পাতাবাহার
বাংলা | পঞ্চম শ্রেণি
এতোয়া মুন্ডার কাহিনী প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Etowa Mundar Kahini Prosno Uttor Class 5 Bengali wbbse
📌 পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
📌 পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
এতোয়া মুন্ডার কাহিনী
—মহাশ্বেতা দেবী
হাতে কলমে প্রশ্ন উত্তর : এতোয়া মুন্ডার কাহিনী পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Hate Kolome Question Answer Etowa Mundar Kahini Class 5 Bengali wbbse
১। ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে লেখো :
১.১ গ্রামটার আদি নাম ছিল (শালগাড়া / হাতিঘর / হাতিবাড়ি / শালগেড়িয়া)।
উত্তরঃ শালগেড়িয়া।
১.২ মোতি বাবু ছিলেন গ্রামের (আদিপুরুষ / ভগবান / জমিদার / মাষ্টার)।
উত্তরঃ ভগবান।
১.৩ ‘এতোয়া’ শব্দটির অর্থ (রবিবার / সোমবার / বুধবার / ছুটির দিন)।
উত্তরঃ রবিবার।
১.৪ শূরবীর ছিলেন একজন (সর্দার / আদিবাসী রাজা / বনজীবী / যাত্রাশিল্পী)।
উত্তরঃ আদিবাসী রাজা।
১.৫ ডুলং, সুবর্ণরেখা নামগুলি (পাহাড়ের / ঝর্ণার / নদীর / গাছের)।
উত্তরঃ নদীর।
∆ অতিরিক্ত MCQ প্রশ্ন উত্তর :
২.১ হাতিঘর গ্রামে আগে কী ছিল বলে গ্রামের নাম হয়েছিল?
(ক) ঘোড়া / (খ) হাতি / (গ) উট / (ঘ) গরু
উত্তরঃ (খ) হাতি
২.২ এতোয়ার ঠাকুরদার নাম কী?
(ক) ভজন ভুক্তা / (খ) মঙ্গল মুন্ডা / (গ) মোতিবাবু / (ঘ) বিরসা মুন্ডা
উত্তরঃ (খ) মঙ্গল মুন্ডা
২.৩ সাঁওতালরা সাহেবদের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ করেছিল, তাকে বলা হয়—
(ক) উলগুলান / (খ) বিপ্লব / (গ) হুল / (ঘ) সংগ্রাম
উত্তরঃ (গ) হুল
২.৪ মুন্ডারা সাহেবদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ করেছিল, তার নাম—
(ক) হুল / (খ) উলগুলান / (গ) স্বাধীনতা যুদ্ধ / (ঘ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
উত্তরঃ (খ) উলগুলান
২.৫ এতোয়ার কাজ কী?
(ক) মাছ ধরা / (খ) চাষ করা / (গ) গরু-ছাগল চরানো / (ঘ) কাঠ কাটা
উত্তরঃ (গ) গরু-ছাগল চরানো
২.৬ ডুলং নদীর আদিবাসী নাম কী?
(ক) সুবর্ণরেখা / (খ) দরংগাড়া / (গ) ডুলং / (ঘ) খড়গপুর
উত্তরঃ (খ) দরংগাড়া
২.৭ গ্রামদেবতা বা ‘গড়াম’ আসলে কী?
(ক) পাথরের মূর্তি / (খ) নদী / (গ) বুড়ো শালগাছ / (ঘ) পাহাড়
উত্তরঃ (গ) বুড়ো শালগাছ
২.৮ এতোয়া কোন শ্রেণিতে পড়ে?
(ক) উচ্চ বিদ্যালয় / (খ) মাদ্রাসা / (গ) প্রাইমারি স্কুল / (ঘ) কলেজ
উত্তরঃ (গ) প্রাইমারি স্কুল
২.৯ ভজন ভুক্তা কী করতেন?
(ক) চাষবাস / (খ) শিকার / (গ) গল্প বলা ও গান গাওয়া / (ঘ) গরু চরানো
উত্তরঃ (গ) গল্প বলা ও গান গাওয়া
২.১০ এতোয়ার বয়স কত?
(ক) আট বছর / (খ) নয় বছর / (গ) দশ বছর / (ঘ) বারো বছর
উত্তরঃ (গ) দশ বছর।
২। উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে বাক্যটি সম্পূর্ণ করো :
২.১ আর হাতিশালাটা ছিল __________।
উত্তরঃ পাথরের।
২.২ এতোয়ার দাদু বলে এক সময় এটা ছিল ___________ গ্রাম।
উত্তরঃ আদিবাসী।
২.৩ গাঁয়ের বুড়ো সর্দার ____________ নাতিটার দিকে তাকায়।
উত্তরঃ মঙ্গল।
২.৪ তবে জঙ্গল তো ________।
উত্তরঃ মা।
২.৫ __________ স্কুলের চালাঘরের কোল দিয়ে পথ।
উত্তরঃ প্রাইমারি।
৩। অর্থ লেখো :
∆ গর্জন— গম্ভীর চিৎকার বা আওয়াজ
∆ বাগাল— রাখাল
∆ গুঞ্জন— গুন গুন শব্দ
∆ দুলন্ত— দুলছে এমন
∆ গোড়া— শুরুর অংশ, মূলদেশ
৪। বিপরীতার্থক শব্দগুলি লেখো:
∆ পূর্বপুরুষ — উত্তরপুরুষ
∆ আদি — অন্ত
∆ কচি — বুড়ো
∆ শুকনো — ভেজা
∆ বিশ্বাস — অবিশ্বাস
৫। সমার্থক শব্দ লেখো :
∆ জল— পানি, বারি, সলিল, উদক, অম্বু, নীর, জীবন।
∆ নদী— তটিনী, তরঙ্গিনী, প্রবাহিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বিনী, নির্ঝরিনী, কল্লোলিনী।
∆ সমুদ্দুর— সাগর, সমুদ্র, অর্ণব, জলধি, জলনিধি, বারিধি, রত্নাকর।
∆ জঙ্গল— অরণ্য, বন, কানন, কান্তার।
∆ উলগুলান— প্রবল বিক্ষোভ, বিপ্লব, বিদ্রোহ।
৬। ক্রিয়াগুলির নীচে দাগ দাও :
৬.১ সাবু আর শাল গাছের পাঁচিল যেন পাহারা দিত গ্রামকে।
উত্তরঃ সাবু আর শাল গাছের পাঁচিল যেন পাহারা দিত গ্রামকে।
৬.২ এখন কেউ চাঁদ দিয়ে বছর হিসেব করে ?
উত্তরঃ এখন কেউ চাঁদ দিয়ে বছর হিসেব করে ?
৬.৩ ছোটনাগপুর ছাড়লাম।
উত্তরঃ ছোটনাগপুর ছাড়লাম।
৬.৪ জঙ্গল নষ্ট করি নাই।
উত্তরঃ জঙ্গল নষ্ট করি নাই।
৬.৫ যে বাঁচায় তাকে কেউ মারে ?
উত্তরঃ যে বাঁচায় তাকে কেউ মারে ?
৭। দুটি বাক্যে ভেঙে লেখো (একটি করে দেওয়া হলো) :
৭.১ গাঁয়ের বুড়ো সর্দার মঙ্গল নাতিটার দিকে তাকায়। (গাঁয়ের বুড়ো সর্দার মঙ্গল। সে নাতিটার দিকে তাকায়।)
৭.২ হাতিশালাটায় দেয়াল তুলে ওটা এখন ধান রাখবার গোলাঘর।
উত্তরঃ হাতিশালাটায় দেয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে। ওটা এখন ধান রাখবার গোলাঘর।
৭.৩ আমাদের কালে, সেই জঙ্গল দিয়ে চার মাইল যাও, তবে পাঠশালা।
উত্তরঃ আমাদের কালে, সেই জঙ্গল দিয়ে চার মাইল যেতে হত। তবে পাঠশালায় পৌঁছনো যেত।
৭.৪ এখন ও লাফায় আর নদীর জল, কাশবন, বুনোফুল, আকাশ, সকলকে ডেকে বলে, সে কী ভীষণ যুদ্ধ!
উত্তরঃ এখন ও লাফায় আর নদীর জল, কাশবন, বুনোফুল, আকাশ, সকলকে ডাকে। তারপর বলে, সে কী ভীষণ যুদ্ধ!
৭.৫ ডুলং ও সুবর্ণরেখাও হেসে চলে যায়, বয়ে যায়।
উত্তরঃ ডুলং ও সুবর্ণরেখাও হেসে চলে যায়। তারা বয়ে যায়।
৮। বাক্য রচনা করো : পাঁচিল, চাঁদ, দেশ, মানুষ, জঙ্গল।
∆ পাঁচিল— জেলখানাগুলি বড় বড় পাঁচিল দিয়ে ঘেরা থাকে।
∆ চাঁদ— চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
∆ দেশ— ভারতবর্ষ দেশটি আমার কাছে মায়ের মতো।
∆ মানুষ— মানুষ হলো পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ জীব।
∆ জঙ্গল— বাড়ির আশেপাশের জঙ্গল পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
৯। কোনটি কোন ধরনের বাক্য লেখো।
৯.১ স্রোত কি জোরালো!
