ধীবর-বৃত্তান্ত নাটকের বড় প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | Dhibor Brittanto Natoker Essay Type Question Answer Class 9 Bengali wbbse

ধীবর-বৃত্তান্ত নাটকের বড় প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | Dhibor Brittanto Natoker Essay Type Question Answer Class 9 Bengali wbbse

ধীবর-বৃত্তান্ত
কালিদাস রায়
নবম শ্রেণি বাংলা (প্রথম ভাষা)

‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাটকের রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | Essay Type Question Answer Dhibor Brittanto Natok Class 9 Bengali wbbse

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাটক (কালিদাস) নবম শ্রেণি বাংলা | Essay Type Question Answer Dhibor Brittanto Natok Class 9 Bengali wbbse

• কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে উত্তর দাও : প্রতিটি প্রশ্নের মান-৫

১. দুর্বাসা মুনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন কেন ? তিনি শকুন্তলাকে কী অভিশাপ দিয়েছিলেন ? ৩+২=৫

উত্তরঃ মহর্ষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে রাজা দুষ্মন্ত মৃগয়া করতে করতে কণ্বের তপোবনে এসে উপস্থিত হন। আশ্রমকন্যা শকুন্তলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি গান্ধর্ব মতে তাকে বিবাহ করেন। বিবাহের পর দুষ্মন্ত শীঘ্রই ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজধানী হস্তিনাপুরে ফিরে যান। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও রাজা বা তাঁর কোনো দূত শকুন্তলার খোঁজ নিতে তপোবনে আসেননি। এই দীর্ঘ বিচ্ছেদ শকুন্তলাকে অত্যন্ত ব্যাকুল করে তোলে এবং তিনি সারাক্ষণ স্বামীর চিন্তায় ডুবে থাকেন। এই বিরহজনিত কারণে শকুন্তলা অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন।
ঠিক সেই সময় দুর্বাসা মুনি তপোবনে এসে উপস্থিত হন। কিন্তু শকুন্তলা অন্যমনা থাকায় তাঁর আগমন লক্ষ্য করতে পারেননি এবং যথাযথভাবে ঋষিকে সম্ভাষণ ও আপ্যায়ন করতে ব্যর্থ হন। এতে দুর্বাসা মুনি নিজেকে অপমানিত মনে করেন এবং রাগের বশে শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন।

অপমানিত ও ক্ষিপ্ত দুর্বাসা মুনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন যে, যার চিন্তায় মগ্ন হয়ে শকুন্তলা তাঁকে অবহেলা করেছেন, সেই ব্যক্তিই একদিন শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন এবং চিনতে পারবেন না। এই ছিল দুর্বাসা মুনির দেওয়া অভিশাপ।

২. নাট্যকাহিনিতে উপস্থিত না থেকেও রাজা দুষ্মন্ত কীভাবে কাহিনিকে প্রভাবিত করেছেন তা আলােচনা করাে।

উত্তরঃ কালিদাসের ‘ধীবরবৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে অনুপস্থিত থেকেও রাজা দুষ্মন্ত সমস্ত ঘটনাধারাকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করেছেন। আংটি পাওয়ার বিষয়ে ধীবরের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে দেখতে রাজশ্যালক তা নিয়ে রাজবাড়িতে রাজার কাছে যান। বেশ কিছুটা সময় পরে তিনি রাজার আদেশ নিয়ে ফেরেন এবং রক্ষীদের জেলেটিকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রাজার পাঠানাে পুরস্কারও রাজশ্যালক জেলেটির হাতে তুলে দেন। এইভাবেই নাট্যাংশের পরিণতি লক্ষ করা যায়। চুরির অভিযােগে বন্দি জেলেটি বহু লাঞ্ছনা, অপবাদ ও বিদ্রুপ সহ্য করার পর এভাবেই মুক্তি পায় ও রাজার কাছে পুরস্কৃত হয়। স্বভাবত গম্ভীর প্রকৃতির রাজাকে রাজশ্যালক আংটিটা দেখালে তিনি মুহুর্তের জন্য বিহ্বল হয়ে পড়েন। সেই ঘটনার উল্লেখ করে নাট্যকাহিনিতে সুকৌশলে তার ফেলে আসা দিনগুলির চকিত আভাস দেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞান শকুন্তলম্ নাটকের কাহিনি ‘অভিজ্ঞানস্বরূপ আংটিটির হারিয়ে যাওয়া ও সেটির ফিরে পাওয়াকে কেন্দ্র করে রচিত। ধীবরবৃত্তান্ত নাট্যাংশটিতে রাজা চরিত্রটি সরাসরি উপস্থিত নন। কিন্তু অভিযুক্ত জেলেটিকে সুবিচার দেওয়া ও পুরস্কৃত করার মাধ্যমে তিনি উপস্থিত না থেকেও নাট্যকাহিনিতে নিজের প্রভাব ও গৌরব বজায় রেখেছেন।

