Class 9 Bengali 2nd Unit Test Model Question Paper Set-7 wbbse | নবম শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৭

নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নপত্র 
দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট 

Class 9 Bengali 2nd Unit Test Model Question Paper Set-7 wbbse | নবম শ্রেণি বাংলা দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৭

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

Set-7

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
(পূর্ণমান ৪০ + অন্তর্বর্তী প্রস্তুতিকালীন মূল্যায়ন ১০)
মূল্যায়নের সময়কাল : আগস্ট

পাঠ্যসূচী/Syllabus—
গদ্য : (১) নব নব সৃষ্টি, (২) রাধারাণী, (৩)চিঠি।
পদ্য : (১)আকাশে সাতটি তারা, (২) আবহমান।
ব্যাকরণ – বাংলা শব্দ-ভাণ্ডার, শব্দ ও পদ এবং বিশেষ্য-বিশেষণ-সর্বনাম বিস্তারিত আলোচনা।
নির্মিতি – ভাবার্থ ও সারাংশ।
সহায়ক পাঠ – এই বইয়ের ‘ব্যোমযাত্রীর
ডায়রি’,‘কর্ভাস’ এবং ‘স্বর্ণপর্ণী’ গল্প
তিনটি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তিনটি
পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উপরোক্ত ক্রম অনুসারে একটি করে গল্প পড়াতে হবে।

বাহাদুরপুর হাইস্কুল (উঃমাঃ)
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন- ২০২৩
শ্রেণি নবম
বিষয়- বাংলা
সময়- ১.২০ ঘন্টা পূর্ণমান- ৪০

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখ: ১×৮=৮

১.১ “জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে রূপসীর—
(ক) রূপের বিন্যাসে (খ) দেহ সৌন্দর্যে
(গ) চুলের বিন্যাসে (ঘ) অঙ্গ সৌন্দর্যে।

১.২ হিন্দি সাহিত্যের বঙ্কিম হলেন—
(ক) হরিবংশরায় বচ্চন (খ) প্রেমচন্দ্র মুনসি
(গ) কেদারনাথ অগ্রবাল (ঘ) শ্রীকান্ত বৰ্মা

১.৩ রাধারানীকে কাপড় দিতে এসেছিলেন-
(ক) পদ্মলোচন (খ) গৌরহরি
(খ) শ্ৰীলোচন (ঘ) পদ্মলোচনের ভাই

১.৪ ‘আবহমান কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থ—
(ক) উলঙ্গ রাজা (খ) নীল নির্জন
(গ) কলকাতার যীশু (ঘ) অন্ধকার বারান্দা।

১.৫ পাঠ্য ‘চিঠি’টি বিবেকানন্দ লিখেছিলেন যে তারিখে—
(ক) ২৯ জুলাই, ১৮৯৭ (খ) ২৯ জুন ১৮৯৭
(খ) ২৯ জুলাই, ১৮৯৫ (ঘ) ২৯ জুন ১৮৯৫

১.৬ সেই থেকে দাঁড়িয়ে আছি’, এখানে অনুসর্গ হল—
(ক) আছি (খ) দাঁড়িয়ে (গ) থেকে (ঘ) সেই।

১.৭ হেডপন্ডিত শব্দটি হল—
(ক) মিশ্র বা সংকর (গ) তদ্ভব (খ) বিদেশি (ঘ) তৎসম।

১.৮ কর্ভাস হল কাক জাতীয় পাখির—
(ক) গ্রিক নাম (খ) আরবি নাম
(ঘ) জাপানি নাম (গ) ল্যাটিন নাম

২। কম বেশি ১৫টি শব্দে উত্তর লেখো: (যে কোনো আটটি) : ১×৮=৮

২.১ স্বামী বিবেকানন্দ কাকে ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ বলেছেন ?

২.২ “আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি।”- মন্তব্যটি কে করেছেন ?

২.৩ ‘আবহমান’ কবিতায় কবি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন ?

অথবা,

“পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”- কোন কন্যার কথা কবি এখানে বলেছেন ?

