কুমোরে পোকার বাসাবাড়ি গল্পের প্রশ্ন উত্তর ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা | Kumore Pokar Basabari Golper Question Answer Class 6 Bengali wbbse

কুমোরে পোকার বাসাবাড়ি
—গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য

কুমোরে পোকার বাসাবাড়ি গল্পের প্রশ্ন উত্তর ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা | Kumore Pokar Basabari Golper Question Answer Class 6 Bengali wbbse

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

হাতে কলমে প্রশ্নের উত্তর : কুমোরে পোকার বাসাবাড়ি গল্পের প্রশ্নোত্তর | Kumore Pokar Basabari Golper Question Answer wbbse

১.১ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য বাংলা ভাষায় কী ধরনের লেখালিখির জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন ?

উত্তরঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর রচনার মূল উপাদান ছিল প্রকৃতি ও প্রাণীজগৎ।

১.২ তাঁর লেখা একটি বইয়ের নাম লেখো।

উত্তরঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের লেখা একটি বইয়ের নাম ‘বাংলার মাকড়সা’।

২। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

২.১ কুমোরে-পোকার চেহারাটি কেমন ?

উত্তরঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য রচিত ‘কুমোরে পোকার বাসাবাড়ি’ প্রবন্ধে কুমোরে পোকার চেহারা লিকলিকে। গায়ের রং আগাগোড়া মিশমিশে কালো। কেবল শরীরের মধ্যস্থলের বোঁটার মতো সরু অংশটি হলদে।

২.২ কুমোরে-পোকা কী দিয়ে বাসা বানায় ?

উত্তরঃ কুমোরে-পোকা ভিজে নরম কাদা মাটি দিয়ে বাসা বানায়।

২.৩ কোনো অদৃশ্য স্থানে কুমোরে-পোকা বাসা বাঁধছে – তা কীভাবে বোঝা যায়?

উত্তরঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য রচিত ‘কুমোরে পোকার বাসাবাড়ি’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন, কোথাও বাসা বাঁধার সময় কুমোরে পোকা তীক্ষ্ণস্বরে একটানা গুণগুণ করে। এই গুণগুণ শব্দ থেকেই বোঝা যায় যে কুমোরে পোকা বাসা বাঁধছে।

২.৪ মাকড়সা দেখলেই কুমোরে-পোকা কী করে ?

উত্তরঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য রচিত ‘কুমোরে পোকার বাসাবাড়ি’ প্রবন্ধ পাঠে জানা যায় মাকড়সা চোখে পড়লেই কুমোরে পোকা ছুঠে গিয়ে তার ঘাড় কামড়ে ধরে। মাকড়সার শরীরের হুল ফুটিয়ে বিষ ঢেলে তাকে অসাড় করে দেয়।

৩। নীচের বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণ এবং বিশেষণ শব্দগুলিকে বিশেষ্য করো : লম্বাটে, স্থান, নির্বাচিত, নির্মাণ, সঞ্চিত।

উত্তরঃ

» লম্বাটে (বিশেষণ) – লম্বা (বিশেষ্য)
» স্থান (বিশেষ্য) – স্থানীয় (বিশেষণ)
» নির্বাচিত (বিশেষণ) – নির্বাচন (বিশেষ্য)
» নির্মাণ (বিশেষ্য) – নির্মিত (বিশেষণ)
» সঞ্চিত (বিশেষণ) – সঞ্চয় (বিশেষ্য)

৪। নীচের বাক্যগুলি থেকে অনুসর্গ খুঁজে বের করো :

৪.১ বাসা তৈরির জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজতে বের হয়।

উত্তরঃ অনুসর্গ— জন্য।

৪.২ সেই স্থান থেকে নির্বাচিত স্থানে যাতায়াত করে রাস্তা চিনে নেয়।

উত্তরঃ অনুসর্গ— থেকে।

৪.৩ সেই স্থানে কাদামাটি চাপা দিয়ে দেখেছি।

উত্তরঃ অনুসর্গ—দিয়ে।

৫. উপযুক্ত প্রতিশব্দ পাঠ থেকে খুঁজে লেখো : নির্মাণ, উপযোগী, ভরতি, সন্ধান, ক্ষান্ত।

উত্তরঃ নির্মাণ— তৈরি, সন্ধান— খোঁজ, উপযোগী— উপযুক্ত
ভরতি— পূর্ণ, ক্ষান্ত— নিরস্ত

৬. তুমি প্রতিদিন পিঁপড়ে, মৌমাছি, মাকড়সা প্রভৃতি কীট-পতঙ্গ তোমার চারপাশে দেখতে পাও। তাদের মধ্যে কোনো একটিকে পর্যবেক্ষণ করো, আর তার চেহারা, স্বভাব, বাসা বানানোর কৌশল ইত্যাদি খাতায় লেখো।

»কীট/পতঙ্গের নাম— মৌমাছি।

»কোথায় দেখেছ— গাছের ডালে।

»চেহারা/গায়ের রং— দেহ তিন খণ্ডএ বিভক্ত, গায়ের রং কালচে।

»কীভাবে চলে— উড়ে উড়ে চলে।

»কী খায়— ফুলের মধু খায়।

»বিশেষ বৈশিষ্ট্য— চাক তৈরি করে বসবাস করে। এক একটি চাকে ৩০/৪০ হাজার মৌমাছি থাকে। এরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে না।

»বাসাটি দেখতে কেমন— এরা যে চাক তৈরি করে তাতে অজস্র ছোট কুঠুরি আছে। এর মধ্যে মৌমাছিরা মধু ভরে রাখে।

»কীভাবে বানায়— মৌমাছিদের পেটের নিম্নভাগে অবস্থিত গ্রন্থি থেকে মোম উৎপন্ন হয়। সেই মোমের সাহায্যে এরা চাক তৈরি করে।

৭. সন্ধি বিচ্ছেদ করো : যথেষ্ট, পূর্বোক্ত, জলাশয়, পরীক্ষা, চক্রাকার, নিরস্ত্র

যথেষ্ট— যথা + ইষ্ট, পূর্বোক্ত— পূর্ব + উক্ত, জলাশয়— জল + আশয়, পরীক্ষা— পরি + ঈক্ষা, চক্রাকার— চক্র + আকার, নিরস্ত্র— নিঃ + অস্ত্র

৮। নীচের প্রশ্নগুলি নিজের ভাষায় উত্তর লেখো :

৮.১ কুমোরে-পোকার বাসাবাড়িটি দেখতে কেমন ?

উত্তরঃ কুমোরে পোকার বাসাবাড়িটি দেখতে অনেকটা লম্বাটে ধরনের, প্রায় সওয়া ইঞ্চি লম্বা।

৮.২ কুমোরে-পোকা বাসা বানানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেয় ?

উত্তরঃ কুমোরে-পোকার ডিম পাড়ার সময় হলে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে।তারপর পঞ্চাশ গজ ব্যবধানের মধ্যে নরম কাদামাটির সন্ধান করতে থাকে। সাধারণত কাদামাটির সন্ধান পেলেই ভালো করে রাস্তা চিনে নেয়। তারপর ওই নরম কাদামাটি মুখে করে নিয়ে এসে বাসা বাঁধে।

৮.৩ কুমোরে-পোকার বাসা বানানোর প্রক্রিয়াটি নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তরঃ বাসা নির্মাণের জন্য মাটি সংগ্রহ করবার সময় উড়ে গিয়ে ভিজা মাটির উপর বসে এবং লেজ নাচাতে নাচাতে এদিক-ওদিক ঘুরেফিরে দেখে। উপযুক্ত মনে হলেই সেখান থেকে ভিজা মাটি তুলে নিয়ে চোয়ালের সাহয্যে খুব ছোট্ট এক ডেলা মাটি মটরদানার মতো গোল করে মুখে করে উড়ে যায়।মাটি খুঁড়ে তোলবার সময় অতি তীক্ষ্ণ স্বরে একটানা গুনগুন শব্দ করতে থাকে। মুখ দিয়ে চেপে চেপে মাটির ডেলাটিকে দেয়ালের গায়ে অর্ধ-চক্রাকারে বসিয়ে দেয়। মাটির ডেলাটিকে লম্বা করে চেপে বসাবার সময়ও তীক্ষ্ণস্বরে একটানা গুনগুন শব্দ করতে থাকে। মাটি তোলবার সময় কোনো পোকা তার কাছে এসে পড়লে মাটি তোলা বন্ধ রেখে তাকে ছুটে গিয়ে তাড়া করে। তারপর আবার মাটি এনে ভিতরের দিকে ফাঁকা রেখে ক্রমশ উপরের দিকে বাসা গেঁথে তুলতে থাকে। প্রায় সওয়া ইঞ্চি লম্বা হলেই গাঁথুনি শেষ করে। এরূপ একটি কুঠুরি তৈরি করতে প্রায় দু-দিন সময় লেগে যায়। ইতিমধ্যে মাটি শুকিয়ে বাসা শক্ত হয়ে যায়। কুমোরে-পোকা তখন কুঠুরির ভিতরে প্রবেশ করে মুখ থেকে একপ্রকার লালা নিঃসৃত করে তার সাহায্যে কুঠুরির ভিতরের দেয়ালে প্রলেপ মাখিয়ে দেয়।

৮.৪ ‘এইসব অসুবিধার জন্য অবশ্য বাসা নির্মাণে যথেষ্ট বিলম্ব ঘটে।’— কোন্ অসুবিধাগুলির কথা এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ?

উত্তরঃ প্রবন্ধে লেখক জানিয়েছেন কুমোরে পোকা কাছাকাছি কোনো স্থান থেকে মাটি সংগ্রহ করে বাসার একটা কুঠুরি নির্মাণ প্রায় শেষ করে এনেছে এমন সময় সেই স্থানে লেখক কাদামাটি চাপা দিয়ে বা বাসাটা সরিয়ে দিয়ে দেখেছেন। সংস্কারবশত বা বুদ্ধি করে কুমোরে পোকাটা বাসার সন্ধান না পেয়ে আবার পূর্বের জায়গায় বাসা বানানো শুরু করেছে। তাই লেখক স্বীকার করেছেন এই অসুবিধার জন্য অবশ্য বাসা নির্মাণে তার যথেষ্ট বিলম্ব ঘটেছে।

৮.৫ কুমোরে-পোকার শিকার ধরার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো। শিকারকে সে কীভাবে সংগ্রহ করে ?

উত্তরঃ কুমোরে পোকারা বেছে বেছে ভ্রমণকারী মাকড়সা শিকার করে থাকে। কোনোরকমে মাকড়সা একবার চোখে পড়লেই হলো, ছুটে গিয়ে তার ঘাড় কামড়ে ধরে। কিন্তু কামড়ে ধরলেও একেবারে মেরে ফেলে না। শরীরে হুল ফুটিয়ে একরকম বিষ ঢেলে দেয়। একবার হুল ফুটিয়ে নিরস্ত হয় না। কোনো কোনো মাকড়সাকে পাঁচ-সাতবার পর্যন্ত হুল ফুটিয়ে থাকে। এর ফলে মাকড়সাটার মৃত্যু হয় না বটে, কিন্তু একেবারে অসাড়ভাবে পড়ে থাকে। তখন কুমোরে-পোকা অসাড় মাকড়সাকে মুখে করে নবনির্মিত কুঠুরির মধ্যে উপস্থিত হয়। কুঠুরির নিম্নদেশে মাকড়সাটাকে চিত করে রেখে তার উদরদেশের এক পাশে লম্বাটে ধরনের একটি ডিম পাড়ে। ডিম পেড়েই আবার নতুন শিকারের সন্ধানে বের হয়। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে দশ-পনেরোটা মাকড়সা সংগ্রহ করে সেই কুঠুরির মধ্যে জমা করে আবার দু-তিন ডেলা মাটি এনে কুঠুরির মুখ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়।

৮.৬ ‘বাসার আর কোনো খোঁজ খবর নেয় না’— কখন কুমোরে পােকা তার বাসার আর কোনো খোঁজ খবর নেয় না ?

উত্তরঃ কুমোরে-পোকা শিকার ধরে কুঠুরির মধ্যে রেখে সেখানে ডিম পেড়ে কুঠুরির মুখ বন্ধ করে। তারপর অন্য কুঠুরি নির্মাণ করতে শুরু করে। একটি বাসায় চার-পাঁচটি কুঠুরি নির্মাণ করে ডিম পাড়া সম্পূর্ণ হলে সে তার ইচ্ছা মতো যে-কোনো স্থানে চলে যায়। বাচ্চাদের জন্য খাদ্য সঞ্চিত রেখেই সে খালাস। তার বাসার আর কোনো খোঁজ খবর নেয় না

∆ অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর : কুমোরে পোকার বাসা বাড়ি ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা| Kumore Pokar Basabari Class 6 Bengali wbbse 

১. কুমোরে পোকার বাসাবাড়ি রচনাংশটির লেখক হলেন (গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য / গোপালচন্দ্র বন্ধ্যোপাধ্যায় / গোপালচন্দ্র দে / গোপালচন্দ্র হালদার)।

উত্তরঃ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য।

২. কুমোরে-পোকার গায়ের রং (সাদা / লাল / হলুদ / কালো)।

উত্তরঃ কালো।

৩. প্রায় কত ইঞ্চি লম্বা হলেই কুমোরে পোকা গাঁথুনি ক্ষান্ত করে ? (সওয়া ইঞ্চি / এক ইঞ্চি / আধ ইঞ্চি / দুই ইঞ্চি)।

উত্তরঃ সওয়া ইঞ্চি।

৪. কুমোরে-পোকার শরীরের মধ্যস্থলের সরু অংশটির রং (নীল / সবুজ / হলুদ / সাদা)।

উত্তরঃ হলুদ।

৫. কুমোরে-পোকা সাধারণত কত গজ দূর থেকে মাটি সংগ্রহ করে ? (দশ-বিশ / চল্লিশ-পঞ্চাশ / একশো / তিনশো)।

উত্তরঃ চল্লিশ-পঞ্চাশ।

৬. প্রয়োজনে কুমোরে-পোকা সর্বোচ্চ কত দূর থেকে মাটি আনতে পারে ? (পঞ্চাশ গজ / একশো গজ / দেড়-দুশো গজ / তিনশো গজ)।

উত্তরঃ দেড়-দুশো গজ।

৭. একটি কুঠুরি তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় (এক দিন / দু-দিন / তিন দিন / চার দিন)।

উত্তরঃ দু-দিন।

৮. কুঠুরির ভিতরের দেয়ালে কুমোরে-পোকা প্রলেপ দেয় (জল দিয়ে / কাদা দিয়ে / লালা দিয়ে / বালি দিয়ে)।

উত্তরঃ লালা দিয়ে।

৯. কুমোরে-পোকা সাধারণত কোন প্রাণী শিকার করে ? (পিঁপড়ে / মাছি / মাকড়সা / প্রজাপতি)।

উত্তরঃ মাকড়সা।

১০. মাকড়সাকে অচেতন করতে কুমোরে-পোকা কী ব্যবহার করে ? (দাঁত / পা / হুল / ডানা)।

উত্তরঃ হুল।

১১. একটি কুঠুরিতে কুমোরে-পোকা ডিম পাড়ে (একটি/ দুটি / তিনটি / চারটি)।

উত্তরঃ একটি।

১২. একটি বাসার মধ্যে সাধারণত কুঠুরি থাকে (এক-দুটি / দুই-তিনটি / চার-পাঁচটি/ ছয়-সাতটি)।

উত্তরঃ চার-পাঁচটি।

১৩. মাটি খুঁড়ে তোলবার সময় কুমোরে-পোকা কেমন শব্দ করে ? (মৃদু শব্দ / কর্কশ শব্দ / তীক্ষ্ণস্বরে গুনগুন শব্দ / কোনো শব্দ করে না)

উত্তরঃ তীক্ষ্ণস্বরে গুনগুন শব্দ।

১৪. ডিম পাড়া সম্পূর্ণ হলে কুমোরে-পোকা কী করে?

(বাসা পাহারা দেয় / বাচ্চাদের খাবার আনে / বাসা ভেঙে ফেলে / বাসার খোঁজ না নিয়ে চলে যায়)

উত্তরঃ বাসার খোঁজ না নিয়ে চলে যায়।

∆ সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান-২

১. কুমোরে-পোকা কীভাবে বাসা তৈরির উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে?

উত্তরঃ ডিম পাড়ার সময় হলে কুমোরে-পোকা প্রথমে উপযুক্ত স্থান খুঁজতে বের হয়। পছন্দসই স্থান পেলে সে বারবার সেখানে উড়ে গিয়ে ভালো করে পরীক্ষা করে দেখে। নিশ্চিত হওয়ার পরেই সে বাসা নির্মাণ শুরু করে।

২. কুমোরে-পোকা কীভাবে মাটি সংগ্রহ করে বাসা তৈরি করে?

উত্তরঃ কুমোরে-পোকা ভিজে মাটির উপর বসে চোয়াল দিয়ে ছোট ছোট মাটির ডেলা বানায়। সেই ডেলাগুলি মুখে করে এনে দেয়ালে অর্ধচক্রাকারে বসায়। এভাবে একটির পর একটি ডেলা জুড়ে কুঠুরি তৈরি করে।

৩. বাসা তৈরির সময় কুমোরে-পোকা গুনগুন শব্দ করে কেন?

উত্তরঃ মাটি খুঁড়ে তোলা ও দেয়ালে বসানোর সময় কুমোরে-পোকা তীক্ষ্ণস্বরে গুনগুন শব্দ করে। এই শব্দ থেকেই বোঝা যায় যে সে বাসা নির্মাণ করছে। অদৃশ্য স্থানেও এই শব্দ শুনে তার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।

৪. কুমোরে-পোকা কীভাবে মাকড়সা শিকার করে?

উত্তরঃ কুমোরে-পোকা মাকড়সাকে দেখামাত্র তার ঘাড় কামড়ে ধরে। তারপর বারবার হুল ফুটিয়ে বিষ ঢেলে তাকে অসাড় করে দেয়। এতে মাকড়সা মারা যায় না, কিন্তু নড়াচড়া করতে পারে না।

৫. কুমোরে-পোকা কেন মাকড়সাকে মেরে ফেলে না?

উত্তরঃ কুমোরে-পোকা মাকড়সাকে সম্পূর্ণ মেরে ফেলে না, বরং অসাড় করে রাখে। এতে মাকড়সা জীবিত থাকে এবং পচে যায় না। ফলে ডিম ফুটে বেরোনো বাচ্চার জন্য তাজা খাদ্য পাওয়া যায়।

৬. একটি কুঠুরি সম্পূর্ণ হলে কুমোরে-পোকা কী করে?

উত্তরঃ কুঠুরি তৈরি হলে সে তার ভিতরে লালা দিয়ে প্রলেপ দেয়। তারপর শিকার সংগ্রহ করে কুঠুরির ভিতরে জমা করে। শেষে একটি ডিম পেড়ে মুখ বন্ধ করে দেয়।

৭. কুমোরে-পোকা দূর থেকে মাটি আনতে বাধ্য হয় কেন?

উত্তরঃ বাসার কাছে উপযুক্ত কাদামাটি না পেলে কুমোরে-পোকা দূরবর্তী স্থান থেকেও মাটি আনে। কখনও দেড়-দুশো গজ দূর থেকেও মাটি সংগ্রহ করে। এতে বাসা তৈরিতে সময় বেশি লাগে।

৮. একটি বাসায় একাধিক কুঠুরি তৈরি করার কারণ কী?

উত্তরঃ কুমোরে-পোকা প্রতিটি কুঠুরিতে একটি করে ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার পর সেই কুঠুরির গা ঘেঁষে নতুন কুঠুরি তৈরি করে। এভাবে এক বাসায় চার-পাঁচটি কুঠুরি তৈরি হয়।

৯. ডিম পাড়া সম্পূর্ণ হলে কুমোরে-পোকার আচরণ কেমন হয়?

উত্তরঃ ডিম পাড়া শেষ হলে কুমোরে-পোকা বাসার আর কোনো খোঁজ রাখে না। বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য আগে থেকেই জমা করে রেখে যায়। তারপর সে অন্যত্র চলে যায়।

১০. কুমোরে-পোকার পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় কীভাবে পাওয়া যায়?

উত্তরঃ কুমোরে-পোকা অনেক দূর থেকে মাটি এনে ধৈর্যের সঙ্গে বাসা তৈরি করে। শিকার ধরে কৌশলে অসাড় করে ডিমের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করে। তার কাজের মধ্যে পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও স্বভাবজাত বুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়।

📌 আরো দেখোঃ

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ইতিহাস প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি ভূগোল প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত প্রশ্নোত্তর Click Here

📌ষষ্ঠ শ্রেণি বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply