পশুপাখির ভাষা
—সুবিনয় রায়চৌধুরী
পশুপাখির ভাষা গল্পের প্রশ্ন উত্তর ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা | Posupakhir Bhasa Golper Question Answer Class 6 Bengali wbbse
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
∆ ‘হাতে কলমে’ প্রশ্নোত্তর—
১.১ সুবিনয় রায়চৌধুরী কী কী বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন ?
উত্তরঃ সুবিনয় রায়চৌধুরী হারমোনিয়াম, এসরাজ প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন।
১.২ সুবিনয় রায়চৌধুরী কোন্ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ?
উত্তরঃ সুবিনয় রায়চৌধুরী ‘সন্দেশ পত্রিকা’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২. কোনটি কার ডাক মিলিয়ে লেখো:
| পশুপাখি | ডাক |
| ব্যাঙের ডাক | কাকলি |
| হাতির ডাক | হ্রেষা |
| পাখির ডাক | বৃংহণ |
| কোকিলের ডাক | মকমকি |
| ঘোড়ার বাক | কেকা |
| ময়ুরের বাক | কুহু |
উত্তরঃ
| পশুপাখি | ডাক |
| ব্যাঙের ডাক | মকমকি |
| হাতির ডাক | বৃংহন |
| পাখির ডাক | কাকলি |
| কোকিলের ডাক | কুহু |
| ঘোড়ার বাক | হ্রেষা |
| ময়ুরের বাক | কেকা |
৩. নীচের বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণে এবং বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো :
পশু, মুখ, মন, পরীক্ষা, চালাক, অর্থ, লোভ, জন্তু, মেজাজ।
উত্তরঃ
পশু (বিশেষ্য)— পাশব (বিশেষণ)
মুখ (বিশেষ্য)— মৌখিক (বিশেষণ)
মন (বিশেষ্য)— মানসিক (বিশেষণ)
পরীক্ষা (বিশেষ্য)— পরীক্ষিত (বিশেষণ)
চালাক (বিশেষণ)— চালাকি (বিশেষ্য)।
অর্থ (বিশেষ্য)— আর্থিক (বিশেষণ)
লোভ (বিশেষ্য)— লোভী (বিশেষণ)
জন্তু (বিশেষ্য)— জান্তব (বিশেষণ)
মেজাজ (বিশেষ্য)— মেজাজি (বিশেষণ)
৪. বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় আলাদা করে দেখাও :
৪.১ মুরগিরা তিতি ডাক শুনে আসে।
৪.২ পাখিরাও ভয়, রাগ প্রভৃতি প্রকাশ
করার জন্য বিশেষ বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করে থাকে।
৪.৩ ক্যাস্টাং সাহেব প্রায় চল্লিশ বছর বন্য জন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন।
৪.৪ শিম্পাঞ্জি, ওরাং এদের বিষয় কিছু লেখা হয়নি।
উত্তরঃ
| উদ্দেশ্য | বিধেয় |
| ৪.১ মুরগিরা | তিতি ডাক শুনে আসে। |
| ৪.২ পাখিরাও | ভয়, রাগ প্রভৃতি প্রকাশ করার জন্য বিশেষ বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করে থাকে। |
| ৪.৩ ক্যাস্টাং সাহেব | প্রায় চল্লিশ বছর বন্য জন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন। |
| ৪.৪ শিম্পাঞ্জি, ওরাং | এদের বিষয় কিছু লেখা হয়নি। |
৫. প্রতিশব্দ লেখো: পাখি, পুকুর, হাতি, সিংহ, বাঘ।
উত্তরঃ
পাখি– বিহগ, খেচর, কুজন, পক্ষী, বিহঙ্গ।
পুকুর– পরিখা, সরোবর, দিঘি, জলাধার, পুষ্করিণী।
হাতি– গজ, ঐরাবত, হস্তি, মাতঙ্গ, করী, দন্তী, মাকনা।
সিংহ– পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, হরি, হর্ষক্ষ।
বাঘ– ব্যাঘ্র, শার্দুল, শের।
৬. নীচের যে শব্দগুলিতে এক বা বহু বোঝাচ্ছে, তা চিহ্নিত করে লেখো :
৬.১ কুকুরেরাও কথা শুনে হুকুম পালন করতে ওস্তাদ।
উত্তরঃ কুকুরেরা— বহুবচন।
৬.২ তোমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে।
উত্তরঃ তোমার— একবচন।
৬.৩ বিপদের সময় পরস্পরকে জানাবার উপায়ও পশুপাখিরা বেশ জানে।
উত্তরঃ পরস্পরকে— বহুবচন, পশুপাখিরা— বহুবচন।
৬.৪ রিউবেন ক্যাস্টাং নামে একজন সাহেব বহুকাল পশুদের সঙ্গে ভাব পাতিয়ে বেড়িয়েছেন।
উত্তরঃ একজন, সাহেব— একবচন। পশুদের— বহুবচন।
৬.৫ একেও ভাষা বলতে হবে।
উত্তরঃ একেও, ভাষা— একবচন।
৭. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো :
৭.১ ভাষার প্রয়োজন হয় কেন ?