২.৪ সৈয়দ মুজতবা আলী কোন কোন ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল ভাষা বলেছেন?

২.৫ বাংলা শব্দ ভান্ডারকে কটি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

২.৬ ‘প্র’ উপসর্গ যোগে দুটি শব্দ তৈরি করো।

২.৭ “খাঁচা সমেত কর্ভাস উধাও।”- কর্ভাস কীভাবে উধাও হয়েছিল ?

২.৮ তদ্ভব শব্দ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

২.৯ একটি বৃদন্ত শব্দ ও একটি অধিতান্ত শব্দের উদাহরণ দাও।

৩। কম বেশি ৬০টি শব্দে যে কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৩×৩=৯

৩.১ “কিন্তু কন্ঠস্বর শুনিয়া রাধারানীর রোদন বন্ধ হইল।”- কার কন্ঠস্বর শুনে কেন রাধারানীর রোদন বন্ধ হয়েছিল ? ১+২

৩.২ “যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া”- কোন কবিতার অংশ ? উদ্ধিতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ১+২

৩.৩ “ইংরেজি চর্চা বন্ধ করার সময় এখনও আসেনি।”— কোন প্রবন্ধে কে একথা বলেছেন, তাঁর এরূপ মন্তব্যের কারণ কী ? ১+২

৩.৪ “মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত”— প্রবাদটির অর্থ কী ? কোন প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবল-কে একথা বলেছেন ? ১+২

৪। কম-বেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ (যে-কোনো দুটি) : ২×৫=১০

৪.১ “….এরই মাঝে বাংলার প্রাণ”- কোন কবিতার অংশ ? কবি কে ? তিনি কীসের মাঝে বাংলার প্রাণকে খুঁজে পেয়েছেন ? ১+১+৩

৪.২ ‘কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।’— কে কাকে একথা বলেছেন ? তিনি কী কী বিঘ্নের কথা উল্লেখ করেছেন ? ২+৩

৪.৩ “তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহে।”— কাদের সম্পর্কে একথা বলা হয়েছে ? পাঠ্যাংশ অনুসরণে তাদের দারিদ্র্য ও নির্লোভতার প্রসঙ্গ আলোচনা করো। ১+৪

৫। কম-বেশি ১৫০ শব্দে উত্তর লেখো: (যে কোনো ১টি) : ১×৫=৫

৫.১ “আমার পাখি পড়ানো যন্ত্র নিয়ে কাজ চলছে।”– যন্ত্রটির নাম কী ? যন্ত্রটির কটি অংশ ও কী কী ? এই যন্ত্রের সাহায্য কর্ভাসকে কীভাবে শিক্ষা দেওয়া হত তা নিজের ভাষায় লেখো। ১+২+২

৫.২ কর্ভাসকে কীভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখ। ৫

—সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর—

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখ: ১×৮=৮

১.১ “জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে রূপসীর—

উত্তরঃ (গ) চুলের বিন্যাসে
(জীবনানন্দ দাশের ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার লাইন: “জানি নাই এত স্নিগ্ধ গন্ধ ঝরে রূপসীর চুলের বিন্যাসে”)

১.২ হিন্দি সাহিত্যের বঙ্কিম হলেন—

উত্তরঃ (খ) প্রেমচন্দ্র মুনসি
(মুন্সি প্রেমচাঁদকে তাঁর কথাশিল্পের অনন্য অবদানের জন্য ‘হিন্দি সাহিত্যের বঙ্কিম’ বলা হয়)।

১.৩ রাধারানীকে কাপড় দিতে এসেছিলেন-

উত্তরঃ (ক) পদ্মলোচন
(বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাধারাণী’ গল্পে রুক্মিণীকুমারের পাঠানো শান্তিপুরী শাড়ি নিয়ে এসেছিলেন কাপড় বিক্রেতা পদ্মলোচন সাহা)