৩. ধীবর আংটিটি কীভাবে পেয়েছিল তার পূর্বসূত্রটি আলোচনা করো।

উত্তরঃ ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে রাজা দুষ্মন্তের নামাঙ্কিত আংটিটি ধীবরের হাতে আসার ঘটনাটি বেশ নাটকীয়ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। মহর্ষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে রাজা দুষ্মন্ত তপোবনে এসে শকুন্তলার রূপে মুগ্ধ হন এবং গান্ধর্ব মতে তাকে বিবাহ করেন। বিবাহের পর রাজা দুষ্মন্ত শীঘ্রই ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজধানীতে ফিরে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও রাজা বা তাঁর কোনো দূত শকুন্তলার খোঁজ নিতে আসেননি।

এদিকে স্বামীর চিন্তায় বিভোর শকুন্তলা অন্যমনা হয়ে পড়লে দুর্বাসা মুনি তপোবনে আগমন করেন। যথাযথ আপ্যায়ন না পাওয়ায় তিনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন যে, যার চিন্তায় মগ্ন তিনি, সেই ব্যক্তি তাকে ভুলে যাবেন। পরে প্রিয়ংবদার অনুরোধে দুর্বাসা মুনি বলেন, কোনো নিদর্শন দেখাতে পারলে অভিশাপ লঘু হবে। রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে যে আংটি দিয়েছিলেন, সেটিকেই সখীরা সেই নিদর্শন বলে মনে করেন। পরে কণ্বমুনি শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠালে রাজা দুষ্মন্ত অভিশাপবশত তাকে চিনতে পারেন না। পথিমধ্যে শচীতীর্থে স্নানের সময় শকুন্তলার হাত থেকে আংটিটি নদীতে পড়ে যায় এবং একটি মাছ তা গিলে ফেলে। পরে সেই মাছটি এক ধীবরের জালে ধরা পড়ে। মাছ কাটতে গিয়ে ধীবর আংটিটি খুঁজে পান। এইভাবেই আংটিটি ধীবরের হাতে আসে।

৪. ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের চরিত্রের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় লেখাে।

উত্তরঃ উক্তিটির বক্তা হলেন আমাদের পাঠ্য মহাকবি কালিদাসের (অনুদিত) নাট্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র ধীবর।

ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের কাহিনী ধীবরকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। একজন সাধারণ দীন ধীবরের মধ্যে যে সততা, স্পষ্টবাদিতা, নিজের পেশার প্রতি শ্রদ্ধা, শাস্ত্র জ্ঞান, পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সর্বোপরি কৃতজ্ঞতা ও উদার মনের পরিচয় পাওয়া যায় তা এককথায় অনবদ্য।

সততা ও স্পষ্টবাদিতাঃ নাটকের শুরু থেকেই ধীবরের মধ্যে সততা ও স্পষ্টবাদিতা লক্ষ্য করা যায়। আংটি চুরির অপবাদে অভিযুক্ত হয়ে প্রথম থেকেই সে সত্য কথা বলতে চাইলেও রক্ষীরা তার কথায় কর্ণপাত করেনি। উপরন্তু তাকে বারবার বাটপাড়, গাঁটকাটা ইত্যাদি ইতর শব্দ শুনতে হয়েছে। আংটি পাবার কথা অকপটে স্বীকার করে বলেছে– “এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন।”

শাস্ত্র জ্ঞান ও পেশার প্রতি শ্রদ্ধাঃ রাজশ্যালক তার পেশা ও জাত নিয়ে কটুক্তি করলে সে বলেছে– ‘যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে সেই বৃত্তি নিন্দনীয় হলেও তা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।’ এখানে ধীবরের শাস্ত্রজ্ঞান ও পেশার প্রতি শ্রদ্ধা লক্ষ্য করা যায়।

পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতাঃ রাজদরবার থেকে ছাড়া পেয়ে তার উক্তি– “প্রভু, আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে ?” এ থেকে তার পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়।

কৃতজ্ঞতা ও উদার মানসিকতাঃ পারিতোষিক পেয়ে যেভাবে বিদ্রূপকারী রাজশ্যালককে প্রণাম করে ও অপর দুইজন রক্ষীকে তার অর্ধেক দান করেছে তাতে তার কৃতজ্ঞ ও উদারচিত্তের পরিচয় মেলে।

