আকাশে সাতটি তারা
জীবনানন্দ দাশ
নবম শ্রেণি বাংলা (প্রথম ভাষা)
আকাশে সাতটি তারা কবিতার সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | Akashe Satti Tara Kobitar Question Answer Class 9 Bengali wbbse
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : আকাশে সাতটি তারা (জীবনানন্দ দাশ) নবম শ্রেণি বাংলা | Akashe Satti Tara Descriptive Short Type Question Answer Class 9 Bengali wbbse
• কম-বেশী ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-৩
১. ‘কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো / গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে’— পংক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বােঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তরঃ জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত পংক্তিটি নেওয়া হয়েছে।
কবিতাটিতে কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার বুকে দিন শেষ হয়ে ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নেমে আসার এক অপূর্ব বর্ণনা দিয়েছেন। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর তার শেষ আভাটুকু রাঙিয়ে দেয় আকাশের মেঘকে। লাল টুকটুকে মেঘকে দেখে কবির পাকা কামরাঙা ফলের কথা মনে হয়। সেই মেঘও যখন সাগরজলে বিলীন হয়, কবির মনে হয় যেন এক মৃত মনিয়া পাখি জলে তার রক্তের রেশটুকু ছড়িয়ে দিয়ে ডুবে গেল।
২. “আসিয়াছে শান্ত অনুগত / বাংলার নীল সন্ধ্যা”– কবি বাংলার সন্ধ্যাকে ‘শান্ত’, ‘অনুগত’, ‘নীল’ কেন বলেছেন ?
উত্তরঃ উদ্ধৃত পংক্তিটি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
বাংলার গ্রামে শহরের মতাে কোলাহল নেই– জীবনযাত্রা সেখানে শান্ত, তাই গ্রামবাংলার বুকে সন্ধ্যা নামে শান্তভাবে। পল্লীবাংলার সন্ধ্যা গ্রামের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই— তার চাকচিক্য নেই, আছে স্নিগ্ধতা, তাই সন্ধ্যা অনুগত’। সন্ধ্যায় অন্ধকার আর দিনের আলাে মিশে যে আবছায়া তৈরি করে তার সঙ্গে গাছপালার সবুজ আভা মিলে সন্ধ্যাকে ‘নীল’ রঙে রাঙিয়ে দেয়।
৩. “কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে”– পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করাে।
উত্তরঃ উদ্ধৃত পংক্তিটি জীবনানন্দ দাশের লেখা ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
এই কবিতায় কবি জীবনানন্দ তার একান্ত নিজস্ব ভঙ্গিতে পল্লীবাংলার সন্ধ্যাকে বর্ণনা করেছেন। সূর্য ডুবে গেলে যখন দিনের আলাে ফিকে হয়ে আসে, কবির মনে হয় যেন এক কেশবতী কন্যা এসেছে সন্ধ্যার আকাশে। তার ছড়িয়ে পড়া কালাে চুলে ঘনিয়ে আসে রাতের অন্ধকার। কবির চোখে এভাবেই কাব্যিকরূপে ধরা দেয় পল্লীবাংলার সন্ধ্যা।
৪. ‘আমার চোখের ‘পরে, আমার মুখের ‘পরে চুল তার ভাসে’— পঙক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাে।
উত্তরঃ উদ্ধৃত পঙক্তিটি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। সবে যখন সূর্য অস্ত গেছে, আকাশে তারার বিন্দু ফুটে উঠছে। সেই সময় কবি ঘাসের উপর বসে গন্ধ-বর্ণ-স্পর্শ দিয়ে পল্লীবাংলার সন্ধ্যাকে অনুভব করেন। তার মনে হয় যেন এক এলােকেশী মেয়ে দেখা দিয়েছে সন্ধ্যার আকাশে। তার ছড়িয়ে পড়া কালাে চুলের মতাে ধীরে ধীরে অন্ধকার নামে। কবি তার চোখে-মুখে সেই চুল অর্থাৎ অন্ধকারের স্পর্শ অনুভব করেন।
৫. “পৃথিবীর কোনাে পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”— কবির বক্তব্য বিশ্লেষণ করাে।
উত্তরঃ উদ্ধৃত পঙক্তিটি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবি ঘাসের উপর বসে পল্লীবাংলার দিন ও রাত্রির সন্ধিক্ষণে সন্ধ্যাকে নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করেছেন। তার মনে হয় সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে যেন এক এলােকেশী কন্যার আবির্ভাব হয় বাংলার আকাশে, তার ছড়িয়ে পড়া চুল ছুঁয়েই নেমে আসে অন্ধকার। কবির কল্পনার এই কন্যা আসলে সন্ধ্যাকালীন বাংলার প্রকৃতি। রূপসী বাংলার মতাে সৌন্দর্য পৃথিবীর আর কোথাও নেই, তাই আর কেউ এই কন্যাকে দেখেনি।
৬. ‘অজস্র চুলের চুমা হিজলে, কাঁঠালে, জামে ঝরে অবিরত।’– উদ্ধৃতিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বােঝাতে চেয়েছেন ?
