3rd SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 9 (IX) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER
Class 9 History 3rd Unit Test Question Paper Set-2 wbbse | নবম শ্রেণির ইতিহাস বার্ষিক পরীক্ষার নমুনা প্রশ্নপত্র সেট-২
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
Set-2
তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৫
নবম শ্রেণি
বিষয় : ইতিহাস
সময় : ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পূর্ণমান : ৯০
ক – বিভাগ
1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে বাক্যটি সম্পূর্ণ করো : 1×20 = 20
(i) জাতিসংঘের স্থায়ী আন্তর্জাতিক বিচারালয় যে শহরে অবস্থিত
(a) প্যারিসে (b) হেগ-এ (c) জেনেভায় (d) লন্ডনে
(ii) জার্মান রাশিয়ার কাছে চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়—
(a) কিয়েভ-এর যুদ্ধে (b) মস্কোর যুদ্ধে
(এ) লেনিনগ্রাডের যুদ্ধে (d) রিগার যুদ্ধে
(iii) ‘শিল্পবিপ্লব’ কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন—
(a) জন স্টুয়ার্ট (b) অগাস্ত র্যাঙ্কি
(c) জন আব্রাহাম (d) কম্পটন
(iv) কোড নেপোলিয়নে ধারার সংখ্যা ছিল–
(a) 2000টি (b) 2003টি (c) 2050টি (d) 2287টি
(v) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রতিষ্ঠা দিবস (UN Day) হল–
(a) 1945 খ্রিস্টাব্দে (b) 1944 খ্রিস্টাব্দে (c) 1942 খ্রিস্টাব্দে (d) 1946 খ্রিস্টাব্দে
(vi) নভেম্বর বিপ্লব (1917 খ্রিঃ)-এ রাশিয়ায় সশস্ত্র বিপ্লবে লেনিনের সহযোগী ছিলেন—
(a) স্ট্যালিন (৮) কেরেনস্কি (c) ট্রটস্কি (d) জিনোভিয়েভ
(vii) ‘সেফটি ল্যাম্প’ আবিষ্কার করেন—
(a) জন কে (b) জেমস ওয়াট
(c) হামফ্রি ডেভি (d) জেমস হারগ্রিভস
(viii) মহামন্দার কালে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ছিলেন—
(a) হাডিং (b) ক্যালভিন
(c) কুলিজ (d) হাবার্ট হুভার
(ix) জার্মানিতে হিটলারের নেতৃত্বে কীসের উদ্ভব হয়েছিল ?
(a) সাম্যবাদ (b) ফ্যাসিবাদ (c) প্রজাতন্ত্র (d) নাৎসিবাদ
(x) ফ্রান্সের বাইরে জুলাই বিপ্লবের প্রভাবে যে দেশে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ সফল হয়েছিল—
(a) গ্রিসে (b) বেলজিয়ামে (c) ব্রাজিলে (d) কোরিয়াতে
(xi) ‘স্পেনীয় ক্ষতই আমাকে ধ্বংস করেছে’– উক্তিটি করেছেন—
(a) রোমের পোপ (b) নেলসন ম্যান্ডেলা
(c) সম্রাট নেপোলিয়ন (d) বুচার
(xii) 1792 খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ফরাসি রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করে বন্দি করে রাখা হয়েছিল—
(a) বাস্তিল দুর্গে (b) টুইলিয়িস প্রাসাদে
(c) টেম্পল দুর্গে (d) আইনসভায়
(xiii) ‘চোদ্দ দশা শর্ত ঘোষণা করেন—
(a) রুজভেল্ট (b) চার্চিল (c) উড্র উইলসন (d) ব্রিয়া
(xiv) চিন সম্পর্কে ‘মুক্তদ্বার নীতি’ ঘোষণা করেছিল–
(a) ইংল্যান্ড (b) ফ্রান্স (c) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (d) জার্মানি
(xv) ‘পার্সিয়ান লেটারস’ গ্রন্থের রচয়িতা—
(a) রুশো (b) ভলতেয়ার (e) মন্টেস্কু (d) ডিডেরো
(xvi) টিলসিটের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়—
(a) ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে
(b) ফ্রান্স ও ইতালির মধ্যে
(c) ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে
(d) স্পেন ও ইংল্যান্ডের মধ্যে
(xvii) চেম্বারলেন ছিলেন–
(a) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী (b) রুশ প্রধানমন্ত্রী
(c) মার্কিন প্রেসিডেন্ট (d) ফরাসি প্রধানমন্ত্রী
(xviii) ফ্রান্সে ‘ইনটেনডেন্ট’গণ ছিলেন— (X) সরকারি কর্মচারি (b) সঙ্গীত শিল্পী সংঘ (c) বে-সরকারি কর্মচারি (d) চুক্তিভিত্তিক বে-সরকারি কর্মচারি
(xix) নীলনদের যুদ্ধে নেপোলিয়ন যার কাছে পরাজিত হন—
(a) বুচার (b) নেলসন (c) ওয়েলিংটন (d) কর্নওয়ালিস
(xx) ফরাসি বিপ্লব হয়েছিল—
(a) 1779 খ্রিস্টাব্দে (b) 1780 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1752 খ্রিস্টাব্দে (d) 1789 খ্রিস্টাব্দে
‘খ’-বিভাগ
2. একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো ছয়টি) : 1×6=6
(i) কোন্ আইন অনুসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে প্রচুর সমরোপকরণ দেয় ?
(ii) ইংল্যান্ডে কবে প্রথম রেলপথ চালু হয় ?
(iii) নেপোলিয়ন বিরোধী স্পেনের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিদ্রোহী সংগঠন কী নামে পরিচিত ?
(iv) শিল্প বিপ্লব কোথায় শুরু হয় ?
(v) মুসোলিনী কোন্ দলের নেতা ছিলেন ?
(vi) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ করে শুরু হয় ?
(vii) উড়ন্ত মাকু কে আবিষ্কার করেন ?
(vii) কাকে মুক্তিদাতা জার বলা হয় ?