উত্তরঃ মনের ভাব প্রকাশ করবার জন্য এবং একে অপরকে বোঝাবার জন্য ভাষার প্রয়োজন হয়।
৭.২ ‘পশুপাখিরা অবিশ্যি মানুষের অনেক কথারই অর্থ বোঝে।’ — একথার সমর্থনে রচনাটিতে কোন প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে ? তুমি এর সঙ্গে আরো কী কী যোগ করতে চাইবে ?
উত্তরঃ পশুপাখিরা অবিশ্যি মানুষের অনেক কথারই অর্থ বোঝে। কিছু বুদ্ধিমান জীব যেমন কুকুর, বনমানুষ, ঘোড়া প্রভৃতি তাদের মানুষে দেওয়া নাম শুনলেই কান খাড়া করে। নাম ধরে ডাক দিলে কাছে আসে। মুরগিরা তিতি ডাক শুনে আসে। হাঁস সােই সােই ডাক শুনে আসে। ছাগল অ-র-র ডাক শুনে আসে। হাতি তো মাহুতের কথা শুনেই চলে। কুকুররাও কথা শুনে হুকুম পালন করতে ওস্তাদ-অবশ্য কথার অর্থ তাদের শেখাতে হয়।
গোরু তার মনিবের গলার ডাক শুনে চলে। পোষা বিড়াল তার মনিবের কথা বুঝতে পারে। পাখিরা নানাভাবে মানুষের ডাকে সাড়া দেয়।
৭.৩ রিউবেন ক্যাস্টাং-এর অভিজ্ঞতার কথা কীভাবে পাঠ্যাংশে স্থান পেয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তরঃ রিউবেন ক্যাস্টাং নামে একজন সাহেব বহুকাল পশুদের সাথে ভাব পাতিয়ে বেড়িয়েছেন। তিনি বলেন ‘আমি পশুর ভাষা বেশ বুঝি।’ তিনি অনেকবার জংলি হাতির সামনে পড়েছেন। বাঘের গরম নিঃশ্বাস অনুভব করেছেন। প্রকাণ্ড ভাল্লুকের থাবা মুখের সামনে দেখেছেন। গরিলা তাকে জড়িয়ে ধরেছে। কিন্তু পশুদের ভাষার জ্ঞান থাকার জন্য তিনি বিপদ থেকে ফিরে এসেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, পশুদের ভাষা অবিকল নকল করতে পারলে পশুদের সঙ্গে ভাব জমানো বেশ সহজ। আর পশুদের আদব-কায়দা অনুসারে যদি তাদের কাছে যাওয়া যায়, তাহলে ভয়ের বিশেষ কারণ থাকে না। তাঁর মতে, সিংহ, বাঘ, হাতি, শ্বেত ভাল্লুক প্রভৃতির গায়ে হাত দেওয়ার আগে লক্ষ করতে হবে তারা আমাদের আওয়াজের জবাব দিচ্ছে কিনা, তারপর খুব ধীরে ধীরে এগিয়ে তাদের মেজাজ বুঝে গায়ে হাত দেওয়া যেতে পারে। ক্যাস্টাং সাহেব প্রায় চল্লিশ বছর জন্তুদের সঙ্গে থেকে বিশেষ অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। এই প্রসঙ্গে ক্যাস্টাং সাহেবের নাম এসেছে।
৭.৪ ‘একেও ভাষা বলতে হবে’ — কাকে ‘ভাষা’র মর্যাদা দিতে হবে বলে বক্তা মনে করেন ? তুমি কি এই বক্ত্যব্যের সঙ্গে সহমত ? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তরঃ পশুরা শুধু শব্দের সাহায্যে কথা বলে না, নানা রকম ইশারায়ও কথা বলে। কুকুরের লেজ নাড়া আর, কান নাড়ার মধ্যে কত অর্থ আছে তা আমরা সকলেই বুঝি না। লেখক একেই ভাষার মর্যাদা দিতে বলেছেন।
আমি অবশ্যই একমত, কারণ অনেক সময় ইশারা ভাষার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পশুরা চোখের ভাষা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে। চোখের ইশারার সাহায্যে অনেক কথা বুঝিয়ে পশুদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করিয়ে নেওয়া হয়। ইশারাতেও মনের ভাব প্রকাশ করা যায়।
৭.৫ “তাই তারা স্বভাবতই নীরব” — কাদের কথা বলা হয়েছে ? তাদের এই স্বভাবগত নীরবতার কারণ কী ?
উত্তরঃ সুবিনয় রায়চৌধুরী রচিত ‘পশুপাখির ভাষা’ রচনায় বন্য প্রাণীদের কথা বলা হয়েছে।
জঙ্গলের পশুকে সর্বদাই প্রাণ বাঁচিয়ে চলতে হয়। আত্মরক্ষার জন্য তারা স্বভাবতই নীরব। পোষা জন্তুদের মতো তারা নিরাপদ নয়।
৭.৬ “এরা তো মানুষেরই জাতভাই” — কাদের ‘মানুষের জাতভাই’ বলা হয়েছে ? তা সত্ত্বেও মানুষের সঙ্গে তাদের কোন্ পার্থক্যের কথা পাঠ্যাংশে বলা হয়েছে তা লেখো।
উত্তরঃ শিম্পাঞ্জি, ওরাং, গরিলা এদের মানুষের জাতভাই বলা হয়েছ। এমন বলার কারণ-এদের গঠন, জীবনধারণ পদ্ধতি অনেকটাই মানুষের সাথে মেলে। ভালোবাসা সহানুভূতি প্রভৃতি অনুভূতিগুলি এরা বুঝতে পারে।
কিন্তু মানুষের সাথে বড়ো পার্থক্য হল– মানুষের মতো এরা মনের ভাব প্রকাশ করতে ভাষা ব্যবহার করতে পারে না। এদের ভাষা জ্ঞান নেই। তবে এরা ইশারা বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে।
৭.৭ তোমার পরিবেশে থাকা জীবজন্তুর ডাক নিয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো।
উত্তরঃ আমার পরিবেশে গোরু, ছাগল,
পাখি, বেড়াল, কুকুর এদের দেখা পাই। গোরু হাম্বা হাম্বা ডাক ছাড়ে। তাদের বাচ্চারা ওই ডাক শুনে ছুটে আসে। বিপদে পড়লে তারা ওই ভাষায় চিৎকার করে মনিবকে ডাকে। ছাগল অ-র-র ডাক শুনলেই ছুটে আসে। মুরগি তি-তি ডাক শুনে আসে। বিড়ালও ম্যাও ম্যাও ডাক ছেড়ে বাচ্চাদের ডাকে, কুকুর তার মনিবদের ডাক শুনে ছুটে আসে।
৭.৮ এমন একটি গল্প লেখো যেখানে পশুপাখিরা মানুষের সঙ্গে মানুষেরই মতো কথাবার্তা বলছে আর তাদের মধ্যে অপরূপ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।
উত্তরঃ সেদিন স্বপ্ন দেখছিলাম। আমার
পোষা পাখি, হাঁস-মুরগি, গোরু সবাই মিলে মিটিং করছে। আমার প্রিয় পাখি ময়না সুন্দর গান ধরেছে। হাঁস আর মুরগি খোপ থেকে বেরিয়েছিল মাঠে যাবার জন্য। বলল, আহা ময়না তুমি কি গান ধরেছো, মন একেবারে জুড়িয়ে গেল। হাঁস বলল, গান শুনে মনটা ভালো হয়ে গেল। আজ পুকুরে নেমে প্রচুর গুগলি ধরবো। মুরগি বলল, ভাই ময়না তোমার গলায় এতো সুর তুমিতো মানুষের সমাজে থাকলে বিরাট গায়ক হয়ে যেতে, দিকে দিকে তোমার নাম ছড়িয়ে পড়তো।
আমি বললাম হ্যাঁরে তোরা খাবার খুঁজতে না গিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন ? হাঁস রেগে গিয়ে উত্তর দিল, তুমি মানুষ হতে পারো কিন্তু একেবারে বেরসিক। ময়নার এতো সুন্দর গানের কোনো মর্যাদা দিলে না। সকালে কেমন সবার মন ভালো হয়ে গেল গান শুনে তা কোথায় বাবু প্রশংসা করবে তা না বকতে এলেন।