১.৪ ‘আবহমান’ কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থ—

উত্তরঃ (ঘ) অন্ধকার বারান্দা
(কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতাটি তাঁর ‘অন্ধকার বারান্দা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত)

১.৫ পাঠ্য ‘চিঠি’টি বিবেকানন্দ লিখেছিলেন যে তারিখে—

উত্তরঃ (ক) ২৯ জুলাই, ১৮৯৭
(চিঠিটির ওপরে স্পষ্ট করে স্থান ও তারিখ উল্লেখ ছিল: ‘আলমোড়া, ২৯শে জুলাই, ১৮৯৭’)

১.৬ ‘সেই থেকে দাঁড়িয়ে আছি’, এখানে অনুসর্গ হল—

উত্তরঃ (গ) থেকে
(এখানে ‘থেকে’ শব্দটি পদের পরে বসে অনুসর্গের মতো কাজ করেছে)

১.৭ হেডপন্ডিত শব্দটি হল—

উত্তরঃ (ক) মিশ্র বা সংকর
(ইংরেজি ‘হেড’ এবং সংস্কৃত/তৎসম ‘পণ্ডিত’ শব্দ দুটি মিলে মিশ্র বা সংকর শব্দ তৈরি হয়েছে)

১.৮ কর্ভাস হল কাক জাতীয় পাখির—

উত্তরঃ (গ) ল্যাটিন নাম
(বিজ্ঞানসম্মত পরিভাষায় ল্যাটিন ভাষায় কাক জাতীয় পাখিকে ‘Corvus’ বলা হয়)

২। কম বেশি ১৫টি শব্দে উত্তর লেখো: (যে কোনো আটটি) : ১×৮=৮

২.১ স্বামী বিবেকানন্দ কাকে ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ বলেছেন ?

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর ‘চিঠি’ প্রবন্ধে শ্বেতাঙ্গিনী ইংরেজ মহিলা মিস হেনরিয়েটা মুলারকে ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ বলেছেন।

২.২ “আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি।”- মন্তব্যটি কে করেছেন ?

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে এই আবেগঘন মন্তব্যটি করেছেন রাধারাণীর পরম দুঃখী ও সততা নিষ্ঠাবান বিধবা মা।

২.৩ ‘আবহমান’ কবিতায় কবি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন ?

উত্তরঃ ‘আবহমান’ কবিতায় কবি গ্রামীণ প্রকৃতির চেনা উঠোনে থাকা ছোট্ট লাউমাচাটির পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন।

অথবা, “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”- কোন কন্যার কথা কবি এখানে বলেছেন ?

উত্তরঃ এখানে ‘কন্যা’ বলতে কবি জীবনানন্দ দাশ রূপকের মাধ্যমে বাংলার পল্লিপ্রকৃতির বুকে নেমে আসা রূপসী নীল সন্ধ্যাকে বুঝিয়েছেন।

২.৪ সৈয়দ মুজতবা আলী কোন কোন ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল ভাষা বলেছেন?

উত্তরঃ প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর প্রবন্ধে সংস্কৃত, হিব্রু, গ্রিক, আবেস্তা এবং আরবি ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল ভাষা বলেছেন।

২.৫ বাংলা শব্দ ভান্ডারকে কটি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী ?

উত্তরঃ বাংলা শব্দভাণ্ডারকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়; যথা— ১. মৌলিক শব্দ, ২. আগন্তুক শব্দ এবং ৩. নবগঠিত শব্দ।

২.৬ ‘প্র’ উপসর্গ যোগে দুটি শব্দ তৈরি করো।

উত্তরঃ ‘প্র’ (সংস্কৃত উপসর্গ) যোগে তৈরি দুটি নতুন শব্দ হলো: প্রগতি এবং প্রভাব।

২.৭ “খাঁচা সমেত কর্ভাস উধাও।”- কর্ভাস কীভাবে উধাও হয়েছিল ?