অথবা, ‘অজস্র চুলের চুমা’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে ?
উত্তরঃ উদ্ধৃত পঙক্তিটি কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। কবিতাটিতে জীবনানন্দের কল্পনাপ্রবণ চোখে ধরা পড়েছে পল্লী বাংলার সন্ধ্যার অপরূপ সৌন্দর্য। তার মনে হয়েছে সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে যেন এক রূপসী এলােকেশী মেয়ে দেখা দেয় বাংলার আকাশে। আকাশ থেকে তার ছড়িয়ে পড়া কালাে চুল ধীরে ধীরে অন্ধকারের স্পর্শ নিয়ে আসে প্রকৃতির বুকে। হিজল-কাঁঠাল- জামের পাতায় সেই সােহাগভরা অন্ধকারের স্পর্শ যেন আসলে সেই রূপসীর চুলের চুম্বন।
৭. ‘এরই মাঝে বাংলার প্রাণ’— পঙক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে।
অথবা, “এরই মাঝে বাংলার প্রাণ”— কবি কোথায় বাংলার প্রাণকে খুঁজে পান ?
উত্তরঃ উদ্ধৃত পঙক্তিটি জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জীবনানন্দের কাছে শুধু এক ভূখণ্ড নয়, প্রাণময়ী মূর্তি। শব্দ-গন্ধ-বর্ণ- স্পর্শ দিয়ে কবি তাকে অনুভব করেন। আলােচ্য কবিতাটিতে তিনি বাংলার সন্ধ্যাকালীন প্রকৃতির এক অপূর্ব বর্ণনা দিয়েছেন। হিজল, কাঠাল, বট প্রভৃতি বৃক্ষ, ধান গাছ, কলমি শাক, মুথা ঘাস, পুকুর, মাছ, কিশাের-কিশােরী অর্থাৎ মানুষজন— এই সব নিয়েই বাংলার পরিপূর্ণ প্রকৃতি৷ এই প্রকৃতির মধ্যেই কবি বাংলার জীবন্ত সত্তাকে উপলব্ধি করেছেন।
৮. “লাল লাল বটের ফলের / ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা”—তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাে।
উত্তরঃ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি পল্লীপ্রকৃতির মধ্যে বাংলার ‘প্রাণ’কে খুঁজে পেয়েছিলেন। গাছ থেকে খসে পড়া বট ফলের মধ্যে রয়েছে এক নীরব ক্লান্তি। বাংলার শান্ত নিস্তরঙ্গ প্রকৃতির মধ্যে থাকা বিষাদময়তাকেই যেন কবি এখানে প্রত্যক্ষ করেন৷ গাছ থেকে খসে পড়া বট ফলের মধ্যে রয়েছে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা।
৯.“আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি পাই টের”—“আমি’ কে ? তিনি কী টের পান ? ১+২
উত্তরঃ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতা থেকে গৃহীত আলােচ্য পঙক্তিটিতে ‘আমি’ হলেন কবি জীবনানন্দ দাশ স্বয়ং।
কবি প্রকৃতিপ্রেমী, প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর মনের নিবিড় যোগ আছে। সূর্য অস্ত যাবার পরে যখন গ্রামবাংলার বুকে সন্ধ্যা নেমে আসে, আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠে, তা কবির মনকে ছুঁয়ে যায়। প্রকৃতির সেই রূপ, প্রকৃতির সেই গন্ধ কবির খুবই পরিচিত। তাঁর মনের গভীরে, তাঁর অনুভূতির সঙ্গে, গ্রামবাংলা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। কবি যেখানেই থাকুন না কেন আকাশে সাতটি তারা উঠলে কবি গ্রাম বাংলা এই রুপ অনুভব করেন বা ‘টের’ পান।
১০. ‘আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে’- কবির চোখে বাংলার সন্ধ্যার প্রকৃতিগত রূপটি কেমন ? এই সৌন্দর্যকে কবি কার সঙ্গে তুলনা করেছেন লেখো। ২+১
উত্তরঃ জীবনানন্দ দাশের চোখে বাংলার সন্ধ্যা এক শান্ত, স্নিগ্ধ ও অনুগত রূপ ধারণ করে। সূর্যাস্তের মেঘ যখন পাকা কামরাঙা ফলের মতো লাল হয়ে গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যায়, তখন প্রকৃতিতে এক মায়াবী নীল আভা ছড়িয়ে পড়ে।
কবি বাংলার এই অনন্য সন্ধ্যাকে একজন রূপসী ‘কেশবতী কন্যা’-র সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার ছড়িয়ে পড়া কালো চুলের নিবিড় স্পর্শে চরাচর শান্ত হয়ে আসে।
১১. আমি এই ঘাসে বসে থাকি’- আমি কে? তিনি এই ঘাসে বসে থাকেন কেন? ১+২
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশে ‘আমি’ বলতে প্রকৃতিমুগ্ধ কবি জীবনানন্দ দাশকে বোঝানো হয়েছে।
আকাশে সাতটি তারা ফুটে উঠলে কবি ঘাসের ওপর বসে বাংলার মায়াবী সন্ধ্যার রূপ পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেন। যান্ত্রিকতা থেকে দূরে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে থেকে সন্ধ্যার শান্ত ও অনুগত রূপ এবং কেশবতী কন্যার চুলের গন্ধ ও স্পর্শ অনুভব করতেই তিনি ঘাসের ওপর বসে থাকেন।
১২. ‘কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে’- কেশবতী কন্যা বলতে কবি কাকে বুঝিয়েছেন? তাকে কেশবতী কন্যা বলার কারণ কী? ১+২
উত্তরঃ কেশবতী কন্যা’ বলতে কবি গ্রামবাংলার নীল রঙের শান্ত ও মায়াবী সন্ধ্যাকে বুঝিয়েছেন।
সূর্যাস্তের পর আকাশে যে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে, কবি তাকেই কোনো এক সুন্দরীর ঘন কালো চুলের রাশির সাথে তুলনা করেছেন। এই অন্ধকার যখন হিজল, জাম বা কাঁঠাল বনে ছড়িয়ে পড়ে, তখন মনে হয় যেন কোনো কেশবতী কন্যা তার কালো চুল এলিয়ে দিয়েছে; তাই এই নামকরণ।
১৩. ‘পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো’- কাকে পৃথিবীর অন্য কোনো পথ দেখেনি ? চুলের চুমা ও চুলের স্নিগ্ধ গন্ধ কবি কোথায় কোথায় ঝরতে দেখেছেন ? ১+২
উত্তরঃ জীবনানন্দ দাশের কল্পিত ‘কেশবতী কন্যা’ বা বাংলার নীল সন্ধ্যাকে পৃথিবীর অন্য কোনো পথ দেখেনি।
কবির মতে, সন্ধ্যার অন্ধকার রূপী সেই কন্যার চুলের স্নিগ্ধ গন্ধ আর চুম্বনের ছোঁয়া ঝরে পড়ে বাংলার নিভৃত পল্লীর হিজল, জাম আর কাঁঠাল গাছের বনে। পৃথিবীর অন্য কোথাও প্রকৃতির এমন রহস্যময় এবং গভীর মমতাভরা রূপ খুঁজে পাওয়া যায় না।
১৪. ‘দেখি নাই অত’- ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি কী দেখতে না পাওয়ার কথা বলেছেন ? ৩
উত্তরঃ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি এর আগে প্রকৃতির এমন নিবিড় ও রহস্যময় রূপ দেখেননি বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার অন্ধকার যখন কেশবতী কন্যার চুলের রূপ ধরে হিজল-জাম-কাঁঠাল বনের ওপর অজস্র চুম্বনের মতো ঝরে পড়ে, সেই অলৌকিক সৌন্দর্য কবি আগে কখনও প্রত্যক্ষ করেননি। বাংলার নিভৃত প্রকৃতির এই মায়াবী স্পর্শ ও ঘ্রাণ কবির কাছে সম্পূর্ণ এক নতুন অভিজ্ঞতা।
১৫. ‘কিশোরীর চাল ধোয়া ভিজে হাত— শীত হাত খান।’- প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রকৃতির মূলভাবটি লেখো। ৩
উত্তরঃ জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় রূপসী বাংলার সন্ধ্যার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে গ্রাম্য গৃহস্থালির আবহে কিশোরীর চাল ধোয়া হাতের অনুষঙ্গটি এসেছে। কবির মতে, বাংলার প্রকৃত প্রাণ ও সৌন্দর্য কেবল আকাশে বা গাছে নয়, বরং মিশে আছে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক তুচ্ছ কাজের মধ্যে। কিশোরীর হাতের সেই শীতলতা আসলে বাংলার শান্ত, স্নিগ্ধ ও মমতাময়ী প্রকৃতিরই এক জীবন্ত স্পর্শ, যা পল্লীজীবনের শাশ্বত সজীবতাকে নির্দেশ করে।
১৬. ‘ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা’- উদ্ধৃত অংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। ৩
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশে কবি ঝরে পড়া পাকা বটফলের বুনো গন্ধ এবং সন্ধ্যার নিস্তব্ধতাকে বুঝিয়েছেন। বটফল যখন মাটিতে পড়ে ফেটে যায়, তখন তা থেকে এক প্রকার ম্লান ও কটু গন্ধ নির্গত হয়, যা কবির সংবেদনশীল মনে এক প্রকার বিষণ্ণতা বা ‘ব্যথা’র উদ্রেক করে। দিনের শেষে চরাচর যখন শান্ত হয়ে আসে, তখন প্রকৃতির এই নিঃঝুম স্তব্ধতাকে কবি এক ‘ক্লান্ত’ অনুভূতি হিসেবে দেখেছেন, যা গ্রামবাংলার সন্ধ্যার মায়াবী বিষণ্ণতাকে সার্থকভাবে ফুটিয়ে তোলে।
📌 আরো দেখুনঃ
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
