
ANNUAL EXAMINATION
CLASS 8 (VIII) WBBSE
BENGALI QUESTION PAPER
Class 8 Bengali 3rd Unit Test Question Paper Set-1 wbbse | অষ্টম শ্রেণি বাংলা তৃতীয় ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-১
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
Set-1
তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২২
অষ্টম শ্রেণি
বিষয় : বাংলা
পূর্ণমান : ৭০ সময় : ২.২০ মিনিট
Jiaganj S.N. Girls’ High School (H.S.)
3rd Summative Evaluation- 2022
Class-VIII ★ BENGALI
F.M.-70 Time : 2.30 Hrs.
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১×১১=১১
১.১’বাঁধন ভয়কে করবো মোরা জয়’- কারা এই ভয়কে জয় করবে ?
(ক) স্বাধীনতাকামী মানুষেরা (খ) ইংরেজরা
(গ) ছোট ছেলেমেয়ের দল (ঘ) বৃদ্ধ মানুষেরা।
১.২ ‘শিকল-পরার গান’ কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ?
(ক) অগ্নিবীনা (খ) বিষের বাঁশী
(গ) ফণিমনসা (ঘ) প্রলয় শিখা।
১.৩ ছোট্ট একটা ___________ করে বাইরেটা পালটে দাও।’
(ক) টিক্ করে (খ) তাক্ করে
(গ) তুক করে (ঘ) টুক করে
১.৪ জেলখানার চিঠি সুভাষচন্দ্র বসু কোথা থেকে লেখেন ?
(ক) সিমলা থেকে (খ) লাহোর থেকে
(গ) আন্দামান থেকে (ঘ) মান্দালয় জেল থেকে
১.৫ ডাস্টবিনের দুই পাশে দুটি প্রাণী’—প্রাণী দুটি হল—
(ক) দুজন মানুষ (খ) দুটি কুকুর
(গ) দুটি সৈন্য (ঘ) দুটি বিড়াল।
১.৬ হরিচরন শান্তিনিকেতনে কাজে যোগ দিয়েছিলেন—
(ক) ১৩০৯ সালে (খ) ১৩০১ সালে
(গ) ১৩১৩ সালে (ঘ) ১৩৩০ সালে।
১.৭ ‘সমাস’ শব্দটির অর্থ হল—
(ক) সমাপ্ত (খ) সম্বন্ধ (গ) সংক্ষেপ (ঘ) সুন্দর।
১.৮ মন রূপ মাঝি > মনমাঝি, এটি হল–
(ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় (খ) উপমিত কর্মধারয়
(গ) রূপক কর্মধারয় (ঘ) সাধারণ কর্মধারয়।
১.৯ ‘ভালমন্দ’ যে সমাসের উদাহরণ—
(ক) দন্দ্ব সমাসের (খ) বহুব্রীহি সমাসের
(গ) দ্বিগু সমাসের (ঘ) কর্মধারায়
১.১০ ‘আপনাদিগের’-এর চলিত ভাষায় রূপটি হল-
(ক) আপনার (খ) আপনি (গ) আমাদের
(ঘ) আপনাদের।
১.১১ সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ হয়-
(ক) দীর্ঘ (খ) হ্রস্ব (গ) সমাপিকা (ঘ) অসমাপিকা।
২। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর একটি বাক্যে লেখো : ১×১৩=১৩
২.১ ‘শিকল-পরার ছল’ বলতে কবি প্রকৃতপক্ষে কী বোঝাতে চেয়েছেন ?
২.২ ‘মাসিপিসি’ কবিতার কবি কে ?
২.৩ ‘হাত দিলেই সে পেত/আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ’- ‘আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ’ আসলে কী ?
২.৪ ‘সুভা’ গল্পে সুভার বড়দিদির নাম কী ?
২.৫ ক্লাবের জার্সিকে রঞ্জন কার মতো ভালোবাসে ?
২.৬ নাগরাজনের কাকা কোথা থেকে টিকিটের অ্যালবামটা পাঠিয়েছিলেন ?
২.৭ সাধু থেকে চলিত ভাষায় রূপান্তর করো : একদা আরব জাতির সহিত মুরদিগের সংগ্রাম হইয়াছিল।
২.৮ ‘ ছোটদের পথের পাঁচালী’ কোন্ রীতিতে লেখা উপন্যাস ?
২.৯ ব্যাসবাক্য সহ সমাসের নাম লেখোঃ পাপপুণ্য।
২.১০ একটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ দাও।
২.১১ ‘বীণাপাণি’ ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো।
২.১২ দুর্গা কী রোগে মারা গিয়েছিল ?
