এতোয়া মুন্ডার কাহিনী গল্প পঞ্চম শ্রেণির বাংলা | Etowa Mundar Kahini Golpo Class 5 Bengali wbbse

পাতাবাহার
বাংলা | পঞ্চম শ্রেণি

এতোয়া মুন্ডার কাহিনী প্রশ্ন উত্তর পঞ্চম শ্রেণি বাংলা | Etowa Mundar Kahini Prosno Uttor Class 5 Bengali wbbse

📌 পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

📌 পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

এতোয়া মুন্ডার কাহিনী
—মহাশ্বেতা দেবী

গ্রামটার নাম হাতিঘর, যদিও এখন সেখানে হাতি নেই। মোতিবাবুর পূর্বপুরুষেরা যখন মস্ত জমিদার ছিলেন, ওঁদের ছিল হাতি। আর হাতিশালাটা ছিল পাথরের। ওঁদের সে পাথরের বাড়ি আজও আছে। তাতে তিরিশটা ঘর। একতলার ঘরে দেখবে চাল, ডাল, গম, কত কী। হাতিশালাটায় দেয়াল তুলে ওটা এখন ধান রাখবার গোলাঘর।

এতোয়ার দাদু বলে, এক সময়ে এটা ছিল আদিবাসী গ্রাম। নাম ছিল শালগেড়িয়া। সাবু আর শাল গাছের পাঁচিল যেন পাহারা দিত গ্রামকে।

— নামটা বদলে গেল কেন গো ?

— বাবুরা এল। আমাদের সব নিয়ে নিল।

— আদিবাসীরা কিছু বলল না?

— তুই বড্ড বকিস এতোয়া। তোর বাপেরও এত কথা শুধাবার সাহস হতো না। লেখাপড়া জানতাম না, সরকারের আইনকানুন বুঝতাম না। তাতেই আমরা হেরে গেলাম।

— শুধু এই কথাটি বলো, নিজের দেশ ছেড়ে তোমরা কবে এলে এখানে?

— হাজার হাজার চাঁদ আগে। হাসিস কেন?

— এখন কেউ চাঁদ দিয়ে বছর হিসেব করে?

— আমরা তো করেছি। মরণকাল অবধি তাই করব। আমাদের আদিপুরুষরা দেশ ছাড়ল-সিধু কানু যখন সাঁওতালদের নিয়ে সাহেবদের সঙ্গে যুদ্ধে নামল। সে কী ভীষণ যুদ্ধ। সাহেবরা জিতে গেল। সাঁওতালরা এদিক সেদিক পালিয়ে বাঁচল। এখানে যারা এসেছিল তারা বন কেটে বসত করল। সে কি আজকের কথা রে?

— আমরা মুন্ডারা তখনি এলাম?

গাঁয়ের বুড়ো সর্দার মঙ্গল নাতিটার দিকে তাকায়। কচি ছেলে, কিছুই জানে না।-ওরে, জোর জুলুম না করলে কোনো আদিবাসী কখনো দেশ ছাড়ে না। কতবছর বাদে বিরসা মুন্ডা মুন্ডাদের নিয়ে সাহেবদের উৎখাত করবে বলে লড়াই করল। সেও এক ভীষণ যুদ্ধ। বনাবন তির চলে, ওরা দনাদন গুলি চালায়। সাঁওতালরা করল “হুল”, আমরা করলাম “উলগুলান”। হারলাম তো আমরাও। বাতাসের মুখে পাতার মতো আমরা বাংলা, ওড়িশা, বিহার, আসাম কত জায়গায় যে গেলাম, কত বন কেটে বসত বসালাম। এখন মুন্ডা সাঁওতাল সব দেশে।

— এখানে চলে এলে?

