
ANNUAL EXAMINATION
CLASS 8 (VIII) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER
Class 8 Bengali 3rd Unit Test Question Paper Set-2 wbbse | অষ্টম শ্রেণি বাংলা তৃতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-২
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
Set-2
তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২২
অষ্টম শ্রেণি
বিষয় : বাংলা
পূর্ণমান : ৭০ সময় : ২.২০ মিনিট
মাঠপলসা উচ্চ বিদ্যালয় (উঃ মাঃ)
তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২২
বিষয়- বাংলা
শ্রেণি- অষ্টম
সময়- ২ ঘন্টা ২০ মিনিট পূর্ণমান- ৭০
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে পূর্ণবাক্যে উত্তর দাও (যেকোন ১০টি) : ১×১০=১০
১.১ ‘কারা ওরা ?’- বক্তা হলেন—
(ক) কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
(খ) ড্রাইভার (গ) রঞ্জন (ঘ) টেনিদা
১.২ টেনিদা চাঁদা দিয়েছিল
(ক) দশ টাকা (খ) বারো আনা
(গ) ছ-আনা (ঘ) এগারো আনা
১.৩ ‘ক্লিচ-ক্লিচ। কিচ-কিচ’ শব্দ করেছিল-
(ক) গাছ (খ) বানর (গ) হনুমান (ঘ) টেনিদা
১.৪ ‘বাবা নিশ্চয় জানতেন’ কার বাবা জানতেন ?
(ক) সুভার (খ) ক্যাবলার (গ) প্যালার (ঘ) যতীনের
১.৫ ‘ডিঙিটিরে বেঁধে রেখে গিয়েছে’-
(ক) আমগাছে (খ) জামগাছে (গ) হিজলে
(ঘ) তেঁতুল গাছে
১.৬ ‘এখনো তাহারা বোঝেনি’- এখানে ‘তাহারা’ হল-
(ক) গাছেরা (খ) বীজেরা (গ) পাতারা (ঘ) পাখিরা
১.৭ সুভা বসে থাকত—
(ক) আম গাছের তলায় (খ) তেঁতুল তলায়
(গ) কাঁঠাল গাছের তলায় (ঘ) জাম গাছের তলায়
১.৮ ‘সন্ধ্যা ফেরে যেই। সেও ফেরে’- এখানে ‘সে’ হল—
(ক) শঙ্খচিল (খ) ডাহুক পাখি
(গ) বনের পাখি (ঘ) চড়ুই পাখি
১.৯ ‘মর্মগ্রহ’ শব্দের অর্থ হল—
(ক) শনিগ্রহ (খ) মঙ্গল গ্রহ (গ) পৃথিবী (ঘ) বুঝতে পারা
১.১০ তোতাইবাবুর চায়—
(ক) নীল জামা (খ) সবুজ জামা
(গ) কালো জামা (ঘ) গেরুয়া জামা
১.১১ ‘তাদের জামা তুই গায়ে দিতে চাস কেন ?’ এখানে ‘তুই’ হল-
(ক) দাদু (খ) তোতাই (গ) তুতুল (ঘ) তোতু
১.১২ ‘এই মুহুর্তেই তোমায় নির্বাসিত করলাম’- নির্বাসিত করা হল-
(ক) চন্দ্রগুপ্তকে (খ) সেলুকাসকে
(গ) আন্টিগোনসকে (ঘ) সেকেন্দারকে
১.১৩ ‘গর্বভরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে’-
(ক) মহাশূঙ্গ কুরঙ্গম (খ) মহাভুজঙ্গম
(গ) তালীবন (ঘ) মাতঙ্গ
১.১৪ ‘আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ ‘ হল-
(ক) মন (খ) টাকা (গ) হৃদয় (ঘ) শান্তি
১.১৫ ‘তাকায় ঘাসের থেকে ঘাসে’ কে তাকায় ?
(ক) বীজ (খ) পাতা (গ) শিশির (ঘ) জল
২। নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (যে-কোন চারটি) : ৩x৪=১২
২.১ ‘একটু আগে ও সবকটা কাগজে বার পুজোর রিপোর্ট পড়েছে।’- এখানে ‘ও’ বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে ? সে সবকটা কাগজে একই বিষয়ে রিপোর্ট পড়ল কেন ?
২.২ ‘মাসিপিসি’ দের জীবনযাত্রা কেমন ছিল ?
২.৩ সুভার সঙ্গীদের পরিচয় দাও।
২.৪ ‘দাঁড়াও’ কবিতার মাধ্যমে কবি, কাদের কেন দাঁড়াতে বলেছেন ?