২.১৩ অপু ইন্দুলেখার সঙ্গে কার মিল খুঁজে পেয়েছিল ?
৩। সংক্ষেপে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (২টি) ২×২=৪
৩.১ ‘ঘুরে দাঁড়াও’ কবিতায় কবি কেন বলেছেন- ‘এবার ঘুরে দাঁড়াও’ ?
৩.২ মাসিপিসিদের কাজে বাধা কী কী ?
৩.৩ ‘খসে পড়ল তার জীবন’— কীভাবে জীবন খসে পড়ল ?
৪। নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষেপে উত্তর দাও (২টি) : ২×২=৪
8.১ জেলে থাকার ইতিবাচক দিক হিসেবে সুভাষচন্দ্র বসুর বক্তব্য কী ?
৪.২ “আমি পারুম না ভাই থাকতে।”— একথা কে কাকে বলেছিল ?
৪.৩ “দ্বিতীয়ার্ধে খেলার চেহারা পুরেপুরি বদলে গেল।”— কীভাবে খেলার চেহারা বদলে গেল ?
৫। নীচের প্রশ্নগুলির যথাযথ উত্তর দাও : ৫×২=১০
৫.১ ‘বাঁধন-ভয়কে করবো মোরা জয়’- কেন এই বাঁধন ? কারা কীভাবে এই বাঁধন ভয়কে জয় করবে ? ২+৩
৫.২ ‘সরতে সরতে সরতে / তুমি আর কোথায় সরবে ?’—’তুমি’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? ‘সরতে’ শব্দের বারংবার ব্যবহার কোন্ পরিস্থিতিকে বোঝাচ্ছে ? এই পরিস্থিতি থেকে বার হবার জন্য এবার কী করা দরকার ?
৫.৩ ‘ ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি ট্রেন ধরতে আসে’— ‘ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি’ আসলে কে ? তারা কখন ট্রেন ধরতে আসে ? তাদের জীবনে কী কী সমস্যা রয়েছে ? ১+১+৩
৬। নীচের প্রশ্নগুলির যথাযথ উত্তর দাও : ৫x২ = ১০
৬.১ “আমার পক্ষে এর উত্তর দেওয়া সুকঠিন।’ –কে কাকে একথা বলেছেন? কীসের উত্তর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ? ২+৩
৬.২ “পুঁটলিটা দেখিয়ে বলল, ওইটার মধ্যে কী আছে ?” – উক্তিটি কার ? সে কাকে একথা বলেছে ? পুঁটলির মধ্যে কী ছিল? এসব রাখার কারণ কী ? ১+১+১.৫+১.৫
৬.৩ “দুই প্রধানের লড়াইকে কেন্দ্র করে অনেক বছর পরে কলকাতা আবার মেতে “উঠেছে।”— গল্প অনুসরণে সেই লড়াইয়ের উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল ম্যাচের বর্ণনা দাও। ৫
৭। নীচের প্রশ্নটির উত্তর দাও : ৩×১=৩
৭.১ মৃত্যুর পূর্বে দুর্গা অপুর কাছে কী দেখানোর অনুরোধ করেছিল ? অপু তাকে উত্তরে কী বলেছিল ? ১.৫+১.৫
অথবা, হরিহর স্ত্রী-পুত্র-কন্যার জন্য কী কী উপহার কিনে এনেছিল ? ৩
৮। নীচের প্রশ্নটির উত্তর দাও : ৫
৮.১ “বইখানাতে যাঁহাদের গল্প আছে সে ওইরকম হইতে চায়।” – বইটির নাম কী ? কার লেখা ? ‘সে’ কে ? বইটিতে কাদের গল্প আছে ? ১+১+১+২
অথবা, মা যে আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গিয়েছে।” ‘মা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? সে কীভাবে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে ? ১+৪
৯। যে কোন একটি প্রবন্ধ রচনা করো : ১০
(ক) খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা ।
(খ) বিজ্ঞান মনস্কতা ও কুসংস্কার।
(গ) তোমার প্রিয় লেখক।
ANSWER KEY (উত্তরপত্র)
১.১ (ক) স্বাধীনতাকামী মানুষেরা
১.২ (খ) বিষের বাঁশী
১.৩ (গ) তুক করে
১.৪ (ঘ) মান্দালয় জেল থেকে
১.৫ (ক) দুজন মানুষ
১.৬ (ক) ১৩০৯ সালে
১.৭ (গ) সংক্ষেপ
১.৮ (গ) রূপক কর্মধারয়
১.৯ (ক) দ্বন্দ্ব সমাসের
১.১০ (ঘ) আপনাদের
১.১১ (ক) দীর্ঘ
২.১ ‘শিকল-পরার ছল’ বলতে কবি প্রকৃতপক্ষে কী বোঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তরঃ ‘শিকল-পরার ছল’ বলতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম আসলে রাজবন্দি ভারতীয় বিপ্লবীদের ব্রিটিশদের দাসত্বের শৃঙ্খল ও কারাগারকে ভেঙে ফেলার সুকৌশলী প্রতিরোধকে বুঝিয়েছেন।
২.২ ‘মাসিপিসি’ কবিতার কবি কে ?
