কলিঙ্গদেশের ঝড়-বৃষ্টি কবিতার সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী (SAE) প্রশ্নোত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | Kolingo Deshe Jhorbrishti Kobitar Question Answer Class 9 Bengali wbbse

সাহিত্য সঞ্চয়ন
নবম শ্রেণি বাংলা (প্রথম ভাষা)

কলিঙ্গদেশের ঝড়-বৃষ্টি কবিতার সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | Kolingo Deshe Jhorbrishti Kobitar SAE Question Answer Class 9 Bengali wbbse

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : কলিঙ্গদেশের ঝড়-বৃষ্টি (মুকুন্দরাম চক্রবর্তী) নবম শ্রেণি বাংলা | Short and Explanatory Question Answer Class 9 Bengali wbbse

• প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও : (প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৩)

১. ‘দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।’— কারাের অঙ্গ দেখতে না পাওয়ার কারণ কী ?

উত্তরঃ কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। হঠাৎই কলিঙ্গদেশে ভয়ংকর প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দেয়। আকাশ ঘন কালাে মেঘে ছেয়ে যায়। ফলে সমগ্র কলিঙ্গদেশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। কালাে মেঘের বুক চিরে ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। অন্ধকার এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে, তা ভেদ করে প্রজাদের নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখার উপায় থাকে না।

২. ‘ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।’— উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাে।

উত্তরঃ কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় শুরু হয়। তৈরি হয় বন্যার আশঙ্কা প্রবল। ঝড়বৃষ্টি কলিঙ্গদেশে সর্বনাশ ডেকে আনে। উদ্ধৃতাংশটিতে সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের বর্ণনা করা হয়েছে। কলিঙ্গদেশে আকাশের উত্তর-পূর্ব অর্থাৎ ঈশান কোণে মেঘের ঘনঘটায় চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। প্রজারা সেই অন্ধকারে নিজেদেরকেও দেখতে পাচ্ছে না। মেঘের বুক চিরে অবিরাম বিদ্যুতের ঝিলিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তােলে।

৩. প্রলয় গনিয়া প্ৰজা ভাবয়ে বিষাদ।’— প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রজাদের বিষাদের কারণ আলােচনা করাে।

উত্তরঃ কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উধৃতিটিতে কলিঙলাদেশের প্রজাদের কথা বলা হয়েছে।

কলিঙ্গদেশের আকাশে হঠাৎ প্রচুর মেঘ জমাট বাঁধে। ঈশান কোণে জমাটবাঁধা মেঘ সারা আকাশ ঢেকে ফেললে সর্বত্র অন্ধকার নেমে আসে। উত্তরের প্রবল বাতাসে দূর থেকে মেঘের গম্ভীর আওয়াজ ভেসে আসে। মেঘের প্রবল গর্জন ও ঘনঘন বিদ্যুৎচমকের সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টিপাত। মহাপ্লাবনের আশঙ্কায় প্রজারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

৪. ‘বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।’— ‘রড়’ শব্দের অর্থ কী ? কোথাকার প্রজারা কী কারণে বিপাকে পড়েছিল ? ১+ ২

উত্তরঃ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উধৃতাংশে উল্লিখিত ‘রড়’ শব্দের অর্থ পালিয়ে যাওয়া।

দেবী চণ্ডীর ইচ্ছা অনুযায়ী কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টি বিপর্যয় ডেকে আনে। আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে যায়। ঘন অন্ধকারে প্রজাদের নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখার উপায় থাকে না। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে মেঘের গম্ভীর গর্জন ও ঝড়ের তাণ্ডবে সেখানকার প্রজারা বিপদের আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

৫. ‘পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী।’— ‘পরিচ্ছিন্ন’ শব্দের অর্থ কী ? কবি এরকম বলেছেন কেন ? ১+২

উত্তরঃ কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি কবিতায় পাওয়া ‘পরিচ্ছিন্ন’ শব্দটির অর্থ হল ‘বিভেদ’ বা পার্থক্য’।

দেবীচণ্ডীর ইচ্ছায় কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়| সমগ্র আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। বিদ্যুৎ চমক আর মেঘগর্জনের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। প্রজারা ভয় পেয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। সবুজ শস্যের খেত ধুলােয় ঢেকে যায়। প্রবল বৃষ্টিতে জলে ডুবে যায় চারপাশ। জল-স্থল একাকার হয়ে পথ হারিয়ে যায়। মেঘের গর্জনে কেউ কারাের কথা শুনতে পায় না। অন্ধকার এতটাই নিবিড় হয়ে যায় যে দিন এবং রাত্রিকেও কেউ আলাদা করতে পারে না।

৬.’চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।’— উধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাে।

উত্তরঃ কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি কবিতায় দেবী চণ্ডীর নির্দেশে কলিঙ্গদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে ঘন কালাে মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। প্রবল মেঘগর্জনে প্রজারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। ঝড়ের তাণ্ডবে তারা ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। সবুজ শস্যের খেত ধুলােয় ঢেকে যায়। বৃষ্টি এতটাই তীব্র হয় যে কবি মনে করেন, আটটি দিকের পাহারাদার আটটি হাতি-ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন,পুষ্পদন্ত, সার্বভৌম এবং সুপ্রতীক যেন তাদের খুঁড়ের সাহায্যে চারমেঘে জল
দিচ্ছে। আর তার ফলেই প্রবল বৃষ্টিপাতে চারপাশ জলে ডুবে গেছে।

৭. ‘কলিঙে সােঙরে সকল লােক যে জৈমিনি’— জৈমিনি কে ? কলিঙ্গবাসীর জৈমিনিকে স্মরণের কারণ কী ? ১+ ২

উত্তরঃ কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশে উল্লিখিত জৈমিনি হলেন এক বাক্‌সিদ্ধ ঋষি। এনার নাম স্মরণ করলে বজ্রপাত বন্ধ হয়ে যায় এই বিশ্বাসে বজ্রপাতের সময় মানুষ এঁর নামকীর্তন করে।

কলিঙাদেশের আকাশে হঠাৎ ঘন কালাে মেঘ জমে ওঠে। আকাশভাঙা মেঘ থেকে বৃষ্টি নামে মুশলধারায়। মেঘের গম্ভীর গর্জন, ঘনঘন বজ্রপাত, ঝড়ের প্রবল তাণ্ডবে ভীত কলিঙ্গাবাসী এই ভীষণ বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার আশায় ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে।

৮.“না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ’— কারা, কেন রবির কিরণ দেখতে পায়নি ? ১+২

উত্তরঃ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উধৃতাংশটিতে ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলিঙ্গবাসীর কথা বলা হয়েছে।

কলিগদেশের আকাশে হঠাৎই প্রচুর মেঘ জমাট বাঁধে। মেঘের ঘনঘটার।মাঝে বিদ্যুতের ঝলকে সমগ্র কলিঙদেশ কেঁপে ওঠে। দূরদিগন্তে মেঘের। গম্ভীর আওয়াজের সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। কালাে মেঘে চারদিকঅন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় দিনরাত্রির পার্থক্যও বােঝা সম্ভব হয় না। কলিঙ্গাবাসীর সাত দিন একটানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে তারা সূর্যের। আলাে দেখতে পায় না।

৯. ‘জলে মহী একাকার পথ হইল হারা।’— কী কারণে কোথাকার পথ হারিয়ে গেছে ?

উত্তরঃ বাক্যটি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি কবিতা থেকে নেওয়া। কবি এখানে চারি মেঘের বৃষ্টিতে কলিঙ্গদেশে কী ঘটেছে সেই ছবি এঁকেছেন।
চার মেঘ বর্ষণের জন্য আকাশে জড়াে হয়েছিল। তাদের মিলিত বর্ষণ তাে সাধারণ বর্ষণ নয়। মুশলধারে প্রবলতম বর্ষণ। সে বর্ষণ এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষণ। সেই বিপুল জলধারায় সব কিছু ডুবে একাকার। ডাঙার চিহ্নমাত্র নেই। জল আর জল। এইভাবে ভয়াবহ প্লাবনে যাতায়াতের পথ গভীর জলের তলে হারিয়ে গেছে।

১০. ‘ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল’— প্রসঙ্গসহ উপমার্থ বুঝিয়ে দাও।

উত্তরঃ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতার এই অংশে কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী শিলাবৃষ্টির ছবি এঁকেছেন। মিলিত চার মেঘে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। সঙ্গে পড়ছিল শিল। এক-একটি শিলের চেহারা বিশাল। ভাদ্র মাসে তালগাছ থেকে পাকা তাল পড়ে। শিলার চেহারা এক-একটি পাকা তালের মতাে। বড়াে আকারের শিল। ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়ছিল।

১১. ‘প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।’— প্রজাদের মন বিষাদগ্রস্ত কেন ?

উত্তরঃ আকাশের ঘনীভূত মেঘের অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে। এমনকি নিজের অঙ্গও। ঈশান কোণ থেকে উড়তে থাকা মেঘে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, মেঘ ডাকছে। আকাশে চার রকমের মেঘ মিলিত হয়ে একসঙ্গে বৃষ্টি শুরু করেছে। মুষলধারে বৃষ্টি। কলিঙ্গদেশে শুরু হয়েছে মহাদুর্যোগ। মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তাদের মনে। প্রলয় মানে তাে ধ্বংস। ঘরবাড়ি, খেতখামার, রুজিরােজগার সবকিছুই নষ্ট এমনকি জীবনহানিও। এ কথা ভেবে প্রজারা চিন্তিত, উদবিগ্ন ও ব্যাকুল। আর সেজন্য তাদের মন বিষাদগ্রস্ত।

১২. জলে মাহি কীভাবে একাকার হয়েছে ? ‘পৱিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী।’— অর্থ বুঝিয়ে দাও ?

উত্তরঃ চারি মেঘ বর্ষণের জন্য আকাশে জড়াে হয়েছে। তাদের মিলিত বর্ষণ সাধারণ বর্ষণ নয়। যেন মহাপ্রলয়ের মুশলধারে বর্ষণ এবং সে বর্ষণ এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষণ। সেই বিপুল জলধারায় সবকিছু ডুবে একাকার। স্থলের চিহ্নমাত্র নেই। শুধুই জল আর জল। এভাবে জলে ডুবে মহি একাকার।

আকাশ মেঘে ঢেকে থাকায় আর বিরামহীন বর্ষণে এমনই পরিস্থিতি হয়েছে দিন, সন্ধ্যা ও রাত্রি যেন একাকার। মনে হচ্ছে তাদের সীমাবদ্ধতা যেন নেই।

১৩. মেঘে কৈল অন্ধকার’–মেঘ কীভাবে অন্ধকার করল ?

উত্তরঃ কালকেতু মা চণ্ডীর বরপুত্র। চণ্ডীদেবীর কৃপায় কালকেতু গুজরাট নগরী গড়েছে। কিন্তু তা জনশূন্য। গুজরাট নগরীতে বসবাসের জন্য কলিঙ্গবাসীদের আহ্বান করা হয়। কিন্তু তা মান্য না করায় মা চণ্ডী তাদের ওপর রুষ্ট হন। তিনি দেবরাজ ইন্দ্রের শরণাপন্ন হন। দেবরাজ চণ্ডীর অনুরােধ রক্ষার জন্য চার মেঘদলকে কলিঙ্গদেশে মহাপ্রলয়ের আদেশ দেন। মেঘদল কলিঙ্গের আকাশে হাজির হয়। ঘনীভূত মেঘমালার অন্ধকারে কলিঙ্গদেশে নেমে আসে যেন রাতের অন্ধকার। মেঘ এইভাবে কলিঙ্গদেশকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে।

১৪. ‘দুড় দুড় হড় হুড’— কী শব্দ এবং শব্দগুলি কী অর্থ প্রকাশ কৱছে ? এই ধরনের শব্দের প্রভাবে কী ঘটল ?

উত্তরঃ ‘দুড় দুড়’ ও ‘হুড় হুড়’ ধ্বনি বা আওয়াজ প্রকাশক শব্দ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ‘দুড়’ বা ‘হুড়’ দু-বার করে উচ্চারিত হয়েছে। সেজন্য ‘দুড়দুড়’ বা ‘হুড়হুড়’ শুধু ধ্বন্যাত্মক শব্দ নয়, ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বৈত। এই শব্দজোড়া ধ্বনি বা আওয়াজের প্রাবল্য প্রকাশ করছে।

ধেয়ে-আসা ঝড়-ঝঞ্জায় ও ‘দুড় দুড় হুড় হুড়’ আওয়াজে কলিঙ্গবাসী মহাপ্রলয় ও ঘােরতর প্রলয়ের আশঙ্কায় প্রচণ্ড ভয় পেয়ে ঘর ছেড়ে পালাতে লাগল।

১৫. চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গদেশে কারা কীভাবে ধ্বংস ঘটিয়েছেন ?

উত্তরঃ দেবী মা চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান ও নদনদী কলিঙ্গদেশে প্রলয় বা ধ্বংস ঘটিয়েছেন।

বীর হনুমান পবননন্দন কলিঙ্গদেশে হাজির হন। যত মঠ। মন্দির ছিল সেগুলি ভেঙে খানখান করে ধ্বংস করেন। আর নদনদী বৃষ্টির জলে ফুলে-ফেঁপে প্রবল বন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাহাড়-প্রমাণ বড়াে বড়াে ঢেউয়ে ঘরবাড়ি দলমল করে ধ্বংস করে।

১৬. কলিঙ্গদেশে সাপ জলে ভেসে বেড়াচ্ছে কেন ?

উত্তরঃ এক সপ্তাহ ধরে বিরামহীন বৃষ্টি হয়েছে মুশলধারে। ওই মহাদুর্যোগে কলিঙ্গদেশে জল-স্থল বলে আলাদা করে কোনাে অস্তিত্ব নেই। জলে সব ডুবে একাকার। সাপেরা গর্তে থাকে। সে-সব জলের তলে। সাপেরাও কলিঙ্গবাসীদের মতাে গৃহহারা, উদ্বাস্তু। কাজেই তারা জলে ভেসে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহাদুর্যোগ কাউকে রেয়াত করেনি।

১৭. কী পরিস্থিতিতে কলিঙ্গের সকল লােক ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করছে ? স্মরণ করার কারণ কী ?

উত্তরঃ দেবরাজ ইন্দ্রের নির্দেশে চার প্রকার মেঘ কলিঙ্গ দেশের আকাশে জড়াে হয়ে মহাদুর্যোগ শুরু করেছে। শুরু হয়েছে ভয়ানক ঝড় আর মুশলধারে বৃষ্টি। তাদের সঙ্গী হয়েছে বজ্রের কানফাটানাে গর্জন আর ঘনঘন বজ্রপাত। বজ্রহুংকারের বর্ণনায় কবি বলেছেন, ‘হুড় হুড় দুড় দুড় শুনি ঝন ঝন কিংবা ‘সঘনে চিকুর পড়ে বেঙ্গ-তড়কা বাজ৷’ এই পরিস্থিতিতে প্রাণভয়ে ভীত কলিঙ্গবাসী স্মরণ করছে ঋষি জৈমিনিকে।

কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড় বৃষ্টির কারণে বারবার বাজ পড়ার আতঙ্কে ভিতর কলিঙ্গবাসী মিনিকে স্মরণ করে।

১৮. কলিঙ্গদেশে শিলাবৃষ্টির বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ কলিঙ্গদেশে চার মেঘের মিলিত ধারায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। ‘নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর। শুধু বৃষ্টি নয়, শিলাবৃষ্টিও হচ্ছে। সামান্য হালকা শিল নয়, বেশ বড়ােসড়াে চেহারার। চেহারার বিশালত্ব বােঝানাের জন্য কবি একটি সুন্দর উপমা ব্যবহার করেছেন, ‘ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল।’ ভাদ্র মাসে পাকা তাল গাছ থেকে পড়ে। সেই পাকা তালের মতাে শিলের বৃহদাকার চেহারা, তা যখন পড়ছে তখন অক্লেশে ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়ছে।

১৯. ‘করি-কর সমান বরষে জলধারা।’— তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

উত্তরঃ ‘করি-কর’ হলাে হাতির গুঁড়। সমান’ অর্থাৎ, মতাে বা তুল্য। চারি মেঘের মিলিত বর্ষণধারা প্রবলতম। ওই প্রবলতম বর্ষণধারা হাতির শুড় তুল্য। একটি সুন্দর উপমার মাধ্যমে কবি তুলে ধরেছেন। হাতি শুঁড় দিয়ে যেমন প্রবল গতিতে জল ছোঁড়ে, কলিঙ্গের বৃষ্টির জলোচ্ছাস তেমনই তীব্র। আলোচ্য পঙ্ক্তিতে এই ছবি স্পষ্ট হয়েছে।

২০. ‘দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার৷’— কেউ অঙ্গ দেখতে পাচ্ছে না কেন ?

উত্তরঃ আলােচ্য উদ্ধৃতিতে কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম ঘনীভূত মেঘছায়ার গাঢ়ত্বের কথা বােঝাতে চেয়েছেন। কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি আসন্ন। তার আকাশে চার মেঘ আবর্ত, সংবর্ত, দ্রোণ মিলিত হয়েছে। তাদের ঘনীভূত ছায়ায় অন্ধকার খুবই গাঢ়। ফলে কলিঙ্গ দেশবাসীর কেউ নিজের শরীরের অঙ্গ নিজে দেখতে পাচ্ছে না। সেখানে ঝড়-বৃষ্টির প্রলয় ঘটতে চলেছে। এই অবস্থা তারই পূর্বাভাস।

২১. ‘ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।’— উদ্ধৃতাংশটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ উদ্ধৃতিটি কবিকঙ্কণ মুকুন্দরামের কালকেতু আখ্যানের অংশবিশেষ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’-র অন্তর্গত। দেবরাজ ইন্দ্রের আদেশে চারি মেঘ আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ কলিঙ্গের আকাশে একত্র হয়েছে। ফলে আকাশ ঘন মেঘে আচ্ছন্ন। ঘনীভূত মেঘের ছায়ায় গাঢ় অন্ধকার নেমেছে কলিঙ্গে। এই অবস্থায় আকাশের উত্তর-পূর্ব কোণ, নাম ঈশান, সেখানে মেঘ উড়ে গিয়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কিছু পরেই ঝড়-বৃষ্টির ভয়ংকর প্রলয়কাণ্ড শুরু হবে। এ তারই পূর্বাভাস।

২২. ‘নিমিষেকে জোড়ে মেঘ গগন-মণ্ডল।’— গগনমণ্ডলে মেঘ জড়ো হয়ে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি করল ?

উত্তরঃ আলোচ্য অংশটি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কবিতা থেকে নেওয়া। কবি এখানে কলিঙ্গদেশের আকাশে চার মেঘের মিলিত শক্তির কথা বলেছেন। দেবরাজ ইন্দ্রের আদেশে চার মেঘ জড়ো হয়েছে। তাতে ভয়ানক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ঘন ঘন ভযংকর মেঘ ডাকছে। মেঘছায়ার অন্ধকারে চারদিক ঢেকে গেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি এল বলে। শিগগির ধ্বংসকাণ্ড শুরু হবে। প্রলয়-পরিস্থিতির সব আয়ােজন যেন তৈরি।

∆ কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার বিষয়বস্তু

∆ MCQ প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নের মান ১)

∆ SAQ প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নের মান ১)

∆ বড়ো প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নের মান ৫)

📌 আরো দেখুনঃ

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply

  • Post comments:0 Comments
  • Reading time:9 mins read