বায়ুর প্রভাবে যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়, তাকেই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে।

৭. মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনা বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ মৌসুমি বায়ু প্রতি বছর একই সময়ে আসে না বা একই পরিমাণে বৃষ্টি ঘটায় না। কখনো বেশি বৃষ্টির ফলে বন্যা হয়, আবার কখনো বৃষ্টির অভাবে খরা দেখা দেয়। মৌসুমি বায়ুর এই অনিশ্চয়তাকেই খামখেয়ালিপনা বলা হয়।

৮. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পাহাড়ের যে ঢালে বাধা পেয়ে বৃষ্টি ঘটায় তার বিপরীত ঢালে বায়ু পৌঁছালে তাতে জলীয় বাষ্প কমে যায়। ফলে সেই ঢালে বৃষ্টি খুব কম হয়। একেই বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে। যেমন— পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল।

৯. মৌসিনরামে কেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়?

উত্তরঃ বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু মেঘালয়ের গারো, খাসি ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ে বাধা পেয়ে উপরের দিকে উঠে যায় এবং সেখানে ঘনীভূত হয়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়। তাই মৌসিনরামে সর্বাধিক বৃষ্টি হয়।

১০. করমন্ডল উপকূলে বছরে দু-বার বৃষ্টি হয় কেন ?

উত্তরঃ বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এখানে একবার বৃষ্টি হয়। আবার শরৎকালে মৌসুমি বায়ু ফেরার সময় (উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু) বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে এখানে পুনরায় বৃষ্টি ঘটায়।

১১. হিমালয়ের নিকটবর্তী স্থানগুলো শীতকালে কেন বেশি ঠান্ডা থাকে?

উত্তরঃ উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বায়ুর তাপমাত্রা কমতে থাকে। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এবং ওপরের দিক থেকে আসা শীতল বায়ুর প্রভাবে সেখানে শীতের প্রকোপ বেশি থাকে।

১২. ভারতের কৃষিকাজে মৌসুমি বায়ুর গুরুত্ব কী?

উত্তরঃ ভারতের কৃষিকাজ মূলত মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে ফসল ভালো হয় এবং কৃষকরা লাভবান হন। বৃষ্টির অভাব ঘটলে শস্যহানি ঘটে ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

১৩. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কীভাবে ভারতে প্রবেশ করে?

উত্তরঃ গ্রীষ্মকালে ভারতের স্থলভাগ প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপ তৈরি করে। ফলে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর থেকে উচ্চচাপের জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু উত্তর-পশ্চিমের নিম্নচাপের দিকে ছুটে আসে। একেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন বলে।

১৪. শরৎকালকে মৌসুমি বায়ুর ‘প্রত্যাবর্তনের কাল’ বলা হয় কেন?

উত্তরঃ সেপ্টেম্বর মাসের শেষ বা অক্টোবর মাসে স্থলভাগ থেকে বায়ু জলভাগের (সমুদ্রের) দিকে ফিরে যেতে শুরু করে। এই ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শরৎকালেই শুরু হয় বলে একে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের কাল বলে।

১৫. ভারতের ঋতুচক্রের চারটি প্রধান ভাগের নাম কী কী?

উত্তরঃ ভারতের প্রধান চারটি ঋতু হলো— (১) গ্রীষ্মকাল (মার্চ-মে), (২) বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর), (৩) শরৎকাল (অক্টোবর-নভেম্বর) এবং (৪) শীতকাল (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি)।

১৬. আরব সাগরীয় মৌসুমি বায়ু কোথায় প্রথম বৃষ্টি ঘটায়?

উত্তরঃ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখাটি ভারতের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছে পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় বাধা পায় এবং সেখানে ভারতের পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

১৭. উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রার কী পরিবর্তন হয়? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বায়ুর উষ্ণতা কমতে থাকে। যেমন— দক্ষিণ ভারত ক্রান্তীয় অঞ্চলে থাকা সত্ত্বেও উচ্চতার কারণে কোদাইকানাল বা উটি-র মতো পার্বত্য এলাকাগুলো সারাবছর ঠান্ডা থাকে।

১৮. ভারতের অর্থনীতিতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব কী?

উত্তরঃ ভারতের প্রধান জীবিকা কৃষি কাজ পুরোপুরি মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে। ভালো বৃষ্টি হলে ফলন ভালো হয় এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে। তাই ভারতের অর্থনীতি মৌসুমি বায়ুর ওপর নির্ভরশীল।

১৯. মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতের কোন উৎসবগুলো পালিত হয়?

উত্তরঃ মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে ফসল উৎপাদনের সাথে যুক্ত নানা উৎসব ভারতে পালিত হয়। যেমন— নবান্ন (পশ্চিমবঙ্গ), ওনাম (কেরালা) এবং বিহু (আসাম)।

২০. রাজস্থানের মরু অঞ্চলে বৃষ্টি কম হয় কেন?

উত্তরঃ জলীয় বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু রাজস্থানে পৌঁছানোর পথে আरावল্লী পর্বত তাকে বাধা দিতে পারে না (বায়ুর গতির সমান্তরাল হওয়ার কারণে) এবং বায়ু ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায় না। তাই থর মরুভূমি ভারতের অন্যতম বৃষ্টিবিরল অঞ্চল।

∆ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৩

১. ভারতের জলবায়ুকে কেন ‘মৌসুমি জলবায়ু’ বলা হয়?

উত্তরঃ ভারতের জলবায়ুর ওপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। এর কারণগুলি হলো—

ঋতু পরিবর্তন: মৌসুমি বায়ুর আসা ও যাওয়ার ওপর ভিত্তি করেই ভারতের ঋতুচক্র আবর্তিত হয়।

বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ: ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ শতাংশই ঘটে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে।

উষ্ণতা ও আর্দ্রতা: এই বায়ুর প্রভাবেই বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ভারতের তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত হয়।

২. সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সমভাবাপন্ন হওয়ার কারণ কী?

উত্তরঃ সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকায় চরম আবহাওয়া দেখা যায় না কারণ—

জল ও স্থলের ধর্ম: জলভাগ স্থলভাগের তুলনায় ধীরে গরম এবং ধীরে ঠান্ডা হয়, যা তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে।

জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: দিনের বেলা সমুদ্র থেকে ঠান্ডা হাওয়া (সমুদ্রবায়ু) এবং রাতে স্থলভাগ থেকে হাওয়া (স্থলবায়ু) প্রবাহিত হয়ে আবহাওয়া আরামদায়ক রাখে।

মাঝারি তাপমাত্রা: সমুদ্রের প্রভাবে এই সব অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে খুব গরম বা শীতকালে খুব ঠান্ডা অনুভূত হয় না।

৩. রাজস্থানের থর মরুভূমি কেন ভারতের অন্যতম বৃষ্টিবিরল অঞ্চল?

উত্তরঃ রাজস্থানের মরু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত খুব কম হওয়ার কারণগুলি হলো—

বাধার অভাব: জলীয় বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ুর গতির পথে আরাবল্লী পর্বত সমান্তরালে থাকায় বায়ু বাধা পায় না।

বায়ুর উষ্ণতা: এই অঞ্চলের অত্যধিক গরমের ফলে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঘনীভূত হওয়ার সুযোগ পায় না।

অবস্থান: সমুদ্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত হওয়ায় বায়ুর জলীয় বাষ্প কমে যায়।

৪. পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢালকে ‘বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল’ বলা হয় কেন?