২.৫ ‘কী বিচিত্র এই দেশ’- কে, কেন এই কথা বলেছিল ?
২.৬ ‘সহসা আরব সেনাপতির মুখ বিবর্ণ হইয়া গেল’- আরব সেনাপতির মুখ বিবর্ণ হয়ে উঠল কেন ?
৩। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখ (যে-কোন দুটি) : ৫×২=১০
৩.১ প্যালার রাজহাঁসের ডিম আনার ঘটনাটির বর্ণনা দাও।
৩.২ রমা আকবরকে ডেকে এনেছিল কেন ? এর ফলাফল কী হয়েছিল ? ২+৩
৩.৩ ‘লোকটা জানলই না’ কবিতার মূল বিষয়বস্তু নিজের ভাষায় লেখো।
৩.৪ ‘পাঁড়াগাঁর দু পহর ভালোবাসি’ কবিতা অবলম্বনে পাঁড়াগাঁর দু-প্রহরকে কবি কেন ভালোবাসেন তা লেখো।
৪। নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও :
৪.১ সন্ধি বিচ্ছেদ করো (যে-কোন তিনটি) : ১×৩=৩
পরিষ্কার, সন্তুষ্ট, পর্যন্ত, রূপান্তরিত, দেশদেশান্তরে
৪.২ নিম্নরেখাঙ্কিত অংশের কারক-বিভক্তি নির্দেশ কর (যেকোন চারটি): ১×৪=৪
৪.২.১ ইহাদের মধ্যে একের সহিত অপরের বন্ধুত্ব হয়।
৪.২.২ আর কিছু কাল পরে ইহার চিহ্নও থাকিবে না।
৪.২.৩ মানুষের সর্বোচ্চ গুন যে স্বার্থত্যাগ, গাছে তাহাও দেখা যায়।
৪.২.৪ সারাটা সকাল ও ছটফট করে বেড়িয়েছিল।
৪.২.৫ গাড়ি পাঠানো তো দূরের কথা।
৪.২.৬ রঞ্জন ঘরের মধ্যে চরকির মতো ঘুরছে।
৪.৩ নীচে দেওয়া শব্দগুললির দল বিশ্লেষণ করো (যেকোন ৩টি) : ১×৩=৩
অকস্মাৎ, দক্ষিণ, উত্তপ্ত, দীর্ঘশ্বাস
অথবা,
নীচের শব্দগুলির ব্যাসবাকাসহ সমাসের নাম লেখো (যে-কোন তিনটি) : ১×৩=৩
শঙ্খচিল, নকশাপেড়ে, ছন্দহীন, বনজঙ্গল, বৃক্ষশিশু
৪.৪ নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করো (যে-কোন তিনটি) : ১×৩=৩
৪.৪.১ ইহাদের মধ্যেও আমাদের মতো অভাব, দুঃখ কষ্ট দেখিতে পাই। (জটিল বাকা)
৪.৪.২ তোমরা শুষ্ক গাছের ডাল সকলেই দেখিয়াছ। (না সূচক বাক্য)
৪.৪.৩ ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি রাত থাকতে ওঠে। (জটিল বাক্য)
৪.৪.৪ অনেক গুলো পেট বাড়িতে, একমুঠো রোজগার। (যৌগিক বাক্য)
৪.৪.৫ সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পর রঞ্জনের মন অনেকটা শান্ত হল। (জটিল বাক্য)
৫। যেকোন একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫×১=৫
৫.১ ‘প্লাস্টিক বর্জন আমাদেরকেই বাঁচাবে’ প্লাস্টিক বর্জন নিয়ে একটি প্রতিবেদন রাচনা করো।
৫.২ ‘নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি’ বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো।
৬। যে-কোন একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : ১০×১=১০
৬.১ দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ভূমিকা
৬.৩ পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
৬.২ ছাত্রজীবনে খেলাধূলার ভূমিকা
৭। দু-এক কথায় উত্তর দাও (যে-কোন দশটি) : ১×১০=১০
৭.১ মহাভারতের কোন চরিত্র অপুর ভালো লাগত ?
৭.২ হরিহর তার কোন শিষ্যের বাড়িতে অপুকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল ?
৭.৩ অপু কোথায় কড়ি খেলতে গিয়েছিল?
৭.৪ ভুবন মুখুজ্যের বাড়িতে কার বিয়ে ছিল ?
৭.৫ অপু তার দিদির সঙ্গে যাত্রায় কোন চরিত্রের মিল পেয়েছিল ?
৭.৬ দুর্গা কী রোগে মারা যায় ?
৭.৭ অপুর সঙ্গে যাত্রা দলের কোন ছেলেটির খুব বন্ধুত্ব হয়েছিল ?
৭.৮ চড়ক পূজার আগের রাতে কী পূজা হয় ?
৭.৯ অপু কার কাছ থেকে শকুনের ডিম সংগ্রহ করেছিল ?
৭.১০ নরোত্তম দাম অপুকে কোন বইটি দিতে চেয়েছিল ?
৭.১১ সতু অপুর চোখে কী ছুঁড়ে মেরেছিল ?
৭.১২ অপু আঙুরি-বুড়িকে কোথায় আমটি বিক্রি করতে দেখেছিল ?
৭.১৩ দুর্গা মারা যাওয়ার আগে অপুর কাছে কোন ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল ?
ANSWER KEY (উত্তরপত্র)
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে পূর্ণবাক্যে উত্তর দাও (যেকোন ১০টি) ১×১০=১০
১.১ — (ক) কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত (ছন্নছাড়া)
১.২ — (গ) ছ-আনা (বনভোজনের ব্যাপার)
১.৩ — (খ) বানর (বনভোজনের ব্যাপার)
১.৪ — (ঘ) যতীনের (পল্লী সমাজ)
১.৫ — (গ) হিজলে (পাড়াগাঁর দু-প্রহর ভালোবাসি)
১.৬ — (ক) গাছেরা (গড়াই নদীর তীরে)
১.৭ — (খ) তেঁতুল তলায় (সুভা)
১.৮ — (ঘ) চড়ুই পাখি (একটি চড়ুই পাখি)
১.৯ — (ঘ) বুঝতে পারা
১.১০ — (খ) সবুজ জামা (সবুজ জামা)
১.১১ — (খ) তোতাই (সবুজ জামা)
১.১২ — (গ) আন্টিগোনসকে (চন্দ্রগুপ্ত)
১.১৩ — (গ) তালীবন (চন্দ্রগুপ্ত)
১.১৪ — (গ) হৃদয় (লোকটা জানলোই না)
১.১৫ — (গ) শিশির (মাসি পিসি)
২। নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (যে-কোন চারটি) : ৩x৪=১২
২.১ ‘একটু আগে ও সবকটা কাগজে বার পুজোর রিপোর্ট পড়েছে।’- এখানে ‘ও’ বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে ? সে সবকটা কাগজে একই বিষয়ে রিপোর্ট পড়ল কেন ?
উত্তরঃ ‘ও’ বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে: এখানে ‘ও’ বলতে শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরাজয়’ গল্পের প্রধান চরিত্র প্রবীণ ফুটবলার রঞ্জন সরকার-এর কথা বোঝানো হয়েছে।
একই বিষয়ে রিপোর্ট পড়ার কারণ: রঞ্জন সরকার দীর্ঘ চোদ্দো বছর যে প্রধান ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন, বয়স হয়ে যাওয়ার অজুহাতে তারা এবার রঞ্জনকে তাড়িয়ে দেয়। রঞ্জন এই অপমানের জবাব দিতে অন্য প্রধান ক্লাবে যোগ দেন এবং বার পুজোর দিনে তাঁর নতুন ক্লাবের মাঠে প্র্যাকটিসে নামেন। নিজের ফুটবল কেরিয়ারের এই অগ্নিপরীক্ষার দিনে খবরের কাগজগুলো তাঁকে নিয়ে এবং দুই ক্লাবের দ্বৈরথ নিয়ে কী লিখেছে, তা জানার তীব্র কৌতূহল ও মানসিক উত্তেজনার কারণেই সে সবকটা কাগজে একই বিষয়ের রিপোর্ট পড়ছিল।
২.২ ‘মাসিপিসি’ দের জীবনযাত্রা কেমন ছিল ?
উত্তরঃ মাসিপিসিদের জীবনযাত্রা: কবি জয় গোস্বামীর ‘মাসিপিসি’ কবিতায় গ্রামীণ শ্রমজীবী নারীদের অত্যন্ত কষ্টকর ও সংগ্রামময় জীবনযাত্রার ছবি ফুটে উঠেছে। তাঁরা প্রতিদিন কাকভোরে ঘুম থেকে উঠে, কুয়াশা মাথায় নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে ট্রেন ধরে শহরে চাল বা আনাজ বিক্রি করতে আসেন। তাঁদের এই জীবনযাত্রায় নেই কোনো আরাম বা বিশ্রামের অবকাশ; বরং সামান্য উপার্জনের জন্য তাঁদের প্রতিনিয়ত সমাজের লম্পট পুরুষদের কুদৃষ্টি, কোতোয়াল বা পুলিশের জুলুম এবং চরম অভাব-অনটনের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়।
২.৩ সুভার সঙ্গীদের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ সুভার সঙ্গীদের পরিচয়: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী মেয়ে সুভার মানুষের মধ্যে কোনো বন্ধু না থাকলেও প্রকৃতি এবং পশুপাখিদের সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্ব ছিল। তার প্রধান সঙ্গী ছিল বাণীকণ্ঠের গোয়ালের দুটি গাভী— সর্বশী ও পাঙ্গুলী। তারা সুভার মুখের কথা না বুঝলেও তার স্নেহের স্পর্শ ও চোখের ভাষা পুরোপুরি বুঝত। এছাড়া ছাগল এবং বিড়ালছানাও ছিল তার সঙ্গী। মানুষের মধ্যে তার একমাত্র সখ্য ছিল গোঁসাইদের ছোট ছেলে প্রতাপ-এর সঙ্গে, যে মাছ ধরার সময় সুভাকে পাশে বসিয়ে রাখত।
২.৪ ‘দাঁড়াও’ কবিতার মাধ্যমে কবি, কাদের কেন দাঁড়াতে বলেছেন ?
উত্তরঃ কাদের কেন দাঁড়াতে বলেছেন: কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘দাঁড়াও’ কবিতায় যান্ত্রিক ও বিবেকহীন আধুনিক যুগের বিবেকবান ও অনুভূতিশীল মানুষদের অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে বলেছেন।
দাঁড়ানোর কারণ: বর্তমান সমাজে মানুষ ক্রমশ স্বার্থপর, একাকী ও যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে। ফলে সমাজের লাঞ্ছিত, শোষিত ও অসহায় মানুষগুলো চরম একাকীত্ব ও যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই বিপন্ন ও খড়কুটোর মতো ভেসে যাওয়া মানুষদের মনে বেঁচে থাকার আশা জাগাতে এবং তাদের একটু মানবিক সহানুভূতি দিতেই কবি সহমর্মী মানুষদের তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
২.৫ ‘কী বিচিত্র এই দেশ’- কে, কেন এই কথা বলেছিল ?
উত্তরঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাট্যাংশে গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার শাহ্ (সিকান্দার) তাঁর সেনাপতি সেলুকাসকে এই কথা বলেছিলেন।
কথাটি বলার কারণ: সেকেন্দার শাহ্ যখন ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন, তখন এদেশের প্রাকৃতিক রূপ এবং মানুষের বৈচিত্র্য দেখে তিনি মুগ্ধ হন। তিনি দেখেন, একদিকে যেমন এখানে তুষারমৌলি হিমালয় শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে, অন্যদিকে তেমনই নদনদী ও মরুভূমির এক অপরূপ সমাবেশ রয়েছে। একইসঙ্গে ভারতীয়দের বীরত্ব, তাদের সুরের মূর্ছনা এবং প্রাচীন দর্শন গ্রিক সম্রাটকে এতটাই বিস্মিত করেছিল যে তিনি ভারতবর্ষকে অত্যন্ত বিচিত্র এক দেশ বলে অভিহিত করেছিলেন।
২.৬ ‘সহসা আরব সেনাপতির মুখ বিবর্ণ হইয়া গেল’- আরব সেনাপতির মুখ বিবর্ণ হয়ে উঠল কেন ?
উত্তরঃ আরব সেনাপতির মুখ বিবর্ণ হওয়ার কারণ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘অদ্ভুত আতিথেয়তা’ গল্পে মূর সেনাপতি যখন আশ্রয়দাতা আরব সেনাপতির তাঁবুতে বসে কথা বলছিলেন, তখন কথাবার্তার প্রসঙ্গে আরব সেনাপতি জানতে পারেন যে এই মূর সেনাপতিই হলেন তাঁর পিতার হত্যাকারী। পিতৃ হত্যাকারীকে নিজের তাঁবুর ভেতর পরম অতিথি হিসেবে উপবিষ্ট দেখে আরব সেনাপতি একদিকে যেমন চরম প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, অন্যদিকে তেমনই অতিথি-সেবার ধর্মীয় কর্তব্যের কারণে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিশোধ নিতে না পারার মানসিক দ্বন্দ্বে তাঁর মুখ সহসা বিবর্ণ বা ফ্যাকাসে হয়ে উঠেছিল।
৩। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখ (যে-কোন দুটি) : ৫×২=১০
৩.১ প্যালার রাজহাঁসের ডিম আনার ঘটনাটির বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘টেনিদা ও ক্যাবলা-প্যালা’ সিরিজের গল্পে ক্লাবঘরের ভাড়ার জন্য প্যালার ওপর দায়িত্ব পড়েছিল তার নিজের বাড়ির রাজহাঁসের ডিম চুরি করে আনার। প্যালা লুকিয়ে তাদের বাড়ির খড়ের গাদায় হাত গলিয়ে ডিম খুঁজতে যায়। কিন্তু ডিমের বদলে তার হাতে উঠে আসে এক মস্ত বড় কালো কেউটে সাপ। সাপটি ফোঁস করে উঠলে প্যালা ভয়ে চিৎকার করে পিছন দিকে আছাড় খায়। তার চিৎকারে বাড়ির লোক ছুটে আসে এবং সাপটিকে মারা হয়। ডিম আনার এই ভয়ানক ও হাসির ঘটনার পর প্যালার ডিম আনার অভিযান ব্যর্থ হয় এবং সে ক্লাবের বন্ধুদের কাছে তীব্র ঠাট্টার পাত্র হয়ে ওঠে।
৩.২ রমা আকবরকে ডেকে এনেছিল কেন ? এর ফলাফল কী হয়েছিল ? ২+৩
উত্তরঃ
ডেকে আনার কারণ: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসে রমা আকবর থাঙাড়কে ডেকে এনেছিল দক্ষিণ মাঠের বাঁধ আগলানোর জন্য। রমা ও জেনী ছিল সেই মাঠের গোমস্তা ও জমিদার। প্রবল বর্ষণে মাঠের বাঁধ কেটে জল না বের করলে চাষীদের ফসল নষ্ট হয়ে যেত, কিন্তু বাঁধ কাটলে রমাদের বড় পুকুরের সব মাছ বেরিয়ে যেত। তাই নিজের আর্থিক ক্ষতি রুখতে রমা লাঠিয়াল আকবরকে ডেকে বাঁধ পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল যাতে কেউ বাঁধ কাটতে না পারে।
ফলাফল: রমার নির্দেশে আকবর যখন তার ছেলেদের নিয়ে বাঁধ পাহারা দিচ্ছিল, তখন রমেশ চাষীদের ফসল বাঁচাতে লাঠি হাতে সেখানে উপস্থিত হয়। চাষীদের স্বার্থে রমেশ বাঁধ কেটে দিতে চাইলে আকবরের দলের সঙ্গে তার তুমুল লাঠালাঠি হয়। রমেশের লাঠির আঘাতে আকবরের মাথা ফেটে যায় এবং সে পরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে আকবর রমেশের প্রজাদরদি রূপ দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিল যে, রমা তাকে পুলিশে মামলা করার জন্য চাপ দিলেও আকবর রমেশের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ জানাতে অস্বীকার করে।
৩.৩ ‘লোকটা জানলই না’ কবিতার মূল বিষয়বস্তু নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তরঃ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘লোকটা জানলই না’ কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু হলো মানুষের বৈষয়িক লোভ এবং জীবনের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার এক ট্র্যাজিক কাহিনী।
কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্রটি সারাজীবন ধরে কেবল টাকা-পয়সা, সোনা-দানা আর বৈষয়িক সম্পত্তি গোছানোর পেছনে ছুটেছে। সে ভেবেছিল ধন-সম্পদই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু এই অন্ধ টাকার নেশায় মত্ত থাকায় সে প্রকৃতির সৌন্দর্য, মানুষের ভালোবাসা এবং জীবনের সহজ আনন্দ উপভোগ করার কথা ভুলেই গিয়েছিল। তার অজান্তেই তার মনের ভেতর একটি ছোট্ট পাখির মতো সুন্দর সত্তা এসে বসেছিল, যা তাকে গান শোনাতে চেয়েছিল, জীবনের আসল মানে বোঝাতে চেয়েছিল। কিন্তু টাকার হিসাব মেলাতে মেলাতে লোকটা সেই ডাক শুনতেই পায়নি। অবশেষে যখন মৃত্যুর অমোঘ নিয়মে তাকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হলো, তখনও সে জানতে পারল না যে সে জীবনের কত বড় অমূল্য সম্পদ এবং পরম আনন্দকে হেলায় হারিয়ে গেছে।
৩.৪ ‘পাঁড়াগাঁর দু পহর ভালোবাসি’ কবিতা অবলম্বনে পাঁড়াগাঁর দু-প্রহরকে কবি কেন ভালোবাসেন তা লেখো।
উত্তরঃ রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ গ্রামীণ প্রকৃতির এক শান্ত, নির্জন ও বিষাদময় রূপের কারণে পাড়াগাঁর দুপুরবেলাকে গভীর হৃদয়ে ভালোবাসেন।
কবির চোখে পাড়াগাঁর দুপুর মানে কোনো কোলাহল নয়, বরং এক অদ্ভুত নীরবতা। এই সময়ে রোদের মধ্যে এক ধরনের স্বপ্নের গন্ধ লেগে থাকে। কবি ভালোবাসেন দুপুরের সেই রূপ, যেখানে চিল ডানায় রোদ মেখে আকাশে উড়ে বেড়ায়, জলসিঁড়ি নদীর পাশে বুনো চালতা গাছটি ক্লান্ত হয়ে জলের ওপর ঝুঁকে থাকে এবং মালিকহীন এক জরাজীর্ণ ডিঙি নৌকা হিজল গাছে বাঁধা থাকে। এই নিস্তব্ধ দুপুরের বুকে গ্রামীণ প্রকৃতির এক চিরন্তন বেদনা ও রূপকথার মতো উদাসীনতা লুকিয়ে থাকে, যা কবির মনকে এক মায়াবী আচ্ছন্নতায় ভরিয়ে দেয়। প্রকৃতির এই মায়াময়, শান্ত ও গভীর বিষাদ রূপের আকর্ষণের জন্যই কবি পাড়াগাঁর দুপুরকে এত বেশি ভালোবাসেন।
৪। নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও :
৪.১ সন্ধি বিচ্ছেদ করো (যেকোনো তিনটি):
পরিষ্কার = পরি + কার
সন্তুষ্ট = সম্ + তুষ্ট
পর্যন্ত = পরি + অন্ত
রূপান্তরিত = রূপ + অন্তর + ইত (অথবা রূপান্তর + ইত)
দেশদেশান্তরে = দেশ + দেশান্তর + এ (যেখানে দেশান্তর = দেশ + অন্তর)
৪.২ নিম্নরেখাঙ্কিত অংশের কারক-বিভক্তি নির্দেশ করো (যেকোনো চারটি) :
৪.২.১ বন্ধুত্ব — কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি (বা প্রথমা বিভক্তি)।
৪.২.২ ইহার — সম্বন্ধ পদে ‘র’ বিভক্তি।
৪.২.৩ গাছে — অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।
৪.২.৪ সকাল — কালাধিকরণ কারকে (বা অধিকরণ কারকে) শূন্য বিভক্তি।
৪.২.৫ গাড়ি — কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
৪.২.৬ রঞ্জন — কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
৪.৩ নীচে দেওয়া শব্দগুলির দল বিশ্লেষণ করো (যেকোনো ৩টি):
অকস্মাৎ = অ (মুক্তদল) + কস্ (রুদ্ধদল) + মাৎ (রুদ্ধদল)
দক্ষিণ = দক্ (রুদ্ধদল) + খিঁ (মুক্তদল) + ন্ (রুদ্ধদল) (উচ্চারণ অনুযায়ী: দক্-খিন্)
উত্তপ্ত = উৎ (রুদ্ধদল) + তপ্ (রুদ্ধদল) + ত (মুক্তদল) (উচ্চারণ অনুযায়ী: উৎ-তপ্-ত)
দীর্ঘশ্বাস = দীর্ (রুদ্ধদল) + ঘো (মুক্তদল) + শাশ্ (রুদ্ধদল) (উচ্চারণ অনুযায়ী: দীর্-ঘো-শাশ্)
অথবা, শব্দগুলির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো (যেকোনো তিনটি):
শঙ্খচিল = শঙ্খের ন্যায় ধবল চিল (উপমিত কর্মধারয় সমাস) অথবা শঙ্খ আকৃতির চিল (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
নকশাপেড়ে = নকশা পাড় যাহার (বহুব্রীহি সমাস)।
ছন্দহীন = ছন্দ দ্বারা হীন (তৎপুরুষ সমাস)।
বনজঙ্গল = বন ও জঙ্গল (দ্বন্দ্ব সমাস)।
বৃক্ষশিশু = বৃক্ষরূপ শিশু (রূপক কর্মধারয় সমাস) অথবা বৃক্ষের শিশু (তৎপুরুষ সমাস)।
৪.৪ নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করো (যেকোনো তিনটি) :
৪.৪.১ উত্তরঃ যারা ইহার অন্তর্ভুক্ত, তাহাদের মধ্যেও আমাদের মতো অভাব, দুঃখ কষ্ট দেখিতে পাই।
৪.৪.২ উত্তরঃ তোমরা এমন কেহই নাই যে শুষ্ক গাছের ডাল দেখিয়াছ না (বা দেখনি)।
৪.৪.৩ উত্তরঃ যারা ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি, তারা রাত থাকতে ওঠে।
৪.৪.৪ উত্তরঃ বাড়িতে অনেক গুলো পেট, কিন্তু রোজগার মাত্র একমুঠো।
৪.৪.৫ উত্তরঃ যখন সিদ্ধান্তটা নেওয়া হল, তখন রঞ্জনের মন অনেকটা শান্ত হল।
৫। যেকোন একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৫×১=৫
৫.১ ‘প্লাস্টিক বর্জন আমাদেরকেই বাঁচাবে’
প্লাস্টিক বর্জন আমাদেরকেই বাঁচাবে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ১৩ই আগস্ট: বর্তমান যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিক একটি বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সস্তা এবং সহজে পাওয়া যায় বলে আমরা প্রতিনিয়ত প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ, কাপ ও বোতল ব্যবহার করছি। কিন্তু এই প্লাস্টিক মাটিতে বছরের পর বছর অবিকৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং নর্দমা বুজে গিয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে কৃত্রিম বন্যা দেখা দিচ্ছে।
প্লাস্টিক পোড়া ধোঁয়া বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে, যা আমাদের শ্বাসকষ্টের মতো রোগের জন্ম দেয়। এই মরণফাঁদ থেকে বাঁচতে প্রশাসন আইন করলেও, আমাদের নিজেদের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। বাজার করার সময় কাপড়ের বা চটের ব্যাগ ব্যবহার করা এবং প্লাস্টিককে পুরোপুরি ‘না’ বলাই একমাত্র পথ। কারণ প্লাস্টিক বর্জন আসলে কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের নিজেদের বেঁচে থাকার লড়াই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সবুজ পৃথিবী উপহার দিতে আমাদের আজই প্লাস্টিকমুক্ত সমাজ গড়ার শপথ নিতে হবে।
৫.২ ‘নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি’
আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি: বিপাকে সাধারণ মানুষ
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসাত, ১৩ই আগস্ট: বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন আজ ওষ্ঠাগত। চাল, ডাল, তেল, নুন থেকে শুরু করে আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম যেভাবে প্রতিদিন বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু থলি ভরছে না।
সাধারণ চাকুরিজীবী বা দিনমজুর মানুষের আয় বাড়েনি, কিন্তু সংসারের খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। রান্নার গ্যাস এবং পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহণ খরচ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যদিনের খাবারের ওপর। অনেকে বাধ্য হয়েই পুষ্টিকর খাবার কেনা কমিয়ে দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, অসাধু ব্যবসায়ীদের কালোবাজারি বন্ধ করতে এবং বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের টাস্ক ফোর্সের নিয়মিত নজরদারি চালানো উচিত। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
৬। যে-কোন একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : ১০×১=১০
৬.১ দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ভূমিকা
৬.৩ পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার
ভূমিকা: আমরা যেখানে বাস করি, তার চারপাশের গাছপালা, মাটি, জল, বায়ু এবং জীবজগৎ নিয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের পরিবেশ। সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য একটি বিশুদ্ধ পরিবেশের প্রয়োজন অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান আধুনিক যুগে মানুষের নানাবিধ অবিবেচকের মতো কার্যকলাপের ফলে আমাদের চারপাশের পরিবেশ আজ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এই পরিবেশ দূষণ সমগ্র মানবজাতি ও জীবজগতের অস্তিত্বকে এক বিরাট সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
দূষণের প্রকারভেদ: আমাদের চারপাশে প্রধানত চার ধরনের পরিবেশ দূষণ লক্ষ্য করা যায়—
বায়ু দূষণ: কলকারখানা ও যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া, প্লাস্টিক পোড়ানো এবং গাছ কাটার ফলে বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে বায়ু দূষিত হচ্ছে।
জল দূষণ: কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, শহরের নোংরা জল এবং চাষের জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক নদী বা পুকুরের জলে মিশে জলকে বিষাক্ত করে তুলছে।
মাটি দূষণ: প্লাস্টিক, পলিথিন, রাসায়নিক সার এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার ফলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং মাটি দূষিত হচ্ছে।
শব্দ দূষণ: যানবাহনের তীব্র হর্ন, লাউডস্পিকারের আওয়াজ এবং কলকারখানার বিকট শব্দ মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।
দূষণের কারণ ও কুফল: জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবাধে গাছ কাটা এবং বিজ্ঞানের প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারই পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ। এই দূষণের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে, যাকে বলা হয় ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বা বিশ্ব উষ্ণায়ন। এর কারণে অসময়ে খরা, বন্যা এবং নানারকম প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। দূষিত বাতাস ও জলের কারণে মানুষ ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট ও পেটের রোগের মতো মারাত্মক মারণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
প্রতিকারের উপায়: পরিবেশ দূষণ রোধ করতে না পারলে মানবসভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এই দূষণ প্রতিকারের জন্য আমাদের কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে—
বৃক্ষরোপণ: ‘একটি গাছ, একটি প্রাণ’— এই মন্ত্রকে সামনে রেখে আমাদের প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে এবং অকারণে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।
প্লাস্টিক বর্জন: প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে চটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।
বর্জ্য পদার্থ নিয়ন্ত্রণ: কলকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক ও নোংরা জল নদীতে ফেলার আগে তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে শোধন করতে হবে।
বিকল্প শক্তির ব্যবহার: কয়লা বা পেট্রোলের ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি বা ই-ভেহিকেলের (বৈদ্যুতিক যানবাহন) ব্যবহার বাড়াতে হবে।
আইন ও সচেতনতা: পরিবেশ রক্ষার্থে সরকারের তৈরি আইন কড়াভাবে পালন করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় প্রতিকার হলো মানুষের নিজের সচেতনতা।
উপসংহার: পরিবেশ আমাদের মায়ের মতো রক্ষা করে। তাই পরিবেশকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদেরই। কেবল বছরের একটা দিন (৫ই জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস) পালন করলেই পরিবেশ বাঁচবে না, বছরের প্রতিটি দিন আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আমরা যদি আজ সচেতন না হই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মৃত ও বিষাক্ত পৃথিবী ছাড়া আর কিছুই রেখে যেতে পারব না। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি— “সুস্থ পরিবেশ, সুন্দর জীবন।”
৬.২ ছাত্রজীবনে খেলাধূলার ভূমিকা
৭। দু-এক কথায় উত্তর দাও (যে-কোন দশটি) : ১×১০=১০
৭.১ উত্তরঃ মহাভারতের কর্ণ চরিত্রটি অপুর সবচেয়ে ভালো লাগত।
৭.২ উত্তরঃ হরিহর তার দীক্ষাগুরু ও প্রাচীন শিষ্য নীলমণি হাজরা-র বাড়িতে অপুকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল।
৭.৩ উত্তরঃ অপু গ্রামে তার বন্ধু সতুদের বাড়ির রোয়াকে (দাওয়ায়) কড়ি খেলতে গিয়েছিল।
৭.৪ উত্তরঃ ভুবন মুখুজ্যের বাড়িতে তাঁর মেয়ের বিয়ে ছিল।
৭.৫ উত্তরঃ অপু তার দিদির সঙ্গে যাত্রার সতীর চরিত্রের মিল পেয়েছিল।
৭.৬ উত্তরঃ দুর্গা ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
৭.৭ উত্তরঃ অপুর সঙ্গে যাত্রা দলের রাধেশ্যাম নামের ছেলেটির খুব বন্ধুত্ব হয়েছিল।
৭.৮ উত্তরঃ চড়ক পূজার আগের রাতে নীল পূজা (বা নীলব্রত) হয়।
৭.৯ উত্তরঃ অপু তাদের গ্রামের ছেলে তিনকড়ি-র কাছ থেকে শকুনের ডিম সংগ্রহ করেছিল।
৭.১০ উত্তরঃ বৈষ্ণব চরণদাস বাবাজির চেলা নরোত্তম দাস অপুকে ‘প্রেমভক্তিচন্দ্রিকা’ বইটি দিতে চেয়েছিল।
৭.১১ উত্তরঃ সতু অপুর চোখে খেলার সময় রাগ করে কড়ি ছুঁড়ে মেরেছিল।
৭.১২ উত্তরঃ অপু আঙুরি-বুড়িকে সতুদের বাড়ির নাটমন্দিরের কোণে আমটি বিক্রি করতে দেখেছিল।
৭.১৩ উত্তরঃ দুর্গা মারা যাওয়ার আগে অপুর কাছে ভালো হয়ে উঠে আর একবার রেলগাড়ি দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল।
📌আরও পড়ুনঃ
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
Thank you