FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 9 (IX) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER
Set-3
নবম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-৩ | Class 9 History First Unit Test Question with Answer Set-3 wbbse
পাঠ্যসূচী / Syllabus :
অধ্যায়-১ : ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক
অধ্যায়-২ : বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬
নবম শ্রেণি
বিষয় – ইতিহাস
সময় : ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পূর্ণমান-৪০
১। সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো : ১x১০=১০
১.১ ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন—
(ক) চতুর্দশ লুই (খ) পঞ্চদশ লুই
(গ) ষোড়শ লুই (ঘ) নেপোলিয়ন
উত্তরঃ (গ) ষোড়শ লুই
১.২ সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ড হয়েছিল—
(ক) 1790 খ্রিস্টাব্দে (খ) 1791 খ্রিস্টাব্দে
(গ) 1792 খ্রিস্টাব্দে (ঘ) 1793 খ্রিস্টাব্দে
উত্তরঃ (গ) 1792 খ্রিস্টাব্দে
১.৩ অঁসিয়া রেজিম-এর অর্থ হল—
(ক) নতুন সমাজব্যবস্থা
(খ) পুরাতন সমাজব্যবস্থা
(গ) বর্তমান সমাজব্যবস্থা
(ঘ) ভবিষ্যৎ সমাজব্যবস্থা
উত্তরঃ (খ) পুরাতন সমাজব্যবস্থা
১.৪ ফ্রান্সের ধর্মকরকে বলা হত—
(ক) করভি (খ) গ্যাবেল (গ) টেইল (ঘ) টাইথ
উত্তরঃ (ঘ) টাইথ
১.৫ “জনগণই হল রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস”—উক্তিটি কার ?
(ক) রুশোর (খ) মন্তেস্কুর (গ) ভলতেয়ারের
(ঘ) ডেনিস দিদেরোঁর
উত্তরঃ (ক) রুশোর
১.৬ টিলজিটের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়—
(ক) 1805 খ্রিস্টাব্দে (খ) 1807 খ্রিস্টাব্দে
(গ) 1809 খ্রিস্টাব্দে (ঘ) 1813 খ্রিস্টাব্দে
উত্তরঃ (খ) 1807 খ্রিস্টাব্দে
১.৭ কনকর্ডাটের মাধ্যমে খুশি হন—
(ক) পোপ (খ) নেপোলিয়ন (গ) ফ্রান্সের মানুষ (ঘ) রোবসপিয়র
উত্তরঃ (গ) ফ্রান্সের মানুষ
১.৮ নেপোলিয়ন জন্মগ্রহণ করেন—
(ক) ইটালিতে (খ) জার্মানিতে (গ) ফ্রান্সে
(ঘ) কর্সিকা দ্বীপে
উত্তরঃ (ঘ) কর্সিকা দ্বীপে
১.৯ পোড়ামাটির নীতি অনুসরণ করে—
(ক) ইংরেজরা (খ) রুশরা (গ) জার্মানরা
(ঘ) পোর্তুগিজরা
উত্তরঃ (খ) রুশরা
১.১০ উপদ্বীপের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল—
(ক) 1808 খ্রিস্টাব্দে (খ) 1813 খ্রিস্টাব্দে
(গ) 1809 খ্রিস্টাব্দে (ঘ) 1818 খ্রিস্টাব্দে
উত্তরঃ (ক) 1808 খ্রিস্টাব্দে
২। নীচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো উত্তর দাও : ১×৬=৬
উপবিভাগ ২.১
একটি বাক্যে উত্তর দাও :
২.১.১ ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রানি কে ছিলেন?
উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রানি ছিলেন মারি আঁতোয়ানেত।
২.১.২ ফরাসি জাতীয় সভার নাম কী ছিল?
উত্তরঃ ফরাসি জাতীয় সভার নাম ছিল স্টেট জেনারেল।
উপবিভাগ ২.২
ঠিক বা ভুল নির্ণয় করো :
২.২.১ ফরাসি গির্জা টাইথ বা ধর্মকর হিসেবে আয়ের দশ শতাংশ আদায় করত৷
উত্তরঃ ঠিক
২.২.২ নেপোলিয়ন ফরাসি বিপ্লবের সাম্যনীতিকে বর্জন করেছিলেন।
উত্তরঃ ভুল
উপবিভাগ ২.৩
নীচের বিবৃতিগুলির সঙ্গে সঠিক ব্যাখ্যাটি নির্বাচন করো :
২.৩.১ বিবৃতি : নেপোলিয়ন ফ্রান্সে কনসুলেটের শাসন চালু করেন।
ব্যাখ্যা-১ : নেপোলিয়ন ফ্রান্সে বিপ্লব আনার চেষ্টা করেন।
ব্যাখ্যা-২ : নেপোলিয়ন ফ্রান্সে একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
ব্যাখ্যা-৩ : নেপোলিয়ন দেশে নতুন চিন্তাধারা প্রসারের চেষ্টা করেন।
উত্তরঃ ব্যাখ্যা-২ : নেপোলিয়ন ফ্রান্সে একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
২.৩.২ বিবৃতি : নেপোলিয়ন ইউরোপের প্রায় সব শক্তিকে পদানত করতে সক্ষম হলেও ইংল্যান্ডকে পদানত করতে ব্যর্থ হন।
ব্যাখ্যা-১ : নেপোলিয়নের নৌবাহিনী ইংল্যান্ডের তুলনায় দুর্বল ছিল।
ব্যাখ্যা-২ : নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডকে তুচ্ছ মনে করেছিলেন।
ব্যাখ্যা-৩ : নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীতে প্রচুর ইংরেজ সৈনিক ছিল।
উত্তরঃ ব্যাখ্যা-১ : নেপোলিয়নের নৌবাহিনী ইংল্যান্ডের তুলনায় দুর্বল ছিল।
৩। নীচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো চারটি) : 2×4=8
(ক) টেনিস কোর্টের শপথ কী ?
উত্তরঃ ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুন ফ্রান্সের নব নির্বাচিত জাতীয় সভার প্রথম অধিবেশনে তৃতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সকল সদস্যের একই কক্ষে বসা এবং মাথাপিছু ভোটের দাবিতে টেনিস কোর্টের মাঠে সমবেত হয়ে যে শপথ গ্রহণ করেছিলেন তা টেনিস কোর্টের শপথ নামে পরিচিত।
(খ) একশত দিবসের রাজত্ব বলতে কী বোঝো ?
উত্তরঃ এলবা দ্বীপে নির্বাসিত নেপোলিয়ন ফ্রান্সের আভ্যন্তরীণ গোলযোগের সুযোগে 1815 খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে প্রত্যাবর্তন করেন এবং ক্ষমতাসীন বুঁরবো সরকারের অধিকাংশ সেনার সহযোগিতায় নিজেকে পুনরায় সম্রাট বলে ঘোষণা করেন। এই কালপর্বে নেপোলিয়ন 1815 খ্রিস্টাব্দের 20শে মার্চ থেকে 1815 খ্রিস্টাব্দের 22শে জুন পর্যন্ত মোট 100 দিন রাজত্ব করেছিলেন বলেই একে শত দিবসের রাজত্ব বলা হয়।
(গ) লিজিয়ন অভ্ অনার কী ?
উত্তরঃ নেপোলিয়নের সামাজিক সংস্কারে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো লিজিয়ন অব অনার। বংশমর্যাদার পরিবর্তে প্রকৃত যোগ্যতার মর্যাদা বা সম্মান দেয়ার জন্য 1802 সালে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানের উদ্যোগ নেন। এই সম্মানকে লিজিয়ন অব অনার বলে।
(ঘ) কোড নেপোলিয়ন কী ?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফ্রান্সের বিশৃঙ্খল আইনগুলোকে সংস্কার করে ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে যে নতুন আইনবিধি সংকলন করেন, তাকে কোড নেপোলিয়ন বলা হয়। এর মোট ধারা ছিল ২২৮৭টি এবং এর মাধ্যমে আইনের চোখে সাম্য ও সম্পত্তির অধিকার স্বীকৃত হয়েছিল।
(ঙ) বার্লিন ডিক্রি কী ?
উত্তরঃ ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার জন্য যে নির্দেশনামা জারি করেন, তাকে বার্লিন ডিক্রি বলা হয়। এই ডিক্রির মাধ্যমে তিনি ইউরোপের মহাদেশীয় বন্দরে ব্রিটিশ পণ্যবাহী জাহাজ ঢোকা নিষিদ্ধ করেন এবং ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করেন। এটিই ছিল তাঁর বিখ্যাত মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থার প্রথম পদক্ষেপ।
৪। নীচের প্রশ্নগুলির সাত-আটটি বাক্যে উত্তর দাও (যে-কোনো দুটি) : 4×2=8
(ক) বিপ্লবের আগে ফ্রান্সের বৈষম্যমূলক কর ব্যবস্থার পরিচয় দাও।
উত্তরঃ বিপ্লব-পূর্ব ফরাসি কর ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত অন্যায় ও বৈষম্যমূলক। সমাজের প্রথম দুটি শ্রেণি অর্থাৎ যাজক ও অভিজাতরা দেশের অধিকাংশ জমির মালিক হলেও তারা কোনো কর দিত না। অন্যদিকে, দরিদ্র তৃতীয় সম্প্রদায় বা সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রের সমস্ত করের বোঝা বইতে হতো। প্রধান করগুলোর মধ্যে ছিল স্থাবর সম্পত্তির ওপর ‘তেইল’ (Taille), আয়ের ওপর ‘ক্যাপিটেশন’ (Capitation) এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর ‘ভ্যান্টিয়েন’ (Vingtième)। এ ছাড়াও চার্চকে দিতে হতো ‘টাইথ’ (Tithe) নামক ধর্মীয় কর এবং লবণের ওপর দিতে হতো ‘গ্যাবেল’ (Gabelle) কর। এই করের চাপে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও উচ্চবিত্তরা ভোগবিলাসে মত্ত থাকত, যা শেষ পর্যন্ত ফরাসি বিপ্লবকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
(খ) টীকা লেখো : ব্যক্তি ও নাগরিকদের অধিকারের ঘোষণা।
উত্তরঃ ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে আগস্ট ফরাসি সংবিধান সভা ‘ব্যক্তি ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণা’ (Declaration of the Rights of Man and of the Citizen) জারি করে। এই ঘোষণাপত্রের মূল ভিত্তি ছিল লক, রুসো ও মন্তেস্কুর দার্শনিক আদর্শ। এতে বলা হয় যে, মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সমান অধিকারের অধিকারী। আইনের চোখে সবাই সমান এবং আইনি প্রমাণ ছাড়া কাউকে বন্দি বা শাস্তি দেওয়া যাবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকারকে পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয় বলে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণাপত্রটি ফরাসি জনতাকে সামন্ততন্ত্রের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এক নতুন গণতান্ত্রিক যুগের সূচনা করেছিল।
(গ) নেপোলিয়ন কী উদ্দেশ্যে মহাদেশীয় অবরোধ ঘোষণা করেন ?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রধানত ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করে তাকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে ‘মহাদেশীয় অবরোধ’ (Continental System) ঘোষণা করেন। ইংল্যান্ডের নৌবাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় নেপোলিয়ন তাকে সরাসরি যুদ্ধে পরাজিত করতে পারছিলেন না। তাই তিনি স্থির করেন যে, ইংল্যান্ডের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে তাকে ‘দোকানদারের জাতি’ হিসেবে ভাতে মারবেন। ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দের ‘বার্লিন ডিক্রি’র মাধ্যমে তিনি ইউরোপের সমস্ত বন্দরে ব্রিটিশ জাহাজ ও পণ্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ অর্থনীতিতে ধস নামানো এবং ইউরোপীয় বাজারে ফরাসি পণ্যের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। এভাবেই তিনি তলোয়ারের বদলে অর্থনৈতিক অস্ত্রের মাধ্যমে ইংল্যান্ডকে পর্যুদস্ত করতে চেয়েছিলেন।
৫। যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও (পনেরো-ষোলোটি বাক্যে) : ৮×১=৮
(ক) ফরাসি বিপ্লবের জন্য দার্শনিকদের ভূমিকার মূল্যায়ন করো।
উত্তরঃ ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের পেছনে দার্শনিকদের লেখনী ও চিন্তাধারা এক গভীর মানসিক ভিত্তি তৈরি করেছিল। যদিও তাঁরা সরাসরি রাজপথে আন্দোলনে নামেননি, কিন্তু তাঁদের আদর্শ বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
মন্তেস্কু: তিনি তাঁর ‘দ্য স্পিরিট অফ লজ’ গ্রন্থে রাজার ‘দৈবস্বত্ব’ বা ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতার তত্ত্বকে নস্যাৎ করেন। তিনি শাসন, আইন ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের কথা বলেন যাতে স্বৈরাচার রোধ করা যায়।
ভলতেয়ার: তিনি ছিলেন গির্জার দুর্নীতি ও কুসংস্কারের প্রধান বিরোধী। তাঁর শাণিত ব্যঙ্গ ও লেখনী সাধারণ মানুষকে অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত করে যুক্তিবাদী হতে শিখিয়েছিল।
রুসো: রুসো ছিলেন বিপ্লবের প্রধান পথপ্রদর্শক। তাঁর ‘সামাজিক চুক্তি’ (Social Contract) গ্রন্থে তিনি বলেন যে রাজা নয়, জনগণের ইচ্ছাই হলো শেষ কথা। তাঁর “মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্রই সে শৃঙ্খলিত” এই উক্তিটি ফরাসিদের মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে।
এনসাইক্লোপিডিস্ট ও ফিজিওক্র্যাটস: দিদেরো সম্পাদিত ‘বিশ্বকোষ’ ফরাসিদের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত করে। অন্যদিকে ফিজিওক্র্যাট নামক অর্থনীতিবিদরা ফ্রান্সের বৈষম্যমূলক কর ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন।
মূল্যায়ন: ঐতিহাসিকদের মতে, দার্শনিকরা না থাকলে ফরাসি জনগণের অসন্তোষ হয়তো দাঙ্গায় সীমাবদ্ধ থাকত, তা কোনোদিন আদর্শগত ‘বিপ্লবে’ রূপ নিত না। নেপোলিয়ন যথার্থই বলেছিলেন, “রুসো না থাকলে ফরাসি বিপ্লব হতো না।”
(খ) নেপোলিয়ন ফরাসি বিপ্লবের কোন্ কোন্ ভাবধারা ধ্বংস করেন ?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন নিজেকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বললেও তাঁর কাজের মাধ্যমে তিনি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান আদর্শ ‘স্বাধীনতা’কে কার্যত বিসর্জন দিয়েছিলেন।
ব্যক্তি স্বাধীনতার বিনাশ: বিপ্লবের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্যক্তি স্বাধীনতা। কিন্তু নেপোলিয়ন ক্ষমতা দখলের পর সংবাদপত্র ও বাক-স্বাধীনতার ওপর কড়া সেন্সরশিপ আরোপ করেন। গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করা শুরু হয়।
গণতন্ত্রের বিলুপ্তি: ফরাসি বিপ্লব রাজতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটিয়ে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু নেপোলিয়ন ১৮০৪ সালে নিজেকে ‘সম্রাট’ ঘোষণা করে পুনরায় ফ্রান্সে রাজতন্ত্র ও বংশানুক্রমিক শাসন ফিরিয়ে আনেন। নির্বাচনের গুরুত্ব কমিয়ে তিনি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
পোপের সঙ্গে চুক্তি (কনকর্ডাট): বিপ্লবের সময় চার্চের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছিল। কিন্তু নেপোলিয়ন পোপের সঙ্গে চুক্তি করে ক্যাথলিক ধর্মকে পুনরায় স্বীকৃতি দেন, যা ছিল বিপ্লবের ধর্মহীন রাষ্ট্রভাবনার পরিপন্থী।
পরিবার ও সমাজে নারীর অবস্থান: ‘কোড নেপোলিয়ন’-এ সম্পত্তির অধিকারে সাম্য থাকলেও পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীর ওপর পুরুষের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য বজায় রাখা হয়, যা বিপ্লবের সাম্যের আদর্শকে ক্ষুণ্ণ করে।
বিপ্লবী ক্যালেন্ডার বাতিল: নেপোলিয়ন বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে প্রচলিত বিপ্লবী ক্যালেন্ডার বাতিল করে পুরনো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার পুনরায় চালু করেন।
উপসংহার: নেপোলিয়ন বিপ্লবের ‘সাম্য’ ও ‘মৈত্রী’র আদর্শকে কোড নেপোলিয়নের মাধ্যমে রক্ষা করলেও, ‘স্বাধীনতা’ ও ‘গণতন্ত্র’কে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছিলেন। এই কারণেই তাঁকে ‘বিপ্লবের ধ্বংসকারী’ (Destroyer of the Revolution) বলা হয়।
📌 আরো দেখোঃ
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
