বঙ্গভূমির প্রতি কবিতার বিষয়বস্তু সপ্তম শ্রেণি বাংলা | Bongobhumir Proti Kobitar Bisoibostu Class 7 Bengali wbbse
সাহিত্য মেলা
সপ্তম শ্রেণি
সপ্তম শ্রেণির বাংলা ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার বিষয়বস্তু | Class 7 Bengali ‘Bongobhumir Proti’ Kobitar Bisoibostu wbbse
সপ্তম শ্রেণির বাংলা ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার কবি পরিচিতি, বিষয় সংক্ষেপ, নামকরণ | Class 7 Bengali Bongobhumir Proti Kobitar Bisoibostu wbbse
📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ
📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here
সপ্তম শ্রেণির বাংলা ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার কবি পরিচিতি, বিষয় সংক্ষেপ, নামকরণ | Class 7 Bengali Bongobhumir Proti Kobitar Bisoibostu wbbse
বঙ্গভূমির প্রতি
—মাইকেল মধুসূদন দত্ত
“My Native Land, Good night!” : Byron
রেখো, মা, দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে।
সাধিতে মনের সাদ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে, দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে,— নাহি খেদ তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে ?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি মা ডরি শমনে,
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্বজন,—
কিন্তু কোন গুণ আছে,
যাচিব ও যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!
তবে যদি দয়া করো,
ভুল দোষ, গুণ ধরো,
অমর করিয়া বর দেহ দাসে, সুবরদে!-
ফুটি যেন স্মৃতি- জলে,
মানসে, মা, যথা ফলে
মধুময় তামরস কি বসন্ত, কি শরদে!
পূর্বকথাঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত (২৫ জানুয়ারি ১৮২৪-২৯ জুন ১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন উচ্চমেধাবী কবি, নাট্যকার ও সাহিত্যিক। তিনি বাংলা কাব্যে নতুন ধারার সূচনা করেন এবং মেঘনাদবধ কাব্য-এর মতো অসাধারণ কাব্য রচনা করে সাহিত্যাঙ্গনে অমরত্ব লাভ করেন।
তাঁর যুবজীবনে পাশ্চাত্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। বিশেষত ইংরেজি সাহিত্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রবল বাসনা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি মনে করতেন, যদি তিনি বিদেশে -বিশেষ করে ইংল্যান্ডে-গিয়ে একজন বড় কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন, তবে পাশ্চাত্য সাহিত্য ও ইংরেজি ভাষায় নিজের পরিচিতি স্থাপন করা সম্ভব হবে। এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৪৮ সালে কর্মজীবনের সন্ধানে ভারতের মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই)-এ গমন করেন। সেখানে তিনি শিক্ষকতা করেন এবং ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।
তবে দীর্ঘকাল বিদেশে অবস্থানকালে তিনি জাত ও ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ থাকা সত্ত্বেও তিনি জীবনের কোনো
পর্যায়েই ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে যেতে সক্ষম হননি।
পরবর্তীকালে ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে অবস্থানকালে বার্ধক্য ও তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যেই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ অনুভব করেন। তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে, নিজের শিকড়, জন্মভূমি ও মাতৃভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা তাঁর জীবনের একটি গুরুতর ভুল ছিল।