৫. ধীবরের প্রতি রাজশ্যালক এবং দুইজন রক্ষীর মনোভাব কেমন ছিল তা নাট্যাংশটি অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো। ৫

উত্তরঃ নাট্যাংশে ধীবরের প্রতি রাজশ্যালক ও দুই রক্ষীর মনোভাব ছিল অত্যন্ত কঠোর, অবমাননাকর ও অমানবিক। তারা ধীবরের পেশা ও সামাজিক অবস্থানকে তুচ্ছ করে তাকে অপমান করেছে। যদিও নাটকের শেষে রাজশ্যালক নিজের আচরণের জন্য কিছুটা অনুতপ্ত হয়ে ধীবরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে।

নাটকের শুরুতে দেখা যায়, রাজশ্যালক ও তার দুই রক্ষী সূচক ও জানুক ধীবরকে হাত বাঁধা অবস্থায় রাজসভায় নিয়ে আসছে। ধীবরের অপরাধ ছিল-সে প্রকাশ্যে রাজার নামাঙ্কিত মণিমুক্তাখচিত আংটি বিক্রি করছিল। এই কারণে তারা তাকে চোর বলে সন্দেহ করে। ধীবর বারবার আংটি পাওয়ার প্রকৃত ঘটনা জানাতে চাইলেও তারা তার কথা শুনতে রাজি হয়নি। বরং তাকে বাটপাড়, গাঁটকাটা ইত্যাদি বলে গালিগালাজ করে। বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগেই তারা তাকে কঠোর শাস্তি ও মৃত্যুর ভয় দেখায়। এমনকি তার মৃতদেহে মালা পরানোর মতো নীচ মন্তব্যও করে। পরে রাজা দুষ্মন্তের বিচারে ধীবর নির্দোষ প্রমাণিত হলে এবং পুরস্কার পেলে তারা ঈর্ষান্বিত হয়। তবে ধীবর উদারতার সঙ্গে পুরস্কারের অর্ধেক তাদের দিলে তারা তা গ্রহণ করে। এসব আচরণ থেকে সূচক ও জানুকের চরিত্রকে হীন ও স্বার্থপর বলেই মনে হয়।

৬. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দুই রক্ষীর কথাবার্তায় সমাজের কোন ছবি ফুটে উঠেছে তা লেখো।

উত্তরঃ মহাকবি কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে দেখা যায় যে, ধীবরের কাছ থেকে রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা আংটি পাওয়া গেছে। এজন্য রক্ষীরা ধীবরকে চোর ভেবে ধরে নিয়ে রাজার কাছে গেছে। এই সময় তারা ধীবরকে চোর ভেবে নানান অকথা কুকথা বলে গালিগালাজ করে। তারা ধীবরকে ‘গোসাপ খাওয়া জেলে’ বলেছে। এর গায়ে থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। জেলেকে ছোটলোক, বদ, বাটপাড়, চোর বলে অপবাদ দিয়েছে।

দুই রক্ষীর কথোপকথন থেকে তৎকালীন সামাজিক অবস্থার কিছু ছবি এখানে ফুটে উঠেছে। সমাজে জাতপাতের বিভেদ, অর্থনৈতিক বিভেদের ছবি বেশ প্রকট ছিল। জেলেরা নিম্নবিত্ত শ্রেণির লোক বলে তারা এদের দ্বারা নিপীড়িত হত — সে ছবি বেশ স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। দুই রক্ষীর কথাবার্তা থেকে বোঝা যায় যে, উচ্চবর্ণের মানুষ নিম্নবর্ণের উপর সর্বদা অবজ্ঞা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত এবং বিনা কারণে তাদের উপর উৎপীড়ন চালাত। তবে নগররক্ষক রাজশ্যালকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি কিন্তু ধীবরের কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন এবং রাজার আদেশের জন্য অপেক্ষা করেছেন। রাজ আদেশ পাওয়া মাত্র ধীবরকে একজন বন্ধু বলে স্বীকার করে নিয়েছেন।

৭. স্বামীর চিন্তায় শকুন্তলা অন্যমনা হয়ে পড়েছিলেন কেন ? দুর্বাসা মুনির অভিশাপের ফলে কী হয়েছিল ? ৩+২=৫

উত্তরঃ মহর্ষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে হস্তিনাপুরের রাজা দুষ্মন্ত মৃগয়া করতে করতে কণ্বের তপোবনে এসে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি আশ্রমকন্যা শকুন্তলার অপরূপ সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হন। পরবর্তীতে গান্ধর্ব মতে শকুন্তলা ও দুষ্মন্তের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের পরে রাজা দুষ্মন্ত শীঘ্রই ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজধানীতে ফিরে যান। কিন্তু অনেকদিন কেটে গেলেও রাজা নিজে তো নয়ই, এমনকি কোনো দূতও শকুন্তলার খোঁজ নিতে তপোবনে এল না। প্রিয় স্বামীর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি শকুন্তলাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। বিরহের যন্ত্রণায় ডুবে থেকে তিনি ক্রমশ চিন্তামগ্ন ও অন্যমনা হয়ে পড়েন।

এই অবস্থায় একদিন দুর্বাসা মুনি তপোবনে এসে উপস্থিত হন। কিন্তু দুষ্মন্তের চিন্তায় বিভোর থাকার ফলে শকুন্তলা তাঁর আগমন টের পাননি এবং যথাযথভাবে আপ্যায়ন করতে ব্যর্থ হন। এতে দুর্বাসা মুনি ক্রুদ্ধ হয়ে শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন যে, যার চিন্তায় মগ্ন হয়ে তিনি ঋষিকে অবহেলা করেছেন, সেই ব্যক্তিই একদিন শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন। পরে সখী প্রিয়ংবদার অনুরোধে ঋষি বলেন— কোনো নিদর্শন দেখাতে পারলে অভিশাপ লঘু হবে। কিন্তু পতিগৃহে যাওয়ার পথে শচীতীর্থে স্নানের সময় রাজা দুষ্মন্তের দেওয়া স্মারক আংটিটি নদীতে পড়ে যায়। ফলে অভিশাপ অনুযায়ী দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে চিনতে পারেননি। এভাবেই দুর্বাসার অভিশাপ শকুন্তলার জীবনে ফলপ্রসূ হয়।

৮. “এই তাে আমাদের প্রভু, মহারাজের হুকুমনামা হাতে নিয়ে এদিকে আসছেন।”– ‘আমাদের প্রভু’ বলতে এখানে কার কথা বলা হয়েছে ? মহারাজের হুকুম শেষপর্যন্ত কীভাবে বক্তাকে হতাশ করে তা লেখাে। ১+৪

উত্তরঃ কালিদাসের ‘ধীবরবৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ‘আমাদের প্রভু বলতে দ্বিতীয় রক্ষী নগররক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজার শ্যালকের কথা বলেছে। রক্ষীরা আংটি চুরির অপরাধে ধীবরকে ধরে নিয়ে আসে এবং রাজার আদেশে তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য মহা উৎসাহে অপেক্ষা করতে থাকে। রাজশ্যালক রাজার কাছে গিয়েছিলেন আংটি পাওয়ার ঘটনা সবিস্তারে জানাতে তাই রক্ষীরা অপেক্ষা করছিল ধীবরকে শকুনি দিয়ে খাওয়ানাে হবে কি কুকুর দিয়ে খাওয়ানাে হবে, সেই নির্দেশ পাওয়ার জন্য। কিন্তু রক্ষীদের অপেক্ষা শেষপর্যন্ত হতাশায় পরিণত হয়। কারণ, রাজার কাছ থেকে ঘুরে এসে রাজশ্যালক জানান যে আংটি পাওয়ার বিষয়ে ধীবর যা যা বলেছে তা সবই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ফলে রাজা ধীবরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মহারাজ খুশি হয়ে আংটির মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ ধীবরকে দিয়েছেন বলেও শ্যালক জানান। এভাবেই মহারাজের হুকুম বক্তাকে অত্যন্ত হতাশ করেছিল।

৯. ‘কীভাবে এই আংটি আমার কাছে এল— তা বললাম’— বক্তার আংটি প্রাপ্তির ঘটনাটি উল্লেখ করো। নাট্যাংশের কোন্ ঘটনা প্রমাণ করে আংটিটা রাজার (খুব) প্রিয় ছিল ? ৩ + ২ = ৫

উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ থেকে নেওয়া। এখানে বক্তা হলেন শত্রুাবতারের একজন সাধারণ ধীবর। সে প্রতিদিন মাছ ধরে ও মাছ বিক্রি করেই নিজের জীবিকা নির্বাহ করে। একদিন নদীতে ধরা একটি বড় মাছ সে বিক্রির জন্য কাটতে গিয়ে মাছটির পেটের ভিতর থেকে মণিমুক্তাখচিত একটি আংটি দেখতে পায়। আংটিটিতে রাজার নাম খোদাই করা ছিল। এইভাবেই ধীবরের হাতে রাজা দুষ্মন্তের সেই আংটিটি আসে।