গোরু গুটি গুটি পায়ে আসছিল; বলল, মালিক আহা ময়নাকে তোমার শ্রেষ্ঠ গায়কের পুরস্কারটা দেওয়া উচিত। সব পশু একসাথে বলে উঠল, হ্যাঁ-হ্যাঁ। আমি বললাম, ঠিক আছে ময়না তুমি চিন্তা করো না, সামনের মাসে তোমাকে আমি আকাশবাণীতে নিয়ে যাবো, গানের অডিশনের জন্য। ময়না মৃদু হাসি হেসে বলল, ঠিক বলছো তো ? তবে মানুষেরা বেশিরভাগ সময় কথা দিয়ে কথা রাখে না, দেখো সেরকম না হয়। হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল।
৮. পাশের ছবিটি দেখে নিজের ভাষায় পাঁচটি বাক্য লেখো।
উত্তরঃ এধরনের প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা খুবই কম, তাই বাদ দেওয়া হল।
∆ অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর—
∆ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখ। প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. মুরগিরা যে ডাক শুনে আসে, তা হল-
(ক) সোই সোই (খ) তি-তি (গ) চুই চুই
(ঘ) কুই কুই
উত্তরঃ (খ) তি-তি
২।. মাহুতের ভাষায়’তেরে,মানে হল-
(ক) কাত হও (খ) পিছিয়ে যাও
(গ) সামনে এসো (ঘ)এগিয়ে এসো
উত্তরঃ (ক) কাত হও
৩. মাহুতের ভাষায় ‘ভোরি’ কথাটির অর্থ হল-
(ক) পিছনে যাও (খ) কাত হও
(গ) সাবধান হও (ঘ) উপরে যাও
উত্তরঃ (ক) পিছনে যাও
৪. মাহুতের ভাষায়’বৈঠ,হচ্ছে—
(ক) কাত হও (খ) পিছনে যাও
(গ) বোসো (ঘ) ঘুমাও
উত্তরঃ (গ) বোসো
৫. কুকুরের ঝগড়া আর রাগের শব্দ—
(ক) কেঁউ (খ) ঘেউ (গ) কেঁই (ঘ) মিউ
উত্তরঃ (খ) ঘেউ
৬. রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব ছিলেন-
(ক) খেলোয়াড় (খ) পশুপ্রেমী
(গ) নায়ক (ঘ) গায়ক
উত্তরঃ (খ) পশুপ্রেমী
৭. ক্যাস্টাং সাহেব বন্যজন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন-
(ক) ত্রিশ বছর (খ) চল্লিশ বছর
(গ) পঞ্চাশ বছর (ঘ) ষাট বছর
উত্তরঃ (খ) চল্লিশ বছর
৮. ‘শ্বেত ভালুক’ দেখতে পাওয়া যায়-
(ক) মরুদেশে (খ) মেরুপ্রদেশে
(গ) ভারতবর্ষে (ঘ) জাপানে
উত্তরঃ (খ) মেরুপ্রদেশ
৯. কুকুরের ভয় বা কান্নার শব্দে কোনটি থাকে—
(ক) ঘেউ (খ) মিউ (গ) কেঁউ (ঘ) ওয়াও
উত্তরঃ (গ) কেঁউ
১০. বেড়ালের সাধারণ আওয়াজ হল—
(ক) ঘেউ (খ) কেঁউ (গ) ম্যাও (ঘ) সোই সোই
উত্তরঃ (গ) ম্যাও
১১. পশুপাখিরা বিপদের সময় কীভাবে একে অপরকে জানায়—
(ক) মানুষের ভাষায় (খ) ইশারা ও শব্দে
(গ) লিখে (ঘ) নীরব থেকে
উত্তরঃ (খ) ইশারা ও শব্দে
১২. পোষা জন্তুরা জংলি জন্তুদের তুলনায় কেমন—
(ক) বেশি নীরব (খ) বেশি হিংস্র
(গ) বেশি চেঁচামেচি করে
(ঘ) কম আওয়াজ করে
উত্তরঃ (গ) বেশি চেঁচামেচি করে
১৩. জঙ্গলের পশুরা সাধারণত নীরব থাকে কারণ—
(ক) তারা দুর্বল
(খ) তারা অসুস্থ
(গ) প্রাণ বাঁচিয়ে চলতে হয়
(ঘ) তারা কথা বলতে পারে না