— ছোটনাগপুর ছাড়লাম। হাঁটতে হাঁটতে সুবর্ণরেখা পার হলাম, সাঁওতালরা খুব খুশি। আদিবাসী আসছে। মানুষ বাড়ছে। ওই যে তোরা বলিস ডুলং নদী, আমরা তাকে বলতাম দরংগাড়া। তখন জঙ্গল যত, জানোয়ার তত। গ্রামে যে লোধা আদিবাসী দেখিস, ওরা বনজীবী মানুষ, বনের সন্তান। বাঘুৎ দেবতা পূজবে, বাঘ যাতে গরু না খায়। বড়াম মায়ের পূজা দেবে। তিনি রক্ষা করেন। আমরা এক সঙ্গে বন কেটে বসত করেছি। তবে জঙ্গল তো মা। জঙ্গল নষ্ট করি নাই। লোধারা তো আজও শিকার করে।

— বাবু যে বলে, তোরা, আদিবাসীরাই জঙ্গল কেটে শেষ করেছিস?

— না রে না। জঙ্গল আর কতটুকু আছে বল? তবু তো জঙ্গল থেকেই কন্দ, মূল, ফল, পাতা, জ্বালানি, খরগোশ, শজারু, পাখি… গ্রাম দেবতা, যাকে বলি গড়াম, সেও তো বুড়ো শালগাছটা। যে বাঁচায় তাকে কেউ মারে?

— গাঁয়ের নামটি হাতিঘর কেন হলো গো?

— বন কাটলাম, মাটি যেন হেসে উঠল। আর কি, বাবুরা ঢুকে পড়ল। এই হয়ে আসছে চিরকাল। লেখাপড়া জানি না, সবকিছু নিয়ে নিল ওরা। নতুন নাম দিল হাতিঘর। যা, অনেক বকলাম রে, এতোয়া। তা এত কথা জানতে চাইলি যে?

এতোয়া কী বলবে ঠাকুরদাকে ? বাবুর বাড়ি কাজে যায়। প্রাইমারি স্কুলের চালাঘরের কোল দিয়ে পথ। সাঁওতাল মাস্টার গল্প বলে কি বা! ক্লাস বসতে না বসতে গল্প শুরু করে। গল্পের শুরু কোথায় কে জানে। এতোয়া শুধু শোনে, ‘তখন তারা তির ছোঁড়ে শনশন। তিরে তিরে আকাশ আঁধার! সে যে কী ভীষণ যুদ্ধ তার আর কি বলি!’

কোন যুদ্ধের কথা বলে গো মাস্টার? এতোয়া জানে না তো। মহাভারতের যুদ্ধ? রামায়ণের যুদ্ধ? রোহিণী গ্রামে গিয়ে এতোয়া যাত্রাও দেখেছে, আর রামায়ণ, মহাভারতের কথাও যাত্রা দেখে সে জেনে ফেলেছে।

মাস্টারের গলা শুনতে শুনতে ও দৌড়ে চলে। মোতিবাবু হল গ্রামের ঠাকুর-দেবতা। ছোট্ট এতোয়া তার বাগাল। ওর কাজ গরু ছাগল চরানো।

হাতিঘর কলকাতা থেকে কত কাছে, তবু কত দূরে। হাওড়া থেকে চলো খড়গপুর, তারপর বসো বাসে। নেমে পড়ো গুপ্তমণি মন্দিরের সামনে। বড়াম মা দেবী, যিনি সকলকে রক্ষা করেন।

লোধা পুরোহিত পূজা করে। বম্বে রোডে যত বাস-ট্রাক চলে, সবাই গুপ্তমণির মন্দিরে প্রণামি দেয়। গুপ্তমণি থেকে রোহিণী যাবার বাস পাবে কি না কে জানে। দক্ষিণ পশ্চিমে হাঁটো না সাত আট মাইল।

হাঁটতে হাঁটতে পেরোলে ছোট্ট একটি নদী, যার জল কাচের মতো। পেরোলে ছোটো ছোটো আদিবাসী গ্রাম। তারপর মস্ত গ্রাম রোহিণী পেরিয়ে দক্ষিণে চলো, ডুলং নদী, যার আদিবাসী নাম দরংগাড়া, সে চলেছে নেচে নেচে তোমার সঙ্গে। যেই দেখলে আকাশছোঁয়া একটি শাল আর একটি অর্জুন গাছ, পৌঁছে গেলে এতোয়াদের গ্রাম হাতিঘর।

গাছের গোড়ায় দেখবে পোড়ামাটির মস্ত হাতি, মস্ত ঘোড়া। ছোটো ছোটো অমন অনেক হাতি, অনেক ঘোড়া। আদিবাসী, অ-আদিবাসী, সবাই গ্রামদেবতা বা গড়ামকে পুজো দিয়ে গেছে।