এই অনুশোচনার ফলেই তিনি ‘বঙ্গভূমি’ নামক কবিতাটি রচনা করেন। এ কবিতায় তিনি মাতৃভূমিকে দেবীসদৃশ মর্যাদায় স্মরণ করেন এবং অকপটে স্বীকার করেন যে, যদিও তিনি দীর্ঘকাল মাতৃভূমিকে ভুলে ছিলেন, তবু তাঁর কামনা-মাতৃভূমি যেন তাঁকে ভুলে না যায় এবং মায়ের হৃদয় কখনো ‘মধুহীন’ না হয়।
এইভাবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন ছিল নিরন্তর সংগ্রামে পরিপূর্ণ-একদিকে পাশ্চাত্য সভ্যতার আকর্ষণ, অন্যদিকে নিজের সংস্কৃতি ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার টানাপোড়েন। শেষপর্যন্ত তিনি বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য ও স্থায়ী স্থান অধিকার করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
কবি পরিচিতিঃ মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি বর্তমান বাংলাদেশের যশোহর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত পেশায় ছিলেন সম্ভ্রান্ত আইনজীবী, মাতা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে তার লেখাপড়া গ্রামের পাঠশালায় শুরু হয়। বেশ কিছু পরে ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় এসে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। কবির জীবনে হিন্দু কলেজের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। ইংরেজি ভাষায় ছিল তার অসাধারণ দক্ষতা। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে বিলেতে গিয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে তিনি ‘মাইকেল নাম ধারী’ হন। ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন ইংরেজি রচনার পাশাপাশি ‘The Captive Lady’ এবং ‘Visions Of The Past’ নামের দুখানি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। বাংলা জগতে তিনি কিছু বাংলা নাটক রচনা করেন সেগুলি যথাক্রমে ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ ‘শর্মিষ্ঠা’ ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ পদ্মাবতী, কৃষ্ণকুমারী প্রভৃতি। আরো কিছু কাব্য গ্রন্থ লিখেছিলেন, কাব্যগ্রন্থ গুলি হল– মেঘনাদবধ কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। ইংরেজি সনেটের অনুসরণে বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতাবলী বাংলার প্রথম কৃতিত্ব। তার চতুর্দশপদী কবিতাবলী প্রতিভার অনন্য কৃতিত্ব। জীবনের শেষপর্বে হেক্টরবধ নামে তার একটি গদ্য প্রকাশিত হয়। ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুন কবি মারা যান।
নামকরণঃ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার নামকরণ অত্যন্ত সার্থক ও অর্থবহ। কারণ কবিতার মূল ভাব, আবেগ ও বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে কবিতার শিরোনামের মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে।
এই কবিতায় কবি তাঁর জন্মভূমি বঙ্গভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিদেশে অবস্থানকালে কবির মনে দেশের জন্য যে তীব্র আকুলতা জন্মেছিল, তারই আবেগঘন প্রকাশ এই কবিতা। কবি বঙ্গভূমিকে কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান হিসেবে দেখেননি; বরং তাকে মাতৃরূপে কল্পনা করেছেন। মায়ের প্রতি সন্তানের যে গভীর টান, স্নেহ ও আবেগ-কবিতার প্রতিটি পংক্তিতে তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
কবিতায় কবি বাংলার প্রকৃতি, নদী, সবুজ শ্যামল ভূমি ও শৈশবস্মৃতির কথা স্মরণ করে আবেগে আপ্লুত হন। তিনি উপলব্ধি করেন, বিদেশের আরাম-আয়েশ ও খ্যাতি কখনোই মাতৃভূমির স্নেহের তুলনা হতে পারে না। এই আত্মোপলব্ধি ও অনুশোচনার অনুভূতিও কবিতার মূল বিষয়। তাই কবিতার প্রতিটি ভাব ও অনুভূতি সরাসরি ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবির নিবেদিত হৃদয়ের কথাই বলে।