উত্তরঃ বিস্ময়বোধক বাক্য।
৯.২ কচি ছেলে, কিছুই জানে না।
উত্তরঃ নেতিবাচক বাক্য।
৯.৩ সে যেন গেরুয়া জলের সমুদ্দুর।
উত্তরঃ নির্দেশাত্মক বাক্য।
৯.৪ নামটা বদলে গেল কেন গো?
উত্তরঃ প্রশ্নবোধক বাক্য।
৯.৫ কী যুদ্ধ, কী যুদ্ধ!
উত্তরঃ বিস্ময়বোধক বাক্য।
১০। কোনটি কোন শব্দ, বেছে নিয়ে আলাদা করে লেখো : মস্ত, আমাদের, শিকার, তুই, সে, লড়াই, বুড়ো, ভীষণ, ছোট্ট, ও, চরায়, রাখে, ঝাঁকড়া, ধারালো, ওঠে, সরু
উত্তরঃ
∆ বিশেষ্য— শিকার, লড়াই।
∆ বিশেষণ— মস্ত, বুড়ো, ভীষণ, ছোট্ট, ঝাঁকড়া, ধারালো, সরু।
∆ সর্বনাম— আমাদের, তুই।
∆ অব্যয়— ও
∆ ক্রিয়া— চরায়, রাখে, ওঠে।
১১। নিম্নলিখিত প্রতিটি ক্ষেত্রে দুটি বাক্যকে জুড়ে একটি বাক্য লেখো।
১১.১ কী গল্পই বললে আজ দাদু। সবাই শুনছিল গো!
উত্তরঃ দাদু আজ এমন গল্প বললে যে সবাই শুনছিল গো !
১১.২ এতোয়া রে! ছেলে তুই বড্ড ভালো।
উত্তরঃ এতোয়া তুই বড্ড ভালো ছেলে রে!
১১.৩ তুই বড্ড বকিস এতোয়া। তোর বাপেরও এত কথা শুধাবার সাহস হতো না।
উত্তরঃ এতোয়া তুই বড্ড বকিস, তোর বাপেরও এত কথা শুধাবার সাহস হতো না।
১১.৪ বাবুরা এল। আমাদের সব নিয়ে নিল।
উত্তরঃ বাবুরা এসে আমাদের সব নিয়ে নিল।
১১.৫ আদিবাসী আসছে। মানুষ বাড়ছে।
উত্তরঃ আদিবাসীরা আসছে তাই মানুষ বাড়ছে।
১২। এলোমেলো বর্ণগুলি সাজিয়ে অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরি করো :
∆ দি সী আ বা— আদিবাসী।
∆ ব খা রে র্ণ সু— সুবর্ণরেখা।
∆ গা ং ড়া র দ— দরংগাড়া।
∆ টি ড়া পো মা— পোড়ামাটি।
∆ ষ পু দি রু আ— আদিপুরুষ।
১৩। এলোমেলো শব্দগুলি সাজিয়ে অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি করো :
১৩.১ ছাগল কাজ গোরু ওর চরানো।
উত্তরঃ ওর কাজ গোরু ছাগল চরানো।
১৩.২ তির শনশন তারা তখন ছোঁড়ে।
উত্তরঃ তখন তারা তির ছোঁড়ে শনশন।
১৩.৩ আগে হাজার চাঁদ হাজার।
উত্তরঃ হাজার হাজার চাঁদ আগে।
১৩.৪ ছিল পাথরের হাতিশালাটা আর।
উত্তরঃ আর হাতিশালাটা ছিল পাথরের।
১৩.৫ সপ্তাহে হাট প্রতি বসে তো গ্রামে।
উত্তরঃ গ্রামে তো প্রতি সপ্তাহে হাট বসে।
১৪.১ লেখালেখি ছাড়াও আর কী কী কাজ মহাশ্বেতা দেবী করেছেন ?