3. নিম্নলিখিত বক্তব্যগুলিকে যাচাই করে সত্য / মিথ্যা রূপে চিহ্নিত করো- (যে-কোনো তিনটি) : 1×3=3
(i) জাতিসংঘের জন্ম 1920 খ্রিস্টাব্দের 10 জানুয়ারি।
(ii) প্রাশিয়ার নেতৃত্বে ফ্রান্সে শুল্ক সংঘ গড়ে ওঠে।
(iii) মন্টেস্কু বিপ্লবপূর্ব ফরাসি অর্থনীতিকে ‘ভ্রান্ত অর্থনীতির যাদুকর’ বলেছিলেন।
(iv) ভার্সাই চুক্তির অর্থনৈতিক শর্তগুলিতে জার্মানরা অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন।
4. ক-স্তম্ভের সঙ্গে খ-স্তম্ভের সঠিক বিকল্পটি মিলিয়ে দাও। খ-স্তম্ভে একটি অতিরিক্ত বিকল্প রয়েছে। 1×4=4
| ক-স্তম্ভ | খ-স্তম্ভ |
| (a) মুদ্রণ যন্ত্র | (i) জেনেভা |
| (b) জার্মানি পরিতৃপ্ত দেশ | (ii) লিওনার্দো দা ভিঞ্চি |
| (c) জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয় | (iii) অটো ভন বিসমার্ক |
| (d) দ্য লাস্ট সাপার | (iv) গুটেনবার্গ |
| (v) পেত্রার্ক |
5. (1) প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রদত্ত ইউরোপের মানচিত্রে নিম্নলিখিত যে-কোনো তিনটি ঐতিহাসিক স্থান চিহ্নিত করো : 1×3=3
(i) প্রাণী (b) লন্ডন (0) লিথুয়ানিয়া (d) অস্ট্রিয়া।
অথবা,
(2) শূন্যস্থান পূরণ করো (যে-কোনো তিনটি) : 1×3=3
(a) প্রথম অহিফেনের যুদ্ধ হয়েছিল ________ খ্রিস্টাব্দে।
(b) ম্যারেঙ্গার যুদ্ধ হয়েছিল ফ্রান্সের সঙ্গে _________ এর।
(c) রোবসপীয়র ছিলেন একজন _______ নেতা।
(d) ফ্রান্সে বাধ্যতামূলক শ্রমকর ছিল ___________।
‘গ’ – বিভাগ
6. দু-তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যে-কোনো এগারোটি) : 2×11=22
(i) অ্যান্টি কমিন্টার্ন চুক্তি কী ?
(ii) নিউ ডিল বা নব উদ্যোগ নীতি কী ?
(iii) রবার্ট আওয়েন কে ছিলেন ?
(iv) কোড নেপোলিয়নকে সমাজের বাইবেল বলা হয় কেন ?
(v) আটলান্টিক চার্টার (Atlantic Charter) কী ?
(vi) কোন্ বৎসর জাপান পার্ল হারবার নৌঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ? দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপান করে আত্মসমর্পণ করে ?
(vii) ভাইমার প্রজাতন্ত্র কী ?
(viii) ঠান্ডা লড়াই কী ?
(ix) ‘ভেটো’ বলতে কী বোঝ ?
(x) নেপোলিয়নের অর্থনৈতিক সংস্কারের দুটি দিক উল্লেখ করো।
(xi) রাশিয়ার ভূমিদাসরা কেন প্রকৃত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পায়নি ?
(xii) ‘সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ’ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ?
(xiii) রক্ত ও লৌহ নীতি কী ?
(xiv) সামাজিক চুক্তি মতবাদ কী ?
‘ঘ’- বিভাগ
7. সাত-আটটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) : 4×6=24
(i) টীকা লেখো : সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড।
অথবা, শিল্পবিপ্লবের অগ্রগতি ও বিস্তারে রেলপথের ভূমিকা কী ছিল ?
(ii) ফ্রান্সে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
অথবা, টীকা লেখো : কার্বোনারি আন্দোলন।
(iii) নেপোলিয়ন কর্তৃক ইটালি বিজয় ও তার পুনর্গঠন কীভাবে হয়েছিল ?
অথবা, টীকা লেখো : নেপোলিয়ন ছিলেন বিপ্লবের সন্তান।
(iv) টেনিস কোর্টের শপথ কী ?
অথবা, প্রাক্ বিপ্লব ফ্রান্সে যাজক সম্প্রদায় কী কী ভাবে সুবিধা ভোগ করত ?
(v) স্পেনের গৃহযুদ্ধের কারণগুলি চিহ্নিত করো।
অথবা, ভার্সাই চুক্তির অর্থনৈতিক শর্তাবলি সম্পর্কে কী জান ?
(vi) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাবগুলি উল্লেখ করো।
অথবা, হিটলারের বিদেশ নীতির প্রধান আদর্শগুলি ব্যাখ্যা করো।
‘ঙ’ – বিভাগ
8. পনেরো-ষোলোটি বাক্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দাও : 8×1=8
(i) নেপোলিয়নের পতনের কারণগুলি বিবৃত করো। তাঁর পতনে ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। 5+3
(ii) ইতালির ঐক্য আন্দোলনে মাসিনি ও ক্যাভুরের ভূমিকা আলোচনা করো। 5+3
(iii) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করেছিল কেন ? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধাস্ত্রের প্রকৌশলগত উন্নতির ভিত্তি সম্পর্কে আলোচনা করো। 5+3
অথবা, হিটলারের বিদেশ নীতির প্রধান আদর্শগুলি ব্যাখ্যা করো। 8
| ইতিহাস প্রশ্নপত্র ২০২৫ পিডিএফ | ||
|---|---|---|
| শ্রেণি | পরীক্ষা | লিঙ্ক |
| IX | 3rd U.T | Download |
ANSWER KEY (উত্তরপত্র)
ক – বিভাগ
1. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে বাক্যটি সম্পূর্ণ করো : 1×20 = 20
(b) হেগ-এ
(c) লেনিনগ্রাডের যুদ্ধে
(b) অগাস্ত র্যাঙ্কি
(d) 2287টি
(a) 1945 খ্রিস্টাব্দে
(c) ট্রটস্কি
(c) হামফ্রি ডেভি
(d) হারবার্ট হুভার
(d) নাৎসিবাদ
(b) বেলজিয়ামে
(c) সম্রাট নেপোলিয়ন
(c) টেম্পল দুর্গে
(c) উড্রো উইলসন
(c) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
(c) মন্টেস্কু
(a) ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে
(a) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
(a) সরকারি কর্মচারী
(b) নেলসন
(d) 1789 খ্রিস্টাব্দে
‘খ’-বিভাগ
2. একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো ছয়টি) : 1×6=6
(i) ল্যান্ড-লিজ আইন (Lend-Lease Act, 1941) অনুসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে (সোভিয়েত ইউনিয়ন) প্রচুর সমরোপকরণ দেয়।
(ii) ইংল্যান্ডে প্রথম ১৮২৫ সালে (স্টকটন থেকে ডার্লিংটন পর্যন্ত) রেলপথ চালু হয়।
(iii) নেপোলিয়ন বিরোধী স্পেনের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিদ্রোহী সংগঠন জুন্টা (Junta) নামে পরিচিত।
(iv) শিল্প বিপ্লব প্রথম ইংল্যান্ডে শুরু হয়।
(v) মুসোলিনী ফ্যাসিস্ট দল (National Fascist Party)-এর নেতা ছিলেন।
(vi) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর শুরু হয়।
