কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার বড় প্রশ্নোত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | Kolingo Deshe Jhorbrishti Kobitar Essay Type Question Answer Class 9 Bengali wbbse

সাহিত্য সঞ্চয়ন
নবম শ্রেণি বাংলা (প্রথম ভাষা)

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | Kolingo Deshe Jhor Brishti Essay Type Question Answer Class 9 Bengali wbbse

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি নবম শ্রেণি বাংলা | Essay Type Question Answer Kolingo Deshe Jhor Brishti Class 9 Bengali wbbse

• কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে উত্তর দাও : (প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৫)

১.’প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।’— কী দেখে প্রজাদের প্রলয় মনে হয়েছিল ? এই প্রলয়ের ফলে কী হয়েছিল ? ১+ 8

উত্তরঃ মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গাদেশে ঝড়বৃষ্টি’ নামক কাব্যাংশে কলিঙদেশের আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। উত্তর-পূর্ব কোণে মেঘের সঙ্গে দেখা দেয় ব্জ্রবিদ্যুৎ। চারদিকে মুশলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়। এইসব দেখেই প্রজাদের মনে প্রলয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। কলিঙ্গের আকাশে ঈশান কোণে মেঘ জমা হয়। ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়৷ দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর আওয়াজের সঙ্গে শুরু হয় মুশলধারায় বৃষ্টি। বিপদের আশঙ্কায় প্রজারা ঘর ছেড়ে দ্রুত পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে শস্যখেত এবং সবুজ গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। আটটি দিকের আটটি হাতি যেন বৃষ্টিধারায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রবল বৃষ্টিতে পথঘাট জলে ডুবে যায়। ঘাের অন্ধকারে দিনরাত্রির পার্থক্য মুছে যায়। জলমগ্ন রাস্তায় সাপ ভেসে বেড়াতে থাকে। ভীত প্রজারা এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। সাত দিন ধরে একটানা বৃষ্টির ফলে কৃষিকাজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরবাড়িও নষ্ট হয়ে যায়। ভাদ্র মাসের তালের মতাে বড়াে আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। দেবীর আদেশে সমস্ত নদনদী কলিঙ্গ নগরের দিকে ছুটে আসে। পর্বতের মতাে উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। দেবী চণ্ডীর আদেশে সৃষ্ট এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসহায়, ভীত প্রজারা বিপদের আশঙ্কায় অবশেষে কলিঙ্গ ত্যাগ করে চলে যায়।

২. কলিজাদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কবিতায় প্রকাশিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্র কতটা বাস্তবতার সঙ্গে চিত্রিত হয়েছে আলােচনা করাে।

অথবা, ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছিল তা কীভাবে কলিঙ্গবাসীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল বুঝিয়ে দাও। ৫

উত্তরঃ মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেবী চণ্ডী তার কৃপাধন্য ব্যাধ কালকেতুর তৈরি গুজরাট নগরে বসতি প্রতিষ্ঠার জন্য কলিঙ্গদেশে প্লাবন ঘটান। কলিঙ্গের আকাশে ঈশান কোণে মেঘ জমা হয়। ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর ধ্বনির সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। বিপদের আশঙ্কায় প্রজারা ঘর ছেড়ে দ্রুত পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে শস্যখেত এবং সবুজ গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। আটটি দিকের আটটি হাতি যেন বৃষ্টিধারায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রবল বর্ষণে পথঘাট জলে ডুবে যায়। ঘাের অন্ধকারে দিন রাত্রির পার্থক্য মুছে যায়। জলমগ্ন রাস্তায় সাপ ভেসে বেড়াতে থাকে। ভীত প্রজারা এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে নিস্তার পেতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। সাত দিন ধরে অবিরাম বর্ষণের ফলে কৃষিকাজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরবাড়িও নষ্ট হয়ে যায়। ভাদ্র মাসের তালের মতাে বড়াে আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। দেবীর আদেশে সমস্ত নদনদী কলিঙ্গের দিকে ছুটে আসে। দেবীর আদেশে পর্বতের মতাে উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে বাড়ি-ঘর ভেঙে পড়ে। দেবী চণ্ডীর আদেশে সৃষ্ট এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসহায়, ভীত প্রজারা বিপদের আশঙ্কায় শেষপর্যন্ত কলিঙ্গ ত্যাগ করে চলে যায়।

৩. ‘অম্বিকামঙ্গল গান শ্রীকবিকঙ্কণ’— ‘অম্বিকামঙ্গল’ এবং তাঁর কবি ‘শ্রীকবিকঙ্কণ’ এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি অংশে বর্ণিত প্রাকৃতিক দৃশ্যের পরিচয় দাও।

উত্তরঃ কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখা গ্রন্থটি ‘চণ্ডীমঙ্গল’ নামে পরিচিত। ‘চণ্ডী’ই হলেন অম্বিকা। সেজন্য কবি কাব্যের মধ্যে একাধিক জায়গায় ‘চণ্ডীমঙ্গল’কে ‘অম্বিকামঙ্গল’ নামে অভিহিত করেছেন।

‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিবিশেষ। আবার কারাে-কারাে মতে পদবি-পরিচায়ক। যাই হােক, নামের বদলে উপাধি অনেক সময় নাম হয়ে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কবি তাঁর কাব্যে ‘মুকুন্দরাম’ নামের পরিবর্তে ‘শ্ৰীকবিকঙ্কণ’ উপাধিকে নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

কলিঙ্গদেশের আকাশে মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। মেঘচ্ছায়ায় চারদিকে এমন অন্ধকার নেমেছে যে, কেউ নিজের অঙ্গ দেখতে পাচ্ছে না। ঈশান কোণ থেকে উড়ে আসা মেঘে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ঘনঘন, মেঘ ডাকছে ‘দুর দুর’ করে। চার প্রকার মেঘের সম্মিলিত বৃষ্টি মুশলধারে নেমেছে। মনে হচ্ছে প্রলয় বুঝি আসন্ন। হুড়হুড় দুড়দুড় করে ঝড় এসে যেন ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ধুলায় ধূসরিত সবুজ গাছপালা, লতা-তৃণ, মাঠের সবুজ ফসল। আট দিকহস্তির জল বর্ষণে বৃষ্টি নেমেছে যেন ‘করি-কর’ সমান বরিষে জলধারা। সেই সঙ্গে ‘সঘনে চিকুর পড়ে বেঙ্গতড়কা বাজ।’ বৃষ্টিতে পৃথিবী জলময়। মেঘের ঘনঘন গর্জনে কারও কথা কেউ শুনতে পাচ্ছে না। দিবাভাগে নেমেছে সন্ধ্যার অন্ধকার। গর্ত ছেড়ে সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাত দিন ধরে অবিরাম বর্ষণ চলেছে। ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতাে ঘরের চাল ভেদ করে শিল পড়ছে মেঝেতে। জলের বুকে উঠেছে পাহাড়প্রমাণ বড়াে বড়াে ঢেউ। ঢেউগুলি উঠে পড়ে ঘরগুলা করে দলমল। এই হলাে ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’-র মহাদুর্যোগের প্রাকৃতিক দৃশ্য।

৪. ঝড়-বৃষ্টির প্রলয়ে বিধ্বস্ত কলিঙ্গর ছবিটি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কীভাবে চিত্রিত করেছেন লেখাে।

উত্তরঃ ঝড়-বৃষ্টির চিত্রিত ছবিঃ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কালকেতু আখ্যানে কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টির প্রলয়ংকর রূপের অসামান্য ছবি এঁকেছেন। কলিঙ্গের আকাশে চার মেঘের মিলিত শক্তির ফলে শুরু হয় তুমুল ঝড়-বৃষ্টি। ঝড় এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল হুড়হুড় দুড়দুড় শব্দে। ঝড়ের প্রচণ্ড আঘাতে বুঝি ঘর ভেঙে পড়ে এমনই আশঙ্কা গৃহবাসীদের সন্ত্রস্ত করে। ফলে তারা ঘর ছেড়ে ছুটে পালায়। ঝড়ের উল্লিখিত ধুলােয় সবুজ ঘাস, গাছ ও মাঠের শস্য ঢাকা পড়ে।

ঝড়ের আঘাতে শস্য উলটে পড়ে। এ ক্ষতিও কম নয়। ঝড় চলতে চলতেই চার মেঘের তুমুল বর্ষণ শুরু হয়। আট দিগহস্তী যেন চার মেঘের জল বর্ষণ করতে থাকে। এ বর্ষণ এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম ধারায় চলে। পাল্লা দিয়ে চলে ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকানাে। থেমে থেমে বাজ পড়ে কড় কড় করে। মুশলধারে বর্ষণে স্থলভাগ চলে যায় জলের তলে। সর্বত্র জলময়। জলের তলে পথ হারিয়ে যায়। মাঠের শস্য ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। এমনকি সাপের গর্ত জলের তলায় চলে যায়। তারা গৃহহারা হয়ে জলে ভাসতে থাকে। মেঘগর্জনে কণ্ঠস্বর ডুবে যায়। একে অপরের কথা শুনতে পায় না। মেঘের পর্দার আড়ালে সূর্য অদৃশ্য থাকে। দিন, সন্ধ্যা ও রাত্রি নিজ নিজ সীমারেখার মাঝে চিহ্নিত থাকে না।

মনে হয় তারা তাদের পৃথক অস্তিত্ব হারিয়ে ‘এক দেহে লীন’। শিলাবৃষ্টিও চলতে থাকে। বড়াে বড়াে শিল। চেহারায় ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতাে। ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়ে। চারিদিকের জলে ওঠে পর্বতপ্রমাণ বিশাল বিশাল ঢেউ। সে ঢেউ ঘরগুলির মাথায় চড়ে চালায় দলন-মলন। কাজেই কলিঙ্গদেশের সর্বত্র ধ্বংস আর ধ্বংস। অপূর্ব দক্ষতায় মুকুন্দরাম ধ্বংসের নিখুঁত ও বাস্তব ছবি তুলে ধরেছেন।

৫. ‘চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল।’ – চারি মেঘ’ কী কী ? দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক আদিষ্ট মেঘেরা কীভাবে সজ্জিত হয়ে ঝড়, বিদ্যুৎ চমকানাে, বজ্রপাত ও শিলাসহ বর্ষণ করেছে তা সবিস্তারে আলােচনা করাে।

উত্তরঃ ‘চারি মেঘ’ হলাে আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ।

মেঘের সজ্জা ও ঝড়ের আগমনঃ দেবরাজ ইন্দ্র চার মেঘকে আদেশ করেন কলিঙ্গদেশে গিয়ে বর্ষণ করতে। মেঘেরা কলিঙ্গদেশের আকাশে মিলিত হয়ে আকাশ ঢেকে ফেলে। মেঘসজ্জায় অন্ধকার নেমে আসায় কেউ নিজের অঙ্গও দেখতে পায় না। ঈশান কোণে ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকায়। মেঘ ডাকে। মেঘযাত্রা শুরু হয়। ঝড় হুড়হুড় দুড়দুড় করে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কলিঙ্গবাসী ভয়ে ঘর ছেড়ে ছুটে পালায়। বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড় ।

তারপর শুরু হয় ‘চারি মেঘ’-এর মিলিত ধারার তুমুল বৃষ্টি। ‘করি-কর সমান বরিষে জলধারা। চারি মেঘের জল আট দিগহস্তী বর্ষণ করতে থাকে। চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ। বিদ্যুৎ চমকায় ঘনঘন। ব্যাং-এর মতন থেকে থেকে তড়াক করে লাফিয়ে লাফিয়ে বাজ পড়ছে।

বর্ষণ ও বজ্রপাতঃ প্রবল বর্ষণে স্থল ডুবে জলের সঙ্গে একাকার হয়। পথ ডুবে যায়। গর্তও জলের তলে চলে যাওয়ায় আশ্রয়হীন সাপ জলে ভেসে বেড়ায়। দিন, সন্ধ্যা ও রাত্রির সীমাবদ্ধতা মুছে গিয়ে এক হয়ে যায়। পৃথক অস্তিত্ব থাকে না। সাত দিন ধরে নিরন্তর বৃষ্টি ঝরে। ঘরগুলি জলে বিনষ্ট হয়। মাঠে চাষের কাজ বন্ধ থাকে। বজ্রপাত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য কলিঙ্গবাসী বজবারক ঋষি জৈমিনির নাম স্মরণ করে। শিল ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়ে। সেগুলির চেহারা ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতাে। চারিদিকে পর্বতপ্রমাণ বিশাল বিশাল ঢেউ ওঠে। সেগুলি ঘরের মাথার ওপর চড়ে দল-মল করে।

৬. কলিঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি-প্রলয়ের কারণ ও তার প্রস্তুতি আলােচনা করাে।

উত্তরঃ ঝড়-বৃষ্টি-প্রলয়ের কারণঃ ‘কবিকঙ্কণ চণ্ডী মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কালজয়ী সৃষ্টি। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। এই কাব্যের কালকেতু উপাখ্যানের প্রধান চরিত্র মা চণ্ডীর স্নেহধন্য কালকেতু। মায়ের কৃপায় প্রচুর অর্থের মালিক হয়ে কালকেতু গুজরাট নগরী স্থাপন করে মায়ের নির্দেশ অনুযায়ী। কালকেতুর চেষ্টায় গুজরাট নগরী স্থাপিত হয়। কিন্তু অধিবাসী না থাকায় তা জনশূন্য। মনের দুঃখে কালকেতু মা চণ্ডীর কাছে প্রার্থনা করে তার নির্মিত গুজরাট নগরী যাতে লােকে ভরে ওঠে। কালকেতু। জানে মায়ের কৃপা ছাড়া সম্ভব নয়। ভক্তের দুঃখ ও বেদনা মা বােঝেন। মা কালকেতুর মনের ইচ্ছা পূরণের জন্য চেষ্টা করেন। কলিঙ্গদেশের লােকজন যাতে গুজরাট নগরে আসে, সেজন্য মা কলিঙ্গবাসীদের কাছে আবেদন রাখেন। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। মা দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে যান। সিদ্ধান্ত হয় ঝড়-বৃষ্টির প্রলয় ঘটাবেন ইন্দ্র। কলিঙ্গের মানুষকে উদ্বাস্তু করে গুজরাট নগরে আসতে বাধ্য করবেন। সেইমতাে ইন্দ্র মেঘেদের আদেশ করেন কলিঙ্গদেশে গিয়ে ঝড়-বৃষ্টি-প্রলয় ঘটাতে। সেজন্য কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি।

ঝড়-বৃষ্টি-প্রলয়ের প্রস্তুতিঃ তারই প্রস্তুতি হিসেবে কলিঙ্গদেশের আকাশে চার ধরনের মেঘের মিলিত সাজসজ্জা। আকাশময় ঘনীভূত মেঘ। মেঘের গাঢ় ছায়ায় অন্ধকার নেমেছে ঘন হয়ে। অন্ধকারে কেউ নিজের অঙ্গ দেখতে পাচ্ছে না। ঈশান কোণ থেকে মেঘ উড়তে শুরু করেছে। ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। উচ্চনাদে মেঘগর্জন। হুড়হুড় দুড়দুড় শব্দে ঝড় ধেয়ে আসছে। চার মেঘের মিলিত জলধারা বর্ষণের জন্য দিগহস্তীরা তৈরি। এইভাবে ঝড়-বৃষ্টি-প্রলয়ের প্রস্তুতিপর্ব গড়ে উঠেছে।

৭. বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।-‘রড়’ শব্দের অর্থ কী ? কোথাকার প্রজার কথা বলা হয়েছে ? বিপাকের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। ১+১+৩

উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতা থেকে নেওয়া। এখানে ‘রড়’ শব্দটির অর্থ হলো ছুট বা দৌড়। ঝড়-বৃষ্টির ভয়াবহতায় মানুষ দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে— এই অর্থেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

এখানে কবি কলিঙ্গদেশের প্রজাদের, অর্থাৎ কলিঙ্গবাসীদের কথাই উল্লেখ করেছেন। ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়া সাধারণ মানুষের অসহায় অবস্থাই এতে ফুটে উঠেছে।

এই কবিতায় বর্ণিত বিপাকের স্বরূপ মূলত এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ঈশান কোণ থেকে বিদ্যুৎ চমকানো কালো মেঘ উঠে আসে এবং উত্তরের প্রবল বাতাসের সঙ্গে মিশে সারা কলিঙ্গদেশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। মেঘের ভয়ংকর গর্জনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মুশলধারে বৃষ্টি ও প্রচণ্ড ঝড়। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছপালা, ফসল ধুলোয় ঢেকে যায় এবং শস্য নষ্ট হয়ে পড়ে। চারদিকে জল জমে যাওয়ায় রাস্তা-ঘাট চেনা যায় না। একটানা বৃষ্টি ও মেঘের গর্জনে মানুষ কারও কথা শুনতে পায় না, দিন আর রাতের পার্থক্য বোঝা যায় না। আতঙ্কিত মানুষ জৈমিনি মুনিকে স্মরণ করে। অবিরাম বৃষ্টিতে সাপ পর্যন্ত গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে আসে, চাষির ফসল ও সঞ্চিত শস্য পচে যায়। বিশাল ঢেউয়ের মতো জল উঠে এসে ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ করে দেয়। এইভাবেই কবি কলিঙ্গদেশের ভয়াবহ বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেছেন।

৮. কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।’- ‘সোঙরে’ শব্দের অর্থ কী? ‘জৈমিনি’ কে? সমগ্র কলিঙ্গবাসীর তাকে স্মরণের কারণ কী ? ১+১+৩=৫

উত্তরঃ উদ্ধৃত শব্দটি মুকুন্দরামের রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়–বৃষ্টি’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘সোঙরে’ শব্দটির অর্থ হলো ‘স্মরণ করে’ বা মনে করে ডাকা।

‘জৈমিনি’ হলেন একজন প্রখ্যাত মুনি। তিনি মহাভারতের একটি অংশের রচয়িতা এবং পূর্বমীমাংসা দর্শনশাস্ত্রের প্রণেতা হিসেবে পরিচিত। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী তিনি ‘বজ্রনিবারক’, অর্থাৎ বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সক্ষম ঋষি হিসেবে খ্যাত।

দেবী চণ্ডীর মায়ায় কলিঙ্গ দেশে ভয়ংকর ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। ঈশান কোণ থেকে বজ্রসহ কালো মেঘ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমগ্র কলিঙ্গ দেশের আকাশ ঢেকে ফেলে। চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায় এবং তারপর শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। মেঘের গর্জনে আকাশ যেন ফেটে যাচ্ছে এমন মনে হয়। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড বাতাস বইতে থাকে। এই দুর্যোগে সাধারণ মানুষ খুব বিপদে পড়ে যায়। তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে থাকে। চারপাশের সবুজ গাছপালা ধুলোয় ঢেকে যায় এবং খেতের ফসল উলটে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। চারদিকে এমন প্রবল বৃষ্টি হয় যে মনে হয় যেন অষ্ট গজরাজ তাদের শুঁড় দিয়ে জল ছিটিয়ে দিচ্ছে। বারবার বজ্রপাত ও মেঘের গর্জনের কারণে কেউ কারো কথা শুনতে পায় না। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত কলিঙ্গবাসী বজ্রপাত থেকে রক্ষার আশায় বজ্রনিবারক মুনি জৈমিনিকে স্মরণ করেন, কারণ তাদের বিশ্বাস— এই বিপদ থেকে একমাত্র তিনিই তাদের রক্ষা করতে পারেন।

৯. ‘নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর।’— ‘নিরবধি’ ও ‘নিরন্তর’ শব্দ দুটির অর্থ লেখো। সাতদিন নিরন্তর বৃষ্টির ফলে প্রজাদের দুর্দশার যে ছবি কবি তুলে ধরেছেন তার বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি মধ্যযুগের একজন খ্যাতনামা কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতা থেকে নেওয়া। উদ্ধৃত অংশে ব্যবহৃত ‘নিরবধি’ শব্দের অর্থ হলো সীমার শেষ নেই বা অবিরত, আর ‘নিরন্তর’ শব্দের অর্থ হলো একটানা বা বিরামহীন।

দেবী চণ্ডীর ক্রোধের ফলে কলিঙ্গদেশে টানা সাত দিন ধরে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হয়। এই দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও ভয়ংকর ঝড়ের কারণে কলিঙ্গের সাধারণ মানুষ বা প্রজাদের জীবন সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টি আর ভয়াল মেঘের গর্জনে মানুষ এতটাই আতঙ্কিত হয়ে যায় যে তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। চারদিকে শুধু জল আর জল। মাঠে থাকা ফসল ঝড়ে পড়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায় এবং ঘরে সঞ্চিত শস্যও পানিতে ভিজে পচে যেতে থাকে।

সমগ্র কলিঙ্গদেশ জলে ডুবে যায়। কোথায় রাস্তা আর কোথায় জলাশয়—এই পার্থক্য বোঝা যায় না। জলের সাপ পর্যন্ত রাস্তায় উঠে আসে। আকাশ সারাক্ষণ কালো মেঘে ঢাকা থাকে এবং বারবার বজ্রপাত হতে থাকে। দিনের আলো থাকলেও অন্ধকারের মতো মনে হয়, ফলে দিন আর রাতের তফাৎ বোঝা যায় না। বজ্রের প্রচণ্ড শব্দে একে অপরের কথা শোনা যায় না। এই ভয়াবহ অবস্থায় মানুষ ভয়ে জৈমিনি মুনির নাম স্মরণ করতে থাকে।

বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে আকাশ থেকে তালের মতো বড় বড় শিলাখণ্ড পড়ে ঘরের চাল ভেঙে যায়। প্রবল ঝড় ও পাহাড়ের মতো উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, টানা সাত দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও ঝড়ের ফলে কলিঙ্গের প্রজাদের দুর্দশা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

∆ কলিঙ্গ দেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার বিষয়বস্তু

∆ MCQ প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নের মান ১)

∆ SAQ প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নের মান ১)

∆ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নের মান ৩)

📌 আরো দেখুনঃ

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply

  • Post comments:0 Comments
  • Reading time:11 mins read