এ কারণে বলা যায়, কবিতাটি যেহেতু সম্পূর্ণরূপে কবির মাতৃভূমির প্রতি প্রেম, স্মৃতি ও আত্মসমর্পণের প্রকাশ, তাই এর নামকরণ ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ একেবারেই যথাযথ ও সার্থক। শিরোনামটি কবিতার বিষয়বস্তুকে সংক্ষিপ্ত অথচ গভীরভাবে তুলে ধরেছে।
∆ শব্দার্থ :
» মিনতি– অনুনয়, বিনীত অনুরোধ, আবেদন।
» পরমাদ– ‘প্রমাদ’-এর পরিবর্তিত (কোমল) রূপ।
» ভুল– বিস্মৃতি, অনবধানতা।
» কোকনদ– লাল পদ্ম।
» প্রবাস– বিদেশ।
» দৈব– অদৃষ্ট, ভাগ্য।
» নীর– জল।
» শমন– মৃত্যুর দেবতা যম।
» মক্ষিকা– মাছি।
» অমৃত– যা পান করলে মৃত্যু হয় না, সুধা।
» অমৃত হ্রদ– সুধায় পূর্ণ হ্রদ।
» জন্মদে– ‘জন্মদা’-র সম্বোধন রূপ, জন্ম দেয় যে, জননী।
» সুবরদে– ‘সুবরদা’-র সম্বোধন রূপ, সু (শুভ) বর দেন যিনি, বরদাত্রী।
» মধুময়– মধুতে ভরা, মধুমাখা।
তামরস– পদ্ম।
বঙ্গভূমির প্রতি কবিতার ব্যাখ্যা—
রেখো, মা, দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে।
ব্যাখ্যা : কবি নিজের দেশকে মা এবং নিজেকে তার সন্তান (দাস) হিসেবে কল্পনা করে সর্বদা প্রার্থনা করেছেন যেন দেশ তাকে সর্বদা মনে রাখে, ঠিক মা যেমন করে তার সন্তানকে মনে রাখে।
সাধিতে মনের সাদ
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
ব্যাখ্যা : সাধিতে মনের সাদ অর্থাৎ মনে ইচ্ছা হয় সুখী বা ভাগ্যবান হতে আর এই ইচ্ছা মেটাতে গিয়ে, ঘটে যদি পরমাদ অর্থাৎ কোন ভুল ভ্রান্তি করে বসেন, মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে অর্থাৎ তবুও যেন বঙ্গভূমি তার মনকে মধুহীন না করে। কবি এখানে বঙ্গভূমির মনকে পদ্ম ফুলের সাথে তুলনা করেছেন, পদ্মফুলে যেমন মধু থাকে বঙ্গভূমির মনেও তেমনই মধু হয়ে থাকতে চান।
প্রবাসে, দৈবের বসে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, নাহি খেদ তাহে।
ব্যাখ্যা : (প্রবাসে) বিদেশে থাকা অবস্থায়, (দৈবের বসে) ভাগ্যের বসে, (জীব তারা যদি খসে এ দেহ-আকাশ হতে) যদি আকস্মিক মৃত্যু হয়, (নাহি খেদ তাহে) তাতেও কোন আক্ষেপ থাকবে না। অর্থাৎ কবি প্রবাসে থাকা অবস্থায় ভাগ্যের বসে যদি আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন তাতে কবির মনে কোন আক্ষেপ থাকবে না। খেদ শব্দের অর্থ আক্ষেপ।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে ?
ব্যাখ্যা : জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে, অর্থাৎ কবি এখানে জগতের পরম সত্যকে স্বীকার করে বলেছেন পৃথিবীতে জন্ম নিলে একদিন মরতে হবেই, পৃথিবীতে কেউ অমর নয়। চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে ? অর্থাৎ জীবন-নদীর জলে কেউ স্থির থাকে না, সকলকেই একদিন মরতে হয়। তাই কবিও একদিন মৃত্যুবরণ করবেন।
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে ;
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
ব্যাখ্যা : মা যেমন তার সন্তানকে চিরদিন মনে রাখে তেমনিভাবে দেশ এবং দেশের মানুষ যদি তাকে মনে রাখে তাহলে কবি শমনে অর্থাৎ মৃত্যুতেও ভয় পান না। যেমনিভাবে মক্ষিকা তথা মাছি অমৃত হ্রদে পড়লেও মরে না, তেমনি ভাবে দেশ তথা দেশের মানুষ যদি কবিকে মনে রাখে তাহলে কবির মৃত্যু হলেও তিনি অমর হয়ে থাকবেন।
সেই ধন্য নরকূলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্বজন;—
ব্যাখ্যা : সেই ধন্য নরকূলে তথা পৃথিবীতে, মানুষ যাকে সর্বদা মনে রাখে এবং মনের মন্দিরে সর্বদা সেবা করে। এখানে সেবা বলতে শ্রদ্ধা বুঝানো হয়েছে।
কিন্তু কোন গুণ আছে,
যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!