উত্তরঃ জাদুকর আর্গাস এক গভীর রাতে প্রোফেলর শঙ্কুর চাকর প্রহ্লাদকে অজ্ঞান করে খাঁচাসুদ্ধ কর্ভাসকে চুরি করে নিয়ে পালিয়েছিলেন।

২.৮ তদ্ভব শব্দ কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ যেসব সংস্কৃত শব্দ প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় এসেছে, তাদের তদ্ভব শব্দ বলে। যেমন: হাত (সংস্কৃত ‘হস্ত’ থেকে)।

২.৯ একটি কৃদন্ত শব্দ ও একটি তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ ধাতুর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত কৃদন্ত শব্দ হলো ‘কর্তব্য’ (কৃ+তব্য) এবং শব্দের সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ হলো ‘ধার্মিক’ (ধর্ম+ইক)।

৩। কম বেশি ৬০টি শব্দে যে কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৩×৩=৯

৩.১ “কিন্তু কন্ঠস্বর শুনিয়া রাধারানীর রোদন বন্ধ হইল।”- কার কন্ঠস্বর শুনে কেন রাধারানীর রোদন বন্ধ হয়েছিল ? ১+২

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে অন্ধকারে পথচলতি এক দয়ালু অপরিচিত পুরুষের (রুক্মিণীকুমার রায়) কণ্ঠস্বর শুনে রাধারাণীর কান্না বন্ধ হয়েছিল।

কারণ: বৃষ্টির রাতে মেলা ভেঙে যাওয়ায় রাধারাণী মালা বিক্রি করতে পারেনি। অন্ধকারে ঘরে অসুস্থ মায়ের কাছে একা ফেরার ভয়ে সে কাঁদছিল। ঠিক তখনই পুরুষটি অত্যন্ত দয়ার্দ্র এবং আন্তরিক স্বরে রাধারাণীর পরিচয় জানতে চান। তাঁর কণ্ঠস্বরের মধ্যে কোনো উগ্রতা বা ভয়ের কারণ ছিল না, বরং এক পরম নির্ভরতা ছিল। এই সজ্জন ব্যক্তির আশ্বাস ও স্নেহের সুর পেয়েই রাধারাণী আশ্বস্ত হয় এবং তার কান্না থেমে যায়।

৩.২ “যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া”- কোন কবিতার অংশ ? উদ্ধিতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ১+২

উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লেখা ‘আবহমান’ কবিতার অংশ।

তাৎপর্য: জীবিকার টানে মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেলেও তার মনের ভেতর শৈশবের চেনা পরিবেশের নাড়ির টান কোনোদিন মুছে যায় না। শহরের কৃত্রিমতায় হাঁপিয়ে ওঠা ক্লান্ত মানুষকে শান্তি ফিরে পেতে কবি সেই চেনা গ্রাম্য উঠোনের লাউমাচাটির পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন। সময়ের নিয়মে মানুষের বয়স বাড়লেও গ্রামীণ প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ এবং তার শাশ্বত শান্তির একটুও বদল হয় না। সেখানেই মানুষ তার হারানো মানসিক শান্তি ফিরে পায়।

৩.৩ “ইংরেজি চর্চা বন্ধ করার সময় এখনও আসেনি।”— কোন প্রবন্ধে কে একথা বলেছেন, তাঁর এরূপ মন্তব্যের কারণ কী ? ১+২

উত্তরঃ প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধে এই মন্তব্যটি করেছেন।

কারণ: লেখক মনে করেন, আধুনিক যুগটি মূলত জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের যুগ। বর্তমান বিশ্বের সমস্ত জ্ঞানচর্চা, আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং দর্শনের বেশিরভাগ মূল্যবান উপাদান ইংরেজি ভাষার মাধ্যমেই বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বাঙালি জাতি হিসেবে এখনও আমাদের জ্ঞান ও সংস্কৃতির পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি। তাই আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের যুগোপযোগী করে তুলতে এবং বিশ্বজ্ঞানের আলো পেতে ইংরেজি ভাষা চর্চার প্রয়োজনীয়তা আমাদের দেশে এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