ডুলং নদী খানিক বাদেই মিলেছে সুবর্ণরেখায়। সে যেন গেরুয়া জলের সমুদ্দুর। ইচ্ছে হলেই নেমে স্নান করতে পারো। জল তো কোমর অবধি, ডুবে যাবে না। স্রোত কি জোরালো! এতোয়া ওর প্রিয় মোষটির পিঠে চেপে চলে যায় গেরুয়া সমুদ্দুর পেরিয়ে কত সময়।

এতোয়া কী করে? ও গরু ছাগল মোষ চরায়। নামটি এতোয়া কেন গো? রবিবারে জন্মাল যে! সোমে জন্মালে নাম হত সোমরা, সোমাই, এমনি কোনো নাম। আদিবাসীদের যার ইচ্ছে, জন্মবারের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখে। যার ইচ্ছে সে তোমার আমার মতো বাংলা নাম রাখে। এতোয়ার নামটি দিল ঠাকুরদা মঙ্গল মুন্ডা। এ রাজ্যে মুন্ডা, সাঁওতাল, লোধা, সবাই বাংলাও বলে, নিজের ভাষাও বলে।

এতোয়াকে দেখলে মনে হয় দুরন্ত এক বাচ্চা ঘোড়া। এখনই লাফিয়ে উঠে দৌড় লাগাবে। বয়স তো মোটে দশ। মাথায় লালচে চুল খুব ঝাঁকড়া। সব সময়ে পরনে একটা খাকি হাফপ্যান্ট। চোখ দুটো জ্বলজ্বলে আর ধারালো। সব দিকে ওর নজর থাকে। ঠাকুরদা বড্ড বুড়ো, ও বড্ড ছোটো, ওকে অনেক কথা ভাবতে হয়। একটা শুকনো ডাল, কয়েকটা শুকনো পাতা, সব ওর চোখে পড়ে। সব ও জ্বালানির জন্য কুড়িয়ে নেয়।

গ্রামে তো প্রতি সপ্তাহে হাট বসে। হাটের দোকানির দোকান ঝাঁটপাট দিয়ে ও একটি বস্তা চেয়ে নিয়েছে। বস্তাটি ওর সঙ্গে থাকে। পুরোনো আমবাগানে বাবুর গরু চরাতে চরাতে ও ঠিক কুড়িয়ে নেয় টোকো আম। শুকনো কাঠ। মেটেআলু খুঁড়ে বের করে মাটি থেকে, মজা পুকুরের পার থেকে তোলে শাক। স-ব চলে যায় ওর বস্তায়।

তারপর গরু নিয়ে ও ডুলং পেরিয়ে চরে ওঠে। ঘন সবুজ ঘাসবনে গরু মোষ ছেড়ে দেয়। এবার ও দৌড় মারে চরের মাঝে সুবর্ণরেখা যেখানে সরু। বাঁশে বোনা জালটা পাতে সেখানে। এখন ও রাজা।

এই নদী, আকাশ, চরের রাজা। নিজেকেই বলে, মাছ পেলে মাছ খাব, শাক তো খাবই। মুদি দাদা মেটেআলুটা নিয়ে যদি নুন-তেল-মশলা দেয়, ওকেই দেব। না দেয় তো মেটেআলুটা আমি আর দাদু খাব।

কী কী খাব ভাবতে গেলেই খিদে ভুলে যায় গো। এখন ও লাফায় আর নদীর জল, কাশবন, বুনো ফুল, আকাশ, সকলকে ডেকে বলে, সে কী ভীষণ যুদ্ধ! তির চলছে শনশন, কামান চলছে দনাদন, ঘোড়া ছুটছে খটাখট, কী যুদ্ধ, কী যুদ্ধ!

এতোয়া জানে না মাস্টার কোন যুদ্ধের কথা বলে। ১৮৫৭-৫৮-র যুদ্ধের কথা? না অন্য কোনো যুদ্ধ যাতে তিরের সঙ্গে বন্দুকের লড়াই হয়েছিল, মাস্টার তো একেক দিন একেক যুদ্ধের কথা বলে।

ও জানেও না, পরোয়াও করে না। যুদ্ধ তো হয়েছিল, আবার কী চাই।

আকাশ, ঘাস বনে গুনগুন গুঞ্জন করা উড়ন্ত পতঙ্গ, বাতাসে দুলন্ত হাসন্ত বুনো ফুল, গরুর পাল, কেউ জানে না ছোট্ট এতোয়া এক ভীষণ যুদ্ধের কথা বলে।

গরুর বাগাল আদিবাসী ছেলেকে ঘাস, ফুল, নদী, কেউ পাত্তা দেয় না গো। ডুলং আর সুবর্ণরেখাও হেসে চলে যায়, বয়ে যায়। অথচ এ সব নদীর তীরেও নাকি একদিন কত যুদ্ধ হয়েছে। সুবর্ণরেখার জলে নাকি এখনো সোনার রেণু পাওয়া যায়। লোকে বলে।

এতোয়া ওসব বিশ্বাস করে না। তাহলে তো লোধা বুড়ো ভজন ভুক্তার কথাও বিশ্বাস করতে হয়।

ভজন বলে, ছিল রে ছিল। শূরবীর এক আদিবাসী রাজা ছিল। বাইরের মানুষ এসে যখন তার রাজ্যপাট কেড়ে নিল, তখন তামার ঘণ্টা আর তির ধনুক নিয়ে সে ডুলং নদীতে ঝাঁপ দিল। যদি কেউ ভক্তিভরে তাকে ডাকতে পারে, রাজা তখনই ঘণ্টা বাজাবে ঢং ঢং। তারপর হাতি চেপে ধনুক হাতে উঠে আসবে জল থেকে। বাঘের মতো গর্জনে আকাশটা কাঁপিয়ে বলবে, ‘কে ডাকে আমায়? আমার সেনারা কোথায়? জল থেকে উঠে আসব, আমার রাজ্য আমার হবে, মাটি ঢেকে দেব জঙ্গলে আর জঙ্গলের প্রাণী, জঙ্গলের মানুষ দিয়ে। সে জন্য পাতালে আমি কতদিন অপেক্ষা করব?’ বলে, আর ঘণ্টা বাজায়, বলে আর ঘণ্টা বাজায়। ঝড় বাদলের রাতে স-ব শোনা যায়।

ভজন ভুক্তা অন্ধ মানুষ। হাটবারে হাটতলায় ও গল্প বলে, গান গায়। কতদিন এতোয়া ওকে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। কতদিন বলেছে, ‘কি গল্পই বললে আজ দাদু! সবাই শুনছিল গো! দ্যাখো, কতগুলো দশ পয়সা পেয়েছ।’

এতোয়া রে! ছেলে তুই বড্ড ভালো। ইস্কুলে যাস না এই বড় দুঃখ। আমাদের ছেলেমেয়ে গাই চরাবে বাবুর বাড়ি, বন হতে কাঠ আনবে, ইস্কুলে যায় না রে। অথচ এখন গ্রামে ইস্কুল। সাঁওতাল মাস্টারটা কত ভালো। ঘরে ঘরে যাবে আর বলবে, ছেলেমেয়ে ইস্কুলে পাঠাও। আমাদের ঘরে ছেলেমেয়ে পড়তে শিখবে না? আমরাই তো পেটের জ্বালায় ছেলেমেয়েদের পাঠাই না। আমাদের কালে, সেই জঙ্গল দিয়ে চার মাইল যাও, তবে পাঠশালা। এখন গ্রামে ইস্কুল, তবু… যা, তুই ঘর যা বাছা! এখন আমি চলে যেতে পারব।

লেখিকা পরিচিতি : মহাশ্বেতা দেবী (জন্ম ১৯২৬) : বাবা বিখ্যাত লেখক মনীশ ঘটক (যুবনাশ্ব)। মহাশ্বেতা দেবী অধ্যাপনা ছাড়া সাংবাদিক হিসাবেও কাজ করেছেন। তিনি বহুদিন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার অরণ্যভূমির মানুষের জীবনের সঙ্গে রয়েছেন। জনপ্রিয় উপন্যাস ‘ঝাঁসির রানী’, ‘নটী’, ‘অরণ্যের অধিকার’, ‘হাজার চুরাশির মা’। ছোটোদের জন্য বিখ্যাত গ্রন্থ ‘গল্পের গরু ন্যাদোশ’, ‘এককড়ির সাধ’, ‘নেই নগরের সেই রাজা’ ‘বাঘাশিকারী’ ইত্যাদি। সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিতে পেয়েছেন ‘ম্যাগসেসে’ পুরস্কার। সাহিত্যরচনার জন্য আকাদেমি পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন। পাঠ্যাংশটি তাঁর লেখা ‘এতোয়া মুন্ডার যুদ্ধজয়’ বইয়ের প্রথম পরিচ্ছেদ থেকে নেওয়া হয়েছে।

শব্দার্থ : পূর্বপুরুষ-বাবা— ঠাকুর্দার বংশের আগেকার লোক। উৎখাত— দূরীভূত/সমূলে উৎপাটিত। হাতিশালা— হাতি রাখার জায়গা। হুল— বিদ্রোহ। উলগুলান— বিদ্রোহ। গোলাঘর— শস্যাগার। ছোটনাগপুর— পূর্বভারতের মালভূমি অঞ্চল। আদিবাসী— আদিম অধিবাসী বা জাতি। সুবর্ণরেখা— নদী বিশেষ। শুধাবার— জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন করবার। লোধা— প্রাচীন জনজাতি বিশেষ। সিধু-কানু— সাঁওতাল বিদ্রোহের বিখ্যাত দুই নেতা। আঁধার— অন্ধকার। বসত— বাসস্থান। বাগাল— রাখাল। মুন্ডা— পূর্ব ভারতের প্রাচীন জনজাতি বিশেষ। সমুদ্দুর— সাগর বা সমুদ্র। জোরজুলুম— অত্যাচার। টোকো— টক হয়ে গেছে এমন। বিরসা মুন্ডা— মুন্ডা বিদ্রোহের বিখ্যাত নেতা। পরোয়া— তোয়াক্কা। গুঞ্জন— গুন গুন শব্দ। গাই— গরু।

সারাংশ : মহাশ্বেতা দেবীর “এতোয়া মুন্ডার কাহিনী” গল্পটি আদিবাসী জীবনের ইতিহাস, সংগ্রাম ও বর্তমান বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে রচিত। গল্পের পটভূমি হাতিঘর গ্রাম, যার আসল নাম ছিল শালগেড়িয়া। একসময় এটি ছিল আদিবাসীদের গ্রাম, কিন্তু জমিদার ও বাবুদের আগমনে তারা তাদের জমি ও অধিকার হারায়। সাঁওতালদের ‘হুল’ ও মুন্ডাদের ‘উলগুলান’—এই বিদ্রোহগুলির মাধ্যমে আদিবাসীদের স্বাধীনতার সংগ্রামের কথা গল্পে উঠে এসেছে, যদিও শেষ পর্যন্ত তারা পরাজিত হয় এবং নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

এতোয়া একজন দশ বছরের মুন্ডা ছেলে। সে গরু-ছাগল চরায় এবং প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত জীবন যাপন করে। নদী, বন, ঘাস, ফুল—সবই তার দৈনন্দিন সঙ্গী। স্কুলে সে নিয়মিত যেতে পারে না, তবে সাঁওতাল মাস্টারের গল্পের মাধ্যমে সে যুদ্ধ ও ইতিহাসের কথা শোনে। এতোয়া না বুঝলেও তার কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয় “ভীষণ যুদ্ধ”—যা আদিবাসীদের অতীত সংগ্রামের প্রতীক।

গল্পে আদিবাসীদের সরলতা, প্রকৃতিপ্রেম, বিশ্বাস ও বঞ্চনার ইতিহাস মিশে গেছে। এতোয়ার জীবন ও কল্পনার মধ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন—ইতিহাস ভুলে গেলেও সংগ্রামের স্মৃতি প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে আজও বেঁচে আছে।

📌 আরো দেখুনঃ

📌পঞ্চম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

📌পঞ্চম শ্রেণি ইংরেজি প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply

  • Post comments:0 Comments
  • Reading time:9 mins read