উত্তরঃ (গ) প্রাণ বাঁচিয়ে চলতে হয়
১৪. ক্যাস্টাং সাহেবের মতে কোন জন্তুটি বাঘের চেয়ে সহজে ভাব পাতায়—
(ক) সিংহ (খ) চিতা (গ) ভাল্লুক (ঘ) গরিলা
উত্তরঃ (খ) চিতা
১৫. ভাল্লুক কেমন ধরনের প্রাণী—
(ক) আমিষাশী ও নির্লোভ
(খ) নিরামিষাশী ও লোভী
(গ) সর্বভুক ও আক্রমণকারী
(ঘ) আমিষাশী ও নীরব
উত্তরঃ (খ) নিরামিষাশী ও লোভী
∆ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ) : একটি বা দুটি বাক্যে উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১.‘পশুপাখির ভাষা’ প্রবন্ধে যে বিদেশি সাহেবের কথা বলা হয়েছে,নাম কী ?
উত্তরঃ সুবিনয় রায়চৌধুরীর রচিত ‘পশুপাখির, ভাষা প্রবন্ধে যে বিদেশি সাহেবের কথা বলা হয়েছে,তাঁর নাম রিউবেন ক্যাস্টাং।
২.’আমি পশুর ভাষা বেশ বুঝি।’— এ কথা কে বলেছেন ?
উত্তরঃ সুবিনয় রায়চৌধুরী রচিত ‘পশুপাখির ভাষা, প্রবন্ধে কথাটি বলেছেন, পশুভাষাবিদ রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব।
৩.রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব মৃত্যুর হাত থেকে কী করে বাঁচতেন ?
উত্তরঃ সুবিনয় রায় চৌধুরী রচিত ‘পশুপাখির ভাষা প্রবন্ধে রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব পশুদের ভাষা বুঝতেন বলে হিংস্র পশুদের সামনে পড়লেও মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারতেন।
৪. ক্যাস্টাং সাহেব প্রায় কত বছর ধরে বন্যজন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন ?
উত্তরঃ সুবিনয় রায় চৌধুরী রচিত পশু পাখির ভাষা প্রবন্ধে ক্যাস্টাং সাহেব প্রায় চল্লিশ বছর ধরে বন্যজন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন।
৫. ক্যাস্টাং সাহেবের দুটি বন্ধুর নাম লেখো।
উত্তরঃ ক্যাস্টাং সাহেবের দুটি বন্ধুর নাম হল- শিম্পাঞ্জি ও সিংহ।
৬. কাদের ‘মানুষের জাতভাই’ বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ সুবিনয় রায়চৌধুরীর‘পশুপাখির ভাষা প্রবন্ধে শিম্পাঞ্জি ও ওরাংওটাং-কে ‘মানুষের জাতভাই’ বলা হয়েছে।
৭. ভালুকরা কী করলে সহজে ভাব পাতায় ?
উত্তরঃ ভালুকদের খাবার দিলে তারা সহজেই ভাব পাতায়।
৮.শিম্পাঞ্জি ও ওরাংওটাং কীভাবে মানুষের সঙ্গে ভাব পাতায় ?
উত্তরঃ ভাষার ব্যবহার না করেও ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখালে শিম্পাঞ্জি ও ওরাংওটাং মানুষের সঙ্গে ভাব পাতায়।
৯.গরিলাদের জাতভায়ের নাম কী ?
উত্তরঃ গরিলাদের জাত ভায়ের নাম হল মানুষ।
১০. ‘কুকুর, বনমানুষ, ঘোড়া প্রভৃতি মানুষের দেওয়া নাম শুনলেই কান খাড়া করে।’– এ থেকে কী বোঝা যায় ?