ব্যাখ্যা : কবির এমন কোন গুণ নেই যে তার জন্য জন্মভূমির কাছে তাকে সারা জীবন মনে রেখে তার অমরতা চাইবেন।
তবে যদি দয়া কর,
ভুল দোষ, গুণ, ধরো
অমর করিয়া বর দেহ দাসে, সুবরদে!
ব্যাখ্যা : কবি এই লাইনটিতে গভীরভাবে আশা প্রকাশ করেছেন যে, যদি বঙ্গভূমি কবিকে দয়া করে তার দোষ গুলি ভুলে শুধুমাত্র গুণগুলি মনে রাখে তবে সু-বরদা তথা যিনি ভালো আশীর্বাদ দান করেন, তার মত করে বঙ্গভূমিও কবিকে অমরতা দান করবেন।
ফুটি যেন স্মৃতি-জলে,
মানসে, মা, যথা ফলে
মধুময় তামরস কি বসন্ত, কি শরদে!
ব্যাখ্যা: কবে এই লাইনটিতে তীব্রভাবে আশা প্রকাশ করে বলেছেন যে, এদেশের মানুষের মনে, স্মৃতিতে কবি কি বসন্ত কি সরদে তথা সর্বদা মধুময় পদ্ম ফুলের মত অম্লান ফুটে থাকতে চান।
বিষয় সংক্ষেপঃ মা যেন তাঁর দাস কবিকে মনে রাখেন, বঙ্গভূমির প্রতি কবির এই মিনতি। মনের ইচ্ছা পূরণ করতে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে, তবুও মা যেন তার লালপদ্ম সদৃশ মনকে মধুহীন না করেন। বিদেশে দৈবের কারণে যদি কবির জীবন তারা খসে পড়ে দেহের আকাশ থেকে, তাতে কবির কোনো দুঃখ নেই। কারণ কবি জানেন জন্ম নিলে মরতে একদিন হবেই, কেউ কোথাও অমর নয়। নদীতে জল কখনও স্থির থাকে না, তেমনি জীবন নদীতেও প্রাণ স্থির নয়। কিন্তু মা যদি কবিকে মনে রাখেন, তাহলে কবি মৃত্যুকেও ভয় পায় না। কারণ অমরতা দানকারী অমৃতের হ্রদে যদি মাছি গিয়ে পড়ে, তবে সে অমর হয় না, তারও মৃত্যু হয়। মানব সমাজে সে ধন্য যাকে মানুষ কখনো ভোলেনা, মনের মন্দিরে চিরকালের আসন দিয়ে ধরে রাখে। কিন্তু কবির এমন কোন গুণ আছে যে দেশ-মায়ের কাছে এমন অমরতা দাবি করতে পারেন। তবে শ্যামা জন্মদাত্রী যদি তাঁকে দয়া করেন, দোষকে গুন বলে ধরে নেন, তাহলে তিনি সুবরদাত্রী বলে কবিকে অমরতা দান করতে পারেন। কবি যেন স্মৃতি জলে ফুটে থাকেন মধুমাখা পদ্মের মতো, বসন্তে কিংবা শরতে।
◆ প্রথম ইউনিট টেস্ট বাংলা প্রশ্নোত্তর
◆ ছন্দে শুধু কান রাখো কবিতার প্রশ্ন উত্তর
◆ পাগলা গনেশ গল্পের বিষয়বস্তু
◆ পাগলা গনেশ গল্পের প্রশ্ন উত্তর
◆ বঙ্গভূমির প্রতি কবিতার প্রশ্ন উত্তর
◆ মাতৃভাষা কবিতার প্রশ্ন উত্তর
◆ আঁকা লেখা কবিতার প্রশ্ন উত্তর
◆ খোকনের প্রথম ছবি প্রশ্ন উত্তর
◆ কুতুবমিনারের কথা প্রশ্ন উত্তর
◆ মাকু প্রথম ও দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
◆ ভাষাচর্চা প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
📌 আরো দেখুনঃ
📌সপ্তম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 অন্যান্য বিষয়ের প্রশ্নোত্তরঃ
📌 সপ্তম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 সপ্তম শ্রেণি গণিত সমাধান Click Here
📌 অন্যান্য ক্লাসের বাংলা প্রশ্নোত্তরঃ
📌পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