(vii) উড়ন্ত মাকু (Flying Shuttle) জন কে (John Kay) আবিষ্কার করেন।
(viii) রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার-কে মুক্তিদাতা জার বলা হয়।
3. নিম্নলিখিত বক্তব্যগুলিকে যাচাই করে সত্য / মিথ্যা রূপে চিহ্নিত করো- (যে-কোনো তিনটি) : 1×3=3
(i) সত্য
(ব্যাখ্যা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লিগ অব নেশনস’ বা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।
(ii) মিথ্যা
(ব্যাখ্যা: প্রাশিয়ার নেতৃত্বে জার্মানিতে ‘জোলভারাইন’ নামক শুল্ক সংঘ গড়ে উঠেছিল, ফ্রান্সে নয়)।
(iii) মিথ্যা
(ব্যাখ্যা: বিপ্লবপূর্ব ফরাসি অর্থনীতিকে ‘ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুকর’ বা ‘জাদুঘর’ বলেছিলেন অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ, মন্টেস্কু নন)।
(iv) মিথ্যা
(ব্যাখ্যা: ভার্সাই চুক্তির অপমানজনক ও কঠোর অর্থনৈতিক শর্তগুলির কারণে জার্মানরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করেছিলেন, খুশি হননি)।
4. ক-স্তম্ভের সঙ্গে খ-স্তম্ভের সঠিক বিকল্পটি মিলিয়ে দাও। খ-স্তম্ভে একটি অতিরিক্ত বিকল্প রয়েছে। 1×4=4
(a) মুদ্রণ যন্ত্র (iv) গুটেনবার্গ।
(b) জার্মানি পরিতৃপ্ত দেশ (iii) অটো ভন বিসমার্ক।
(c) জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয় (i) জেনেভা।
(d) দ্য লাস্ট সাপার (ii) লিওনার্দো দা ভিঞ্চি
(খ-স্তম্ভে থাকা অতিরিক্ত বিকল্পটি হলো: (v) পেত্রার্ক)
5. (1) প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রদত্ত ইউরোপের মানচিত্রে নিম্নলিখিত যে-কোনো তিনটি ঐতিহাসিক স্থান চিহ্নিত করো : 1×3=3
(a) প্রাণী (b) লন্ডন (c) লিথুয়ানিয়া (d) অস্ট্রিয়া।
অথবা,
(2) শূন্যস্থান পূরণ করো (যে-কোনো তিনটি) : 1×3=3
(a) ১৮৩৯, (b) অস্ট্রিয়ার, (c) জ্যাকোবিন, (d) করভি
‘গ’ – বিভাগ
6. দু-তিনটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যে-কোনো এগারোটি) : 2×11=22
(i) অ্যান্টি কমিন্টার্ন চুক্তি কী ?
উত্তরঃ সোভিয়েত ইউনিয়নের সাম্যবাদী ভাবধারা প্রসারের বিরোধিতা করার জন্য ১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপানের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাকে অ্যান্টি-কমিন্টার্ন চুক্তি বলে। পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে ইতালি এই চুক্তিতে যোগ দিলে এটি ‘রোম-বার্লিন-টোকিও’ অক্ষচুক্তিতে রূপ নেয়।
(ii) নিউ ডিল বা নব উদ্যোগ নীতি কী ?
উত্তরঃ ১৯২৯ সালের বিশ্বব্যাপী মহামন্দার হাত থেকে আমেরিকার অর্থনীতিকে উদ্ধার করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ১৯৩৩ সালে যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তা ‘নিউ ডিল’ বা নব উদ্যোগ নীতি নামে পরিচিত।
(iii) রবার্ট আওয়েন কে ছিলেন ?
উত্তরঃ রবার্ট আওয়েন ছিলেন ইংল্যান্ডের একজন বিখ্যাত শিল্পপতি এবং কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের (Utopian Socialism) জনক। তিনি শ্রমিকদের কাজের সময়সীমা কমানো, উন্নত আবাসন এবং সমবায় ব্যবস্থার প্রবর্তন করে শ্রমিক কল্যাণমূলক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন।
(iv) কোড নেপোলিয়নকে সমাজের বাইবেল বলা হয় কেন ?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন প্রবর্তিত আইনসংহিতা বা ‘কোড নেপোলিয়ন’-এর মাধ্যমে ফরাসি সমাজে আইনের চোখে সমতা, সামন্ততন্ত্রের বিলোপ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দান নিশ্চিত করা হয়েছিল। ফরাসি সমাজে বিপ্লবের আদর্শকে স্থায়ী রূপ দেওয়া এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষাকবচ হওয়ার কারণে একে ফরাসি সমাজের বাইবেল বলা হয়।
(v) আটলান্টিক চার্টার (Atlantic Charter) কী ?
উত্তরঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালের আগস্ট মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে এক যুদ্ধজাহাজে বসে যে ৮ দফা যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করেন, তাকে আটলান্টিক চার্টার বলে। এতে যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে শান্তি রক্ষা ও জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের কথা বলা হয়েছিল।
(vi) কোন্ বৎসর জাপান পার্ল হারবার নৌঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ? দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপান কবে আত্মসমর্পণ করে ?
উত্তরঃ জাপান ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৭ই ডিসেম্বর আমেরিকার পার্ল হারবার নৌঘাঁটি ধ্বংস করেছিল। পরবর্তীতে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমাবর্ষণের পর, ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২রা সেপ্টেম্বর জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।
(vii) ভাইমার প্রজাতন্ত্র কী ?
উত্তরঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়ামের পতনের মাধ্যমে জার্মানিতে যে নতুন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে ভাইমার প্রজাতন্ত্র বলা হয়। ১৯১৯ থেকে ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী এই প্রজাতন্ত্রের সংবিধান জার্মানির ‘ভাইমার’ শহরে রচিত হয়েছিল।
(viii) ঠান্ডা লড়াই কী ?
উত্তরঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের দুই মহাশক্তি—পুঁজিবাদী আমেরিকা এবং সমাজতন্ত্রী সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সরাসরি কোনো যুদ্ধ না হয়ে যে তীব্র কূটনৈতিক বৈরিতা, আদর্শগত সংঘাত ও পরোক্ষ যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তাকেই ঠান্ডা লড়াই (Cold War) বলা হয়।
(ix) ‘ভেটো’ বলতে কী বোঝ ?