উত্তরঃ বোঝা যায়, এরা বুদ্ধিমান প্রাণী- মানুষের অনেক কথার অর্থ বোঝে।
১১. হাতির প্রতি ব্যবহৃত মাহুতের কিছু কথা ও তার অর্থ উল্লেখ করো।
উত্তরঃ ‘বৈঠ’ অর্থাৎ বসো, ‘তেরে’ অর্থাৎ কাত হও, ‘ভোরি’ অর্থাৎ পিছনে যাও, ‘মাইল’ অর্থাৎ সাবধান।
১২. বেড়ালের সাধারণ আওয়াজ কোনটা আর কোনটা ঝগড়ার আওয়াজ ?
উত্তরঃ বেড়ালের সাধারণ আওয়াজ- ম্যাও বা মিউ। আর রাগ বা ঝগড়ার আওয়াজ- ওয়াও।
১৩. রিউবেন ক্যাস্টং সাহেব কী জন্য স্মরণীয় ?
উত্তরঃ রিউবেন ক্যাস্টং সাহেব পশুদের আওয়াজ আয়ত্ত্ব করেছিলেন আর তাদের সঙ্গে ভাব জমিয়েছিলেন।
১৪. ‘একটি জিনিস প্রত্যেকবারই আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে’— কাকে কোন জিনিসটি মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে ?
উত্তরঃ পশুদের ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান ক্যাস্ট্যাং সাহেবকে বহুবার মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে।
১৫. পোষা না বন্য, কোন ধরনের জন্তুরা বেশি চেঁচামেচি করে ?
উত্তরঃ বন্য জন্তুদের তুলনায় পোষা জন্তুরা বেশি চেঁচামেচি করে।
১৬. পশুদের আওয়াজ নকল করতে পারার সুবিধা কী ?
উত্তরঃ পশুদের আওয়াজ নকল করতে পারার সুবিধা হল– সহজে তাদের সঙ্গে ভাব জমানো যায়।
১৭. ভালুক কেমন স্বভাবের প্রাণী ?
উত্তরঃ ভালুক নিরামিষাশী আর লোভী। তাকে খাবার দিলে সে সহজে ভাব পাতায়।
১৮. কারা কখনও খাবারের লোভে ভাব জমায় না ?
উত্তরঃ আমিষাশী জন্তু কখনও খাবারের লোভে ভাব জমায় না।
১৯. কারা মানুষের জাতভাই ?
উত্তরঃ শিম্পাঞ্জি, ওরাং, গরিলা মানুষের জাতভাই।
∆ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) : দুটি বা তিনটি বাক্যে উত্তর দাও। প্রতিটি প্রশ্নের মান-২
১. পশুপাখির ভাষা নিয়ে মানুষের মনে কেন কৌতূহল জেগেছে ?
উত্তরঃ মানুষ বহুদিন ধরেই জানতে চেয়েছে পশুপাখিদের কি নিজস্ব ভাষা আছে। তারা কীভাবে নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করে, সেটাও জানার আগ্রহ রয়েছে। এই কৌতূহল থেকেই নানা পরীক্ষা ও গবেষণা হয়েছে।
২. পশুপাখিরা কীভাবে মানুষের কথা বুঝতে পারে ?
উত্তরঃ পশুপাখিরা অভ্যাস ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষের কিছু কথা বুঝতে শেখে। বুদ্ধিমান পশুদের নির্দিষ্ট শব্দ বা নির্দেশ বারবার শেখানো হয়। তাই তারা সেই কথার অর্থ বুঝে কাজ করে।
৩. মাহুতের ভাষা হাতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ?
উত্তরঃ মাহুতের ভাষায় কিছু বিশেষ শব্দ রয়েছে। সেই শব্দ শুনে হাতি বসা, চলা বা সাবধান হওয়ার নির্দেশ বুঝতে পারে। তাই হাতি নিয়ন্ত্রণে এই ভাষা খুবই দরকারি।
৪. কুকুরের রাগ ও কান্নার শব্দে কী পার্থক্য আছে ?
উত্তরঃ কুকুর রাগ বা ঝগড়ার সময় ‘ঘেউ’ শব্দ করে। ভয় বা কান্নার সময় সে ‘কেঁউ’ শব্দ করে। এই শব্দ শুনেই দূর থেকে তার মনের অবস্থা বোঝা যায়।
৫. পশুপাখিরা কি শুধু শব্দের মাধ্যমেই ভাব প্রকাশ করে ?