উত্তরঃ ভূপ্রকৃতির কারণে পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢালে বৃষ্টি কম হয় কারণ—

জলীয় বাষ্পের হ্রাস: পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টির পর বায়ু যখন পূর্ব ঢালে পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয় বাষ্প খুব কমে যায়।

বায়ুর নিম্নগমন: পাহাড় পেরিয়ে বায়ু যখন নিচে নামে তখন তার উষ্ণতা বেড়ে যায়, ফলে ঘনীভবন কম হয়।

পাহাড়ের বাধা: পাহাড়ের আড়ালে অবস্থিত হওয়ায় এই ঢালে সমুদ্রের আর্দ্র বায়ু সরাসরি পৌঁছাতে পারে না।

৫. ভারতের কৃষিকাজে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভারতের অর্থনীতিতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অপরিসীম—

ফসলের উৎপাদন: সময়মতো মৌসুমি বৃষ্টি হলে ধান, পাট ও অন্যান্য ফসলের ফলন খুব ভালো হয়।

উৎসবের সম্পর্ক: মৌসুমি বৃষ্টির ওপর ভিত্তি করেই নবান্ন, ওনাম বা বিহু-র মতো ফসল কাটার উৎসব পালিত হয়।

অনিশ্চয়তা: মৌসুমি বায়ু দেরি করে আসলে বা কম বৃষ্টি হলে দেশে দুর্ভিক্ষ বা শস্যহানি ঘটে।

৬. কালবৈশাখী ঝড়ের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

উত্তরঃ গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় দেখা যায়, এর বৈশিষ্ট্য হলো—

সময়: এটি সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বজ্রবিদ্যুৎসহ শুরু হয়।

প্রকৃতি: এই ঝড়ে প্রবল বাতাসের গতিবেগ থাকে এবং সাথে ভারী বৃষ্টিপাত হয়।

প্রভাব: প্রচণ্ড গরমের পর এই ঝড়ের ফলে তাপমাত্রা বেশ খানিকটা কমে গিয়ে আবহাওয়া আরামদায়ক হয়।

৭. শীতকালে ভারতে কেন সাধারণত বৃষ্টি হয় না ?

উত্তরঃ শীতকালে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) ভারত শুষ্ক থাকার প্রধান কারণসমূহ—

স্থলবায়ুর প্রভাব: এই সময় স্থলভাগ থেকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়, যাতে জলীয় বাষ্প থাকে না।

আকাশের অবস্থা: আকাশ সাধারণত পরিষ্কার থাকে এবং বাতাসে আর্দ্রতা খুব কম থাকে।

উচ্চচাপ: শীতলতার কারণে স্থলভাগে উচ্চচাপ বিরাজ করে, যা বৃষ্টিপাতের প্রতিকূল।

৮. পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ শীতকালে ভারতের উত্তর-পশ্চিমে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়—

অকাল বৃষ্টি: ভূমধ্যসাগর থেকে আসা বায়ুর প্রভাবে শীতকালে ২-৪ দিন টানা মেঘলা আকাশ ও ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়।

তুষারপাত: এর প্রভাবে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে এই সময়ে ভারী তুষারপাত ঘটে।

শৈত্যপ্রবাহ: বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর আকাশ পরিষ্কার হলে উত্তর ভারত ও পশ্চিমবঙ্গে প্রবল শীত বা শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়।

৯. করমন্ডল উপকূলে (তামিলনাড়ু) কেন বছরে দু-বার বৃষ্টি হয়?

উত্তরঃ ভারতের একমাত্র এই অঞ্চলেই বছরে দু-বার বৃষ্টিপাত হয় কারণ—

আগমনী শাখা: জুন-সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রথমবার বৃষ্টি হয়।

প্রত্যাবর্তনকারী শাখা: অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফেরার পথে বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প নিয়ে এসে দ্বিতীয়বার বৃষ্টি ঘটায়।

অবস্থান: এই উপকূলের ভৌগোলিক অবস্থান উভয় বায়ুপ্রবাহ থেকেই আর্দ্রতা গ্রহণের উপযোগী।

১০. গ্রীষ্মকালে উত্তর ভারতের আবহাওয়া কেমন থাকে?