উত্তরঃ ‘মাসিপিসি’ কবিতার কবি হলেন জয় গোস্বামী।
২.৩ ‘হাত দিলেই সে পেত / আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ’- ‘আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ’ আসলে কী ?
উত্তরঃ ‘আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ’ আসলে সুতোর কাজ করার একজোড়া কাঁচি, যা দিয়ে দর্জির পেশায় উপার্জনের অফুরন্ত সুযোগ তৈরি হতো।
২.৪ ‘সুভা’ গল্পে সুভার বড়দিদির নাম কী ?
উত্তরঃ ‘সুভা’ গল্পে সুভার বড়দিদির নাম সুকেশিনী।
২.৫ ক্লাবের জার্সিকে রঞ্জন কার মতো ভালোবাসে ?
উত্তরঃ ক্লাবের জার্সিকে রঞ্জন নিজের গায়ের চামড়ার মতো ভালোবাসে।
২.৬ নাগরাজনের কাকা কোথা থেকে টিকিটের অ্যালবামটা পাঠিয়েছিলেন ?
উত্তরঃ নাগরাজনের কাকা সিঙ্গাপুর থেকে টিকিটের অ্যালবামটা পাঠিয়েছিলেন।
২.৭ সাধু থেকে চলিত ভাষায় রূপান্তর করো : একদা আরব জাতির সহিত মুরদিগের সংগ্রাম হইয়াছিল।
উত্তরঃ একদা আরব জাতির সঙ্গে মূরদের লড়াই (বা সংগ্রাম) হয়েছিল।
২.৮ ‘ ছোটদের পথের পাঁচালী’ কোন্ রীতিতে লেখা উপন্যাস ?
উত্তরঃ ‘ছোটদের পথের পাঁচালী’ সাধু ভাষার রীতিতে লেখা উপন্যাস।
২.৯ ব্যাসবাক্য সহ সমাসের নাম লেখোঃ পাপপুণ্য।
উত্তরঃ পাপ ও পুণ্য = পাপপুণ্য (দ্বন্দ্ব সমাস)।
২.১০ একটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ তিন ভুবনের সমাহার = ত্রিভুবন (দ্বিগু সমাস)।
২.১১ ‘বীণাপাণি’ ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো।
উত্তরঃ বীণা পাণিতে (হাতে) যাঁর = বীণাপাণি (বহুব্রীহি সমাস)।
২.১২ দুর্গা কী রোগে মারা গিয়েছিল ?
উত্তরঃ দুর্গা ম্যালেরিয়া জ্বরে (জ্বরে আক্রান্ত হয়ে) মারা গিয়েছিল।
২.১৩ অপু ইন্দুলেখার সঙ্গে কার মিল খুঁজে পেয়েছিল ?
উত্তরঃ অপু ইন্দুলেখার সঙ্গে তার দিদি দুর্গার মিল খুঁজে পেয়েছিল।
৩.১ ‘ঘুরে দাঁড়াও’ কবিতায় কবি কেন বলেছেন- ‘এবার ঘুরে দাঁড়াও’ ?
উত্তরঃ কবি প্রনবেন্দু দাশগুপ্ত সমাজ ও মানুষের অবক্ষয়, ক্লান্তি এবং মুখ থুবড়ে পড়া স্থবিরতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়াতে বলেছেন। অনেক হয়েছে, এবার নিজের ভেতরের চেতনা ও শক্তিকে জাগিয়ে তুলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর এখনই সঠিক সময়— এই বার্তা দিতেই কবি কথাটি বলেছেন।
৩.২ মাসিপিসিদের কাজে বাধা কী কী ?
উত্তরঃ কবি জয় গোস্বামীর ‘মাসিপিসি’ কবিতায় কঠোর পরিশ্রমী শ্রমজীবী নারীদের কাজে প্রধান বাধা হলো সমাজের লোভী, লম্পট ও অত্যাচারী পুরুষদের কুদৃষ্টি। এছাড়া দারিদ্র্য, চরম অভাব-অনটন এবং শত কষ্টের মধ্যেও জোর করে টিকে থাকার লড়াই তাদের প্রতিদিনের কাজের আরেকটি বড় বাধা।
৩.৩ ‘খসে পড়ল তার জীবন’— কীভাবে জীবন খসে পড়ল ?
উত্তরঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ‘লোকটা জানলই না’ কবিতায় টাকা জমানোর অন্ধ মোহে জীবনের মূল্যবান সময় ও হৃদয়ের অনুভুতিকে অবহেলা করার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। ধনসম্পদ অর্জনের নেশায় মত্ত থাকা লোকটি তার জীবনের অন্তিম মুহূর্তে নিজের অবহেলায় নিঃশব্দে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
৪.১ জেলে থাকার ইতিবাচক দিক হিসেবে সুভাষচন্দ্র বসুর বক্তব্য কী ?
উত্তরঃ সুভাষচন্দ্র বসুর মতে, বন্দিজীবন মানুষকে আত্মানুসন্ধান ও আধ্যাত্মিক সাধনার সুযোগ করে দেয়। বাইরের জগতের কোলাহল থেকে দূরে থেকে মানুষ নিজের ভেতরের শক্তিকে অনুধাবন করতে পারে এবং জেলে দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে মানুষের সহনশীলতা, মানসিক দৃঢ়তা ও নৈতিক চরিত্র আরও বলীয়ান হয়ে ওঠে।
৪.২ “আমি পারুম না ভাই থাকতে।”— একথা কে কাকে বলেছিল ?
উত্তরঃ সমরেশ বসুর ‘আদাব’ গল্পে দাঙ্গার ভয়াবহ পরিবেশের মধ্যে ডাস্টবিনের পাশে লুকিয়ে থাকা সুতা-কলের মাঝি এই কথাটি তার সহযাত্রী বস্ত্রশিল্পের সুতা-কলের হিন্দু মজুরটিকে বলেছিল। কারফিউ-এর রাতে নিজের পরিবার ও সন্তানদের চিন্তায় আকুল হয়ে সে আর সেখানে লুকিয়ে থাকতে পারছিল না।
৪.৩ “দ্বিতীয়ার্ধে খেলার চেহারা পুরেপুরি বদলে গেল।”— কীভাবে খেলার চেহারা বদলে গেল ?
উত্তরঃ মতি নন্দীর ‘স্ট্রাইকার’ গল্পে প্রথমার্ধে রঞ্জনের দল পিছিয়ে ছিল এবং প্রতিপক্ষ চড়াও হয়ে খেলছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে কোচ এবং সতীর্থদের অনুপ্রেরণায় রঞ্জন একাই দুর্দান্ত ফুটবল খেলে পরপর গোল করে খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। রঞ্জনের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনেই খেলার চেহারা পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল।
৫.১ ‘বাঁধন-ভয়কে করবো মোরা জয়’- কেন এই বাঁধন ? কারা কীভাবে এই বাঁধন ভয়কে জয় করবে ? ২+৩
উত্তরঃ
বাঁধনের কারণ: কাজী নজরুল ইসলামের ‘শিকল-পরার গান’ কবিতায় ‘বাঁধন’ বলতে ব্রিটিশ শাসকের অন্যায় অত্যাচার, শৃঙ্খল এবং জেলের বন্দিদশাকে বোঝানো হয়েছে। পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী বিপ্লবীদের কণ্ঠরোধ করতে এবং তাঁদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্যই এই রাজদণ্ড ও কারাবাসের বাঁধন তৈরি করা হয়েছিল।
ভয়কে জয় করার উপায়: এই বাঁধন-ভয়কে জয় করবে দেশের নির্ভীক, তরুণ ও স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীরা। তাঁরা কোনো অত্যাচার বা মৃত্যুর ভয় না পেয়ে হাসিমুখে জেলের শিকল পরেছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, এই শিকল আসলে তাঁদের পায়ে দাসত্বের প্রতীক নয়, বরং ব্রিটিশ রাজের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার এক সুকৌশলী অস্ত্র। নিজেদের আত্মবলিদান, অদম্য দেশপ্রেম এবং সম্মিলিত শক্তির মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমেই তরুণ দল এই ভয়ের বাঁধনকে চিরতরে জয় করবে।
৫.২ ‘সরতে সরতে সরতে / তুমি আর কোথায় সরবে ?’—’তুমি’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? ‘সরতে’ শব্দের বারংবার ব্যবহার কোন্ পরিস্থিতিকে বোঝাচ্ছে ? এই পরিস্থিতি থেকে বার হবার জন্য এবার কী করা দরকার ?
উত্তরঃ
‘তুমি’র পরিচয়: প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের ‘ঘুরে দাঁড়াও’ কবিতায় ‘তুমি’ বলতে অবক্ষয়গ্রস্ত আধুনিক সমাজের সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যারা অন্যায়ের মুখে প্রতিবাদ না করে ক্রমাগত নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে।
পরিস্থিতি: ‘সরতে’ শব্দের বারংবার ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের চরম নিষ্ক্রিয়তা, ভীরুতা এবং সমঝোতা করার এক ক্লান্তিকর পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে। সমাজ ও মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখেও মানুষ আজ কোনো প্রতিবাদ করছে না, বরং নিজের গা বাঁচাতে ক্রমাগত পিছু হটছে। সরতে সরতে আজ মানুষ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো এক চূড়ান্ত অসহায় অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার উপায়: এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে বের হতে গেলে মানুষকে তার দীর্ঘদিনের জড়তা ও জড়ত্ব ঝেড়ে ফেলে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হবে। পিছু হটার মানসিকতা ত্যাগ করে এবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নিজের অস্তিত্ব রক্ষার খাতিরে সমবেতভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
৫.৩ ‘ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি ট্রেন ধরতে আসে’— ‘ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি’ আসলে কে ? তারা কখন ট্রেন ধরতে আসে ? তাদের জীবনে কী কী সমস্যা রয়েছে ? ১+১+৩
উত্তরঃ
‘ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি’র পরিচয়: জয় গোস্বামীর ‘মাসিপিসি’ কবিতায় ‘ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি’ বলতে গ্রামীণ বাংলার সেইসব কঠোর পরিশ্রমী শ্রমজীবী নারীদের বোঝানো হয়েছে, যারা জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন শহরে চাল বা আনাজ বিক্রি করতে আসে।
ট্রেন ধরার সময়: এই মাসিপিসিরা ভোরবেলা, যখন চারদিক কুয়াশায় ঢাকা থাকে এবং ঘুমন্ত শান্ত প্রকৃতি জেগে ওঠেনি, ঠিক সেই কাকভোরে প্রথম ট্রেন ধরতে আসে।
জীবনে সমস্যা: এই শ্রমজীবী নারীদের জীবন চরম দারিদ্র্য এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে জর্জরিত। তাঁদের জীবনের প্রধান সমস্যাগুলি হলো—
চরম অভাব ও কঠোর পরিশ্রম: এক ফোঁটা ঘুমানোর অবসর বা শান্তিতে একটু খাওয়ার সময় তাঁদের ভাগ্যে জোটে না।
সামাজিক লাঞ্ছনা: বাজারে চাল বিক্রি করতে গিয়ে তাঁদের লম্পট ও অত্যাচারী পুরুষদের কুদৃষ্টি এবং অপমান সহ্য করতে হয়।
আইনি ও প্রশাসনিক হেনস্থা: ট্রেনে যাতায়াত বা ব্যবসা করার সময় পুলিশ ও কোতোয়ালদের জুলুম এবং ঘুষের দাবির মুখে তাঁদের পড়তে হয়।
৬.১ “আমার পক্ষে এর উত্তর দেওয়া সুকঠিন।’ –কে কাকে একথা বলেছেন? কীসের উত্তর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে? ২+৩
উত্তরঃ
বক্তা ও শ্রোতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর প্রিয় বন্ধু দিলীপকুমার রায়কে লেখা পত্রে (জেলখানার চিঠি) এই কথাটি বলেছেন।
উত্তরের প্রসঙ্গ: দিলীপকুমার রায় চিঠিতে সুভাষচন্দ্রকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, জেলে থাকার বন্দিদশা তাঁর মনের ওপর কোনো গভীর ও স্থায়ী ছাপ ফেলেছে কি না এবং এই কষ্টের পর জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে কি না।
সুভাষচন্দ্র জানান, দীর্ঘকাল নির্জন কারাবাসে থাকার মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাব এতই সূক্ষ্ম এবং জটিল যে তা সহজে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বন্দিজীবনের যন্ত্রণা ও কষ্ট মানুষকে ভেতর থেকে কীভাবে বদলে দেয়, সেই মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরের উত্তর দেওয়াটাই বক্তার পক্ষে সুকঠিন বলে মনে হয়েছিল।
৬.২ “পুঁটলিটা দেখিয়ে বলল, ওইটার মধ্যে কী আছে ?” – উক্তিটি কার ? সে কাকে একথা বলেছে ? পুঁটলির মধ্যে কী ছিল? এসব রাখার কারণ কী ? ১+১+১.৫+১.৫
উত্তরঃ
উক্তিটির বক্তা: সমরেশ বসুর ‘আদাব’ গল্পে এই উক্তিটির বক্তা হলো সুতা-কলের হিন্দু মজুরটি।
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: হিন্দু মজুরটি ডাস্টবিনের পাশে লুকিয়ে থাকা তার সহযাত্রী মুসলিম মাঝিটিকে এই কথা বলেছিল।
পুঁটলির ভেতরের জিনিস: মাঝির কাছে থাকা ওই ময়লা পুঁটলিটির মধ্যে ছিল তার ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য কেনা সস্তার কিছু নতুন জামাকাপড়, ফ্রক এবং এক পোয়া কিশমিশ।
রাখার কারণ: সামনেই ইদের উৎসব ছিল। দাঙ্গার আশঙ্কায় শহর ছেড়ে গ্রামে নিজের বাড়ি ও পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য মাঝি এই উপহারগুলো কিনেছিল। শত দারিদ্র্য আর বিপদের মধ্যেও নিজের সন্তানদের মুখে ইদের দিনে একটু হাসি ফোটানোর জন্যই সে এই জিনিসগুলো নিজের বুক দিয়ে আগলে রেখেছিল।
৬.৩ “দুই প্রধানের লড়াইকে কেন্দ্র করে অনেক বছর পরে কলকাতা আবার মেতে উঠেছে।”— গল্প অনুসরণে সেই লড়াইয়ের উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল ম্যাচের বর্ণনা দাও। ৫
উত্তরঃ শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরাজয়’ গল্পে কলকাতার দুই প্রধান ফুটবল ক্লাব— ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ পনেরো বছর পর দুই প্রধানের এই খেতাব নির্ধারণী ম্যাচটি সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই ম্যাচটিকে ঘিরে বাংলার ফুটবল প্রেমীদের আবেগ ও উত্তেজনা ছিল চরমে।
এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিল প্রবীণ ফুটবলার রঞ্জন সরকার। তিনি দীর্ঘ চোদ্দো বছর যে প্রধান ক্লাবের হয়ে খেলেছেন এবং যাঁদের বহু ট্রফি জিতিয়েছেন, বয়স হয়ে যাওয়ার অজুহাতে সেই ক্লাবই এবার তাঁকে তাড়িয়ে দেয়। রঞ্জন এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে অন্য প্রধান ক্লাবে যোগ দেন। ফলে ম্যাচটি কেবল দুই দলের লড়াই ছিল না, এটি ছিল রঞ্জনের অস্তিত্ব রক্ষা ও অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার এক মরণপণ লড়াই।
খেলার প্রথমার্ধে রঞ্জনের পুরোনো ক্লাব অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। রঞ্জনের নতুন ক্লাবের ডিফেন্সের ভুলে প্রথমার্ধের পঁয়ত্রিশ মিনিটের মাথায় পুরোনো ক্লাবটি এক গোল দিয়ে এগিয়ে যায়। বিরতির সময় গ্যালারিতে পুরোনো ক্লাবের সমর্থকেরা রঞ্জনকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও কটূক্তি করতে থাকে।
কিন্তু খেলার দ্বিতীয়ার্ধে রঞ্জন সরকার তাঁর সমস্ত অভিজ্ঞতা ও শক্তি উজাড় করে মাঠে নামেন। ম্যাচের বাহাত্তর মিনিটের মাথায় তিনি একক দক্ষতায় প্রতিপক্ষের তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এক অসাধারণ গোল করে খেলায় ১-১ সমতা ফিরিয়ে আনেন। খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে রেফারি রঞ্জনের দলের একটি নিশ্চিত পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দিলে মাঠ জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। জয় না এলেও এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নিজের জাত চিনিয়ে রঞ্জন ফুটবল মাঠ থেকে এক বুক গর্ব নিয়ে মাঠ ছাড়েন।
৭.১ মৃত্যুর পূর্বে দুর্গা অপুর কাছে কী দেখানোর অনুরোধ করেছিল? অপু তাকে উত্তরে কী বলেছিল ? ১.৫+১.৫
উত্তরঃ
দুর্গার অনুরোধ: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ছোটদের পথের পাঁচালী’ উপন্যাসে মৃত্যুর ঠিক আগের রাতে প্রবল জ্বরের ঘোরে দুর্গা অপুর হাত ধরে অনুরোধ করেছিল যে, সে ভালো হয়ে উঠলে অপু তাকে আর একবার রেলগাড়ি দেখাতে নিয়ে যাবে কি না। কারণ দুর্গা কোনোদিন নিজের চোখে রেলগাড়ি দেখেনি।
অপুর উত্তর: দিদির এই কাতর আকুতি শুনে অপু তাকে আশ্বস্ত করে বলেছিল— “হ্যাঁ যাবো—তুমি ভালো হও, রাঙা পিসিমাদের বাড়ি থেকে তোমার ওষুধ এনে দেবো, তুমি কালই ভালো হয়ে যাবে।”