উত্তরঃ ‘ভেটো’ (Veto) একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ ‘আমি এটি মানি না’। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচজন স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের (আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন) কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর বা প্রস্তাব বাতিল করে দেওয়ার যে বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে, তাকেই ভেটো ক্ষমতা বলে।
(x) নেপোলিয়নের অর্থনৈতিক সংস্কারের দুটি দিক উল্লেখ করো।
উত্তরঃ নেপোলিয়নের অর্থনৈতিক সংস্কারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—
১. ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে ‘ব্যাংক অফ ফ্রান্স’ প্রতিষ্ঠা করে দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ফরাসি অর্থনীতির আধুনিকীকরণ করা।
২. কর ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে কর আদায়ের দায়িত্ব নির্দিষ্ট সরকারি কর্মচারীদের হাতে ন্যস্ত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা।
(xi) রাশিয়ার ভূমিদাসরা কেন প্রকৃত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পায়নি ?
উত্তরঃ ১৮৬১ সালে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার আইনের মাধ্যমে ভূমিদাসদের মুক্ত করলেও তারা প্রকৃত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পায়নি। কারণ, কৃষকদের যে জমি দেওয়া হয়েছিল তার জন্য তাদের দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের অর্থ (মিউনিসিপ্যালিটি বা ‘মির’-এর মাধ্যমে) রাষ্ট্রকে শোধ করতে হতো, যা তাদের ঋণের জালে আটকে রেখেছিল।
(xii) ‘সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ’ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ?
উত্তরঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (United Nations) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
(xiii) রক্ত ও লৌহ নীতি কী ?
উত্তরঃ প্রুশিয়ার চ্যান্সেলর অটো ভন বিসমার্ক জার্মানির ঐক্যের জন্য যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তাকে রক্ত ও লৌহ নীতি বলা হয়। এই নীতির মূল কথা ছিল—বক্তৃতা বা গণতান্ত্রিক সংখ্যাধিক্যের দ্বারা নয়, বরং সামরিক শক্তি ও যুদ্ধের (রক্ত ও অস্ত্র) মাধ্যমে জার্মানির ঐক্য সম্পন্ন করতে হবে।
(xiv) সামাজিক চুক্তি মতবাদ কী ?
উত্তরঃ সামাজিক চুক্তি মতবাদ (Social Contract Theory) হলো ফরাসি দার্শনিক রুশো, হবস এবং লকের একটি রাজনৈতিক তত্ত্ব। এই মতবাদ অনুযায়ী—রাষ্ট্র বা রাজতন্ত্র কোনো ঈশ্বরদত্ত বিষয় নয়, বরং সমাজের মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার স্বার্থে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক চুক্তি করে এই রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে।
‘ঘ’- বিভাগ
7. সাত-আটটি বাক্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) : 4×6=24
(i) টীকা লেখো : সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড।
উত্তরঃ ১৯১৪ সালের ২৮ জুন বসনিয়ার রাজধানী সারাজেভোতে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফ্রান্সিস ফার্দিনান্দ এবং তাঁর পত্নী সোফি আততায়ীর হাতে নিহত হন। এই ঘটনার হত্যাকারী ছিলেন গ্যাব্রিলো প্রিন্সিপ নামে এক সার্বীয় যুবক, যিনি ‘ব্ল্যাক হ্যান্ড’ নামক এক উগ্র জাতীয়তাবাদী গুপ্ত সমিতির সদস্য ছিলেন। অস্ট্রিয়া এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি সার্বিয়াকে দায়ী করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক কঠোর চরমপত্র পাঠায়। সার্বিয়ার উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই অস্ট্রিয়া সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে ইউরোপের শক্তিজোটগুলি পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। তাই সারাজেভো হত্যাকাণ্ডকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বা তাৎক্ষণিক কারণ বলা হয়।
অথবা, শিল্পবিপ্লবের অগ্রগতি ও বিস্তারে রেলপথের ভূমিকা কী ছিল ?
উত্তরঃ শিল্পবিপ্লবের অগ্রগতি ও বিস্তারে রেলপথের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত যুগান্তকারী। ১৮২৫ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম রেলপথ চালুর পর অতি দ্রুত কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহণের সমস্যা দূর হয়। রেলপথের মাধ্যমে খনি থেকে কয়লা ও লোহা ভারী শিল্পকেন্দ্রে এবং কারখানা থেকে তৈরি মাল বন্দরে পাঠানো সহজ ও সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। এটি পণ্য চলাচলের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটায়। রেলের ইঞ্জিন, বগি ও লাইন তৈরির জন্য লোহা, কয়লা ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়, যা ভারী শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত করে। পরিশেষে, রেলপথ প্রত্যন্ত অঞ্চলের শ্রমিকদের শিল্পশহরে আসার সুযোগ করে দিয়ে কলকারখানার শ্রমিকের জোগান নিশ্চিত করেছিল।
(ii) ফ্রান্সে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ফরাসি তথা ইউরোপের ইতিহাসে এক গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে জুলাই রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং লুই ফিলিপ সিংহাসন ত্যাগ করে ইংল্যান্ডে পালিয়ে যান। বিপ্লবের পর ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের চিরতরে অবসান ঘটে এবং ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই নতুন সরকার ফ্রান্সের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নাগরিকের ভোটাধিকার এবং কাজের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ঢেউ ফ্রান্সের সীমানা ছাড়িয়ে অস্ট্রিয়া, ইতালি ও জার্মানি সহ ইউরোপের ২৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা মেটারনিখ ব্যবস্থার পতন ঘটায়। সামগ্রিকভাবে, এই বিপ্লব ইউরোপে রাজতন্ত্রের ভিত কাঁপিয়ে সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের জয়যাত্রাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল।
অথবা, টীকা লেখো : কার্বোনারি আন্দোলন।
উত্তরঃ কার্বোনারি হলো ঊনবিংশ শতকের শুরুতে ইতালিতে গড়ে ওঠা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী গুপ্ত বিপ্লবী সমিতি। এর নামের অর্থ ‘কয়লা খাদক’ এবং নেপলস অঞ্চলে মূলত ফরাসি ও অস্ট্রিয়ান শাসনের বিরুদ্ধে এই দল আত্মপ্রকাশ করে। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ইতালি থেকে বিদেশী শাসন দূর করা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। ১৮২০ ও ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে কার্বোনারি সদস্যরা নেপলস, পিডমন্ট ও রানিয়াতে অস্ট্রিয়া বিরোধী বিদ্রোহের সূচনা করেন। যদিও জোসেফ ম্যাৎসিনির মতো তরুণ নেতারা প্রথম জীবনে এর সদস্য ছিলেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাব ও সামরিক দুর্বলতার কারণে এই আন্দোলন অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনী দ্বারা দমিত হয়। ব্যর্থ হলেও, কার্বোনারি আন্দোলন ইতালির মানুষের মনে প্রথম দেশপ্রেমের বীজ বুনেছিল এবং পরবর্তী ‘রিসর্জিমেন্টো’ বা পুনরুত্থান আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
(iii) নেপোলিয়ন কর্তৃক ইটালি বিজয় ও তার পুনর্গঠন কীভাবে হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি ডাইরেক্টরি শাসনের সেনাপতি হিসেবে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ইতালিতে এক সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি অস্ট্রিয়ান বাহিনীকে পরাজিত করে ইতালির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জয় করেন এবং লোম্বার্ডি ও মডেনা নিয়ে ‘সিসালপাইন প্রজাতন্ত্র’ গঠন করেন। নেপোলিয়ন ইতালির ছোট ছোট রাজ্যগুলিকে ভেঙে মাত্র তিনটি বড় অংশে ভাগ করে পরোক্ষ ফরাসি শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে তিনি ইতালিতে প্রাচীন সামন্ততন্ত্রের অবসান ঘটান এবং প্রগতিশীল ‘কোড নেপোলিয়ন’ বা আইনসংহিতা প্রবর্তন করেন। চার্চের বিশেষ অধিকার খর্ব করা হয় এবং আধুনিক বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করা হয়। নেপোলিয়নের এই বিজয়ের ফলেই ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ প্রথম ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্বাদ পায় এবং তাদের মধ্যে আধুনিক জাতীয়তাবোধের জন্ম হয়।
অথবা, টীকা লেখো : নেপোলিয়ন ছিলেন বিপ্লবের সন্তান।
উত্তরঃ ঐতিহাসিক ফিশারের মতে, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ছিলেন ফরাসি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ সন্তান এবং তাঁর উত্থান ছিল বিপ্লবেরই ফলশ্রুতি। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব যদি রাজতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রী আভিজাত্যের অবসান না ঘটাত, তবে কর্সিকা দ্বীপের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়ে নেপোলিয়ন ফরাসি সেনাবাহিনীর প্রধান হতে পারতেন না। বিপ্লব ফ্রান্সে যে ‘যোগ্যতার নীতি’ চালু করেছিল, তার ওপর ভর করেই নেপোলিয়ন নিজের প্রতিভাবলে ফ্রান্সের সম্রাট পদে আসীন হন। সম্রাট হওয়ার পর তিনি বিপ্লবের মূল আদর্শ ‘সাম্য’ ও ‘মৈত্রী’-কে কোড নেপোলিয়নের মাধ্যমে আইনি স্বীকৃতি দেন এবং সামন্ততন্ত্রের বিলোপ ঘটান। তিনি নিজেই ঘোষণা করেছিলেন, “আমিই বিপ্লব”। যদিও পরবর্তীকালে তিনি স্বৈরাচারী হয়ে ওঠেন, তবুও ইউরোপ জুড়ে বিপ্লবী আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে তাঁকে বিপ্লবের সন্তান ও রক্ষাকর্তা বলা যুক্তিযুক্ত।
(iv) টেনিস কোর্টের শপথ কী ?
উত্তরঃ ১৭৮৯ সালের ২০ জুন ফ্রান্সের ইতিহাসে ‘টেনিস কোর্টের শপথ’ একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ফরাসি স্টেট জেনারেল বা জাতীয় সভার অধিবেশন শুরু হলে তৃতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মাথাপিছু ভোটের দাবি জানান। রাজা ষোড়শ লুই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে তৃতীয় সম্প্রদায়ের সভাকক্ষটি বন্ধ করে দেন। এর প্রতিবাদে বেইলি ও মিরাবোর নেতৃত্বে প্রতিনিধিরা পাশের একটি ইনডোর টেনিস কোর্টের মাঠে সমবেত হন। সেখানে তাঁরা যৌথভাবে শপথ নেন যে, যতদিন না ফ্রান্সের জন্য একটি নতুন সংবিধান রচিত হচ্ছে, ততদিন তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন এবং সভাস্থল ত্যাগ করবেন না। এই ঘটনাটি রাজার স্বৈরাচারী ক্ষমতার বিরুদ্ধে জনগণের প্রথম নিয়মতান্ত্রিক জয় ছিল, যা ফরাসি বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করেছিল।
অথবা, প্রাক্ বিপ্লব ফ্রান্সে যাজক সম্প্রদায় কী কী ভাবে সুবিধা ভোগ করত ?
উত্তরঃ প্রাক-বিপ্লব ফ্রান্সে যাজক বা প্রথম সম্প্রদায় ছিল সমাজের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী এবং সুবিধাবাদী গোষ্ঠী। ফরাসি জনসংখ্যার মাত্র ০.৫ শতাংশ হয়েও তারা দেশের মোট আবাদী জমির প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মালিক ছিল। বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও যাজকরা রাষ্ট্রকে কোনো নিয়মিত কর দিত না, বদলে রাজাকে ‘স্বেচ্ছামূলক কর’ হিসেবে সামান্য কিছু অর্থ দিত। তারা সাধারণ জনগণের ওপর ‘টাইথ’ নামক একটি বাধ্যতামূলক ধর্মীয় কর ধার্য করত। চার্চের নিজস্ব স্বাধীন আদালত ও আইন ছিল, যার ফলে কোনো যাজক অপরাধ করলেও সাধারণ আইনে তাদের বিচার হতো না। জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ নথিভুক্তকরণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখে তারা সমাজে একচ্ছত্র আধিপত্য ও বিলাসিতা ভোগ করত।
(v) স্পেনের গৃহযুদ্ধের কারণগুলি চিহ্নিত করো।
উত্তরঃ ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলা স্পেনের গৃহযুদ্ধ ছিল মূলত দুটি বিপরীত রাজনৈতিক আদর্শের সংঘাত। ১৯৩১ সালে স্পেনে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে চার্চ, সেনাবাহিনী এবং ভূস্বামীরা তাদের পুরনো ক্ষমতা হারিয়ে ক্ষুব্ধ হয়। ১৯৩৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলির জোট ‘পপুলার ফ্রন্ট’ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে দক্ষিণপন্থীরা তা মেনে নিতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে স্পেনের সেনাবাহিনী সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করে। স্পেনের অর্থনৈতিক সংকট, শ্রমিক ধর্মঘট এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এই যুদ্ধকে আরও উস্কে দেয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হিটলার ও মুসোলিনী ফ্রাঙ্কোর ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রজাতন্ত্রী সরকারকে সাহায্য করায় এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত এক ভয়াবহ আন্তর্জাতিক গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
অথবা, ভার্সাই চুক্তির অর্থনৈতিক শর্তাবলি সম্পর্কে কী জান ?
উত্তরঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে জার্মানির ওপর চাপিয়ে দেওয়া ভার্সাই চুক্তির অর্থনৈতিক শর্তগুলি ছিল অত্যন্ত কঠোর ও শাস্তিমূলক। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিত্রপক্ষের সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য জার্মানিকে এককভাবে দায়ী করা হয় এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬৬০ কোটি পাউন্ডের বিশাল জরিমানা ধার্য করা হয়। জার্মানির প্রধান অর্থনৈতিক উৎস আলসাস ও লোরেন অঞ্চল ফ্রান্সকে ফিরিয়ে দিতে হয় এবং সার (Saar) অঞ্চলের কয়লাখনিগুলির মালিকানা ১৫ বছরের জন্য ফ্রান্সকে দেওয়া হয়। জার্মান কয়লা, লোহা ও গবাদি পশু যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফ্রান্স ও বেলজিয়ামকে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ ছাড়া, জার্মানির সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ মিত্রপক্ষ কেড়ে নেয় এবং জার্মানির প্রধান নদীগুলিকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই অর্থনৈতিক পঙ্গুত্ব জার্মানির অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয় এবং হিটলারের উত্থানের পটভূমি তৈরি করে।
(vi) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের political (রাজনৈতিক) প্রভাবগুলি উল্লেখ করো।
উত্তরঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল বিশ্ব ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনকারী। এই যুদ্ধের ফলে জার্মানি, ইতালি ও জাপানের ফ্যাসিবাদী ও নাৎসিবাদী একনায়কতন্ত্রের সম্পূর্ণ পতন ঘটে। ব্রিটেন ও ফ্রান্স জয়ী হলেও অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য ভাঙতে শুরু করে, যার ফলে এশিয়া ও আফ্রিকায় ভারতসহ বহু দেশ স্বাধীনতা পায়। বিশ্ব রাজনীতিতে ইউরোপের প্রাধান্য শেষ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (পুঁজিবাদী) এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন (সাম্যবাদী)—এই দুটি নতুন মহাশক্তির উত্থান ঘটে। এই দুই শক্তির আদর্শগত দ্বন্দ্বের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ঠান্ডা লড়াই’-এর সূচনা হয় এবং জার্মানি ও কোরিয়া রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরিশেষে, বিশ্বশান্তি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ১৯৪৫ সালে ‘সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ’ নামক একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্ম হয়।
অথবা, হিটলারের বিদেশ নীতির প্রধান আদর্শগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ হিটলারের আগ্রাসী বিদেশ নীতির মূল লক্ষ্য ছিল ভার্সাই চুক্তির অপমানজনক শর্তগুলিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা এবং জার্মানিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করা। তাঁর বিদেশ নীতির প্রথম প্রধান আদর্শ ছিল ‘লেবেনস্রাউম’ বা জার্মান জাতির জন্য অতিরিক্ত বাসভূমির সংস্থান করা, যার জন্য তিনি পূর্ব ইউরোপ ও রাশিয়া জয়ের পরিকল্পনা করেন। দ্বিতীয়ত, তিনি ‘প্যান-জার্মানবাদ’-এ বিশ্বাসী ছিলেন, যার অর্থ ইউরোপের সমস্ত জার্মানভাষী অঞ্চলকে (যেমন অস্ট্রিয়া, সুদেতানল্যান্ড) যুক্ত করে একটি ‘বৃহৎ জার্মানি’ গঠন করা। তৃতীয়ত, হিটলার সাম্যবাদ বা বলশেভিজমের ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং ইউরোপ থেকে সোভিয়েত রাশিয়ার সাম্যবাদী প্রভাব দূর করতে চেয়েছিলেন। এই উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সামরিক আগ্রাসনের নীতিই শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ডেকে এনেছিল।
‘ঙ’ – বিভাগ
8. পনেরো-ষোলোটি বাক্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দাও : 8×1=8
(i) নেপোলিয়নের পতনের কারণগুলি বিবৃত করো। তাঁর পতনে ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। (৫+৩)
উত্তরঃ ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের অভাবনীয় উত্থানের পর তাঁর সাম্রাজ্যের পতনও ছিল দ্রুত ও আকস্মিক। তাঁর পতনের প্রধান কারণগুলি হলো—
১. সাম্রাজ্যের অতিকায় আয়তন ও অতি-কেন্দ্রীকরণ: নেপোলিয়নের ফরাসি সাম্রাজ্য ইউরোপের এক বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। একক কেন্দ্র বা ব্যক্তির পক্ষে এই বিশাল সাম্রাজ্যের শাসন ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
২. মহাদেশীয় অবরোধ প্রথার ব্যর্থতা: ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করার জন্য নেপোলিয়ন যে ‘মহাদেশীয় প্রথা’ চালু করেছিলেন, তা বুমেরাং হয়ে ফ্রান্স ও তার মিত্র দেশগুলির অর্থনীতিকেই ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে ইউরোপ জুড়ে তাঁর জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।
৩. স্পেনীয় ক্ষত: স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে নেপোলিয়ন এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। এই উপদ্বীপের যুদ্ধে ফ্রান্সের প্রায় তিন লক্ষ দক্ষ সৈন্য নিহত হয় এবং ফরাসি সামরিক গৌরব ধূলিসাৎ হয়। নেপোলিয়ন নিজেই স্বীকার করেছিলেন, “স্পেনীয় ক্ষত আমাকে ধ্বংস করেছে।”
৪. জাতীয়তাবাদের উত্থান: নেপোলিয়ন প্রথম দিকে মুক্তিদাতারূপে অবতীর্ণ হলেও পরবর্তীকালে বিজিত দেশগুলিতে ফরাসি আধিপত্য ও করের বোঝা চাপিয়ে দেন। এর ফলে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের মানুষের মধ্যে তীব্র ফরাসি-বিরোধী জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়, যা নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহে রূপ নেয়।
৫. স্বৈরাচারী মনোভাব ও সামরিক ক্লান্তি: লাগাতার যুদ্ধযাত্রার ফলে ফরাসি অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল এবং ফরাসি জনগণের মধ্যে ক্লান্তি দেখা দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও নেপোলিয়নের একগুঁয়ে ও স্বৈরাচারী মনোভাব তাঁকে ক্রমাগত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়, যা তাঁর পতন নিশ্চিত করে।
নেপোলিয়নের পতনে ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার ভূমিকা—
নেপোলিয়নের পতনে দুটি রাষ্ট্র সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।
ইংল্যান্ডের ভূমিকা: ইংল্যান্ড ছিল নেপোলিয়নের সবচেয়ে প্রধান ও অপরাজেয় শত্রু। শক্তিশালী ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কারণে নেপোলিয়ন কখনই ইংল্যান্ড আক্রমণ করতে পারেননি। ১৮০৫ সালে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি নেলসন ফরাসি নৌবহর ধ্বংস করে দেন। এছাড়া, ইংল্যান্ড ইউরোপের অন্যান্য শক্তিগুলিকে অর্থ সাহায্য করে ফরাসি-বিরোধী একাধিক শক্তিজোট গড়ে তুলেছিল এবং ওয়াটারলুর যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি ওয়েলিংটন নেপোলিয়নকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেন।
রাশিয়ার ভূমিকা: ১৮১২ সালে রাশিয়ার জার সপ্তম আলেকজান্ডার মহাদেশীয় প্রথা মানতে অস্বীকার করলে নেপোলিয়ন রাশিয়া আক্রমণ করেন। রাশিয়া ‘পোড়ামাটি নীতি’ প্রয়োগ করে ফরাসি বাহিনীকে ফাঁদে ফেলে। রাশিয়ার তীব্র শীত, খাদ্যাভাব এবং গেরিলা আক্রমণের মুখে পড়ে নেপোলিয়নের বিখ্যাত ‘গ্র্যান্ড আর্মি’ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই রুশ অভিযানই ছিল নেপোলিয়নের পতনের প্রধান অনুঘটক।
(ii) ইতালির ঐক্য আন্দোলনে মাসিনি ও ক্যাভুরের ভূমিকা আলোচনা করো। (৫+৩)
উত্তরঃ ইতালির ঐক্য আন্দোলনে জোসেফ ম্যাৎসিনি বা মাসিনির ভূমিকা—
ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে ইতালির জাতীয় জাগরণ বা ‘রিসর্জিমেন্টো’-র প্রধান প্রাণপুরুষ ছিলেন জোসেফ ম্যাৎসিনি (মাসিনি)। ইতালির ঐক্যে তাঁর অবদান নিম্নরূপ:
১. ইয়ং ইতালি দল গঠন: কার্বোনারি আন্দোলনের ব্যর্থতার পর ম্যাৎসিনি বুঝতে পারেন যে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের মুক্তি সম্ভব নয়। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৩১ সালে তরুণদের নিয়ে ‘ইয়ং ইতালি’ বা ‘নব্য ইতালি’ নামক একটি গোপন বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন।
২. আদর্শগত চেতনা জাগ্রত করা: ম্যাৎসিনির মূল লক্ষ্য ছিল ইতালির যুবসমাজের মধ্যে দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং জাতীয়তাবাদের আদর্শের বীজ বপন করা। তিনি বিশ্বাস করতেন, বিদেশী শক্তির সাহায্য ছাড়া ইতালীয়রা নিজেদের শক্তিতেই দেশকে স্বাধীন করতে পারবে।
৩. গণতান্ত্রিক ও সাধারণতন্ত্রের আদর্শ: ম্যাৎসিনি ইতালিতে কোনো রাজতান্ত্রিক শাসন চাননি, বরং তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।
৪. ১৮৪৮-এর রোম প্রজাতন্ত্র: ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ঢেউ ইতালিতে পৌঁছালে ম্যাৎসিনি পোপের রাজ্য রোমে সাময়িকভাবে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘ triumvirate’ বা ত্রয়ী শাসনের অন্যতম প্রধান হিসেবে শাসনভার গ্রহণ করেন।
মূল্যায়ন: যদিও অস্ট্রো-ফরাসি যৌথ বাহিনীর আক্রমণে তাঁর এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, তবুও ম্যাৎসিনি ইতালির মানুষকে প্রথম বুঝিয়েছিলেন যে ‘ইতালি একটি ভৌগোলিক অভিব্যক্তি মাত্র নয়, এটি একটি জাতি’। তিনি ইতালির ঐক্যের নৈতিক ও আদর্শগত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিলেন।
কাউন্ট ক্যামিলো ডি ক্যাভুরের ভূমিকা—
পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী কাউন্ট ক্যাভুর ছিলেন ইতালির ঐক্যের প্রকৃত কূটনীতিবিদ বা মস্তিস্ক। ম্যাৎসিনির ভাবালুতার বিপরীতে তিনি ছিলেন বাস্তববাদী।
অভ্যন্তরীণ সংস্কার: তিনি পিডমন্ট-সার্ডিনিয়াকে ইতালির ঐক্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দেশের অর্থনৈতিক, সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করেন।
আন্তর্জাতিকীকরণ ও কূটনীতি: ক্যাভুর জানতেন যে শক্তিশালী অস্ট্রিয়াকে পরাজিত করতে গেলে বিদেশী সাহায্য প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৫৪ সালের ক্রাইমিয়ার যুদ্ধে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের পক্ষে সেনা পাঠান এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ইতালির সমস্যাকে তুলে ধরেন।
প্লোম্বিয়ার্সের চুক্তি ও অস্ট্রিয়া যুদ্ধ: ১৮৫৮ সালে তিনি ফরাসি সম্রাট দ্বিতীয় নেপোলিয়নের সাথে গোপন ‘প্লোম্বিয়ার্সের চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির সুবিধা নিয়ে ১৮৫৯ সালে তিনি অস্ট্রিয়াকে যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং লোম্বার্ডি অঞ্চল পিডমন্টের সাথে যুক্ত করেন। তাঁর এই সফল কূটনীতির ফলেই উত্তর ও মধ্য ইতালির রাজ্যগুলি ইতালির সাথে যুক্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়।
(iii) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করেছিল কেন ? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধাস্ত্রের প্রকৌশলগত উন্নতির ভিত্তি সম্পর্কে আলোচনা করো। (৫+৩)
উত্তরঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগদানের কারণসমূহ—
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথম দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘নিরপেক্ষতা নীতি’ অবলম্বন করেছিল। তবে ১৯৪১ সালের শেষভাগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রেক্ষিতে আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে—
১. পার্ল হারবার আক্রমণ (প্রধান কারণ): ১৯৪১ সালের ৭ই ডিসেম্বর হাঙ্গেরি ও জার্মানির অক্ষশক্তির শরিক দেশ জাপান কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত আমেরিকার প্রধান নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে এক ভয়াবহ বিমান ও নৌ আক্রমণ চালায়। এই আকস্মিক আক্রমণে আমেরিকার বহু যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয় এবং আড়াই হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়। এই ঘটনা মার্কিন জনমতকে ক্ষুব্ধ করে তোলে এবং পরদিনই (৮ই ডিসেম্বর) প্রেসিডেন্ট রুজভেট জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