৩.৪ “মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত”— প্রবাদটির অর্থ কী ? কোন প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবল-কে একথা বলেছেন ? ১+২

উত্তরঃ প্রবাদটির অর্থ হলো— হাতির দাঁত যেমন একবার বাইরে বের হলে আর ভেতরে ঢোকে না, তেমনি খাটি পুরুষ বা দৃঢ়চেতা মানুষের মুখের কথাও কখনো নড়চড় বা পরিবর্তন হয় না।

প্রসঙ্গ: স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ প্রবন্ধে মিস মার্গারেট নোবেল যখন ভারতের নারী সমাজের কল্যাণের জন্য এদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন, তখন স্বামীজি তাঁকে সমস্ত বাধার কথা জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তবে একই সাথে স্বামীজি তাঁকে এই পরম আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ভারতে আসার পর নোবেল যদি কোনো কারণে কাজে ব্যর্থ হন বা ভারতীয়দের প্রতি তাঁর মোহভঙ্গও হয়, তাহলেও স্বামীজি আমৃত্যু তাঁর পাশে থাকবেন। নিজের এই প্রতিশ্রুতির অটলতা বোঝাতেই তিনি প্রবাদটি ব্যবহার করেছিলেন।

৪। কম-বেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ (যে-কোনো দুটি) : ২×৫=১০

৪.১ “….এরই মাঝে বাংলার প্রাণ”- কোন কবিতার অংশ ? কবি কে ? তিনি কীসের মাঝে বাংলার প্রাণকে খুঁজে পেয়েছেন ? (১+১+৩)

উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের লেখা ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার অংশ।

কীসের মাঝে বাংলার প্রাণ খুঁজে পেয়েছেন: কবি জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির অতি সাধারণ ও তুচ্ছ উপাদানের মায়াবী মেলবন্ধনের মাঝে বাংলার শাশ্বত প্রাণকে খুঁজে পেয়েছেন। আকাশে সাতটি তারা ফুটলে বাংলার পল্লিপ্রকৃতির বুকে এক শান্ত, অনুগত নীল সন্ধ্যা নেমে আসে। কবি সেই মায়াবী সন্ধ্যায় ঘাসের ওপর বসে প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ নিজের মন দিয়ে অনুভব করেন।

তিনি বাংলার আদিম ও অকৃত্রিম স্পন্দন খুঁজে পান নরম ধানের গন্ধ, কলমি শাকের ঘ্রাণ, পুকুরের শীতল জল, হাঁসের পালক এবং শর ও চাঁদা-সরপুঁটি মাছেদের মৃদু গন্ধের মধ্যে। এ ছাড়া কিশোরীর চাল ধোয়া ভেজা শীতল হাত, কিশোরের পায়ে দলা মুথা ঘাস এবং বটের পাকা লাল ফলের ব্যথিত গন্ধের যে ক্লান্ত নীরবতা— এই সমস্ত কিছুর মাঝেই কবি বাংলার প্রকৃত রূপ ও অবিনাশী প্রাণকে খুঁজে পেয়েছেন। যান্ত্রিক কোলাহলহীন এই নিটোল শান্ত প্রকৃতির মাঝেই বাংলার আসল অস্তিত্ব লুকিয়ে আছে।

৪.২ ‘কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।’— কে কাকে একথা বলেছেন ? তিনি কী কী বিঘ্নের কথা উল্লেখ করেছেন ? (২+৩)

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দের ‘চিঠি’ প্রবন্ধ অনুযায়ী, এই দূরদর্শী উক্তিটি স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর স্নেহভাজন আইরিশ শিষ্যা মিস মার্গারেট নোবেলকে (ভগিনী নিবেদিতা) উদ্দেশ্যে বলেছেন।

বিঘ্নগুলির বিবরণ: মিস নোবেল ভারতের নারী সমাজের কল্যাণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে এদেশে আসতে চেয়েছিলেন। স্বামীজি তাঁর এই ইচ্ছাকে স্বাগত জানালেও, এদেশের বাস্তব কঠিন পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মূলত চারটি প্রধান বিঘ্নের আশঙ্কা করেছিলেন—

