নবম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-২ | Class 9 History First Unit Test Question with Answer Set-2 wbbse

FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 9 (IX) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER

Set-2

নবম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-২ | Class 9 History First Unit Test Question with Answer Set-2 wbbse

পাঠ্যসূচী / Syllabus :
অধ্যায়-১ : ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক
অধ্যায়-২ : বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬
নবম শ্রেণি
বিষয় – ইতিহাস
সময় : ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট                 পূর্ণমান-৪০

বিভাগ ‘ক’

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখ : ১×১০=১০

১.১ ‘আমিই রাষ্ট্র’ – ফরাসি রাজা চতুর্দশ লুইয়ের এই উক্তিটিতে ফুটে ওঠে—
(ক) গণতন্ত্রের ধারণা
(খ) স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের ধারণা
(গ) প্রজাতন্ত্রের ধারণা
(ঘ) সামন্ততন্ত্রের ধারণা

উত্তরঃ (খ) স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের ধারণা

১.২ ফ্রান্সকে ‘ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন—
(ক) ভলতেয়র (খ) নেকব্বার
(গ) ষোড়শ লুই (ঘ) অ্যাডাম স্মিথ

উত্তরঃ (ঘ) অ্যাডাম স্মিথ

১.৩ মার্চ এস্টেটের প্রতিনিধিরা দাবি করেছিল—
(ক) সাঁকুলেং-দের ভোটাধিকার
(খ) সমস্ত জনগণের ভোটাধিকার
(গ) থার্ড এস্টেটের মাথাপিছু ভোটাধিকার (ঘ) নারীদের ভোটাধিকার

উত্তরঃ (গ) থার্ড এস্টেটের মাথাপিছু ভোটাধিকার

১.৪ বাস্তিল দুর্গের পতন হয়েছিল—
(ক) ১৪.৭.১৭৮৯
(খ) ২০.৬.১৭৮৯
(গ) ৫.৫.১৭৮৯
(ঘ) ২৬.৭.১৭৯৪

উত্তরঃ (ক) ১৪.৭.১৭৮৯

১.৫ ফরাসি চার্চ আদায় করত—
(ক) গ্যাবেল (খ) তেইলি (গ) করভি (ঘ) টাইথ

উত্তরঃ (ঘ) টাইথ

১.৬ ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সম্রাট ছিলেন—
(ক) ষোড়শ লুই
(খ) রোবসপিয়ের
(গ) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
(ঘ) লাফায়েত্

উত্তরঃ (গ) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট

১.৭ ব্যাঙ্ক অফ ফ্রান্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—
(ক) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
(খ) তুর্গো
(গ) মিরাবো
(ঘ) আবে সিয়েস

উত্তরঃ (ক) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট

১.৮ টিলজিটের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়েছিল—
(ক) ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার মধ্যে
(খ) ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে
(গ) ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে
(ঘ) ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে

উত্তরঃ (ক) ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার মধ্যে

১.৯ নেপোলিয়নের মহাদেশীয় অবরোধের মূল লক্ষ্য ছিল—
(ক) রাশিয়া
(গ) প্রাশিয়া
(খ) আইবেরীয় উপদ্বীপ
(ঘ) ইংল্যান্ড

উত্তরঃ (ঘ) ইংল্যান্ড

১.১০ কনফেডারেশন অফ রাইনা গড়ে উঠেছিল—
(ক) ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে
(গ) ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে
(ঘ) ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে

উত্তরঃ (ক) ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে

বিভাগ : খ

২। নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও: ১×৬=৬

২.১ ‘অ’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘আ’ স্তম্ভ মেলাও : ১×৬=৬

(২.১.১) পার্সিয়ান লেটারস ১.ফরাসি সংবিধান সভা
(২.১.২) মানুষ ও নাগরিকের অধিকার ২.নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
(২.১.৩) ফন্টেনব্লু সন্ধি ৩.মস্তেস্কু

উত্তরঃ

(২.১.১) পার্সিয়ান লেটারস ৩. মন্তেস্কু
(২.১.২) মানুষ ও নাগরিকের অধিকার ১. ফরাসি সংবিধান সভা
(২.১.৩) ফন্টেনব্লু সন্ধি‌ ২. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট

২.২ প্রদত্ত মানচিত্রে নিম্নলিখিত স্থানগুলি চিহ্নিত করো :
(২.২.১) প্যারিস
(২.২.২) কর্সিকা
(২.২.৩) মস্কো

অথবা

(কেবল দষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের জন্য)

শূন্যস্থান পূরণ করো :

(২.২.১) স্যোসাল কন্ট্রাক্ট বইয়ের লেখক ____________।

উত্তরঃ রুসো

(২.২.২) ব্রান্সউইক ঘোষণাপত্র জারি করা হয়েছিল _______________।

উত্তরঃ ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে

(২.২.৩) নেপোলিয়ন বোনাপার্টের পরে ফ্রান্সের শাসক হয়েছিলেন _______________।

উত্তরঃ অষ্টাদশ লুই

বিভাগ : গ

৩। দুটি অথবা তিনটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যে কোনো ৪টি) : ২×৪=৮

৩.১ দৈবরাজতন্ত্র বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের আগে বোরবোঁ রাজবংশের রাজারা বিশ্বাস করতেন যে, তাঁরা ঈশ্বরের প্রতিনিধি এবং একমাত্র ঈশ্বরের কাছেই তাঁদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ। রাজার এই অবাধ ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকে দৈবরাজতন্ত্র বলা হয়। রাজা চতুর্দশ লুই ছিলেন এই মতবাদের প্রধান প্রবক্তা।

৩.২ জ্যাকোবিন শাসন কী ছিল ?

উত্তরঃ ১৭৯৩-৯৪ খ্রিস্টাব্দে রোবসপিয়রের নেতৃত্বে ফ্রান্সে যে কট্টর বৈপ্লবিক শাসন প্রবর্তিত হয়েছিল, তাকে জ্যাকোবিন শাসন বলা হয়। এই শাসনের মূল লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিপ্লব-বিরোধীদের দমন করা এবং প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করা, যা ইতিহাসে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ নামেও পরিচিত।

৩.৩ কোড নেপোলিয়ন কী ?

উত্তরঃ নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফ্রান্সের বিশৃঙ্খল আইনগুলোকে সংস্কার করে ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে যে নতুন আইনবিধি সংকলন করেন, তাকে কোড নেপোলিয়ন বলা হয়। এর মোট ধারা ছিল ২২৮৭টি এবং এর মাধ্যমে আইনের চোখে সাম্য ও সম্পত্তির অধিকার স্বীকৃত হয়েছিল।

৩.৪ কনফেডারেশন অফ রাইন কেন গঠন করা হয়েছিল ?

উত্তরঃ জার্মানির ওপর আধিপত্য বজায় রাখা এবং ফ্রান্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেপোলিয়ন ছোট ছোট ৩৯টি জার্মান রাজ্য নিয়ে কনফেডারেশন অফ রাইন গঠন করেছিলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল জার্মানি থেকে অস্ট্রিয়া ও প্রুশিয়ার প্রভাব খর্ব করা।

৩.৫ নেপোলিয়ন-বিরোধী মিত্রপক্ষে কোন কোন শক্তি যোগ দিয়েছিল ?

উত্তরঃ নেপোলিয়নকে পরাজিত করার জন্য ইউরোপের প্রধান দেশগুলো মিলে যে জোট গঠন করেছিল, তাতে মূলত ইংল্যান্ড, রাশিয়া, প্রুশিয়া এবং অস্ট্রিয়া যোগ দিয়েছিল। এই শক্তিগুলোই পরবর্তীকালে ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়নকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে।

বিভাগ : ঘ

৪। সাত বা আটটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (যে কোনো ২টি) : ৪×২=৮

৪.১ বিপ্লব-পূর্ববর্তী ফরাসি অর্থনীতি কীভাবে ফরাসি বিপ্লবে ভূমিকা নিয়েছিল ?

উত্তরঃ বিপ্লব-পূর্ববর্তী ফ্রান্সের অর্থনীতি ছিল চরম বৈষম্যমূলক ও জরাজীর্ণ। দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ (তৃতীয় সম্প্রদায়) সমস্ত করের বোঝা বহন করত, অন্যদিকে অভিজাত ও যাজকরা করমুক্ত সুবিধা ভোগ করত। অতিরিক্ত করের চাপে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল এবং খাদ্যাভাব চরমে পৌঁছেছিল। মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। অ্যাডাম স্মিথ এই বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাকে ‘ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত এই অর্থনৈতিক শোষণ ও অনাহারই ক্ষুধার্ত মানুষকে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে বাধ্য করেছিল, যা ফরাসি বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে।

৪.২ ফরাসি বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যোগদান বিষয়ে একটি টীকা লেখো

উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লব ছিল মূলত একটি গণবিপ্লব যেখানে সাধারণ মানুষ বা ‘তৃতীয় সম্প্রদায়’ প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। ১৭৮৯ সালের ১৪ই জুলাই সাধারণ মানুষই বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে রাজতন্ত্রের দম্ভ চূর্ণ করে। বিশেষ করে ‘সাঁকুলেৎ’ (Sans-culottes) নামে পরিচিত দরিদ্র শ্রমিক ও সাধারণ কারিগররা বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। মহিলারাও পিছিয়ে ছিলেন না; তাঁরা রুটির দাবিতে ভার্সাই অভিযান করেছিলেন যা বিপ্লবের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। মূলত করের বোঝা, খাদ্যাভাব এবং সামাজিক অবিচার থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে শামিল হয়। সাধারণ মানুষের এই সক্রিয় অংশগ্রহণই বিপ্লবকে সাফল্য এনে দিয়েছিল।

৪.৩ মহাদেশীয় অবরোধ কীভাবে নেপোলিয়নের পতনের কারণ হয়েছিল ?

উত্তরঃ নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে ‘মহাদেশীয় অবরোধ’ প্রবর্তন করেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ব্যবস্থার ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট দেখা দেয় এবং নেপোলিয়ন মিত্র দেশগুলোর বিরাগভাজন হন। পোপ এই অবরোধ মানতে অস্বীকার করলে নেপোলিয়ন তাঁকে বন্দী করেন, যা ক্যাথলিকদের ক্ষুব্ধ করে। পর্তুগাল ও স্পেন এই ব্যবস্থা অমান্য করলে নেপোলিয়ন ‘পেনিনসুলার যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর বিশাল সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাশিয়া এই অবরোধ ত্যাগ করলে নেপোলিয়ন রাশিয়া আক্রমণ করেন (১৮১২), যা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। শেষ পর্যন্ত এই ব্যর্থ অর্থনৈতিক যুদ্ধ নেপোলিয়নকে চারপাশ থেকে শত্রুবেষ্টিত করে তাঁর সাম্রাজ্যের পতন ত্বরান্বিত করে।

৪.৪ মহাদেশীয় অবরোধ কীভাবে নেপোলিয়নের পতনের কারণ হয়েছিল ?

উত্তরঃ নেপোলিয়ন ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে ‘মহাদেশীয় অবরোধ’ প্রবর্তন করেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ব্যবস্থার ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট দেখা দেয় এবং নেপোলিয়ন মিত্র দেশগুলোর বিরাগভাজন হন। পোপ এই অবরোধ মানতে অস্বীকার করলে নেপোলিয়ন তাঁকে বন্দী করেন, যা ক্যাথলিকদের ক্ষুব্ধ করে। পর্তুগাল ও স্পেন এই ব্যবস্থা অমান্য করলে নেপোলিয়ন ‘পেনিনসুলার যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর বিশাল সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাশিয়া এই অবরোধ ত্যাগ করলে নেপোলিয়ন রাশিয়া আক্রমণ করেন (১৮১২), যা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। শেষ পর্যন্ত এই ব্যর্থ অর্থনৈতিক যুদ্ধ নেপোলিয়নকে চারপাশ থেকে শত্রুবেষ্টিত করে তাঁর সাম্রাজ্যের পতন ত্বরান্বিত করে।

বিভাগ : ঙ

৫। পনেরো বা ষোলোটি বাক্যে যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৮×১=৮

৫.১ ফরাসি বিপ্লব দার্শনিকদের অবদান – মন্তব্যটি যুক্তিসহ আলোচনা করো। ৮

উত্তরঃ ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা ছিল না, এর পেছনে দার্শনিকদের চিন্তাধারার গভীর প্রভাব ছিল।

মন্তেস্কু: তিনি তাঁর ‘দ্য স্পিরিট অফ লজ’ গ্রন্থে রাজতন্ত্রের ‘দৈবস্বত্ব’ মতবাদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতির কথা বলেন, যেখানে শাসন, বিচার ও আইন বিভাগ আলাদা থাকবে।

ভলতেয়ার: তিনি ছিলেন গির্জার দুর্নীতি ও কুসংস্কারের ঘোর বিরোধী। তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তিনি ফরাসি সমাজের অন্ধবিশ্বাস এবং যাজকদের ভণ্ডামিকে জনসমক্ষে তুলে ধরেন, যা মানুষকে যুক্তি দিয়ে ভাবতে শিখিয়েছিল।

রুসো: ফরাসি বিপ্লবের প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন রুসো। তাঁর ‘দ্য সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ গ্রন্থে তিনি ঘোষণা করেন, “মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্রই সে শৃঙ্খলিত।” তিনি রাজতন্ত্রের পরিবর্তে ‘জনগণের ইচ্ছা’ বা ‘সাধারণ ইচ্ছা’র (General Will) ওপর ভিত্তি করে শাসনব্যবস্থা গড়ার ডাক দেন।

এনসাইক্লোপিডিস্ট: দিদেরো ও ডি’অ্যালবার্ট সম্পাদিত ‘বিশ্বকোষ’ ফরাসি জনগণের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করেছিল।

ফিজিওক্র্যাটস: অ্যাডাম স্মিথের মতো অর্থনীতিবিদরা ফ্রান্সের ভ্রান্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে অবাধ বাণিজ্যের দাবি জানান।

উপসংহার: যদিও দার্শনিকরা সরাসরি বিপ্লবে অংশ নেননি, কিন্তু তাঁদের বৈপ্লবিক চিন্তাধারা ফরাসি মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের মনে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। নেপোলিয়ন ঠিকই বলেছিলেন, “রুসো না থাকলে ফরাসি বিপ্লব হতো না।”

৫.২ কোড নেপোলিয়ন বিষয়ে একটি টীকা লেখো। শতদিবসের রাজত্ব বলতে কী বোঝো ? ৫+৩

উত্তরঃ নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ‘কোড নেপোলিয়ন’ বা আইনবিধি। ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফ্রান্সের পূর্বতন প্রায় ৪০০টি বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করে একটি সুসংহত আইনবিধি তৈরি করেন।

১. আইনের চোখে সাম্য: এই আইনবিধিতে বলা হয় যে, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই আইনের চোখে সমান।

২. যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগ: সরকারি চাকরিতে বংশমর্যাদার বদলে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা বলা হয়।

৩. ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার: এই আইনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং সামন্ততান্ত্রিক কর প্রথা রদ করা হয়।

৪. ধর্মীয় সহিষ্ণুতা: ক্যাথলিক বা প্রোটেস্ট্যান্ট—সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

৫. পারিবারিক শৃঙ্খলা: বাবার সম্পত্তিতে সন্তানদের সমান অধিকার এবং বিবাহ-বিচ্ছেদ সংক্রান্ত নিয়মাবলিও এতে ছিল।

শতদিবসের রাজত্ব : ১৮১৪ সালে লিপজিগের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নেপোলিয়ন এলবা দ্বীপে নির্বাসিত হন। কিন্তু ফ্রান্সে বোরবোঁ রাজা অষ্টাদশ লুইয়ের শাসনে অরাজকতা দেখা দিলে নেপোলিয়ন সুযোগ বুঝে ১৮১৫ সালের ২০শে মার্চ প্যারিসে ফিরে আসেন। ফরাসি জনতা তাঁকে বিপুলভাবে স্বাগত জানায় এবং তিনি পুনরায় সিংহাসন দখল করেন। ২০শে মার্চ থেকে ১৮ই জুন (ওয়াটারলুর যুদ্ধে চূড়ান্ত পরাজয় পর্যন্ত) এই মোট ১০০ দিন তিনি রাজত্ব করেছিলেন। ইতিহাসের এই সংক্ষিপ্ত শাসনকালকেই ‘শতদিবসের রাজত্ব’ (Hundred Days’ Reign) বলা হয়।

📌 আরো দেখোঃ

📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Reply