উত্তরঃ পশুপাখিরা শুধু শব্দের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করে না। তারা নানা রকম ইশারাও ব্যবহার করে। যেমন— কুকুরের লেজ নাড়া বা কান নাড়ার মধ্যে অর্থ থাকে।
৬. রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব কে ছিলেন ?
উত্তরঃ রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেব ছিলেন একজন পশুপ্রেমী ও গবেষক। তিনি বহু বছর বন্যজন্তুদের সঙ্গে বসবাস করেছেন। পশুদের আচরণ ও ভাষা নিয়ে তিনি গভীরভাবে গবেষণা করেন।
৭. ক্যাস্টাং সাহেব কীভাবে বহুবার প্রাণে বেঁচে যান ?
উত্তরঃ তিনি পশুদের ভাষা ও আচরণ ভালোভাবে বুঝতে পারতেন। পশুদের আওয়াজ ও ইশারা চিনতে পারাই তাকে সাহায্য করেছে। এই জ্ঞানই বহুবার তাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে।
৮. পোষা জন্তু ও জঙ্গলের জন্তুর আচরণে পার্থক্য কী ?
উত্তরঃ পোষা জন্তুরা সাধারণত বেশি চেঁচামেচি করে। জঙ্গলের জন্তুরা খুব নীরব থাকে। কারণ জঙ্গলে তাদের সব সময় প্রাণ বাঁচিয়ে চলতে হয়।
৯. কোন কোন পশুর সঙ্গে ক্যাস্টাং সাহেবের বন্ধুত্ব ছিল ?
উত্তরঃ ক্যাস্টাং সাহেবের বন্ধুদের মধ্যে ছিল শিম্পাঞ্জি ও গরিলা। এছাড়া সিংহ, গ্রিজলি ভাল্লুক ও শ্বেত ভাল্লুকও ছিল। তিনি দীর্ঘদিন এদের সঙ্গে মিশেছেন।
১০. চিতা কেন বাঘের চেয়ে সহজে পোষ মানে ?
উত্তরঃ ক্যাস্টাং সাহেবের মতে চিতার স্বভাব তুলনামূলক শান্ত। সে সহজে মানুষের সঙ্গে ভাব পাতায়। তাই বাঘের চেয়ে চিতাকে পোষ মানানো সহজ।
১১. ভাল্লুকের স্বভাব কেমন ?
উত্তরঃ ভাল্লুক সাধারণত নিরামিষাশী প্রাণী। সে খুব লোভী স্বভাবের। খাবার দিলে সে সহজেই মানুষের সঙ্গে ভাব পাতায়।
১২. বনমানুষদের ভাষা সম্পর্কে লেখক কী বলেছেন ?
উত্তরঃ শিম্পাঞ্জি ও ওরাংওটাংদের বিশেষ কোনো ভাষা নেই। তবে তারা ভালোবাসা ও সহানুভূতি ভালোভাবে বোঝে। তাদের মনের ভাব মুখেই বেশি প্রকাশ পায়।
১৩. পশুপাখিরা বিপদের সময় কীভাবে একে অপরকে সতর্ক করে ?
উত্তরঃ পশুপাখিরা বিপদের সময় বিশেষ ধরনের আওয়াজ করে। সেই আওয়াজ অন্য পশুপাখিরা চিনতে পারে। এতে তারা বিপদের কথা বুঝে সাবধান হয়।
১৪. পশুর ভাষা নকল করার কী সুবিধা আছে বলে ক্যাস্টাং সাহেব মনে করেন ?
উত্তরঃ পশুর ভাষার আওয়াজ নকল করতে পারলে তাদের সঙ্গে সহজে ভাব পাতা যায়। এতে পশুরা মানুষকে শত্রু মনে করে না। ফলে বিপদের সম্ভাবনাও কমে যায়।
১৫. গরিলার স্বভাব সম্পর্কে লেখক কী বলেছেন ?
উত্তরঃ গরিলা মানুষের জাতভাই বলে লেখক উল্লেখ করেছেন। তার স্বভাব অনেকটা শিম্পাঞ্জির মতো। তবে সে তুলনামূলকভাবে কম চালাক।
📌 আরো দেখোঃ
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here
📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here