উত্তরঃ লেখালেখি ছাড়াও মহাশ্বেতা দেবী অধ্যাপনা করেছেন, সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন, বহুদিন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার অরণ্যভূমির মানুষের জীবনের সঙ্গে থেকেছেন ও সমাজসেবামূলক কাজ করেছেন।
১৪.২ আদিবাসী জীবন নিয়ে লেখা তাঁর একটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তরঃ আদিবাসী জীবন নিয়ে লেখা তাঁর একটি বইয়ের নাম হল ‘এতোয়া মুন্ডার যুদ্ধজয়’।
১৪.৩ ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম লেখো।
উত্তরঃ ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম হল ‘বাঘাশিকারী’।
১৫। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :
১৫.১ “সেও এক ভীষণ যুদ্ধ” – কোন যুদ্ধের কথা এখানে বলা হয়েছে ?
উত্তরঃ সাহেবরা যখন আদিবাসীদের শালগেড়িয়া গ্রামকে জোরজুলুম করে অধিকার করে নেয়, তখন সিধু-কানু সাঁওতালদের একসঙ্গে নিয়ে সাহেবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল। এখানে সেই যুদ্ধের কথাই বলা হয়েছে।
১৫.২ গাঁয়ের নাম হাতিঘর হল কেন ?
উত্তরঃ একসময় গ্রামের মোতিবাবুর পূর্বপুরুষেরা যখন মস্ত জমিদার ছিলেন তখন তাঁদের ছিল হাতি আর হাতিশালাটা ছিল পাথরের। সেই কারণেই হয়তো বাবুরা গাঁয়ের নাম রেখেছিল হাতিঘর।
১৫.৩ ভজন ভুক্তা এতোয়াকে কী বলত ?
উত্তরঃ ভজন ভুক্তা এতোয়াকে বলত যে, সে খুব ভালো ছেলে। কিন্তু সে লেখাপড়া শেখে না বলে ভজন ভুক্তার দুঃখ হয়। ভজন ভুক্তাদের ছোটোবেলায় জঙ্গলের মধ্য দিয়ে চারমাইল হেঁটে গেলে পাঠশালা পাওয়া যেত, কিন্তু বর্তমানে তাদের গ্রামেই রয়েছে প্রাইমারি স্কুল। তা ছাড়া, সেখানকার শিক্ষকমশাইও খুব ভালো। স্কুলে না গিয়ে এতোয়া বাবুর বাড়ির রাখালি করত, তাই ভজন ভুক্তা তাকে স্কুলে যাওয়ার পরামর্শ দিত।
শুধু তাই নয় ভজন ভুক্তা এতোয়াকে শূরবীর নামে এক আদিবাসী রাজার গল্পও বলত।
১৫.৪ হাতিঘর-এ কেমন ভাবে যাবে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ হাওড়া থেকে প্রথমে যেতে হবে খড়গপুর। তারপর বাসে চেপে নামতে হবে গুপ্তমণি মন্দিরের সামনে। সেখান থেকে সাত আট মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে হাঁটতে হবে, যেখানে পথে পড়বে একটি ছোট্ট নদী ও ছোটো ছোটো আদিবাসী গ্রাম। এগুলো পেরোলে পড়বে মস্ত গ্রাম রোহিণী। রোহিণী গ্রাম পেরিয়ে দক্ষিণ দিকে গেলে ডুলং নদী আর তারপর যেখানে আকাশছোঁয়া একটি শাল ও অর্জুন গাছ দেখা যাবে সেখানেই হাতিঘর গ্রাম। এইভাবে হাতিঘর-এ যাওয়া যাবে।
১৫.৫ এতোয়া নামটি কেন হয়েছিল ?
উত্তরঃ আদিবাসীরা অনেকেই তাদের জন্মবারের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখে। এতোয়ার জন্ম রবিবারে, তাই তার ঠাকুরদা মঙ্গল মুন্ডা তার জন্মবারের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখে এতোয়া।
১৫.৬ এতোয়ার রোজকার কাজের বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ এতোয়া মোতিবাবুর রাখাল ছিল, সে তাঁর গরু, মোষ, ছাগল চরাতো। পুরোনো আম বাগানে গরু চরাতে চরাতে সে টোকো আম ও শুকনো কাঠ কুড়াতো। মাটি খুঁড়ে বের করতো মেটেআলু ও মজা পুকুরের পাড় থেকে শাক তুলতো, তার সঙ্গে একটি বস্তা রাখত এবং বস্তায় ভরে নিত। তারপর যেত ডুলং নদী পেরিয়ে ঘন সবুজ ঘাসবনে। সেখানে গরু, মোষ ছেড়ে দিত। এরপর সুবর্ণরেখা নদীর মাঝে সরু চরে গিয়ে সে বাঁশে বোনা জাল দিয়ে মাছ ধরত। এগুলোই হল এতোয়ার রোজকার কাজ।
১৫.৭ ‘এখন গ্রামে ইস্কুল, তবু…’ – বক্তা কে ? আগে কী ছিল ?
উত্তরঃ উদ্ধৃতাংশের বক্তা লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর লেখা ‘এতোয়া মুন্ডার কাহিনী’ গল্পে ভজন ভুক্তা।
আগে পাঠশালা অনেক দূরে ছিল। জঙ্গল দিয়ে চার মাইল পথ গেলে তবে পাঠশালায় পৌঁছনো যেত।
১৬. বাঁদিকের শব্দের সঙ্গে মিল আছে এমন ডানদিকের শব্দ খোঁজো :
| বাঁমদিক | ডানদিক |
| হাতি | পল্লী |
| চাল | জ্যোৎস্না |
| গ্রাম | শুঁড় |
| চাঁদ | গাছ |
| পাতা | ধান |
উত্তরঃ
| বাঁমদিক | ডানদিক |
| হাতি | শুঁড় |
| চাল | ধান |
| গ্রাম | পল্লী |
| চাঁদ | জ্যোৎস্না |
| পাতা | গাছ |
১৭. সংকেতটি অনুসরণ করে একটি গল্প বানাও।
নদীর পাড়ে সূর্য অস্ত গেল। কোনো গ্রামে মাদল বাজছে। পরব এসে গেল। এখানে সব স্কুলে ছুটি পড়ে গেছে। এবারের ছুটিতে আমরা বন্ধুরা মিলে ………………..
উত্তরঃ নদীর পাড়ে সূর্য অস্ত গেল। কোনো গ্রামে মাদল বাজছে। পরব এসে গেল। এখানে সব স্কুলে ছুটি পড়ে গেছে। এবারের ছুটিতে আমরা বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম বাঁকুড়া জেলার ঝিলিমিলি গ্রামে ঘুরতে যাব। সকালেই ব্যাগ গুছিয়ে রওনা দিলাম। গ্রামে পৌঁছাতেই চোখে পড়ল সবুজ মাঠ, কাঁচা রাস্তা আর শান্ত পরিবেশ। বিকেল হতেই দূর থেকে ভেসে এল মাদলের তান— পরব শুরু হয়েছে।
মাঠে গিয়ে দেখলাম গ্রামজুড়ে উৎসবের রঙ। মেলায় খেলনা, মাটির জিনিস, খাবারের স্টল—সবই সাজানো। একপাশে সাঁওতালি মেয়েরা মাদলের তালে নাচছে। আমরা দাঁড়িয়ে সেই নাচ-গান আর উৎসবের আনন্দ উপভোগ করলাম।
রাত নামতেই আলোর ঝলক আর মাদলের ছন্দ পুরো গ্রামকে জাগিয়ে তুলল। পরব শেষে যখন ফিরতে হল, মনে হল—ইশ, আর একটু যদি থাকা যেত! ফিরে এসে আবার পড়াশোনা শুরু হলেও ঝিলিমিলি গ্রামের পরবের স্মৃতি মনে রয়ে গেল।
∆ অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর : এতোয়া মুন্ডার কাহিনী পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Extra Question Answer Etowa Mundar Kahini Class 5 Bengali wbbse
∆ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ১
১. হাতিঘর গ্রামের আদি নাম কী ছিল ?
উত্তরঃ শালগেড়িয়া।
২. হাতিঘর গ্রামে আগে হাতি ছিল কেন ?
উত্তরঃ মোতিবাবুর পূর্বপুরুষেরা জমিদার ছিলেন বলে।
৩. এতোয়ার ঠাকুরদার নাম কী ?
উত্তরঃ মঙ্গল মুন্ডা।
৪. মুন্ডারা কোন বিদ্রোহ করেছিল ?
উত্তরঃ উলগুলান।
৫. সাঁওতালদের বিদ্রোহের নাম কী?
উত্তরঃ হুল।
৬. এতোয়ার মুন্ডার বয়স কত ?
উত্তরঃ দশ বছর।
৭. এতোয়া কী কাজ করে ?
উত্তরঃ গরু-ছাগল-মোষ চরায়।
৮. এতোয়ার নামের অর্থ কী ?
উত্তরঃ রবিবারে যার জন্মা হয়েছে।
৯. আদিবাসীদের দেওয়া ডুলং নদীর নাম কী ?