আবহাওয়া: এদেশের তীব্র গরম এবং আর্দ্র জলবায়ু একজন ইউরোপীয়র পক্ষে সহ্য করা অত্যন্ত কঠিন।

সামাজিক কুসংস্কার: এখানকার মানুষের চরম অশিক্ষা, অন্ধবিশ্বাস এবং জাতিভেদের কারণে তিনি পদে পদে বাধার সম্মুখীন হবেন। ইউরোপীয় হওয়ার কারণে ভারতীয়রা তাঁকে ম্লেচ্ছ ভেবে এড়িয়ে চলতে পারে।

শ্বেতাঙ্গ সমাজ: এদেশের শ্বেতাঙ্গ বা ইংরেজ সমাজ তাঁর এই ভারতীয় প্রীতিকে ভালো চোখে দেখবে না, বরং তাঁকে সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখবে।

জীবনযাত্রার মান: এদেশের মানুষের চরম দারিদ্র্য এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে একা বেঁচে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর ও মানসিক যন্ত্রণাদায়ক।

৪.৩ “তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহে।”— কাদের সম্পর্কে একথা বলা হয়েছে ? পাঠ্যাংশ অনুসরণে তাদের দারিদ্র্য ও নির্লোভতার প্রসঙ্গ আলোচনা করো। (১+৪)

উত্তরঃ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পে এই উক্তিটি বালিকা রাধারাণী এবং তার বিধবা মায়ের সম্পর্কে বলা হয়েছে।

দারিদ্র্য ও নির্লোভতার প্রসঙ্গ: এক জ্ঞাতির সাথে মামলায় হেরে গিয়ে রাধারাণীরা সর্বস্বান্ত হয় এবং বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে এক জরাজীর্ণ কুটিরে আশ্রয় নেয়। তাদের অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, রথের দিনে রাধারাণীর অসুস্থ মায়ের পথ্য ও ওষুধ কেনার মতো কোনো টাকা ঘরে ছিল না। আহারের সংস্থান করতে এগারো বছরের রাধারাণী বুনো ফুল দিয়ে মালা গেঁথে মেলায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল।

তাদের এই চরম দারিদ্র্যের দিনে ছদ্মনামধারী দাতা রুক্মিণীকুমার রায় দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়ান। তিনি কেবল মালার অতিরিক্ত দামই দেননি, বরং গোপনে কুটিরের মেঝেতে একটি বড় টাকার নোট ফেলে যান। রাধারাণীরা সেই নোটটি কুড়িয়ে পেয়ে বুঝতে পারে যে এটি সেই অচেনা ব্যক্তির দান। কিন্তু চরম অর্থকষ্টে থাকা সত্ত্বেও রাধারাণী বা তার মা সেই নোটটি ভাঙিয়ে নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে খরচ করেনি। পরোপকারী মানুষের দানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান রেখে তাঁরা নোটটি আজীবন যত্নে তুলে রেখেছিলেন। দারিদ্র্যের কাছে মাথা নত না করার এই যে সততা, এখানেই তাদের নির্লোভ মানসিকতা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

৫। কম-বেশি ১৫০ শব্দে উত্তর লেখো: (যে কোনো ১টি) : ১×৫=৫

৫.১ “আমার পাখি পড়ানো যন্ত্র নিয়ে কাজ চলছে।”– যন্ত্রটির নাম কী ? যন্ত্রটির কটি অংশ ও কী কী ? এই যন্ত্রের সাহায্য কর্ভাসকে কীভাবে শিক্ষা দেওয়া হত তা নিজের ভাষায় লেখো। (১+২+২)

উত্তরঃ সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কুর আবিষ্কৃত পাখি পড়ানো তথা পাখিদের বুদ্ধিবৃত্তি বাড়ানোর যন্ত্রটির নাম হলো ‘অরনিথন’।

যন্ত্রটির অংশ: যন্ত্রটির মূলত দুটি প্রধান অংশ—
১. খাঁচার মতো মূল অংশটি, যার বাইরে তামা ও প্লাস্টিকের দুটি খাঁজকাটা গোল চাকতি লাগানো থাকে এবং

২. খাঁচার ভেতরের অংশটি, যা সূক্ষ্ম তারের জালের সাহায্যে একটি বিশেষ হেডফোনের সাথে যুক্ত থাকে।

শিক্ষাদানের পদ্ধতি: এই যন্ত্রের সাহায্যে কর্ভাসকে অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে শিক্ষা দেওয়া হতো। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে নয়টা— এই এক ঘণ্টা কর্ভাসকে যন্ত্রটির খাঁচায় ঢুকিয়ে রাখা হতো।

হেডফোনের মাধ্যমে তার মস্তিষ্কে অত্যন্ত মৃদু ও নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ পাঠানো হতো, যা তার সুপ্ত বুদ্ধিকে দ্রুত জাগ্রত করত। যন্ত্রে এই মানসিক ব্যায়ামের পর শুরু হতো শঙ্কুর নিজের হাতে প্রথাগত শিক্ষা দেওয়া। তিনি টেবিলের ওপর ছোট ছোট চৌকো প্লাস্টিকের টুকরোয় ইংরেজি বর্ণমালা সাজিয়ে রাখতেন। কর্ভাস তার ঠোঁট দিয়ে সেই বর্ণগুলি একে একে তুলে প্রোফেসর শঙ্কুর নির্দেশমতো শব্দ ও নিজের নাম (C-O-R-V-U-S) তৈরি করতে শিখত। এভাবেই নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে কর্ভাসকে মানবীয় বুদ্ধিতে দীক্ষিত করা হয়েছিল।

৫.২ কর্ভাসকে কীভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখ। (৫)

উত্তরঃ সত্যজিৎ রায়ের ‘কর্ভাস’ গল্পে জাদুকর আর্গাস এক গভীর রাতে প্রোফেসর শঙ্কুর হোটেল থেকে খাঁচাসুদ্ধ কর্ভাসকে চুরি করে তাঁর মার্সিডিজ গাড়িতে করে পালিয়ে যান।

উদ্ধারের বিবরণ: কর্ভাস চুরি হওয়ার খবর পেয়ে প্রোফেসর শঙ্কু, তাঁর পক্ষীবিজ্ঞানী বন্ধু রুফাস গ্রেনফেল এবং চিলির পুলিশ অফিসার কোভাকস অন্য একটি গাড়ি নিয়ে দ্রুত আর্গাসের গাড়িটিকে ধাওয়া বা তাড়া করেন। পথিমধ্যে তীব্র কুয়াশা এবং পাহাড়ি পথের প্রতিকূলতার মাঝেই তাঁরা দেখতে পান আর্গাসের মার্সিডিজ গাড়িটি রাস্তার পাশে একটি খাদের মুখে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আসলে বুদ্ধিমান কর্ভাস নিজেই আর্গাসের চশমাটি (মাইনাস বিশ পাওয়ারের চশমা, যা ছাড়া আর্গাস অন্ধ) ঠোঁট দিয়ে কেড়ে নিয়েছিল, যার ফলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়।গাড়ি থামিয়ে আর্গাস যখন অন্ধের মতো কুয়াশার মধ্যে রিভলভার থেকে গুলি চালাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ অফিসার কোভাকস তাঁকে পরাস্ত করে গ্রেপ্তার করেন। এরপর কাছেই একটি উইলো গাছের ডাল থেকে কর্ভাস নিজে থেকেই নেমে আসে। সে আর্গাসের চশমা এবং আর্গাসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ১ লক্ষ এস্কুডো মূল্যের টাকাভর্তি মানিব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় প্রোফেসর শঙ্কুর হাতে ফিরিয়ে দেয়। এভাবেই শঙ্কু ও তাঁর সঙ্গীদের তৎপরতা এবং কর্ভাসের নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

📌আরও পড়ুনঃ

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply