FIRST SUMMATIVE EVALUATION
CLASS 9 (IX) WBBSE
HISTORY QUESTION PAPER
Set-1
নবম শ্রেণির ইতিহাস প্রথম ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র সেট-১ | Class 9 History First Unit Test Question with Answer Set-1 wbbse
পাঠ্যসূচী / Syllabus :
অধ্যায়-১ : ফরাসি বিপ্লবের কয়েকটি দিক
অধ্যায়-২ : বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ২০২৬
নবম শ্রেণি
বিষয় – ইতিহাস
সময় : ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পূর্ণমান-৪০
১। সঠিক উত্তরটি বেছে লেখো (পাঁচটি) : ১×৫=৫
(ক) বারুদের ধ্বংসাত্মক শক্তির কথা বলেন (গ্যালিলিও / ব্রাজার / বেকন)।
উত্তরঃ গ্যালিলিও।
(খ) ‘টিথি’ ফরাসি (রাজাকে / চার্চকে / ভূ-স্বামীকে) কর দেয়।
উত্তরঃ চার্চকে।
(গ) পার্সিয়ান লেটারস’-এর রচনাকার (রুশো / মন্টেস্কু / ভলতেয়ার)।
উত্তরঃ মন্টেস্কু।
(ঘ) জ্যাকোবিন দলের নেতা (অ্যাডামস্মিথ / রোবস্পিয়ার / মিরাবো)।
উত্তরঃ রোবস্পিয়ার।
(ঙ) ফরাসি ‘বুর্জোয়া’ শব্দের অর্থ (মধ্যবিত্ত / অভিজাত শ্রেণী / নিম্নবিত্ত।
উত্তরঃ মধ্যবিত্ত।
(চ) বাস্তিল দুর্গের পতন হয় (১২-ই / ১৪-ই / ১৮-ই) জুলাই ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তরঃ ১৪-ই ।
(ছ) ট্রাফালগারের যুদ্ধে পরাজিত হল (ইংরাজ / ফরাসি / জার্মান) শক্তি ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে।
উত্তরঃ ফরাসি।
২। দুই-এক কথায় উত্তর দাও (পাঁচটি) : ১×৫=৫
(ক) গুটেনবার্গ কীজন্য বিখ্যাত ?
উত্তরঃ গুটেনবার্গ বই ছাপার প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য বিখ্যাত।
(খ) ‘স্পিরিট অব লজ’ কার রচনা ?
উত্তরঃ মন্তেস্কু।
(গ) ‘আমিই রাষ্ট্র’ কোন্ ফরাসি রাজার উক্তি ?
উত্তরঃ পঞ্চদশ লুই।
(ঘ) বিপ্লব পূর্ব যুগে কারা ফ্রান্সে প্রথম সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল ?
উত্তরঃ যাজকরা।
(ঙ) রুশো রচিত একটি গ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তরঃ ‘লা কস্তা সোসিয়াল’।
(চ) ফরাসি বিপ্লবের বাণী কী ?
উত্তরঃ ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রী’।
(ছ) কে সেন্টহেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত হন ?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
৩। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (পাঁচটি) : ২×৫=১০
(ক) ‘সাকুলাৎ’ কাদের বলা হত ?
উত্তরঃ ফ্রান্সের নিম্ন শ্রেণীর মানুষ যারা শহর ও গ্রামের দরিদ্র, নিঃস্ব ও ভবঘুরে তাদের সাকুলাৎ বলা হত।
(খ) নোটার ডেম (নটর ডেম) ক্যাথিড্রেলে কার অভিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল ?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন বোনাপার্টের অভিষেক হয়েছিল।
(গ) মানুষ ও নাগরিকদের অধিকার ঘোষণায় কী বলা হয় ?
উত্তরঃ মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণায় বলা হয় – (১) স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার ও পবিত্র অধিকার। (২) আইনের চোখে সকলেই সমান। (৩) আইনের উৎস হল জনমত। (৪) সম্পত্তির অধিকার একটি পবিত্র অধিকার। (৫) স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন ও মতামত প্রকাশের অধিকার সকলের আছে। (৬) সমস্ত নাগ্রিকের ওপর করভার সমভাবে প্রযোজ্য হবে। (৭) আইনি সাহায্য ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা বা কারাদন্ড দেওয়া যাবে না।
(ঘ) তিনজন ফরাসি দার্শনিকের নাম লেখো।
উত্তরঃ মন্তেস্কু, রুশো এবং ভলতেয়ার।
(ঙ) টেনিস মাঠের শপথ কী ?
উত্তরঃ 1789 খ্রিস্টাব্দের 20 জুন ফ্রান্সের তৃতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা স্টেটস জেনারেলের অধিবেশনে যোগ দিতে এসে,
সভার দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখে, পার্শ্ববর্তী টেনিস কোর্টের মাঠে জড়ো হয়। সেখানে তারা ফ্রান্সের জন্য একটি সংবিধান
রচনা করার শপথ নেয়। একেই বলা হয় ‘টেনিস কোর্টের শপথ।
(চ) শত দিবসের রাজত্ব কী ?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন এলবা দ্বীপ থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে ফিরে এলে রাজা অষ্টাদশ লুই পালিয়ে যান, তারপর নেপোলিয়ন 100 দিন রাজত্ব করেন। এই ঘটনা শত দিবসের রাজত্ব নাম পরিচিত ।
(ছ) কোড নেপোলিয়ন কী ?
উত্তরঃ নেপোলিয়ন সমগ্র ফ্রান্সে একই ধরনের আইন প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে ৪ জন বিশিষ্ট আইনজীবীকে নিয়ে একটি পরিষদ গঠন করেন। এই পরিষদের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে আইনবিধি সংকলিত হয়, তা ‘কোড নেপোলিয়ন’ নামে খ্যাত।
৪। সংক্ষেপে উত্তর দাও (তিনটি) : ৪×৩=১২
(ক) ফরাসি বিপ্লবের অর্থনৈতিক কারণ কী ছিল ?
উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯) অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল অর্থনৈতিক সংকট। নিচে এর ৩টি প্রধান কারণ আলোচনা করা হলো—
অসম ও বৈষম্যমূলক কর ব্যবস্থা : তৎকালীন ফ্রান্সের কর ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত অন্যায় ও শোষণমূলক। ফরাসি সমাজের প্রথম দুটি স্তর-যাজক ও অভিজাতরা বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও কোনো কর দিত না। পক্ষান্তরে, দরিদ্র ‘তৃতীয় সম্প্রদায়’ (কৃষক, শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত)-কে সকল প্রকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর (যেমন-তাইয়ে, ক্যাপিটেশন, গ্যাবেল প্রভৃতি) দিতে হতো, যা তাদের আয়ের সিংহভাগ শোষণ করে নিত।
রাজকোষের শূন্যতা ও ঋণের বোঝা : ফরাসি রাজতন্ত্রের অমিতব্যয়িতা এবং একের পর এক যুদ্ধে (যেমন-সাত বছরের যুদ্ধ এবং আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ) অংশগ্রহণের ফলে রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। ১৭৮৯ সালের মধ্যে ফ্রান্সের ঋণের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন লিভ্রেতে পৌঁছে গিয়েছিল। এই বিপুল ঋণের সুদ মেটাতেই বাজেটের অর্ধেক টাকা ব্যয় হতো, যা মেটাতে রাজা ১৬শ লুই সাধারণ মানুষের ওপর আরও কর চাপাতে বাধ্য হন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও খাদ্যাভাব:
বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সে উপর্যুপরি শস্যহানি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। চাল ও রুটির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। ক্ষুধার্ত মানুষের ক্ষোভ ও বেকারত্বের উচ্চ হার সাধারণ জনতাকে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্ররোচিত করেছিল।
এই অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণেই ঐতিহাসিক আডাম স্মিথ ফ্রান্সকে “ভ্রান্ত অর্থনীতির জাদুঘর” (A Museum of Errors) বলে অভিহিত করেছেন।
(খ) বাস্তিল দুর্গের পতনের গুরুত্ব সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ ১৭৮৯ সালের ১৪ই জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতন ছিল ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এর ৩টি প্রধান গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো—
১. স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের পরাজয় : বাস্তিল দুর্গ ছিল ফরাসি রাজাদের স্বৈরাচারী শাসনের প্রতীক। এই দুর্গের পতনের মধ্য দিয়ে বোরবোঁ রাজতন্ত্রের দম্ভ চূর্ণ হয় এবং রাজা ১৬শ লুই জনগণের শক্তির কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হন।
২. বিপ্লবের প্রসার ও জয়যাত্রা : বাস্তিল দুর্গের পতন সাধারণ মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে। এই ঘটনার পর প্যারিস ছাড়িয়ে বিপ্লবের ঢেউ ফ্রান্সের গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে সামন্ততন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায় এবং পুরনো সমাজ ব্যবস্থার অবসান ঘটে।
৩. ঐতিহাসিক তাৎপর্য : বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ ও বুর্জোয়া শ্রেণির ঐক্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই দিনটি (১৪ই জুলাই) আজও ফ্রান্সে ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে পালিত হয়, যা স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শের প্রতীক।
(গ) ‘ফরাসি বিপ্লবে’ ফরাসি নারীদের কী ভূমিকা ছিল ?
উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবে (১৭৮৯) নারীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয় ও বৈপ্লবিক। নিচে এর ৩টি প্রধান দিক আলোচনা করা হলো:
১. ভার্সাই অভিযান (অক্টোবর, ১৭৮৯): খাদ্যাভাব ও রুটির চড়া দামের প্রতিবাদে ১৭৮৯ সালের ৫ই অক্টোবর প্যারিসের কয়েক হাজার নারী হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে ‘ভার্সাই’ রাজপ্রাসাদের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করেন। তাঁদের চাপের মুখে রাজা ১৬শ লুই ও তাঁর পরিবার প্যারিসে ফিরে আসতে বাধ্য হন। একে নারীদের ‘রুটির আন্দোলন’ বলা হয়।
২. রাজনৈতিক সচেতনতা ও নারী সংগঠন: বিপ্লবের সময় নারীরা ঘরে বসে না থেকে রাজনৈতিক ক্লাব ও সমিতি গড়ে তোলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘সোসাইটি অফ রেভল্যুশনারি রিপাবলিকান উইমেন’। তাঁরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন এবং নারীদের ভোটাধিকার ও সমানাধিকারের দাবি জানান।
৩. অধিকারের দাবি: বিপ্লবী নেত্রী অলিম্প দি গুজেস ১৭৯১ সালে ‘নারী ও নারী নাগরিকদের অধিকারের ঘোষণা’ (Declaration of the Rights of Woman and of the Female Citizen) প্রচার করেন। তিনি পুরুষদের মতো নারীদেরও সমান সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবি তুলেছিলেন।
উপসংহার: যদিও বিপ্লবের সময় নারীরা পূর্ণ ভোটাধিকার পাননি, কিন্তু তাঁদের এই অংশগ্রহণ ফরাসি বিপ্লবকে একটি গণবিপ্লবের রূপ দিয়েছিল।
(ঘ) মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হল কেন ?
ন্যাপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রবর্তিত মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা (Continental System) ব্যর্থ হওয়ার প্রধান ৩টি কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ইংল্যান্ডের নৌশক্তি ও বিকল্প বাজার: ইংল্যান্ডের শক্তিশালী নৌবাহিনী সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করত। ফলে ফ্রান্সের নৌ-অবরোধ কার্যকরী হয়নি। অধিকন্তু, ইউরোপীয় বাজার হারালেও ইংল্যান্ড তাঁর উপনিবেশগুলোতে (যেমন—ভারত ও আমেরিকা) পণ্য রপ্তানি করে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
২. ইউরোপীয় দেশগুলোর অসহযোগিতা: ইউরোপের দেশগুলো শিল্পদ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের (যেমন—চিনি, কফি, চা) জন্য ইংল্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল ছিল। মহাদেশীয় অবরোধের ফলে এই পণ্যগুলোর অভাব দেখা দিলে এবং দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে রাশিয়া, পর্তুগাল ও পোপের রাজ্য এই ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করে।
৩. ফ্রান্সের বিকল্পহীনতা: ইংল্যান্ডের পণ্য বর্জন করার পর ফ্রান্স বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশ সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেনি। ফরাসি শিল্প কলকারখানা ইংল্যান্ডের মতো উন্নত ছিল না। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে এই ব্যবস্থা ‘নিজেদের পায়ে কুড়ুল মারা’র মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত চোরাচালান বৃদ্ধি ও বিদ্রোহের পথ প্রশস্ত করে।
উপসংহার: এই ব্যবস্থার ব্যর্থতা ন্যাপোলিয়নের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল এবং তাঁকে অদূরদর্শী যুদ্ধের (যেমন— রাশিয়া অভিযান) দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
৫। একটি প্রশ্নের উত্তর দাও : ৮×১=৮
(ক) ফরাসি জাতীয় সংবিধান সভার কার্যাবলী আলোচনা করো। এর গুরুত্ব কি ? ৫+৩
(খ) ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্বের বিবরণ দাও। এর অবসান কীভাবে হলো ? ৫+৩
উত্তরঃ ফ্রান্সে সন্ত্রাসের রাজত্ব (১৭৯৩ – ১৭৯৪) ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে ১৭৯৩ সালের জুন থেকে ১৭৯৪ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সময়কাল ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ (Reign of Terror) নামে পরিচিত। জাঁকোবিন নেতা রোবসপিয়রের নেতৃত্বে এই শাসন পরিচালিত হয়েছিল।
∆ সন্ত্রাসের রাজত্বের বিবরণ—
১. উদ্দেশ্য: অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন করা, বৈদেশিক আক্রমণ থেকে বিপ্লবকে রক্ষা করা এবং ফ্রান্সে প্রজাতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই ছিল এই কঠোর শাসনের মূল লক্ষ্য।
২. শাসন পরিচালনা: এই সময় ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল মূলত দুটি কমিটির হাতে— ‘জননিরাপত্তা কমিটি’ (Committee of Public Safety) এবং ‘সাধারণ নিরাপত্তা কমিটি’। রোবসপিয়র ছিলেন এর সর্বেসর্বা।
৩. সন্দেহের আইন: ১৭৯৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ‘সন্দেহের আইন’ (Law of Suspects) জারি করা হয়। এর মাধ্যমে বিপ্লববিরোধী যেকোনো ব্যক্তিকে বিনা বিচারে বা নামমাত্র বিচারে বন্দি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
৪. গিলোটিনের ব্যবহার: এই পর্বে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষকে গিলোটিন যন্ত্রে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়। এমনকি রানি মারি আঁতোয়ানেত এবং বিপ্লবী নেতা ডাঁতো-ও রেহাই পাননি।
৫. অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমাতে খাদ্যশস্যের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ এবং মজুতদারদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
∆ সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসান—
সন্ত্রাসের রাজত্বের ভয়াবহতা যখন চরমে পৌঁছায়, তখন এর অবসান ঘটে নিচের পরিস্থিতির মাধ্যমে—
১. জনগণের অতিষ্ঠ ভাব : সাধারণ মানুষ এবং বিপ্লবী নেতারাও প্রতিদিনের মৃত্যুমিছিলে আতঙ্কিত ও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। রোবসপিয়রের নিজের দলের লোকেরাই তাঁর একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে একজোট হন।
২. থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া : ১৭৯৪ সালের ২৭ জুলাই (ফরাসি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৯ ই থার্মিডোর) ন্যাশনাল কনভেনশনের সদস্যরা রোবসপিয়র ও তাঁর অনুগামীদের বন্দি করেন। এই ঘটনাকে ‘থার্মিডোরীয় প্রতিক্রিয়া’ বলা হয়।
৩. রোবসপিয়রের মৃত্যু : বন্দি করার পরদিন অর্থাৎ ২৮ জুলাই, ১৭৯৪ তারিখে রোবসপিয়রকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়। তাঁর মৃত্যুর সাথেই ফ্রান্সে রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটে।
উপসংহার : যদিও সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর, তবে সমকালীন ঐতিহাসিকদের মতে, বৈদেশিক আক্রমণ থেকে ফ্রান্সকে রক্ষা করতে এই কঠোর শাসনের প্রয়োজনীয়তা ছিল।
(গ) নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ফ্রান্স, জার্মানী ও আইবেরীয় উপদ্বীপের জনগণের
প্রতিক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। ৩+২+৩
📌 আরো দেখোঃ
📌নবম শ্রেণি ইউনিট টেস্ট প্রশ্নপত্র Click Here