২. আটলান্টিক চার্টার ও গণতন্ত্রের সুরক্ষা: ফ্যাসিবাদের আগ্রাসী নীতি বিশ্ব গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে গণতান্ত্রিক বিশ্বের রক্ষক হিসেবে মনে করত এবং অক্ষশক্তির একনায়কতন্ত্রকে উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর ছিল।
৩. অর্থনৈতিক স্বার্থ ও ল্যান্ড-লিজ নীতি: ১৯৪১ সালের মার্চ মাস থেকেই আমেরিকা ‘ল্যান্ড-লিজ আইন’-এর মাধ্যমে ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করছিল। অক্ষশক্তি জয়ী হলে আমেরিকার এই বিশাল বিনিয়োগ ও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
৪. জার্মানির যুদ্ধ ঘোষণা: পার্ল হারবার আক্রমণের পর ১১ই ডিসেম্বর হিটলার ও মুসোলিনী আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আর নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব ছিল না। ফলে আমেরিকা পূর্ণ শক্তিতে মিত্রপক্ষে যোগ দেয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধাস্ত্রের প্রকৌশলগত উন্নতির ভিত্তি—
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রকৌশলের এক বিধ্বংসী প্রতিযোগিতা। এই যুদ্ধের যুদ্ধাস্ত্রের উন্নতির প্রধান ভিত্তিগুলি ছিল—
পারমাণবিক প্রযুক্তির বিকাশ: এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রকৌশলগত ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’ (Manhattan Project), যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা (লিটল বয় ও ফ্যাট ম্যান) তৈরি হয়। ১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে এর প্রয়োগ যুদ্ধের গতি চিরতরে বদলে দেয়।
বিমান ও রাডার প্রযুক্তির উন্নতি: আকাশপথের যুদ্ধ এই প্রথম মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। জার্মানির মেসারশমিট এবং ব্রিটেনের স্পিটফায়ার যুদ্ধবিমানের গতি ও মারক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রাডার প্রযুক্তির আবিষ্কার শত্রুপক্ষের বিমানের গতিবিধি আগে থেকেই জানতে সাহায্য করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিপ্লব আনে।
রকেট ও সাঁজোয়া যান (ট্যাংক): জার্মানি এই যুদ্ধে বিশ্বের প্রথম দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল বা রকেট ‘V-2 Rocket’ তৈরি করে প্রকৌশল বিদ্যায় চমক দিয়েছিল। পাশাপাশি ভারী যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে জার্মানির ‘টাইগার’ এবং সোভিয়েত রাশিয়ার বিখ্যাত ‘T-34’ ট্যাংকের যান্ত্রিক আধুনিকীকরণ স্থলযুদ্ধের রূপ পরিবর্তন করে দেয়।
অথবা, হিটলারের বিদেশ নীতির প্রধান আদর্শগুলি ব্যাখ্যা করো। (৮ নম্বর)
উত্তরঃ ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে জার্মানিতে ক্ষমতা দখলের পর অ্যাডলফ হিটলার এক অত্যন্ত আগ্রাসী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী বিদেশ নীতি গ্রহণ করেন। তাঁর এই বিদেশ নীতির মূল লক্ষ্য ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের গ্লানি মোচন করা এবং ভার্সাই চুক্তির শৃঙ্খল ভেঙে জার্মানিকে বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠ শক্তিরূপে প্রতিষ্ঠা করা।
১. ভার্সাই চুক্তির সম্পূর্ণ অবমাননা ও ধ্বংসসাধন: হিটলারের বিদেশ নীতির প্রাথমিক লক্ষ্যই ছিল ১৯১৯ সালের অপমানজনক ভার্সাই চুক্তিকে অস্বীকার করা। তিনি জার্মানির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধক্ষতির জরিমানা দেওয়া বন্ধ করেন। ১৯৩৫ সালে তিনি চুক্তির শর্ত অমান্য করে জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ শুরু করেন এবং ১৯৩৬ সালে সৈন্যহীন এলাকা ‘রাইনল্যান্ড’-এ সামরিকীকরণ ঘটিয়ে ভার্সাই চুক্তিকে পুরোপুরি অচল করে দেন।
২. লেবেনস্রাউম বা বাসভূমির প্রসার: হিটলারের অন্যতম প্রধান তত্ত্ব ছিল ‘লেবেনস্রাউম’ বা জার্মান জাতির বেঁচে থাকার জন্য অতিরিক্ত বাসভূমির সংস্থান করা। তিনি মনে করতেন জার্মানরা হলো বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আর্য জাতি এবং তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত ভূখণ্ডের প্রয়োজন। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তিনি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলি (বিশেষ করে পোল্যান্ড ও রাশিয়া) আক্রমণ ও দখলের নীতি গ্রহণ করেন।
৩. প্যান-জার্মানবাদ বা বৃহৎ জার্মানি গঠন: হিটলারের নীতি ছিল ইউরোপের যেখানেই জার্মানভাষী মানুষ বসবাস করে, সেই সমস্ত অঞ্চলকে একত্রিত করে একটি ‘বৃহৎ জার্মানি’ গড়ে তোলা। এই আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই তিনি ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়া অধিকার করেন (যা ‘আনশ্লুস’ নামে পরিচিত) এবং চেকোস্লোভাকিয়ার জার্মান অধ্যুষিত অঞ্চল ‘সুদেতানল্যান্ড’ গ্রাস করেন।
৪. সাম্যবাদ বা বলশেভিজম-বিরোধী নীতি: হিটলার সোভিয়েত রাশিয়ার সাম্যবাদী বা কমিউনিস্ট ভাবধারাকে জার্মানি তথা ইউরোপের সংস্কৃতির জন্য প্রধান শত্রু মনে করতেন। তাঁর বিদেশ নীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইউরোপ থেকে সাম্যবাদের বিস্তার রোধ করা। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৩৬ সালে জাপানের সাথে এবং ১৯৩৭ সালে ইতালির সাথে হাত মিলিয়ে সাম্যবাদ-বিরোধী ‘অ্যান্টি-কমিন্টার্ন চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন, যা পরে রোম-বার্লিন-টোকিও অক্ষচুক্তিতে পরিণত হয়।
৫. ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার ও সামরিকায়ন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি তার যেসব উপনিবেশ হারিয়েছিল, হিটলার সেগুলি ফেরত পাওয়ার দাবি জানান। একই সাথে তিনি দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ যুদ্ধমুখী করে তোলেন। নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ব্যাপক আধুনিকীকরণ করে তিনি জার্মানিকে এক অপরাজেয় সামরিক শক্তিতে পরিণত করেন।
উপসংহার: হিটলারের এই উগ্র সামরিক ও তোষণ নীতিকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক রাষ্ট্র গ্রাস করার প্রবণতাই শেষ পর্যন্ত ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে ইউরোপকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অগ্নিকুণ্ডে ঠেলে দিয়েছিল।
📌 আরো দেখুনঃ
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here