উত্তরঃ দরংগাড়া।
১০. গ্রামদেবতাকে আদিবাসীরা কী বলে?
উত্তরঃ গড়াম।
১১. গড়াম আসলে কী ?
উত্তরঃ বুড়ো শালগাছ।
১২. সাঁওতাল মাস্টার কী করতেন ?
উত্তরঃ গল্প বলতেন ও পড়াতেন।
১৩. ভজন ভুক্তা কে ছিলেন ?
উত্তরঃ অন্ধ গল্পকার ও গায়ক।
১৪. সুবর্ণরেখা নদীর জল কেমন ?
উত্তরঃ গেরুয়া রঙের।
১৫. এতোয়া মুন্ডার কাহিনী গল্পটি কার লেখা ?
উত্তরঃ মহাশ্বেতা দেবী।
∆ দু–তিনটি বাক্যে প্রশ্নোত্তর : প্রতিটি প্রশ্নের মান- ২
১. হাতিঘর গ্রামের নাম কীভাবে পরিবর্তিত হলো ?
উত্তরঃ হাতিঘর গ্রামের আদি নাম ছিল শালগেড়িয়া। পরে বাবু ও জমিদাররা এসে আদিবাসীদের জমি দখল করলে গ্রামের নাম বদলে হাতিঘর রাখা হয়।
২. আদিবাসীরা কেন নিজেদের দেশ ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল ?
উত্তরঃ সাহেব ও বাবুদের জোর-জুলুমের কারণে আদিবাসীরা নিজেদের জমি ও অধিকার হারায়। আইনকানুন না জানার সুযোগে তারা বঞ্চিত হয় এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
৩. ‘হুল’ ও ‘উলগুলান’ কী ?
উত্তরঃ‘হুল’ ছিল সাঁওতালদের বিদ্রোহ। ‘উলগুলান’ ছিল বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে মুন্ডাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।
৪. এতোয়া কীভাবে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত জীবন যাপন করে ?
উত্তরঃ এতোয়া গরু-ছাগল চরায় এবং বন থেকে কাঠ, শাক, ফল সংগ্রহ করে। নদী, ঘাস, ফুল ও আকাশ তার নিত্যদিনের সঙ্গী।
৫. এতোয়ার স্কুলে যাওয়া নিয়মিত হয় না কেন ?
উত্তরঃ এতোয়ার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। সংসারের প্রয়োজনে তাকে বাবুর বাড়ির গরু চরাতে হয় বলে স্কুলে নিয়মিত যাওয়া সম্ভব হয় না।
৬. সাঁওতাল মাস্টার চরিত্রটি কীভাবে গল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে ?
উত্তরঃ সাঁওতাল মাস্টার গল্পের মাধ্যমে আদিবাসীদের ইতিহাস ও যুদ্ধের কথা শিশুদের শোনান। তিনি চান গ্রামের সব ছেলেমেয়ে পড়াশোনা শিখুক।
৭. ভজন ভুক্তা কে এবং তার বিশ্বাস কী ?
উত্তরঃ ভজন ভুক্তা একজন অন্ধ আদিবাসী গল্পকার ও গায়ক। তিনি বিশ্বাস করেন, এক শূরবীর আদিবাসী রাজা এখনও ভুলং নদীর তলায় ঘুমিয়ে আছেন।
৮. গড়াম বা গ্রামদেবতার গুরুত্ব কী ?
উত্তরঃ গড়াম হল গ্রাম রক্ষাকারী দেবতা। আদিবাসীরা বিশ্বাস করে, প্রকৃতি ও গাছের মধ্যেই দেবতার বাস।
৯. এতোয়ার ‘ভীষণ যুদ্ধ’ বলার অর্থ কী ?
উত্তরঃ এতোয়া ইতিহাস পুরো বোঝে না, কিন্তু তার কল্পনায় যুদ্ধের ছবি বারবার ভেসে ওঠে। এটি আদিবাসীদের অতীত সংগ্রামের প্রতীক।
১০. গল্পটির মূল বক্তব্য কী ?
উত্তরঃ গল্পটি আদিবাসীদের বঞ্চনা, সংগ্রাম ও প্রকৃতির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক তুলে ধরে। এতোয়ার জীবনের মাধ্যমে লেখক সেই ইতিহাসকে জীবন্ত করেছেন।
📌 আরো দেখুনঃ
📌পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
📌পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here
📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here