অথবা, হরিহর স্ত্রী-পুত্র-কন্যার জন্য কী কী উপহার কিনে এনেছিল ? ৩
উত্তরঃ অনেকদিন পর উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাইরে থাকার পর বাড়ি ফেরার সময় হরিহর তার পরিবারের সবার জন্য কিছু না কিছু উপহার কিনে এনেছিল:
পুত্র অপুর জন্য: সে অপুর খেলার জন্য এক কাঠের ঘোড়া এবং দু-পয়সা দামের একটি টিনের বাঁশি কিনে এনেছিল।
কন্যা দুর্গার জন্য: দুর্গার জন্য কিনে এনেছিল একজোড়া সস্তা দামের কাঠের আলতা রাঙানো চুড়ি।
স্ত্রী সর্বজয়ার জন্য: সর্বজয়ার জন্য হরিহর কাপড়ের দোকান থেকে একটি চার আনা দামের সস্তা শাড়ি কিনে এনেছিল।
৮.১ “বইখানাতে যাঁহাদের গল্প আছে সে ওইরকম হইতে চায়।” – বইটির নাম কী ? কার লেখা ? ‘সে’ কে ? বইটিতে কাদের গল্প আছে ? ১+১+১+২
উত্তরঃ
বইটির নাম: উদ্ধৃতাংশে উল্লিখিত বইটির নাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ‘চরিতমালা’।
লেখকের নাম: বইটির লেখক হলেন বিখ্যাত সমাজসংস্কারক ও সাহিত্যিক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
‘সে’ এর পরিচয়: এখানে ‘সে’ বলতে ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র, গ্রাম্য ও সরল মনের অধিকারী শিশু অপু-কে বোঝানো হয়েছে।
বইটিতে কাদের গল্প আছে: বিদ্যাসাগরের ‘চরিতমালা’ বইটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মনীষী ও খ্যাতনামা মহাপুরুষদের জীবনী বা জীবন-আলেখ্যের গল্প আছে। বিশেষ করে যাঁরা অতি সাধারণ বা দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজেদের সততা, তীব্র অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনে মহৎ এবং প্রতিষ্ঠিত মানুষ হতে পেরেছিলেন, তাঁদের কথাই এই বইটিতে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। যেমন— আলু বিক্রেতার ছেলে বিজ্ঞানী ‘রস্কো’ বা মেষপালক থেকে গণিতজ্ঞ হওয়া ‘ডুবাল’ প্রমুখের জীবনসংগ্রামের কাহিনী।
অথবা, “মা যে আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গিয়েছে।”– ‘মা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? সে কীভাবে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে ? ১+৪
উত্তরঃ ‘মা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে:এখানে ‘মা’ বলতে হরিহর ও সর্বজয়ার আদরের জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং অপুর দিদি দুর্গাকে বোঝানো হয়েছে। মা সর্বজয়া অত্যন্ত স্নেহে ও ব্যাকুলতায় নিজের প্রয়াত কন্যা দুর্গাকে এখানে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেছে।
সে যেভাবে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে: হরিহর যখন উপার্জনের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিনের জন্য গ্রামের বাইরে গিয়েছিল, তখন নিশ্চিন্দিপুর গ্রামে তাদের পরিবার চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছিল। এই অভাব-অনটনের মাঝেই দুর্গা মারাত্মক ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত হয়।দরিদ্র সর্বজয়া ঘরে ভালো খাবার বা উপযুক্ত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি। ঝড়ের রাতে দুর্গার অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে এবং একসময় বিনা চিকিৎসায় ও বিনা ওষুধে মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে সে মারা যায়। দীর্ঘদিন পর বাবা হরিহর যখন বাড়ি ফেরে, তখন দুর্গা আর ইহজগতে বেঁচে নেই। নিয়তির এই নির্মম পরিহাস ও অকাল মৃত্যুকে বোঝাতেই সর্বজয়া ডুকরে কেঁদে উঠে বলেছিল যে, দুর্গা তাদের চিরদিনের মতো ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে (অর্থাৎ মারা গেছে)।
৯। (ক) খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা
ভূমিকা: “সুস্থ দেহে সুস্থ মন”— এই প্রবাদটি মানুষের জীবনের এক চিরন্তন সত্য। মানুষের সামগ্রিক বিকাশের জন্য কেবল মানসিক বা বৌদ্ধিক চর্চাই যথেষ্ট নয়, তার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতাও অত্যন্ত জরুরি। আর শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা। বর্তমান যান্ত্রিক যুগে যেখানে মানুষের জীবন চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি হয়ে পড়ছে, সেখানে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা আরও অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
শারীরিক সুস্থতা ও গঠন: খেলাধুলার প্রধান এবং প্রত্যক্ষ উপকারিতা হলো শারীরিক গঠন ও সুস্থতা। নিয়মিত খেলাধুলা করলে শরীরের রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে এবং ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে। এটি শরীরের পেশি ও হাড়কে শক্ত করে এবং বাড়তি মেদ জমতে দেয় না। ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার বা দৌড়ানোর মতো আউটডোর গেম বা মাঠের খেলাগুলি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে নিরোগ রাখতে সাহায্য করে।
মানসিক বিকাশ ও আনন্দ লাভ: সারাদিনের পড়াশোনা বা কাজের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে খেলাধুলা চমৎকার কাজ করে। খেলাধুলার সময় শরীরে ‘এনডোরফিন’ বা আনন্দের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ, অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে মনকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখে। একটি সতেজ মন যেকোনো কাজে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলার মাঠে সময় কাটানো অত্যন্ত জরুরি।
চরিত্র গঠন ও শৃঙ্খলতাবোধ: খেলার মাঠকে বলা হয় চরিত্র গঠনের প্রথম পাঠশালা। প্রতিটি খেলার নিজস্ব কিছু নিয়মকানুন থাকে, যা খেলোয়াড়দের নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলতাবোধ শেখায়। খেলায় হার-জিত থাকবেই; জয়কে বিনীতভাবে গ্রহণ করা এবং পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর যে মানসিকতা, তা মানুষ খেলার মাঠ থেকেই শেখে। এই সহনশীলতা ও ধৈর্য বাস্তব জীবনে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।
দলগত মনোভাব ও সামাজিকতা: দলগত খেলাগুলি (যেমন ফুটবল বা ক্রিকেট) আমাদের মিলেমিশে কাজ করার শিক্ষা দেয়। নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে দলের জয়ের জন্য একসঙ্গে লড়াই করার মাধ্যমে ‘টিম স্পিরিট’ বা দলগত মনোভাব গড়ে ওঠে। এর ফলে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়, যা একজন মানুষকে আদর্শ সামাজিক জীব হিসেবে গড়ে তোলে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আধুনিক সংকট: বর্তমান ডিজিটাল যুগে মাঠের খেলার জায়গায় দখল করে নিয়েছে মোবাইল গেম, কম্পিউটার বা ভিডিও গেম। এর ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্থূলতা, চোখের সমস্যা এবং একাকীত্বের মতো মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক সংকট দেখা দিচ্ছে। মাঠের অভাব এবং পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপের কারণে শিশুরা চার দেওয়ালে বন্দি হয়ে পড়ছে। এই কৃত্রিম জীবনধারা থেকে মুক্ত হতে প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় মাঠে কাটানো বাধ্যতামূলক করা উচিত।
উপসংহার: খেলাধুলা কেবল বিনোদন বা সময় কাটানোর মাধ্যম নয়, এটি জীবনকে সুন্দর ও অর্থপূর্ণ করার এক অপরিহার্য অঙ্গ। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “গীতা পাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের আরও নিকটবর্তী হইবে।” অর্থাৎ, কর্মঠ ও সবল শরীরই উন্নত মনের বাসস্থান। তাই একটি সুস্থ, সুন্দর ও প্রাণোচ্ছল সমাজ গড়তে হলে আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে, বিশেষ করে ছাত্রজীবনে, খেলাধুলার গুরুত্বকে উপলব্ধি করতে হবে এবং খেলার মাঠকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
📌আরও পড়ুনঃ
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
Also give the answer pls 🙂