এই আংটিটি আসলে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে বিবাহের সময় স্মারক হিসেবে দিয়েছিলেন। শকুন্তলা পতিগৃহে যাওয়ার পথে শচীতীর্থে স্নান করার সময় অঞ্জলি দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত আংটিটি নদীতে ফেলে দেন। একটি মাছ সেই আংটিটি গিলে নেয় এবং পরে সেই মাছই ধীবরের জালে ধরা পড়ে।

নাট্যাংশে দেখা যায়, আংটিটি রাজসভায় উপস্থিত হলে রাজা দুষ্মন্ত তা দেখেই গভীরভাবে বিহ্বল হয়ে পড়েন এবং তাঁর হারানো স্মৃতি ফিরে আসে। তিনি শকুন্তলার কথা স্মরণ করেন এবং আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। আংটিটি ফিরে পাওয়ার পর রাজা দুষ্মন্তের আবেগ, অনুশোচনা ও মানসিক অস্থিরতা থেকেই বোঝা যায় যে এই আংটিটি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল এবং এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আংটিটি রাজার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল।

১০. আংটি পাওয়ার পরে ধীবরের যে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তরঃ কালিদাসের ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশে ধীবরের কাছে রাজার নাম খোদাই করা মণিখচিত আংটি দেখে নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজার শ্যালক এবং দুজন রক্ষী পিছনে হাত বেঁধে তাকে ধরে নিয়ে আসেন। ধীবর আংটি চুরি করেনি জানালেও তাঁরা তা বিশ্বাস করেন না। প্রথম রক্ষী বিদ্রুপ করে জানতে চায়, তাকে সদ্ ব্রাহ্মণ মনে করে রাজা আংটিটা দান করেছেন কি না। ধীবর এইসময় রক্ষীদের তীব্র ব্যঙ্গবিদ্রুপের মুখে পড়ে। সে জাল, বড়শি ইত্যাদি দিয়ে মাছ ধরার কথা বললে তা নিয়েও তাকে ব্যঙ্গ শুনতে হয়। ধীবর এর প্রতিবাদ জানায়। সে রুইমাছ কাটার সময়ে মাছের পেটে আংটি পাওয়ার কথা বলে। রাজশ্যালক ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে রাজার কাছে যান। রক্ষীরা চোর ধরা পড়ার শাস্তিস্বরূপ ধীবরকে হত্যার জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে পড়ে। কিন্তু শ্যালক ফিরে এসে জানান যে, ধীবর সবই সত্য কথা বলেছে এবং সে কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, রাজা খুশি হয়ে ধীবরকে আংটির সমমূল্যের অর্থ দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। ফলে দিনের কাজ বন্ধ হলেও ধীবরের ক্ষতি পুষিয়ে যায়। এভাবে আংটিকে কেন্দ্র করে নানান ঘাত-প্রতিঘাতের শিকার হয় ধীবর।

১১. আংটিটি পেয়ে রাজা দুষ্মন্ত ধীবরকে প্রচুর পারিতোষিক দিয়েছিলেন কেন—তা নাট্যাংশটি অবলম্বনে বুঝিয়ে বলো। ৫

উত্তরঃ আমাদের পাঠ্য কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম’ নাটকের ষষ্ঠ অঙ্ক থেকে গৃহীত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে মূলত ধীবরের হাতে আংটি পাওয়া, তাকে চোর সন্দেহে রাজদরবারে হাজির করা এবং শেষে শাস্তির বদলে পুরস্কার পাওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে অদৃশ্যভাবে কাজ করেছে দুর্বাসা মুনির অভিশাপ। দুষ্মন্ত মহর্ষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে তপোবনে শকুন্তলার রূপ ও গুণে মুগ্ধ হয়ে গান্ধর্ব মতে তাকে বিবাহ করেন। বিদায়ের সময় তিনি ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শকুন্তলার হাতে একটি স্মারক আংটি পরিয়ে দেন।

পরবর্তীকালে দুষ্মন্তের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে শকুন্তলা বিরহে কাতর ও অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। সেই সময় তপোবনে আগত দুর্বাসা মুনিকে যথাযথভাবে আপ্যায়ন করতে না পারায় ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন, যার ফলে দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে সম্পূর্ণ ভুলে যান। পতিগৃহে যাত্রাকালে শচীতীর্থে স্নান করতে গিয়ে শকুন্তলার হাত থেকে সেই আংটিটি নদীতে পড়ে যায় এবং একটি মাছ তা গিলে ফেলে। পরে সেই মাছটি ধীবরের হাতে ধরা পড়ে এবং মাছ কাটার সময় ধীবর আংটিটি উদ্ধার করে।

ধীবর যখন আংটিটি বিক্রি করতে যায়, তখন নগররক্ষী ও তার অনুচরদের সন্দেহে সে ধরা পড়ে এবং বিচারের জন্য রাজসভায় উপস্থিত হয়। রাজশ্যালক রাজা দুষ্মন্তের সামনে আংটিটি উপস্থাপন করলে রাজা তা দেখামাত্রই শকুন্তলার কথা স্মরণ করতে পারেন। নিজের ভুল ও শকুন্তলার প্রতি অবিচারের কথা বুঝে তিনি গভীর অনুতাপে ভোগেন। বেদনা ও আনন্দে একসঙ্গে আপ্লুত হয়ে আংটি ফিরে পেতে সাহায্য করার জন্য এবং ধীবরের সততা ও নির্দোষতার স্বীকৃতিস্বরূপ রাজা দুষ্মন্ত তাকে প্রচুর পারিতোষিক প্রদান করেন।

১২. “সখীরা মনে করলেন সেই আংটিই হবে ভবিষ্যতের স্মারকচিহ্ন”- এখানে কোন্ আংটির কথা বলা হয়েছে ? আংটিটি কীভাবে খােয়া গিয়েছিল ?

উত্তরঃ ‘ধীবরবৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের উল্লিখিত অংশে দুষ্মন্ত রাজধানীর উদ্দেশে যাওয়ার সময়ে বিদায় মুহূর্তে শকুন্তলাকে যে আংটি পরিয়ে দিয়েছিলেন সেই আংটির কথা বলা হয়েছে। শকুন্তলাকে বিয়ে করে রাজা দুষ্মন্ত রাজধানীতে ফিরে যাওয়ার পরে দীর্ঘকাল শকুন্তলার খোঁজ নিতে কোনাে দূত আসে না। এইসময় ঋষি দুর্বাসা তপােবনে এলে স্বামীর চিন্তায় অন্যমনস্কা শকুন্তলা তা টের পান না। অপমানিত দুর্বাসা অভিশাপ দেন যে যার চিন্তায় শকুন্তলা মগ্ন সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন। শেষ অবধি শকুন্তলার সখীদের অনুরােধে দুর্বাসা বলেন যে, কোনাে নিদর্শন দেখাতে পারলে তবেই শাপের প্রভাব দূর হবে৷ সখীরা দুষ্মন্তের দেওয়া আংটিটাকেই এই স্মারকচিহ্ন বলে ধরে নেয়। মহর্ষি কণ্ব তীর্থ থেকে ফিরে যখন শকুন্তলাকে স্বামীর ঘরে পাঠানাের আয়ােজন করেন তখন আংটিটাই হয় শকুন্তলার সম্বল। কিন্তু পথে শচীতীর্থে স্নানের পরে অঞ্জলি দেবার সময়ে শকুন্তলার হাত থেকে খুলে আংটিটি জলে পড়ে যায়।
এইভাবেই আংটিটি খােয়া যায়।

১৩. “ঘটনাক্রমে সেই আংটি পেল এক ধীবর,”– কার আংটি সে পেয়েছিল ? আংটি হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে ইতিহাসটি আছে তা লেখাে।

উত্তরঃ ‘ধীবরবৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরটি যে আংটিটি পেয়েছিল তা ছিল রাজা দুষ্মন্তের।

কালিদাসের ‘ধীবরবৃত্তান্ত’ নামক নাট্যাংশে ধীবরের আংটি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এক দীর্ঘ কাহিনি রয়েছে। মহর্ষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে আশ্রমকন্যা শকুন্তলাকে বিয়ে করে রাজা দুষ্মন্ত রাজধানীতে ফিরে যান। তারপরে দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও তিনি শকুন্তলার খোঁজ করেন না। একদিন ঋষি দুর্বাসা আশ্রমে এলে স্বামীর চিন্তায় মগ্ন শকুন্তলা তার উপস্থিতি টেরই পান না। অপমানিত ঋষি অভিশাপ দেন যে যাঁর চিতায় শকুন্তলা মগ্ন হয়ে আছেন তিনি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন। পরে সখী প্রিয়ংবদার অনুরােধে অভিশাপ কিছুটা লঘু করে দুর্বাসা বলেন যে, শকুন্তলা যদি প্রিয়জনকে কোনাে স্মৃতিচিহ্ন দেখাতে পারেন তাহলে তিনি এই অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। শকুন্তলার কাছে থাকা দুষ্মন্তের দেওয়া আংটিটাই স্মৃতিচিহ্ন বলে সখীরা ভেবে নেন। মহর্ষি কণ্ব তীর্থ থেকে ফিরে শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠানাের উদ্যোগ নেন। কিন্তু যাওয়ার সময়ে শচীতীর্থে স্নানের পরে অঞ্জলি দিতে গিয়ে শকুন্তলার হাত থেকে আংটিটি খুলে জলে পড়ে যায়। ফলে দুমন্ত শকুন্তলাকে আর চিনতে পারেন না। ওদিকে, এক ধীবর মাছ ধরতে গিয়ে একটা রুই মাছ ধরে এবং তার পেট থেকে এই আংটিটি পায়।