উত্তরঃ মার্চ থেকে মে মাসে উত্তর ভারতের আবহাওয়ার প্রধান দিকগুলো হলো—

অত্যধিক উষ্ণতা: সূর্যের প্রখর তাপে এই সময় তাপমাত্রা অনেক জায়গায় ৪০° – ৫০° সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

শুষ্ক বায়ু (লু): দিনের বেলা অত্যন্ত উত্তপ্ত ও শুষ্ক বায়ু ‘লু’ প্রবাহিত হয়, যা অনেক সময় প্রাণহানির কারণ হয়।

ধুলোঝড় (আঁধি): বিকেলের দিকে মাঝে মাঝে প্রচণ্ড ধুলোঝড় বা আঁধি দেখা যায়, যা দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়।

∆ রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-৫

১. রাজস্থানের মরু অঞ্চলে তাপমাত্রার প্রসর খুব বেশি হয় কেন ?

উত্তরঃ রাজস্থানের মরু অঞ্চলে তাপমাত্রার প্রসার (দৈনিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য) খুব বেশি হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো—

বালির ধর্ম: বালি খুব দ্রুত গরম হয় এবং খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়। ফলে দিনের বেলা সূর্যের তাপে বালি প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এবং রাতে দ্রুত তাপ বিকিরণ করে খুব ঠান্ডা হয়ে যায়।

মেঘমুক্ত আকাশ: মরুভূমির আকাশ সাধারণত পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত থাকে। ফলে দিনের বেলা সূর্যরশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে পড়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং রাতে ভূপৃষ্ঠের তাপ কোনো বাধা ছাড়াই মহাকাশে ফিরে যায়।

স্বল্প বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা: বাতাসে জলীয় বাষ্প ও গাছপালা খুব কম থাকায় তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো প্রাকৃতিক উপাদান এখানে নেই।

এই কারণেই রাজস্থানের মরু অঞ্চলে দিনে প্রচণ্ড গরম এবং রাতে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়।

২. ভারতের জলবায়ুর ওপর নিয়ন্ত্রকগুলির প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভারতের বিশাল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানকার জলবায়ু সব জায়গায় একরকম নয়। জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান বিষয়গুলি হলো—

অক্ষাংশগত অবস্থান: ভারত ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত। কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের মাঝখান দিয়ে যাওয়ায় এর দক্ষিণ অংশ উত্তর অংশের তুলনায় সারা বছর বেশি গরম থাকে।

সমুদ্র থেকে দূরত্ব: সমুদ্রের ধারের অঞ্চলগুলোতে (যেমন— মুম্বই, কলকাতা) সারাবছর মনোরম বা সমভাবাপন্ন আবহাওয়া থাকে। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত অঞ্চলে (যেমন— দিল্লি) চরমভাবাপন্ন জলবায়ু (গ্রীষ্মে খুব গরম ও শীতে খুব ঠান্ডা) দেখা যায়।

উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে। এই কারণেই উচ্চতার জন্য দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও উটি বা কোদাইকানাল এবং উত্তর ভারতের সিমলায় সারাবছর ঠান্ডা থাকে।

হিমালয় পর্বতের অবস্থান: উত্তরের হিমালয় পর্বতমালা সাইবেরিয়া থেকে আসা অতি শীতল বায়ুকে ভারতে ঢুকতে বাধা দেয়, ফলে ভারত প্রচণ্ড ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা পায়।

৩. ভারতের প্রধান ঋতুগুলির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ ভারতে প্রধানত চারটি ঋতু দেখা যায়—

গ্রীষ্মকাল (মার্চ-মে): এই সময় সারা দেশে প্রচণ্ড গরম পড়ে। উত্তর ভারতে ‘লু’ ও ‘আঁধি’ এবং পশ্চিমবঙ্গে ‘কালবৈশাখী’ ঝড় দেখা যায়।

বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর): দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই সময় সারা ভারতে বৃষ্টিপাত হয়। ভারতের কৃষিকাজ মূলত এই ঋতুর ওপর নির্ভরশীল।

শরৎকাল (অক্টোবর-নভেম্বর): একে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনের কাল বলা হয়। এই সময় স্থলভাগ থেকে বায়ু সমুদ্রে ফিরে যায়। ফেরার পথে এই বায়ু তামিলনাড়ুর করমন্ডল উপকূলে বৃষ্টি ঘটায়।

শীতকাল (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি): এই সময় আকাশ পরিষ্কার ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকে। তবে উত্তর-পশ্চিম ভারতে ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’র কারণে মাঝেমধ্যে সামান্য বৃষ্টি বা তুষারপাত হয়।

৪. ভারতের বৃষ্টিপাত বণ্টনের বৈচিত্র্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভারতের সব জায়গায় সমান বৃষ্টিপাত হয় না, এর কারণগুলি হলো—

সর্বাধিক বৃষ্টিপাত: মেঘালয়ের মৌসিনরাম অঞ্চলে বঙ্গোপসাগরীয় মৌসুমি বায়ু পাহাড়ের ঢালে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়। এটি পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান।

বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়। কিন্তু পাহাড় পেরিয়ে পূর্ব ঢালে পৌঁছালে বায়ুতে জলীয় বাষ্প কমে যায়, ফলে সেখানে বৃষ্টি খুব কম হয়। একে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।

বৃষ্টিবিরল অঞ্চল: রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু বাধা পাওয়ার মতো উঁচু পাহাড় না থাকায় সেখানে বৃষ্টি খুব কম হয়। এটি ভারতের অন্যতম শুষ্ক অঞ্চল।

শীতকালীন বৃষ্টি: ভারতের অধিকাংশ স্থানে বর্ষাকালে বৃষ্টি হলেও তামিলনাড়ুর করমন্ডল উপকূলে শীতকালেও (শরৎকালে ফেরার পথে) বৃষ্টি হয়।

৫. ভারতের অর্থনীতি ও জনজীবনে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ মৌসুমি বায়ুকে ভারতের অর্থনীতির ‘ভাগ্যবিধাতা’ বলা হয়। এর প্রভাবগুলি হলো—

কৃষিকাজ: ভারতের প্রধান ফসল যেমন— ধান, পাট, আখ উৎপাদন সরাসরি মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে। সময়মতো বৃষ্টি হলে ফলন ভালো হয় এবং কৃষকরা লাভবান হন।

উৎসব ও সংস্কৃতি: মৌসুমি বৃষ্টির সাথে ফসল কাটার নিবিড় সম্পর্ক আছে। এই বৃষ্টি ও ভালো ফলনকে কেন্দ্র করেই ভারতে নবান্ন, ওনাম, বিহু-র মতো বিভিন্ন উৎসব পালিত হয়।

বিপর্যয়: মৌসুমি বায়ু খামখেয়ালি। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে অসম, পশ্চিমবঙ্গ বা বিহারে যেমন ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়, তেমনি বৃষ্টির অভাবে দাক্ষিণাত্য বা রাজস্থানে খরা সৃষ্টি হয়।

৬. টিকা লেখো: কালবৈশাখী, লু, আঁধি এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝা।

উত্তরঃ ভারতের জলবায়ুর বিশেষ কিছু স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ হলো:

কালবৈশাখী: গ্রীষ্মকালে পশ্চিমবঙ্গ ও তার আশেপাশের এলাকায় বিকেলে যে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টি হয় তাকে কালবৈশাখী বলে। এটি গরম কমিয়ে আবহাওয়া আরামদায়ক করে।

লু: গ্রীষ্মকালে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে দিনের বেলা যে প্রচণ্ড উত্তপ্ত ও শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে ‘লু’ বলে। এর ফলে অনেক সময় মানুষের মৃত্যুও ঘটে।

আঁধি: উত্তর ভারতে গ্রীষ্মকালে প্রবল উত্তাপের ফলে মাঝেমধ্যে যে প্রচণ্ড ধুলোঝড় সৃষ্টি হয় তাকে ‘আঁধি’ বলা হয়।

পশ্চিমী ঝঞ্ঝা: শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আসা দুর্বল ঘূর্ণবাতের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতে মাঝেমধ্যে ২-৪ দিন একটানা মেঘলা আকাশ ও ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়। একেই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলে।

📌 আরো দেখোঃ

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply