হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
—হীরেন্দ্রনাথ দত্ত
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় গল্পের প্রশ্ন উত্তর অষ্টম শ্রেণির বাংলা | Horichoron Bandopadhyay Golper Question Answer Class 8 Bengali wbbse
সাহিত্য মেলা
অষ্টম শ্রেণির বাংলা
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় গল্পের লেখক পরিচিতি, বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ ও টীকা, হাতে কলমে প্রশ্ন ও উত্তর অষ্টম শ্রেণির বাংলা | Horichoron Bondopaddhay Golper Question Answer Class 8 Bengali wbbse
📌অষ্টম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় গল্পের লেখক পরিচিতি, বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ ও টীকা, হাতে কলমে প্রশ্ন ও উত্তর অষ্টম শ্রেণির বাংলা | Horichoron Bondopaddhay Golper Question Answer Class 8 Bengali wbbse
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
—হীরেন্দ্রনাথ দত্ত
সারসংক্ষেপঃ শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়ের প্রথম যুগে যাঁরা রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে অধ্যাপনার কাজে এসে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা সকলেই কেউ অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন না। দুএকজন অবশ্যই অসাধারণ ছিলেন। তাঁদের কথা অবশ্যই আলাদা। যাঁরা সাধারণের তালিকায় পড়েন, তাঁরা স্বেচ্ছায় এমন সব কার্যভার নিজের হাতে গ্রহণ করেছিলেন এবং তাতে ভীষণভাবে সফল হয়েছিলেন, যা দেখলে সাংসারিক বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিরা সেটাকে হঠকারিতা বলে মনে করবেন। মনে হবে একটা সাধনায় ভুলে গিয়ে তাঁরা সাধ্যাতীতের স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু শেষে অবিশ্বাসীর অবিশ্বাসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাঁরা আপন সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছেন। কথায় বলে কর্তা অকিঞ্চন, কীর্তি সুমহান। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে কর্তার তুলনায় কীর্তি বহুগুণে বৃহৎ। বস্তুতঃ তা নয়, কীর্তি কখনো কর্তাকে ছাড়িয়ে যায় না। সেই শক্তি নিশ্চয়ই তাঁদের চরিত্রের মধ্যে নিহিত ছিল। আর ছিল নিষ্ঠা এবং অভিনিবেশ, বিদ্যাবুদ্ধি তো ছিলই । এই দুই গুণের সংমিশ্রণে সাধারণ মানুষের দ্বারাও অসাধারণ কার্য সম্পাদন সম্ভব হয়েছিল। শিক্ষাক্ষেত্রে শান্তিনিকেতনের দান অপরিসীম। শান্তিনিকেতন দেশকে প্রথম শিখিয়েছে যে বিদ্যালয় কেবলমাত্র বিদ্যাদালের স্থান নয়, বিদ্যাচর্চার স্থান, শুধু বিদ্যাচর্চা নয়, বিদ্যা বিকিরণের স্থান।
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় যখন রবীন্দ্রনাথের নির্দেশে বঙ্গীয় শব্দকোষ রচনায় প্রবৃত্ত হন তখন বঙ্গীয় পণ্ডিত সমাজে তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন। বয়সে নবীন, অভিজ্ঞতায় অপ্রবীন, বিশ্ব- বিদ্যালয়ের ছাপটুকু পর্যন্ত নেই। প্রামাণিক কোনো গ্রন্থ রচনা করে পাণ্ডিত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হননি। কিন্তু গুরুদেবের মনে তা নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। ক্ষিতিমোহন বাবু বলতেন গুরুদেব নিজ হাতে আমাদের গড়ে দিয়েছেন। নইলে যে বিদ্যা শিখে এসেছিলাম তাও ঠিকমতো ব্যবহার করা আমাদের সাধ্যে কুলোত না। রবীন্দ্রনাথের সারা জীবনের সাধনা ছিল উদ্বৃত্তের সাধনা। জমিদারি মহল্লা পরিদর্শন করতে গিয়ে আমিনের সেরেস্তার নিযুক্ত হরিচরণকে তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, দিনে সেরেস্তার কাজ করে রাত্রে কী করেন ? উত্তর পেলেন সংস্কৃতের চর্চা করি। এইটুকুর মধ্যেই তিনি যা দেখার দেখে নিলেন। নিয়ে এলেন হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তখন তিনি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে “সংস্কৃত প্রবেশ” নামে একটি পুস্তক রচনায় ব্যস্ত ছিলেন। তা হস্তান্তর করেন হরিচরণের হাতে– অধ্যাপনার অবসরে কবির নির্দেশ মতো ওই বই রচনা তিনি সমাপ্ত করেন। হরিচরণ তাঁর কর্মনিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে সকলের শ্রদ্ধা, গুরুদেবের বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন।
শান্তিনিকেতনে যোগ দেবার দুই বৎসর পরে ৩৭-৩৮ বৎসর বয়সে তিনি একটি অভিধান রচনার কাজে হাত দিয়েছিলেন। ১৩১২ বঙ্গাব্দে অভিধান রচনার কাজ শুরু হয়। রচনা কাজ শেষ হয় ১৩৩০ বঙ্গাব্দে— জীবনের চল্লিশটি বছর এক ধ্যান, এক জ্ঞান, এক কাজ নিয়ে তিনি কাটিয়েছেন, এ কাজ মহাযোগীর জীবন। বাঙালির চরিত্রে অনেক গুণ আছে কিন্তু নিষ্ঠার অভাব। এদিক থেকে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালি জাতির সম্মুখে এক অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছিলেন। অভাব-দারিদ্র্য তাঁকে পিছুটান দিয়েছিল তবে কিছু বিশিষ্ট মানুষের সহযোগিতাও তিনি পেয়েছিলেন। পেয়েছেন মহারাজ মনীন্দ্রচন্দ্রের মাসিক পঞ্চাশ টাকার বৃত্তি, কোনো ক্রমে এগিয়েছে তাঁর সংসারের চাকা। অভিধান লেখা শেষ হলেও তা ছাপার সামর্থ্য বিশ্বভারতীর ছিলনা। তাই কয়েক বছর হরিচরণকে অপেক্ষা করতে হয়। নিষ্ঠার যথার্থ পুরস্কার অভীষ্ট কার্যের সফল সমাপ্তি, এর বেশি কোনো প্রত্যাশা তাঁর ছিল না। তবে দীর্ঘ শ্রমের নিষ্ঠার কিছু জাগতিক পুরস্কার জুটে ছিল হরিচরণের কপালে— কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘সরোজিনী স্বর্ণপদক’, বিশ্বভারতী তাকে ‘দেশিকোত্তম’ (ডি. লিট) উপাধিতে সম্মানিত করেন। এরূপ বিশাল একটি সংস্কৃত অভিধান তিনি একা রচনা করেছিলেন, চল্লিশ বছরের নিবিড় সাধনায় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে যেতে পারে। অভিধান ছাড়াও তিনি বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন। অবসর গ্রহণের পরেও অভিধান শেষ হবার পর ১৪ বছর তিনি জীবিত ছিলেন। তাঁকে দেখলে মনে হতো প্রসন্নচিত্তেই ছিলেন। এইরকম সাধক মানুষের মনে কোথাও একটি প্রশান্তি বিরাজ করে। এইজন্য সুখে-দুঃখে কখনো তাঁরা বিচলিত হন না।
নামকরণঃ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একনিষ্ঠ সাহিত্য সেবক নিষ্ঠাবান কর্মী। প্রতিভাবান ব্যক্তিদের প্রতিভা নির্ণয়ে রবীন্দ্রনাথের জুড়ি ছিল না। এই রচনার নামকরণ দেখে মনে হয় এ বুঝি শুধুমাত্র জীবনী। কিন্তু এটি শুধুমাত্র তথ্যসমৃদ্ধ রচনা নয়। হরিচরণের আন্তরিক পরিচয়ও এতে পাওয়া যায়। এই রচনায় রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন প্রসঙ্গ, হরিচরণের কাজের প্রতি নিষ্ঠা অধ্যাবসায় সবই বর্ণিত হয়েছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে এই রচনাংশটির সমস্ত প্রসঙ্গ জুড়ে রয়েছেন বঙ্গীয় শব্দকোষ রচয়িতা চিরনমস্য হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তাঁর নামে গদ্যের নামকরণ সুপ্রযুক্ত হয়েছে।
লেখক পরিচিতি : হীরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০৩ – ১৯৯৫) : ইন্দ্রজিৎ নামে সমধিক পরিচিত। ইন্দ্রজিতের খাতা ও ইন্দ্রজিতের আসর তাঁর প্রধান গ্রন্থ। তাঁর লেখা অন্যান্য গ্রন্থগুলির মধ্যে অচেনা রবীন্দ্রনাথ, আপন মনের মাধুরী মিশায়ে, কালের যাত্রার ধ্বনি, খেলা ভাঙার খেলা, শান্তিনিকেতনে একযুগ, শেষ পারানির কড়ি, সাহিত্যের আড্ডা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
শব্দার্থ : হঠকারিতা– বিবেচনা না করে কাজ করা। বিদ্যোৎসাহী— বিদ্যা প্রসারে উৎসাহ দানকারী। অকিঞ্চন– নিঃস্ব/দরিদ্র। অভিনিবেশ— মনোনিবেশ। উপযাচক— বিনা আহ্বানে আসা।
হাতে কলমে’র প্রশ্নোত্তর : অষ্টম শ্রেণি বাংলা তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন।
১.১ হীরেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত দুটি বই-এর নাম লেখো ।
উত্তরঃ হীরেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত দুটি বই হলো অচেনা রবীন্দ্রনাথ’, ‘আপন মনের মাধুরী মিশায়ে’ ।
১.২ কোন্ নামে তিনি সমধিক পরিচিত ?
উত্তরঃ ইন্দ্ৰজিৎ নামে তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন।
২। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :
২.১ শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়ে প্রথম যুগে যাঁরা রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে বিদ্যালয়ের কাজে এসে যোগ দিয়েছিলেন, এমন কয়েকজনের কথা আলোচনা করো।
উত্তরঃ বিধুশেখর শাস্ত্রী, ক্ষিতিমোহন সেন, হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ হলেন শান্তিনিকেতনের প্রথম যুগের মানুষ যাঁদের রবীন্দ্রনাথ আশ্রম বিদ্যালয়ে আহ্বান করেছিলেন এবং তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে সকলেই বিদ্যালয়ের কাজে যোগ দিয়েছিলেন।
বিধুশেখর শাস্ত্রী : ইনি ইংরেজি ভাষায় অভিজ্ঞ টোলের পণ্ডিত। খুব অল্প বয়সে তিনি কাব্যতীর্থ হয়েছিলেন। কাশীতে গিয়ে তিনি দর্শন, ন্যায়শাস্ত্র, বেদান্ত অধ্যয়ন করেন। ভারতীয় পণ্ডিত সমাজে সর্বাগ্রগণ্যদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম ।
ক্ষিতিমোহন সেন : সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত, তাঁরও জিজ্ঞাসা নতুন পথে প্রবাহিত হয় । মধ্যযুগীয় সাধুসন্তদের বাণী সংগ্রহ করে ভারতীয় জীবন সাধনার বিস্মৃত প্রায় এক অধ্যায়কে তিনি পুনঃরুজ্জীবিত করেন। এই সমস্ত সম্ভব হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার ফলে। কর্মজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বিশ্বভারতী বিদ্যাভবনের অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত ছিলেন ।
২.২ ‘এর কৃতিত্ব অনেকাংশে শান্তিনিকেতনের প্রাপ্য….’ -কোন্ কৃতিত্বের কথা বলা হয়েছে ? তার বহুলাংশ ‘শান্তিনিকেতনের প্রাপ্য’ বলে লেখক মনে করেছেন কেন ?
উত্তরঃ শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয়ে যাঁরা প্রথম যুগে রবীন্দ্রনাথের ডাকে এসে কাজে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা সকলেই খুব অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন না। দু-একজন অবশ্যই আলাদা। অন্য সকলের পক্ষে এ- কথা খাটে না। কিন্তু তাঁরা স্বেচ্ছায় এমন সব কার্যভার গ্রহণ করেছিলেন এবং তা সম্পন্ন করেছিলেন যার তুলনা খুঁজে পাওয়া ভার। প্রবল মনোযোগ , বিদ্যাবুদ্ধি। এবং একনিষ্ঠ সাধনার দ্বারা তাঁরা এই মহৎ কর্ম সম্পাদন করতে পেরেছিলেন। তাঁদের মতো সাধারণ মানুষজন যে বৃহৎ ও মহৎ কর্ম সফল করতে পেরেছিলেন বলে লেখক মনে করেছেন— সেই কৃতিত্বের কথা এখানে বলা হয়েছে।
এর কৃতিত্ব অনেকটাই শান্তিনিকেতনের প্রাপ্য কারণ এইরকম মানুষ শান্তিনিকেতন নিজ হাতে তৈরি করে নিয়েছে। স্থান মাহাত্ম্য বলে একটা কথা আছে যে স্থান মানুষের কাছ থেকে বড়ো কিছু দাবি করতে পারে তবে সেই অধিকার অর্জন করতে হয় । বিদ্যালয়ের কাজ বিদ্যাচর্চার পথ সুগম করে দেওয়া, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যা ভাবেনি শান্তিনিকেতন তা ভেবেছে। শান্তিনিকেতনের জল হাওয়ায়, সেখানকার অনুকূল পরিবেশে এইসব মহৎ মানুষেরা তাঁদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পেরেছেন। শান্তিনিকেতন ছাড়া আর কোথাও তা সম্ভব হতো না বলে এই কৃতিত্ব শান্তিনিকেতনের প্রাপ্য বলেই লেখক মন্তব্য করেছেন।
২.৩ ‘আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে শান্তিনিকেতনের দান অপরিসীম।’— লেখক এ প্রসঙ্গে শান্তিনিকেতনের কোন্ কোন গুরুত্বপূর্ণ অবদানের উল্লেখ করেছেন ?
উত্তরঃ শিক্ষাক্ষেত্রের শান্তিনিকেতনের অবদান অপরিসীম। রবীন্দ্রনাথ আদর্শ শিক্ষাকেন্দ্র তৈরির উদ্দেশ্যে শান্তিনিকেতন স্থাপন করেন। লেখক বলেছেন যে শান্তিনিকেতনই দেশকে প্রথম শিখিয়েছে যে বিদ্যালয় শুধুমাত্র বিদ্যাদানের কেন্দ্র নয়, বিদ্যাচর্চার কেন্দ্র। সে স্থান বিদ্যা বিকিরণের স্থান। সূর্য যেভাবে তার আলো দিকে দিকে ছড়িয়ে দেয়, শান্তিনিকেতন সেভাবেই দেশে বিদ্যা বিকিরণ করেছে। বিদ্যা অর্জন করার পথ যাতে সুগম হয় সেদিকেও শান্তিনিকেতন দৃষ্টি দিয়েছে। যে সময় আমাদের দেশের বিদ্যালয়গুলি এসব ভাবেওনি শান্তিনিকেতন তার প্রতিষ্ঠার শুরুতেই সে সব ভেবেছে এবং সেজন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে। এছাড়া ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, তিনি নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন এবং তাঁর দ্বারা যাঁদের তিনি আহ্বান করেছিলেন তাঁদের কাছ থেকেও সবটুকু পেয়েছিলেন।
২.৪ ‘আপাতদৃষ্টিতে যে মানুষ সাধারণ তাঁরও প্রচ্ছন্ন সম্ভাবনা রবীন্দ্রনাথের সর্বদর্শী দৃষ্টিতে এড়াতে পারেনি।’— লেখক এ প্রসঙ্গে কাদের কথা স্মরণ করেছেন ? জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায় তাঁদের অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তরঃ লেখক এই প্রসঙ্গে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্ষিতিমোহন সেন, বিধুশেখর শাস্ত্রী প্রমুখের নাম স্মরণ করেছেন। এদের মধ্যে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তিনিকেতনের সংস্কৃত পণ্ডিতের পদ অলংকৃত করেন। তিনি বাংলা ভাষার বৃহত্তম অভিধান বঙ্গীয় শব্দকোষ রচনা করেন। বিধুশেখর শাস্ত্রী ছিলেন বৌদ্ধশাস্ত্র ও পালি ভাষার পণ্ডিত । তিনি ইংরেজি না জেনেও বহু ভাষাবিদ ছিলেন । ক্ষিতিমোহন সেন সংস্কৃত পণ্ডিত থেকে তাঁর নিজের জীবন জিজ্ঞাসাকে অন্যপথে প্রবাহিত করেন মধ্যযুগীয় সাধুসন্তদের বাণী সংগ্রহ করে ভারতীয় জীবন সাধনার মৃত প্রায় এক অধ্যায়কে তিনি পুনরুজ্জীবিত করেন।
২.৫ ‘এঁরা প্রাণপণে সেই দাবি পূরণ করেছেন।’— কাদের কথা বলা হয়েছে ? কীই বা সেই দাবি ? সেই দাবিপূরণে প্রাণপণে তাঁদের নিয়োজিত হওয়ারই বা কারণ কী বলে তোমার মনে হয় ?
উত্তরঃ এঁরা হলেন হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধুশেখর শাস্ত্রী, ক্ষিতিমোহন সেন প্রমুখ। শান্তিনিকেতন স্থাপনের পর রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন শিক্ষার মান উন্নয়ন করার জন্য নতুন গ্রন্থ রচনা করতে। তাই বিদ্যাচর্চায় নতুন ধারার প্রবর্তনে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। তাঁদের কাছে রবীন্দ্রনাথের দাবি ছিল তারা যেন এই জ্ঞানচর্চার মহৎকর্মে আত্মনিয়োগ করেন। সেই দাবি পূরণে এইসব মহৎ ব্যক্তিদের প্রাণপণে নিয়োজিত হবার অন্যতম কারণ রবীন্দ্রনাথের সর্বদর্শী দৃষ্টি । তিনি মানুষের মধ্যে প্রচ্ছন্ন সম্ভাবনা দেখতে পেতেন। এছাড়া ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রেরণা, উৎসাহ ও নির্দেশনা। যার ফলে এঁরা নিজেদের কাজ ছাড়াও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রকে পরিপুষ্ট করেছেন।
২.৬ শান্তিনিকেতনের সঙ্গে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছিল ? প্রবন্ধ অনুসরণে তাঁর সারাজীবনব্যাপী সারস্বত-সাধনার পরিচয় দাও।
উত্তরঃ জমিদারি মহল্লা পরিদর্শন করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ আমিনের সেরেস্তায় নিযুক্ত কর্মচারী হরিচরণকে দেখে প্রশ্ন করেন দিনে সেরেস্তার কাজ সেরে রাত্রে কী করেন ? উত্তর পান ‘সংস্কৃত চর্চা করি।’ কবি তাঁর রচিত পাণ্ডুলিপি চেয়ে নেন ও কিছুদিন পরেই সংস্কৃতজ্ঞ কর্মচারীটিকে তিনি নিজের কাছে অর্থাৎ শান্তিনিকেতনে ডেকে নেন। তাঁর হাতে ‘সংস্কৃত প্রবেশ’— নামে পুস্তক রচনার ভার দেন। তারপর কাজে যোগ দেবার পর তাঁকে বৃহত্তম অভিধান রচনার কাজে নিযুক্ত করেন। ১৩১২ বঙ্গাব্দে তিনি অভিধান রচনার কাজ শুরু করেন। পাণ্ডুলিপি রচনার কাজ শেষ হয় ১৩৩০ বঙ্গাব্দে। মাঝে আর্থিক অনটনের জন্যে লেখার কাজ থমকে যায়।
গুরুদেব নিজে হরিচরণকে সাহায্য করার জন্য বিদ্যোৎসাহী মহারাজ মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দীকে আবেদন করেন। মহারাজ রবীন্দ্রনাথের ওই আবেদনে সাড়া দিয়ে মাসিক পঞ্চাশ টাকা বৃত্তির ব্যবস্থা করে দেন। ১৩১৮ সাল থেকে অভিধান সংকলনের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত তেরো বছর তিনি এই বৃত্তি পেয়ে এসেছেন। মুদ্রণ কাজ শুরু হওয়ার আগেই মহারাজা মনীন্দ্রচন্দ্রের মৃত্যু হয়। ১০৫ খণ্ডের মুদ্রণ শেষ হবার আগে রবীন্দ্রনাথও বিদায় নেন। ১৩১২ বঙ্গাব্দে যে রচনার শুরু হয়েছিল ১৩৫২ বঙ্গাব্দে তা সমাপ্ত হয়। জীবনের চল্লিশ বছর ধরে এক ধ্যান, এক জ্ঞান, এক কাজ নিয়ে হরিচরণ কাটিয়েছেন। তাঁর এই কাজ মহাযোগীর জীবন। তিনি বাঙালি জাতির সম্মুখে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছিলেন। তাঁর নিষ্ঠার যথার্থ পুরস্কার ছিল তাঁর কাজের সফল সমাপ্তি।
২.৭ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যের পরিচয় প্রবন্ধটিতে কীভাবে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে আলোচনা করো।
উত্তরঃ শান্তিনিকেতনে আশ্রম বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে রবীন্দ্রনাথ যে সকল কর্মী মানুষকে পেয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন অন্যতম। তাঁর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের আন্তরিক সম্পর্ক ছিল গভীর। জমিদারি মহল্লার কাজ পরিদর্শন করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ খুঁজে এনেছিলেন আর এক গুণীজনকে যিনি হয়তো সারাজীবন সেরেস্তার হিসাব করতে করতে জীবন কাটিয়ে দিতেন। সামান্য বাক্যালাপে তিনি হরিচরণের মধ্যে সম্ভাবনার স্ফুলিঙ্গ দেখতে পেয়েছিলেন। তাই তাঁকে নিয়ে আসেন শান্তিনিকেতনে। হরিচরণের রচিত পাণ্ডুলিপিটি ভালোভাবে পড়ে কবি বুঝে যান তাঁর মধ্যে উদ্বৃত্ত কিছু রয়েছে। যার দ্বারা তিনি বাড়তি কিছু দেওয়ার ক্ষমতা ধরেন।
এরপর কবির নির্দেশে তিনি ‘সংস্কৃত প্রবেশ’ নামক গ্রন্থটি রচনার ভার নেন এবং সেটি তিন খণ্ডে সমাপ্ত হয়। এরপর কবি তাঁকে বঙ্গীয় শব্দকোষ রচনার বৃহৎ কাজে আত্মনিয়োগ করার দায়িত্ব দেন। আর্থিক দুরবস্থার জন্য রবীন্দ্রনাথ মহারাজা মনীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর কাছে বৃত্তির জন্য নিজে আবেদন করেন। কবির আবেদন শিরোধার্য করে মহারাজ হরিচরণের তেরো বছর ব্যাপী মাসিক পঞ্চাশ টাকা বৃত্তির ব্যবস্থা করে দেন। কবি হরিচরণ বাবু সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করেন— “মহারাজের বৃত্তিলাভ ঈশ্বরের অভিপ্রেত, অভিধানের সমাপ্তির পূর্বে তোমার জীবননাশের শঙ্কা নাই।” কবিবাক্য মিথ্যা হয় না, হয়ওনি। তাঁদের মধ্যে প্রভু কর্মচারীর যে সম্পর্ক তার বাইরে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ অনন্য প্রতিভাধর হরিচরণকে দিয়ে যোগ্য কাজ করিয়ে নিয়েছিলেন। এভাবেই কবি রবীন্দ্রনাথ ও হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য নানা চিত্র প্রবন্ধটিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।
২.৮ ‘একক প্রচেষ্টায় এরূপ বিরাট কাজের দৃষ্টান্ত বিরল!’— কোন্ কাজের কথা বলা হয়েছে ? একে ‘বিরাট কাজ’ বলার কারণ কী ?
উত্তরঃ হীরেন্দ্রনাথ দত্ত বিরচিত ‘হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়’ রচনায় লেখক গুরুদেবের নির্দেশে যে বঙ্গীয় শব্দকোষ রচিত হয়েছিল এখানে সেই কাজের কথা বলা হয়েছে । ১০৫ খণ্ডের বঙ্গীয় শব্দকোষ রচনা সহজ কাজ ছিল না। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের একক চেষ্টায় চল্লিশ বছরের সাধনায় তা সম্ভব করে দেখিয়েছিলেন। অন্যদেশে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো বিদ্বৎ পরিষৎ অর্থাৎ পণ্ডিত গোষ্ঠীর দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে যে কাজ— সেই কাজ একক চেষ্টায় সম্পন্ন করেছেন হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অভিধানের বৈশিষ্ট্য ছিল বাংলা এবং সংস্কৃত সাহিত্য থেকে প্রত্যেক শব্দের বহুবিধ প্রয়োগের দৃষ্টান্ত। তাই এই কাজকে বিরাট কাজ বলা হয়েছে।
২.৯ হরিচরণবাবুকে দেখে তাঁর সম্পর্কিত শ্লোকটি আমার মনে পড়ে যেত— শ্লোকটি কার লেখা ? শ্লোকটি উদ্ধৃত করো ।
উত্তরঃ শ্লোকটি প্রথম যুগের কর্মীদের সম্পর্কে দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়- এর লেখা। ‘কোথা গো ডুব মেরে রয়েছ তলে / হরিচরণ ! কোন গরতে ? / বুঝেছি ! শব্দ- অবধি-জলে / মুঠাচ্ছ খুব অরথে।’
২.১০ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত অভিধানটির নাম কী ? গ্রন্থটির রচনা মুদ্রণ ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে নানাবিধ ঘটনার প্রসঙ্গ প্রাবন্ধিক কীভাবে স্মরণ করেছেন ?
উত্তরঃ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অভিধানটির নাম হলো ‘বঙ্গীয় শব্দ-কোষ’। লেখক হীরেন্দ্রনাথ দত্ত অত্যন্ত সুকৌশলে ও সুনিপুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এই রচনাটি লিপিবদ্ধ করেছেন। এর সাথে দেখিয়েছেন কবিগুরু কেমনভাবে একটি প্রতিভাকে চয়ন করে এনেছেন তাঁর শান্তিনিকেতনের জন্য। হরিচরণের কর্মনিষ্ঠা লক্ষ করে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে অভিধান রচনায় নিয়োজিত করেন। কবির আদেশকে আশীর্বাদ বলে ধরে নিয়ে ১৩১২ বঙ্গাব্দে হরিচরণ অভিধান রচনা শুরু করেন। নদী আর্থিক অনটনে কাজ বন্ধ হবার উপক্রম হলে গুরুদেব নিজে উপযাজক হয়ে আর এক গুণীর পৃষ্ঠপোষক মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্রের কাছে হরিচরণের বৃত্তির জন্য অনুরোধ জানান। কবির আবেদন ব্যর্থ হয়নি। মহারাজা হরিচরণের মাসিক ৫০ টাকা বৃত্তির ব্যবস্থা করে দেন। অভিধান রচনা শেষ হবার পর মুদ্রিত করার সামান্য সামর্থ্য নিয়ে হরিচরণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে তা প্রকাশের আয়োজন করেন। কারণ এই বিরাট গ্রন্থ প্রকাশের সামর্থ্য বিশ্বভারতীর ছিল না। প্রাচ্য বিদ্যামহার্ণব নগেন্দ্রনাথ বসু মুদ্রণের ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। শান্তিনিকেতনের প্রাক্তন ছাত্ররা এবং কিছু অনুরাগী শিক্ষিত ব্যক্তি নিয়মিত গ্রাহক হয়ে এই ব্যাপারে আনুকুল্য করেন। পরে সাহিত্য অকাদেমির উদ্যোগে বঙ্গীয় শব্দকোষ প্রকাশিত হয়।
২.১১ প্রাবন্ধিকের সঙ্গে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত স্মৃতির প্রসঙ্গ প্রবন্ধে কীরূপ অনন্যতার স্বাদ এনে দিয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তরঃ প্রাবন্ধিকের সঙ্গে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতির প্রসঙ্গ রচনাটিতে এক অনন্যতার স্বাদ এনে দিয়েছে, কারণ যখন তিনি শান্তিনিকেতনের কাজে যোগ দেন তখনো তাঁর অভিধানের মুদ্রণকার্য শেষ হয়নি। লেখক লাইব্রেরি গৃহের একটি অনতিপ্রশস্ত প্রকোষ্ঠে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিবিষ্ট মনে কাজ করতে দেখেছেন। কর্মে নিবিষ্ট হরিচরণ বাবুকে দেখে লেখকের দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি শ্লোকের কথা মনে পড়ে যেত। লেখক যখন শান্তিনিকেতনে তাঁকে দেখেন তখন তিনি পঁচাত্তর বছর বয়সী এবং বিশ্বভারতীর কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। মুদ্রণ শেষ হবার পরও লেখক তাঁকে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ভ্রমণ করতে দেখেছেন। ক্ষীণদৃষ্টির জন্য সব সময় সবাইকে চিনতে পারতেন না। চিনতে পারলে সস্নেহে কুশলবার্তা জিজ্ঞাসা করতেন। শেষ পর্যন্ত মস্তিষ্কের শক্তি অটুট ছিল। গ্রন্থ শেষ হবার পরেও চোদ্দো বছর তিনি জীবিত ছিলেন। লেখক দেখেছেন যে তিনি সবসময় প্রসন্নচিত্তে থাকতেন। ১৯৫৯ সালে ৯২ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান হয়। তাঁর সঙ্গে লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা প্রবন্ধটিতে এক অনন্য স্বাদ এনে দিয়েছে।
২.১২ ‘তিনি অভিধান ছাড়াও কয়েকখানা গ্রন্থ রচনা করে গিয়েছেন।’— হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য কয়েকটি গ্রন্থের নাম ও বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তরঃ লেখক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে ‘সংস্কৃত প্রবেশ’ গ্রন্থটি রচনা করেন তিনখণ্ডে। এটি ছিল একটি বহুমুখী রচনা, সংস্কৃত শিক্ষার সহস্র প্রণালী উদ্ভাবনই ওই পুস্তকের উদ্দেশ্য ছিল। এছাড়াও তিনি লিখেছেন ‘কবির কথা’, ‘রবীন্দ্রনাথের কথা’, ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’। লেখক এখানে তাঁর ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’ রচনাটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। ১০৫ খণ্ডে এটি মুদ্রিত হয়েছিল। এর বিষয় ছিল বাংলা ও সংস্কৃত বিষয়ক অভিধান। এই অভিধানের বৈশিষ্ট্য ছিল— বাংলা এবং সংস্কৃত সাহিত্য থেকে প্রত্যেক শব্দের বহুবিধ প্রয়োগের দৃষ্টান্ত। এই অভিধান সাহিত্যরূপে মহামূল্যবান।
২.১৩ হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি প্রাবন্ধিক হীরেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর অনুরাগ কীভাবে ব্যক্ত করেছেন তা বিশদভাবে আলোচনা করো।
উত্তরঃ লেখক হীরেন্দ্রনাথ দত্ত হরিচরণের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। রচনাটির প্রতিটি ছত্রে ছত্রে লেখক তাঁর আন্তরিক শ্রদ্ধা ফুটিয়ে তুলেছেন হরিচরণ বন্দোপাধ্যায়ের প্রতি। তিনি হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিভার সাথে ইংরেজ ঐতিহাসিক ও লেখক গিবনের তুলনা পর্যন্ত করে দেখিয়েছেন। ১২ বছরের সাধনায় গিবনের— ‘দ্য ডিক্লাইন অ্যান্ড ফল অফ দ্য রোমান এম্পায়ার’ নামক গ্রন্থের রচনার পর তিনি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল জীবনের সব কাজ ফুরিয়ে গেছে কিছুই আর করবার নেই। কিন্তু লেখক দেখেছেন হরিচরণের মস্তিষ্ক সচল, তিনি বেশ প্রসন্নচিত্তেই বিরাজ করেছেন। লেখক তাঁকে সাধক মানুষের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং বলেছেন তাঁর মাঝে এক প্রশান্তি বিরাজ করুক। সুখে দুখে তিনি সাধকদের মতোই কখনো বিচলিত হতেন না।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর : হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় অষ্টম শ্রেণি বাংলা তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন।
◆ ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : প্রতিটি প্রশ্নের মান – ১
১. হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিম্নলিখিত কোন্ গ্রন্থটি সংকলন করেন ?
(চরিত্রমালা / বঙ্গীয় শব্দকোষ / বাংলা গানের ইতিহাস / ইতিহাস বিচিত্রা)।
উত্তরঃ বঙ্গীয় শব্দকোষ।
২. হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসেন— (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর / গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর / দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৩. বিধুশেখর শাস্ত্রী ছিলেন— (ইংরেজি স্কুলের প্রিন্সিপাল / হোটেলের কর্মী / পুরোহিত / টোলের পণ্ডিত)।
উত্তরঃ টোলের পণ্ডিত।
৪. “গুরুদেব নিজে হাতে আমাদের গড়ে নিয়েছেন।”– কথাটি কে বলতেন ?
(হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় / বিধুশেখর শাস্ত্রী /
ক্ষিতিমোহন সেন / হীরেন্দ্রনাথ দত্ত)।
উত্তরঃ ক্ষিতিমোহন সেন
৫. হরিচরণ মারা যান যত বছর বয়সে—
(একানব্বই / বিরানব্বই / চুরানব্বই / পঁচানববই)
উত্তরঃ বিরানব্বই।
৬. হরিচরণ অবসর নেন— (ষাট / বাষট্টি / পঁয়ষট্টি / পঁচাত্তর) বছরের পর।
উত্তরঃ পঁচাত্তর।
৭. হরিচরণের অভিধানের পাণ্ডুলিপির কাজ শেষ হয়— (১৩০৫ সালে / ১৩১৫ সালে / ১৩২৩ সালে / ১৩৩০ সালে)।
উত্তরঃ ১৩৩০ সালে।
৮. অভিধান রচনার সূত্রপাত হয়—
(১৩১২ সালে / ১৩১৩ সালে / ১৩২২ সালে / ১৩১৪ সালে)।
উত্তরঃ ১৩১২ সালে।
৯. গ্রন্থ সমাপ্তির পর হরিচরণ জীবিত ছিলেন– (এগারো বছর / তের বছর / চোদ্দ বছর / পনেরো বছর)।
উত্তরঃ চোদ্দ বছর
১০. হরিচরণ সম্পর্কিত শ্লোকটি রচনা করেন— (রবীন্দ্রনাথ / গগনেন্দ্রনাথ / ক্ষিতিমোহন সেন / দ্বিজেন্দ্রনাথ)।
উত্তরঃ দ্বিজেন্দ্রনাথ।
১১. রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাব হরিচরণের কাছে ছিল— (ভগবানের আশীর্বাদ / অযাচিত উপহার / স্বপ্নের অতীত / দেবতার আশীর্বাদ)
উত্তরঃ দেবতার আশীর্বাদ।
১২. আলোচ্য হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবন্ধে বহুভাষাবিদ পণ্ডিত হলেন— (ক্ষিতিমোহন সেন / বিধুশেখর শাস্ত্রী / হীরেন্দ্রনাথ দত্ত / হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়)।
উত্তরঃ বিধুশেখর শাস্ত্রী।
১৩. প্রাবন্ধিক হীরেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম হল— (ইন্দ্রজিৎ / ইন্দ্রনাথ / কালকূট / নীললোহিত)।
উত্তরঃ ইন্দ্রজিৎ।
১৪. হরিচরণ শান্তিনিকেতনের কাজে যোগ দেন— (১৩০৪ সালে / ১৩০৭ সালে / ১৩০৯ সালে / ১৩১২ সালে)।
উত্তরঃ ১৩০৯ সালে।
📌 আরো দেখুনঃ
📌অষ্টম শ্রেণির বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌অষ্টম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here