১৪. “যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে, সেই বৃত্তি নিন্দনীয় (ঘৃণ্য) হলেও তা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।”—কে, কোন্ প্রসঙ্গে মন্তব্যটি করেছে ? এখানে বক্তার চরিত্রের যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে তা আলােলা করাে।

উত্তরঃ কালিদাসের ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নামক নাট্যাংশে বন্দি ধীবর রাজার শ্যালক এবং রক্ষীদের জানিয়েছিল যে সে জাল, বড়শি ইত্যাদির সাহায্যে মাছ ধরে সংসার চালায়। তখন রাজার শ্যালক তার জীবিকা খুবই পবিত্র বলে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করতে থাকে। এই বিদ্রুপের পরিপ্রেক্ষিতেই ধীবর (পুরুষ) রাজার শ্যালককে উদ্দেশ্য করে প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছে।

ধীবর তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রবল আত্মসম্মানবােধেরই পরিচয় দিয়েছে। তার পেশা নিয়ে রাজশ্যালক ব্যঙ্গ করলে ধীবর তার তীব্র প্রতিবাদ করে। সে এরকম কথা বলতে রাজশ্যালককে নিষেধ করে এবং আরও বলে মানুষ যে বৃত্তি নিয়ে জন্মেছে তা নিন্দনীয় হলেও কখনও পরিত্যাগ করা উচিত নয়। বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের উদাহরণ দিয়ে সে বলে যে ব্রাহ্মণ স্বভাবে দয়াপরায়ণ হলেও যজ্ঞের পশুবধের সময় নির্দয় হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোনাে পেশাই সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার হতে পারে না, সেটির কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এভাবেই সে নিজের পেশাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

১৫. এখন থেকে তুমি আমার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু হলে।’- কারা পরস্পরের বন্ধু হয়েছে ? এমন বন্ধুত্বের কারণ কী ? ১+৪=৫

উত্তরঃ কালিদাসের ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে নগররক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজশ্যালক এবং চোর সন্দেহে ধৃত শত্রুাবতারের এক সাধারণ ধীবর পরস্পর পরস্পরের বন্ধু হয়েছে।

এই ধীবর শত্রুাবতারের একজন অতি সাধারণ মানুষ। সে মাছ ধরে এবং মাছ বিক্রি করেই নিজের সংসার চালায়। ঘটনাক্রমে একদিন নদীতে ধরা একটি মাছ কাটতে গিয়ে সে মাছের পেটের ভিতর থেকে রাজার নাম খোদিত একটি মূল্যবান আংটি পায় এবং সেটি বিক্রি করার চেষ্টা করে। ধীবরের হাতে রাজ আংটি দেখে নগররক্ষী রাজশ্যালক ও তার দুই অনুচর তাকে চোর বলে সন্দেহ করে। তারা ধীবরের কোনো কথা না শুনে তাকে নানা কথা বলে অপমান করতে করতে বিচারের জন্য রাজদরবারে নিয়ে যায়।

রাজসভায় আংটিটি দেখে রাজা দুষ্মন্ত মুহূর্তের জন্য বিহ্বল হয়ে পড়েন এবং তাঁর কোনো প্রিয়জনের কথা মনে পড়ে যায়। রাজশ্যালকের মনে হয়, এই আংটিটি রাজার কাছে খুবই মূল্যবান। পরে রাজা ধীবরের নির্দোষিতা বুঝে তাকে শাস্তি না দিয়ে পুরস্কৃত করেন। প্রবল রাজশক্তির সামনে দাঁড়িয়েও ধীবর ভয় না পেয়ে সত্য কথা বলেছিল এবং নিজের আত্মমর্যাদা বজায় রেখেছিল। আবার রাজা থেকে পাওয়া পারিতোষিকের অর্ধেক অন্যদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ায় রাজশ্যালক বুঝতে পারেন যে ধীবর নিম্নবর্গের মানুষ হলেও সে সৎ, উদার ও মহান মানসিকতার অধিকারী। এই কারণেই রাজশ্যালক তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন।

১৬. রাজার কাছে ধীবরের পাওয়া আংটিটির গুরুত্ব যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা নিজের ভাষায় আলােচনা করাে।

উত্তরঃ ‘ধীবরবৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটিতে শক্রাবতারবাসী এক ধীবর কীভাবে রাজার নাম খােদাই করা মণিমুক্তাখচিত একটি আংটি বিক্রি করার সময় ধরা পড়ল এবং কীভাবেই বা মুক্তি পেল, সেই বৃত্তান্ত রয়েছে। মহর্ষি কণ্বের তপােবনে শকুন্তলাকে বিয়ে করে রাজধানীতে ফেরার সময় রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে একটি আংটি উপহার দেন। দীর্ঘদিন রাজধানী থেকে কেউ শকুন্তলার খোঁজ না নেওয়ায় অস্থির শকুন্তলা দুষ্মন্তের চিন্তায় আনমনা হয়ে পড়েন। এমনই সময় মহর্ষির আশ্রমে ঋষি দুর্বাসার আগমন ঘটলে স্বামীর চিন্তায় মগ্ন শকুন্তলা তার উপস্থিতি খেয়াল করেন না। এই ঘটনায় অপমানিত ঋষি অভিশাপ দেন, যাঁর চিন্তায় তিনি মগ্ন, সেই ব্যক্তি তাকে ভুলে যাবেন।

শকুন্তলার প্রিয়সখী প্রিয়ংবদার অনুরােধে ঋষি জানান, কোনাে নিদর্শন দেখাতে পারলে তবেই এই শাপের প্রভাব দূর হবে। একদিন এক ধীবরের কাছ থেকে শকুন্তলাকে দেওয়া রাজার আংটিটি উদ্ধার হয় এবং রাজশ্যালক সেটি রাজার কাছে নিয়ে এলে সেই শাপের প্রভাব দূর হয়। রাজার সমস্ত ঘটনা মনে পড়ে যাওয়ার তিনি শকুন্তলার চিন্তায় বিহ্বল হয়ে পড়েন। তার যে কোনাে প্রিয়জনের কথা মনে পড়েছে, রাজশ্যালকও তা বুঝতে পারেন৷ স্মৃতি ফিরে আসায় উচ্ছ্বসিত রাজা ধীবরকে আংটির সমান দামের অর্থ পুরস্কার হিসেবে দান করেন। রাজার কাছে আংটিটির গুরুত্ব যে কতটা– তা এভাবেই নাট্যদৃশ্যে প্রতিফলিত হয়েছে৷

১৭. ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে নাট্যদৃশ্য, নাট্যধর্ম এবং সংলাপ রচনায় নাট্যকারের দক্ষতা আলোচনা করো। ৫

উত্তরঃ ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে কালিদাস তাঁর নাট্যদক্ষতার পরিচয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। এই নাট্যাংশে ধীবর, রাজশ্যালক এবং দুই রক্ষী— এই কয়েকটি চরিত্রের মধ্যেই পুরো নাট্যদৃশ্য গড়ে উঠেছে। তাদের সংলাপের মাধ্যমেই চরিত্রগুলির সামাজিক অবস্থান ও মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রক্ষীদের সংলাপে ধীবরের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও হুমকির ভাষা ফুটে উঠেছে, যা তাদের পেশাগত কঠোরতা ও অহংকার প্রকাশ করে। রাজশ্যালকের কথাবার্তায় ক্ষমতার দম্ভের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ববোধ ও বিচারবুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়। অন্যদিকে ধীবরের সংলাপে সততা, বিনয়, আত্মমর্যাদা ও সাহসের প্রকাশ ঘটে।

প্রতিটি চরিত্রের সংলাপ তাদের চরিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ মানানসই। সংলাপের মধ্য দিয়ে নাটকের গতি বজায় থাকে এবং ঘটনাগুলি জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাই বলা যায়, নাট্যদৃশ্য নির্মাণ, নাট্যধর্ম রক্ষা এবং সংলাপ রচনায় কালিদাস অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। নাট্যাংশটিতে কৌতুক, উত্তেজনা ও আবেগ— এই তিনটি উপাদানই সুষমভাবে উপস্থিত, যা নাটকটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নাটকের ঘটনাবিন্যাস সংক্ষিপ্ত হলেও তা অত্যন্ত অর্থবহ এবং মূল কাহিনির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই সব দিক বিচার করলে বলা যায়, ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশটি কালিদাসের নাট্যপ্রতিভার এক উৎকৃষ্ট নিদর্শন।

&◆ ধীবর-বৃত্তান্ত নাটকের বিষয়বস্তু

MCQ প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১)

SAQ প্রশ্নোত্তর (প্রতিটি প্রশ্নের মান ১)

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নের মান ৩)

📌 আরো দেখুনঃ

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

📌 নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্নোত্তর Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply